
পাঠ
যে ভাষা মরে মুছে গেল তিন হাজার বছর আগে
যে ভাষায় গাইলে তুমি একা বসে গান
বোবা পাহাড়ের বিষণ্ন চূড়ায় উঠে
তার কোনও লিপি, রেখাচিত্র
পাথরের গায়ে যদি লেখা নাও থাকে, কোনও বাজপাখি
উড়ে এসে তার সাক্ষ্য যদি নাও দেয়
শান্ত দুপুরের রৌদ্র-বিলাবলে
সহসা মেঘের ধূূসর ইঙ্গিতে এইখানে ভেসে এলে তুমি
বৃষ্টির ফোঁটার মতো।
আজকে এই ডুমুরগাছের পাতায়
এত যে আলেখ্য, এত যে আখ্যান,
জেগে উঠছে কীটের অক্ষরে,
ফুটে উঠছে বনের চিন্তার বাইরে
বিচিত্র ফুল ও ফুলের বিভ্রম
আর উড়ে যাচ্ছে যেসব গান, কিচিরমিচিরে মুচড়ে যাওয়া
ব্যথিত হাওয়ার নির্জন পৃষ্ঠায়
স্নিগ্ধ কোনও জলাবনের ধারে
ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে
তুমি তা পড়তে গিয়ে
আমাকে পাঠ করতে পারছ কি ?

বৈকালিকী
গজারি বনের ভেতর ৩৬ গড় হেঁটে পার হলেও
যে শব্দ পাতার মর্মরে বেজে ওঠে না কারও
অসতর্ক পায়ে,
ঘুমন্ত বিকেলের আয়না এড়িয়ে যাবার সময়
বিশেষত একটি জানালার পাশ দিয়ে,
চমকে উঠেছি আমি থমকে গিয়েছি একেবারে
এত যে অনৃত চিন্তা, এত যে দুরন্ত স্বপ্ন
জংধরা পাল্লার কব্জা নাড়িয়ে জেগে উঠছে
যদি তুমি শুনতে, দেখতে যদি পেতে
গজারি বনের ভেতর
ধরাশায়ী কোনও গজের পিঠ থেকে
তোমার গড়িয়ে পড়া গড়িয়ে গড়িয়ে পড়া
আর আমার জড়িয়ে ধরা পাতার মর্মরগুলো
গা থেকে ধুলোর মতন সরিয়ে সরিয়ে…
আবার ঘুমিয়ে পড়তে কি তুমি
শিয়রে পলাশ কিংবা পারুল গাছটিকে রেখে ?

মাঝরাতে
অ্যাকুরিয়ামের মাছও জানে না,
ব্যালকনির বাতাসও না
আত্মহত্যা এক মিউট আর্তনাদ।
নাদের থেকে নিনাদে পৌঁছুতে
পার হতে হয় বিষাদ নামের যে গিরিখাদ
ছোট্ট একটা ক্যাবল-কারে চড়ে
তার ওপর দিয়ে যেতে যেতে দেখলাম
আমাদের স্যাঁতসেঁতে সেই পুরনো গলির ধারে
ডাস্টবিনে শুয়ে আছে মস্ত বিড়াল।
আকাশে তাকিয়ে তারা গুনছে :
এক, দুই, তিন…
ওদিকে ইঁদুর হাঁটছে মেঘ
কিংবা ছাদের ওপর
ধা, ধিন, ধিন…
আসলে বিড়ালও জানে না, ইঁদুরও না
পৃথিবী গোলাকার, ঘুমের ভেতর
চ্যাপ্টা হয়ে থালার মতন শূন্যে ভেসে যায়।
সেই থালার ওপর ধ্যাত্তেরিকা বলে
ছুড়ে ছুড়ে পয়সা ফেলছে
ফকির বাবাটুং, টাং, টং…
বলি, কোথাও বৃষ্টি নেই।
তবু কি বৃষ্টির শব্দে তোমার
ঘুম আসছে, ঘুম ? ধুয়ে-মিশে ছড়াচ্ছে ধীরে
চোখের পাতায় জোছনার
সিডেটিভ রঙ
এই রাত্রি নিঝঝুম ?
—————–
সচিত্রকরণ : রজত



