গল্প : সুপ্তধন : আশান উজ জামান

‘মোহর-টোহর কিছু পাইছিস নাকি রে ?’ আমার চকচকে জুতোর দিকে তাকিয়ে বলল কদর। কথাটার মধ্যে তাচ্ছিল্য আছে খানিক। উত্তরে তাই ঝাল ডলে দিলাম আমিও। ‘একটা দেখেই টাসকি খাসনে এত, ভেতরে আরও আছে। ব্র্যান্ড ছাড়া পরি না এখন।’

সাবলেট থাকি; দুইবেলা খাই; কাটাগাড়িতে ভেঙে ভেঙে এসেছি, তাও আবার ইঞ্জিনকাভারে; মাঝে নদী পারাপারের সময় যেভাবে দুলছিল লঞ্চ, প্রাণ বুঝি আজ গেল ভেবে কান্না জুড়েছিলাম; ফিরবার সময় তবু আবার লঞ্চেই উঠব, ফেরি-পারাপার গাড়িতে ওঠার মুরোদ নেই। তবে এলাকায় এলে আমি বেমালুম ভুলে থাকি সব। চলাফেরা করি শহরফেরত সম্পন্ন মানুষের মতো। কাদা দেখে নাক সিঁটকাই, ‘গোবরের গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে’ বলি। ভাবের সেই বেলুন ঠিকঠাক ফুলিয়ে নিয়েই নেমেছি নসিমন থেকে।

গ্রামে যাওয়ার ভ্যান খুঁজছি, কিন্তু রাস্তা খারাপ বলে যাবে না কেউ। এমন সময় কদরের দেখা। দু’বস্তা চাল কিংবা আটা বস্তাখানেক এক প্যাসেঞ্জার নিয়ে তেবাড়িয়ার দিক থেকে এসে থামল। ১৫ টাকা দিয়েছে যাত্রী, কদর বলছে বিশ টাকা। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি চলল খানিক। মুখ থেকে ঝগড়াটা হাতে পৌঁছানোর উপক্রম এমন সময় ওকে ডাকলাম আমি। আর অমনি লোকটাকে ছেড়ে দিল ও। মলিন গামছায় চোখ মুখের ক্লান্তি আর ঝগড়ার রেশ মুছতে মুছতে ছুটে এল। ছুটে এল চেনা হাসিমুখে। লাগেজ টাগেজ উঠিয়ে নিল ভ্যানে। তারপর দিল সুইচ টিপে।

চলতে শুরু করল মুখ ওর।

সদু মোড়লের ইটভাটার পাশ দিয়ে যাচ্ছি আমরা। বিঘাপাঁচেক ধানী জমির দখল নিয়েছে সেটা। এলাকায় এ-ই প্রথম, কাজের মানও নাকি খারাপ না। বাড়ির জন্য মা ইট নিয়েছে এখান থেকেই।

‘মেশিন দিয়ে ইট বানায় ইরা জানিস ?’ ঠোঁট বাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কদর, ‘এত টাকা কনে পালে, বলদিনি।’

কোঠাবাড়ির যে অংশটা পুকুরে মিশেছে, সেটা খুঁড়তে খুঁড়তে সোনার একটা ঘটি পেয়েছিল সদু। সেই ঘটি বিক্রির টাকায়ই নাকি দাঁড়িয়েছে এই ভাটা।

এন দিয়ে শুনলাম ওর তত্ব, তবে মানতে পারলাম না। এত এত জমি সদু মোড়লের, দুটো ছেলে বিদেশ থাকে, টাকার কি অভাব আছে তার ? তাছাড়া গুপ্তধন বলেও কিছু নাকি নেই, মোহর-টোহরের গল্প আসলে ধাপ্পাবাজি সব। বলতেই কদর তুলল ওদের গ্রামের রমজান মিয়ার কথা। রাস্তায় রাস্তায় কটকটি বেচত, আর এখন বড় ব্যবসায়ী। ধান চালের আড়ত, রডসিমেন্টের দোকান। গুপ্তধনের জোর না পেলে কি এমন কলাগাছ হতে পারে কোনও আঙুল ?

আরও একটা আঙুল না কি ফুলে উঠছিল অমন।

‘পুব পাড়ার তাবি কিপটেও পাচ্ছেলো প্রায়। তা পাকনামির জন্যি পালে না।’

কেন ? গুপ্তধন পেলে পাবে, না পেলে নাই, তাতে পাকনামির আবার কী ?’

মাসতিনেক আগে নাকি জমিদারবাবু এসেছিল তাবির কাছে।

‘যদি কথা শুনিস, তোরে বড়লোক করে দেব।’

শুনেই তো হা করেছে মরা কাঠের পুতুল। ‘বলেন হুজুর কী করতি হবে।’

হুজুর বলেছে, ‘পরে বলচি, আগে তুই চোখ খোল।’

চোখ খুলতেই আত্মারাম খাঁচাছাড়া তাবির। দেখে সে দাঁড়িয়ে আছে ভাঙা কাছারিঘরের পেছনে, খালপাড়ের অশ^ত্থ গাছের নীচে। এত রাতে সে ওখানে গেল কী করে, আর গেলই যদি স্বপ্ন দেখছে কী করে―এত কিছু ভাবার সুযোগও নাকি পায়নি। ঝনঝন শব্দে ততক্ষণে একে একে এসে দাঁড়িয়েছে সাত সাতটা ঘড়া। দাঁড়াতেই ঢাকনা খুলে গেছে ঘড়াগুলোর। চাঁদের আলোয় ঝকমক করছে সোনার গয়না রুপার মোহর। দেখে নাকি দম যাওয়ার জোগাড় তাবির। এমন অবস্থা যে, যা-ই বলছে, কথা না, গোঙানি বের হচ্ছে মুখ দিয়ে।

অবস্থা দেখে হয়ত মায়া হয়েছে জমিদারের। হাসি মাখিয়ে অভয় দিয়ে বলেছে, ‘ভয় পাসনে। যা, এক তোলা করে তুলে নে। কিন্তু খবরদার, এক এক তোলার বেশি নিসনে।’

সাত ঘড়া থেকে সাত তোলাই তো অনেক, তাবি কি পাগল নাকি বেশি নেবে ? লুঙ্গি খুলে সে বেঁধে নিয়েছে এক মুখ, এগিয়ে যাচ্ছে ঘড়ার দিকে। ওদিকে জমিদার তার শর্ত বলছে। ‘মানুষেক দিয়ে থুয়ে খাবি। মা-বাবাক দেখভাল করবি।’

এ আর এমন কী! ঠিক আছে, রাজি আছে তাবি। কিন্তু ‘বাগদিদের জন্যি পাকা মন্দিরও বানাই দিবি একটা’ শুনেই থমকে দাঁড়ালো সে। অনেক হিন্দু রাজাও নাকি মুসলমান প্রজাদের জন্য মসজিদ বানিয়ে দিয়েছে। মুসলমান সম্রাটরা বানিয়ে দিয়েছে মন্দির প্যাগোডা। তা সে তো বহুকালের অতীত। এখনকার দিনে… না, খাঁটি মুসলমান হয়ে তাবি মন্দির বানাতে যাবে কেন ? বলে উঠল, ‘আর-সব কত্তি পারব। শুদু মন্দির বানান ছাড়া।’

জড়ান দোনমনা সেই স্বর শুনেই ঘড়াগুলো হড় হড় নেমে গেছে খালে।

সকালে হালকা হতে গিয়ে সেখান থেকেই তাবিকে উদ্ধার করেছে নরেন বাগদি।

ঘটনার হাওয়ায় তোলপাড় গ্রামময়। ইমাম সাহেব থেকে শুরু করে মাদ্রাসার হুজুর পর্যন্ত দেখতে গেছে তাকে। ধর্মের জন্য এত বড় ত্যাগ করেছে সে, ভাবা যায়! মসজিদে যায় না বলে তাকে হেয় করত যারা, তাদেরও জিভে কামড়। কী লজ্জা, এত বড় পররেজগার মানুষকে তারা চিনতে পারেনি!

