নবম জন্মদিনে শব্দঘর : বইমেলায় শব্দঘর-এর অন্যরকম জন্মদিন উদযাপন : হামিম কামাল

শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ শব্দঘর যাত্রা শুরু করে ২০১৪ সালে। দেখতে দেখতে নবম বছরে উপনীত হয়েছে এ সাহিত্যপত্র। প্রকাশিত হয়েছে নবম বর্ষশুরু সংখ্যা। এ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।

সম্পাদক মোহিত কামালের সুচারুতায় শব্দঘর হয়ে উঠছে নিয়ত নতুন। নতুন সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে পুরানোকে। প্রচ্ছদসহ প্রতিটি পাতায় নন্দন তার ছোঁয়া রাখছে।

সহজাত প্রতিবন্ধকতা ও করোনাকালীন সংকট পেরিয়ে শব্দঘর টিকে আছে। যাত্রাপথে সঙ্গে আছেন দেশ-বিদেশের উজ্জ্বল কবি-সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য-সমালোচক, বিশেষজ্ঞ, ও সর্বোপরি এর পাঠকগণ।

নবম বর্ষশুরু সংখ্যা নিয়ে বলা যাক।

শব্দঘর পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম বর্ষশুরু সংখ্যা উৎসর্গ করা হয়েছিল যথাক্রমে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনকে। নবম বর্ষশুরু সংখ্যা কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা ও কথাশিল্পী সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

তাঁরা একসঙ্গে শব্দঘরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। আলাপ করেছেন সাহিত্যের নানা দিক নিয়ে।  দোহার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল ও মোহিত কামাল।

এছাড়া কবি ও কথাশিল্পীর আলাদা সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যথাক্রমে রনজু রাইম ও সৈকত হাবিব। এবং সাহিত্য বিশ্লেষণ করেছেন মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়, কবি নাসির আহমেদ, তপন বাগচী, মনি হায়দার, নাজিব তারেক, হামিদ কায়সার ও হামীম কামরুল হক।

নবম বর্ষশুরু সংখ্যায় তাঁদের আলাপ ছাপা হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে মুহম্মদ নূরুল হুদার একটি নতুন দীর্ঘকবিতা এবং সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের চারটি গল্প।

এ সংখ্যা থেকেই শুরু হয়েছে ভাষা-গবেষণা বিষয়ক ধারাবাহিক। প্রকাশিত হয়েছে মানবর্দ্ধন পালের ‘শব্দবিন্দু আনন্দসিন্ধু’র সূচনাপর্ব। থাকছে ইমদাদুল হক মিলনের ধারাবাহিক আত্মজীবনী, মঈনুস সুলতানের ভ্রমণ বিষয়ক লেখা ও ছোটকাগজ বুনন নিয়ে ফারুক সুমনের বিশ্লেষণ।

নবম বর্ষশুরু সংখাটিতে আলপ্তগীন তুষার এঁকেছেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার প্রাণবন্ত প্রতিকৃতি। আর তাজুল ইমামের তুলিতে প্রাণ পেয়েছে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রতিকৃতি। তাঁদের শিল্পকর্ম অবলম্বনে এ সংখ্যার প্রচ্ছদ সাজিয়েছেন শিল্পী ধ্রুব এষ।

গত ১০ মার্চ (বৃহস্পতিবার) একুশে বইমেলায় পালিত হয়েছে শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ এই শব্দঘর-এর নবম জন্মদিন। বইমেলায় এ আয়োজন ছিল অভূতপূর্ব। সন্ধ্যা ৬টায় বইমেলার শব্দঘর স্টলের সামনে নামকরা সব লেখক শিল্পীসহ অগণিত পাঠক, শুভাকাক্সক্ষীদের প্রাণময় উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হয়।

সম্পাদক বলেন, অমিক্রনের সংক্রমণের উচ্চহার বজায় থাকায় জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানটি জানুয়ারি মাসে যথাসময়ে উদ্যাপিত হয়নি। সামনের দিনগুলোয় জ্যেষ্ঠ লেখকদের সঙ্গে নতুন লেখক, চিন্তকদের আরও বড় আশ্রয়পীঠ হিসেবে শব্দঘর ভূমিকা রাখবে।

সেদিন অনুষ্ঠানে ছিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি অসীম সাহা, কথাশিল্পী সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, লেখক ও প্রকাশক মজিবর রহমান খোকা, শিশুসাহিত্যিক দন্ত্যস রওশন কবি-কথাসাহিত্যিক-অনুবাদক মুম রহমান, কথাসাহিত্যিক মঈনুল হাসান।

আরও উপস্থিত ছিলেন মাহবুব ময়ূখ রিশাদ, ফাতেমা আবেদিন নাজলা, সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম, স্বকৃত নোমান, মোজাফ্ফর হোসেন, সুহান রিজওয়ান, সালমা আক্তার টিউলিপসহ আরও অনেক তরুণ কবি, কথাশিল্পী ও প্রকাশক।

সার্বিক কর্মকাণ্ডের ছবি তুলেছেন আলোকচিত্রী জাহরা জাহান পার্লিয়া।

শব্দঘর-এর প্রকাশক মাহফুজা আখতার মিলি দেশের বাইরে ছিলেন। তাঁর প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত ছিলেন পুত্রবধূ ইফফাত ইসলাম খান রুম্পা। তিনি কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের হাতে বাঁধাই করা প্রতিকৃতি তুলে দেন। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার হাতে বাঁধাই করা প্রতিকৃতি তুলে দেন শব্দঘরের সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল।

উল্লেখ্য শব্দঘরের প্রতিটি সংখ্যা কোনও না কোনও গুণীজনকে উৎসর্গ করে প্রকাশিত হয়। এবং ওয়েব-আর্কাইভেও সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে প্রতিটি সংখ্যা।         

সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের শব্দঘর কালোত্তীর্ণ হবে এ আশা রাখি।

আলোকচিত্রী : জাহরা জাহান পার্লিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares