কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুনের সাহিত্যসত্তা : মোজাম্মেল হক নিয়োগী

শোকাঞ্জলি : রাবেয়া খাতুন

প্রতিটি মানুষের জীবন অভিজ্ঞতার একটি বিস্ময়কর ভাণ্ডার। আর সেই জীবন যদি হয় সৃজনশীল কাজের তখন এই ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হয় চমৎকৃত অসংখ্য ঘটনার বুননে। সৃজনশীল কাজের প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে হয় অসংখ্য প্রথিতযশা মানুষ এবং নানা রকম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেখান থেকে জীবনের রসম্পদ সঞ্চিত হয়। যত মানুষের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটে তত ঋদ্ধ হতে থাকে অভিজ্ঞতা। রাবেয়া খাতুনের জীবনেও নানামাত্রিক অভিজ্ঞতার আড়ালে জুটেছে সাহিত্যের বহুমাত্রিক উপাদান।

তিনি যখন জন্মগ্রহণ করেন (১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ) তখন এদেশের মেয়েরা ছিল কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির নিরেট চার দেয়ালে বন্দি। কেউ কেউ যদিও সে দেয়াল ভেঙে বাইরে এসেছেন এবং তারাই মূলত এই দেশের নারী-সমাজের জন্য আলোক-বর্তিকা হয়ে পথ দেখিয়েছেন। এই দেশের নারী জাগরণের অগ্রপথিক বেগম রোকেয়ার মৃত্যুর তিন বছর পর রাবেয়া খাতুনের জন্ম। তাঁর সমসাময়িক বাংলাসাহিত্যের আরও দুজন যুগস্রষ্টা কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান ও সেলিনা হোসেন নিজ নিজ প্রতিভায় বাংলা সাহিত্যে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই তিনজন মনীষিণীও সমাজকে পথ দেখিয়েছেন শুধু লিখে নয়; বরং দেশ ও সমাজের ক্রান্তিকালে জাগরণের অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেও। রাবেয়া খাতুন কতটা অন্ধকার সিঞ্চন করে আলো ছড়িয়েছেন তা একটি মাত্র বাক্য থেকে সহজে অনুমেয় :

‘১৯৪৮-৪৯ সালে রাবেয়ার বাড়িতে হঠাৎ একটি চিঠি এল। এসেছে তাঁর বড় বোনের শ^শুরবাড়ি থেকে। তাতে লেখা, “রাবুর হাতের লেখা পত্রিকা অফিসের পরপুরুষেরা দেখে।” এজন্য আমাকে গঞ্জনা সহিতে হয়।’

মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, বাংলা ট্রিবিউন

তখন কিশোরী রাবেয়া খাতুনকে নয়, তাঁর হাতের লেখা পরপুরুষে দেখে সেজন্য গঞ্জনা দিতে পারে যেসব মানুষ তারা কোন সমাজে কী ধরনের সংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ ছিলেন তা ভাবতেই অবাক লাগে। সেই অন্ধকার জগৎ থেকে বের হয়ে তিনি স্বীয় প্রতিভার আলো ছড়িয়ে গেছেন মানুষের বদ্ধ ঘরের দুয়ারে। শুধু তাই নয়, তাঁর জীবনীপাঠে আরও জানা যায় যে, গান শেখার প্রতি তাঁর অদম্য ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এবং পরিবারের অনুপ্রেরণা থাকলেও পুরোনো ঢাকার আশপাশের মানুষের কঠোর প্রতিবাদের জন্য হারমোনিয়াম বাজাতে পারতেন না। তবে তিনি সহজে কুসংস্কারচ্ছন্ন মানুষের রক্তচক্ষু শাসনে দমে যাননি। যখন বৃষ্টি আসত তখনই তিনি হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান করেছেন যদিও সংগীতে তিনি সে-রকম কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। হয়তো তিনি সংগীতকে জীবনের মুখ্য ব্রত হিসেবে নেননি বলেই সে পথে হাঁটেননি। তাঁর প্রতিভার শিখা দীপ্তিমান ছিল সাহিত্যাঙ্গনে। না-হয় কিশোরী বয়সেই উপন্যাস লেখার মতো দুঃসাহসিক কাজটি করতে পারতেন না। মা চাইতেন না তিনি লেখালেখি করুন কিন্তু বাবার উৎসাহ ব্যতীত অনীহার কথার প্রমাণ মেলে না। কিশোরী বয়সেই নিরাশ্রয়া উপন্যাস লিখেছেন বলে জানা যায় কিন্তু সেটি অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

বহুমাত্রিক লেখিকা রাবেয়া খাতুন চার শতাধিক গল্প এবং পঞ্চাশটি উপন্যাস লিখেছেন। বিভিন্ন বয়সী পাঠকের জন্যই তিনি লিখেছেন অবিশ্রান্তভাবে। গল্প, উপন্যাস, কিশোর উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণ কাহিনি প্রধান বিষয়। তিনি ছিলেন ভ্রমণপিয়াসী। তবে এ কথা সত্য যে, ভ্রমণপিয়াসী মানুষ অনেক থাকলেও তাঁর ভ্রমণ শুধুই ভ্রমণ ছিল না; তিনি যেসব দেশে গিয়েছেন সেসব দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক বিষয়সহ নৈসর্গিক বিষয়ের সামনে সচিত্র উপস্থাপনও করেছেন।

তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র ও বেশ কয়েকটি টিভি নাটক নির্মিত হয়েছে। ‘এই মেঘ এই বৃষ্টি’ সিনেমাটি জনপ্রিয় সিনেমা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। উপন্যাসগুলোর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস রয়েছে বেশ কয়েকটি। শৈশব গ্রামের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় গ্রামীণ সংস্কৃতি, মৃত্তিকার উত্তাপ, নদী-বিল-জলাশয়ের আবহের রসায়নের মিথস্ক্রিয়া, গ্রামের সহজ-সরল মানুষের জীবনধারা, নানার প্রথাগত কবিরাজির সম্পৃক্ততা, বাবার সঙ্গে নৌকায় চড়ে মাছ ধরা ইত্যাদি চিরাচরিত গ্রাম বাংলার জীবন-সংস্কৃতির উপাদান তাঁর জীবনকে যেমন করেছে সমৃদ্ধ ঠিক তেমনি সেইসবের অভিজ্ঞতা সাহিত্যে প্রতিফলিত হয়েছে। বাবা সরকারি চাকুরে হওয়ায় শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন পুরান ঢাকায়। সেই সময়ে পুরান ঢাকার জীবনাচার এবং নগরের ইটপাথর লোহালক্কড়ের সঙ্গে জীবনের ঘনিষ্ঠতা, পুরান ঢাকার রক্ষণশীল সংস্কৃতি তাঁর সাহিত্যে নিবিড়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সমকালীন সমাজ ও জীবনের বাস্তবতা, শহর ও গ্রামীণ জীবনের, মানবিক ও অমানবিক দ্বৈরথ, প্রেম-বিরহ, ব্যর্থতা-সফলতা সামগ্রিক বিষয়ের নিখুঁত শব্দছবি এঁকেছেন সাহিত্যের ক্যানভাসে। তাঁর বিপুল সাহিত্যসম্ভার থেকে বাছাই করে সামান্য ছিটেফোঁটা আলোচনা করার জন্য প্রয়াসী হলাম।

