
দ্বাদশ বর্ষ একাদশ-দ্বাদশ সংখ্যা নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫

প্রায় ৭৩ বছরব্যাপী (১৯১৪ থেকে ১৯৮৭ সাল) অসংখ্য সাহিত্যপত্র বেরিয়েছে; এগুলো বহু প্রথিতযশা লেখকের ভেতরের সত্তা জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলা ভাষার এসব ঐতিহাসিক সাহিত্যপত্র থেকে এ সংখ্যার প্রচ্ছদ রচনা হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হলো প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্র (১৯১৪-১৯২৮), মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সওগাত (১৯১৮-১৯৮৭), সজনীকান্ত দাসের শনিবারের চিঠি (১৯২৪-১৯৬২), সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল (১৯৫৭-১৯৭৯) এবং আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের কণ্ঠস্বর (১৯৬৫-১৯৭৫) নিয়ে। সাহিত্যের প্রতি প্রবল উচ্ছ্বাস, তারুণ্যের উদ্দীপনা, মমতা এবং ভালোবাসা বুকে নিয়ে দুর্গম পথ পেরিয়ে বাংলা ভাষার ঐতিহ্যবাহী এসব সাহিত্যপত্রিকার পেছনের কুশীলব, সম্পাদক-লেখকরা উজ্জ্বল ইতিহাস নির্মাণ করে গেছেন। ফেলে আসা সাহিত্যের উর্বর জমিনের সেই সব ইতিহাস জানা উচিত সমকালীন কিংবা উত্তরপ্রজন্মের সাহিত্যপ্রেমীদের―শব্দঘর (প্রতিষ্ঠা, জানুয়ারি ২০১৪) সম্পাদনায় এক যুগ পেরিয়ে এই সত্যটা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি। বুঝতে পেরেছি সম্পাদনার পথটি ছিল তাঁদের জন্য কত বাধার। সময়ের স্রোতে চলতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে আরও টের পাচ্ছি যুগে যুগে চারপাশের ঈর্ষাকাতর নিন্দুকের ছুড়ে দেওয়া কত যাতনা আর কষ্ট বুকে নিয়ে এগিয়ে ছিল পত্রিকাগুলো। তবু তাঁরা ব্যর্থ হননি। সময়ের উজ্জ্বলতম বাতিঘর হিসেবে এখনও আলোকিত করছেন আমাদের সাহিত্যের চারণভূমি। বিশ শতকের সর্বপ্রথম পত্রিকা সবুজপত্র বেরিয়েছিল ১৯১৪ সালে, আর শতবর্ষ পর ২০১৪ সালে জন্ম নেয় শব্দঘর। তখনই যেন সাহিত্যসাধনার মগ্নতার ভেতর থেকে শুনতে পেয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কাব্যময় জীবনকথা―
“অদৃষ্টেরে শুধালেম, ‘চিরদিন পিছে
অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে।’
সে কহিল, ‘ফিরে দেখো।’ দেখিলাম থামি,
সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।”
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ধূমকেতু (আগস্ট ১৯২২-মার্চ ১৯২৩), মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক সম্পাদিত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮-১৯২৩) এবং মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও আফজালুল হক সম্পাদিত মোসলেম ভারত (এপ্রিল-মে ১৯২০―ডিসেম্বর-জানুয়ারি ১৯২১-২২)-এর কথা ইতিমধ্যেই শব্দঘর জুলাই-আগস্ট ২০২৫ সংখ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ভাষাসৈনিক, কবি ও গবেষক-প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক। সাহিত্যজগৎকে শোকসাগরে ভাসিয়ে দিয়ে আচমকা চলে গেলেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলামও। তাঁদেরও আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এ সংখ্যায়।
গোলাম আম্বিয়া খান লুহানী/এক অজানা বিপ্লবীর কাহিনি গ্রন্থটি রচনা করতে গিয়ে প্রায় ৪২ বছর গবেষণা করেছেন লেখক মতিউর রহমান। এই কাজে অভিযাত্রী ছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধুও। পূর্ববঙ্গের মানুষ লুহানী এক আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিপ্লবী অথচ তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না। মস্কোর লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করা হয় এই বিপ্লবীর ফাইল (নম্বর ২০৫)। যোসেফ স্টালিনের নির্দেশে তাঁকে ফায়ারিং স্কোয়াডে পাঠানো হয় এবং ১৯৩৭ সালের সেপ্টেম্বরে মেরে ফেলা হয়। টানা সময়ে গবেষণাকর্মটি পরিচালনা করতে না পারলেও সব তথ্য-উপাত্ত উদঘাটন করতে গবেষকের লেগেছে চার দশকেরও বেশি সময়। বিস্ময়কর! লুহানীকে নিয়ে তো বটেই এই লেখক-সম্পাদকের দুটো বইয়ের প্রকাশনা উৎসব নিয়েও থাকছে বিশেষ আয়োজন।
কয়েকজন সাহিত্য-সংস্কৃতি কর্মীর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘মাসিক ধানমন্ডি আড্ডা’। ইতিমধ্যে দশম আসর শেষ হয়েছে আর অষ্টম আড্ডার আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘ছোটগল্পের বাঁকবদল’ নিয়ে থাকছে শব্দরূপ, বিশেষ গ্রন্থনা।
বিশ্বসাহিত্য বিভাগে থাকছে তিনটি অনূদিত গল্প এবং ওয়ালেস স্টিভেন্সের একগুচ্ছ কবিতার অনুবাদ। থাকছে নিয়মিত সব বিভাগ―গল্প-কবিতা, ভ্রমণ, ভাষা-গবেষণা ধারাবাহিক, বইকথা এবং English Translation of Bangla Masterpieces।
শব্দঘর ১৪তম বর্ষশুরু সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যার প্রস্তুতি চলছে। আমাদের চলার পথের সারথি আপনারাই―প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং যাঁরা শুভানুধ্যায়ী আছেন।



