গল্প : আমার মতন আর নাই কেউ : সৌমেন্দ্র গোস্বামী

বিচ্ছেদ নিদারুণ যন্ত্রণার, তারপরও বিচ্ছেদই জীবনে শাখা-প্রশাখা তৈরি করে দেয়। পুরুষের চেয়েও বেশি নারীর জীবনে। বিচ্ছেদের পর কেউ কেউ তাই অতীত ভুলে যাওয়ার অভিনয় করে কিংবা সত্যি সত্যি ভুলে যায়। কেউ ফেসবুক আইডি নষ্ট করে নতুন আইডি খোলে। আবার এমনও আছে কেউ কেউ প্রাক্তনের স্মৃতি মুছতে তারা শহরও বদলে নেয়। কিন্তু আশ্চর্য মেয়ে অনিমা। বিচ্ছেদের তিন বছর পরও প্রাত্যহিক প্রার্থনার মতো প্রাক্তনকে মনে রেখেছে। প্রথম পরিতোষ কবে বুকে হাত দিয়েছিল, ঠোঁট দিয়ে ঠোঁট ছুঁয়েছিল, তারও বেশি কাছাকাছি হয়েছিল দুজনে, ডায়েরিতে সব লেখা আছে। ডায়েরিটা সমাজে-সংসারে কখনও উন্মোচিত হলে সবাই কি আঙুল তুলবে তার দিকে, গালি দেবে ? না ভালোবাসার প্রলোভনে যে শরীর ছুঁয়েছে, তাকে দেবে ধিক্কার ? প্রশ্ন দুটো নিয়ে প্রায় ভাবে অনিমা। বিষয়টা নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখেও অনলি মি করে রেখেছে। সৃষ্টির সেরা জীব হলেও মানুষ বড় জাজমেন্টাল। তকমা দিতে কালক্ষেপণ করে না। সুজয়ও কি অনেকের মতো ? ডায়েরিটা পড়লে মনে মনে বা চিৎকার দিয়ে সেও কি মাগি বা বেশ্যা বলে উঠবে ? অফিস থেকে ফিরে ব্যালকনিতে বসে যুক্তি-তর্ক দিয়ে মাঝে-মাঝেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে অনিমা।
সুজয় বড়লোক বাড়ির ছেলে। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম, ছোট থেকে বড় হওয়া। বাড়ির সবাই তো আছেই, তবে মা বাড়াবাড়ি রকমের যন্ত্রণা শুরু করেছেন। ‘বিয়ে কর, বিয়ে কর’ বলে মাথা খারাপ করে দিচ্ছেন। কিন্তু অচেনা-অজানা কাউকে বিয়ে করতে হবে ভাবলে গা শিউরে ওঠে। কিন্তু বলব বলব করে দেড় বছরেও অনিমাকে কথাটা বলে উঠতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সহজে বলে দেওয়া যায়। জিজ্ঞেস করা যায়, ‘ভালোবাসবেন আমাকে ?’ কিংবা আরও এক ধাপ এগিয়ে লেখা যায়, ‘আমাকে বিয়ে করবেন ?’
কিন্তু সুজয় সাহস করে উঠতে পারছে না। কারণও আছে, এক অফিসে চাকরি করে দুজনে। বিভাগ যদিও আলাদা, কিন্তু অনিমা রাজি না হয়ে রিঅ্যাক্ট করলে সহকর্মীদের সামনে ছোট হতে হবে। আবার হাতে বেশি সময়ও নেই। দুই মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন মা। পছন্দের কেউ থাকলে জানাতে হবে। না হলে মায়ের পছন্দের পাত্রীর সঙ্গেই বসতে হবে ছাদনাতলায়।
এক প্রকার বাধ্য হয়েই তাই অনিমাকে ভালো লাগার বিষয়টা শিলার কাছে খুলে বলেছে। সুজয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিডিয়েট সিনিয়র শিলা। মাস দুই হলো সুজয়ের ডিপার্টমেন্টে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়েছে। একই পদ, পাশাপাশি দুজনের ডেস্ক। এছাড়া শিলার আর একটা পরিচয় আছে। সুজয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথম যে মেয়েটির গাম্ভীর্য, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য আর যত্নের প্রেমে পড়েছিল, যাকে দেখলে বুকের ঢিপঢিপ শব্দগুলো বেড়ে যেত, শিলা সেই মেয়েটি, সুজয় যাকে ভালোবেসেছিল। কী করেনি শিলার জন্য! কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি, শিলার