কদরের অবশ্য উল্টো ভাষ্য। ‘এদিকির সব জমিদার তো হিন্দুই ছিল শুনিচি।’ প্রতিটা প্যাডেল মারছে আর গলার রগ টান টান হয়ে পড়ছে তার, ফুলে ফুলে উঠছে দড়ির মতো; নাকে-মুখে দমও সরছে না সহজে। তার ভেতরেই দাঁত চেপে ঠোঁট চেপে বলল সে, ‘তা হিন্দু লোকের কষ্টের ধন মাগনা নিতি পারবি, আর অ্যাটটা মন্দির বানাতি গেলিই জাত গেল!’

২.

গ্রামে এলেই ছেঁকে ধরে বড়রা আমাকে। বাড়ি করো, বিয়ে করো। পাড়ার লোকের কথা না হয় মুচকি হেসে ওড়ান যায়, মাকে ভোলাব কী দিয়ে ? ‘বয়েস হইনি’ ‘আর কডা দিন যাক’ ‘তুমার শরীলডা ভালো হোক আগে, এটটু সুস্ত হয়ে ওটো’―এ তা বলে থামিয়ে রাখি। তা অনেক তো হলো। কিছু একটা করব বলেই এসেছি এবার। মাটির ঘরটা ভেঙে আগে দোচালা গড়ব ইটের। তারপর করব বিয়ের জোগাড়।

রাজমিস্ত্রি এসেছে, ঘরের জায়গা দেখালাম। ডিজাইন ঠিকঠাক হলো। ইট বালি সিমেন্টের চাহিদা নিলাম। মজুরির ব্যাপারে কথা হচ্ছে, এমন সময় কদর এল।

‘কী রে বেরোসনি আজ ?’

‘না রে শইলডা ভালো না।’ কপালে হাতের তালু দিয়ে তাপ মাপতে মাপতে বলল, ‘দুদিন ধরে জ¦র জ¦র। ভালোই হচ্চে না।’ বলে সে বসল আমাদের সঙ্গেই। দিনমজুরি হিসেবে কাজ করাব শুনে খেকিয়ে উঠল। মিস্ত্রিকে বলল, ‘মজুরি সিস্টেমে না, ফুরোন ন্যাও একবারে। যদ্দিন লাগে লাগুক পুরো কাজ করে দিয়ে যাবা, কত নুবা বলো।’

এরপর কি আর আমার মাতবরি করা সাজে ? বাকি কথা ওর বুদ্ধিতেই হলো। তারপর মিস্ত্রি চলে যেতেই ও ধরল আমাকে। ‘শুদু টাকাই হয়েচ দুডো, বুদ্দি কিচুই হইনি তোর।’ চোখে-মুখে বিদ্রƒপ টানটান, স্বরে খানিক গর্ব। ‘ফুরোন না দিলি উরা কাজে ফাঁকি দেয় জানিস ?’

ছিটেরুটি পিঠা বানিয়ে দিয়েছে মা, আর ঝোল ঝোল মুরগি। এক প্লেটে নিয়ে খাচ্ছি দুজন।

ঘরের ডিজাইন শুনে বলল, ‘এত সাধের ঘর, টিন না দিয়ে একবারে ছাদ দিয়ে দিতিস।’

তা দিতে পারলে তো হতোই। কিন্তু অত টাকা কোথায় ? বড়লোকি ভাবের বেলুনটা ফুটো করে দেওয়া ছাড়া উপায় দেখলাম না। ‘ধার-দিনা করে যেরাম পারছি সেরামই বানাচ্ছি, বুজলি ? মাথাডা কোনও রকমে গুজতি পারলি হয়।’

‘এত পড়াশুনা করে কী কললি, বলদিনি!’ রাস্তার ওপাশে মাবুচার দোতলা বাড়ির দিকে তাকিয়ে আধো স্বরে বলল ও ‘তার চেয়ে নেতাগোতার চ্যালা হলিই পারতিস।’

‘না রে, অত খাই নেই। দুবেলা খাওয়া জুটত না আগে। একন তোতাও জোটে।’

খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে নিলাম। ওর গামছায় সেটা মুছতে মুছতে কথা ঘুরালাম তারপর। ‘আচ্ছা বাদ দে। এই কদিন কনে ছিলি ? কোনও খবরই নেই। মাকে আরও বলছিলাম, যে-হারে সুনার মোহর পাচ্ছে ওদের গ্রামের মানুষ, কদরও পেয়েছে হয়ত, তাই আসচে না।’

শুনেই মন খারাপ করে ফেলল। গাঁট থেকে বিড়ির ঠোঙা আর বুক থেকে দীর্ঘশ^াস বের করে বলল, ‘পাইছিলাম রে, সুনার ঘড়া ইপাইছিলাম। তা …’

সত্যিই নাকি তা বিকিপটের স্বপ্নটাও দেখেছে পরশু রাতে। সেই একই কাপড় পরা জমিদার, একই সময়। তবে এবার আর খাল পাড়ে না, ঘটনা ঘটেছে কদরের ঘরেই।

‘ঘুমোই ছিলাম। হঠাৎ শুনি কড়কড় শব্দে ফেটে গেল মেঝে।’ উঠে আসতে লাগল ইয়া বড় কলসি এক। অর্ধেকটা প্রায় উঠে এসেছে যখন, তখন শর্তের কথাটা বলল জমিদার। ‘পূর্ণিমার আগে আগে অ্যাটটা ঝুনো নারকেল আর অ্যাটটা ডাব উৎসর্গ করবি আমার নামে।’

মন্দির মসজিদ বানাতেও যে রাজি, তার কাছে এটা কোনও ব্যাপার ?

‘আচ্ছা, করবানি।’ বলে ও এগিয়ে গেছে, কলসটা টেনে তুলবে। তা ধরতে পারার আগেই নাকি ডুবে গেল সেটা, হঠাৎ। মাথার কাছে বসেছিল জমিদার, মিলিয়ে গেল সে-ও। সঙ্গে সঙ্গেই গম্ভীর গলার গায়েবি আওয়াজ।

‘ডাব নারকেল দুটোই দিবি শুধু এই খানিকটা সম্পদের জন্য! এত পাষাণ তুই, এত লোভী!’

হতভম্ব কদর তখন কাঁপছে ভয়ে। কী দিয়ে কী হলো, বুঝতে পারছে না। ওর বউ উঠেই কোদাল নিয়ে গেছে ঘরে। সারা মেঝে খুঁড়েও অবশ্য পাওয়া যায়নি কিছু আর। তারপর থেকেই নাকি জ¦র।

‘ফাজিল আছে তো জমিদারটা। ডাব নারকেল তুই চাইতে পারলি, আর ও দিলেই সমস্যা!’ বলছি, এমন সময় কথা কেড়ে নিল মা। ‘পাগল, এই ডাব নারকেল তো আর সত্যিই ডাব নারকেল না। নারকেল মানে ছেলে আর ডাব মানে মেয়ে।’

কী বলে!  ‘হ্যায়, কলসিটা গিয়েচে না ভালোই হয়েচে। না হলি সত্যিই কদরের বাচ্চাদুডো মরত এরপর।’

৩.

দেয়াল ভাঙা শেষ, পোতার মাটি কাটবে আজ। জোন লাগিয়ে আমি বাজারে এসেছি। রড সিমেন্টের বন্দোবস্ত করতে হবে। তা আমাকে দেখেই রমজান মিয়ার খুলে গেছে মুখ। ‘কত খাটাটাইনা খেটে গেচে বাপ তুমার। দ্যাকাচোকির সামনেই তো সব। আজঘর করচাও, ছুড়াডা তা দেকে যাতি পাল্লে না। কত খুশিই না হতো।’হ্যাঁ হুঁ করছি, এমন সময় ফোন কদরের। ‘তাতাড়ি আয়, তোর কপাল খুলে গিয়ে।’

