গল্প : বাকোই গন্ধ : রাজকুমার শেখ

দূর থেকে শব্দটা আসছে। কে যেন ঢেঁকিতে ধান ভানছে। শামিম বাকোই ধানের গন্ধ পাচ্ছে। ভোরের হিম হিম বাতাসে ওর ঘুমটা বেশ ভালোই এসেছে। কত দিন পর তার বাড়ি ফেরা। সে পরিযায়ী শ্রমিক। তাকেও রুটির খোঁজে যেতে হয়েছে অনেক দূর। কিন্তু এত ভোরে কে ধান ভানছে ? ও কি স্বপ্ন দেখছে ? ওর ঘুম টুটছে না। ওর মা রুকসানা বিবি এমন ভোরে বাকোই ধান ভানছে ? শামিম কোনও দিশা পায় না। বাইরে ঝিম মেরে আছে ভোর। বাকোই ধানের গন্ধতে গোটা পৃথিবী ভরে গেছে। শামিম ওর মায়ের গলা পায়, খোকা, উঠবি না ? ভোর যে হয়ে এল। ধান কাটটি হবে। মাঠে যা।

শামিম ওর মায়ের গলা পেয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসে। দেখছে কেউ নেই। এখনও পুবের আলো ফোটেনি। ফজরের আজান দিচ্ছে মাঝপাড়া মসজিদে। কাপাসডাঙা গ্রাম এখনও ঘুমিয়ে। এখন আর আগের মতো লোকজন নেই। বেশির ভাগ মানুষ এখন কেরালাতে কাজে যায়। পাত বিলের মাঠ পড়ে আছে। তেমন আর চাষাবাদ হয় না। আগে কত কিসিমের ধান হতো। হুমকেলি, বাকোই, কাজল গরি, লা-জল, কালি দুবরাজ, হিমশাল। আর কত রকমের ধান। শামিমের বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। ওর মা সেই সব ধানের মুড়ি ভাজত। ভাতের গন্ধ গোটা গ্রামজুড়ে ম ম করত। মাঠ থেকে ফিরেই ডুমনি নদীর জলে গা ধুয়ে এসে বসত খেতে। কত মধুর সে স্মৃতি। শামিমের দুচোখ জলে ভরে আসে। আজ কত দিন হলো ওর মাকে সে হারিয়েছে। সে ঢেঁকিও আর নেই। বাকোইয়ের গন্ধ হারিয়ে গেছে। পাত বিলে এখন আর চাষ হয় না। আষাঢ়ের জলে নেচে উঠত ধানের শীষ। সবুজ গন্ধ বাতাসে মিশে ভেসে আসত। তখন শামিম অনেক ছোট। ওর বাপের হাত ধরে যেত ধান ক্ষেতে। ওর বাপের গায়ে লেগে থাকত সবুজ সবুজ গন্ধ। শামিম বুক ভরে নিত সে গন্ধ। আষাঢ়ে ডুমনি নদী ভাসিয়ে দিত গোটা কাপাসডাঙার মাঠ। আষাঢ় যেন থামবে না। হুমকেলি ধানের শীষ কিন্তু জলের ওপর ঠিক ভেসে থাকত। আর বালিহাঁসগুলো জলে সাঁতার কেটে বেড়াত। কতরকমের মাছ ধরা পড়ত ফাঁসে। জেলেরা এই মাছ বেচে জীবন চালাত। ডুমনি আছে। পাতবিল আছে। কিন্তু সে মাছ হারিয়ে গেছে। নদীর দুই পাড়ের মানুষ কত সুখে ছিল। হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে বাস করত। পালপরবে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।

শামিম আধো অন্ধকারের দিকে চেয়ে থাকে। ভোরের আবেশে মিশে আছে যেন বাকোই ধানের গন্ধ। শামিম সে গন্ধ নিতে থাকে একটু একটু করে। যেন ওর মা আঁচলে ভরে বাকোই ধানের চাল নিয়ে আসছে। কত দিন তার ছেলে ভাত খায়নি।