মনের বরফ গলেনি। সুজয় ‘ভালোবাসি’ বললে, বয়সের ব্যবধান, সমাজ, ক্যারিয়ার নানা ব্যাখ্যা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিল। দু চোখ ভেঙে শ্রাবণ ধারার মতো কেঁদেছিল সুজয়। পুরুষের চোখের জল তরুণীর হৃদয়ে ঢেউ তোলে। শিলার হৃদয়েও ঢেউ উঠেছিল। কিন্তু নিজেকে সামলে বলেছিল, ‘একটা লক্ষ্মী মেয়ে খুঁজে দেব তোরে। দেখবি, আমার চেয়েও বেশি যত্ন করবে, কারণে অকারণে মাথার চুলে বিলি কেটে দেবে।’ তারপর কয়েক বছর কেটে গেছে। শিলার বিয়ে হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে ভেঙেও গেছে।
শিলা প্রথম যেদিন অফিসে আসে, শিলাকে দেখা মাত্রই সুজয়ের চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল হয়ে উঠেছিল। রাগে, অভিমানে চাকরিটা ছেড়ে দিতে ছেয়েছিল। কিন্তু শিলা জীবনের ঘটে যাওয়া দুঃখের বিবরণী বলে ক্ষমা চাইলে শান্ত হয়েছিল সুজয়।
‘তুমি না মেয়ে খুঁজে দেবে বলেছিলে। কথা না প্যাঁচায়ে, কাজটা করতে পারবা কি না বলো ?’
সুজয় অনিমাকে পছন্দ করে কথাটা শুনতেই শিলার বুকের ভেতর বৃষ্টির শেষ ফোঁটা ঝরে পড়ার মতো একটি বিষাদ দুলে ওঠে। মুখটা ভার হয়ে যায়। কর্পোরেট জীবনে অভ্যস্ত শিলা, মুহূর্তেই এক্সপ্রেশন লুকিয়ে হাসিমুখে বলে, ‘খুব না বলেছিলি, চিরকুমার থাকবি আজীবন। আমাকে ভালোবেসে এক জীবন কাটিয়ে দিবি। তাহলে আবার অনিমা কেন, হ্যাঁ ? দিদিমা বলতেন, পুরুষ মানুষের মন আমড়া কাঠের আগুনের মতো। মুহূর্তে জ্বলে মুহূর্তেই নিভে যায়।’
‘কী ভালো লাগে অনিমার, বড় স্তন দুটো ? তুই তো কখনও মেয়েদের বুকের দিকে তাকাতি না। কতবার পরীক্ষা করেছি, সববারই পাস করেছিলি। তাই তো স্নেহ করতাম তোকে, ভালোবাসতাম।’ কথাগুলো মনের মধ্যে আওড়ালেও মুখ দিয়ে বের করল না শিলা। নিজেকে সামলে আবারও প্রশ্ন করে, ‘কী রে বলিস না কেন, বল ?’
সুজয় জবাব না দিয়ে পুনরায় বলে, ‘কাজটা করতে পারবা, হ্যাঁ কি না ?’
শিলা আর কথা প্যাঁচায় না। সপ্রতিভ হেসে বলে, ‘পারব না মানে, পারতেই হবে। তোর আর অনিমার বিয়ে দিয়েই ছাড়ব, দেখে নিস।’
দুই
সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। দশটায় অফিস। বাসা থেকে রিকশায় যেতে ত্রিশ মিনিট লাগে। অনিমা স্নান করে ব্যালকনিতে টানানো দড়িতে গামছা নাড়ছিল। ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। চারপাশে যতদূর চোখ যায় কোনও মানুষের আনাগোনা নেই। হঠাৎ চোখ ছুটে যায় বাঁপাশের ছাদে। কিশোর-কিশোরী বৃষ্টিতে ভিজছে। মুহূর্তেই ছেলেটা মেয়েটাকে জাপটে ধরে। চোখের পলকে দুজনের ঠোঁট মিলে যায়। ছেলেটার হাত দৌড়ে বেড়ায় মেয়েটার বুকে। অনিমা লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয়। ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে আয়নায় নিজেকে দেখে। ‘চুমু খেলে, বুকে হাত দিতেই হবে ?’ একদিন জিজ্ঞেস করেছিল পরিতোষকে। কী ভয়ানক আগ্রাসনের সঙ্গেই না পরিতোষ সেদিন জাপটে ধরেছিল। ‘আর ঠোঁট দুটো, ছি… বেহায়া, নির্লজ্জ! আর ওর মুখটা যে বুকের ওপর নিজেই চেপে ধরেছিলাম, সে বেলা…’ ভাবতে ভাবতে চোখ খুলে ঠোঁট ঘুরিয়ে কামনা মাখা হাসি হাসে অনিমা।
মুঠোফোন বাজছে। ‘শুভ সকাল সুজয় বাবু। বলেন―’
