
তাকে যদি কেউ বলত―‘তুই পাগল হয়ে গেছিস।’
সে বলত―‘না ভাই, আমি পাগল হইনি, আমি পাগল নই। আমার সামনে থেকে একটা পর্দা সরে গেছে, আমি স্পষ্ট দেখেছি পর্দা সরে যেতে আর পর্দা সরে যেতেই আমি স্পষ্ট দেখছি।’
তার পরিবারের লোকজন বেশ মুশকিলে পড়ে যায় তাকে নিয়ে। সে যেখানে দাঁড়াত সেখানেই দাঁড়িয়ে থেকে যেত; যেখানে বসত সেখানেই বসে থেকে যেত।
তাকে সরতে বললেই সে বলত―‘না, পা ফেললেই পোকামাকড় ব্যথা পাবে―মরে যাবে। আমি তো দেখতে পাচ্ছি না, ঘাসের আড়ালে, ধুলোর আড়ালে কোথায় পোকা বসে আছে!’
তাকে শত বলেও নড়ানো যেত না। জোর করে তার পরিবারের লোকেরা বাড়ি নিয়ে এসে খেতে দিত বা বাড়ি থেকে বের করে বাইরে রেখে আসত।
এভাবে কয়েক বছর পর সে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই মারা যায়। তার মারা যাবার ঘটনাটিও ছিল খুব ব্যথাদায়ক।
সেদিন দুপুরের খাবারের পর তার বাপ তাকে জোর করে রাস্তার ওপাশে ছোট একটা আমগাছের নিচে রেখে যায়। সে সেখানেই দাঁড়িয়েই থাকে। কিছুক্ষণ পরই ঘন মেঘের ঘের দেখা যায় আকাশে। যে কোনও সময়ই ঝড়তুফান শুরু হতে পারে। আসন্ন ঝড়ের ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে চারদিক; একসময় পর সত্যিই দারুণ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। সে ঐ ঝড়-বৃষ্টির ভেতর দাঁড়িয়েই থাকে, নড়ে না। বাইরের দুএকজন লোক তাকে বাড়ি যেতে বলে দ্রুত চলে যায়। তাদের কথা শোনে না সে। দাঁড়িয়েই থাকে।
তাদের বাড়ির লোকজন তার কথা ভুলে গেছিল। কড় কড় করে বজ্রপাত হতে থাকে। একসময় পর হঠাৎ করে তার বাপের মনে হয় তার কথা। বাপ তাড়াতাড়ি বৃষ্টির মধ্যেই বাইরে যায় আর রাস্তা পার হয়ে দূর থেকেই দেখতে পায় তার পাগল ছেলে পড়ে আছে মাটিতে। কাছে গিয়ে দেখে তার শরীর ঝলসে গেছে বিজলীর আগুনে। তার মৃতদেহে চাপা পড়ে মরে আছে দুটি তরুণ ব্যাঙ।
তাকে নিয়েই একটা গল্প লেখার ইচ্ছা থেকে এ গল্প লেখা। যদিও এ গল্প তাকে নিয়ে লেখা নয়, শেষতক।]
একটা মৃত ব্যাঙের ওপর পা পড়ে যাবার পরপরই যে শব্দটা হয় এবং পায়ের নিচে যে স্বাদ অনুভূত হয় তাতেই শরীরটা শিউরে আর গুলিয়ে ওঠে একই সঙ্গে। দানু গোল্লা হাতের টর্চটা জ্বালে আর সেখানে থেকে অন্ধকার সরে যায়। সে ব্যাঙের দিকে তাকিয়ে একদলা থুথু ফেলে সঙ্গে সঙ্গে। ঘাসে পায়ের তলা ঘষে ঘষে মৃত ব্যাঙ মাড়ানোর শীতল আর ঘিনঘিনে অনভূতিটা মুছে ফেলতে চায় দানু গোল্লা।
‘হাক’ শব্দ করে একেবারে গলা থেকে ঠোঁট পর্যন্ত বিস্তৃত থুথু দিয়ে যে থুথুর দলা হয়েছে সেটা খুব কম নয়। কাশমিশ্রিত এ থুথু বেশ আঠালো। পুরো থুথুর দলা সে ফেলল শক্তি দিয়ে দূরে।
থুথু ফেলার পরপরই তার মুখ দিয়ে উচ্চারিত শব্দবাক্য হলো―‘বোকচোদ ব্যাঙ মরার আর জাগা পায়নি!’
এটা বলার পর সে ব্যাঙটার দিকে আবার বিরক্তি নিয়ে তাকায় আর টর্চের আলোতে লক্ষ করে, ব্যাঙটার বিস্ফারিত চোখ। ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে। মৃত ব্যাঙের জীবন্ত চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে একটু ভয় পায়। ভয় পায় কারণ―সে বুঝতে পারছে না, ব্যাঙটা যখন মরে তখন থেকেই চোখের পাতা খোলা ছিল, নাকি তার পা পড়ার পর চ্যাপ্টা হবার ফলে মৃত ব্যাঙের চোখ খুলে গেছে। সে বুঝতে পারছে না, ‘বোকচোদ’ বলে গাল দেবার পর সেই গালির প্রতিক্রিয়ায় ব্যাঙটার চোখ খুলে গেছে কিনা! এটা ভেবে সে ভয় পায় আরও বেশি।
ভয় পেয়ে একা একা বলে―‘ব্যাঙের এখানে মরার ক্ষেত্রে বা যেখানেই মরে থাকুক, মরে যাবার পর এখানে পড়ে থাকার ব্যাপারে ব্যাঙ-বাবাজির কোনও দোষ নাই।’
এবার আরও ঘন করে সে ব্যাঙের মৃত শরীরের দিকে তাকায়। ঘন করে তাকিয়ে সে দেখতে চায়―এ কথা শুনে ব্যাঙের অভিব্যক্তির কোনও পরিবর্তন হয়েছে কিনা। কিন্তু এবার সে অসংখ্য লাল পিঁপড়া দেখতে পায় মরা ব্যাঙের চ্যাপ্টা পিঠের ওপর। তারা মৃত ব্যাঙ খেয়ে বেঁচে থাকছিল। দানু গোল্লার পায়ের চাপ পড়ার ফলে লাল পিঁপড়েগুলো ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। এবং আরও লক্ষ করল বেশ কিছু পিঁপড়া তার পায়ের চাপে মরে গেছে। মরা পিঁপড়াগুলো তাদের খাদ্য মৃত ব্যাঙের গায়েই চিপটে লেগে রয়েছে। দানু গোল্লা ভাবল, তার পায়ের নিচে শুধু মৃত ব্যাঙের স্পর্শ নয় অনেকগুলো পিঁপড়া আর তাদের মৃত্যু লেপ্টে আছে। সে ঘাসে পা ঘষে ব্যাঙের স্পর্শ, পিঁপড়ার স্পর্শ আর পিঁপড়ার মৃত্যুর স্পর্শ মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু পারে না। স্পর্শ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যেন।
দানু গোল্লা গ্রাম থেকে দূরের একটা বাজার থেকে চা-আড্ডা দিয়ে ফিরছে। আড্ডাতে রাজনীতি, কাজনীতি এসবের নানা কিছু নিয়ে কথার মই তৈরি হয়; কথার মইতে চড়ে আড্ডারুরা সুখ পায়; কথার খই ফোটে, কথার খই ভাজা খেয়ে সুখ পায় সবাই। আড্ডার কথার হয়তো তেমন কোনও অর্থ নাই; সবই হয়তো অনর্থক বা নঞার্থক; তবু ভালো লাগে তার; চা মিঠা লাগে; কথা মিঠা লাগে; হাঁটা মিঠা লাগে।
আড্ডা শেষে বাজার ছাড়ার পর পায়ে হাঁটা কাঁচা পথ ধরে আসতে হয়। গোষ্ঠবেগুন, হাতিশুঁড়, দুলফির ছোট ছোট ঝোপ পথের দুধারে; কখনও ধানক্ষেত; কখনও ছোট বড় ঘোড়করঞ্জ, আশশেওড়া, সুরভি নিমের সঙ্গে নানা ধরনের লতাপাতা লেগে জঙলা মতো। বাড়িঘর নেই। কোথাও কোথাও কাদাও আছে; কাদায় আটকে তার স্যান্ডেল ছিঁড়ে গেছে। স্যান্ডেল জোড়া ফেলে দিয়ে খালি পায়েই সে হাঁটা ধরেছিল।
এই ব্যাঙ-দুর্ঘটনা ঘটে যাবার স্থান থেকে তার বাড়ি আরও মিনিট দশেক। সে অনেক কিছুই দেখে ফেলেছে এই দুর্ঘটনাতে। সে আরও দেখতে চায়। তা যেমনই হোক না কেন। দানু গোল্লা সামান্য চাকরি করে। তার এত বড় জিনিস দেখার অভ্যাস নাই বা এত ছোট জিনিস দেখার অভ্যাস নাই বা এভাবে দেখার অভ্যাস নাই। তার বয়স হয়ে গেছে পঞ্চাশ।
তার বয়স হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছর, না তার বয়স মরে গেছে পঞ্চাশ বছর―এটাও তার ভাবনার ভেতর এলে, সে পৃথিবীতে একাই আছে মনে করতে থাকে। একা একা মানুষে ভরা পুরো পৃথিবী। একা একা ব্যাঙ, একা একা সাপ, একা একা বাঘ বিলাই বা অন্য সবকিছু। থোকা থোকা একা। একা দিয়ে জগৎ গিজ গিজ করছে―থোকা থোকা মানুষ, থোকা থোকা পোকা বা অন্য সবকিছু। একা দিয়ে জগৎ পূর্ণ।
এবার দানু গোল্লা তার ফেলে দেওয়া থুথুর দিকে টর্চ চালাল। সে তার ফেলে দেওয়া থুথু খুঁজে পেতে চাইছে। একদলা থুথু, আঠালো থুথুর দলাটা খুঁজে পেতে দেরি হলো না। রুপালি পয়সার মতো একটু দূরেই থুথুর দলাটা পড়ে আছে। সে তার থুথুর তরল পয়সার কাছে গিয়ে দু পায়ে ভর দিয়ে বসল। থুথুর রুপালি দলার ওপর টর্চ স্থির করল। বোতল থেকে যেমন জল ঢালে তেমনভাবে টর্চ থেকে আলো ঢালছে থুথুর ওপর। টর্চের আলোয় দেখল, থুথুর দলা শান্ত হয়ে বসে আছে। অথবা গোঁয়ার ভূতের মতো চেপে বসে আছে। আঠালো থুথুতে আটকা পড়েছে নাম না জানা একটা পোকা। সেটা বের হবার চেষ্টা করছে। থুথুর আঠা সেটা হতে দিচ্ছে না। একজন পুরুষ যখন একটা কিশোরীকে শক্ত করে হাত ধরে থাকে আর কিশোরীটি হাত বাঁকিয়ে, শরীর বাঁকিয়ে কেঁচোর মতো ছুটতে চেষ্টা করেও পারে না, তেমন। তার নিজের থুথুর দলাটাকে একটা ধর্ষণকারীর মতো মনে হলো। পোকাধর্ষণকারী, পোকার জীবন ধর্ষণকারী। থুথুবর্ষণকারী হিসেবে দানু গোল্লার খুব খারাপ লাগছে।
মানুষের থুথু পোকাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে পারে এমন কথা গত পঞ্চাশ বছরে একবারও ভাবেনি। কতবার সে থুথু ফেলেছে আর কত পোকারা বিপদে পড়েছে বা মারা পড়েছে। পায়ের চাপে চাপে কত ব্যাঙ চ্যাপ্টা হয়ে গেছে, পোকামাকড়―ছোটখাটো কত জীব মুহূর্তেই সজীব থেকে নির্জীব হয়ে গেছে। কত অণ্ডজ বা জরায়ুজ প্রাণিকে মরে পড়ে থাকতে দেখেছে কিন্তু গত পঞ্চাশ বছরের জীবনে এসবকে এমন কোনও অকট ব্যাপার বলে তার মনেই হয়নি।
মরা ব্যাঙের স্পর্শকটু অনুভূতি তার পায়ের তলা থেকে যায়নি। আবার সে জোরে ‘হাক’ শব্দে কাশি দিল। সে খেয়াল করল, জোর করে হাক শব্দ করাতে চারপাশের নির্জনতা দুলে উঠেছে; একটা মাটিয়া সাপ বা হুর-হুর-রা সাপ সড়সড় শব্দ করে চলে গেল; দু-একটা পাখি ফড়ফড় করে উড়ে একগাছ থেকে আরেক গাছে গিয়ে বসল।
‘হাক’ করে কাশি দেবার ফলে পুরো মুখ কাশ-থুথতে ভরে আছে। মুখভর্তি থুথু নিয়ে সে বিপদে পড়েছে; থুথুর দলাটা কোথায় ফেলবে বুঝতে পারছে না। ফেললেই যদি কোনও পোকার উপর, পিঁপড়ার উপর পড়ে।
সে নিজের হাতের তালুতেই ফেলল ঘন থুথুর দলা। হাতে বেশ গরম অনুভব হলো তার। থুথুর এত উত্তাপ সে আগে জানেনি। হাতের তালুকে তার থুথুর ছোট্ট একটা পুকুর বলে মনে হলো। থুথুর দলা সে তার লুঙ্গিতে মুছে নিল।
সে মুখ তুলে আকাশের একেবারে মাঝখানে তাকাল; তারপর আকাশের একেবারে নিচের দিকে তাকাল। ফ্যাকাশে আকাশে দু-চারটা করে তারা লেগে আছে গরুর গায়ে লেগে থাকা আঁটুলির মতো। আকাশের প্রান্ত লেগে আছে কোথাও উঁচু উঁচু গাছের মাথায়, কোথাও নিচু নিচু গাছের মাথায়; কোথায় আকাশটা একেবারে মাটিতে ঘাসের সঙ্গে লেগে ঘাস হয়ে গেছে। তার মনে হলো এইসব বিরাট গাছপালা, জীবজন্তু, পোকামাকড়সহ সে একটা বিরাট ডিমের ভেতর রয়েছে।
আবার তার মনে হলো বিশাল একটা মাত্র ডিম থেকে পৃথিবীর সব জীব জন্মেছে। যেমনভাবে একটামাত্র উকুনের সমান বটবীজ থেকে বিরাট বটগাছ জন্মে যায় তেমন। ওক্ষেত্রে বটগাছে ছোট ছোট বটডিম থেকে শুধু বটগাছই জন্মে; এক্ষেত্রে সকল প্রাণি, গাছপালা জন্মেছে। ফলে সকল উদ্ভিদ আমার ভাই, সকল প্রাণিই আমার ভাই। আমরা ডিমতুতো ভাই; আমরা বীজতুতো ভাই।
এবার সে তার বুকে অন্য কিছু অনুভব করল। যেন তার ভেতর একটা আকাশ; যেন তার ভেতর একটা চাঁদপূর্ণ, তারাপূর্ণ, সূর্যপূর্ণ আকাশ।
তার ভেতর ধকধক করছে। তার ভেতর যেন একটা দুর্দান্ত ঘোড়া ছুটছে; ঘোড়াটা হৃৎপিণ্ড থেকে মগজের দিকে ছুটছে; আবার মগজে দু-চার পাক দিয়ে হৃৎপিণ্ডের দিকে ফিরছে; আবার ছুটছে মগজ-ময়দানের দিকে।
ছোটমুখে বুড়া কথা যেমন বড়রা সহ্য করতে পারে না, তেমনভাবে নিজের বুকের ভেতর চাঁদতারা ভরা আকাশ সে নিজেই সহ্য করতে পারে না; তার বুকের আর মাথার সংযোগকারী ঘোড়ার ছোটাছুটি সহ্য করতে পারে না। নিজের চুল ছিঁড়ে নিজেকেই অপদস্থ করতে ইচ্ছে করে তার।
সে চোখ বন্ধ করে, কান বন্ধ করে, ঠোঁট বন্ধ করে বসে থাকে। সে খেয়াল করল চোখ বন্ধ করার উপায় চোখের সঙ্গেই আছে, মুখ বন্ধ করার উপায় মুখের সঙ্গে আছে কিন্তু নাক বন্ধ করার কোনও উপায় নাই; এর মানে কি বেঁচে থাকতেই হবে; কান বন্ধ করার কোনও উপায় নাই; এর মানে কি শুনতেই হবে। কিন্তু কী শুনতে হবে; কিন্তু কতদিন কীভাবে বেঁচে থাকতে হবে ?
টর্চটা বন্ধ করল। যে অন্ধকার টর্চের আলোর চাপে, ঠেলায় দূরে সরে ছিল সেসব অন্ধকার―টর্চ বন্ধ হতেই―তা তার চোখের ভেতর ঠেলে ঢুকে গেল। সে দাঁড়িয়ে আছে। কালো পাথর অন্ধকার।
‘পৃথিবীতে সে একা’ এমন মনে হলো তার। অন্ধকার চেপে ধরে আছে। কোনওদিকে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। নিজেকেও দেখা যাচ্ছে না। সে আছে কী নাই সেটাও নিশ্চিত করে বুঝতে পারছে না। নিজের হাতটাও দেখতে পাচ্ছে না। তার হাতে ধরা টর্চটা এখন নাই, সেটা দেখাও যাচ্ছে না। এখনই সুইচটা টিপলে জ্বলবে, তখন সেটা থাকবে অর্থাৎ আছে বলে ধরে নেওয়া যাবে। টর্চ বন্ধ। ব্যাঙটা, পিঁপড়েগুলো, থুথুর দলা, থুথুর দলায় আটকে থাকা জীব, কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সেগুলো নেই। সে টর্চ জ্বালল। সবকিছু আছে। নিভাল। সবকিছুই নাই। জ্বালল। আছে। নিভাল। নাই। সত্যি সত্যি হয়তো নাই। আলো ফেলামাত্র চলে আসছে। দানু গোল্লা আছে। দানু গোল্লা নাই। আছে। নাই। নাই। আছে।
এই ‘আছে নাই’ বা ‘নাই আছে’ ঘূর্ণাবর্তে পড়ে সে টলমল পায়ে হাঁটতে থাকে। কোনও একদিকে হাঁটতে থাকে।
হাঁটতে হাঁটতে সে দাঁড়িয়ে পড়ে হঠাৎ। এই যে কয়েক ধাপ হাঁটল―এই কয়েক ধাপের পায়ের চাপে কতগুলো পোকা মরে গেল ? আর হাঁটা ঠিক হবে কি ? একটা দ্বন্দ্বনদী তৈরি হয়েছে তার ভেতর; দ্বন্দ্বনদীর দ্বন্দ্বস্রোতে পড়ে সে স্থির হতেই পারছে না। সে আর ধাপ তুলতেই পারছে না। সে দাঁড়িয়েই আছে। তার দাঁড়িয়ে থাকা দেখে কারও মনে হবে না―সে আর কখনও পা তুলতে পারবে―নতুন ধাপ ফেলার জন্য। রাত পার হয়ে যাবে সে পা তুলবে না, দিন আসবে দিন পার হয়ে যাবে সে পা তুলবে না। কী এক আজব গজব নাজিল হলো তার ওপর! দানু গোল্লার চোখ দিয়ে ঝর ঝর করে জল পড়তে লাগল।
সে টর্চ জ্বেলে কোমর বাঁকিয়ে ঘাসের ভেতর হারিয়ে যাওয়া চোখের জলের ফোঁটা খুঁজে দেখার চেষ্টা করে।
সচিত্রকরণ : শতাব্দী জাহিদ