শামিম ওর মায়ের কথা ভাবতে থাকে। তার বুকের তারে মায়ের কথাগুলো এখনও রিনরিন করে বাজে। ডুমনির জলজ গন্ধ বাতাসে মিশে ভেসে আসছে। ভোরের আবেশ এখনও কাটেনি। শামিম আর শোয় না। বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে। ফজরের নামাজ আদায় করে। তারপর চলে যায় লালের চায়ের দোকানে। সবেমাত্র চা বসিয়েছে। শামিম চায়ের দোকানে বসে। দু-একজন ফজরের নামাজ শেষে এসে বসে চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে। এখন আর আগের মতো ভিড় হয় না লালের চায়ের দোকানে। জমির চাচা ওর পাশেই বসে। শামিম বলে, চাচা, কেমন আছেন ?

কে তুই ?

আমি জুমেরের ছেলে। শামিম।

আরে বাপ চিনতি পারিনি। তা বাপ কেমন আছ ?

ভালো চাচা। আমি তো এখানে থাকি না।

হ্যাঁরে বাপ। সব এখন রাজমিস্ত্রী খাটতে যায় বিদেশে। আগের মতো আর সুখ নেইরে বাপ! জেবনটা যত দিন আছি, তত দিন তার কদর। তারপর সব শেষ!

জমির চাচা কেমন অন্যমনস্ক হয়ে যায়। পুবে ভোরের ছোঁয়া। লাল চা দেয়। একবার ওর সঙ্গে চোখাচোখি হয়। লাল কিছু বলে না। লাল এক সময় ভালো ফুটবল খেলত। তার নাম এখনও লোকমুখে শোনা যায়। পাড়াটা কেমন সুনসান। শামিমরা যখন থাকত তখন কিছু না কিছু তারা করত। তাদের সাথী-সঙ্গীরা কে কোথায় হারিয়ে গেল! শামিমের মনটা খারাপ হয়ে যায়। নিজেকে বড় একা লাগে। ও চায়ে চুমক দিতে ভুলে যায়। দূরে কোথায় একটা ঘুঘু ডেকে উঠল। সকাল হয়ে আসছে। লাল খরিদদার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। জুমের চাচা চা শেষ করে বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। কাপাসডাঙার অনেক লোকজন আর দেখা যায় না। কতজন দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। মাঠপাড়ার হালিম চাচা ভালো লাঠিখেলা জানতেন। চল্লিশার সময় খেলা দেখাতেন। তখন শামিম অনেক ছোট। বাপজির হাত ধরে খেলা দেখতে যেত। সেসব পাঠ কবেই উঠে গেছে। শামিমরা এখন পরিযায়ী। পাতবিলের সারসের মতোই তারাও উড়ে বেড়ায়। তাদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। বেলা হয়ে এল। শামিম বাড়ির দিকে পা বাড়ায়।

বাকোই ধানের গন্ধটা এখন বাতাসে ভেসে আসছে। ডুমনির জলে কয়েকটা হাঁস খেলা করছে। শামিম সে দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। শামিমের আপনজন। যেসব দেখে সে বড় হয়েছ। কত দিন ডুমনিতে সে সাঁতার কাটে না। জীবন ধারণ করতে গিয়ে সে কতকিছুই হারিয়েছে। ওর মায়ের জন্য মনটা আজ কেমন যেন করছে। হুহু করে ওঠে মন। ওর চোখটা জ্বালা করতে থাকে। এই সকালটা শুধু তার মায়ের জন্য। শামিম ডুমনির বাঁকে এক সময় মিলিয়ে যায়।

দুই

বাপ শামিম, কবে এলি বাপ ? কাছে আয়। ছানছিতে কেনে বাপ দাঁড়িয়ে ? আয় বাপ, উঠে আয়।

