
রবীন্দ্র গোপ
চাঁদের কণা
পাতকুয়া জলে টুকরো চাঁদের কণা ঢেউ খেলে
স্মৃতির আয়না যৌবনের গান গেয়ে যায় একা
হয় না যে আর দেখা রাত যায় দিন কেটে যায়
সময়ের চাকা ঘুরে নিশি রাত বাঁকা চাঁদ একা।
কতদিন অপেক্ষায় নক্ষত্র খামারে বসন্তের ফুল
ঝরে যায় পিপীলিকা বাসা বাঁধে টুপটাপ শব্দে
আপন আঁধারে ডুবে যাওয়া চাঁদের গ্রহণের
কালবেলা ফিরে যায় স্মৃতিরেখা শুধু মুছে যায়।
একটা কোকিল কাকের বাসায় ডিম পেড়ে যায়
পথ ভুলে ভাঙা ডিম রেখেই ঠিকানা হীন ছুটে
অশান্ত কুয়ার জলে পড়ে আছে ভাঙা বুড়ো চাঁদ
পাশেই গাঁয়ের কাঁচা পথে কে যায় অচেনা কেউ
যেতে যেতে ফুরায় না পথ স্মৃতির শেয়াল ডাকে
কোন সে বাউল আপন মনেই গেয়ে যায় গান।
===================

হাসান হাফিজ
ধ্রুব রসায়ন
সর্বনাশ ঘটে গেছে নীরবে কোথাও
কখন কীভাবে মন চুরি হয়ে গেছে
চুরি করে উড়ে গেছে মনোচোরা পাখি
ডানায় স্বপ্নের ঘ্রাণ আকুলি বিকুলি
মনোছবি দেখতে পায়
এলোমেলো উড়ছে চুলগুলি
সে যদি নিজেকে ভাবে পুষ্পের উপমা
আমি তবে হন্তারক ছুরি
নিজেই নিজেকে খুন করে ফেলতে
চরাচরে এলোমেলো ঘুরি
মেলে না উদ্দিশ
খুঁড়তে খুঁড়তে বেদনা সমুদ্র হয়
নোনা ঢেউ আছড়ে পড়ে অহর্নিশ
পুষ্পের পরাগে বেঁধে তৃষ্ণামাখা ছুরি
তাই হয়তো জীবনের নিয়তি বন্দিশ
===================

সোহরাব পাশা
জীবনানন্দের বাড়ি ফেরা
দীর্ঘ বুনো পথ। ধূলি ওড়ে
কোথাও সন্ধের গান, মসৃণ নিস্তব্ধতার আগে
ছিঁড়ে যায় বিনিদ্র রাতের পাণ্ডুলিপি
অসমাপ্ত চিত্রকল্প,
স্বপ্ন ভাঙে, অন্ধকারে বাড়ে
নিরীহ দিনের কোলাহল
শোকমগ্ন তীক্ষè আর্তনাদ-মানুষের;
ভালোবাসার রুগ্ণ গল্পে―
কমা, সেমিকোলন বসানো যায়
পূর্ণচ্ছেদ নেই―ভাঙাদিন―
দীর্ঘ যায় মেঘের ভ্রমণ
জীবনানন্দ বাড়ি ফেরে না
তার নানাবিধ গুঞ্জন ফেরে পাড়ায়;
মানুষের দীর্ঘযাত্রা―
ফেরার আকুতি প্রিয় পথে
প্রিয় মুখ অন্য পথে-অন্য হয়ে যায়
ক্লান্ত পা’য়-
দীর্ঘ পর ভোর ফিরে পায়
প্রকৃত ভোরের
প্রকৃতি।
===================

আইউব সৈয়দ
সর্বকালিক অনুরাগ
অনুভূতির প্রকাশ কালাবর্তে ডাকে
স্বকীয় আঙ্গিকে নন্দনতত্ত্ব নেয়েছে।
সৌগন্ধময় আমেজ সতৃষ্ণার ঝাঁকে―
দৃশ্য ও অদৃশ্যে অনন্য রূপ পেয়েছে।
সমকালীন বিস্তারে উঁচু করে শির
নিবিড় প্রত্যয়ে জীবনাচার গড়েছে।
আলেখ্যের যুগধর্ম আর ছন্দ নীড়―
লৌকিক অস্তিত্বে মহিমান্বিত করেছে।
সম্ভ্রম আঁচলটুকু উড়িয়েছে দূর
উপমা সেজে স্পন্দনে নিবিড় থেকেছে।
কামিনীপ্রবণ হয় ফসলের সুর
প্রাঙ্গণ জুড়ে ব্যাখ্যার ভিন্নতা এঁকেছে।
অভিষিক্তে খুলে দিল দরজার খিল্,
কর্ষণে ধরিতে চায় খুঁটিনাটি মিল।
===================

