অনুবাদ গল্পআর্কাইভবিশ্বসাহিত্য

উতল হাওয়া : মূল : ডেভিড সালয়

বিশ্বসাহিত্য : অনূদিত গল্প

বাংলা অনুবাদ : শাহেরীন আরাফাত

[একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বসাহিত্যের ক্যানভাসে ডেভিড সালয় এমন এক নাম, যিনি গতানুগতিক আখ্যানের সীমানা অতিক্রম করে মানুষের অস্তিত্বের সংকট, বিচ্ছিন্নতা এবং আধুনিক পুরুষত্বের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। কানাডায় জন্ম, লন্ডনে বেড়ে ওঠা এবং বর্তমানে বুদাপেস্টে বসবাসরত এই লেখক, তাঁর সাহিত্যকর্মে ভৌগোলিক এবং মনস্তাত্ত্বিক―উভয় প্রকার সীমানা বারবার অতিক্রম করেছেন। ২০০৮ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস লন্ডন অ্যান্ড দ্য সাউথ-ইস্ট প্রকাশের পর থেকে ২০২৫ সালে ফ্লেশ উপন্যাসের জন্য বুকার পুরস্কার জয় পর্যন্ত, সালয় নিজেকে কেবল একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ইউরোপীয় জীবনের এক নির্মম পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ‘টার্বুলেন্স’ [উতল হাওয়া] ডেভিড সালয়-এর জনপ্রিয় গল্প সংকলন টার্বুলেন্স (২০১৮)-এর একটি গল্প। এ গ্রন্থের সব গল্পই আন্তঃসম্পর্কিত। গল্পটি মূলত সম্পর্কের জটিলতা, আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্পর্ক, অভিবাসন সংকট এবং মৃত্যুচিন্তাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।]

দোহা―> বুদাপেস্ট

উরসুলা মেনুর দিকে তাকিয়ে উদাস গলায় বলল, ‘শামগারের কথা তোর মনে আছে ? আমার মালি।’

মিরি বলল, ‘হ্যাঁ, আবছা মনে পড়ে।’

‘আমার কী মনে হয় জানিস ? ছেলেটা বোধহয় সমকামী।’

‘তাই নাকি ? এমন কেন মনে হলো ?’

উরসুলা হাসল। ‘আমার ধারণা পাশের বাড়ির লোকটার সঙ্গে ওর একটা কিছু চলছে।’

‘ভালো তো,’ মিরি বলল। তার গলায় আগ্রহ নেই। মন অন্য কোথাও পড়ে আছে।

উরসুলা মেয়ের অনাগ্রহ পাত্তাই দিল না। সে নিজের মতো বলে যেতে লাগল, ‘একদিন ভোরবেলা পাশের বাড়ির লোকটাকে শামগারের ঘর থেকে বের হতে দেখলাম। আমার ঘুম আসছিল না, তাই খুব ভোরে উঠে পড়েছিলাম। যেই না বাইরে পা দিয়েছি, শামগারের ঘরের দরজা খুলল। ভাবলাম শামগার বের হবে। ওমা, বের হলো পাশের বাড়ির ওই লোকটা! আমি তো ওর নামও জানি না। বললাম, হ্যালো। সে কোনওমতে মাথা নেড়ে তড়িঘড়ি করে চলে গেল। পরে যখন শামগারের কাছে কথাটা তুললাম, সে লজ্জায় লাল হয়ে গেল। আমি আর কথা বাড়াইনি।’

মিরি বলল, ‘অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলানো তোমার ঠিক হয়নি।’

‘জানি। অবশ্যই ঠিক হয়নি। কিন্তু শামগার তো বিবাহিত। ভারতে ওর দুটো বাচ্চাও আছে। আমার ধারণা ওই লোকটাও বিবাহিত।’

মিরি মেনু হাতে নিল। শান্ত গলায় বলল, ‘আমি বিয়ে করছি মা।’ তারপর প্রসঙ্গ পালটে ফেলল, ‘কী খাবে বলো ? আজকের স্পেশাল কী ?’

ওরা বসে আছে বুদাপেস্টে মিরির ফ্ল্যাটের কাছেই ‘মেনজা’ নামের বেশ জনপ্রিয় এক রেস্তোরাঁয়। উরসুলা দোহা থেকে ভোরের ফ্লাইট ধরে সোজা ট্যাক্সি নিয়ে এখানে এসেছে। সে চোখ বড় বড় করে বলল, ‘বিয়ে মানে ? কার সঙ্গে ? ছেলেটাকে কি আমি চিনি ?’

‘চেনো।’

‘কে ?’

‘তোমার কী মনে হয় ?’

‘মুসা ?’

‘হ্যাঁ।’

মা চুপ করে আছে দেখে মিরি মেনু নামিয়ে রাখল। ‘খবরটা শুনে তুমি অন্তত খুশি হওয়ার ভান করতে পারতে।’

‘আমি খুশি,’ উরসুলা বলল। ‘তবে অবাক হয়েছি।’

‘তা তো দেখতেই পাচ্ছি। অবাক হওয়ার কী আছে ?’

‘বড্ড হুট করে হয়ে গেল না ? তুই আর… আর মুসা কতদিন ধরে মেলামেশা করছিস ? খুব বেশি দিন তো না।’

‘এক বছরের বেশি,’ মিরি বলল।

‘এত দিন হয়ে গেছে ?’

‘হ্যাঁ।’

‘আচ্ছা,’ উরসুলা বলল, ‘তবু…’

‘তবু মানে কী ? বিয়ের জন্য এই সময়টা কি যথেষ্ট না ? তোমার মতে কত দিন যথেষ্ট ? দুই বছর ? পাঁচ ? দশ ? তুমি আর বাবা বিয়ের আগে একে অপরকে কত দিন ধরে চিনতে ?’

‘চার মাস। আর সেই বিয়ে কতটা টিকেছে তা তো চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছিস।’

‘আমি জানি তোমাদের সম্পর্ক কেমন ছিল। সেটার জন্য আমাকে থেরাপিও নিতে হয়েছে। আসল কথাটা স্বীকার করো তো মা,’ মিরি কঠিন গলায় বলল। ‘তুমি অবাক হয়েছো কারণ ছেলেটা কে―সেটা ভেবে।’

উরসুলা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করল, ‘না। তুই কী বোঝাতে চাইছিস ?’

‘তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি কী বোঝাতে চাইছি।’

‘ও যে মুসলমান―তার সঙ্গে আমার অবাক হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।’

‘তাহলে কিসের সম্পর্ক আছে ?’

ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়েটার এল অর্ডার নিতে। ওরা স্পার্কলিং ওয়াটার অর্ডার করল আর মেনু দেখার জন্য আরও কিছু সময় চাইল। মা-মেয়ে মেনুর ওপর দিয়ে একে অপরের দিকে তাকায়। শেষমেষ খাবারের অর্ডার দেওয়া হলো। ওয়েটার চলে যেতেই উরসুলা জার্মানে বলল, ‘শোন, যদি তুই এটাই চাস, অবশ্যই আমি খুশি। কিন্তু…ও তোকে কবে প্রপোজ করল ?’ প্রশ্নটা সে এমনভাবে করল যেন খুব সাধারণ কৌতূহল। বলেই পানির গ্লাসে চুমুক দিল।

মিরি বলল, ‘ও প্রপোজ করেনি। বুদ্ধিটা আমার।’

উরসুলা নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল, ‘আচ্ছা।’

‘ও আমাকে কখনই বিয়ের কথা বলত না। ও জানে বিষয়টা অন্যরকম দেখাতে পারে।’

‘কেমন অন্যরকম ?’

‘মানুষ ভাবতে পারে ও হয়তো কোনও সুবিধা চাইছে। ইউরোপে পার্মানেন্ট হওয়ার জন্য বিয়ে করছে―এমনটা মনে করতে পারে। আমি ঠিক জানি না।’

উরসুলা বলল, ‘মানুষের এমন মনে হওয়াটা খুব অস্বাভাবিক না।’

‘হ্যাঁ, এমনটা হতে পারে। তো ? তাতে ? সেটা কি ভালো বিষয় না ?’

‘বিয়েটা কি তবে সেজন্যই ?’ উরসুলা জানতে চাইল।

‘না,’ মিরি বলল। ‘সেজন্য না।’

দুপুরের খাবারের পর উরসুলার স্যুটকেস নিয়ে তারা মিরির ফ্ল্যাটে গেল। ফ্ল্যাটটা অ্যাভিনিউয়ের উলটো দিকে এক শান্ত, নোংরা রাস্তায়। রাস্তার ভবনগুলো দেখতে অনেকটা দুর্গের মতো। একটা বিশাল কাঠের দরজার সামনে থামল দুজন। দরজার পেটে আবার ছোট আরেকটা দরজা। প্লাস্টারের তৈরি এক সারি মুখ, ময়লার আস্তরণে ঢাকা, দোতলার জানালার নিচে একেকটা মুখ পর্যায়ক্রমে হাসছে আর কাঁদছে। সামনের দেয়ালটা হয়তো একসময় ফিরোজা রঙের ছিল। এখন বিবর্ণ ধূসর। মিরি কি-প্যাডে কিছু নম্বর টিপল, তারপর তারা ছোট দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে একটা লম্বা উঠোনে পৌঁছাল। ওপরে এক টুকরো আকাশ দেখা যাচ্ছে।

চারপাশ দেখতে দেখতে উরসুলা জিজ্ঞেস করল, ‘তুই এখন এখানে থাকিস ?’ ওপরে নিস্তব্ধ দরজা আর জানালার খোপ। দু-একটা কবুতর ছাড়া প্রাণের কোনও চিহ্ন নেই।

‘আমরা এখানে থাকি।’

‘সে-ও কি এখানেই থাকে ?’

‘হ্যাঁ।’

‘ওহ।’ উরসুলা শুনেছিল মুসা আরও কয়েকজন সিরিয়ানের সঙ্গে আধ-বৈধভাবে একটা ফ্ল্যাট শেয়ার করে থাকে। সে জিজ্ঞেস করল, ‘ও কি এখন বাসায় আছে ?’

‘মনে হয় না।’

উরসুলা মুসাকে মাত্র দুবার দেখেছে। ছেলেটা সুদর্শন, বুদ্ধিমান, রসিক, মিষ্টি স্বভাবের। অপছন্দ করার মতো কিছু নেই। কিন্তু এই অতিরিক্ত ভালোমানুষিটাই উরসুলার সন্দেহের কারণ। এমন আকর্ষণীয় একজন মানুষের জীবনে কোনও পিছুটান নেই, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তার বয়স ত্রিশের কোঠায়, মিরির চেয়ে প্রায় দশ বছরের বড়। উরসুলার খুব জানতে ইচ্ছে করে, মেয়ে কীভাবে নিশ্চিত হলো যে সিরিয়াতে মুসার কোনও পরিবার নেই, স্ত্রী-সন্তান বা অন্য কিছু ? জানার তো কোনও উপায় নেই।

সকালে দোহা থেকে বিমানে আসার সময়ও উরসুলা এটা ভেবেছে। একটা সময় ছিল যখন উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ইউরোপের ফ্লাইটগুলো ইরাক ও সিরিয়ার ওপর দিয়ে যেত―সেটাই ছিল সবচেয়ে ছোট পথ। এখন ওইসব জায়গা এড়িয়ে ইরান ও তুরস্কের ওপর দিয়ে যেতে হয়। সিটের পেছনের স্ক্রিনে নিজের ফ্লাইটের গতিপথ উরসুলা দেখেছে―বিমান সিরিয়া আর ইরাক এড়িয়ে যাচ্ছে। তখন স্বাভাবিকভাবেই মুসার কথা মনে পড়েছে। নিচে সেই অজানা, গোপন জায়গায় মুসার জীবন না জানি কেমন ছিল! দশ হাজার মিটার ওপর থেকেও সেখানে উঁকি দেওয়া সম্ভব নয় এতটাই গোপন। মুসা সেখানে কী ফেলে এসেছে, কী বাঁধন এখনও রয়ে গেছে ? বলা অসম্ভব। শামগারের জীবনও তো… কাতার এয়ারওয়েজের প্রাতঃরাশ নাড়াচাড়া করতে করতে সে ভাবছিল। মানুষ অদ্ভুত। একটা মানুষ কতগুলো জীবন যাপন করতে পারে ?

তবে মিরিকে এই মুহূর্তে এসব বলা যাবে না। ফ্ল্যাটে লাগেজ রেখে রাস্তায় হাঁটার সময় উরসুলা মেয়েকে জিজ্ঞেস করল, ‘সিরিয়াতে মুসার জীবন সম্পর্কে তুই কী জানিস ?’

‘অনেক কিছুই জানি।’

‘ও কি পশুচিকিৎসক ছিল ?’