সালেহা চাচি ওকে ডাকে। তার মায়ের পরই এই চাচির স্থান। ওর মা চলে যাওয়ার পর সালেহা চাচি ওকে আগলে রেখেছিল। কিন্তু তার আর গাঁয়ে থাকা হলো না। কেন না কাপাসডাঙা গাঁয়ে পঞ্চায়েত রাজ চলছে। গ্রাম্য রাজনীতির অনেকে শিকার। তার জাল কেটে কেউ বাইরে যেতে পারে না। শামিম তার সঙ্গে জড়িয়ে যাবে বলেই সালেহা চাচি ওকে সরিয়ে দেয়। ওর পড়াশোনা শেষ হয়ে যায়। তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তার স্কুলের গণ্ডির বাইরে পা রাখে। তার সামনে অচেনা জগৎ। তাদের যেটুকু জমিজমা ছিল তা ভাগে দিয়ে দেয়। শামিম গাঁয়ের মধ্যেই থাকতে চেয়ে ছিল। তার বাড়িতে বদর চাঁদের লোকজন আসতে লাগল। শামিমকে তাদের দলে আনতে চায়। শামিম রাজনীতির কতটুকু বোঝে ? বদর চাঁদ এই সব ছেলেদের দিয়ে বুথ দখল করায়। লাঠিয়াল বানায়। আরও কত কী করিয়ে নেয়।

সালেহা চাচি একরাতে মিনারের সঙ্গে কেরালা কাজে পাঠিয়ে দেয়। কাজে যাওয়ার আগের দিন রাতে শামিম কেঁদে বালিশ ভাসায়। তার ঘুম আসে না। তার মায়ের কথা মনে পড়ে। বিছানা ছেড়ে বাইরে আসে। কেমন একটা হিমেল ভাব। শিশির ঝরে পড়ছে। ডুমনি এখন ঘুমিয়ে। এই ডুমনি কতকিছুর সাক্ষী। ডুমনি মা নেই। কিন্তু তার কথা এখনও লোকমুখে শোনা যায়। তাঁর নামেই ডুমনি নদী। ডুমনির রূপ দেখে বণিক কালীকৃষ্ণ তাঁকে বিয়ে করে। কালীকৃষ্ণ ছিলেন ব্রাহ্মণ সন্তান। তিনি এই অঞ্চলে মাঝিমাল্লা নিয়ে এসেছিলেন বাণিজ্য করতে। হঠাৎ একদিন নদীতে জল আনতে আসা ডুমনিকে কালীকৃষ্ণ দেখে ফেলেন। মাঝিদের নিয়ে খোঁজ নেন। এবং তাঁকে বিবাহ করেন। তারপর আবার তাঁর বজরা নিয়ে ভেসে যান। একদিন রাতে হঠাৎ ভীষণ ঝড়বৃষ্টি। জলে সব জ্বালানি ভিজে যায়। সকালে রান্না করার মতো কিছু ছিল না। তখন ডুমনি মাঝিদের বলে কাঁচা বাঁশ কেটে আনতে। কাঁচা বাঁশ কেটে এনে দেয়। ডুমনি ধারাল ছুরি দিয়ে দক্ষ হাতে বাঁশের ছিলকা তুলতে থাকে। কিন্তু এই দৃশ্য কালীকৃষ্ণ দেখে ফেলেন। মনে মনে ভাবেন, এ তো ডোমদের মেয়ে। তিনি ব্রাহ্মণ সন্তান।

সেদিন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ডুমনিকে পাড়ে রেখে বজরা নিয়ে কালীকৃষ্ণ চলে যায়। ডুমনি সকালে জেগে দেখছে সে নদীর পাড়ে একা শুয়ে। চারপাশে ঘন জঙ্গল। সে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। ডুমনি চিৎকার করে ডাকে। কিন্তু সে ডাক কেউ শুনতে পায় না। এক সময় ডুমনি এই নদী পাড়ে দেহ রাখে। আজও তাঁর নামে পূজা হয়।