‘শুভ সকাল। বৃষ্টি হচ্ছে তো, আসতে কি দেরি হবে ? জালালাবাদ হাউসের চেকটা কিন্তু আজকেই ছেড়ে দিতে হবে।’
‘না, না, রেডি হচ্ছি। চেক রেডি আছে, অফিসে গিয়েই পাঠিয়ে দেব।’
সুজয় ভালো ছেলে। না ভালো ছেলে না, বলা উচিত ভালো পুরুষ। অনিমার কোনও সন্দেহ নেই। দুই বছরেরও বেশি সময়ের পরিচয়ে সুজয়ের নজর কোনওদিন মুখ থেকে বুকে নামেনি। তাছাড়া সুজয় যত্নবান, দায়িত্ববান, ন্যায়পরায়ণ, সৎ, মেধাবী। চেহারায় সুপুরুষ। হলে কী হবে ? বড় দিলখোলা, কোনওই রহস্য নেই। শরীর পাওয়ার পর প্রতারকের প্রেম যেমন ফুরিয়ে যায়, রহস্যহীন পুরুষের প্রতিও নারীর আগ্রহ তেমন ক্ষণস্থায়ী, বেশিদিন টান থাকে না। তবে শিলা অফিসে আসার পর থেকে সবসময় সুজয়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকে, ব্যাপারটা অনিমার ভালো লাগে না।
সুজয় আর শিলা ক্যান্টিনে বসে গল্প করছিল। অনিমা পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়। ‘কী ব্যাপার, হাসাহাসি কী নিয়ে ? জালালাবাদ হাউসের চেক ইস্যু করে পাঠিয়ে দিয়েছি।’ ধন্যবাদজ্ঞাপক কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল সুজয়। শিলা কেড়ে নিয়ে বলে, ‘হাসির ব্যাপারটা হচ্ছে, সুজয়ের বিয়ে। হ্যাঁ, টোপর মাথায় দিয়ে।’ কথাটা মাটিতে পড়তেই বুকের ভেতর আগুনের ফুলকির মতো ধি ধি করে জ্বলে ওঠে। ক্রমশ উতলে ওঠা দুধের মতো ব্যথাটা সমস্ত বুকে দোলা দিতে থাকে। ‘খুশি হননি ? অফিস থেকে যাব আমরা সবাই। দারুণ মজা হবে।’ বলে শিলা।
‘খুশি হব না কেন, আশ্চর্য! অভিনন্দন, অভিনন্দন।’ বলে হাসে অনিমা।
‘আপনি হাসলে সুন্দর লাগে। মনে হয় বাঁ গালের তিলটাও হাসছে।’ বলতে না চেয়েও বলে ফেলে সুজয়।
অনিমার বুকের ভেতরের ঢিপঢিপ শব্দটা বাড়তে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে যাবে। চেয়ারে বসে ঢক ঢক করে এক গ্লাস জল খায়। কয়েক ফোঁটা জল বুকের ওপর নুয়ে পড়েছে। টিস্যু দিয়ে মুছতে মুছতে গলার ঠিক এক আঙুল নিচে চিনিদানার মতো তিলটাতে হাত বোলায় অনিমা। বহুদিন পর পরিতোষের মতো করে তিলের প্রশংসা করল কেউ। খুব কাছাকাছি হলে কিংবা চুমু খাওয়ার সময় বুকে হাত দিলে প্রায় কথাটা বলত পরিতোষ। ‘তোমার গালে, বুকে, গলার নিচে যে তিল, এগুলোর জন্যেই কয়েক জন্ম তোমাকে ভালোবাসা যায়।’ যে মুখ দিয়ে ঝরঝর ঝরনার মতো ভালোবাসার বাণী আসে সেই মানুষ কী করে ঠকাতে পারে, ভুলে যেতে পারে! নাকি শরীর পাওয়ার পর তৃপ্তির বাণী শোনাতে হয় ? শুনেছি, নিজের তৃপ্তি শেষে অধিকাংশ পুরুষ নারীকে অবহেলা করে, এদিক থেকে কি পরিতোষ আলাদা ? আচ্ছা, পুরুষ কি নারীকে সত্যিই ভালোবাসে ? ঠোঁটের নিচে প্রশ্নটা আওড়াতেই বাবার কথা মনে পড়ে অনিমার। প্যারালাইসিসের পর দশ বছরেরও বেশি সময় মা বেঁচেছিলেন। বাবা নিজের হাতে সেবা যত্ন করেছেন। কখনও কটু বাক্য ব্যয় করেননি। চোখের কিনার জলে ভরে ওঠে। গ্লাস নামিয়ে রাখার ভঙ্গির মধ্যে অনিমা লাল চোখ লুকিয়ে নেয়। ‘রাগ করলেন ?’ মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে জিজ্ঞেস করে সুজয়। অনিমা জবাব না দিয়ে বেরিয়ে যায়।
‘সুন্দর বলায় রাগ করল ? তুমি আবার মিথ্যে করে বিয়ের কথাটা বলতে গেলে কেন!’