প্রশ্নটা মিরিকে বিরক্ত করল মনে হলো। ‘তুমি তো সেটা জানো মা।’

উরসুলা জানত বিষয়টা। অবশ্য হাঙ্গেরিতে সে পশুচিকিৎসক হিসেবে কাজ করছে না। তার ‘অ্যাসাইলাম সিকার’ বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকারী স্ট্যাটাসের কারণে সে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করতে পারে না। সে গোপনে আরবি শেখায়। ছাত্রছাত্রীরা মূলত সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির (সিইইউ) স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তারা সংহতি প্রকাশের জন্যই তার কাছে শেখে। এভাবেই মিরির সঙ্গে মুসার পরিচয়।

দানিউব নদীর তীরে পৌঁছাল দুজন। উরসুলা এক পলকের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে দেখল দৃশ্যটা। পানির ওপারে পাহাড়ের সারি, তার ওপর চূড়া আর মিনার। মাথার ওপর মেঘের ফাঁক দিয়ে সাদা রোদ বেরিয়ে আসছে। উন্মুক্ত সেতুর দিকে ওরা হাঁটতে থাকে। সেতুর মাঝখানে নিচের দিকে নেমে গেছে একটা সিঁড়ি। তা দিয়ে মার্গারেট আইল্যান্ডে যাওয়া যায়। দ্বীপের গাছগুলো এখনও প্রায় পত্রহীন, কিন্তু একসঙ্গে জড়ো হয়ে থাকায় একটা সবুজ আবহ তৈরি করেছে। সেই সবুজ নদীর নিচের দিকে দূরের আরেকটা অস্পষ্ট সেতুর দিকে মিলিয়ে গেছে। 

‘ওর সম্পর্কে আর কী জানিস তুই ?’ উরসুলা জিজ্ঞেস করল।

মিরি দার্শনিক ভঙ্গিতে বলল, ‘কারও সম্পর্কে আসলে কতটা জানা সম্ভব ?’

উরসুলা মানতে চাইল না। ‘অনেক কিছুই জানা যায়। ও কি আগে বিয়ে করেছিল ?’

‘না,’ মিরি বলল।

উরসুলা আগে লোকটির ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। সে ধরে নিয়েছিল মিরির এই সম্পর্কটা বেশিদিন টিকবে না। এই ধারণাটা তার কাছে নিরাপদ মনে হয়েছিল। উলটো সে কিছুটা গর্বই বোধ করত। মেয়ের প্রেমিক একজন সিরিয়ান রিফিউজি―এটা তার ‘উদারপন্থি’ ভাবমূর্তির সঙ্গে বেশ মানানসই। বন্ধুদের কাছে এটা নিয়ে সে পরোক্ষভাবে বড়াইও করেছে, তবে সম্পর্কটাকে সবসময় অগুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষণস্থায়ী হিসেবেই দেখিয়েছে।

মার্গারেট আইল্যান্ড বিশাল এক পার্ক। মাঝে মাঝে ভুলে যেতে হয় এটা একটা দ্বীপ। তারা এর আঁকাবাঁকা পিচঢালা পথ ধরে হাঁটতে থাকে। খোলা আকাশের নিচে একটা থিয়েটার আছে, আর একটু এগোলে একটা ছোট চিড়িয়াখানা। জরাজীর্ণ ঘেরাওয়ের ভেতর হরিণেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিছু বাচ্চা বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাদের খাবার দিচ্ছে। সব গাছেই ঝুলে আছে কচি সবুজ পল্লব। বসন্ত আসছে।

হঠাৎ উরসুলা জিজ্ঞেস করল, ‘তুই প্রেগন্যান্ট না তো ?’

মিরি বলল, ‘না।’

তাদের মধ্যে একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল। ঠিক কখন এটা শুরু হয়েছে বলা মুশকিল; কিন্তু এটা ছিল এবং ক্রমশই তাদের আড়ষ্ট করে দিচ্ছিল। তাদের কথাবার্তা কমে আসছিল।

‘তোর বাবাকে বলেছিস ?’ কয়েক মিনিট পর উরসুলা জিজ্ঞেস করল।

‘এখনও না,’ মিরি বলল। ‘বুধবার লন্ডন যাচ্ছি। তখন বলব। তার তো চিন্তা করার আরও অনেক বিষয় আছে।’

‘জানি। সেটার কী খবর ?’

মিরির বাবার প্রোস্টেট ক্যান্সার। ‘রেডিওথেরাপি শেষ হয়েছে,’ মিরি জানাল। ‘কয়েক সপ্তাহ হলো। বৃহস্পতিবার বাবাকে কিছু স্ক্যান করানোর জন্য হাসপাতালে যেতে হবে।’

উরসুলা বলল, ‘আমার মনে হয় একটু বসা দরকার।’

‘কী হয়েছে ?’