বাগানের নাম মালনিছড়া একটি ক্ষুদ্র পরিসরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস বলা হলেও এটিকে উপন্যাসিকা বলা অধিকতর যৌক্তিক বলে আমাদের ধারণা। উপন্যাসিকা বা উপন্যাস যা-ই বলি না কেন এই গল্পে উনিশশ’ একাত্তর সালে পাকবাহিনী এবং তাদের দোসরদের লুটতরাজ, হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর পোড়ানোর যে ধরনের হাজার হাজার বীভৎস ঘটনা ঘটেছিল তারই একটি খণ্ডচিত্র এই উপন্যাসে প্রক্ষেপিত হয়েছে আকর্ষণীয় গল্প নির্মাণের মধ্য দিয়ে। গল্পের বর্ণনা সহজ-সরল প্রাঞ্জল ভাষায় হলেও প্রতিটি বাক্যই যে সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত বিন্যাসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করে গল্পের পরিণতি ঘটানো হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই উপন্যাসের কাহিনি ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ থেকে যাত্রা শুরু এবং প্রথমেই যুদ্ধের ডামাডোলের শব্দে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে যায় উপন্যাসের শুরুতেই। পারিবারিক আবহে উপন্যাসটি নির্মিত হলেও মূল ঘটনার স্থানিক প্রেক্ষাপট সিলেটের চা বাগান। ক্ষুদ্র পরিসরের উপন্যাসটি মূলত চা বাগানের ম্যানেজার শওকত ও তাঁর স্ত্রীর জীবনালেখ্য। ‘পঁচিশে মার্চের রাতের অপারেশন সার্চলাইট’―পৈশাচিক নারকীয় ইতিহাসের ভয়াবহ জঘন্যতম গণহত্যার পূর্বেই ২৪ মার্চ এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে চা বাগানের ম্যানেজার ট্যুরে যায় সিলেটের মালনিছড়া বাগানে। লেখক এখানে অত্যন্ত কৌশলী এবং কাহিনি বুননের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে বেছে নিয়েছেন যাতে পাঠককে প্রথমেই টানটান উত্তেজনার মধ্যে রাখতে পারেন। এই কৌশলটি তিনি শেষ পর্যন্ত রেখেছেন এবং পরিণতি ঘটিয়েছেন ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের সূচনা মাস অর্থাৎ মার্চ মাসে এদেশের ইসলামপন্থি কয়েকটি দল এবং তাদের সমর্থকগোষ্ঠী ব্যতীত সমগ্র জাতি ছিল বিক্ষুব্ধ-উত্তাল ঠিক সেই অস্থির মাসের নমুনা পাওয়া যায় উপন্যাসের শুরুতেই :        

‘না : আজ রাতে ঘুমের বারোটা বুঝি বেজে গেল। লোডশেডিং হলো একবার। রাস্তায় কিছু কলরোল। গুমোট গরম। বারান্দায় বেরিয়ে আসতে তাই ভাবির মুখোমুখি। ওরাও থাকতে পারেনি ঘরে। আরিফ বলল, খুব ঘনঘন পাওয়ার ফেল করছে আজকাল।

রাহেলা নির্ঘুম রাত নিয়ে ননদিকে কিছু একটা ঠাট্টার হুল ফোটাতে গিয়ে থেমে গেল। কোথায় যেন কী ফাটল। কোন দিক থেকে ঝিলিক দিল আগুনের হল্কা। চৈত্রের দাবদাহ মাত্রা ছাড়াতে চাইলে আকাশে মেঘ সাজে, বিদ্যুৎ চমকায়, বৃষ্টি নামে অজস্র ধারায়। এ বছর বিজলির জায়গায় প্রায়ই চমকাচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্রের আলো। মাসের শুরুর দিকে বোমা ফুটেছে শাহবাগ রেডিও স্টেশনে। শেখ মুজিবরের সাত তারিখের ভাষণ রিলে না করার প্রতিবাদে অসহযোগিতা জানিয়েছে বাঙালি বেতার কর্মীরা। কিছু সময়ের জন্য বোবা হয়েছিল জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র। পথে-ঘাটে বিক্ষুব্ধ জনতা। জেলগেট ভেঙে স্লোগান দিতে দিতে যোগ দিয়েছে কয়েকশ’ কয়েদি। রাজধানী ঢাকার জন্য সম্পূর্ণ অচেনা ঘটনা। ওদিকে রাতারাতি মোনায়েম খানকে সরিয়ে গভর্নর করা হয়েছে কিম্ভূত নামের এক সেনাপ্রধানকে―টিক্কা খান।’  

এরপর কাহিনি এগিয়ে যায় মালনিছড়া চা বাগানের বাংলোকে কেন্দ্র করেই। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক অফিস আদালতেও কিছু কিছু দাপ্তরিক কাজ হতো সেহেতু সারা দেশে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও শওকত বাগানে কিছু দাপ্তরিক কাজ করেছে। তারুণ্যদীপ্ত শওকত ও তাঁর স্ত্রী চম্পার রোমান্টিক জীবনের সামান্য রেখাপাত হয় সেই নির্জন ছায়াঘেরা সবুজের ঢেউ খেলানো চা বাগানে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় বাগানকর্মীরা নিজ নিজ কাজে ব্যাপৃত। ক্রমে যুদ্ধের আগুন সারা দেশ ছড়িয়ে পড়ে, যে আগুনের উত্তাপ মালনিছড়া চা বাগানেও ছড়িয়ে পড়ে। লুণ্ঠনকারী ও ধর্ষণকামী পাকসেনারা চা বাগানেও খুঁজে বেড়ায় সম্পদ ও নারীর শরীর। শওকতের বাংলোতেও সেই হিংস্র অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য একদল পাকসেনা হানা দেয়। পরিণতিতে তাদের শরীর ঝাঁঝরা হয় বুলেটের আঘাতে।

