সাহিত্য আসর : ধানমন্ডি আড্ডা : ছোটগল্পের বাঁকবদল : আশফাকুজ্জামান

চলছে শিল্প-সাহিত্য নিয়ে মাসিক ‘ধানমন্ডি আড্ডা’। গত ২৫ আগস্ট, সোমবার ছিল এ আড্ডার অষ্টম আসর। এ আসরে ‘বাংলা ছোটগল্পের বাঁকবদল’ শিরোনামে আলোচক ছিলেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল, হামীম কামরুল হক ও কিযী তাহ্নীন। আর সভাপ্রধান ছিলেন দিলারা মেসবাহ। তাঁদের আলোচনায় ছোটগল্পের বাঁকবদলের নানা দিক উঠে এসেছে। ধানমন্ডি ক্লাবের একটি লাউঞ্জ সেদিন কবি-সাহিত্যিকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল। আলোচনা এত প্রাণবন্ত ছিল যে সবাই দীর্ঘক্ষণ গভীর মনোযোগের সঙ্গে শুনতে থাকেন।
আড্ডা দুটি পর্বে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্বে ছিল পরিচিতি, আপ্যায়ন ও মুক্ত আলোচনা। আড্ডার শুরুতে উপস্থাপক
নূর কামরুন নাহার সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল ‘বাংলা ছোটগল্পের বাঁকবদল’ নিয়ে বিশেষ আলোচনা। আলোচনার শুরুতেই সঞ্চালক বলেন, বাংলা ছোটগল্পকে বলা হয় সাহিত্যের নবীনতম শাখা। তবে এ শাখায় এই সমৃদ্ধি আর বাঁকবদল ঘটেছে যে ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে। আমাদের আজকের আলোচকবৃন্দরা প্রতিষ্ঠিত গল্পকারও। আমরা তাঁদের কাছেই শুনবো বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধশাখা ছোটগল্পের বাঁকবদলের কথা। আলোচনার শুরুতে ও শেষে রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনান সুরকার ও শিল্পী তজিরুল ইসলাম।
আলোচনা পর্ব
আহমাদ মোস্তফা কামাল
রবীন্দ্রনাথ থেকেই বাংলা ছোটগল্পের শুরু ধরতে হবে। শুরুটা কেমন ছিল। এখন পর্যন্ত কতটুকু পরিবর্তন হলো। এটাই গল্পের বাঁকবদল। নানাভাবে এই পরিবর্তন হতে পারে। বিষয়ের বদল হতে পারে। ভাষার বদল হতে পারে। প্রকরণের বদল হতে পারে। দৃষ্টিভঙ্গির বদল হতে পারে।
আমাদের অনেকের মধ্যে একটা ভাবনা ছিল। সেটা হলো একটা গল্প যে ভালো হয়েছে সেটা বুঝবো কীভাবে। তখন মনে করা হতো কারও গল্প যদি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছের কোনও একটা গল্পের সঙ্গে মিল থাকে তাহলে মনে করতে হবে সে গল্পটা ভালো হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের গল্পের একটা বড় অংশ প্রকৃতি ও মানুষ। তাঁর গল্পে মানুষে মানুষে সম্পর্ক, সামাজিক বাস্তবতাসহ নানা বিষয় এসেছে। এখানে রবীন্দ্রনাথের অতিথি, সমাপ্তি, হৈমন্তী, অতিপ্রাকৃতসহ নানা গল্পে এর উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আমরা যারা গল্প লিখি তারা এসব বিষয়ের বাইরে প্রায় যেতেই পারিনি। নতুন করে এসেছে রাজনৈতিক বিষয়।
রবীন্দ্রনাথ থেকে শরৎচন্দ্র, প্রভাতকুমারসহ অনেকের গল্পে বাঁকবদল দেখা গেছে। তবে গল্পে সত্যিকার বাঁকবদল শুরু হয় কল্লোল যুগের লেখকদের হাত ধরে। এদের মধ্যে রয়েছেন বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার, প্রেমেন্দ্র মিত্রসহ আরও অনেকে।
আরেকজন ছিলেন কল্লোল যুগের বাইরে। তাঁর নাম জগদীশ গুপ্ত। তিনি সবার থেকে আলাদা গল্প লিখতেন। কিন্তু তেমনভাবে সামনে আসেননি। তিনি কীভাবে গল্প লেখা শুরু করলেন এই প্রশ্নে একটি মজার উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেন যে, তাঁকে অবসর দেখলেই তাঁর স্ত্রী তাঁকে বাজারে পাঠাত। এভাবে তাকে বারবার বাজারে যেতে হতো। তখন তিনি কাগজ-কলম নিয়ে কিছু লেখার ভান করেন। এভাবে লিখতে লিখতেই তিনি একদিন গল্পকার হয়ে ওঠেন। তবে মনে হয় এটা তিনি হয়তো মজা করেই বলেছেন। কারণ উনি খুব শক্তিশালী গল্পকার ছিলেন। এইভাবে একজন শক্তিশালী গল্পকার হওয়া যায় না।