‘কিছু না। মাথাটা একটু ঘুরছে।’

কাছাকাছি একটা বেঞ্চে তারা বসল। বেঞ্চটা একটা গাছের নিচে। বাতাসের ঝাপটায় গাছটি হিসহিস শব্দ করছে। উরসুলা অনুভব করল তার বেড়ে যাওয়া রক্তচাপ এখন স্বাভাবিক হচ্ছে। মিরান্ডা তার পাশে বসে উলটো দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে বিশাল লনে ছেলেপুলের দল ফুটবল খেলছে। মিরিকে খুব কমবয়সী দেখাচ্ছে। ওর নাকে একটা নাকফুল। তার চারপাশের চামড়াটা একটু লাল হয়ে ফুলে আছে। ওই লালচে চামড়া দেখে উরসুলার চোখে জল এসে গেল। সে নিজেকে জিজ্ঞেস করল, এই পরিস্থিতিতে ঠিক কোন বিষয়টা তাকে এত অস্বস্তি দিচ্ছে ? কেন মনে হচ্ছে এটা তার মেয়ের সুখের পথে বাধা ? ‘তোকে কেন ওকে বিয়ে করতে হবে ?’ উরসুলা জিজ্ঞেস করতে চাইল। বলতে চাইছে, ‘বিয়ে কেন ? মানুষ তো এখন আর হুট করে বিয়ে করে না। তোর কেন দরকার ? এটা বড্ড সেকেলে ব্যাপার।’ গাছের ডালগুলো বাতাসে কাঁপছে। উরসুলা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

‘তুমি ঠিক আছো মা ?’ মিরি জিজ্ঞেস করল।

‘মনে তো হয়।’ উরসুলা টিস্যু দিয়ে চোখ মুছল। ‘তো আমি কি মুসার সঙ্গে দেখা করছি ?’

‘অবশ্যই। ও তোমার সঙ্গে দেখা করতে চায়।’

‘কখন ?’

‘এখনই ?’ মিরি প্রস্তাব দিল।

‘ও কি আশপাশেই আছে ?’

‘সম্ভবত।’ সে হাসল। ‘এমন তো না যে ওর প্রচুর কাজ আছে।’

মিরি ফোনে মুসার সঙ্গে কথা বলে। ‘আধঘণ্টার মধ্যে আমাদের সঙ্গে দেখা করবে ও।’

তারা পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে আবার সেতুতে ফিরল এবং ট্রামে চড়ে সেই জায়গায় গেল যেখানে মুসা দেখা করতে বলেছে―একটা স্টারবাকস।

‘ও স্টারবাকস পছন্দ করে,’ ব্যাখ্যা করে মিরি।

‘তাই নাকি ?’ উরসুলা বলল। সে বুঝতে পারল না এটাকে কীভাবে নেবে। ট্রামটা অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে চলল। গতি বাড়াতেই বৈদ্যুতিক ভোঁ ভোঁ শব্দ। তারা একটা কোলাহলপূর্ণ মোড়ে নামল এবং ট্রাফিক লাইটে অপেক্ষা করল। স্টারবাকসটা রাস্তার উলটো পাশে। মুসা আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। উরসুলা তাকে দেখামাত্র চিনতে পারল। অদ্ভুত ব্যাপার, এখন সে ছেলেটাকে অন্য চোখে দেখছে। স্টারবাকসের ভেতরে তাকে উঠে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাতে দেখে উরসুলা বুঝল, মিরির এই হঠাৎ বিয়ের ঘোষণার উদ্দেশ্য হয়তো এটাই ছিল : তাকে যেন উরসুলা অন্য চোখে দেখে।

বুদাপেস্ট ―> লন্ডন গ্যাটউিক

মিরি তার বাবাকে প্রায় এক বছর দেখেনি। নটিং হিল গেট টিউব স্টেশন থেকে বের হওয়ার সময় পেটের ভেতর কেমন যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠল। সেখান থেকে বাবার বাসা হাঁটা পথ। এলাকার রাস্তাঘাট তার চেনা। রাস্তায় মোড় নিতেই দেখল, রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ গাছগুলোতে ফুল ফুটেছে। তুষারপাতের মতো সেই প্রাচুর্য প্রতি বসন্তে এক বা দুই সপ্তাহ স্থায়ী হয়। তার মনে পড়ল, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে এই পথ দিয়ে রোজ স্কুলে যেত। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত সে এখানে ছিল। তারপর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে মা তাকে নিয়ে জার্মানিতে চলে যায়। তারপর থেকে বাবার সঙ্গে বছরে এক-দু বার দেখা হয়।

শেষবারের চেয়ে বাবাকে অনেক বেশি বুড়ো দেখাচ্ছে। কিছুটা অসুখে, আর কিছুটা চিকিৎসার প্রভাবে। খোলা গলার শার্টে তাকে কুঁকড়ে যাওয়া মনে হলো। চুল ছোট করে ছাঁটা, কপালে শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে। যখন তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন, শরীরে জোর পাওয়া গেল না। এটা অদ্ভুত লাগল যে তাঁর বয়স এখনও পঞ্চাশের কোঠায়। তিনি দুপুরের খাবার নিয়ে কথা বলছিলেন। মনে হলো সেখানে কোনও একটা সমস্যা আছে, যদিও মিরি বুঝতে পারল না সমস্যাটা কী। সে বলল, ‘আমরা ওয়ালমার ক্যাসলে যাচ্ছি না কেন ?’ (ওয়ালমার ক্যাসল একটা পাব)

সে বাথরুমে গেল। বাথরুমটা আগের মতোই আছে। টয়লেটের পাশে পুরোনো ‘টাইম আউট’ আর মিউজিক ম্যাগাজিনগুলোর স্তূপ। ছোট্ট ফ্রস্টেড জানালা দিয়ে বাগানের সবুজ দেখা যাচ্ছে। লাইট সুইচের পাশে ফ্রেমে বাঁধানো কেনেডির সেই উক্তি : ‘কারণ, চূড়ান্ত বিচারে, আমাদের সবচেয়ে মৌলিক সাধারণ যোগসূত্র হলো আমরা সবাই এই ছোট গ্রহে বাস করি। আমরা সবাই একই বাতাসে শ্বাস নিই। আমরা সবাই আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ লালন করি। এবং আমরা সবাই মরণশীল।’

মিরি লন্ডনে এসেছে, কারণ পরদিন তার বাবা সেন্ট মেরি হাসপাতালে স্ক্যান করাতে যাবেন। বাবা একা একা যাবেন, এটা সে সহ্য করতে পারছিল না। তবুও, ওই ব্যাপারটা তো আছেই। তার বিয়ের ‘খবর’টা। কিন্তু কখন বলবে ? সে ভাবল হাসপাতালের কাজটা মেটা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। সে চায় না বাবা ভাবুক যে সে নিজের কথা বলতে এসেছে। আর বাবা এই খবরটা কীভাবে নেবেন সেটাও সে নিশ্চিত নয়।

সে বসার ঘরে ফিরে গেল। ‘ওয়ালমার ক্যাসল ?’ সে আবার প্রস্তাব দিল। বাবাকে নার্ভাস মনে হলো। ‘হ্যাঁ, ঠিক আছে,’ তিনি বললেন।

তিনি পুরোনো ধূসর কনভার্স জুতো আর ওভারকোট পরলেন। তারা হেঁটে পাবে গেল। সেখানে প্যাড থাই-এর জন্য অপেক্ষা করার সময় প্রথম তাদের কথায় অসুস্থতার প্রসঙ্গ এল। মিরি জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা, এখন কেমন বোধ করছো ?’

তিনি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললেন, ‘ঠিক আছি।’

তাদের মধ্যে একটা ছোট অভিমান জমে ছিল। জানুয়ারিতে যখন রোগ ধরা পড়ে, বাবা নিজে তাকে বলেননি যে তাঁর ক্যান্সার হয়েছে। সে খবরটা পায় স্পেনে থাকা তার দাদির কাছ থেকে। ‘আমাকে কেন দাদির কাছ থেকে শুনতে হলো ?’ সে তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল। তিনি তখন উত্তর দেননি।

খাবারের অপেক্ষায় থাকার সময় প্রসঙ্গটা আবার উঠল। তিনি বললেন, ‘আমি লজ্জা পাচ্ছিলাম। জানি শুনতে খুব বাজে লাগছে।’ কিছুটা ইতস্তত করে মিরি এক গ্লাস ওয়াইন অর্ডার করেছিল। তাতে একটা চুমুক দিল। ‘আমি লজ্জিত ছিলাম,’ তিনি বললেন। ‘মরে যাওয়ার মধ্যে লজ্জাজনক কিছু একটা আছে রে, মা।’ তিনি হাসলেন। ‘খুব বাজে একটা অবস্থা।’

‘তুমি মারা যাচ্ছ না বাবা।’

‘আমরা সবাই মারা যাচ্ছি।’

‘তুমি জানো আমি কী বলছি।’ ততক্ষণে খাবার চলে এল। অন্য কিছু নিয়ে কথা বলাটাও অসম্ভব মনে হচ্ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত তারা খুব একটা কথাই বলল না।