‘ক্যাপ্টেনের জ্যান্তব চিৎকারের মধ্যে গর্জে উঠল একসঙ্গে অনেকগুলো আগ্নেয়াস্ত্র। শওকতের যুবক শরীর শূন্যের দিকে একবার উঠে রক্তাক্ত অবস্থায় গড়িয়ে পড়তে থাকল সিঁড়িতে।

ততক্ষণে একঝাঁক লোক বেরিয়ে এসেছে বাবুর্চিখানা থেকে। সাব্বির, চম্পা, বাগানের বাবু প্রত্যেকের হাতে ঘরোয়া ধারালো অস্ত্র। কিন্তু শওকতের কাছাকাছি হবার আগেই নির্মম ব্রাশ ফায়ারে ফ্রিজ হয়ে গেল একসার চলন্ত বিদ্রোহী মানুষ।’   

সেই সময়কার একটি সচ্ছল ও আনন্দময় পরিবারের দুজন প্রাণচঞ্চল মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পাঠকের মনে বিষাদের সুর রেখে যায়―পূরবীর এই করুণ সুর বাজতে থাকে দীর্ঘক্ষণ।

নীল নিশীথ নাতিদীর্ঘ উপন্যাসটিতে লেখকের শক্তিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। কাহিনির ভেতরে যদিও জলো আবেগ রয়েছে কিন্তু লেখার ক্ষুর সেই জলো আবেগের মেদকে এমনভাবেই অপসারণ করে নিরেট গদ্যভাষায় একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট পোয়েট্রেট অঙ্কিত হয়েছে যা পাঠকের মনে স্থায়ী শিল্পের স্থান দখল করে। উপন্যাসের ক্যানভাসে লেখক নানামাত্রিক ও বিচিত্র রং চড়িয়ে সূক্ষ্ম আঁচড়ে কাহিনি নির্মাণ করেছেন যে উপন্যাস পাঠে পাঠক অসতর্ক হলে ছিঁড়ে যেতে পারে গল্পের বাঁধন। এই উপন্যাসের শব্দচয়ন, বাক্য নির্মাণ, বিশ^স্ত কাহিনির বিন্যাস, সামগ্রিক ভাষার প্রাঞ্জলতা, জীবনজিজ্ঞাসা, জীবনের নিগূঢ় সত্যের খনন, প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা, সমাজ বাস্তবতা এবং একইসঙ্গে মানবজীবনের মহত্ত্ব ও কদাকার রূপ পরিস্ফুটিত হয়েছে। আলোচ্য উপন্যাসের নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্র নিশীথ (সংক্ষেপে নিশি) এবং নায়িকা অর্থাৎ প্রধান নারী চরিত্র নীলুফার বানু (সংক্ষেপে নীল)―দুজনই ভালোবাসার দহনে দগ্ধ এবং একে অপরের সান্নিধ্য পাওয়ার আকাক্সক্ষায় দীর্ঘ সময় পার করে একটি সফল প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘটে। দুটি অধ্যায়ে বিস্তৃত এই উপন্যাসে পারিবারিক জীবনের মনস্তাত্ত্বিক জটিল সংকট, নিশীথ ও নীলুফার অন্তর্দহন, পরকীয়া ও অবাধ যৌনাচার এবং সর্বোপরি জীবনের না পাওয়ার বেদনায় সিক্ত একটি চমৎকার আখ্যান।

উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম করা হয়েছে ‘লাল রুমাল’ এবং দ্বিতীয় অধ্যায়টির ‘শে^ত পতাকা’। পুরো উপন্যাসজুড়েই আবেগের তারল্য, শূন্যতার হাহাকার এবং প্রেমহীন জীবনের নিভন্ত অনলের উত্তাপ ছড়িয়ে রয়েছে। শুরুতেই যৌনতার আবছা বর্ণনায় পাঠক হোঁচট খেতে পারেন অথবা কামার্ত হতে পারেন―

‘দেয়ালে কোথাও আয়না থাকলে কী করে যেন চোখ চলে যায়। দেখা হয়ে যায় এক যুবকের সঙ্গে। ঠোঁটের এখানে ওখানে ছড়ানো এভন লিপস্টিকের খয়েরি রঙ। চুলের অবস্থা যাচ্ছেতাই। সবচে মারাত্মক গলায় নিচে গোল দাগটা। লাল। চাক ধরা।

এমন সময় নিজের সঙ্গে কথা বলতে বেশ লাগে। আমিও বললাম, শালা নিশীথ রূপ তোর জব্বর খুলেছে। এই খোমা নিয়ে বেরুবি ?’  

বুয়েটের ছাত্র নিশীথ খালাত বোন তাহিতির প্রেমে দিশেহারা এবং তাহিতিকে নিয়ে সংসার করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে যখন উভয়ই পালিয়ে বিয়ে করার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঠিক তখনই নিশীথের বাবা তাহিতির মাকে অর্থাৎ আপন শালিকে বিয়ে করে দ্বিতীয় সংসার পাতেন। এই ঘটনা শুধু নিশীথ নয়; বরং তার পরিবারের কেউই মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু কেউ তাদের বিয়ে মেনে নিক কিংবা না নিক তাতে প্রবল প্রতাপশালী বাবা কারও কথা বা মতামতকে ভ্রƒক্ষেপ করেননি। নিশীথ যখন তাহিতিকে বলল বিয়ে করার জন্য তখন সমাজ সংসার ও পারিবারিক দায়-দেনার কথা বলে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেয় এই বিয়ে সম্ভব নয়। অন্তত বাংলাদেশের সমাজে কীভাবে সম্ভব ? তাহিতির মা নিশীথের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। কোন ধর্মের বিধানে তাহিতি নিশীথকে বিয়ে করবে ? সমাজের কোন প্রথার বিধানে একই ছাদের নিচে মা-মেয়ে পিতা ও ছেলের স্ত্রী হয়ে সংসার যাপন করবে ? নিজের সুখ ও প্রেমকে বিসর্জন দিয়ে তাহিতি অন্য ছেলেকে বিয়ে করে দিব্যি সংসার পেতে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন শুরু করে। কিন্তু একরোখা ও মেধাবী নিশীথ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না বাবা ও তাহিতির অবাঞ্ছিত সিদ্ধান্ত বা আচরণ। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদাভাবে থাকার জন্যও মানসিক যন্ত্রণায় কম ভুগতে হয়নি। বিশেষ করে, দু’বোনের সঙ্গে সম্পর্কে সুতো ছিন্ন করার ফলে প্রতিনিয়তই সে কষ্টে জর্জরিত হতো। সংসারবিছিন্ন নিশীথ দেবদাসের মতো ছন্নছাড়া জীবনকে বেছে নেয়। তবে দেবদাসের সমস্ত সত্তাজুড়ে যেমন পার্বতী বিরাজ করেছিল এবং সংসার বিরাগী হয়ে মদ ও বেশ্যাপাড়ায় কাটাত নিশীথের চরিত্রটি ঠিক সেভাবে নির্মিত না হলেও বেঁচে থাকার অজুহাতে মদ ও নারীর শরীরকে সে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করে। উত্তম পুরুষে লেখা এই আখ্যানে লেখক আধুনিকতার মানসে প্রকাশ করেছেন নিশীথের বাঁধনহারা জীবনের অবাধ যৌনাচার। শুধু যৌনাচারই এই আখ্যানের প্রধান প্রতিপাদ্য নয়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থারও আবছা ছায়ার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন লেখক। হুমায়ুন আজাদের সব কিছু ভেঙে পড়ে উপন্যাসের লম্পট ইঞ্জিনিয়ার যেমন―ঢিলেঢালা পারিবারিক জীবনের অশান্তি দূর করতে নারীর শরীর খুঁজে বেড়ায় ঠিক তেমনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নিশীথও নারীর শরীরকে আশ্রয় করে ভুলতে চায় দীর্ঘদিনের প্রেমিকা তাহিতিকে। সব কিছু ভেঙে পড়ে উপন্যাসে লম্পট ইঞ্জিনিয়ারের বাবা যেমন ছোট খালাকে পছন্দ করতেন এবং খালাত ভাইকে আপন ভাইয়ের সদৃশ মনে হতো;―যদিও সেখানে বিয়ের ব্যাপারটি ঘটানো হয়নি কিন্তু শালি-দুলাভাইয়ের শারীরিক সম্পর্কের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়। দুটি উপন্যাসে বাবা ও খালার চরিত্রগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

