Uncategorized

রবীন্দ্রনাথ-ভিক্টোরিয়া আখ্যান : শাহান সাহাবুদ্দিন

প্রচ্ছদ রচনা : রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ

অতিথি, আশ্রয় ও সৃষ্টির অলিন্দ: এক সম্পর্কের সূচনা-রসায়ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে ‘অতিথি’ শব্দটি ছিল অস্তিত্বগত অবস্থান। তিনি ছিলেন চলমান―দেশে দেশে, ভাষায় ভাষায়, মানুষের হৃদয়ের দোরগোড়ায়। যেখানে গেছেন, সেখানে থেকেছেন; কিন্তু কোথাও থিতু হননি। তাঁর জীবন যেন নিজেই এক দীর্ঘ আগমন ও প্রস্থানের কবিতা।

এই অর্থেই ১৯২৪ সালের শেষ প্রান্তে বুয়েন্স আয়ার্সে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর জীবনে তাঁর আবির্ভাব ছিল এক অনিবার্য অতিথির মতো―যিনি এসে ঘরের বাতাস বদলে দিলেন, আলো-ছায়ার বিন্যাস পালটে দিলেন, কিন্তু থেকে যাওয়ার কোনও প্রতিশ্রুতি দিলেন না।

নভেম্বর ১৯২৪ থেকে জানুয়ারি ১৯২৫―ঘড়ির কাঁটায় বড়জোর দু মাস। অথচ এই সামান্য সময়খণ্ড রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিজীবনে এবং ভিক্টোরিয়ার মানসলোকে এমন এক কম্পন তৈরি করেছিল, যার অভিঘাত বহু দশক পরেও অনুভূত হয়। গবেষক ক্যাথলিন ও’কনর যথার্থই লিখেছেন―

‘Their encounter was brief in chronology but immeasurable in resonance; it altered the emotional and aesthetic landscape of both.’

সান ইসিদ্রোর বারান্দা, প্লাতা নদীর প্রশস্ত জলরেখা, মিরালরিওর বাগান―এসব নিছক ভৌগোলিক স্থান নয়। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় এগুলো হয়ে উঠেছে অলিন্দ―এক অন্তর্বর্তী পরিসর, যেখানে যাযাবর আত্মা কিছুক্ষণের জন্য আশ্রয় পায়, কিন্তু গৃহস্থ হয় না।

৩১ মার্চ ১৯২৫-এ ভিক্টোরিয়াকে লেখা তাঁর চিঠিতে যে স্মৃতিচিত্র ভেসে ওঠে―

‘সকাল বেলার আলো ভরা বিচিত্র লাল নীল ফুলের উৎসব’―

দৃশ্যত প্রকৃতির বর্ণনা; অথচ তা ছিল সৃষ্টির এক নীরব উৎসব। এখানে প্রকৃতি ও নারী একে অপরের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।

রবীন্দ্রনাথের জীবনে নারী কখনও কেবল প্রেমিকা নন। তিনি প্রেরণা, প্রতিফলন, কখনওবা আয়না―যেখানে কবি নিজের গভীরতর সত্তাকে দেখে নেন। অমিয় চক্রবর্তী, যিনি এই আর্জেন্টিনা পর্বের নীরব প্রত্যক্ষদর্শী, তাঁর Tagore in Argentina স্মৃতিগ্রন্থে লিখেছেন―

‘Victoria did not claim him; she offered him space―emotional, intellectual, aesthetic.’

এই অবকাশ-এই ‘স্পেস’, রবীন্দ্রনাথের জন্য ছিল অমূল্য। কারণ সম্পর্কের ভিড়ে থেকেও তিনি ছিলেন আজীবন একাকী। কৃষ্ণ দত্ত ও অ্যান্ড্রু রবিনসন দেখিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক দাম্পত্যের নয়; তা মূলত creative companionship―সৃষ্টির সহাবস্থান।

ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো ছিলেন সেই বিরল নারীদের একজন, যিনি কবিকে অধিকার করতে চাননি, বরং তাঁকে বোঝার জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করেছিলেন। তাঁর চিঠির সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি―

‘The more my heart gives to you, the more it has to give’―

মনে হতে পারে এটি রোমান্টিক অতিশয়োক্তি; অসম যুগল বন্ধুত্বের পাঠ শেষে আমরা ধরে নিতে পারি এটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত আত্মবিস্তারী প্রেমের ঘোষণা।