খাবার শেষে ওয়াইন শেষ করতে করতে সে ভাবল, বাবাকে খবরটা দেবে কি না। কেন যেন সময়টা উপযুক্ত মনে হলো না। বাবা বিল মেটালেন এবং তারা আবার রাস্তায় নামল। সে প্রস্তাব দিল, খাওয়ার পর তারা সিনেমা দেখতে পারে। ‘করোনেট তো বন্ধ হয়ে গেছে,’ বাবা জানালেন। ‘কয়েক বছর আগেই।’

‘ওহ,’ মিরি বলল। ‘আমি জানতাম না।’ কথাটা না জানায় নিজেকে এই এলাকায় আগন্তুক মনে হলো। ‘আচ্ছা। তাহলে চল দেখি গেট-এ কী চলছে।’

সেদিন সন্ধ্যায় ‘ফিফটি স্প্রিংটাইমস’ নামে একটা ফরাসি সিনেমা চলছিল। দুজনেই এ সিনেমার নাম আগে শোনেনি। সে প্রোগ্রাম থেকে ছবির বর্ণনা পড়ে শোনাল। ‘সেজার পুরস্কারজয়ী আনিয়েস জাওয়ি অরোরে চরিত্রে এক বুদ্ধিদীপ্ত ও মর্মস্পর্শী অভিনয় করেছেন; ৫০ বছর বয়সী, ফুরফুরে এবং খুব একটা সফল নয় এমন এক ব্যক্তি অরোরের জীবন ওলটপালট হয়ে যায় যখন পুরোনো এক প্রেমিক ফিরে আসে… তারুণ্য ধরে রেখে বার্ধক্যকে আলিঙ্গন করার এক রসাল ও চমৎকার গাথা।’ বাবা বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘ওহ, ফালতু যত সব।’ ‘শুনতে কি খুব খারাপ লাগছে ?’ ‘তারুণ্য ধরে রেখে বার্ধক্যকে আলিঙ্গন করা ? এর মানে কী ? হাস্যকর।’ ‘আমার মনে হয় আমাদের দেখা উচিত,’ সে বলল। তার মনে হলো, পুরো সন্ধ্যা ফ্ল্যাটে বসে থাকার চেয়ে এটা ভালো হবে। বাবা জোর করে টিকিটের দাম দিলেন।

বিকেলে বাবা একটু শুয়ে বিশ্রাম নিলেন। মিরি ভাইবারে মুসার সঙ্গে কথা বলল, বসার ঘরে ফিসফিস করে, যেন সে কিশোরী মেয়ে। তারপর সে একা একা এলাকায় হাঁটতে বের হলো। সে এক ধরনের বিতৃষ্ণা নিয়ে অভিজাত এলাকাটির দিকে তাকায়। দুই জায়গার মৌলিক পার্থক্যটা সে স্পষ্ট টের পাচ্ছে―এখানে টাকা আর আভিজাত্যের প্রতি প্রবল আসক্তি, আর সেখানে মুসার মতো কারও প্রতি, যার এর কোনওটাই নেই।

‘সান ইন সেপ্লনডার’ পাবে সে একা একা অর্ধেক গ্লাস বিয়ার খেল, আর ভাবল সে লন্ডনে কী করছে। সে এসেছে বলে বাবা খুব একটা খুশি হয়েছে বলে মনে হলো না। সে মুসাকে মিস করছে। সে ফ্ল্যাটে ফিরে এল এবং হালকা রাতের খাবার তৈরি করল। তারা দুজন একসঙ্গে খেল, যদিও কারওরই তেমন খিদে ছিল না। বাবা জিজ্ঞেস করলেন মিরি কবে ডক্টরেট পাবে।

‘প্রায় দু বছর লাগবে,’ সে জানাল।

‘আশা করি ততদিন বেঁচে থাকব,’ তিনি বললেন এবং হাসলেন। খাওয়ার পর তারা সিনেমা দেখতে গেল।

রাতে মিরির ভালো ঘুম হলো না। সে সোফায় ছিল। বসার ঘরের বিশাল ছায়ামূর্তিদের মাঝে শুয়ে থাকাটা অদ্ভুত এবং অস্বস্তিকর। ঘরটা পুরোপুরি অন্ধকার ছিল না―রাস্তার বাতির আলো ব্লাইন্ডের ভেতর দিয়ে আসছিল। নিজের অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার একটা অনুভূতি তাকে পীড়া দিচ্ছিল। অন্য একটা কারণেও তার অস্বস্তি হচ্ছিল―বাবাকে এখনও খবরটা দেওয়া হয়নি। আধো-অন্ধকারে শুয়ে তার কাছে এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার মনে হলো যে, সকালে হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তাকে বলতে হবে।

সকালে সে বলল, ‘বাবা, তোমাকে আমার কিছু বলার আছে। মুসা আর আমি বিয়ে করছি।’

তিনি কিছুক্ষণের জন্য তার দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর বেশ শান্তভাবেই জিজ্ঞেস করলেন, ‘সে কোনও পাগল-টাগল না তো ?’