হাইকেল হাশমী
খোঁজ
তোমার খোঁজে,
এই জীবন আর বৃথা যাবে না।
জগতের ভিড়ে তোমাকে খুঁজতে গিয়ে,
শেষে ফিরে এসেছি হৃদয়ের মাঝে।
তুমি নিজেই বলো,
লক্ষ লক্ষ মুখের ভিড়ে,
দুনিয়ার অচেনা পথে ঘাটে
তোমাকে খুঁজে পাওয়া
কি সম্ভব ছিল ?
জীবনের এই যুদ্ধক্ষেত্রে
এই ক্ষণস্থায়ী আশ্রয়ে,
জীবনের বিষ পান করে,
দম বন্ধ করে বেঁচে ছিলাম।
তারপর ক্লান্ত হয়ে
ফিরে এসেছি নিজের হৃদয়ের ঘরে।
যখন দরজার কড়া নাড়লাম,
কেউ ধীরে ধীরে দরজা খুলল―
সে তো আর কেউ ছিল না
তুমি ছিলে দাঁড়িয়ে।
তোমার খোঁজে এখন আর
জীবন যাবে না বৃথা!
===================

তমিজ উদ্দীন লোদী
একটি পরিবেশবাদী কবিতা
একটা কৃত্রিম সূর্য, সিসার রক্তে আঁকা, আজ অস্ত যায় পলিথিনের আড়ালে। আকাশ এখন
প্রখর নীল নয়, বরং একরকম স্মার্টফোন-স্ক্রিনের নিষ্ক্রিয় নীল অ্যান্টি-গ্লেয়ার, ম্যাট ফিনিশ।
বাতাসে ভাসে ডেটা-সেন্টারের গরম নিঃশ্বাস আর পুরোনো কয়লার গন্ধের মিশ্রণ, এক ধরনের
নতুন মেটাবলিক গন্ধ, যাকে চেনার জন্য আমাদের নাকের এখনও কোনও শব্দভান্ডার তৈরি হয়নি।
নদীগুলো এখন ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডের মতো দুর্বোধ্য; তাদের তরল স্মৃতিতে জমেছে বিটুমেনের স্বপ্ন।
গাছেরা নিজেদের পাতা ঝরায় ড্রপ-ডাউন মেনুর মতো, প্রতিটি ঝরার আগে ‘আপনি কি নিশ্চিত?’
জিজ্ঞেস করে কেউ উত্তর দেয় না। প্রজাপতির ডানায় এখন অফিসিয়াল স্ট্যাম্প, রং নয়; মৌমাছিরা
হিসাব করে চলে পরাগায়নের জিআইএস ডেটা। প্রকৃতি একটি অ্যাপ হয়ে গেছে, যার লগ-ইন ক্রেডেনশিয়াল
আমরা বহু আগেই হারিয়ে ফেলেছি।
সমুদ্র তার জলের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে প্লাস্টিকের দ্বীপ এগুলো নতুন মহাদেশ, যাদের নাম এখনও
বিশ্ব মানচিত্রে লেখা হয়নি। এদের পতাকাও নেই, শুধু আছে এক ধরনের স্থায়ী, চকচকে শোক। মাছেরা
সাঁতার কাটে মাইক্রোপ্লাস্টিকের নীড়ে, তাদের কানকোর কথা আমরা আর কখনওই বুঝতে পারব না,
কারণ তাদের ভাষা পানির সঙ্গে সঙ্গে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।
আমরা দাঁড়িয়ে আছি এই মহান ক্ষয়ের প্রেক্ষাগৃহে। আমাদের চোখে ক্যামেরা লেন্স, হাতে স্ব-তথ্যচিত্রায়ণের
ডিভাইস। আমরা ধ্বংসকে ‘কনটেন্ট’ বানাই, বিপর্যয়কে ‘ভাইরাল’ করি। আমরা শোক করি ফিল্টার দিয়ে,
বিলাপ লাইক-এ নির্মাণ করি। এই আমাদের উত্তর-প্রকৃতির ভাষা: হাইব্রিড, ডিজিটাল, ভীষণ রকমের নির্জীব।
তবুও, কোনও কোনও ভোরে, ভাঙা কংক্রিটের ফাঁক থেকে উঠে আসা একগুচ্ছ দূর্বাঘাসের মধ্যে, কিংবা রেইনওয়াটার
হার্ভেস্টিং ট্যাঙ্কে জমে থাকা বৃষ্টির দর্পণে, আমরা খুঁজে ফিরি আমাদের সেই আদিম ছায়া যে ছায়া ছিল কেবলই কার্বন,
জল এবং আলোর একটি সরল সমীকরণ। কিন্তু সেই সমীকরণ এখন বদলে গেছে। এখন আমরা অঙ্ক করি নতুন অজানা
ফল, যেখানে প্রতিটি জলরাশি একটি পৃথক পৃথক বিপর্যয়।
===================