বাবার আদেশ উপেক্ষা করে, পরিবারের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে নিশীথ বেরিয়ে পড়ে নিজস্ব ভুবনে। এই ভুবনে সে এক রাজাধিরাজ। নিজের খেয়াল খুশি মতোই কাজ করে। তাহিতিকে জীবনসঙ্গী না করতে পারার হাহাকার থেকে বদলে যাওয়া নিশীথ নারীর শরীর ছাড়া ভালোবাসা বলতে আর কিছু বোঝে না―

‘এর ভেতর ঘটে গ্যালো একটা ব্যাপার। সেই কবে তাহিতির দেহের উষ্ণ স্বাদ পেতাম। হাতে গোনা কয়েকটা দিন। দ্বিতীয় মেয়ের দিকে তেমন চোখে আর কখনো তাকাইনি। সেই চোখই যেনো হারিয়ে ফেলেছি। আসলে মেয়েদের সঙ্গে মিষ্টি সম্পর্কের চিরন্তন সত্যটাই ভুলতে বসেছিলাম।  

মনে করিয়ে দিলেন মধ্যদুপুরের এক স্বর্ণকেশী মহিলা। নামটাও ঠিক মনে নেই। সিন্ডিলু প্যাট্রিক হলেও হতে পারে। চেহারাও হারিয়ে গ্যাছে অনেক মুখের ভিড়ে। কিন্তু জীবনের মোড় ফেরানোর দিনটি স্পষ্ট মনে আছে।’

এই আখ্যানে নিশীথের ছাত্রছীবনের নষ্টালজিয়ার ছায়াও দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসের ছাত্রদের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ছাত্রদের রাতে প্রায়ই গালগালি, ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এসব মূলত এক প্রকার নির্মল আনন্দ ছাড়া কোনো রেষারেষি নয়। বর্তমান লেখকের ক্যাম্পাসকাব্যে উপন্যাসেও এমন একটি ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। সাধারণত লোডশেডিংয়ের সময় মুহসিন হলের বর্ধিতাংশ ছাত্রদের সঙ্গে শাহনেওয়াজ হলের ছাত্রদের তুমুল গালাগালির ঘটনা ঘটত এক সময়। এটিও নির্মল আনন্দের ঘটনা মাত্র। লেখক রাবেয়া খাতুনের দৃষ্টি এড়ায়নি ছাত্রাবাসের এসব ঘটনাও। তিনি যদিও বুয়েটে লেখাপড়া করেননি কিন্তু একজন লেখক হিসেবে জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ঘটনাকে উপন্যাসের কাহিনিতে সন্নিবেশিত করেছেন। এ-রকম আরেকটি ঘটনাও নিশীথের জীবনালেখ্যের মধ্যে প্রতিস্থাপন করে লেখক সমাজের চালচিত্র এবং যৌনাচারের চিত্র অঙ্কন করেছেন―

‘মহিলা এগিয়ে আমার গালে গাল ঘষলেন। উষ্ণ সুবাসী নিঃশ^াসে ঢেকে ফেললেন। প্রথম চুমুটা খেলেন ঘাড়ে। এত গভীর করে, আমার মনে হলো বাঘিনীর রক্ত পানের কথা। …’

উপন্যাসটি যে সময় রচিত সে সময়ে এসকটের যৌনাচার এ দেশের সাধারণ মানুষ ধারণাই করতে পারত না হয়তো; ঠিক সেই সময়ে সমাজের গোপন রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা গোপন সত্যটি লেখক ঠিকই চিহ্নিত করে উপন্যাসে স্থান দিতে পেরেছিলেন। নিশীথের এসকট হিসেবেও যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার একটি ঘটনার আভাস পাওয়া যায়― 