এখানেই এই সম্পর্ক পাশ্চাত্যের প্রচলিত প্রেম-আখ্যান থেকে সরে আসে। এটি দান্তে-বিয়াত্রিচ নয়, যেখানে নারী আকাশীয় প্রতিমা; আবার রিলকে-ল্যু সালোমেও নয়, যেখানে সম্পর্ক ভেঙে শিল্প বাঁচে। বরং এটি অনেক বেশি সাযুজ্যপূর্ণ পারস্যের সুফি ঐতিহ্যের সঙ্গে―যেখানে প্রেম মানে অধিকার নয়, দহন।

মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি যেমন শামস তাবরিজিকে পেয়েছিলেন অল্প সময়ের জন্য, কিন্তু সেই সাক্ষাৎ তাঁকে চিরকালের কবিতে রূপান্তরিত করেছিল―ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কও তেমনই। অ্যান মেরি শিমেল রুমি প্রসঙ্গে লিখেছিলেন―

‘The beloved disappears so that poetry may begin.’

ভিক্টোরিয়ার ক্ষেত্রেও তাই। রবীন্দ্রনাথ চলে যান, কিন্তু রেখে যান বিদেশি ফুল, আশঙ্কা, আকাক্সক্ষা―এবং ‘বিজয়া’ নামের এক মানসপ্রতিমা, যা বাস্তব নারীকে ছাড়িয়ে কাব্যিক সত্তায় রূপ নেয়।

এই পর্বে প্রেম ছিল, ঈর্ষা ছিল; কিন্তু তার চেয়েও প্রবল ছিল অপরাপরতা―একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে সম্পূর্ণভাবে না পাওয়ার যন্ত্রণা। ভিক্টোরিয়ার ঈর্ষা, ফ্যানি ও অ্যালিসকে ঘিরে তাঁর অস্বস্তি―এসব মানবিক। কিন্তু  রবীন্দ্রনাথের প্রতিক্রিয়া ছিল ঋষিতুল্য দূরত্বে ভরা। তিনি জানতেন―এই সম্পর্ক দীর্ঘ হলে, সৃষ্টিশক্তি স্তব্ধ হয়ে পড়বে।

এইখানেই শুরু হয় সেই দ্বন্দ্ব, যা এই প্রবন্ধের পরবর্তী পর্বগুলোতে আমরা অনুসরণ করব―

প্রেম বনাম সৃষ্টির দায়, নারীর আকক্সক্ষা বনাম কবির নির্জনতা, ইহজাগতিক স্নেহ বনাম আধ্যাত্মিক উত্তরণ।

দুই

‘বিদেশী ফুল’ থেকে ‘বিজয়া’: ভাষা, বিরহ ও সৃষ্টির রূপান্তর

রবীন্দ্রনাথের কাব্যভাষা কখন বদলায় তা তিনি নিজেও সবসময় টের পান না। কিন্তু  ইতিহাস টের পায়। সময়ের শরীরে জমে থাকা সূক্ষ্ম কম্পন ভাষার ভেতর ঢুকে পড়ে, অক্ষরের ভঙ্গি পালটে দেয়, নীরবতার ওজন বাড়িয়ে তোলে।

ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সান্নিধ্যে রবীন্দ্রনাথের কাব্যে ঠিক সেই রকম এক পরিবর্তন ঘটে। এটি কোনও আকস্মিক রূপান্তর নয়; বরং ধীরে ধীরে জন্ম নেওয়া এক নির্বাসিত সৌন্দর্য। ‘বিদেশী ফুল’ সেই পরিবর্তনের প্রথম সুস্পষ্ট দলিল।

এই কবিতাগুলোতে প্রেম আর গৃহস্থতার দিকে টানে না। এখানে নারী ঘরের মানুষ নন―তিনি দূরের মানুষ। কাছে এসেও যিনি ধরা দেন না। প্রেম এখানে অধিকার নয়, উপলক্ষ্য―যার মধ্য দিয়ে কবি নিজের গভীরতর আত্মাকে আবিষ্কার করেন।

গবেষক উইলিয়াম র‌্যাডিসন লিখেছেন―

‘In the poems addressed to Victoria, TagoreÕs voice becomes lighter, but the silence around it grows heavier.’

এই ভারী নীরবতাই আসলে ভিক্টোরিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান। তিনি রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করেননি―‘তুমি আমাকে কী দেবে ?’ বরং নিঃশব্দে জানতে চেয়েছেন―‘আমি তোমার সৃষ্টির পথে কীভাবে দাঁড়াতে পারি ?’

এই প্রশ্নহীন উপস্থিতিই কবিতাগুলোকে দ্বৈত করে তোলে। একদিকে প্রেমের স্বীকারোক্তি, অন্যদিকে আত্মসংযমের দৃঢ় ঘোষণা। ‘আশঙ্কা’ কবিতায় কবি লেখেন―

‘সকল গান সকল প্রাণ তোমারে আমি করেছি দান―

তোমারে ছেড়ে বিশ্বে মোর তিলেক নাহি ঠাঁই।’

এখানে ভয় প্রেম হারানোর নয়; ভয় সৃষ্টির আহ্বান উপেক্ষার। এই ভয় ভিক্টোরিয়া বুঝেছিলেন বলেই তিনি কখনও রবীন্দ্রনাথকে আটকে রাখার চেষ্টা করেননি। অথচ তাঁর চিঠিগুলো পড়লে বোঝা যায়―এই সংযম তাঁর জন্য কতখানি রক্তক্ষরণ ছিল।

এইখানেই ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো পাশ্চাত্যের প্রচলিত প্রেম-আখ্যান থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি বিয়াত্রিচ নন, যিনি কেবল স্বর্গীয় অনুপ্রেরণা; আবার ল্যু সালোমেও নন, যিনি ইচ্ছাকৃত দূরত্ব রেখে পুরুষকে চিন্তায় ঠেলে দেন। ভিক্টোরিয়া বরং মারিয়ানে ফন ভিলেমারের মতো―গ্যোটে যাঁকে নিয়ে লিখেছিলেন West-Eastern Divan। গ্যোটে স্বীকার করেছিলেন―

‘Without her, my oriental voice would have remained incomplete.’

ঠিক তেমনই, ভিক্টোরিয়া ছাড়া রবীন্দ্রনাথের এই পর্বের কাব্যভাষা অসম্পূর্ণ থেকে যেত।

তবে সবচেয়ে গভীর সাযুজ্য সম্ভবত পারস্যের সুফি ঐতিহ্যে। রুমি ও শামসের সম্পর্ক যেমন সামাজিকভাবে অস্পষ্ট, কিন্তু  আধ্যাত্মিকভাবে বিস্ফোরক―রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়ার সম্পর্কও তেমন। শামস যেমন রুমির জীবন থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গিয়ে তাঁকে কবিতা ও  দর্শনের মধ্যে চিরস্থায়ী করে দেন, রবীন্দ্রনাথও তেমনি ভিক্টোরিয়াকে বাস্তব সম্পর্কের পরিসর থেকে সরিয়ে ‘বিজয়া’ নামের এক মানসপ্রতিমায় রূপ দেন।

‘বিজয়া’কে ছদ্মনাম হিসেবে দেখতে আমি নারাজ; আমি দেখি রূপান্তর হিসেবে। বাস্তব নারী এখানে ইতিহাসের মানুষ নন―তিনি কবিতার অধিবাসী। রবীন্দ্রনাথ যখন লেখেন―

‘অল্প সংখ্যক লোকই জানবে, এই কবিতাগুলোর জন্য কাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে’―

এটি নিছক সৌজন্য নয়; এটি এক ঐতিহাসিক স্বীকারোক্তি।

ভিক্টোরিয়ার কাছে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবতা―কিন্তু পাথরের নয়, আগুনের। আর আগুনকে কাছে রাখলে পোড়াতে হয়। তাঁর ঈর্ষা, তাঁর ব্যথা, তাঁর রাতভর গান―এসব কোনও দুর্বলতা নয়। এগুলোই প্রমাণ করে তিনি নিছক মিউজ ছিলেন না; ছিলেন সহযাত্রী―যদিও পথের শেষ পর্যন্ত হাঁটা হয়নি।

এইখানেই এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি―

ভিক্টোরিয়া চেয়েছিলেন উপস্থিতি,

রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন স্মৃতির চিহ্নবিশেষ।

আর স্মৃতিই শেষ পর্যন্ত সৃজনের আনন্দফুল হয়ে ফোটে।

এই পর্বের শেষ প্রান্তে এসে আমরা দাঁড়িয়ে যাই এক অনিবার্য প্রশ্নের সামনে―এই সম্পর্ক কি কেবল ব্যক্তিগত ছিল ? নাকি এর ভেতরে কাজ করছিল রাষ্ট্র, কূটনীতি, সাংস্কৃতিক ক্ষমতার অদৃশ্য টানাপোড়েন ?

এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমরা যাচ্ছি সেইদিকে

যেখানে প্রেমের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে ইতিহাস।

তিন

রাষ্ট্র, দূরত্ব ও ছায়ার রাজনীতি: প্রেমের বিরুদ্ধে ইতিহাস

রবীন্দ্রনাথ-ভিক্টোরিয়া সম্পর্কের ভেতরে যে ট্র্যাজেডি নিহিত, তা কেবল দুই ব্যক্তির নয়―তা একান্তভাবেই ঐতিহাসিক। এখানে প্রেমের পাশাপাশি রাষ্ট্র আছে, কূটনীতি আছে, আছে সাংস্কৃতিক ক্ষমতার অদৃশ্য হাতছানি। ভালোবাসা ব্যক্তিগত হলেও, বিচ্ছেদ বহু সময় রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ঘটে।

১৯২৪-২৫ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন লাতিন আমেরিকায়, তখন তিনি আর কেবল একজন কবি নন। তিনি ‘প্রাচ্যের প্রতিনিধি’, নোবেলজয়ী এক প্রতীক―যাঁর উপস্থিতি মানে সাংস্কৃতিক পুঁজি, আন্তর্জাতিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় প্রদর্শন। আর্জেন্টিনা ও পেরু―দুই রাষ্ট্রই তাঁকে চাইছিল নিজেদের মঞ্চে, নিজেদের ভাষ্যে।

গবেষক ফেদেরিকো ফিনচেলস্টেইন লিখেছেন―

‘Tagore was caught between nations, each eager to host not the man, but the meaning he carried..’

এই অর্থের রাজনীতির মধ্যে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো ছিলেন সবচেয়ে অসহায় পক্ষ। কারণ তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ কোনও প্রতীক ছিলেন না; তিনি ছিলেন মানস দেবতা। রাষ্ট্র যেখানে অতিথিকে চায় মঞ্চ ও প্রচারের জন্য, ভিক্টোরিয়া সেখানে তাঁকে চেয়েছিলেন নিভৃতির জন্য―সান ইসিদ্রোর বারান্দায়, মিরালরিওর বাগানে, প্লাতা নদীর ধীর প্রবাহের পাশে।

চাপাদ মালালের নির্জনতা―যেখানে চিকিৎসক ও সহকারীদের পরামর্শে রবীন্দ্রনাথ বিশ্রামে থাকেন―ছিল ভিক্টোরিয়ার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন সময়। ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিহাস এখানেই: যে অসুস্থতা রবীন্দ্রনাথকে ভিক্টোরিয়ার আরও কাছে এনে দিয়েছিল, সেই অসুস্থতাই তাঁকে দ্রুত বিদায়ের পথেও ঠেলে দেয়।

রবীন্দ্রনাথ নিজেও এই নৈকট্য নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। জীবনীকার কৃষ্ণ দত্ত লিখেছেন―

‘Tagore feared that prolonged intimacy would fossilize what needed to remain fluid.’

এই fluidity―এই প্রবাহ― রবীন্দ্রনাথের কাছে ছিল সৃষ্টির শর্ত। সম্পর্ক যদি স্থায়ী হয়ে ওঠে, তবে সৃষ্টির আনন্দ ফিকে হয়ে যাবার ভয় কি তাঁকে তাড়া করে ফিরত ? আর এই ভয়ই রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সঙ্গে মিলে এক অনিবার্য পরিণতির দিকে ঠেলে দেয় এই সম্পর্ককে।

‘জুলিয়ো চেজার’ জাহাজে তাঁর বিদায় কেবল এক ভৌগোলিক প্রস্থান নয়; এটি ছিল এক যুগল কল্পনার সমাপ্তি। সেই বিদায়ের মুহূর্তে ভিক্টোরিয়ার ভেতরে যে ভাঙন তৈরি হয়, তা ব্যক্তিগত শোকের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌরাণিক ব্যথার রূপ নেয়।

এখানে তুলনা টানা যায় লেভ তলস্তয় ও ভ্যালেরিয়া আরসেনিয়েভার সঙ্গে―যেখানে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া রাষ্ট্র ও পরিবারের চাপে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিংবা পাবলো নেরুদা ও ডেলিয়া দেল কারিলোর সম্পর্কের মতো―যেখানে রাজনৈতিক জীবন কবিতার পাশে দাঁড়িয়ে প্রেমকে ক্ষয় করে।

রবীন্দ্রনাথ চলে যাওয়ার পর ভিক্টোরিয়া ফিরে যান ভিলা ওকাম্পোতে। কিন্তু  সেই বাড়ি আর আগের মতো তাঁর কাছে থাকে না, অধরা থেকে যায়। তাঁর আত্মজীবনী Testimonios-এ তিনি লিখেছেন―

‘After Tagore, silence acquired a voice.’