মিরি বাবার দিকে তাকিয়ে রইল। অবশেষে বলল, ‘না, আমার মনে হয় না ও পাগল।’

বাবা মুখে হাসি নিয়ে বললেন, ‘কোনও ইসলামি উগ্রবাদী ?’

‘ও তেমন নয়।’

‘মুসা ?’ তিনি মগটা মুখের কাছে তুললেন। তারা রান্নাঘরের টেবিলে বসে আছে। কেউ কিছু খাচ্ছে না।

‘হ্যাঁ, ওটাই ওর নাম।’

‘মোজিস।’

‘হ্যাঁ।’

‘তুমি কি ওকে ভালোবাসো ?’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন।

‘হ্যাঁ।’ তার মনে হলো তার দ্বিধা করা বা একটুও অনিশ্চিত দেখানো চলবে না।

‘আচ্ছা, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ও লন্ডনে আসে না কেন ?’ মিরি বলল, ‘ওর সিরিয়ান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ―হিথ্রোতে সমস্যা হতে পারে।’ বাবা সেটা শুনে হাসলেন। পুরো পরিস্থিতিটা তাকে বেশ আমোদ দিল মনে হলো।

‘হ্যাঁ, তা হতে পারে।’

‘ওর হাঙ্গেরি ছাড়ার অনুমতি নেই,’ সে বুঝিয়ে বলল।

‘তাই নাকি ?’

‘সেখানেই সে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছে।’

‘আমি ভেবেছিলাম পাজি হাঙ্গেরিয়ানরা এসব করে না।’

‘আগে করত। ও ২০১৫ সালের শুরুর দিকে এসেছিল।’

‘ওহ। আচ্ছা,’ বাবা বললেন, ‘হয়তো আমিই গিয়ে ওর সঙ্গে দেখা করব। যদি ততদিন বেঁচে থাকি আর কি…’

‘তুমি কি ওসব কথা বলা বন্ধ করবে ?’ মিরি চেঁচিয়ে উঠল। তার গলার স্বর বাবাকে চমকে দিল। ‘দয়া করে ওসব কথা বলা বন্ধ করো। আমি জানি তুমি কোনও কিছু সিরিয়াসলি নিতে পারো না।’ সে আগে কখনও বাবার সঙ্গে এভাবে কথা বলেনি। সে জানে না বাবা এটা কীভাবে নেবেন।

বাবা বললেন, ‘আমি দুঃখিত, মা। আসলে আমি খুব ভয় পাচ্ছি।’

মিরির গলা নরম হয়ে এল, ‘আমি জানি বাবা, আমি বুঝি…’

‘সেজন্যই আমি ওসব কথা বলি।’

‘জানি। কিন্তু কিছু বিষয় সত্যিই গুরুতর, আর ভয়ের।’

মিরি শেষ কফিটুকু নিজের মগে ঢালল। যতদূর তার মনে পড়ে, সারা জীবন ধরে সে এই কফিমেকারটা দেখে আসছে। এর পর কী বলবে, কেউই বুঝতে পারছিল না। মিরি ঘড়ির দিকে তাকাল। ‘আমাদের শিগগিরই বের হতে হবে,’ সে বলল। হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট এক ঘণ্টার মধ্যে। তারা জুতো আর জ্যাকেট পরে বের হচ্ছে। দরজার কাছে বাবা মুহূর্তের জন্য থামলেন এবং বললেন, ‘তুমি এসেছো, আমি খুশি হয়েছি, মা।’

‘আমি জানি,’ মিরি বলল।

তারা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল। তখনও বেশ সকাল, আটটা বেজে কয়েক মিনিট। তারা হেঁটে ওয়েস্টবোর্ন গ্রোভের বাস স্টপের দিকে গেল। আকাশে মেঘের আনাগোনা, রোদ আসছে আর যাচ্ছে। তারা যখন মোড়ে পৌঁছাল, বাতাসের ঝাপটায় রাস্তার সব গাছ থেকে ফুল ঝরে পড়তে লাগল।

সচিত্রকরণ : নাজিব তারেক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button