গোলাম কিবরিয়া পিনু
বুদ্ধিনাশ
থামেন, একটু ভেবে দেখিÑ
যার তার কথায় কোথায় যাচ্ছি?
চলতে বললে, চলছি!
থামতে বললে, থামছি!
চলতে বললে, চলছি!
কার হুকুমে ?
বুকের বোতাম খুলছি!
কার হুকুমে ?
পায়ের জুতো খুলছি!
কোথায় পা রাখবো ?
কোথায় রাখবো না!
কী পোশাকে সাজবো ?
কী পোশাকে সাজবো না!
আবেগ দিয়ে বুদ্ধিনাশ!
কী সর্বনাশ।
গাধার পিঠে চড়ে ভাবী
সিংহের পিঠে চড়ছি!
বানর তখন হাসে,
ডিম খেয়ে নেয় বাঘডাঁশে ?!
নিরাপদে থেকে যারা
শ্যাম্পেনে মুখ রাখে
তারাই মুখর
তারাই বাচাল!
আমরা হলেম বোকার হদ্দ!
নিজের মরণ ডেকে আনি
নিজেকে করি খুন!
তারপরও কেন?
ঘুণ ধরার গাই গান!
ও আমার প্রাণের জান!
===================

আসাদ কাজল
বৈশাখে চতুর্দশপদী
বৈশাখ এলে তোমার কথা মনে পড়ে
তুমি নিজেই বৈশাখ-বৈশাখীর ঝড়ে ।
প্রতিদিন হৃদয় তরঙ্গ দোলা দেয়
হৃদয় ব্যাকুল থাকে তোমার সম্মুখে
জীবন সান্নিধ্য চাই মৃত্যুর অলক্ষ্যে
বেঁচে থাকার আকাক্সক্ষা কে সে কেড়ে নেয় ?
স্মৃতিরেখায় হারানো এ প্রেমের ছায়া
পৃথিবী কি তোমার আমার শুধু মায়া ?
প্রাপ্তির নগ্নতা গোপনে ধারণ করি ?
এ বৈশাখে তোমার প্রেমের পাঠ্য পড়ি ।
নির্ঘুম রাত্রির বুকে কে তুমি একাকী ?
বৈশাখ ছুঁয়ে তোমার আমার দেখা―কী ?
তুমিই বৈশাখ! সান্নিধ্যের মায়াজাল
দীর্ঘশ্বাস ভেঙে―ছুঁয়ে দিই ছায়াকাল।
===================

মোঃ আব্দুর রশীদ
ন্যানো কণা ও প্রযুক্তি
ন্যানো কণা,
তুমি কি জানো
ক্ষুদ্রতার ভেতরই লুকায় অসীমের মানচিত্র?
ঈঊজঘ-এর অন্ধকার সুড়ঙ্গে
যখন প্রোটন ছুটে যায় আলোরও পিছে,
সংঘর্ষের আগুনে
জেগে ওঠে তোমারই নাম…
অদৃশ্য বিপ্লব।
ঘঅঝঅ-র নক্ষত্রপথে
ধূলিকণার মতো ভাসে সম্ভাবনা;
মহাশূন্যের নীরবতায়ও
তোমার কম্পন শোনা যায়।
সূর্যের আলোককণা নেমে আসে
সিলিকনের ত্বকে…
সৌরকোষের কোষে কোষে
আলো জমা হয় প্রার্থনার মতো।
কার্বনের কালো দাগ
ধুয়ে যায় সবুজ শক্তির বৃষ্টিতে।
মাটির গভীরে
রোগের অণুজীব নিঃশব্দ ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত;
তুমি তাদের ভাষা পড়ে
শস্যের শিরায় পাঠাও প্রতিরোধ।
একটি দানায় তখন
কোটি প্রাণের স্পন্দন।
মানবদেহ…
অসংখ্য নক্ষত্রপুঞ্জের সমষ্টি।
অসুস্থ কোষের অন্ধকারে
তুমি প্রবেশ করো আলোকবিন্দু হয়ে,
লক্ষ্যভেদী ঔষধের ক্ষুদ্র দূত…
নিঃশব্দে বদলে দাও নিয়তি।
তবু মনে রেখো…
ক্ষমতারও নৈতিকতা আছে।
প্রযুক্তি যদি অহংকার হয়
তবে সে ধ্বংসের বীজ বপন করে;
আর যদি হয় সহযাত্রী,
তবে মানুষ ও প্রকৃতি
একসাথে লেখে ভবিষ্যৎ।
ন্যানো কণা,
তুমি ক্ষুদ্র নও…
তুমি সময়ের সূক্ষ্ম স্বাক্ষর।
একুশ শতক হোক
তোমার সংযত আলোয় নির্মিত…
যেখানে বিজ্ঞান কবিতা,
আর কবিতা দায়িত্বের দীপ্ত শপথ।
===================

তাহমিনা কোরাইশী
গন্তব্য জানা নেই
আগের মতো সাদামাটা চলে না কিছুই
গরুর গাড়ি এবড়োখেবড়ো পথে আর হাঁটে না
ঝকঝকে তকতকে চলন্ত শকট
নদী পুকুর দিঘি যত জলের আধার
হয়েছে বসতভিটা
চিন্তায় উড়ন্ত বাজপাখির বসবাস
আকাশ মাটি করে ফানা ফানা দৃষ্টিতে তার
শান্তির নগর হয় অশান্ত জনপদ
শকুন উড়ে উড়ে সেই মরা দেহটি উপলক্ষ্যে
শব্দগুলো বেতফলের কাঁটাযুক্ত গাছ বিঁধে নিরন্তর
ভাবনায় লাগাম টানা সহজ নয়
সবারই চাহিদা আজ আকাশ ছুঁই ছুঁই
মিল অমিলে দিশেহারা এ জীবন
গচ্ছিত রাখা বিপজ্জনক
উজাড় করা আঁখি তাকায় কী আশায়!
অন্ধ পথিক পথে পথে একলাই।
===================

শামীম রফিক
তৃষ্ণা ছাড়াই তৃষিত জীবন
স্বপ্ন ছোঁব বলে স্বপ্ন দেখি না আর
আমার স্মৃতির শৈশব
কৈশোর, যৌবন আলস্যে ঘোরেনি মোটেও
তবু কেটে যায় সুন্দর দিয়ে তৃষিত জীবন
কোথায় হারালো সেই ইপ্সিত নির্যাস।
মধ্যবিত্ত আলস্যের প্রতিবাদ
বরাবর ছিল সারাবেলা
তুমি ছিলে ভিন্ন মানুষ
তুমি ছিলে অবাককরা বিরূপভাজন
সবকিছুতেই ঠেলে দিতে
আলতো করে দূরের ভুবন।
জীবন শুধু একটা হলো
জীবন মৃত্যু তোমায় দিয়ে
একটু আমি দূরে দাঁড়াই
ঋণের খেলায় যতই খেলি
হার এসে যায়, তোমায় চেয়ে।
একটুখানি জীবন ছিল
বুকের ভেতর হলুদ প্লাবন
আর যা ছিল চারিদিকে
সব জ¦লেছে ভিন্নভাবে, ভিন্নতাপে
সব হারানো গোপন বিষে জ¦লছি এখন।
চারিদিকে ব্যর্থ শুধু
মনে রেখো, ছিল কত আলো হাওয়া
উড়াল দুপুর, মাতাল চাওয়া
সবকিছু ব্যর্থ হলেও
আবার সাজাই দুর্বিনীত ইচ্ছেটারে।
===================