রবীন্দ্রনাথের গল্প ছিল প্রায় যৌনতাহীন। আদর্শ ও কল্যাণধর্মী। জীবনের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা আনন্দ-বেদনা ও টানাপোড়েন। সমাপ্তি গল্পে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটি চুম্বনের বিষয় তিনি আনতে চেয়েছিলেন। নানাভাবে নানা কিছু বলে অনেক ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে শেষে একটি চুম্বন দিতে পেরেছিলেন। তিনি সবকিছুকে বিশ্বজনীনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন।
কল্লোল যুগের লেখকেরা এটা প্রায় মানতে চাইলেন না। তাঁরা মনে করেন গল্পে প্রয়োজনে অবশ্যই যৌনতা থাকবে। বিপ্লব-বিদ্রোহ, সংগ্রাম, কল্যাণ, অকল্যাণ নানা বিষয় হবে গল্পের বিষয়।
ষাটের দশকের শরীর নিয়ে দুঃসাহসিক কাজ হয়েছে। যেটা ’৪০ ও ’৫০-এর দশকে হয়নি। বুদ্ধদেব বসু তাঁর লেখার প্রথম লাইনে বললেন ওটা হয়ে গেছে। ওটাই যখন হয়ে যায় তখন আর বাকি কী থাকে। কল্লোল যুগ ছিল ৩০-এর দশক। এ সময় পর্যন্ত পূর্ববাংলায় সাহিত্যের তেমন চর্চা ছিল না। পূর্ব বাংলায় তখন অর্ধেকের বেশি মুসলমান। তারা সাহিত্যে একেবারে অনুপস্থিত। একটা জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি মানুষ অনুপস্থিত থাকলে সেখানে সাহিত্য দাঁড়ায় না।
তারপর আসে তিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প। তারাশঙ্কর, মানিক ও বিভূতিভূষণ। তাঁরা মানুষ, প্রকৃতি, সমাজ ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে প্রত্যেকের মতো করে গল্প লেখেন। তাদের গল্পে এক ধরনের বাঁকবদল ছিল। চল্লিশের দশকে শওকত ওসমান, রশিদ করিম, মাহবুবুল আলম, শাহেদ আলী, আবুল মনসুর, আবু ইসহাকসহ অনেক গল্পকার এসে গেলেন। তখন পূর্ব বাংলায় গল্প দাঁড়িয়ে যায়।
মাত্র ২৬ বছর বয়সে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ লালসালুর মতো উপন্যাস লেখেন। মানিক, তারাশঙ্কর বা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যত বড় গল্পকার, ঔপন্যাসিক হোন না কেন লালসালুর মতো উপন্যাস লেখার জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রয়োজন ছিল। জিব্রাইলের ডানা লেখার জন্য শাহেদ আলীর মতো লেখকের দরকার ছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পদ্মার চরে একটা কৃষক পরিবারের জীবন কেমন ছিল সারা পৃথিবীতে এটা পাওয়া যাবে না। কিন্তু আবু ইসহাক তার সূর্যদীঘল বাড়ি উপন্যাসে সেটা দেখিয়েছেন।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ যখন লালসালু উপন্যাস লেখেন তখন পশ্চিমবঙ্গে ভাষারীতি ছিল গেলুম, খেলুম, করলুম, দেখলুম ইত্যাদি। কিন্তু সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সম্পূর্ণ পূর্ব বাংলার ভাষারীতি ব্যবহার করেছেন।
পঞ্চাশের দশকে সরকারিভাবে চেষ্টা হয়েছে রোমান হরফে বাংলা লেখার। সেটা যখন সম্ভব হয়নি তখন মুসলমানি বাংলা নামে এক ধরনের বাংলা আমদানি করা হয়েছে। যেখানে ডিম লেখা যাবে না, আন্ডা লিখতে হবে। মাংস লেখা যাবে না, গোস্ত লিখতে হবে। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে আবুল মনসুর আহমদ ও গোলাম মোস্তফার মতো প্রগতিশীল লেখকেরাও এই মুসলমানি বাংলাকে মেনে নিয়েছেন।
কিন্তু সে সময় আলাউদ্দিন আল আজাদ, জহির রায়হান, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হকসহ অনেক লেখক এর প্রতিবাদ করেছেন। বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন। সে সময় তাঁদের অনেকের লেখা হয়তো দুর্বল হতে পারে। কিন্তু তাঁরা যে বাংলায় লিখছেন এটাই বড় ধরনের বাঁকবদল। পঞ্চাশের দশকের কথাসাহিত্যিক, কবি, গল্পকারেরা বাঁকবদলের কাজ করেছেন। সে সময় জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। হাসান আজিজুল হক পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত।
ষাটের দশকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সেলিনা হোসেন, আবদুল মান্নান সৈয়দ, কায়েস আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-সহ যেসব লেখক ছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের লেখার ভিন্নতা ছিল। তবে একটা বিষয় খুব কমন ছিল যে এঁরা সবাই নিঃসঙ্গতা নিয়ে লিখেছেন।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’ গল্পে নায়ক রঞ্জু বারবার তার বাবা-মায়ের ঘরে কী যেন খুঁজতে যায়। কিন্তু পায় না। ঘরে ঢুকেই সব ভুলে যায়। আসলে সে কী খুঁজতে যায়। তার শৈশব? অতীত? অস্তিত্ব? এই গল্পের ব্যাখ্যা এখনও বুঝতে পারি না। ষাটের দশকের লেখকেরা একে অপরের সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন। তারা অনেকেই সে সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তেমনভাবে যুক্ত ছিলেন না। লেখালেখিতেই বেশি সময় দিয়েছেন। এজন্য ষাটের দশককে পূর্ব বাংলার সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
লাখো প্রাণ মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল এটা। তাই একাত্তরের আগে ও পরের সাহিত্য প্রায় পুরোপুরি বদলে গেল। এটা ছিল সবচেয়ে বড় বাঁকবদল।
কিন্তু সবচেয়ে অবাক লাগে ষাটের দশকে যে ধরনের গল্প-উপন্যাস লেখা হয়েছে এখন সেটা লেখা যাবে কিনা এই প্রশ্ন সামনে আসে। সৈয়দ শামসুল হক লিখেছেন খেলারাম খেলে যা। আলাউদ্দিন আল আজাদ ‘বৃষ্টি’ নামে এক গল্প লেখেন যেখানে সৎ মায়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সত্তরের দশকে হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন জনপ্রিয় হয়ে যান। রাহাত খান কেন জনপ্রিয় হলেন না সে এক রহস্যই থেকে গেল।
মৃণাল সেনের ‘খারিজ’ নামে একটা সিনেমা আছে। যেখানে কলকাতা শহরে মধ্যবিত্ত পরিবার অনুপ-পূর্ণিমা দম্পতির বাসায় পল্টু নামে এক কিশোর কাজ করত। এই দম্পতির অবহেলায় একদিন সে মারা যায়। খবর শুনে পল্টুর বাবা-মা গ্রাম থেকে আসে। প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে, রাগে, ক্ষোভে পল্টুর বাবা দম্পতিকে থাপ্পড় দিতে যায়। হাত ওপরে উঠায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থাপ্পড় দেয় না। এখানেই সিনেমাটি শেষ হয়ে যায়। এই সিনেমাটি ঢাকায় দেখানো হয়েছিল। সৈয়দ হক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন থাপ্পড়টা মারলেন না কেন। থাপ্পড়টা যদি মারতাম তাহলে আজ এই প্রশ্ন করতেন না। এখন সারা জীবন আপনারা মারতে থাকেন।

হামীম কামরুল হক
পরিস্থিতি থেকে গল্পের জন্ম হতে পারে। কিন্তু গল্প কি পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে? গল্পলেখক যেভাবে মানুষ ও তাঁর পরিপার্শ্ব দেখেন, সেখানের কোনও অনুভূতি ও কল্পনা থেকে গল্প তৈরি করতে পারেন। ধরা যাক এক রাতে আমিনবাজার পার হওয়া বাসের এক যাত্রী দেখতে পেল একটি তরুণী স্কুটি চালিয়ে যাচ্ছে। দেখা গেল, তার মাথায় হেলমেট, পরনে জিনসের প্যান্ট ও কুর্তা। ওড়নার কোনও বালাই নেই। এই দৃশ্য কি গত শতকে ভাবা যেত? বা পঞ্চাশ বছর আগে? কোনও গল্পকার কি এই রকম এক নারীকে নিয়ে গল্প লিখতে পারতেন? সম্ভবত না।
মোটরবাইক চালাচ্ছে তরুণী। তাও রাতের বেলা। রাত তখন নটা পার হয়ে গেছে। বাসযাত্রী যদি একজন গল্পকার হয়ে থাকেন, তাহলে এই ঘটনা থেকে তিনি কি গল্প লিখতে পারেন? লিখলে কী ধরনের গল্প হয়ে উঠতে পারে। ধরা যাক, এই লেখক এমন একটি নারীচরিত্র ভাবা শুরু করলেন, যার মা-বাবা থাকেন মফসসল শহরে। মোটামুটি সচ্ছল। মেয়েটি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সে টিউশনি আর কোনও একটি অফিসে খণ্ডকালীন চাকরি করছে। তার কি কোনও ছেলে বন্ধু আছে। না কি সে একা। ধরা যাক সে একা। এক বিবাহিত আপুর বাসায় সাবলেট থাকে। আপু-দুলাভাই দুজনে চাকরি করেন। দুজন দুটি গার্মেন্টেসের সুপারভাইজার। একদিন সেখানে বেড়াতে আসা আপুর দেবর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। পরে বাড়িতে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
এই ঘটনাটি কীভাবে লিখলে একটি গল্প হবে। সেটা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তা না হলে এটা খুব সাধারণ একটা বিষয়ে পরিণত হবে। এখানেই লেখক এমন একটি বর্ণনাভঙ্গি প্রয়োগ করলেন, যেটা এক সাধারণ ঘটনাকে অসাধারণ মাত্রায় নিয়ে যায়। ফলে কী ঘটনা, কোন কালের ঘটনা। সেটি কোনও বিষয় নয়। তিনি কীভাবে লিখবেন সেটি লেখকের আদিম ও আধুনিক চ্যালেঞ্জ। ফলে গল্পের বাঁক বদল সবসময় নির্ভর করে মূলত তিন চারটি বিষয়ের ওপর:
এক. গল্পলেখকের ভাষাবোধ, তার শব্দ ও বাক্যপ্রয়োগ।
দুই. গল্প বলার ধরন বা বয়ানকৌশল।
তিন. গল্পে থাকা চরিত্রের উপস্থাপন।
চার. গল্পের ভেতর এমন চলমান পরিস্থিতি থাকবে যা একজন পাঠকের ভাবনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। দেখার চোখকে নতুন মাত্রা দেবে। পাঠকেরা হতবিহ্বল ও বিস্মিত হবে। অবিশ্বাস্য যে কোনও ঘটনা যেন বিশ্বাসযোগ্যতা পায়।
১৮৭৩ সালে বাংলা ছোটগল্পের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৩ সাল ছিল বাংলা ছোটগল্পের দেড়শ বছর পূর্তির বছর। এখন এই সময়ে এসে আমরা বলতে পারি, বিশ্বের যে কোনও ভাষার ছোটগল্পের সঙ্গে বাংলা ছোটগল্প গৌরবের সঙ্গে চলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। রবীন্দ্রনাথের সময় থেকেই ছোটগল্প এ যোগ্যতা অর্জন করেছে।
রাগ্যটাইম উপন্যাস খ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ই.এল.ডক্টোরো। তিনি ছোটগল্পের শ্রুতিপঠনের অডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বিশ্বের প্রধান ভাষা যেমন ফরাসি, জার্মান, রুশ, ইংরেজির সঙ্গে বাংলা ভাষার ছোটগল্পের কথা উল্লেখ করেছেন। পৃথিবীর ছোট গল্পের ইতিহাসে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে।
বিশ্বউপন্যাসের ঐতিহ্যে বাংলা উপন্যাস এখনও পিছিয়ে আছে। কারণ প্রকৃত ‘উপন্যাসচর্চার-সংস্কৃতি’ সেভাবে গড়ে ওঠেনি। বাংলায় এখনও উপন্যাস লিখতে গেলে তা হয়ে ওঠে প্রধানত গল্পবলারই ক্ষেত্র। উপন্যাসে গল্পবলাটা প্রধান নয়। ছোটগল্পেও কি আজ গল্প বলাটা প্রধান? এই প্রশ্নও কম তোলা হয়নি। শাস্ত্রবিরোধী গল্প আন্দোলন ঘোষণা করেছিল, এখন থেকে গল্পে যে গল্প শুনতে চাইবে তাকে গুলি করা হবে। বিষয়টা যেন কাঁঠালের আমসত্ত্ব খাওয়ার মতো বা যা কিনা সোনারপাথর বাটি। মজার ব্যাপার হলো, উপন্যাসে গল্পের দরকার নেই। অথচ সেখানে দিব্যি গল্প চলছে। আর যেখানে গল্প দরকার, সেখানে গল্প বলা যাবে না।
গল্প আসলে কী? কোনও ঘটনার কারণ নিহিত যেখানে, সেই জায়গাটি এমনভাবে লেখা, যেভাবে না লিখলে সেটি গল্প হয়ে ওঠে না। ছোটগল্প এমন এক অনিবার্য নির্মাণ যা গল্প ছাড়া আর কোনও মাধ্যমেই প্রকাশ করার উপযুক্ত নয়। নানাভাবে বাংলা ছোটগল্পের বাঁকবদল হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথপরবর্তী সময়ে প্রভাতকুমার ও শরৎচন্দ্র গল্প লিখেছেন। সে সময় প্রমথ চৌধুরীও ছোটগল্পের ভিন্ন জগৎ নির্মাণ করেছেন। অথচ ভালো ছোটগল্পকার হিসেবে কজন প্রমথ চৌধুরীকে গণ্য করেন? তিনি তো হতে পারতেন বাংলা ছোটগল্পের প্রথম বাঁকবদলের লেখক। তিনি বাংলা গদ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। প্রবন্ধে আনলেন যুগান্তকারী ভাষা। অথচ তাঁর ছোটগল্পের বই চার ইয়ারী কথার মূল্য পাঠক তেমন করে দিল কি? বিদ্যায়তনিকভাবে হয়তো কিছুটা গণ্যমান্য হলেও সাধারণ থেকে বিশিষ্ট পাঠক এমন কি যারা গল্পচর্চা করেন, তারা কি প্রমথ চৌধুরীকে পড়েন?
প্রমথ চৌধুরীর নাগরিক রুচির ছোটগল্প বাংলা গল্পের নতুন বাঁক হয়ে উঠলে, বহু আগে বাংলা গল্প নগরে ফিরত। সেই গল্প এখনও গ্রামেই রয়ে গেছে। বিভূতি, তারাশঙ্কর, মানিক এই তিন বাড়ুজ্জের ভেতরে মানিক অনেকটা নাগরিক রুচির প্রতিনিধিত্ব করলেন। কিন্তু গল্পে গ্রাম-নগর-প্রান্তিক জনপদ বা গভীর সমুদ্র এই পটভূমি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? সাহিত্য তো ভূগোলনির্ভরতায় তৈরি হয় না। সাহিত্য শেষ পর্যন্ত ভাষা ও মানব-অস্তিত্বের খেলা; লীলা বললে আরও জুতসই হয়। কোনও শর্ত দিয়ে সাহিত্যের বাঁকবদলকে দাগিয়ে দেওয়া যায় না।
কল্লোল যুগ, কালি-কলমের গল্প থেকে হাংরি, শাস্ত্রবিরোধী ও নিমসাহিত্য আন্দোলন, ছোটগল্পের নতুনরীতি। তখন কলকাতায় এমন অনেক গল্প আন্দোলন হয়েছিল। সেখান থেকে উঠে এসেছেন নানা লেখক, আবার একইভাবে অনেকে হারিয়েও গেছেন। কল্লোলের কালে জগদীশ গুপ্ত স্বমহিমায় হাজির হয়েছেন। শাস্ত্রবিরোধী রমানাথ রায় বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী সুবিমল মিশ্র বাংলা গল্পের গড়নে ধরনে ভাষারীতি ও চরিত্র-পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। আজ পশ্চিমবঙ্গের অনেক লেখকই এঁদের সামনে রেখে বা মোকাবিলা করে গল্প লিখছেন।
বাংলাদেশ বলে যে অঞ্চলটায় এখন আমরা আছি, সেখানে ছোটগল্পের প্রথম কৃতিত্ব দেওয়া হয় একরামউদ্দিনকে। কুষ্টিয়ার এই লেখকের মোট ১৭টি গল্প সওগাত ও মাসিক মোহাম্মদীতে প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর কোনও গল্পের বই আলাদা করে প্রকাশিত হয়নি। কিছু গল্পসংকলনে কেবল তাঁর গল্প জায়গা পেয়েছিল। বাংলাদেশের গল্পের জগৎ গড়ে ওঠে আবুল মনসুর আহমদ, ইবরাহীম খাঁ, মাহবুব-উল-আলম, সোমেন চন্দ ও আবুল ফজলসহ অনেকের হাত ধরে। পরে আবু জাফর শামসুদ্দীন, শওকত ওসমান, সরদার জয়েনউদদীন, আবু রুশদ থেকে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর হাতে বাংলাদেশের ছোটগল্প প্রাণ পায়।
আলাউদ্দিন আল আজাদ, শওকত আলী, সৈয়দ শামসুল হক, জহির রায়হান বা শহীদুল্লা কায়সারদের হাতে এই অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের জীবন ভাস্বর হয়ে ওঠে। তখন বাংলা ভাষার অনেক লেখকের মধ্যে এ বিষয়টা অনুপস্থিত ছিল। যদিও মানিকের বাঁক বদলে দেওয়ার মতো গল্প ‘প্রাগৈতিহাসিক’-এ বসির নামের একজনের দেখা মিলেছিল। আর পদ্মা নদীর মাঝিতে ছিল হোসেন মিয়া।

কিযী তাহনীন
রাজনৈতিক কারণে যখন দেশ ভাগ হয়, তখন আসলে কী ভাগ হয়? জমি, সীমানা, ভাষা? না কি শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি?―বাংলা গল্পের উত্তরাধিকার বইটিতে লেখক আহমাদ মোস্তফা কামাল এ প্রশ্ন রেখেছেন। আর আমরা যারা আশি-নব্বই দশকে জন্মেছি ও বেড়ে উঠেছি, তারা আজ নতুন প্রজন্মের হয়ে সাহিত্যচর্চা করছি। তাদের অস্তিত্ব যে কতবার ভাগ হয়েছে তার শেষ নেই।
আমাদের বেড়ে ওঠার সময়টাতেই কতবার ইতিহাস বদলেছে। সত্যের মাপকাঠি বদলেছে। বদলেছে সংস্কৃতির ধারা। দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতার আন্দোলনকে সামনে নিয়ে যে সাহিত্যিকেরা পথ চলেছেন তাদের সামনে একটা আলোর পথ ছিল। লক্ষ্য ছিল।
আর বর্তমানে যারা সাহিত্যচর্চা করতে এসেছি, তাদের সামনে সে আলো কোথায়! ফেসবুকের এ যুগে তারাই লিখতে এসেছে, যারা নিখাদ বোকা। তাদের অনুভূতি প্রকাশের আর কোনও মাধ্যম জানা নেই। একটি লেখার আয়ু এখানে চোখের পলকে ফুরিয়ে যায়। এসব লেখকের কোনও আলোচনা নেই। চায়ের কাপে তর্ক-বিতর্ক নেই। আমরা হয়তো যাপিত জীবনের গল্প লিখছি। তবে সে গল্প লিখছি তাৎক্ষণিক ঘটনা ও অনুভূতির উপর ভিত্তি করে।
বন্ধু রিফাত মুনিম, এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও অনুবাদক। সম্প্রতি পত্রিকায় আমার এক লেখা পড়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা দাগ কেটেছে। তিনি বলেছেন, ‘ছোটগল্পের লেখকদের দুটো ডানা থাকে। তাদের গল্পের চরিত্ররা যত বিস্তৃত হয়, লেখক তার ডানা দুটো তত মেলে ধরেন। কিন্তু পত্রিকায় যখন গল্প প্রকাশ হয় তখন মনে হয় লেখকদের ডানা দুটো কেটে ফেলা হয়েছে।’ পত্রিকার বেঁধে দেওয়া শব্দসংখ্যার জন্য লেখকের মেলে দেওয়া ডানা দুটো কাটা পড়ে! লেখকেরা একান্ত বাধ্য হয়েই পত্রিকায় গল্প দেন। এসব কারণে পত্রিকার সাথে সাহিত্যের ছাড়াছাড়ি হয়েছে। সাহিত্যপাতার পাঠক কমেছে।
বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছের রীতিনীতি আলোচনায় লিখেছিলেন, যেখানে ঘটনা জমকালো ধরনের, সেখানে রবীন্দ্রনাথ সবচেয়ে নিচু গলায় কথা বলেন। সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে জানা-অজানায় এ রীতি আমি মানতে চাই। কিন্তু চারপাশে যে কোলাহল, সত্য-মিথ্যের উপহাস, এর মাঝে অত নিচুগলায় আমরা গল্প বললে, শুনবে কে? আসলে কি কেউ শোনে?