‘পেমেন্টের দিকে সবচেয়ে তুঙ্গে থাকেন বয়সী মহিলারা। এদের মধ্যে একটা ধারণা আবিষ্কার করি। যুবক সঙ্গী নির্বাচনের ভেতর দেহের তাগিদটাই প্রধান নয়। সঙ্গমকে হার্টের রোগীরা প্রতিষেধক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেন। যৌন শক্তি বৃদ্ধির ব্যাপারেও। ওদের বাঁচার আকাক্সক্ষা আমার অসহ্য লাগে। পিঙ্গল পৃথিবী এদের চোখে এত সবুজ ক্যানো ?’

কিন্তু এত নারী ভোগ, মদ্যপান, শরীরকে নিস্তেজ রাখার ড্রাগ এবং বেহিসেবি জীবনযাপনের পরও কি নিশীথের জীবনে একটু শান্তি বা একটু স্বস্তি পেয়েছে ? না, পায়নি। তাহিতির প্রেমানলে সে যেন নিজেকে প্রতিদিন প্রতিরাতই ঝলসাচ্ছে নির্বিঘ্নে। আর এ-রকম ঝলসানো জীবন থেকে একটু প্রশান্তির ছায়ায় নিজেকে আচ্ছাদন করতে কত না আকুতি ও আক্ষেপ ঝরে―  

‘দেবতা মর্ফিয়াসের কাছে এমন রাতে বহুবার নতজানু হয়েছি। বহুবার বলেছি- ইন্সমোনিয়াতে না ভুগিয়ে তুমি বরং নার্কোলেপসিতে ভোগাও। ঘুম আর ঘুমে তলিয়ে থাকি।’

শে^ত পতাকা উপন্যাসের দ্বিতীয় অধ্যায়ে নিশীথের সঙ্গে দেখা হয় নীলুফার বানুর সঙ্গে। এই অধ্যায়ে এসে নিশীথ যদিও নানা কৌশলে নীলুফারকে সম্ভোগের ফাঁদ পাতে কিন্তু নীলুফার ব্যক্তিত্ব এবং নিজেকে আড়ালে রাখার কৌশলের কাছে নিশীথ বার বার হেরে যায়। নীলুফারও অন্তর্দহনে ভুগতে থাকা এক নারী যে বন্ধ্যা, স্বামী-সংসার থাকলেও স্বামী থেকে আলাদা থাকে। স্বামীর প্রতি তার তীব্র ঘৃণা এবং তার সঙ্গে ঘুমাতে সে শঙ্কিত থাকে বলেই আলাদা ঘুমায়। ঘটনার মূলে রয়েছে ভিন্ন এক ঘটনা যে-ঘটনায় যেকোনো মানুষই শিউরে উঠতে পারে। নীলুফার বড়ো ব্যবসায়ী ছিল কিন্তু হঠাৎ ব্যবসায় পতন হওয়াতে নীলুফার স্বামীর পরামর্শে দেবর স্ত্রীকে খুন করে ইন্সুরেন্সের টাকার জন্য। সে ইন্সুরেন্সের টাকা উঠিয়ে পুনরায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দুটি কারণেই নীলুফার সংসার থাকা সত্ত্বেও সে সংসারহারা, বিবাগী, ঘুরে বেড়ায় এখানে সেখানে যেন শূন্যতায় হাহাকার করা মনের শান্তির জন্য সে পৃথিবী তন্ন তন্ন করে ঘুরে বেড়ায়। কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহানের উড়ুক্কু উপন্যাসের প্রধান চরিত্র নিনা নাজমুলের সঙ্গে দু’বছরের সংসার জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে যেমন বুকের ভেতরে হাহাকার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়; কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আণবিক আঁধার উপন্যাসের প্রধান চরিত্র প্রশান্তির যেমন স্বামী সংসার থাকার সত্ত্বেও স্বামী অনুপমের দুর্বিনীত লাম্পট্যের কারণে অশান্তির আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়ায় তেমনি নীলুফার বানুর চরিত্রেও শূন্যতার হাহাকার নিয়ে ভালোবাসার উষ্ণতার জন্য উড়ুক্কু মনোভাবাপন্ন হয়ে ঘুরে বেড়ানোর সাদৃশ্য পাওয়া যায়। মনোজাগতিক কারণে সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা উপন্যাসের নায়ক বাবর আলী যেমন নারীর শরীর সম্ভোগের তাড়নায় এখানে-সেখানে ছুটে বেরিয়েছে ঠিক নিশীথও যেন এই রূপে খেলারাম হয়ে নারীর শরীর ভোগ করার উন্মাদনায় মাতে। কথাকার রাবেয়া খাতুন উপন্যাসের এই অংশে একটি নিটোল পবিত্র প্রেমের আখ্যান অত্যন্ত দরদ দিয়ে নির্মাণ করেছেন যেখানে টান টান উত্তেজনায় পাঠক তরতরিয়ে উপন্যাসটি শেষ করতে চাইবেন নীলুফার সঙ্গে নিশীথের পরিণতি দেখার তৃষ্ণায়। নিশীথ প্রায় সময়ই নীলুফারের শরীরকে ভোগ করার তাড়নায় উদ্দীপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে পড়ে কিন্তু আবার নিলুফারের স্পর্শে নিজেকে সহজে সংযতও করে ফেলে। এই অধ্যায়েই নিশীথের হাতে একটি দাগ দেখানো হয় যা দিয়ে লেখক তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। শুধু তাই নয়, গণিকাদের ধরন অনুযায়ী তাদের আচরণ কেমন তাও এই কথাশিল্পীর তুলি আঁচড়ে উঠে এসেছে।  