মাটি কাটতে কাটতে নাকি টাং করে শব্দ হয়েছে একটা। আরেকটু খুঁড়তেই দেখে শক্ত একটা কী, সোনার ঘড়া হতে পারে। রাগ হলো শুনে। পাগল হয়ে গেছে নাকি ছেলেটা ? গুপ্তধন ছাড়া দেখছে না কিছু চোখে! কাজ বাদ দিয়ে এসব কেন। ঝাড়ি দিয়ে ফোন রাখলাম। তারপরই এল মার ফোন। হড়বড় করে বলল, ঘড়া না হয়ত, তবে সত্যিই কিছু একটা আছে। এখনও বের হয়নি, সাবধানে মাটি সরিয়ে আস্তে আস্তে বের করছে ওরা। তাড়াতাড়ি যেতে বলল আমাকে। নয়ত সত্যিই কিছু পাওয়া গেলে জনেরাই গুম করে দেবে।

উঠোনে পা দিয়েই অবশ্য বোঝা গেল, ঝড়বাতাস স্বাভাবিক সব। উল্টো দোকানদাররা ধাপ্পা দিয়েছে আমাকে। চারপাশে কোথাও আলোড়ন নেই কোনও। একফোঁটা বাতাসও ব্যতিব্যস্ত না, ভিড়ও জমেনি। গামলাভরা মুড়ি আর গুড়, কুড়মুড়িয়ে খাচ্ছে জনেরা। মা দাঁড়িয়ে আছে রান্নাঘরের দরজায়। ছলছল চোখ পড়ে আছে ভেঙে ফেলা ঘরের দিকে। আমাকে দেখেও কোনও নড়নচড়ন নেই।

ঘটনা কী ?

বাক্স একটা পাওয়া গেছে সত্যি। কিন্তু ভেতরে তার কিছুই নেই দামি। হাতে নিয়ে সেটা বসে আছে কদর। কাছে আসতেই এগিয়ে দিল। আরে, বক্স তো এ না, এ যে সিন্দুক আমার! ধড়ফড় করতে লাগল বুক। একটা লাটিম, কিছু মার্বেল, আর কলম থরে থরে সাজান। বাগদি পাড়ায় দুর্গা পূজোর মেলা চলছিল। পিস্তল কিনব কিনব করে ঘ্যান ঘ্যান করছিলাম। ঘরে চাল ছিল না, টাকা তো না-ই। বায়না থামাতে না পেরে আমাকে মেরেছিল মা। উল্টো তাতে জোর বেড়েছিল কান্নায় আরও। বাধ্য হয়েই আব্বা নিয়ে গিয়েছিল মেলায়। সেই পিস্তল আর বারুদের রোলের সঙ্গে শুয়ে আছে আব্বার গ্যাস লাইটারও। সারাক্ষণ ওটা নিয়ে খেলতাম।

যা যা জরুরি, সব তুলে রাখতাম ‘সিন্দুকটায়। সবকিছুই প্রিয় ছিল। তবে পিস্তলের শোকেই যেন পাগল হয়েছিলাম প্রায়। তার ওপর হদ্দ মারা মেরেছিল বাবা। ঠেকাতে গিয়ে মার খেয়েছিল মাও।

বাক্সটা নিয়ে আমি দৌড় দিলাম। ‘মা, দ্যাখো! বলিলাম না, লাইটার আমি হারাইনি। দ্যাখো, শুধু শুধুই আব্বা মারিল সেদিন। মা দ্যাখো.. ’ শুনতে শুনতে মা বসে পড়ল মেঝেয়। ডুকরে কাঁদছে সে। পাশে এসে বসলাম আমি। ওপাশে জোনেরা চুপ। অবাক চোখে নিশ্চয়ই দেখছে আমাদের। কদর কি হাসছে মিটিমিটি ? নাকি রেগে আছে ? দেখব যে, তা মুখ তুলে তাকাতে পারছি না। তাকিয়ে আছি বাক্সটার দিকে। ঝাপসা হয়ে উঠেছে আব্বার লাইটার; আমার জং ধরা পিস্তল, আর কদরের ব্যাগ থেকে মেরে দেওয়া উইনসান পেন।

সচিত্রকরণ : নাজিব তারেক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares