আর্কাইভসম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় : ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক শব্দচর্চার উৎসবও

ত্রয়োদশ বর্ষ   পঞ্চম-ষষ্ঠ সংখ্যা   মে-জুন ২০২৬

সাহিত্য-সংস্কৃতির মাসিক পত্রিকা, শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ শব্দঘর কেন ঈদুল আজহা সংখ্যার মোড়কে প্রকাশিত হচ্ছে ? ঈদুল ফিতরেও কেন অজস্র ঈদসংখ্যা বের হয় দেশে ? এসব প্রশ্নের আড়ালে লুকিয়ে আছে ‘উৎসব’ শব্দটি।

উৎসব শব্দের অর্থ আনন্দপূর্ণ অনুষ্ঠান, পর্ব, সমারোহ বা উদ্যাপন। এটি সাধারণত কোনও সামাজিক, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উপলক্ষ্যে আয়োজিত উৎসবমুখর সমাবেশকে বোঝায়। উৎসব মানেই হলো সবার সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া, আনন্দ উদ্যাপনের এক উৎসবমুখর বা আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন।

অপরপক্ষে ‘ঈদ’ একটি আরবি শব্দ―অর্থ আনন্দ, উৎসব। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুটি―ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। প্রতি বছর রোজা ও হজের পর খুশি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে ফিরে আসে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা। মূলত বারবার ফিরে আসে। ইসলামি পরিভাষায় ‘ঈদ’ মানে দীর্ঘ এক মাস রমজানের সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের ১ তারিখে আনন্দ ও ভোজের মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা (ঈদুল ফিতর)। মূল কথা ‘ঈদ’ মানে নির্মল আনন্দ, আত্মার পরিশুদ্ধি, সামাজিক সৌহার্দ্য, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলনমেলা এবং পরস্পরের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া আর ঈদুল আজহা ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত, কোরবানির ঈদ।

আমরা দেখছি যাপন-সংস্কৃতিতে ঈদ আচার-নির্ভর। এর প্রকাশ ঘটে ভাষার মাধ্যমেও। ভাষা ও ধর্ম উপমহাদেশের সামাজিক বাস্তবতার এক উজ্জ্বল প্রতিচিত্র। ধর্মকে মর্যাদা না-দিয়ে সমাজে বসবাস করা অসম্ভব। আর এ কারণে ভাষা কিংবা ধর্মীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ শতকের গোড়ার দিক থেকে ঈদসংখ্যা প্রকাশ শুরু হয়। এতে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে এসেছে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক প্রচারক এবং মাসিক নবনূর পত্রিকা। মুন্সি মোহাম্মদ আসাদ আলী এবং সৈয়দ এমদাদ আলী যথাক্রমে ‘ঈদুল আযহা’ (১৯০২) এবং ‘ঈদ’ (১৯০৩) শিরোনামে কবিতা লেখেন উক্ত দুটি পত্রিকায়।

অপরদিকে কবি কায়কোবাদ (২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭-২১ জুলাই, ১৯৫১) ‘ঈদের আহ্বান’ কবিতায় ঈদকে শুধু ঈদগাহের একদিনের উৎসব হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন সমগ্র যাপিত জীবনের পারস্পরিক আনন্দময় উৎসব হিসেবে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এ সময়ের সাহিত্যকর্মীরাও পথ হাঁটছি, ধরে নেওয়া যায়।

বরাবরের মতো এবারের শব্দঘর ঈদুল আজহা সংখ্যারও নান্দনিক প্রচ্ছদ করেছেন চিত্রকর ও কথাশিল্পী ধ্রুব এষ। লেখক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য রইল ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। আসুন আমরা ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হই এবং ঈদের ছুটিকে আনন্দময় করে তুলি ঈদসংখ্যা পাঠের মাধ্যমে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button