বিশেষ সম্পাদকীয় : ঐতিহাসিক চেতনার জ্যোতির্ময় সাহিত্যভূমি

ত্রয়োদশ বর্ষ সপ্তম-অষ্টম সংখ্যা জুলাই-আগস্ট ২০২৬
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রতি বছরই তাঁদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্মরণ করা হয়। লক্ষ করে আসছি, প্রায় প্রতিটা পত্রিকায় প্রকাশিত লেখায় চর্বিতচর্বণ করা হয় না বললেই চলে। নতুন নতুন আঙ্গিক এবং দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চমকে দেওয়ার মতো বিষয়বৈচিত্র্য দেখার সুযোগ ঘটে। শত বছর পরেও এই সুযোগ পেয়ে যাবেন যুগোত্তর প্রজন্মের সাহিত্যপ্রেমীরা, বিশ্বাস জন্মেছে আমার।
‘রবীন্দ্রনাথ-ভিক্টোরিয়া আখ্যান’ কিংবা ‘জাপানিদের মননে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক দুটো রচনা ভিন্ন রকম। আশা করছি পড়ার পর পাঠক মুগ্ধ হবেন।
অপরদিকে শতবর্ষ পরেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত লাঙল পত্রিকার নিবিড় পাঠ কিংবা পালিত কন্যা শান্তিলতা দেবীর চোখে ভিন্ন রকম নজরুলকে আবিষ্কার করেও ভেতর থেকে নাড়া খাবেন পাঠক―এই বিশ্বাসও দৃঢ় হয়েছে। এ সংখ্যার প্রধান রচনায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ঐতিহাসিক উপন্যাসের শিল্পমান নিয়ে নানা ধরনের চিন্তাভাবনা সাহিত্যিকদের মনে কাজ করে। অনুসন্ধিৎসু সত্তা থেকে সাহিত্যের মাঠে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, ‘ইতিহাস ও উপন্যাসের মধ্যে বহুরৈখিক সম্পর্ক রয়েছে।’
ইতিহাস তথ্যকে সংরক্ষণ করে, উপন্যাস ইতিহাসের ভেতরের মানুষকে উদ্ধার করে আর মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভব ও স্বপ্নকে ভাষা দেয়। মূলত ‘ইতিহাস ও সাহিত্য প্রায়ই হাত ধরাধরি করে চলে। ইতিহাস-চেতনা ও সময়ের গতিপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করেই লেখক তাঁর উপন্যাসের কাহিনি সাজান। ঔপন্যাসিক নিপুণ দক্ষতায় ইতিহাসের কঙ্কালের ওপর রক্তমাংস লাগান আর ইতিহাসকে অর্থপূর্ণ ও প্রাণময় করে তোলেন।’
বলা যায়, ইতিহাস চায় ঘটনার সত্যতা; উপন্যাস চায় মানবজীবনের সত্য। দুইয়ের মিলনেই জন্ম নেয় ঐতিহাসিক উপন্যাস, আবার ইতিহাসলেখনও কখনও কখনও উপন্যাসের বর্ণনাকৌশল গ্রহণ করে প্রাণ পায়। এ কারণে ‘উপন্যাসে ইতিহাস’ হলো শিল্প ও সত্যের সমন্বয়ে নির্মিত সৃজনশীল আখ্যান।
ঐতিহাসিক ঘটনা উপন্যাসে ‘পাঞ্চ’ করা বা সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় মিশিয়ে দেওয়ার একক কোনও ফর্মুলা নেই, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকৌশল আছে। এসব মানা না হলে লেখা হয়তো তথ্যসমৃদ্ধ হবে, কিন্তু উপন্যাস হয়ে উঠবে না। তাই বলা হয়ে থাকে, ঐতিহাসিক উপন্যাসে সবচেয়ে বড় ভুল ঘটে তখন, লেখক যখন ইতিহাস বলতে বলতে চরিত্রকে হারিয়ে ফেলেন। পাঠক কিন্তু যুদ্ধ, চুক্তি বা রাজনীতি নয়―মানুষের জীবন অনুভব করতে চায় যাপিত জীবনের ভেতর থেকে। ইতিহাস হলো পটভূমি, মানুষ এর কেন্দ্রবিন্দু। এই কেন্দ্রের সত্যের ভেতর কল্পনার শাখা-প্রশাখা সৃজিত হলে সাহিত্যশিল্প নির্মিত হয়ে যায়―এ সংখ্যার বিশেষ রচনায় বিষয়টা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়া থাকছে নিয়মিত বিভাগ―প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, বিশ্বসাহিত্য, পুরস্কার, বইকথা, লিটলম্যাগ এবং ইংরেজি অনুবাদ।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের তুলির স্পর্শে জীবন্ত হয়ে ওঠা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি অবলম্বনে প্রচ্ছদ সাজিয়েছেন চিত্রকর ও কথাশিল্পী ধ্রুব এষ।
পাঠক, লেখক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতি রইল শুভকামনা।