গাউসুর রহমান
গভীর বিস্ময়ে আমি ম্লান হয়ে থাকি
গভীর বিস্ময়ে আমি ম্লান হয়ে থাকি
ধোঁয়া টানার অভ্যাস শেষ হয়েছে কবে,
তবু ধোঁয়ার গন্ধ পাই―
শব্দের ধোঁয়া;
আমি শব্দের ধোঁয়া টানি।
শব্দের মধু রাখি মোমের সঞ্চয়ে
শব্দের আস্বাদে আমি বেদনা
মোছার চেষ্টা করি।
শব্দের নতুন নক্ষত্রে যদিও পারি
না যেতে।
আমার শব্দগুলো জলভেজা মসৃণ নয়
আমার শব্দগুলো জ্যোৎস্নার নদীতে
রাজহাঁসের বর্ণালি ঢেউ নয়;
আমার শব্দগুলো নয় রোদের
সোনালি রেণু ।
আমার শব্দগুলো ফুলের মতো
ভালোবাসতে পারে না;
আমার শব্দগুলো খোলা হাওয়ায়
বেড়াতে জানে না―
আমার শব্দগুলো পাখির মতো
গান গাইতে জানে না।
===================

হাসান ওয়াহিদ
অবহেলার নাস্তিকতা
অনেক কাছে আসতে চেয়েছিলাম
যাতে টের পাও রোমশ বুকে
কতটা ইচ্ছে জেগে আছে
তোমায় নিয়ে।
জানি, জ্যোৎস্নার আফিম মায়ায়
তোমাকে অনর্থক খোঁজা।
অনেক আগেই হারিয়েছো তুমি
যেমন শিকারির সিসায় ময়ূর হারায়
তার প্রিয়তম আয়ু।
এখন শুধুই বুকের বেহালা পুড়ে যায়
অজুহাত আর অবহেলার নাস্তিকতায়।
===================

অঞ্জলি দে নন্দী
আমি কি জানো কি বিশ্ব ?
আমরা কি আবার নতুন করে বুদ্ধ গড়ি ?
না না না গো না আমরা তো যুদ্ধ করি!
আমরা বাঁচি না, আমরা লোভেতেই মরি।
আরও চাই আরও চাই,
চাওয়ার যে আর শেষ নাই।
যদি যুদ্ধ করে পাই
তবে কেন বোমা মারবো না।
হিংসার পথ আমি ছাড়বো না।
তোমার মাটির নিচে প্রকৃতি যা তোমায় দিয়েছে।
আমার অস্ত্র তোমার শির কেটে তা কেড়ে নিয়েছে।
আমার ধ্বংসের শক্তি তো সবাইকে শেষ করে।
আমার যুদ্ধের কারণে কত কত যে মরে!
তাতে আমার হৃদয় আনন্দে ভরে।
আমি যে পেরেছি, দখল করেছি অন্যের সম্পদ। বাইরে নেই, ভেতরে আমার আছে চতুষ্পদ।
এর আগেও ভূগর্ভের অমূল্য ধনের লোভ আমায় হিংস্র করেছিল।
তখন কত কত জায়গাকে আমার শক্তি শূন্যতায় ভরেছিল।
আবার এখনও আমার সেই বন্যতা জেগে উঠেছে।
বাতাসে পাগল দূষণের নৃশংসতা ছুটেছে।
আমার বুদ্ধিতে অমানুষিকতার বিষপুষ্প ফুটেছে।
তার আকর্ষণে অকাল মৃত্যুর পতঙ্গ জুটেছে।
===================

আমেনা তাওসিরাত
অন্বেষণ
বিনিদ্রতায় আবারও শঙ্খের হাসি,
কোনও গোপন গল্প লুকিয়ে ভাঁজ জামা হয়।
কর্পূর, যত্ন, সোনা রোদ না পেয়ে,
ছাদে চলে যায়।
আসছে সৌভাগ্যের আন্তঃনগর,
উঠে পড়ো তুমি।
আমি তো বেহুদা বাক্সগুলোন।
মালবাহকের কৌতূহল এড়িয়ে,
তোমাকে দেখি।
রুমাল নয়,
নিজেকেই নাড়ি।
গ্রীষ্মের ছুটি,
ঝুঁটি চুল বাড়ি যায়,
রেলগাড়ি কথা কয়।
হাওয়াই জাহাজও পায় না ছুটি।
নিরাপদে টার্মিনাল ফেরে।
হতে পারি ওদের মতন―
মেঘের সাদায় বসে
নাই বা থাকি নিয়ে তোমার নেভিগেশন।
—————–
সচিত্রকরণ : রজত