এই নীরবতার ভেতর দিয়েই ভিক্টোরিয়া গড়ে তোলেন Sur―লাতিন আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী সাহিত্যপত্র। বোর্হেস, কামু, ভার্জিনিয়া উলফ―এই মঞ্চে একে একে হাজির হন। আশ্চর্যজনকভাবে, রবীন্দ্রনাথ সেখানে সরাসরি খুব বেশি নেই; তিনি আছেন অন্তঃসলিলা ফল্গুর মতো―দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে।

কারণ রবীন্দ্রনাথ ভিক্টোরিয়ার জীবনে কোনও অধ্যায় ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক দৃষ্টি-পরিবর্তন। এক বাঁক বদলের চিহ্ন। প্রেমের ব্যর্থতা এখানে সৃষ্টির সফলতায় রূপ নেয়। ভিক্টোরিয়া আর কোনও সম্পর্কে সেই গভীরতায় নামেননি; বরং তাঁর জীবন হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক ব্রত।

এইখানেই রবীন্দ্রনাথ-ওকাম্পো সম্পর্ক আমাদের আধুনিকতা শেখায়। তাহলে ধ্রুব এই: সব প্রেম পূর্ণতা চায় না, কেবল রূপান্তর চায়।

এই রূপান্তরের চূড়ান্ত অর্থ বোঝার জন্য আমাদের যেতে হবে আরও গভীরে―

যেখানে প্রেম, বিচ্ছেদ ও সৃষ্টি এক ধর্মে মিলিত হয়।

চার

প্রেম, বিচ্ছেদ ও চিরস্থায়ী সৃষ্টির ধর্ম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ককে যদি কেবল প্রেম বলে পাঠ করি, তবে আমরা একে সংকুচিত করি। আবার একে যদি নিছক সাহিত্যিক সৌজন্য বলি, তবে সত্যের অবমাননা হয়। এই সম্পর্ক ছিল এক ধরনের অন্তর্বর্তী ধর্ম―যেখানে প্রেম উপাসনা নয়, সাধনা; বিচ্ছেদ ব্যর্থতা নয়, সিদ্ধি।

প্রাচ্যের প্রেমবোধে পূর্ণতা মানেই স্থায়িত্ব নয়। বৈষ্ণব দর্শনে যেমন রাধা-কৃষ্ণের মিলন নয়, বিরহই আসল রস; সুফি ঐতিহ্যে যেমন প্রেম মানে দহন―রবীন্দ্রনাথ সেই ধারার সন্তান। তাই ভিক্টোরিয়াকে তিনি চেয়েছিলেন, কিন্তু  ধরে রাখতে চাননি। এই না-চাওয়ার মধ্যেই ছিল তাঁর চাওয়ার গভীরতম সত্য।

পাশ্চাত্যের পাঠে এই সম্পর্ক প্রথমে বিভ্রান্তিকর। কারণ সেখানে প্রেম মানে সিদ্ধান্ত―একসঙ্গে থাকা বা না-থাকা। কিন্তু  ভিক্টোরিয়া ধীরে ধীরে বুঝতে শেখেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁকে প্রেম শিখিয়েছেন, দখল করতে শেখাননি।

গবেষক ডরিস মেয়ার লিখেছেন―

‘Tagore gave her the courage to remain incomplete―and to see incompleteness as freedom.’

এই অসম্পূর্ণতার বোধই ভিক্টোরিয়াকে আধুনিক করে তোলে। তিনি আর কেবল আর্জেন্টিনার অভিজাত নারী নন; হয়ে ওঠেন বিশ্বসাহিত্যের এক সেতু। রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে তিনি প্রাচ্যকে দেখেন, আবার Sur-এর মাধ্যমে পাশ্চাত্যকে দেখান এক নতুন প্রাচ্য।

এইখানে এসে ইতিহাস ও স্মৃতি মিলিত হয়।

এইখানেই আমরা প্রবেশ করি সেই বর্ণনার ভেতরে, যেখানে প্রেম আর তত্ত্ব নয়―ঘটনা, দৃশ্য, কান্না, হাসি, ঈর্ষা ও বিদায়ের শরীরী ভাষা হয়ে ওঠে।

৩১ মার্চ, ১৯২৫, আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সের তিলোত্তমা নন্দিনী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ চিঠিতে লিখলেন―

‘আমার মন চলে যায় সান ইসিদ্রোর সেই বারান্দাটিতে। স্পষ্ট এখনও মনে পড়ে সকাল বেলার আলো ভরা বিচিত্র লাল নীল ফুলের উৎসব। আর বিরাট সেই নদীর ওপর নিরন্তর রঙের খেলা, আমার নির্জন সেই অলিন্দ থেকে অক্লান্ত সেই চেয়ে দেখা।’

১৯২৪-এর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ১৯২৫-এর জানুয়ারি―কালের হিসেবে দু মাস সময়। কিন্তু  ভুবনবিখ্যাত কবি, শশ্রুমণ্ডল আর নিষ্পাপ ঋষিতুল্য মানুষ রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য এই সময়টুকু যিনি পেলেন, তাঁর কাছে নিশ্চয়ই এইটুকু খুব বেশি সময় হওয়ার কথা নয়।

ইসিদ্রো থেকে রবীন্দ্রনাথের বিদায় লগ্নে ভিক্টোরিয়ার বুকের ভেতরে যা হয়ে গেল, তা কেবল সমুদ্রে বড় রকম ঝড়ের কবলে পড়া জাহাজের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে…

এখানে ভিক্টোরিয়া কোনও প্রতীক নন―তিনি একজন মানুষ, যিনি বুঝেছিলেন, তাঁর জীবনে আসা এই অতিথি কখনও সংসারে ধরা দেবেন না। ভিক্টোরিয়া সংবেদী-হৃদয়। এটুকু তো তাঁর না বোঝারও কথা নয়! বিদুষী ভিক্টোরিয়া এও তো জানেন―সব প্রেম পূর্ণতার জন্য নয়, অপার্থিব প্রেম তো নয়ই, এমনকি সব বিচ্ছেদ শেষের জন্যও নয়।

পাঁচ

মিরালরিও, ঈর্ষা ও বিদায়ের আগুন: প্রেমের শরীরী ভাষা

ইসিদ্রো থেকে রবীন্দ্রনাথের বিদায়লগ্নে ভিক্টোরিয়ার চোখের জলের তুলনা দেওয়া যেতে পারে কানু-বিরহিনী ব্রজবাসিনী শ্রী রাধিকার সঙ্গে। সে মুহূর্তে কি ভিক্টোরিয়ার মনে বারবার উঁকি দিয়ে যাচ্ছিল এই মহত্তম, অমোঘ গানের বাণী―

‘হায় অতিথি, এখনি কি হলো তোমার যাবার বেলা।

দেখো আমার হৃদয়তলে সারা রাতের আসন মেলা।

এসেছিলে দ্বিধাভরে, কিছু বুঝি চাবার ছলে,

নীরব চোখে সন্ধ্যালোকে খেয়াল নিয়ে করলে খেলা।’

কিন্তু  হায়, এই অতিথির সঙ্গে যে কারও সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার নয়। অন্য দশজন সৃষ্টিশীল পুরুষের মতোই―এত এত হাতছানি, এত এত শক্তিশালী মুখ চারদিকে থাকা সত্ত্বেও―তিনি সারা জীবন ধরেই একাকী, নির্বান্ধব। শেষ পর্যন্ত তাঁকে কেউ পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেন না, এমনকি ভিক্টোরিয়ার মতো বিদুষী, শ্রেষ্ঠ নারীও না।

অথচ স্বাতী নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করতে থাকা ইতিহাসখ্যাত এই পুরুষটিকে বুঝে উঠবার জন্য, তাঁর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য অসম বয়সী যুবতী ভিক্টোরিয়ার কী যে প্রাণান্ত চেষ্টা! ভিক্টোরিয়া রবীন্দ্রনাথকে লিখছেন―

‘Dear dear Rabindranath you will never lose my friendship, no matter what happens, and the more my heart gives to you, the more it has to give.’

ইসিদ্রো থেকে ১২ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথকে ভিক্টোরিয়া নিয়ে এলেন প্লাতা নদীর অনতিদূরে, শিল্প-সুষমামণ্ডিত নান্দনিক সৌকর্যে গড়া ছোট্ট ‘মিরালরিও’ বাড়িটিতে। এ বাড়িটি দেখলেই উপলব্ধি করা যায়―রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে ভেতরে ভেতরে গড়ে ওঠা ভিক্টোরিয়ার একান্ত স্বপ্নটিকে। বাড়িটি যেন ভিক্টোরিয়ার ভেতর ও বাহিরের অপার সৌন্দর্য নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে।

কবিও শূন্য হাতে ফেরালেন না ভিক্টোরিয়াকে। ভালোবাসার মোহন, মনোমোহন রাগিণী বাজিয়ে হৃদয় উজাড় করে কবির প্রশান্তির স্বরূপটি মেলে ধরলেন ‘বিদেশী ফুল’ শিরোনামের কবিতাখানিতে। এরপর ভিক্টোরিয়াকে ঘিরে রচিত হলো ‘আশঙ্কা’, ‘আকাক্সক্ষা’ ইত্যাদি কবিতা। এই সব কবিতার অনুরাগ-বিরাগের সুগভীর বাণী ভিক্টোরিয়াকে প্রভূত আনন্দ দিল, আবার কাঁদালও।

মিরালরিও থেকে রবীন্দ্রনাথের গন্তব্য হলো চাপাদ মালালে। জায়গাটি তুলনামূলকভাবে নির্জন ও অপূর্ব নিসর্গঘেরা। এখানেই এক বিকেলে বাগানবাড়ির চায়ের টেবিলে বসে ভিক্টোরিয়া রবীন্দ্রনাথকে বললেন,

―‘আচ্ছা, তুমি স্প্যানিশটা ভালো করে শিখলে না কেন বল তো ? আমি যে ইংরেজিতে আমার সব কথা গুছিয়ে বলতে পারি না।’

রবীন্দ্রনাথ মুখে স্মিত হাসি ফুটিয়ে উত্তর করলেন,

―‘তোমার সব কথাই তো আমি বুঝতে পারি। এমনকি না-বলা কথাগুলোও!’

প্রেম জিনিসটি তো ভালো, কিন্তু  প্রেমান্ধতা―সে কি ভালো ? প্রেমে অন্ধ হয়ে ভিক্টোরিয়ার মতো মহিয়সী যুবতীও যখন ঈর্ষান্বিত হয়, তখন সেটি কেমন দেখায় ? অন্য কোনও পুরুষ হলে না হয় আমরা আড়চোখে তাকাতাম, ছুড়ে দিতাম কটাক্ষের বিষমাখা তীর। কিন্তু  এ যে স্বয়ং গ্রেট রবীন্দ্রনাথ! ভারতবর্ষ তথা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া, পারস্যের মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমির ঘরানার আধাত্মচেতনার ঋষিতুল্য কবি।

যিনি একই সঙ্গে ইহজাগতিকতার দেবতা―যে দেবতা ইহজাগতিকতার ভেতরে থেকেও তাঁর লেখনির আলো ফেলেন অদৃশ্যের পরপারে, আলো-আঁধারির মায়াময় অথবা লৌকিকতার ঊর্ধ্বে অতি ভীতি সঞ্চারক অপার্থিব সময়ে। তাঁর প্রেমে পড়ে ভিক্টোরিয়ার মতো নারীর মাথা ঠিক না থাকাটাই বা অস্বাভাবিক কেন ?

ওদিকে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবাহী মিরালিও যেন ভিক্টোরিয়াকে ক্রমশ বিরহের মধ্যদরিয়ায় ঠেলে দিতে চাইছিল। তাই তিনি চলে গেলেন ভিলা ওকাম্পোতে, বাবা-মায়ের কাছে। একেকটি রাত যেন ভিক্টোরিয়ার কাছে আটলান্টিকের সুদূর ওপার থেকে, আন্দিজ পর্বতমালা পেরিয়ে, উইলো আর পাইনগাছের ফাঁক গলিয়ে নিয়ে আসে দীর্ঘ বিরহের তপ্ত বাতাস।

এমনই এক রাতে মানসদেবতা রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করে ভিক্টোরিয়া― মায়ের কাছ থেকে শেখা স্প্যানিশ লোকসংগীতের সুরে গাঁথা এই অপূর্ব সুন্দর কথার গানটি গেয়ে উঠলেন―

‘ওগো আকাশের দেবতা,

যে প্রেমের আলো তুমি ছড়িয়ে দিয়েছ বাতাসে বাতাসে,

চেয়ে দেখ―এখন তার সবটুকুই শুধু আমার করতলে,

আমার চোখে-মুখে।

ওগো আকাশের দেবতা।’

তারপরই ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর চোখ থেকে বাঁধভাঙা জল উপচে পড়ে, কালের ধুলোয় অপ্রকাশিত মহত্তম এক প্রেমের স্বাক্ষর রেখে যায়।