আমরা যাপিত জীবনের গল্প লিখছি ঠিকই, তবে সে গল্প লিখছি তাৎক্ষণিক ঘটনা ও অনুভূতির উপর ভিত্তি করে। উপর থেকে শহরটা দেখতে যেমন উপন্যাসের মতো অমন করে কি আমরা দেখছি আমাদের শহর। যাপিত জীবন। এ সময়ের অলিগলি? আমরা এখনও বিভূতিভূষণের গ্রামের গল্প লিখি। আমরা সেই গ্রামের গল্প লেখার চেষ্টা করি যে গ্রাম দেখিনি। কিন্তু আমাদের সময়ের গ্রামের মানুষের অস্তিত্ব সংকট কি আমরা গল্পে তুলে ধরতে পারছি? শুনতে পাচ্ছি আমাদের নিজস্ব স্বর? যে গল্প নিজের স্বরে লেখা হয়। নিজের সময়কে প্রতিনিধিত্ব করে। সে গল্পই মহাকালে গল্প হয়ে কালোত্তীর্ণ হয়। জহির রায়হানের ‘সোনার হরিণ’ তাই আমার বড় প্রিয়।
তরুণ দম্পতি ফার্নিচারের দোকানে আসে। শৌখিন আসবাবপত্র কেনার আশ করে। কিন্তু শূন্য হাতে ফিরে যায় বারবার। এই অক্ষমতার গল্প তো আমাদের সময়ের গল্প। মাঝরাতে এ নগরে কুকুরের দুর্বোধ্য দীর্ঘশ্বাস আমাকে আখতারুজ্জামানের ‘উৎসব’ গল্পের কাছে নিয়ে যায়।
কর্মসূত্রে আদিবাসী তরুণদের গল্প সংরক্ষণের কাজ করবার এক অনন্য সুযোগ আমার হয়েছে। কাজ করে যাচ্ছি গেল ক বছর ধরে। যেমন করে আদিবাসী তরুণেরা বাংলায় গল্প লেখে, কী বিশাল তার ব্যপ্তি। আদিবাসী তরুণেরা বাংলায় লেখে, কারণ লিখতে হয়! মাতৃভাষায় লিখতে তারা জানে না। আমাদের এ বাঁকবদলে তাদের অস্তিত্ব, সংকট আদৌ কি স্থান পাচ্ছে?
নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝে দাঁড়িয়ে আজ যারা সাহিত্যচর্চা করে যাচ্ছে, করে যাবে বলে মনস্থির করেছে, নিজের স্বর খুঁজে নিচ্ছে যারা, তারা সাধুবাদ পেতেই পারে। আমার সহযাত্রী লেখকদের জন্য ছাদ ফাটানো করতালি। আমাদের ডানা দুটো আমাদেরই থাকুক।
উম্মে মুসলিমা
আমাদের মায়েরা বেগম পত্রিকা পড়তেন। একবার ‘হে নারী’ নামে বেগম পত্রিকায় একটি লেখা ছাপা হয়েছিল। সেই লেখায় এটাই দেখানো হয়েছিল যে নারীদের ঘরে কাজ করা উচিত। কিন্তু এ সময়ের নারীরা হয়তো কখনও লিখবেন না যে তাদের শুধু ঘরে কাজ করতে হবে। এই যে নারীদের লেখার যে চিন্তার বদল, মনে করি এটাই সাহিত্যের একটা বড় বাঁকবদল।

দিলারা মেসবাহ
আজকের আড্ডার সভাপতি দিলারা মেসবাহ বলেন, সমৃদ্ধ আলোচনা হয়েছে। বলার তেমন কিছু নেই। সেই গুহাজীবন থেকে গল্প শুরু হয়েছে। তারপর এল লেখার ভাষা। ভাষা ব্যবহার করে যার যার মতো করে গল্প লেখা শুরু হয়েছে। কাফকার গল্পে দেখলাম মানুষ কীভাবে পোকা হয়ে যায়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুঁইমাচা’-এর মতো গল্প পেলাম। পেলাম আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘দুধভাতে উৎপাত’ এর মতো গল্প। এখন আঞ্চলিক শব্দ দিয়ে গল্প লেখা হচ্ছে। যে গল্প পড়ার পর মনে দাগ থেকে যায় সেটাই গল্প। রিজিয়া রহমান, দিলারা হাশেম, মকবুলা মনজুর, সেলিনা হোসেন, নাসরীন জাহানসহ আরও অনেকে ভালো গল্প লেখেন। সবার গল্প পড়তে হবে।
আলোচনা শেষে সঞ্চালক নূর কামরুন নাহার বলেন, শুরুতেই বলেছিলাম সাহিত্যের এক নতুন শাখা হচ্ছে ছোটগল্প। এর মধ্যে রয়েছে জীবনের রহস্য, দ্বন্দ্ব মুখরতাসহ নানা দিক। ছোটগল্প আজ নানাভাবে পল্লবিত হয়েছে। ভেঙেচুরে নিজেকে গড়েছে। এই পর্যায়ে এসে ছোটগল্পকে এখন আর নতুন শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বৈচিত্র্য এবং প্রকাশের অভিনবত্বে বাংলা ভাষার ছোটগল্প এখন পরিণত। ছোটগল্পে জীবনের প্রকাশ এখন বহু বিচিত্র ও মাত্রিক। তাই ছোটগল্প পাঠকের হৃদয়ে এতো বেশি দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে এবং অর্জন করেছে জনপ্রিয়তা।
সবশেষে ধানমন্ডি আড্ডার সভাপতি মোহিত কামাল বলেন, আমার কাজ হচ্ছে শোনা। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার যেমন ভালো বক্তা তেমনি ভালো শ্রোতা। তিনি সব সময় শুনতে পছন্দ করেন। আমিও মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে শুনতে চাই। বাংলা ছোটগল্পের বাঁকবদলের ওপর দারুণ এক সমৃদ্ধ আলোচনা হলো। উপস্থিত কবি- সাহিত্যিকেরা খুব মন দিয়ে আলোচনা শুনেছেন। আলোচকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ধানমন্ডি আড্ডার
সভাপতি
মোহিত কামাল
সাধারণ সম্পাদক
নূর কামরুন নাহার।
আড্ডায় যারা উপস্থিত ছিলেন :
কিযী তাহনীন, রোকেয়া ইসলাম, নাসির আহমেদ, মুশতারী বেগম, রমজান মাহমুদ, সুমন সরদার, আব্দুল হালিম খান, মুনশি অনন্য রাজ্জাক, মোহাম্মদ আলী, আ ক ম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, আজিম হিয়া, জাকিয়া শিশির, নাসরীন সুলতানা, আরিফ চৌধুরী শুভ, তুলসী সাহা, উন্মে মুসলিমা, মনি হায়দার, আবদুর রাজ্জাক, আশফাকুজ্জামান, শামীমা খানম, মোহিত কামাল, কানিজ ফাতেমা খুশী, মেহতাজ নূর, রেবা হাবিব, মাহবুবা হোসেইন, দীপ্তি সমাদ্দার দিপু , নবদ্বীপ বিশ্বাস, মাহবুবা ফারুক, পলাশ মজুমদার, তাহমিনা কোরাইশী, ড. নাঈমা খানম, রওনক হাসান, উন্মে হাবীবা, শাহেদ বোরহান উদ্দিন, সালমা আক্তার মিনু, আবুল বাশার মিরাজ , আবু সাঈদ, তজিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন শেখ, নভেরা হোসেন নেলী, তাহমিনা শিল্পী ও নূর কামরুন নাহার।