শামিম চুপ করে বসে ভাবতে থাকে। তার বাপের লাঙল জোড়া উঠোনের একপাশে রাখা। শামিম উঠে গিয়ে আলতো করে লাঙলের গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। এই লাঙল দিয়ে কত চাষাবাদ করেছে। পাতবিলে তাঁদের জমিতে বাকোই ধানের চাষ হতো। সে গন্ধ এখনও তাঁর বুক ভরে আছে।

কি অত ভাবছিস বাপ। আয় এখানে। তুর মুখটা কত দিন দেখিনি বাপ।

সালেহা চাচির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। শামিম গিয়ে বসে মাটির দাওয়ায়। সোঁদা গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। এমন সময় হঠাৎ জলিল এসে দাঁড়ায় উঠোনে। সালেহা চাচির ছেলে। এখন বদর চাঁদের লোক। সালেহা চাচি তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি। শামিম সেদিন রাতে চলে না গেলে সেও বদর চাঁদের লাঠিয়াল হয়ে যেত। জলিল কত নিরীহ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে। তার দুই হাতে মানুষের রক্ত লেগে।

শামিম জলিলকে দেখেও চুপ হয়ে যায়। ও চায়ছে না ওর সঙ্গে কথা বলতে। এমন সময় জলিল ওকে বলে, তু শামিম না ? তুকে তো চিনতি পারিনি।

শামিম এ কথার কোনও উত্তর দেয় না। জলিল চলে যায়। হাঁপ ছেড়ে বাঁচে ও। সালেহা চাচি বলে, বাপ ওকে পেটে ধরলি কি হবে ? জলিল আমার কেউ না। যে মানুষ মারে। বদর চাঁদের জুতো চাটে। ও একটা খুনি বাপ!

সালেহা চাচি হাহাকার করে ওঠে। গোটা গাঁয়ে কেমন একটা বিষবাতাস বয়ছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শামিম কী বলে সান্ত্বনা দেবে ভেবে পায় না। চুপচাপ বসে থাকে। সালেহা চাচির বয়স হয়েছে। দুখ ধান্দা করে চলে। গাঁয়ের সুখটা চলে গেছে। শামিম দূরে তাকিয়ে থাকে। একটা ঘুঘু ডেকে উঠল। শামিম কেমন একটা চিন্তায় ডুবে যায় একটু একটু করে। ডুমিনির শান্ত জলটা আবার কোন সময় অশান্ত হয়ে উঠবে কে জানে।

তিন

বদর চাঁদের লোকজন এসে শামিমকে নিয়ে যায়। শামিম যেতে চায়নি। কিন্তু তারা শোনে না। সামনে ভোট। তাই বদর চাঁদ এখন থেকে তার দলে নতুন মুখ আনছে। শেষমেষ তাঁকে বদর চাঁদের সামনাসামনি হতে হয়। যে মানুষটার জন্য তাকে চলে যেতে হয়েছিল কেরালা। আজ যে তাঁকেও বদর চাঁদের সামনাসামনি হতে হবে। তা ওর জানা ছিল না। বিশাল দালান বাড়ি। ওর বাড়ির পাশ ঘেঁষে ডুমনি বয়ে গেছে। বদর চাঁদ বসে আছে একটি চেয়ারে। বেশ কিছু লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। শামিমকে আসতে দেখে বদর চাঁদ বাকিদের চলে যেতে বলে। এমন সময় ওর সামনে জলিল এসে হাজির হয়। শামিম বেশ ভয় পেয়ে যায়। উঁচু পাঁচিলের ওপারে তাঁর ডাক কেউ শুনতে পাবে না। ওর গলা শুকিয়ে কাঠ।

জলিল বদর চাঁদের কানে কানে কী যেন বলল ?

শামিমকে কাছে আসতে বলে। শামিম একটু একটু করে বদর চাঁদের কাছে এগিয়ে যায়।

শামিম, তোর বাপ অন্য দল করত। অন্য দল করে কী লাভটা সে করি গেল ? তোর মায়ের চিকিৎসা করতি পারেনি। তার দল কী উপকারটা করিছি ? শেষে তোর বাপও চলি গেল। আমার কথা শুনলি এমন হতো না।

শামিমের বাপকে ভোটের রাতে কারা যেন মেরে ফেলে রেখে যায়। তখন শামিম অনেক ছোট। পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। ওদের সংসারটা ভেসে গেছিল।

ছোট শামিম খুব কষ্ট পেয়ে মানুষ হয়। গ্রামের সুখ আস্তে আস্তে চলে যায়। রাজনীতির বেড়াজালে আটকে যায় সব। বন্ধ্যা হয়ে যায় চাষের জমি। স্কুলে কমে যায় ছাত্র। গ্রাম ছেড়ে চলে যায় পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনদেশে। বছরে পালপরবে তারা ফিরে। পরব শেষ হলে আবার চলে যায় খাটতে।

কী হল শামিম ? চুপ মেরে দাঁড়িয়ে থাকলি তো হবি না। আমি এবার পঞ্চায়েত ভোটে তোকে প্রার্থী করতে চাই। তা কি বলিস ?

বদর চাঁদ বলে কথাটা।

শামিম সময় চায়। তারপর এক সময় শামিম বদর চাঁদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসে। বদর চাঁদ জলিলকে লক্ষ্য রাখতে বলে।

শামিম সোজা সালেহা চাচির কাছে চলে আসে। সব কথা খুলে বলে। সব শুনে সালেহা চাচি বলে, বাপ, আজ রাতেই চলে যা। তা না হলি ওরা তোকে খতম করি দিবি।

কথাটা শেষ করেই সালেহা চাচি কাঁদতে থাকে। শামিম কি করবে ভেবে পায় না। বদর চাঁদের যার ওপরে একবার নজর পড়েছে তাকে যেমন করেই হোক বাগে আনবেই। তাতে তাকে যে মূল্যই দিতে হোক না কেন।

শামিমের এখনও কিছু খাওয়া হয়নি। সালেহা চাচি ওকে খেতে দেয়। কিন্তু শামিম কিছু খেতে পারে না। ভাত নেড়ে চেড়ে রেখে দেয়। বদর চাঁদকে শামিম কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। সে গর্জে উঠতে চায়। কিন্তু তার পাশে কেউ নেই।

কেমন যেন হিমহিম সন্ধ্যে নামছে। আর একটু পরই রাত নামবে। মাটির দাওয়ায় চুপ করে বসে থাকে সে। সালেহা চাচিও বসে আছে। কেমন এক চিন্তায় ডুবে আছে। শামিম আরও কিছুক্ষণ বসে থাকে। তারপর এক সময় সে ওঠে পড়ে। সালেহা চাচির বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা ডুমনির দিকে হাঁটতে থাকে। ডুমনির কাছে আসতেই ওকে জলিলরা ঘিরে ধরে। ওরা দলে জনা পাঁচেক। একা শামিম।

জলিল আমার রাস্তা ছাড়।

কেনেরে শালা ? তু মনে করছিস গাঁ ছেড়ে পালাবু। শালা!

শামিমের গলা চেপে ধরে জলিল। শামিম ওকে ধাক্কা দেয়। আর অমনি জলিলের লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে শামিমের ওপর। জলিল ধারালো ছুরিটা দিয়ে শামিমের গলাতে টেনে দেয়। বোবা ডুমনির বুক ভেসে যাচ্ছে শামিমের রক্তে।

 লেখক : গল্পকার

সচিত্রকরণ : শতাব্দী জাহিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares