আর্কাইভগল্প

গল্প : চাঁদের পাথর : গোপাল দাশ

বাংলাদেশের মানচিত্রে যদি কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের দিকে তাকানো যায়, তখন চোখে পড়ে অসংখ্য নীলচে জলাশয়, ধানক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে বিস্তৃত বিল আর নদীর মতো বয়ে যাওয়া খাল। সেই জলময় ভূখণ্ডের গভীরে লুকিয়ে আছে কুড়া নামের গ্রামটি। গ্রাম বলতে এখানে বোঝায় কয়েক ডজন খড়ের ছাউনি দেওয়া কুঁড়েঘর, কিছু টিনের চাল, বাঁশের বেড়া আর তার চারপাশে জলভরা ধানক্ষেত। বর্ষাকালে যেন পুরো গ্রামটাই ভেসে ওঠে নৌকার উপর।

বর্ষায় চারদিক শুধু জল। ঘর থেকে বেরোলে নৌকা ছাড়া উপায় নেই। জল এতটাই বিস্তৃত যে দূরে কোথায় আকাশ শেষ হয়েছে আর কোথায় জল শুরু হয়েছে, বোঝা যায় না। মনে হয় আকাশ আর জল মিলেমিশে একাকার।

শুকনো মৌসুমে আবার দৃশ্য বদলে যায়। তখন হাওর শুকিয়ে গিয়ে জমি ফেটে যায়, কৃষকেরা সেসব জমিতে সোনালি বোরো ধান লাগায়। তখন কুড়া গ্রাম ভরে ওঠে ধানকাটা মানুষের হাসি, ঢাকের মতো মেশিনের শব্দ আর খড়ের গাদায় শিশুদের খেলায়।

এখানকার মানুষ দরিদ্র। বেশির ভাগই জেলে বা কৃষক। বন্যা এলে ঘর ভাসে, আবার নতুন করে ঘর বাঁধে। জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা তাদের দৈনন্দিন সঙ্গী। তবু তাদের চোখে এক ধরনের দৃঢ়তা আছে―যেন প্রকৃতির এই দোলাচলের মধ্যেই তারা বেঁচে থাকার রহস্য খুঁজে পেয়েছে।

কুড়া গ্রামকে আশেপাশের লোকেরা ডাকত―‘তারার গ্রাম’। কারণ, এখানে এমন এক বিশ্বাস চালু ছিল যা অন্য কোথাও শোনা যায়নি। বিশ্বাসটি হলো―যখনই কেউ মারা যায়, তখন রাতের আকাশে একটি নতুন তারা জ্বলে ওঠে। প্রবীণরা বলতেন, ‘ওই তারাটা মৃত মানুষের আত্মার আগুন।’

তাদের ধারণা, মানুষের প্রাণ নিভে গেলেও আকাশে গিয়ে সে জ্বলে ওঠে, যাতে প্রিয়জনেরা জানে, সে এখনও আলো হয়ে আছে।

শিশুরা রাতের আকাশে আঙুল তুলে বলত―

‘ওই যে! দাদার তারা।’

‘ওই যে! ঠাকুমার আত্মা।’

এই বিশ্বাস এতটাই গভীর ছিল যে, যখনই কারও মৃত্যু ঘটত, শোকাহত পরিবার রাতের আকাশে তাকিয়ে সান্ত্বনা খুঁজত―‘দেখ, ও ফের জ্বলে উঠল।’

কিন্তু এই সরল বিশ্বাসের ভেতরেও অদ্ভুত এক রহস্য লুকিয়ে ছিল। কারণ, প্রায়ই দেখা যেত সত্যিই নতুন তারা চোখে পড়ছে। এটাই কুড়াকে আশেপাশের গ্রাম থেকে আলাদা করেছে। কুড়া গ্রামের উত্তর প্রান্তে, হাওড়ের ধারে বাঁশঝাড় ঘেঁষে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর। সেখানেই জন্ম হয়েছিল রূপার। জন্মের সময় আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ ছিল, আর গ্রাম্য ধাত্রী কানাইর মা বলেছিল―

‘এই মাইয়ার জন্ম এক্কেবারে চান্দির আলোর মতোই। আলোর তাগে যেন ওর ভাগ্য বাঁধা।’

রূপার বাবা সুধীর বর্মন, জীবনের সবটা সময় তিনি জাল ফেলেই কাটিয়েছেন।

কুড়া গ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন মনোহর বৈষ্ণব। বয়স আশি ছুঁয়েছিল বহু আগেই। পাকা ধবধবে দাড়ি, চোখে ঘোলা দৃষ্টি, কিন্তু কণ্ঠস্বর দৃঢ়। তিনি গ্রামের অর্ধেক মানুষের জন্ম, মৃত্যু আর শোকের সাক্ষী ছিলেন। মনোহর বৈষ্ণবের কথা গ্রামের মানুষ ভক্তির সঙ্গেই শুনত। কেউ বলত, তিনি এতদিন বেঁচে আছেন কারণ আকাশের তারাগুলো তাকে পাহারা দেয়।

কিন্তু মানুষ তো চিরদিন বাঁচে না। বর্ষার এক গভীর রাতে, যখন চারদিকে শুধু ঝড়ের গর্জন আর হাওরের জলের শব্দ, তখন মনোহর বৈষ্ণব মৃত্যুশয্যায় শুয়েছিলেন। তার কুঁড়েঘরে জমে উঠেছিল ভিড়। গ্রামবাসী জানত,যে কোনও মুহূর্তে তার প্রাণ যাবে, আর তারপর রাতের আকাশে একটি নতুন তারা জ্বলে উঠবে।

বাতাস এত তীব্র ছিল যে, টিনের চাল উড়ে যাওয়ার মতো শব্দ করছিল। কেরোসিনের আলো দুলছিল, মাঝে মাঝে নিভে যাচ্ছিল। মশারির ভেতরে শুয়ে কাশতে কাশতে তিনি শেষ শ্বাস নিচ্ছিলেন।

রূপা সেই ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। তার বুকের ভেতরে অদ্ভুত এক কান্না অনুভব করছিল। যেন কোনও অজানা শক্তি তাকে ঘিরে ফেলছে। ঠিক শেষ নিঃশ্বাস ফেলার মুহূর্তে, বাইরে থেকে এক আর্তনাদের মতো চিৎকার ভেসে এল―

‘দেখো! আকাশে কী জ্বলছে!’

সবাই দৌড়ে বেরোল। কিন্তু তারা যা দেখল, তা আগে কখনও দেখেনি। আকাশে নতুন একটি তারা জ্বলার বদলে দেখা গেল এক বিশাল রূপালি পাথরের মতো, যেন চাঁদ ভেঙে একটি টুকরো নেমে এসেছে পৃথিবীর আকাশে। সেই পাথর থেকে ছড়িয়ে পড়ছিল স্নিগ্ধ দীপ্তি। আলো চোখে লাগছিল না―বরং মনে হচ্ছিল আলোটা বুকের গভীরে ঢুকে যাচ্ছে।

মানুষ হতবাক। কেউ হাঁটু মুড়ে মাটিতে পড়ে গেল ভয়ে। কেউ আবার বিস্ময়ে আঙুল তুলে বলল―

‘চান্দ ভাইঙা পড়তাছে!’

কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা গেল, সেই রূপালি পাথর ধীরে ধীরে নিচে নামছে। ঝড়ের গর্জন যেন থেমে গেল। আকাশের কালো মেঘ সরতে শুরু করল। পরদিন সকালে কয়েকজন সাহসী যুবক খবর নিয়ে এল―

‘কিশোরগঞ্জ হাওরের ঘোড়াউত্রা নদীর পাড়ে কাশবনের পাশে একডা অদ্ভুত পাডর―’

গ্রামবাসী দল বেঁধে গেল দেখতে। সত্যিই, কাশবনের ভেতর অর্ধেক মাটিতে ডুবে আছে সেই রূপালি পাথর। সূর্যের আলো পড়লেও পাথরটা নিজেই আলো ছড়াচ্ছে। কোনও গরম নেই, বরং কাছে দাঁড়ালেই বুক ভরে ঠান্ডা একটা শিহরণ আসে। প্রথমে কেউ ধরার সাহস করল না। সবাই দূরে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করছিল―

‘এইডা কি দেবতার নিছান?’

‘নাকি দানবের অভিশাপ?’

ঠিক সেই সময় রূপা এগিয়ে গেল। গ্রামের মানুষ চিৎকার করে উঠল―

‘না না, যাইস না রূপা!’

কিন্তু রূপা যেন অদৃশ্য ডাকে সাড়া দিয়ে পাথরের কাছে পৌঁছে হাত রাখল। হাত রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তার শরীর কেঁপে উঠল। বুকের ভেতর দিয়ে শীতল এক কম্পন প্রবাহিত হলো। আর তখনই সে অনুভব করল―পুরো গ্রামের গোপন কথা একসাথে তার কানে বাজছে। কে কী বলছে সবই সে শুনতে পাচ্ছে।

কারও ভয়, কারও লুকানো পাপ, কারও প্রেম, কারও ঘৃণা―সবকিছু যেন ঝড়ের মতো ঢুকে পড়ল তার ভেতরে। রূপা হাঁপাতে হাঁপাতে হাত সরিয়ে নিল, কিন্তু তখনও তার চোখে ভেসে উঠছিল অসংখ্য অদ্ভুত দৃশ্য। গ্রামের মানুষ তাকে ভয় পেয়ে সরে গেল। কেউ কেউ তো বলল―

‘এই মাইয়া দুষ্ট আত্মায় ভরাইয়া আছে!’

কিন্তু রূপা জানত, সে আর আগের মতো নেই। রূপালি পাথর স্পর্শ করার পর থেকে তার ভেতর কিছু একটা জেগে উঠেছে―যা তাকে গ্রামের সব মানুষের মনের ভেতর ঢুকতে দিচ্ছে। রুপালি পাথর স্পর্শ করার পর থেকে রূপা যেন একেবারে বদলে গেল। আগে সে ছিল লাজুক, নিরীহ, চুপচাপ মেয়ে। হাওরের ধারে বসে পাখি দেখত, জোনাকি ধরত, কিংবা মায়ের সঙ্গে ধান শুকাতে সাহায্য করত। কিন্তু পাথর স্পর্শ করার দিন থেকে তার চোখে যেন অন্যরকম দীপ্তি জন্ম নিল।

গ্রামের মানুষ লক্ষ করল, রূপার দৃষ্টি আগের চেয়ে অনেক গভীর হয়ে গেছে। কারও দিকে তাকালে মনে হয়, সে শুধু চোখেই নয়―মনের ভেতরটাও দেখছে। প্রথমে কেউ তা বিশ্বাস করতে চাইল না। কিন্তু শিগগিরই অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করল।

একদিন গ্রামের এক যুবক রূপার দিকে তাকাতেই হঠাৎ কেঁপে উঠল। তারপর চিৎকার করে বলে ফেলল―

‘আমি রাইতে কাতির্কের ঘরে ডুকি… আমি চুরি করি…’

মানুষ স্তম্ভিত। এই কথা সে কাউকে কখনও বলেনি। কিন্তু রূপার চোখে চোখ পড়তেই যেন জিভে এসে গেল। সে সত্য কথা বলে ফেলল। আরেক দিন এক বৃদ্ধা, যিনি সবার কাছে ধর্মভীরু বলে পরিচিত, রূপার সামনে এসে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। তিনি স্বীকার করে ফেললেন―বছরের পর বছর ধরে তিনি নিজের স্বামীকে ঠকিয়েছেন, আর সেটাই তাকে ভেতরে ভেতরে কুরে খাচ্ছিল।

এমন ঘটনা যত বাড়তে লাগল, মানুষ তত ভয় পেতে শুরু করল। তারা ফিসফিস করে বলত―

‘রূপার চোখে অভিশাপ আছে। ও তাকাইলেই লুকান পাপ ফাঁস অইয়া যায়।’

কেউ কেউ বিশ্বাস করল, রুপালি পাথর আসলে আকাশ থেকে নেমে আসা কোনও দানবের নিদর্শন। আবার কেউ ভাবল, এটা দেবতার উপহার, কিন্তু মানুষ তার যোগ্য নয় বলে তা অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। রূপা নিজেও শান্তি খুঁজে পাচ্ছিল না। প্রতিদিন সকালে উঠেই সে শুনতে পেত মানুষের ভেতরের কণ্ঠস্বর। কেউ দুঃখ লুকিয়েছে, কেউ পাপ, কেউ প্রেম। সেইসব কণ্ঠস্বর যেন তার মাথার ভেতর একসাথে গুঞ্জন করত। সে মায়ের কোলে মুখ লুকিয়ে কাঁদত―

‘আমার ভেতর এতো শব্দ ক্যারে মা? আমি গেরামের হগ্গলর কতা হুনতে পাই, আমি আর হয্য করতে পারি না।’

কিন্তু রূপার মা চণ্ডী কিছুই বুঝতে পারত না। শুধু মেয়ে বুক চাপড়ে কাঁদছে দেখে সান্ত্বনা দিত। রূপা পাশের গ্রামের নিত্যানন্দ ঠাকুরের কাছে গেল, সে পুরোহিত কিছু জাদুটোনাও জানে।

নিত্যানন্দ ভ্রƒ কুঁচকে বললেন―

‘মা, ঈশ্বর মানুসরে পরীক্ষা দিত। তুই যদি এই রহস্যরে বেবহার করস খারাপের লাইগ্যা, তয় হাস্তি পাওন লাগব। হোশ কইরা থাহবি।’

দিন যেতে লাগল। রূপার উপস্থিতি এখন সবার কাছে আতঙ্কের কারণ। লোকেরা তার পথ এড়িয়ে চলতে শুরু করল। শিশুরা দেখামাত্র দৌড়ে পালাত। পুরুষেরা তাকে দেখলেই চোখ নামিয়ে নিত, না না হলে রূপার চোখে চোখ পড়লে পাপ ধরা পড়ে যাবে।

অবশেষে এক রাতে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী লোক গোপন বৈঠকে বসল। তাদের মধ্যে ছিল করিম চাচা, মসজিদের মুয়াজ্জিন, নিত্যানন্দ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী কৃষক। তারা সিদ্ধান্ত নিল―

‘এই পাডর গেরামে থাহলে হর্বনাশ অইব। হগ্গলে ডরাইতাছে। মানু আর হাভাবিক মতো বাঁচতে পারত না। আমাগো বংস ধংস অইয়া যাইত। তাই পাডরডারে ডুবাইয়া ফেলান লাগব হাওরের গভীর জইলে।’

কেউ বলল―

‘পাডর ডুবাইলে রূপার হক্তও অয়তো কমে যাইত।’

কথাগুলো ফিসফিস করে ছড়িয়ে পড়ল গ্রামে। রূপা ঘরে বসেই তাদের সব কথা শুনতে পেল। কারণ মানুষের মনের কথা আর তার কাছে এখন গোপন নয়। সে চমকে উঠল, কিন্তু প্রতিবাদ করল না। রাতের অন্ধকারে পাথরের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল―

‘তুই যদি হাচাই আশমান থাইক্যা আইসস, তয় আবার আশমানেই ফিরা যা।’

তার চোখ থেকে তখন রূপালি আলোর রশ্মি বের হচ্ছিল, মনির মাঝি তাকে দেখে ভয়ে কাঁপতে থাকে।

পরদিন ভোরেই কয়েকজন শক্ত-সমর্থ যুবক বাঁশ কেটে ভেলা বানাল। ভেলার উপর শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা হলো রূপালি পাথর। গ্রামের মানুষজন ভয়ে ভয়ে দূর থেকে সব দেখছিল। কেউ ফিসফিস করে বলছিল―

‘পাডরডা যদি ভেহ্যা উডত?’ 

‘নাকি জইলে ডুবলেই হগ্গল শ্যাষ?’

রূপা সেদিন ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল চুপচাপ। তার চোখে অদ্ভুত এক নীরবতা। মনে হচ্ছিল সে সবকিছু আগেই জানে। দুপুরে ভেলাটি হাওরের মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হলো। আকাশ ছিল মেঘলা, হাওরের জল কালো রঙের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। দূরে কেবল রাজহাঁস সাঁতার কাটছিল। যুবকেরা যখন রশি কেটে দিল, তখন সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল। ধীরে ধীরে বিশাল পাথরটি জলের নিচে তলিয়ে গেল। চারপাশে বৃত্তাকার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল। মুহূর্তের জন্য মনে হলো হাওর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। বাতাসও থেমে গেছে যেন।

মানুষ হঠাৎ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। তারা বিশ্বাস করল―অভিশাপ শেষ হলো। কেউ কেউ আল্লাহর নাম নিল, কেউ আবার দেবতার প্রশংসা করল। কিন্তু রূপা তখন ভিড় থেকে সরে গিয়ে একা দাঁড়িয়েছিল। তার চোখ ভিজে উঠেছিল অদ্ভুত আলোয়। মনে হচ্ছিল সে নিজের ভেতরের অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছে। রাতের অন্ধকারে সে ফিসফিস করে বলল―

‘তুই আবার ফিরতি। আমি জানি।’

সেদিন রাতেই আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। হাওরের মাঝখানে হঠাৎ জল কাঁপতে শুরু করল। প্রথমে হালকা তরঙ্গ, তারপর যেন অগ্নিশিখার মতো ঝলকানি। গ্রামের মানুষ দৌড়ে বেরিয়ে এল। তারা বিস্ময়ে দেখল―ডুবিয়ে দেওয়া রূপালি পাথর ধীরে ধীরে জল থেকে উঠছে। প্রথমে অর্ধেক, তারপর পুরোটা ভেসে উঠল। তারপর সেটি জ্বলজ্বল করতে করতে আকাশের দিকে উড়তে শুরু করল।

মানুষ হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল ভয়ে। এক সময় দেখা গেল―চাঁদের গায়ে যে পুরোনো ফাটল ছিল, সেই ফাটল রূপালি আলোয় ভরে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।

গ্রামের লোকেরা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। তাদের মনে হলো―চাঁদ আবার পূর্ণ হয়ে গেছে। গ্রামের লোকেরা ভেবেছিল এ দৃশ্য তারা কেবল দাদা দাদির কাছে গল্পেই শুনেছে, কিন্তু আজ সেটা তাদের চোখের সামনে ঘটছে। হাওরের বাতাস হালকা হয়ে এল, কাকের অশুভ ডাক থেমে গেল, দূরে বাজপাখির কান্না মিলিয়ে গেল। যেন প্রকৃতি নিজেই ঘোষণা করল―গ্রাম এখন নতুন কোনও অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

পরদিন ভোরে যখন সূর্য উঠল, মানুষ তখনও আগের রাতের ঘটনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কেউ বিশ্বাস করল, তারা নিজের চোখে দেবত্ব দেখেছে। কেউ বলল, এটা শয়তানের খেলা, যাতে মানুষকে ভুলিয়ে পথভ্রষ্ট করা যায়। আবার কেউ চুপ করে শুধু ভাবতে লাগল―যা-ই হোক, এত শক্তির সামনে মানুষ আসলে কতটা অসহায়। বাজারে সকালেই শুরু হলো আলোচনা। মুদি দোকানে বসা একজন বলল―

‘আমি তো চোখে দ্যাহতাছি, চান্দ এক্কেবারে নতুন অইয়া গেইছে। এহন আমাগো ফসলও ভালা অইব।’

তার কথা শুনে পাশের চাষি উত্তর দিল―

‘হয়তো তাই। কিন্তু যদি এই আলো আবার অন্য কোনও বিপদ ডেকে আনে?’

মুয়াজ্জিন আব্দুল আলীম বলল―

‘এইডা আল্লাহর নিছান। আমরা পাপ করছিলাম, তাই পরীক্ষা অইছিল। এহন যদি তওবা করি, তাইলে আর কুনু অশুভ ঘটত না।’

অন্যদিকে হিন্দু পরিবারগুলো বলল―

‘এইডা নিশ্চই দেবীর করুণা। গেরামের কুমারী মাইয়ার পিতি দেবী দিষ্টি দিছিল, তাই চান্দের ক্ষত হারাইয়া দিল।’

ফলে গ্রামের মধ্যে বিশ্বাস ও কুসংস্কারের এক অদ্ভুত মিশ্র পরিবেশ তৈরি হলো। সবচেয়ে বেশি বদলে গেল রূপা। পাথর আকাশে ফেরার পর থেকে তার চোখে অদ্ভুত দীপ্তি দেখা যেতে লাগল। সে যেন প্রতিদিন আরও নীরব হয়ে উঠল। গ্রামের মেয়েরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইত, কিন্তু রূপা কেবল হাসত―একটা এমন হাসি, যা দেখে মনে হতো সে এমন কিছু জানে, যা অন্যরা জানে না।

রাতের বেলায় তাকে প্রায়শই হাওরের ধারে বসে থাকতে দেখা যেত। কাক আর বক হঠাৎ এসে তার কাছে বসত, যেন তাকে অভিবাদন জানাচ্ছে। কেউ কেউ বলত―রূপা এখন আর সাধারণ মেয়ে নেই, সে চাঁদের অংশ হয়ে গেছে। একদিন গ্রামের এক বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যু হলো। লোকেরা বলল, মৃত্যুর আগে তিনি রূপাকে দেখে ফিসফিস করে বলেছেন―

‘চাঁদের কন্যা…’            

সেই কথা শুনে গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ল―রূপা আসলে চাঁদের পাঠানো দূত।

দিন গড়াতে গড়াতে গ্রামে নতুন এক বিশ্বাস জন্ম নিল। মানুষ বলতে লাগল, রূপার আশেপাশে থাকলে কোনও রোগ হয় না, জমিতে ফসল ভালো হয়। কিছুদিনের মধ্যে গ্রাম থেকে জ্বর, আমাশয় আর নানা রোগ প্রায় উধাও হয়ে গেল। ডাক্তারও অবাক হয়ে গেলেন। শিশুরা রূপাকে ঘিরে খেলতে চাইত আর বয়স্করা তার কাছ থেকে আশীর্বাদ চাইত। কেউ ধান কাটার আগে তার হাতের ছোঁয়া চাইত, কেউ গরু বিক্রি করার আগে তার কাছে গোপনে বলে আসত, যাতে গরুর ভালো দাম পায়। রূপা সবকিছুতেই নিরুত্তর থাকত। সে না কিছু চাইত, না কিছু প্রত্যাখ্যান করত। কেবল নীরবে মানুষের অনুরোধ মেনে নিত। সকলের মঙ্গল কামনা করত।

কিন্তু সবাই যে খুশি হয়েছিল, তা নয়। গ্রামের কিছু প্রভাবশালী মানুষ―যেমন নিত্যানন্দ ঠাকুর, করিম চাচা আর মসজিদের ইমাম―অস্থির হয়ে উঠল। তারা বুঝল, মানুষ এখন রূপাকে ভয় ও ভক্তি দুই চোখে দেখছে। এতে তাদের সামাজিক প্রভাব কমতে শুরু করল। একদিন রাতে তারা বৈঠক করল।

করিম চাচা বলল―

‘এই মাইয়ার ক্যারেণে মানু আমাগো আর গুরুত্ত দিত না। কালেকশনে ট্যাক্স দিতে চাইত না, কয় রূপার আশীষ আছে। এইডা চলতে দেওন যাইত না।’

নিত্যানন্দ ঠাকুর,

‘ঠিক কইছস। এইডা যদি ঈশ্বরের পরীক্ষা অয়, তাইলে আমাগো উচিত মানুসরে হোশ করান। না অইলে তারা একদিন মাইয়াডারে পূজা করতে শুরু করত।’

তারা পরিকল্পনা করল, রূপাকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে―অথবা তাকে ‘পাপী’ প্রমাণ করতে হবে।

কিন্তু ঠিক তখনই হাওরে ঘটতে লাগল অদ্ভুত ঘটনা।

পাথর আকাশে ফেরার পর থেকে জোয়ার-ভাটার নিয়ম বদলে গেল। আগে যেদিকে পানি নামত, এখন উল্টো দিকে বইতে লাগল। মাছের ঝাঁক হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে আবার অন্য জায়গায় দেখা দিল। সবচেয়ে আশ্চর্য হলো―প্রতি পূর্ণিমায় হাওরের জল রূপালি আলোয় ঝলমল করতে লাগল, যেন চাঁদের আলো সরাসরি জলের ভেতরে মিশে যাচ্ছে। তখন মানুষ অনুভব করত, তাদের বুকের ভেতর অদ্ভুত শান্তি নেমে আসছে।

গ্রামের বাইরে থেকেও লোক আসতে শুরু করল। দূর গ্রামের লোকেরা শুনেছিল, এখানে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে। তারা আসত রূপার সঙ্গে দেখা করতে, তার আশীর্বাদ নিতে। একজন নওগাঁর ব্যবসায়ী এসে রূপার পায়ের কাছে মাথা ঠেকিয়ে বলল―

‘আমার ধানভর্তি নৌকা যেন নদীতে ডুবে না যায়, তুমি আশীর্বাদ করো।’

আরেকজন ময়মনসিংহের গৃহবধূ তার অসুস্থ সন্তানের জন্য রূপার কাছে কেঁদে প্রার্থনা করল। রূপা এসব দেখে চুপ করে থাকত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ওই সব লোকের অনেকেরই সমস্যা সত্যিই মিটে যেত। ফলে তার খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়তে লাগল। গ্রামের ভেতর দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠল। একদল মানুষ বলল―

‘রূপা আমাগো দেবী। আমরা তার হেইবা করতাম।’

অন্যদল বলল―

‘এইডা কুহংস্কার। মানুসের মনের ভুল।’

ফলে গ্রামে হানাহানি শুরু হলো। বাজারে, হাটে, এমনকি মসজিদ-মন্দিরের বাইরে মানুষ ঝগড়া করতে লাগল। কেউ বলল―রূপা বাঁচাবে, কেউ বলল―রূপা ধ্বংস ডেকে আনবে। এই পরিস্থিতিতে রূপা আরও নীরব হয়ে গেল। সে জানত, তার ভেতরে এখন এক অদ্ভুত শক্তি আছে, কিন্তু সে সেটাকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছে না।

এক রাতে সে একা হাওরের ধারে দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে তাকাল। পূর্ণিমার আলো জলে ছড়িয়ে পড়ছিল, আর সে অনুভব করল―চাঁদ যেন তার সঙ্গে কথা বলছে। মনে হলো, চাঁদ তাকে বলছে―

‘তুই এ পৃথিবীর নয়, তুই কেবল সেতুবন্ধন। মানুষ তোর কাছে বিশ্বাস খুঁজে পাবে, কিন্তু সত্যিকারের মুক্তি খুঁজতে হলে তাদের নিজেদের ভেতর তাকাতে হবে।’

রূপার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সে বুঝল―এখন তাকে কোনও এক বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরদিন সকালেই কয়েকজন নারী হাওড়ের ধারে রূপার বাড়িতে গিয়ে রূপার সামনে ধূপকাঠি আর প্রদীপ জ্বালিয়ে ফিসফিস করে বলল―

‘মা, তুই তো হাওরের আলো। তোর দয়া ছাড়া আমরা রক্ষা পাইতাম না।’

মুহূর্তের মধ্যেই কথাটা গ্রামে ছড়িয়ে গেল। বিকেল নাগাদ রূপার উঠোনে কয়েকজন কুমারী মেয়ে এসে ফুল দিয়ে পূজা করল। তারা সাদা শাড়ি পরে কীর্তন গাইতে লাগল। রূপার মা হতবাক হয়ে দেখলেন, মানুষ যে মেয়েকে এতদিন অশুভ ভাবত, তাকেই এখন দেবী মেনে মাথা নত করছে। একদিন বিকেলে করিম চাচা পর্যন্ত এসে রূপার সামনে হাত জোড় করে বললেন―

‘মা, তুই তো হাওরের আলো। তোর দয়া ছাড়া আমরা রক্ষা পাইতাম না।’

রূপা হতবাক হয়ে শুধু ফিসফিস করে বলল―

‘আমি তো তোমাগো মতোই মানু।’

কিন্তু তার কণ্ঠ গ্রামবাসীর কানে পৌঁছাল না। তাদের চোখে তখন সে দেবী। এক সপ্তাহের মধ্যে আশেপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ আসতে শুরু করল। কেউ রোগ সারানোর আশায়, কেউ সন্তান চাওয়ার জন্য, কেউ আবার জমির অভিশাপ কাটাতে। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকায় ভরে মানুষ আসতে লাগল। কেউ নারকেল ভাঙল, কেউ প্রসাদ বিলাল, কেউ মাথা নত করে পায়ের কাছে বসে রইল। রূপা এই সব দেখে অস্বস্তি বোধ করত। সে বুঝত, তার ভেতরে কোনও দেবত্ব নেই―শুধু অদ্ভুত এক শক্তি আছে যা সে নিজেই সামলাতে পারে না। কিন্তু গ্রামের মানুষ শুনতে চাইত না।

এই পূজা-পার্বণ দেখে প্রথমেই অস্বস্তি হলো গ্রামের পুরোহিত ও ইমামের। পুরোহিত নিত্যানন্দ ভাবলেন―

‘লোকজন যদি রূপার পূজা শুরু করত, তয় মন্দিরে কে যাইত? দান, দইক্ষণা হগ্গল কমে যাইত।’

তাদের মনে ভয় ঢুকে গেল। আর করিম চাচার মতো প্রভাবশালী মানুষরা ভাবল―

‘এই মাইয়া যদি গেরামের বিশশাশ নিয়ন্তরণ করত, তয় আমাগো পভাব শ্যাষ।’

ধীরে ধীরে তারা গোপনে বৈঠক করতে লাগল। নিত্যানন্দ বললেন―

‘পইথমে দেবী কইরা মান দিল, তয় একদিন এরা বুঝত, এ তো আছলে অভিশাপ। তহনই ওরে নামাইয়া আনা যাইত।’

করিম চাচা মাথা নেড়ে বললেন―

‘হেই কামডাই করন লাগব। নইলে গেরাম আমাগো আতছাড়া অইয়া যাইত।’

করিম চাচাও রূপার আশীষের জন্য গেছিল।        

ষড়যন্ত্রকারীরা ধীরে ধীরে গুজব ছড়াতে লাগল। কেউ বলল, রূপা নাকি রাতে অদ্ভুত মন্ত্র পড়ে। কেউ বলল, সে জলে নেমে মৃত মানুষের আত্মা ডেকে আনে। কেউ আবার দাবি করল, তার চুলের রূপালি আভা আসলে শয়তানের চিহ্ন। প্রথমে সাধারণ মানুষ এসব বিশ্বাস করল না। কারণ তারা নিজের চোখে রূপার দয়া দেখেছিল। কিন্তু গুজব দিনকে দিন বাড়তে থাকল। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতাদের কথায় অনেকেই দ্বিধায় পড়ে গেল।

অন্যদিকে নামকীর্তনের আসরে পুরোহিতও ঘোষণা করলেন―

‘হাচা দেবী কুনুদিন মানুসের ভেতরের গোপন বাইর কইরা আনত না। এই মাইয়া আছলে মায়ার ছদ্মবেশ।’

ধীরে ধীরে মানুষ বিভক্ত হতে শুরু করল। কেউ রূপাকে এখনও দেবী বলে মানল, কেউ আবার সন্দেহে ভুগতে লাগল। এক রাতে গ্রামের নিতাই মাঝি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেল। সঙ্গে সঙ্গেই কথাটা ছড়িয়ে পড়ল―

‘রূপা তারে মন্ত্র পইরা মাইর‌্যা ফ্লাইছে। ওর চোখে তাকাইলে কারও আউ কমে যায়।’

কিছু নারী ভয়ে রূপার ঘরে যাওয়া বন্ধ করল। শিশুরা খেলার সময় তাকে দেখলে আড়াল হয়ে পালিয়ে যেত। রূপার মনে হলো, হাওরের বাতাসে এখন ভালোবাসার বদলে ঘৃণা ভেসে বেড়াচ্ছে। একদিন গ্রামের মসজিদ আর মন্দিরের নেতারা একসঙ্গে বৈঠক ডাকল। তারা ঘোষণা করল―

‘রূপা যদি হাচাই দেবী অয়, তয় তারে পরীক্ষায় পাছ করন লাগব। না অইলে ও পাপী।’

পরীক্ষার নামে তারা আসলে ফাঁদ পেতেছিল। রূপাকে বলা হলো, সে যেন আগামী পূর্ণিমার রাতে হাওরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আশীর্বাদ করে। যদি তখন কোনও অদ্ভুত আলো না নামে, তবে সে প্রতারক। রূপা জানত, সে নিজে কিছু করতে পারবে না। আলো আসা না আসা তার হাতে নেই। তবু সে রাজি হলো। কারণ পালালে প্রমাণ হবে, সে অপরাধী।

পূর্ণিমার রাতে হাজার হাজার মানুষ হাওরের ধারে জড়ো হলো। নৌকায় গ্রাম ছেয়ে গেল। সবাই তাকিয়ে রইল রূপার দিকে। সে সাদা পোশাক পরে হাওরের মাঝে গিয়ে দাঁড়াল। চুলে রূপালি আভা ছড়িয়ে পড়েছিল।

রূপা চোখ বন্ধ করে শুধু মনে মনে বলল―

‘ও চান্দ, আমি যদি হাচাই তোর হন্তান অইতাম, তয় আমারে অপমানিত অইতে দিস না।’

কিন্তু আশ্চর্য―সেদিন আকাশ নিস্তব্ধ রইল। কোনও আলো নেমে এল না, কোনও ঝলকানি দেখা গেল না। মানুষের ভিড়ে তখন গুঞ্জন উঠল―

‘দ্যাহলা তো? কুনু দেবত্ব নাই।’

‘হগ্গল মিছা।’

‘এ অভিশপ্ত মাইয়া।’

গুজব মুহূর্তেই ক্ষোভে পরিণত হলো। কয়েকজন যুবক লাঠি হাতে এগিয়ে গেল। রূপার মা কেঁদে বললেন―

‘ওরে ছাড়ন, আমার মাইয়া নির্দোষ।’

কেউ শোনেনি। করিম চাচা দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন―

‘আইজ থাইক্যা রূপারে এই গেরাম থাইক্যা তাড়াই দেওন অইল। ও পাপী, ওর ছায়া আমাগো উপর পড়লে হর্বনাশ অইব।’

মানুষ হাততালি দিয়ে চিৎকার করল। যেন দেবীর আসন থেকে তাকে টেনে নামিয়ে দিল। রূপা কিছু বলল না। শুধু হাওরের জলে তাকাল। সেখানে যেন অসংখ্য মুখ ভেসে উঠছিল―যারা একসময় তার কাছে আলো হয়ে এসেছিল। তারা সবাই নীরব, কিন্তু চোখে কান্না। অবশেষে ভোরের আগে রূপা গ্রামের পথ ছেড়ে বেরিয়ে গেল। কারও চোখে আর অশ্রু ছিল না। সবাই স্বস্তি পেল, যেন এক দুঃস্বপ্নের অবসান হলো। কিন্তু রূপার চলে যাওয়ার পর কুড়ার হাওর যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মাছ ধরা কমে গেল, ধানের ফলন খারাপ হলো, শিশুরা অসুখে ভুগতে লাগল। মানুষ বুঝতে পারল না―তারা আসলে আলোকে হারিয়েছে।

সচিত্রকরণ : ধ্রুব এষ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button