ছয়

মিরালরিও, চাপাদ মালাল কিংবা সান ইসিদ্রোর বারান্দা―এই সব জায়গা আসলে কোনও ভূগোল নয়; এগুলো রবীন্দ্রনাথের জীবনে এক একটি অন্তরাল মুহূর্ত, যেখানে তিনি নিজেকে কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে রেখেছিলেন। ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো সেই থামিয়ে রাখার সময়টুকুর নাম। কিন্তু  কবির জীবন কি কখনও থেমে থাকার ? তাঁর সামনে ছিল পথ―দেশ, মানুষ, ভাষা, সৃষ্টির অনিবার্য ডাক। ভিক্টোরিয়ার কাছে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একান্ত; আর রবীন্দ্রনাথের কাছে ভিক্টোরিয়া ছিলেন―এক উজ্জ্বল, বেদনাবহুল স্মৃতি।

তিনি জানতেন, এই সম্পর্ককে সংসারে ডেকে আনা যায় না, দৈনন্দিনতার ভারে চাপানো যায় না। তাই তিনি একে রূপ দিলেন কবিতায়। কবিতাই যে শেষ পর্যন্ত কবির ঘর-গেরস্থালি। ‘বিদেশী ফুল’, ‘আশঙ্কা’, ‘আকাক্সক্ষা’ ও পূরবী-র অনেক কবিতা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর দ্বারা অনুপ্রাণিত―এসব কবিতা আসলে ভিক্টোরিয়ার প্রতি যতটা তাঁর নিবেদন ততটাই কবির নিজের সঙ্গে নিজের কথোপকথন, নিজের সত্তার কাছে ফেরা। ভিক্টোরিয়া পরে লিখলেন―

রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনে এসেছিলেন ঝড়ের মতো নয়, এসেছিলেন নদীর মতো―নীরবে, গভীরভাবে, চিরস্থায়ী করে দিয়ে। বিদায়ের পরও তাঁরা চিঠি লিখেছেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সেসব চিঠি অন্তরের ডাক হয়ে পৌঁছে যেত পরস্পরের কাছে। রবীন্দ্রনাথ ফিরে গেছেন তাঁর দেশে, ভিক্টোরিয়া ফিরেছেন তাঁর নিঃসঙ্গতায়। কিন্তু  তাঁদের মাঝে থেকে গেছে এক অদৃশ্য সেতু―যার নাম সাহিত্য। ভিক্টোরিয়া গড়েছেন ঝঁৎ পত্রিকা, বিশ্বসাহিত্যের দরজা খুলে দিয়েছেন লাতিন আমেরিকায়। আর রবীন্দ্রনাথ―নিজের কবিতায় রেখে গেছেন সেই নারীর ছায়া, যিনি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, আর উত্তর পেয়েছিলেন নীরবতায়। এই প্রেম পূর্ণতা পায়নি―কিন্তু  ব্যর্থও হয়নি। কারণ কিছু সম্পর্কের বিশেষত্বই এমন একসঙ্গে না থেকেও অমর হয়ে থাকা। রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া―সে অমরত্বের আরেক নাম।

তথ্যসূত্র

১.         Tagore, Rabindranath. Letters to a Friend: Letters to Victoria Ocampo (Selected Letters).

২.         Ocampo, Victoria. Testimonios, Vols. I–III. Buenos Aires.

৩.        Tagore, Rabindranath. পূরবী, শেষ লেখা, পরিশেষ।

৪.         Dutta, Krishna & Andrew Robinson. Rabindranath Tagore: The Myriad-Minded Man; ড. সরদার আব্দুস সাত্তারের গবেষণা ও প্রবন্ধ।

৫.        O`Connor, Kathleen. Tagore and Argentina; Chakravarty, Amiy. Tagore in Argentina.

৬.       Radice, William. Tagore’s Late Lyrics and Love Poems.

৭.        Meyer, Doris. Victoria Ocampo: Against the Wind.

৮.        Schimmel, Annemarie. Mystical Dimensions of Islam; Goethe, J. W. West–Eastern Divan.

৯.        Rilke, R. M. & Lou Andreas-Salomé. Correspondence.

১০.      Visva-Bharati Quarterly, Sur (Buenos Aires), UNESCO Courier―নির্বাচিত সংখ্যা।

 লেখক: কথাসাহিত্যিক

প্রতিকৃতি : শেখ আফজাল

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button