‘আরে না, লজ্জা পেয়েছে। আর দায়িত্ব যখন নিয়েছি পুরো ব্যাপারটা আমার ওপর ছেড়ে দে। সবটা দেখে নেব।’ বলে শিলা মনে মনে ভাবে, ‘এই চোখ আমি চিনি। অনিমা সুজয়কে পছন্দ করে। বিয়ের কথা শুনে বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে। বুকের ভেতর এমন ঝড় বয়ে যাচ্ছে কেন। ঈশ্বর আমাকে শক্তি দাও!’
তিন
বেশ কয়েকটা ফাইল জমে আছে। সবসময় টাকা-পয়সার হিসাব কার ভালো লাগে! কলম হাতে নিতে ইচ্ছে করছে না। ‘সুজয়ের বিয়ে’ কথাটা শোনার পর থেকেই মনটা এলোমেলো হয়ে আছে। আচ্ছা সুজয়কে কেন ভালো লাগে ? সুদর্শন, সুপুরুষ চেহারা, ঠোঁট জোড়া দুই আঙুল চওড়া, বুক লোমে ভরাÑটিশার্ট পরলে বোঝা যায়। না কি সুজয়ের মধ্যে পরিতোষের ছায়া আছে ? ভাবতে ভাবতে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় অনিমা। মেঘ সরে আকাশে চকচকে রোদ উঠেছে। তাপমাত্রা বাড়ছে, গরম বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সুজয়ের অবস্থাও ভয়াবহ। মনের ভেতর উথাল-পাথাল চলছে। রাগ করল ? জবাব না দিয়েই উঠে গেল কেন ? পরিবারের পছন্দে বিয়ে করে নিলেই ল্যাঠা চুকে যেত। কিন্তু চোখ বুঝলেই অনিমার ছবি ভেসে ওঠে। অনিমার প্রতি এই আকর্ষণ কেন ? ‘আমি খুঁজি স্বাস্থ্যময় উজ্জ্বল চোখ, নীল আকাশ,/নিটোল আপেলের মতো/রক্তিম গণ্ড, সমৃদ্ধ স্তন, আর/ উষ্ণ গভীর নিতম্বের বলিষ্ঠ ইশারা…’ কবিতার কথাই কি তবে সত্যি। ভালো লাগায় শরীরের অবদান কি বেশি থাকে ? স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা পর্যায়ে অনেকের জন্যেই মন উচাটন হয়েছে। কিন্তু আগে সুযোগ ছিল না এখন সুযোগ আছে। অনিমা রাজি হলে জীবনটা হয়তো অন্যরকম হবে। স্মোকিং জোনে দাঁড়িয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ঠোঁটের নিচে আওড়াচ্ছিল সুজয়। পেছন থেকে গলা খাকারি দেওয়ার শব্দ ভেসে আসে। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত শব্দ, বুঝতে কষ্ট হয়নি। ‘সিগারেট দে ? কার বিরহে দিন দিন শুকায়ে যাচ্ছিস! দশতলার অনিমা ? ওই জিনিস ছাড়া, তোমারে কট দেওয়ার মতো কেউ তো নেই মামা। তোমার চয়েস তো জানি, হাড়ে হাড়ে চিনি তোমারে।’
আরিপ সুজয়ের কলেজ জীবনের বন্ধু। এইচআর ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। বৈবাহিক সম্পর্কে না গিয়েও প্রেমিকাকে নিয়ে এক সঙ্গে থাকে। কম-বেশি অফিসের সবাই আড়ালে-আবডালে বিষয়টা নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আরিপ এসব নিয়ে ভাবে না, পাত্তা দেয় না। ছোটবেলায় মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বাবার কাছে ছয় মাস, মায়ের কাছে ছয় মাস এভাবে বড় হয়েছে। আরিপের দেখার চোখ ভিন্ন, আলাদা। পরিস্থিতির নিরিখেই মানুষের চিন্তার বোধ তৈরি হয়। আরিপেরও হয়েছে। ওর কাছে বিয়ে শরীরী মেলামেশার সামাজিক সম্মতির চেয়ে অধিক কিছু নয়।
সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ ব্যক্তিগতভাবে নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে চলেছে। এই বোধ মানুষের রক্তের মধ্যে গ্রথিত। তাই তো এত কোন্দল, তর্ক-বিতর্ক, পক্ষ-বিপক্ষ। আরিপও এর ব্যতিক্রম নয়। দল ভারী করতে কাজ করে যাচ্ছে। বন্ধুদের লিভ ইন-এ উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সুজয় আরিপকে পাত্তা দেয় না। বিষয়টা যেন আরিপ বুঝতে না পারে তাই কৌশলে এড়িয়ে চলে। তবে এই মুহূর্তে আরিপের থেকে নিস্তার পাওয়ার চেষ্টার কারণ ঠিক এটা নয়। বরং এটা যে আরিপ অনুমান করে লক্ষ্য ভেদ করে ফেলেছে। তাই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনও জবাব না দিয়ে সিগারেট শেষ না করেই সুজয় চলে যাচ্ছিল। কিন্তু পেছন থেকে হাত টেনে ধরে আরিপ। ‘কী রে শালা, জবাব দিলি না। খুব গন্ধ আমার গায়ে, তাই না। যারা শালা রাত বিরাতে এখানে সেখানে আজ এক মেয়ে কাল অন্য মেয়ে নিয়ে যায়, তাদের গায়ের গন্ধ শোঁকো তোমরা। বাইনচোদ শালা, দূরে গিয়ে মর।’
আরিপের কথা গায়ে মাখে না সুজয়। কলেজ জীবন থেকেই আরিপের গালি খেতে খেতে অভ্যস্ত। তাছাড়া অনিমার জন্য বেদনায় বুকটা ভেঙে যাচ্ছে। স্মোকিং জোন থেকে ফিরে ডেস্কে মাথা রেখে অনিমার কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে।
শিলার মনও বিষন্ন। সুজয়কে অনিমা পছন্দ করে! মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। যে পুরুষ একসময় তার জন্য পাগল ছিল, আজ সে অন্য একজনকে ভালোবাসে, এই যাতনা নারীকে বিষম পোড়ায়। তাই কি মন ভার লাগা! একদিন মজা করেই সুজয় হোয়াটসঅ্যাপে বলেছিল ‘তোমার ঠোঁট দুটো সুন্দর। দেবে কিস করতে ?’ ‘লিমিট ক্রস করে ফেলেছিস আর কোনওদিন ছায়াও মাড়াবি না।’ পরদিন ক্যাম্পাসে এসে শিলার পায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে মাফ চেয়েছিল সুজয়।
বিয়েটা টেকেনি শিলার। এখানে সুজয়ের দীর্ঘশ্বাসের কি কোনও ভূমিকা থাকতে পারে ? প্রকৃতি সব লিপিবদ্ধ করে রাখে। তার মাপে কখনও কম হয় না। শিলার স্বামী যদিও মানুষ হিসেবে ভালো ছিল না। গায়ে হাত তোলে, মারে মেনে নিয়েও শিলা সংসারটা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু দুশ্চরিত্র জেনে এক বিছানায় শুতে বিবেকে বাধছিল।
শিলার চোখের কিনারে জল। টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে সুজয়ের দিকে ফিরে তাকায়। সুজয়কে ঘুমাতে দেখে ডেস্ক থেকে উঠে পাশে দাঁড়ায়। সুজয় সুপুরুষ, সুদর্শন। নিট অ্যান্ড ক্লিন থাকে সব সময়। নখগুলো হিরার আংটির মতো চকচক করছে। তাছাড়া সুজয় দায়িত্বশীল, যত্নবান। যে কোনও নারীর কাছে এমন পুরুষই আরাধ্য হওয়া উচিত। যে কেবল আদরই করবে না, আহ্লাদেও ভোলাবে, পেছনে লাগবে, খ্যাপাবে, খুনসুঁটি করবে, শাসন করবে, প্রয়োজনে বুক চিতিয়ে পাহাড়ের মতো সামনে দাঁড়াবে। শিলার মনে পড়ে, ডিপার্টমেন্টের এক টিচারের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে সুজয় ভীষণ রাগ করেছিল। ‘জানোয়ারটার চাহনি ভালো না। তুমি ওর সঙ্গে কথা বলো না।’ মেয়েরা পুরুষের চাহনি চেনে কিন্তু পুরুষ তার চেয়েও বেশি চেনে। কয়েক দিন যেতেই শিলা প্রমাণ পেয়েছিল। কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়ার জন্য অফার করেছিল লম্পটটা। শিলা সুজয়ের চুলে বিলি কাটতে থাকে। সুজয়ের ফোন বেজে ওঠে। শিলা মাথা থেকে হাত সরিয়ে নেয়।
ঘুম জড়ানো কণ্ঠে ফোন রিসিভ করে সুজয়। ‘বিপদ হয়ে গেছে বন্ধু। হালিম লোকজন নিয়ে হামলা করেছে দোকানে। লুটপাট করছে, ভেঙেচুরে সব শেষ, কিছু আর অবশিষ্ট নেই। তুই কি ওসিকে একটু বলবি। অন্তত জীবনের নিরাপত্তাটুকু যেন দেয়। বাকি সব আবার করে নিতে পারব। কিন্তু মরে গেলে বউ-বাচ্চা, বাবা-মার কী হবে ?’ মুকুল হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সে অনার্স, মাস্টার্স। চাকরির দিকে না গিয়ে এলাকার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নতুন একটা উদ্যোগ শুরু করেছে। উদ্যোগটা নিয়েই চেয়ারম্যানের ছেলে হালিমের সঙ্গে ঝামেলা। মুকুল উদ্যোগটা শুরু করায় হালিমের ব্যবসা কমে গেছে।
সুজয় থতমত খেয়ে উঠে দাঁড়ায়। সুজয়ের মামা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বড় পদে চাকরি করেন। তাছাড়া সুজয়রা বনেদি গৃহস্থ। এলাকার রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিরাও মানে গোনে। ‘তুই আপাতত নিরাপদে থাক। হালিমের ব্যাপারটা আমি দেখতেছি।’
চার
অনিমা লাঞ্চ করছিল ক্যান্টিনে বসে। সুজয় গিয়ে মুখোমুখি সামনে চেয়ার টেনে বসে। বৃষ্টি ভাঙা রোদ বাইরে। জানালা গলে তাপ এসে লাগছে। ‘রোদটা অন্যরকম, গরম বাড়তে পারে।’ সুজয় আশা করেছিল অনিমা ‘হু’ বা ‘হা’ জাতীয় কিছু একটা বলবে। কিন্তু জবাব না পেয়ে হতাশ হয়ে উঠে যায়। খাবারের অর্ডার দিয়ে পুনরায় এসে বসে। ‘আপনার বান্ধবী কই ?’
‘এক ব্যাচ সিনিয়র, তারপরও বান্ধবীই বলতে পারেন। মা অসুস্থ, ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। চলে গেছে।’ ভনিতা করেনি সুজয়। বান্ধবী না বলে শুধু সিনিয়র বললেও ভুল হতো না। ব্যাপারটা ভালো লাগে অনিমার। কিন্তু সুজয়কে বুঝতে না দিয়ে বলে, ‘খাওয়া শেষ করেন, উঠছি তাহলে ?’ সুজয় মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
হোয়াটসঅ্যাপে কল করেছে শিলা। ‘মায়ের কয়েকটা রিপোর্ট করতে দিয়েছি। পেতে সময় লাগবে। একা একা ভালো লাগছে না, অফিস শেষে একটু আসবি ?’
মা-বাবার একমাত্র মেয়ে শিলা। বিয়েতে সম্মতি ছিল না, শিলা অনেক চেষ্টা করেছিল আটকানোর। কিন্তু বাবার জোরাজুরিতে শেষ রক্ষা হয়নি। ছেলে ভালো চাকরি করে, দেখতেও মোটের ওপর ভালো, এক পর্যায়ে শিলা তাই নিজেকে বুঝিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারটা বাবা মেনে নিতে পারেননি। সবসময় নিজেকে দোষী ভাবতেন। শিলার ডিভোর্সের তিন মাসের মধ্যে স্ট্রোক করে মারা যান। তখন থেকে শিলা মায়ের সঙ্গে আছে। বড় দোতলা বাড়িতে এখন তাদের মা-মেয়ের সংসার।
উপর মহলের ফোন পেয়ে ওসি সাহেব নিজে গিয়ে মুকুল ও তার পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে এনেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। মুকুল ফোন করেছিল। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। পরপর একটা ভিডিও পাঠিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে। ‘কী ভয়ানক বর্বরতা!’ মনে মনে প্রমাদ গুনতে গুনতে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয় সুজয়।
পাঁচ
শিলা দাঁড়িয়েছিল হাসপাতালের সামনে। রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিতে দিতে সুজয় শিলার দিকে ফেরে। রাস্তার হ্যালোজেন আলোয় শিলাকে মিষ্টি দেখাচ্ছে। শিলার চুল বেশ লম্বা। অনিমার চুল ছোট। দুজনের হাইট সমান। শিলা শ্যামলা, অনিমা তুলোর মতো ফর্সা। শাড়ি পরলে দুজনকেই অপরূপা লাগে দেখতে। তবে চোখের চশমাটা অনিমাকে বেশি সুন্দর করেছে। চশমা যে কারও চোখে এতটা মানাতে পারে অনিমাকে না দেখলে সুজয়ের জানা হতো না।
ভাড়া মিটিয়ে মানিব্যাগ পকেটে রাখতে রাখতে আবারও শিলাকে দেখে সুজয়। জোছনাভাঙা ভোরের মতো লাবণ্যময়ী দেখাচ্ছে। মুখটা ঠিক জীবনানন্দের উপমার মতো, ‘মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য।’
পরনে সাদা সালোয়ার কামিজ শিলার। ওড়নাটা বুকের এক পাশে পাখির পালকের মতো করে বিছানো। চুলগুলো বেণি করে বাঁধা। বেণিটা পিঠের ওপর কানের দুলের মতো দুলছে। ‘হঠাৎ সাদা পরলে ?’
‘কেন, সাদা পরা নিষেধ! ও সাদা তো তোর ফেবারিট।’
‘আন্টি কই ?’
‘মাসির সঙ্গে গেছে। আজ মাসির বাড়িতে থাকবে। আমিও রিপোর্ট নিয়ে মাসির ওখানে যাব। তোর অনিমার কি খবর বল, পরে আর আলাপ হলো ?’
‘ক্যান্টিনে দেখা হয়েছিল দুপুরে। হাই, হ্যালো ছাড়া বেশি কথা হয়নি। রিপোর্ট পেতে কতক্ষণ ?’
‘এখনও এক ঘণ্টা। চল সামনের কফি শপটাতে গিয়ে বসি।’
‘হাসপাতালে আসলে প্রায়ই কথাটা ভাবী। এই যে চিকিৎসার এত খরচ, যাদের সংগতি নেই তাদের বেশির ভাগই হাসপাতালের বিলের চিন্তা করতে করতে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
শিলা কষ্ট পাওয়ার মতো মুখ করে সুজয়ের চুলে বিলি কেটে দেয়।
কফিশপটা নতুন। ভিড় তেমন নেই বললেই চলে। কফি খেতে গিয়ে পুরো কাপটাই উলটে পড়েছে শিলার গায়ে। শিলা উঠে দাঁড়িয়ে টিস্যু দিয়ে মুছতে মুছতে ওয়াশরুমে চলে যায়। কফিতে চুমুক দিতে না দিতেই শিলা এসে বলে, ‘চল বাসায় যাব। ড্রেস চেঞ্জ করতে হবে।’
মটর রিকশা, চলছে দ্রুত গতিতে। শিলার শরীর থেকে চন্দনের গন্ধ ভেসে আসছে। রোড লাইটে শিলাকে বড় সুন্দর দেখাচ্ছে। ‘তোমাকে আজ গল্পের নায়িকাদের মতো দেখতে লাগছে।’ সুজয় বলতে গিয়েও কথাটা গিলে ফেলে।
‘কি রে উসখুশ করছিস কেন, কিছু বলবি ?’
‘না, কিছু না।’
‘বলে ফেল, কথা জমিয়ে রাখতে নেই।’
সুজয় কিছু বলে না। বাতাসে দুলতে থাকা ফুলের পাপড়ির মতো সহজ করে হাসে। সমৃদ্ধ যৌবনবতী নারীর সঙ্গে রিকশায় চড়ার অভিজ্ঞতা সুজয়ের তেমন নেই বললেই চলে। কেমন একটা ঘোর ঘোর লাগছে। কপাল চুয়ে ঝরে পড়ছে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
‘কী ব্যাপার, শরীর খারাপ লাগছে ?’ ওড়না দিয়ে কপালের ঘাম মুছে দিতে দিতে শীতল গলায় বলে শিলা।
‘না, না কিছু না।’ থতমত ভঙ্গিতে জবাব দেয় সুজয়।
‘ও তোকে তো বলা হয়নি। তোর লেখা চিঠিগুলো খুঁজে পেয়েছি। বড় পাজি তুই। কী লিখেছিলি একটা চিঠিতে, ইস লজ্জা।’
‘কী ?’
‘ফাজিল, একটা চিঠিতে লিখেছিলি, তোমার বক্ষবন্ধনীর ফিতার মতো তোমার সঙ্গে আষ্টে-পৃৃষ্ঠে থাকব।’ বলে হো হো করে হাসে শিলা। সুজয় কিছু বলে না। লজ্জায় মুখ নামিয়ে নেয়। শিলা রিকশা থেকে নেমে গেটের কাছে গিয়ে পার্স থেকে চাবি বের করে তালা খুলতে শুরু করে। সুজয় রিকশা ছেড়ে শিলার পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়।
‘চাবি মনে হয় ভেতরে গিয়ে আড় হয়ে গেছে, খুলছে না। দেখ তো।’
‘আড় টাড় আবার কী! যে তালার যে চাবি সেই চাবি না হলে কি আর তালা খোলে।’ বলতে বলতে কয়েকবার এপাশ ওপাশ ঘুরালে তালা খুলে যায়। ‘তালার মধ্যে চাবি আড় হতে পারে, বুঝলি তো। সব সময় বেশি পণ্ডিতি করবি না। মার খাবি তাহলে!’ বলতে বলতে ভেতরে গিয়ে আলো জ্বেলে নিজের ঘরে যায় শিলা। ড্রেস চেঞ্জ করে বসার ঘরে এসে সুজয়কে দেখতে না পেয়ে, মুঠোফোনে কল করে। ফোন বন্ধ। হঠাৎ একটা মেসেজ আসে হোয়াটসঅ্যাপে।
‘ফুরায়েছে,Ñপুরানো তাÑকোনো এক নতুনÑকিছুর
আছে প্রয়োজন,
তাই আমি আসিয়াছি,Ñআমার মতন
আর নাই কেউ!
আমাকে বিয়ে করবে ? অনিমা চাই না, তোমাকে চাই। ভাবনাচিন্তা করেই বলছি। কোনও কিছু নিয়ে দিনের পর দিন ভেবে সিদ্ধান্ত আমাকে কখনও নিতে হয়নি। সত্যি বলছি, আসবে আমার কাছে ? অতো ভেব না, যা হবার হবে। আসবে, রাখবে বক্ষবন্ধনীর ফিতার মতো সব সময় সঙ্গে সঙ্গে ? বেশি সময় নেই কিন্তু হাতে। নিচে দাঁড়িয়ে আছি। দশ মিনিটের মধ্যে না এলে চলে যাব। আর কখনও আসব না।’’
শিলার মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ে। কী হলো পাগলটার! পা থমকে যায়। সোফার ওপর বসে পড়ে। নববধূর কাছে একজন পুরুষের যে প্রত্যাশা থাকে তার কিছু কি আমি সুজয়কে দিতে পারব ? ওর কি কখনও মনে হবে না, ওর আগে আমাকে এক পুরুষ ছুুঁয়েছে। শরীরের প্রতিটি ভাঁজে স্পর্শ করেছে। সুজয়ের মোহকে প্রশ্রয় দেওয়া কি ঠিক হবে ? শিলা নিজের সামনে দেখতে পায় নিজেকে। নিজের বিবেককে। ‘ধর, অনিমার সঙ্গে সুজয়ের বিয়ে হলো। অনিমাকে যে কখনও কোনও পুরুষ ছোঁয়নি তার কি কোনও নিশ্চয়তা আছে। নাকি সার্টিফাইড শোয়াশুয়িকেই কেবল মান্যতা দিস। আড়ালে আবডালে যা চলে চলুক। তাহলে বরকে ডিভোর্স দিলি কেন ?’ শিলা আর অপেক্ষা করে না। দৌড়ে নিচে নেমে সুজয়কে জড়িয়ে ধরে। কপালে, ঠোঁটে, গালে চুমু খায়। তারা কালক্ষেপণ করে না। মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে।
সচিত্রকরণ : রজত