তাহিতিকে বিয়ে করতে না পারায় প্রেমে দেউলিয়া নিশীথ উচ্ছৃঙ্খল জীবনের মধ্য দিয়ে এক প্রকার থিতু হওয়ার সময়েই নীলুফার প্রেমাসক্ত হয়ে তাকেও যখন বাহুবন্ধন করতে পারছে না তখন নতুন করে নিশীথ আবার পরাজিত মানুষের মতো এলেমেলো হয়ে যায়; জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ইঞ্জিনিয়ার নিশীথ অনিয়মের শৃঙ্খলে নিজেকে জড়িয়ে রাখে নিজের বাসায়। অনিয়মিত স্নানাহার, অনিন্দ্রা, সবকিছুর প্রতি নিরাসক্তি নিষিক্ত হয় তার যাপিত জীবনে। ক্লেদ ও ক্লেশে সে জর্জরিত হয়ে নিঃসঙ্গতাকে বেছে নেয়। এই সময় নীলুফার যদিও তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে এবং নিজেকে উজার করে দিতে চায় তখন দুজনেরই মন অন্য রকম হয়―পরিণতিতে স্থাপিত হয় প্ল্যাটনিক প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত―

‘আবার বললাম, আমার কথা শেষ হয়নি। তাহিতির পর আর কেউ আমাকে প্রাণ থেকে ভালোবাসেনি। সে দিক থেকেও আমার নতুন জন্ম আসুক।

বেপথু শরীর আরও কাঁপছিল। সারা মুখে ঘাম। দু’চোখ ফেটে বেরুচ্ছে পানি। কতকাল আমি কাঁদি না। অশ্রুপাত বীর্যপাতের চেয়ে কম আনন্দের নয়; কত জনম ভুলে গেছি এ মহাসত্য।

ভেজায় গলায় বললাম, আর একটু কাছে এসো। আমি যে আর একটু হলেই তোমাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমায় তুমি কাছে নাও…

নীল নিঃশব্দে আমার কথার ভেতর, আমার মাথাটা একেবারে বুকের গহনে টেনে নিল। আমার মনে হলো আমি এবার ঘুমিয়ে যাবো। উদ্বেগহীন, চেষ্টাহীন নিখাদ ঘুম। দেবতা মির্ফায়সকে আজ পরাজিত হয়ে ফিরে যেতে হবে সাধারণ এক মানুষের কাছে।’ 

 লেখক রাবেয়া খাতুনের সাহিত্যসত্তা আবিষ্কার করে আমরা আলোকিত ও মুগ্ধ হই। তাঁর প্রয়াণে আমরা শোক জানাই।

 লেখক : কথাশিল্পী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares