
প্রচ্ছদ রচনা : ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক―আবার পড়ি : তাঁর রচনা থেকে
১৯২৯ : তৎকালীন ত্রিপুরা (বিভাগোত্তর কুমিল্লা) জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নবীনগর থানার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে কৃষিনির্ভর মধ্যবিত্ত পরিবারে ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম। এক গ্রাম দূরে বিশাল, গভীর মেঘনা নদী। পিতা আবদুল হামিদ, মা সৈয়দা রহিমা খাতুন।
১৯৩২ : মেঘনার ওপারে কয়েকজন সঙ্গীসহ মারফতি মাহফিলে যোগ দিয়ে সে রাতেই ফেরার পথে মেঘনায় ঝড়ে নৌকাডুবিতে পিতার মৃত্যু, পরিবারে বিপর্যয়। বড় ভাই আবদুল করিম তখন ঢাকায় আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে (বর্তমান বুয়েট) শেষ বর্ষের ছাত্র। অন্য দুই ভাই তখন স্কুলে পড়ছে।
১৯৩৩-৩৫ : মায়ের ছিল ঘর-সংসার সামলানোর সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা। তাই অভিভাবকহীন, শাসনহীন একাকিত্বে বেড়ে ওঠা আহমদ রফিকের। ওই বয়সেই গ্রামীণ প্রকৃতির রূপময়তায় মুগ্ধ হন বালক আহমদ রফিক। সেøট-পেনসিল ও বাল্যশিক্ষা বই হাতে নিয়ে গ্রামের কানাই পালের পাঠশালায় শিক্ষাজীবন শুরু। একমাত্র বড় বোন তখন গ্রামের এক মেয়েদের পাঠশালার ছাত্রী।
১৯৩৬-৩৭ : মেঘনাতীর-সংলগ্ন গ্রাম নাসিরাবাদ। সেখানকার মাইনর স্কুলে পড়াশোনা বছর দেড়েক―প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। এক সন্ধ্যায় গ্রামের পুবপাড়ায় উপস্থিত হন মারফতি জলসায়। মারফতি কবি মনজুরুর রহমান নিজের হাতে-লেখা বই মারফত সোপান পড়তে দেন কৌতূহলি বালক আহমদ রফিককে। বইয়ের একটি কবিতা-গান মনে গেঁথে যায়। এর অংশবিশেষ এখনও স্মৃতিতে সজীব।
১৯৩৭-এর মাঝামাঝি গোটা পরিবার গ্রাম ছেড়ে বড় ভাইয়ের কর্মস্থল চিত্রা নদীর তীরে অবস্থিত নড়াইল শহরে ঠাঁই নেয়। স্টিমার-ট্রেন-বাস ও নৌকায় সে-যাত্রা বড় ভালো লেগেছিল বালক রফিকের। স্মৃতিতে আজো তা ভাস্বর।
১৯৩৭-৩৮ : নারকেল-সুপারি, তাল-খেজুর ও অন্য গাছপালা ভরা সবুজ নড়াইল শহরটি ছিল গ্রামের মতোই। এখানে মক্তবে পড়াশোনা শুরু দ্বিতীয় শ্রেণিতে। পাঠের বিষয় ছিল আরবি-উর্দু, বাংলা ও অংক। শহরটিতে ছিল সুন্দর―লাল ইটের আদালত ভবন, একটি নীলকুঠি, এসডিও সাহেবের বাংলো। মাঝেমধ্যে পাশের বাড়িতে গিয়ে গ্রামোফোন রেকর্ডে শচীনদেব বর্মণ ও আব্বাসউদ্দীনের পল্লীগীতি ও ভাটিয়ালি গান শুনেছেন। মক্তবের পাঠ চুকে যায় চতুর্থ শ্রেণিতে।
১৯৩৯-৪০ : হঠাৎ মায়ের ইচ্ছা হয় গ্রামে স্থায়ী হওয়ার। যেতে হয় তাঁর সঙ্গে। অতঃপর শ্যামগ্রাম স্কুলে ভর্তি। পড়াশোনা চলে দু বছর―তৃতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। অর্থাৎ এক বছর পিছিয়ে পড়া। জানা যায়, এ সময় পড়াশোনায় খুব একটা মনোযোগ ছিল না।
১৯৪১-৪২ : আবার শহর, নড়াইলে। স্থানীয় হাইস্কুলে ভর্তি পঞ্চম শ্রেণিতে। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত-প্রধান শহরে রাজনীতি-সাহিত্য, সংস্কৃতি-সচেতন সমাজের সান্নিধ্য লাভ। ১৯৪২ সালের আগস্টের ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে উদ্দীপ্ত ছাত্রসমাজের প্রতিবাদী সভা-মিছিলের প্রত্যক্ষদর্শী। কিশোর চেতনায় পড়ে রাজনীতির ছায়াপাত। কিন্তু মুসলমান ছাত্ররা এ আন্দোলনে যোগ দেয়নি। ব্যতিক্রম ছিলেন কিশোর আহমদ রফিক।
পঞ্চম শ্রেণিতে হ্রস্ব-দীর্ঘ ত্রিপদী-চৌপদী পয়ার ছন্দের সঙ্গে পরিচয় বাংলা শিক্ষক গোপালচন্দ্র কবিকুসুম স্যারের চাপে। ছোট নোটবইয়ে বিভিন্ন ছন্দের কবিতার স্তবক লিখে রাখা, মুখস্থ করা ছিল বাধ্যতামূলক, না হলে শাস্তি।
১৯৪৩ : শহুরে সমাজে একাধিক রাজনৈতিক দল সক্রিয়―কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টি ও তার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রভাবে রাজনৈতিক চেতনা গাঢ় হয়। কৌতূহলবশত এক বিকেলে কমিউনিস্ট পার্টি অফিসে গমন। পরিচয় হয় কৃষক নেতা অমল সেন ও বটুক দত্তের সঙ্গে। তাঁরা তখন বিশ্বযুদ্ধকে ‘জনযুদ্ধ’ বিবেচনায় মিত্রশক্তির সমর্থক এবং ভারতে শাসকশ্রেণির সঙ্গে সহযোগিতার নীতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বালক রফিকের রাজনৈতিক আকর্ষণ তখনও দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের প্রতি। তবে পঞ্চাশের মন্বন্তরে জনসেবায় কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা ছিল অসাধারণ।
ক্লাসের সেরা ছাত্র দেবুর সঙ্গে বন্ধুত্ব। দুজনে মিলে গল্পের বই পড়া, সেই সঙ্গে বই কেনা―গোয়েন্দা-অ্যাডভেঞ্চার ও ভ্রমণকাহিনি। লেখার চেষ্টা অব্যাহত।
১৯৪৪ : যশোরে ম্যালেরিয়ায় দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী। বই পড়ায় আসক্ত বড় ভাইয়ের কল্যাণে বাঁধানো মোটাসোটা চেহারার ভারতবর্ষ, বসুমতী ও প্রবাসী পত্রিকা পড়ে সময় কাটে। সেই সঙ্গে মধুসূদন ও বঙ্কিম রচনাবলি পাঠ। আনন্দমঠ-এর সাম্প্রদায়িকতায় মন ক্ষুব্ধ, মধুসূদনের মেঘনাদবধের স্বাদেশিকতার শৌর্যে-বীর্যে মন প্রফুল্ল। তাঁর চতুর্দশপদী কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হন। সাহিত্যপাঠে আরও আগ্রহ বেশি তৈরি হয়।
১৯৪৫ : ক্লাস-পরীক্ষায় প্রথম স্থান। সাহিত্য ও রাজনীতি উভয় দিকে মগ্নতা। দেয়ালপত্রিকায় একটি আবেগপূর্ণ, দেশাত্মবোধক ছোট রচনা প্রকাশ, বলা যায় লেখায় হাতে-খড়ি। বাসায় যুগান্তর ও স্কুলে স্টেট্সম্যান পত্রিকা নিয়মিত পাঠ করেন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ঘটনাবলি জানতে। স্কুল লাইব্রেরি থেকে আনা একটি বই Selected Poems of Shelly and Omar Khaiyam পাঠ চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে ওমরের সংশয়বাদী দর্শন। একই সময়ে ম্যাক্সিম গোর্কির মা পাঠ করেন। নজরুলের অগ্নি-বীণা পড়ে স্বাদেশিকতায় প্রভাবিত হন। বইটি আনতে হয় কলকাতা থেকে VPP-যোগে।
অনুরূপভাবে প্রভাবিত হন সুভাষ বসুর তরুণের স্বপ্ন পড়ে। একই সময় ভগৎ সিং ও তার সহকর্মীরা শীর্ষক পুস্তিকা পাঠ। চেতনায় দুই ধারার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কিন্তু প্রাধান্য পায় ভারতীয় মুক্তিসংগ্রাম। বিশেষ ঘটনা ফরওয়ার্ড ব্লক ছাত্রকংগ্রেস মহকুমা শাখা গঠন এবং তাতে সেক্রেটারি মনোনীত। রথের মেলা থেকে দুই বন্ধু মিলে কেনা গোরা ও নৌকাডুবি পাঠ। এর মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র-উপন্যাসের সঙ্গে প্রথম পরিচয়। এ সময় থেকেই সাহিত্য পাঠ ও রাজনীতি চর্চায় সমান প্রাধান্য দেওয়া শুরু। জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী রাজনীতির প্রতি অধিক আকর্ষণ।
১৯৪৬ : বাংলা সাহিত্যপাঠ শুরু দুই বন্ধু মিলে। এ পর্বে মনোজ বসু, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবোধ সান্যাল, বনফুল, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রমথনাথ বিশীই প্রধান। সেই সঙ্গে পাঠ করেন বিভিন্ন রহস্য-উপন্যাস। বাসা ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে। বাসার পশ্চিম দিকে সংরক্ষিত সুন্দর পুকুর ‘কালিদাস ট্যাংক’-এর উঁচু ঘাস বিছানো পাড়ে বসে বই পড়া, গল্প করাই তখন প্রধান কাজ। বই পড়ার নেশার টানে একটি গোয়েন্দা উপন্যাস লেখেন এবং কলকাতার রোমাঞ্চ প্রকাশনালয়ে পাঠিয়ে দেন।
বছরটি পরস্পরবিরোধী ঘটনায় পরিপূর্ণ।
বছরের মাঝামাঝি বর্ধমান শহরে এবিএসসির প্রাদেশিক সম্মেলনে ডেলিগেট হিসেবে যোগদান। ছাত্রনেতাদের ইংরেজিতে বক্তৃতা ও বিতর্কে বিস্মিত হন। বছর শেষে দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় রেকর্ড পরিমাণ মার্কস পেয়ে প্রথম হওয়ায় বড় ভাইয়ের কাছ থেকে উপহার লাভ―একটি পার্কার গোল্ডক্যাপ কলম ও গোলাম মোস্তফা রচিত বই বিশ্বনবী।
১৯৪৭ : ম্যাট্রিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে শহরতলি মহিষখোলায় সাবেক ইংরেজি শিক্ষক ‘মাস্টারমশাই’য়ের বাড়িতে উঁচু মাটির দাওয়ায় বসে দুই বন্ধু মিলে টেস্ট পেপারস নিয়ে পড়াশোনা। এ সময় পড়ার চেয়ে সাহিত্যালোচনাই বেশি হতো। মাস্টারমশাই একই সঙ্গে শেকসপিয়ার ও রবীন্দ্রভক্ত। এ দুই মহাকবির সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, বিশেষভাবে শেষের কবিতা ও মহুয়া নিয়ে। শেষ পর্যন্ত জুনে পরীক্ষায় বসা। ৮১ শতাংশ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় স্থান অধিকার করেন।
বড় ভাই বদলি হন ঝিনাইদহে। পুরো পরিবারের সঙ্গে ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট চলে যান গ্রামে। পাকিস্তান নিয়ে প্রবল প্রত্যাশা চাষি ও শ্রমজীবী মানুষের। ওদের কথা, ‘আর দুঃখকষ্ট থাকবে না’। কিন্তু দেশভাগ মনে দাগ কেটে যায়। সেপ্টেম্বরে মার্কসশিট আনতে যান নড়াইলে। শহরটা ছিল প্রায় শূন্য। জানতে পারেন, পাকিস্তান-আতঙ্কে পরিচিত সব হিন্দু মধ্যবিত্ত পরিবার শহর ছেড়ে কলকাতায়। হিন্দু বন্ধুরা সব উধাও। শূন্য মহিষখোলার গাছগাছালি ভরা বাড়িগুলো। বিষণ্ন মনে ফেরা।
ঝিনাইদহ থেকে মুন্সীগঞ্জে যান সেজ চাচার বাসায়। ভর্তি হন হরগঙ্গা কলেজে―আইএসসিতে। এ শহরেও বাস্তুত্যাগের লক্ষণ স্পষ্ট। ছাত্রজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত মুন্সীগঞ্জে। চাচাদের বাসস্থান বাড়িটার নাম ‘নির্মলা কুটির’। এটি ছিল বাস্তুত্যাগের আরেক করুণ প্রতীক।
দেশবিভাগ এক উথালপাথাল অবস্থা সৃষ্টি করেছিল, বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তাদের দেশ পরিবর্তনের তাগিদে। রেলে কর্মরত ভগ্নিপতির আসাম ছেড়ে আসা উপলক্ষে তাঁর আমন্ত্রণে আসামযাত্রা―উপভোগের সঙ্গে বিষণ্নতা ভর করেছিল। আসামে তখনও ‘বঙ্গাল খেদা’ আন্দোলন চলছে। সপ্তাহখানেক পর ফিরে আসা।
১৯৪৮-৪৯ : মুন্সীগঞ্জ শহরের সামাজিক-রাজনৈতিক চরিত্র ছিল নড়াইলের মতোই। মার্চের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মিছিলে শরিক। ছাত্র ফেডারেশনের সম্মেলন ফ্যাসিস্ট হুমকিতে পণ্ড। ওখানে উপস্থিতির অপরাধে (?) কলেজের মুসলিম লীগপন্থী চেনা মুখ মাস্তান ছাত্রের হাতে প্রহৃত। কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি অপরাধী ছাত্রের বিরুদ্ধে।
তখনও ভিসাপ্রথা চালু হয়নি। তাই বার দুই-তিনেক কলকাতায় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যান। কলকাতার ‘ছবিঘর’-এ চীন-ভারত মৈত্রী স্মারক ছায়াছবি ‘ডা. কোটনিস কা অমর কাহিনি’ দেখে তাঁর মন বিষণ্ন হয়ে পড়ে।
হরগঙ্গা কলেজ ম্যাগাজিনে সুকান্তবিষয়ক একটি প্রবন্ধ ছাপা উপলক্ষে ইংরেজির অধ্যাপক অরবিন্দ পোদ্দারের সঙ্গে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের চেয়েও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাঁর সঙ্গে প্রায়ই বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে জাহাজঘাট পর্যন্ত হেঁটে বেড়ানো ও সাহিত্যালোচনা। তিনি ভিন্নধারার মার্কসবাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন (আরএসপিআই)।
চাচাতো ভাই ‘সেলিমদা’র প্রেরণায় মার্কসবাদী সাহিত্যপাঠ―যেমন ওয়েব দম্পতির লেখা ‘সোভিয়েট কমিউনিজম’। পরিচয়, অগ্রণী পত্রিকাসহ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য পাঠে নিমগ্ন। চাচির গ্রামোফোনে গান শোনার সুবাদে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি আসক্তি। দেড় বছর শেষে টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার, বন্ধু এসএন রায় হয় দ্বিতীয়, বার্ষিক পরীক্ষায় ওর অবস্থান ছিল প্রথম। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফেরা। ধলেশ্বরী তীর তাঁকে দুটো উপহার দিয়েছিল : রবীন্দ্রসংগীত ও মার্কসবাদী দর্শনের রাজনৈতিক মতাদর্শ।
১৯৪৯-৫০ : ঝিনাইদহে অবসর-আলস্যে সময় কেটেছে বই পড়ে আর স্থানীয় চিকিৎসক বন্ধু সাঈদের সঙ্গে গল্প করে। তাঁর মার্কসবাদী বিশ্বাসের পেছনে ছিল সোভিয়েত মধ্য এশিয়ার অসামান্য সর্বমাত্রিক উন্নয়ন। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ থেকে পরীক্ষার ভালো ফল অর্জনের খবর জানিয়ে সেলিমদার তারবার্তা। এই পরীক্ষার ফলাফলেও তিনি প্রথম বিভাগসহ মেধাতালিকায় স্থান অধিকার করেন। কলেজ থেকে মার্কশিট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির আবেদনপত্র জমা। অভিভাবকের সিদ্ধান্তে মেডিকেল কলেজে ভর্তি। ছুটিছাঁটায় মুন্সীগঞ্জে যাওয়া-আসা অব্যাহত।
আর সেই সুবাদে মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে ‘পঞ্চাশী’ দাঙ্গার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অর্জন―ট্রেনের কামরায় থেকে থেকে বিহারিদের ধারালো অস্ত্র হাতে ‘শিকার’ খোঁজা, রেললাইনের দুই পাশে অসহায় মানুষের লাশ। হোস্টেলে ফিরে কাটে নির্ঘুম রাত।
পঞ্চাশের বড় একটি ঘটনা, মূলনীতি কমিটিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মিছিলে, সভায় উপস্থিতি। বার লাইব্রেরির সভায় ফজলুল হক সাহেবের আত্মপক্ষ সমর্থনে সরস, চৌকস বক্তৃতা শুনে রাজনীতিকদের চাতুর্যের প্রমাণ পেয়ে যান। এই প্রথম হক সাহেবের বক্তৃতা শোনেন।
মেডিকেল কলেজের প্রথম ম্যাগাজিনে (১৯৫০) ছাপা হয় একটি কবিতা (সংকেত)। ম্যাগাজিনটি নিষিদ্ধ হয় এর প্রগতিশীল চরিত্রের কারণে।
১৯৫১-৫২ : রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধির কারণে পাঠ্যবইয়ের থেকে দূরত্ব তৈরি। একুশের আন্দোলন তাতে যেন জ্বালানি যোগ করে। একুশের আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সর্বাত্মক সংশ্লিষ্টতা―প্রতিটি সভা ও মিছিলে উপস্থিতি। ৩১ জানুয়ারি বার লাইব্রেরির কর্মিসভায় প্রথম শোনেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ভাসানীর বক্তৃতা। গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ। কাছ থেকে দেখেন ২১-এ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পুলিশের গুলিবর্ষণে হতাহতের ঘটনা। সেদিন শহিদ হন রফিক-জব্বার-বরকতসহ অন্তত আরও দুজন। সালাম মৃত্যুবরণ করেন পরে, হাসপাতালে। এর ধারাবাহিকতায় ২২ ফেব্রুয়ারির গুলিবর্ষণ উপেক্ষা করে ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের যৌথ শ্রমে হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। শহীদুল্লা কায়সারের মাধ্যমে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক (প্রার্থী সদস্য) তৈরি। দ্বিতীয় কলেজ ম্যাগাজিনেও কবিতা প্রকাশ। এ সময় নিয়মিত কবিতা ও প্রবন্ধ লেখা শুরু। আগস্টে কুমিল্লা শহরে সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্মেলনে যোগদান। এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ভাষা-কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে কর্মতৎপরতা ও সম্মেলনে যোগদান। এখানে রাজনীতিকদের ছিল প্রাধান্য। কেননা, ছাত্র-যুব নেতারা তখন জেলে। আতাউর রহমান খান সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।
১৯৫৩-৫৪ : প্রথম শহিদ দিবসের প্রভাতফেরি, দুপুরে মিছিল ও বিকেলে আরমানিটোলা ময়দানের জনসভায় যোগদান। একুশে নিয়ে একটি কবিতা লেখেন। কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ। পার্টির প্রকাশ্য অফিস ও বাবুবাজারের কমিউনে যাতায়াত উপলক্ষে নূরুন্নবী, আমিনুল ইসলাম বাদশা প্রমুখ এবং বয়োজ্যেষ্ঠ সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্তদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজবন্দি ইলা মিত্র ও অন্যদের দেখভাল করার দায়িত্বপালন। রমেন মিত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও রায়পুরা তাঁত অঞ্চলে রাজনৈতিক আলোচনা উপলক্ষে দুদিনের অভিজ্ঞতা। ১৯৫৪ সালের শহিদ দিবসও ছিল একই রকম।
শহিদ কডওয়েল ও রাল্ফ ফক্সের রচনাসহ বিশ্বের প্রগতি সাহিত্যপাঠ করেন, নিউমার্কেট থেকে পেপারব্যাক বই কেনেন। রমা রলার জাঁ ক্রিস্তফ ও বিজ্ঞানী হ্যালডেন, বার্নালদের গ্রন্থপাঠ করেন। সেই সঙ্গে পাঠ করেন বিশ্বসাহিত্যের কাব্য ও উপন্যাস, বিশেষ করে বার্নাড শ, লোরকা, নেরুদা। রাজনীতি ও সাহিত্য গ্রাস করে মেধাবী মেডিকেল ছাত্র রফিককে। বন্ধু আলিম চৌধুরীর যাত্রিক পত্রিকায় নিয়মিত কবিতা লেখেন (সুকান্ত, স্তালিন)। কলেজ ম্যাগাজিনে তো বটেই। জহির রায়হানের সঙ্গে প্রবাহ পত্রিকা প্রকাশ নিয়ে আলোচনা। হাসান হাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ সুলতানের সঙ্গে আড্ডা পুঁথিপত্র প্রকাশনীর বেড়ার ঘরে। কার্জন হলে সাহিত্য সম্মেলনে যোগদান।
মেডিকেল কলেজে পার্টির ছাত্র গ্রুপ গঠন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ। জেলফেরত ছাত্রনেতা দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী ও মেডিকেল ছাত্র আবদুল হাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল এবং ৯২-ক ধারা জারি করে সরকার। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের পরিণাম হিসেবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি। গ্রেপ্তার এড়াতে সে রাতে হোস্টেল ত্যাগ।
১৯৫৪-৫৫ : শুরু হয় নিজ ব্যবস্থায় আত্মগোপনে থাকার কষ্টকর জীবন। ঢাকা, আরিখোলা, ফেনী, চৌমুহনী, মালিবাগ, খিলগাঁওয়ে দীর্ঘ দেড় বছর কাটিয়ে অবশেষে প্রকাশ্যে আসা। তবে সতর্ক জীবনযাপন শুরু নতুন পল্টন লাইনে। অর্থ উপার্জনে বিচিত্র কর্মতৎপরতা। তবে বই লেখাই প্রধান অবলম্বন ছিল অর্থ উপার্জনের।
১৯৫৬-৫৮ : দীর্ঘ চেষ্টার পর মেডিকেল কলেজে ভর্তি, নতুন ছাত্রদের সঙ্গে পরিচয়, কলেজে ছাত্ররাজনীতি, সাহিত্যচর্চা অব্যাহত। কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশ কলেজ ম্যাগাজিনসহ অন্যত্র। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ছাত্রজীবন চলাকালেই মেডিকেল ছাত্রী সৈয়দা রুহুল হাসিনের সঙ্গে সংসারজীবন শুরু (১৯৫৬)। ১৯৫৭ সালের জানুয়ারিতে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন। এর আগে থেকেই জীবিকার টানে নানা তৎপরতা―গোয়েন্দা গল্পের বই, নোটবই লেখা, ছাত্রী পড়ানো, মিল্লাত পত্রিকায় সাময়িক সাব-এডিটরের চাকরি, মাঝেমধ্যে মেডিকেল প্র্যাকটিস।
প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগ্রন্থ শিল্প সংস্কৃতি জীবন প্রকাশ কোহিনূর লাইব্রেরি থেকে (১৯৫৮)। এ বছরেই নানা কারণে পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, কিন্তু মাকর্সবাদী দর্শনের আদর্শে বিশ্বাস অক্ষুণ্ন। মাঝেমধ্যে বিউটি বোর্ডিংয়ে বন্ধুদের আড্ডায়। গান শোনার ভুবনে সলিল চৌধুরীর প্রাধান্য। নতুন পল্টন লাইন থেকে কমলাপুরে। ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে যোগদান। ন্যাপ কর্মিসভা উপলক্ষে রূপমহলে উপস্থিতি।
১৯৫৯-৬০ : কমলাপুর ঢাকাই মহল্লা, প্রাকৃতিক পরিবেশ আকর্ষণীয়। এখানে নতুন করে ইমদাদ হোসেন-দেবদাস চক্রবর্তী-নিতুন কুণ্ডুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। জীবিকার প্রয়োজনে সাময়িক মেডিকেল প্র্যাকটিস। মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ঘনিষ্ঠজনদের পরামর্শে ও সহযোগিতায় (ডা. টি আলী ও ডা. নন্দী) বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানি অ্যালবার্ট ডেভিডে যোগদান (মে ১৯৬০)। দীর্ঘ সময় কাটে এ পেশায়। পরিবারের সঙ্গে ছিন্ন সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত।
১৯৬১-৬২ : ঢাকাই মহল্লা কমলাপুরে নতুন অভিজ্ঞতা ঢাকাইয়াদের সততা ও সারল্যে। হঠাৎ করে ছোটগল্প লেখা শুরু। লেখক সংঘ পত্রিকা থেকে গাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ আসেন লেখার জন্য, তাঁর সঙ্গে পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা। ছাত্রজীবনের স্বপ্ন সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ সম্পর্কে তাঁর সঙ্গে আলোচনা। দুজন মিলে অনেক শ্রমে ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্র নাগরিক প্রকাশ (১৯৬২)। অফিসের কাজে এই প্রথম করাচি সফর, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন পশ্চিম পাকিস্তান সম্পর্কে।
১৯৬৩-৬৪ : গাছগাছালি ভরা আরামবাগে পরিচয় স্থানীয় দুই বিশিষ্টজন বাংলার অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমদ ও ব্যাংকার বোরহানউদ্দীন ভূঁইয়ার সঙ্গে। আর কমলাপুরের বাসিন্দা সাহিত্যানুরাগী সরকারি কর্মকর্তা জিয়াউল হকের সঙ্গে। তাঁর সাহিত্যসভায় উপস্থিতি; উপস্থিত থাকতেন মহিউদ্দিন সাহেবের পূর্ণিমা বাসরে।
আবার পশ্চিম পাকিস্তান সফর। এবার লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, অ্যাবোটাবাদ-মানসেরা। ওদের পক্ষ থেকে উপহার তিনটি বিশালায়তন বই―অ্যাডগার অ্যালেন পো সমগ্র, লা মিজারেবল ও থ্রি ইউরোপিয়ান প্লেজ। উপভোগ্য বই। বোরহানের সহায়তায় নিবন্ধিত নাগরিক-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশ জানুয়ারি, ১৯৬৪ খ্রি.। দ্বিতীয় স্বপ্নপূরণ বাঙালির জাতীয় শিল্পোদ্যোগের প্রকাশ হিসেবে ৬ বিত্তবান বন্ধুকে নিয়ে ৭ জন মিলে (সপ্তর্ষি) ‘ওরিয়ন ল্যাব’ নামের ওষুধ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা (১৯৬৪)।
১৯৬৪ সালের জানুয়ারির দাঙ্গার বিরুদ্ধে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তৎপরতা। রূপসী যেতে না পেরে রায়েরবাজারে কুমোরপাড়ায়। কিন্তু বাস্তুত্যাগ ঠেকানো যায়নি। দাঙ্গাবিরোধী একটি কবিতা রচনা। মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মুখপত্র ইস্ট পাকিস্তান মেডিকেল জার্নাল সম্পাদনা শুরু। গ্রামবাংলার প্রাকৃত সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা লেখা শুরু (বাউল মাটিতে মন)। সংবাদপত্রে দাঙ্গাবিরোধী স্লোগান ছাপা হতে থাকে : ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’।
১৯৬৪-৬৮ : এক আত্মীয়ের জবরদস্তিতে আরামবাগ থেকে গোপীবাগে (৪৬/১ আর কে মিশন রোড) বাসা বদল। স্ত্রীর দুই ধারায় ডাক্তারি পাস করে মিটফোর্ড হাসপাতালে চাকরিতে যোগদান। বাফায় তাঁর বেহালা বাদন শিক্ষা। নাগরিক-এ লেখা উপলক্ষে শওকত ওসমান, আহসান হাবীব, শামসুর রাহমানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। এ ছাড়া শওকত আলী, আবুবকর সিদ্দিক, আহমদ মীর, হাবীবুর রহমান প্রমুখ কবি-লেখকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। নাগরিক-এ ছাপা হয় হাসান আজিজুল হকের (দৌলতপুর) প্রথম গল্প।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি ছোটগল্প সংকলন অনেক রঙের আকাশ ও প্রথম কাব্যগ্রন্থ নির্বাসিত নায়ক প্রকাশ। একাধিক বিজ্ঞান গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ। নিজস্ব মেডিকেল পত্রিকা দ্য মেডিকেল ডাইজেস্ট (ইংরেজি ভাষায়) এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান পারিভাষা প্রণয়ন উপলক্ষে পরিভাষা সংকলন এবং বাংলা একাডেমি থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞান পরিভাষা কোষ প্রকাশ। নাগরিক-এ সহকারী প্রথমে শাহাবুদ্দিন, পরে স্বল্পকালে বুলবন ওসমান। বামপন্থি সাংবাদিক হাসানুজ্জামানের সঙ্গে সৌহার্দ্য। আর গোপীবাগে পরিচয় মীর্জা গোলাম হাফিজের সঙ্গে (ভাসানী ন্যাপ)। দলীয় রাজনীতিতে বিযুক্ত হয়েও রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক নানা উপলক্ষে। বিশেষ করে লেখালেখির সুবাদে।
১৯৬৯-৭১ : বছরের শুরুতে কঠিন অসুস্থতা (যদিও সাময়িক, ‘ভার্টিগো’)। আসাদ হত্যার খবর শোনেন অসুস্থতাকালে, বিছানায় শুয়ে। তাৎক্ষণিক আবেগে লেখেন কবিতা ‘আমরা আসছি’। মধ্যরাতে স্লোগান ও গুলির আওয়াজ শুনেও কবিতা লেখেন। বন্ধুদের স্বার্থপরতায় ওরিয়ন পরিচালনায় বিপর্যয়।
আদিবঙ্গীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহে ভাঙাচোরা সোনারগাঁও পরিদর্শন ও ছবি তোলা। একই বিষয়ে ইতিহাস ও নৃতত্ত্বপাঠ (নীহাররঞ্জন ও কোসাম্বি থেকে একাধিক ইংরেজ লেখক)। নিজগ্রামে পুরোনো ভাটের বাড়ি থেকে চ্যাপ্টা, ছোট, শক্ত পাতলা ইটের নমুনা সংগ্রহ। মাথায় গ্রামোন্নয়নের ভূত। কিছু কর্মকাণ্ড (গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থা নিবন্ধন)। নাগরিক শেষ পর্বে সহকারী সৈয়দ আবুল মকসুদ―তাঁর অনুরোধে তাঁকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় আনেন। ইতোমধ্যে চারজন মিলে ছোট ছাপাখানা চালানোয় ব্যর্থ হন, অন্যদের উদাসীনতায়। আর্থিক ক্ষতির শিকার। ‘শিকড়ের খোঁজে দূর অতীতে’ শীর্ষক একাধিক প্রবন্ধ রচনা। বঙ্গীয় অতীত অন্বেষায় নিমগ্ন।
অ্যালবার্ট ডেভিডের সঙ্গে বিখ্যাত মার্কিন ওষুধ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাবোট’-এর যৌথ প্রচেষ্টা (জয়েন্ট ভেঞ্চার)। তাঁর তৈরি তথ্য ও কারিগরি প্রচারপত্রগুলোর মূল্যায়নে মার্কিন কোম্পানির প্রশংসাসূচক চিঠি। স্ত্রীর প্রবল ইচ্ছা, এ সুযোগে মূল প্রতিষ্ঠানে কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে, কিন্তু আহমদ রফিকের ঠিক ততটাই অনাসক্তি মার্কিন মুলুকে কর্ম গ্রহণে। তাঁর ইচ্ছা, এর পরিবর্তে ওরিয়নকে প্রতিষ্ঠিত করাই সঠিক কাজ।
১৯৭১-৭৪ : ১৮ মার্চ একাত্তরে গোপীবাগ থেকে সিদ্ধেশ্বরী, কাকলি নিকেতনে বাসা স্থানান্তর। পঁচিশে মার্চের মধ্যরাত থেকে সূচিত বর্বর গণহত্যাকাণ্ডের শাব্দিক ভয়াবহতার অভিজ্ঞতা। নির্ঘুম রাত কাটে তাঁর। ২৭ মার্চ সকালে রাস্তায় আতঙ্কিত মানুষের ঢাকা ত্যাগের কাফেলা। শাঁখারিবাজারের সমরেশদের খবর নিতে গিয়ে পথে পথে ধ্বংসস্তূপ দেখার অভিজ্ঞতা। চেতনায় তীব্র পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব তৈরি।
একাত্তরের দিনগুলো-রাতগুলো কাটে শঙ্কায় ও প্রত্যাশায়। রায়েরবাজারে মাসহ বড় ভাইয়ের পরিবারের অবস্থান। এলিফ্যান্ট রোডে বড় বোনের পরিবার। সবারই খবর রাখতে হয়। সময় কাটে বিবিসি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ও ভারতীয় বেতারের খবর শুনে শুনে। মাঝেমধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থসাহায্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে থাকেন। এর ফাঁকে সময় কাটে বই পড়ে এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কবিতা লিখে (‘রক্তের নিসর্গে স্বদেশ’ প্রভৃতি)। এক বিকেলে আমিনুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী) আসেন কয়েকটা বোমা রাখার প্রস্তাব নিয়ে। পরে আর আসেননি। বোধহয় ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছিল।
অবরুদ্ধ ঢাকায় ভালোমন্দ ঘটনাবলির অভিজ্ঞতা শেষে ১৬ ডিসেম্বরে বিজয়বার্তা, রেসকোর্স ময়দানে। তাঁর দুদিন আগে সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে ডাক্তার ফজলে রাব্বীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর জানান কাকলি নিকেতনের গৃহকর্ত্রী। আরও শোকাবহ সংবাদ পান, স্নেহভাজন আত্মীয় সাংবাদিক মোস্তফাকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিজয় অর্জনের পরদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আনন্দ মিছিলে যোগদান, স্ত্রীর হাতে ৯ মাস লুকিয়ে রাখা সোনালি মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের পতাকা। প্রত্যক্ষ করেন, রাতারাতি অনেকেই স্বাধীনতার সমর্থক বনে গেছে। ১৯৭২-এ মিনি সাহিত্য মাসিকপত্র সুজনেষু প্রকাশ। অশোক ভট্টাচার্য, অসীম রায় ও বিষ্ণু দেকে বাসায় আপ্যায়ন। পরবর্তী পর্যায়ে আখতার জাহান সম্পাদিত ও প্রকাশিত মূলত আদিবঙ্গীয় সংস্কৃতিবিষয়ক সাপ্তাহিক ‘সোমবার’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়। আর্থিক সহায়তা দান এবং নিয়মিত লেখা শুরু করেন। সেই সূত্রে সুকান্ত একাডেমির আখতার জাহান পরিচালিত অংশের হাল ধরা, বিক্ষুব্ধ শ্রাবণ নামের সুকান্ত-স্মারক সংকলন প্রকাশ, সহযোগী সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
অ্যালবার্ট ডেভিড তখন কেমিক্যাল করপোরেশনের (BCIC) অধীনে। কর্মস্থল শিল্পভবন। বাসা স্থানান্তর করা হয় কাকলি নিকেতন থেকে নয়াপল্টনে। সামাজিক-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা শহর থেকে গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের পর এক মুক্তিযোদ্ধা তরুণ আশ্রয় নেন বাসায়। তাঁর স্টেনগানটা তখনও জমা দেননি। চেহারায় ছিল শান্তশিষ্ট ছাপ। একদিন না বলে উধাও হয়ে যান। অধিগ্রহণ করা কারখানাগুলোতে শ্রমিক নৈরাজ্য ও দুর্নীতি চেপে বসে। আপাতত অ্যালবার্ট ডেভিডের পরিচালনার দায়িত্ব চাপে আহমদ রফিকের কাঁধে। সাবেক সহকর্মীদের ঈর্ষাজনিত চরম অসহযোগিতার শিকার। এক সকালে শেখ মনি এ অফিসে আসেন শ্রমিক ইউনিয়নকে তাঁদের দলভুক্ত করতে। শ্রমিক নেতারা এক কথায় রাজি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিতর্কিত ফলে খন্দকার মোশতাক বিজয়ী। টিভিতে খবর শুনে অবাক হয়ে যান।
১৯৭৫-৮০ : এ সময় রাজনৈতিক-সামাজিক নৈরাজ্য বেড়েই চলছিল। WHO-র ফেলোশিপ পেয়ে স্ত্রী দিল্লিতে। তাঁর যাত্রাসঙ্গী হওয়া সম্ভব হয়নি। হুমায়ুনের যোগাযোগে কর্নেল মঞ্জুর বিমানবন্দর থেকে তাঁকে নিয়ে কয়েক দিন নিজ বাসায় রাখেন। পরে AIIMS-এ ছাত্রী নিবাস সরস্বতীতে ওঠেন।
এক ফাঁকে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লিতে এক সপ্তাহ। মঞ্জুর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক, আলোচনা মূলত স্বদেশি রাজনীতি নিয়ে। স্ত্রীকে নিয়ে আগ্রা দুর্গ ও তাজমহল দর্শন।
এর মধ্যে ১৫ আগস্টের (১৯৭৫) শোকাবহ ঘটনা। পরদিন মেজর ডালিমের ঘোষণা বেতারে। খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি। সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধানের আনুগত্য স্বীকারে, সরকারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণায় বিস্মিত হন। রাতারাতি ভোলবদল―যেমন রাজনীতিকদের, তেমনি আমলাতন্ত্রের। একাত্তর-বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ রক্তের নিসর্গে স্বদেশ প্রকাশিত (১৯৭৯)। এ বছর সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার। শেষ পর্যন্ত গৃহিণীর মতের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়ে, বন্ধুদেরও আপত্তি উপেক্ষা করে বিসিআইসি থেকে ইস্তফা, উদ্দেশ্য ওরিয়ন গড়ে তোলা। তেজগাঁ শিল্প এলাকায় কারখানার অফিসে বসে দেখেন এখানেও সরষের মধ্যে ভূত! ইতোমধ্যে পারিবারিক বিপর্যয়―বড়দা ও মায়ের মৃত্যু সাতদিনের ব্যবধানে (১৯৭৯)। চিকিৎসকের গাফিলতি, বড়দার ক্ষেত্রে, অতীব-চেনা অধ্যাপক চিকিৎসকের। ১৯৭৭-এ রবীন্দ্রবিষয়ক প্রথম গ্রন্থ আরেক কালান্তরে প্রকাশ বাংলা একাডেমি থেকে, শামসুজ্জামান খানের বিশেষ আগ্রহে।
১৯৮১-৮৯ : শুরুতে ছিল রক্ষীবাহিনী বনাম সামরিক বাহিনীর দ্বন্দ্ব, এখন খোদ সামরিক বাহিনীতে ষড়যন্ত্র ও অন্তর্কলহ―উচ্চাকাক্সক্ষী সেক্টর কমান্ডারগণ। তাহের হত্যা, খালেদ হত্যা। এবার রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যা চট্টগ্রামে, আর সেই সুবাদে মঞ্জুর হত্যা (১৯৮১)। কোনওটিরই বিচার হয়নি ভেবে অবাক হন।
ওরিয়ন গড়ে তোলার আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে এক তরুণ ব্যবসায়ীকে এর সঙ্গে যুক্ত করা, ক্রমে এর নানা শাখার বিস্তার। এদিকে নিউ বেইলি রোডে অনুসন্ধানী পরীক্ষার বায়োপ্যাথ ল্যাব বছর কয়েক পর বন্ধ করে দিতে হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অসহযোগিতার কারণে। মাইক্রোবায়োলজিতে গৃহিণীর এমএসসি ডিগ্রি লাভ।
শোষক বহুজাতিক বিদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে গিয়ে একদিকে এ বিষয়ে লেখালেখি, অন্যদিকে দেশিয় ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা, সেই সুবাদে জাতীয় ওষুধনীতির পক্ষে ব্যাপক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা। অনেক বাধা ও প্রতিকূলতার মুখেও ওষুধনীতি প্রণীত হয়। জনবান্ধব এ নীতির প্রতি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যমহলের স্বীকৃতি ও প্রশংসা লাভ।
এ ছাড়া মাতৃভাষায় চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষাদান নিয়ে লেখালেখি, বাংলা একাডেমি থেকে মেডিসিন ও অ্যানাটমির টেক্সট বই দুটোর বাংলা অনুবাদ প্রকাশে প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। কিন্তু অধ্যাপক-চিকিৎসকদের বিরোধিতায় মাতৃভাষায় চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষার পরিকল্পনা পণ্ড। বাংলা একাডেমি ক্ষতিগ্রস্ত পূর্বোক্ত বই প্রকাশ করে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চার জন্য সংগঠন তৈরি করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁদের আগ্রহের অভাবে বিস্মিত হন। পরে একক চেষ্টায় রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র ট্রাস্ট নিবন্ধন (১৯৮৯) করান। একই বছরে পতিসর কুঠিবাড়ি পরিদর্শন। ওটা তখন সরকারি তহসিল অফিস। এ সময় বামপন্থি ছাত্রবন্ধু আফসার সিদ্দিকী তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেন।
১৯৯০-২০০০ : এ দশকের কর্মব্যস্ততা দুই শিল্প ঘিরে―ওষুধশিল্প ওরিয়ন গ্রুপ এবং রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র পরিচালনা। দুটোতেই চেয়ারম্যান পদে। কিন্তু প্রথমটির বাস্তব নিয়ন্ত্রণ অর্থ সরবরাহকারী এমডির হাতে। তাই প্রতিষ্ঠানটির নৈতিক বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি। দ্বিতীয়টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর হাতে। তবে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন কবি আবুল হোসেন। এ দুই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে বহুবার ভারত ও কলকাতা সফর। ওরিয়নের চাহিদা মেটাতে কলকাতা, বোম্বাই ও আহমেদাবাদ সফর। পাশাপাশি রবীন্দ্রচর্চা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদির কারণে বহুবার কলকাতা যাত্রা। এ সময়পর্বে ঢাকা ও কলকাতায় অন্তত ৪টি করে রবীন্দ্র সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং তাতে অংশগ্রহণ, একাধিক সেমিনারে ও সম্মেলনে যোগদান। এসব উপলক্ষে অশোক মিত্র, হীরেন মুখার্জি, সুনীতি ঘোষ, শান্তিময় রায়, অম্লান দত্ত, সরোজ আচার্য প্রমুখ খ্যাতনামা ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। একাধিকবার দেখা হয় ইলা মিত্র, রমেন মিত্রের সঙ্গে। পথসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রণব রায় ও প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়। একগুচ্ছ কবি-লেখকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। এ পর্বে কলকাতা থেকে তিনটি বই প্রকাশ।
অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৯৪-তে উল্টোডাঙ্গায় সম্প্রদায়-সম্প্রীতি সম্মেলনে জনা ২০ সদস্য নিয়ে অংশগ্রহণ ও প্রবন্ধপাঠ। এর বিপরীতে ১৯৯৬ সালে ঢাকায় পি-পি ২১ এবং রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে কচিকাঁচা মিলনায়তনে সম্প্রীতি সম্মেলন। সব দল আমন্ত্রিত। কলকাতার বিশাল দলটির অধিনায়ক বিপ্লব হালিম। সমবায়মন্ত্রী ভক্তিভূষণ মণ্ডল, ড. ফুলরেণু গুহ প্রমুখ বিশিষ্টজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কলকাতায় দ্বারভাঙ্গা হলে সম্প্রীতি সভায় ভাষণ প্রদান। প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায় গান করেন। ভারত সভা কর্তৃক সম্মাননা, প্রধান অতিথি ছিলেন প্রফেসর অম্লান দত্ত।
১৯৯৫ সালে টোকিওতে আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময় সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যোগদান; সঙ্গী ছিলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। আমন্ত্রক বাংলাপ্রেমী সজ্জন প্রফেসর কাজুও আজুমা। ইউকোহামাসহ রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। কাজুমা সানের বাড়িতে ছিলেন দুই দিন।
১৯৯৬-তে কলকাতায় বঙ্গভাষা-সংস্কৃতি প্রসার সমিতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে হীরেন মুখার্জি, সুচিত্রা মিত্র প্রমুখের সঙ্গে গুণীজন হিসেবে সংবর্ধিত হন। পশ্চিমবঙ্গের সমবায়মন্ত্রী ভক্তিবাবুর সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী জি-সেভেনবিরোধী সংগঠন গড়ার চেষ্টা, এর জন্য প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠানো, কিন্তু মূল কর্মীদের উদাসীনতায় প্রচেষ্টার অঙ্কুরেই মৃত্যু। একই পরিণতি ড. ফুলরেণু গুহ প্রস্তাবিত স্থায়ী সম্প্রীতি সংস্থা গঠনের। অশোক মুখার্জি ও বিপ্লব হালিম প্রস্তাবিত দুই বাংলা মিলে সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের আলোচনা বাস্তবায়িত হয়নি অশোকবাবুর হঠাৎ মৃত্যুর কারণে।
১৯৯৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাচিন্তা বিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণ ও প্রবন্ধ পাঠ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দুমতি সভাগৃহে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রবিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ।
ঢাকায় দুটো অনুষ্ঠান ভালোভাবেই হয়েছিল (১৯৯৩)। প্রথমটি জার্মান কালচারাল সেন্টার ও রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে সেমিনার ‘নতুন শতাব্দীতে রবীন্দ্রনাথ’। মূল বক্তা কবীর চৌধুরী। দ্বিতীয়টি গ্যেটে ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে তাদের মিলনায়তনে। বিষয় ‘সংযুক্ত জার্মানিতে রবীন্দ্র প্রাসঙ্গিকতা’। বক্তা জার্মান রবীন্দ্রগবেষক মার্টিন কেম্পচেন।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৯০-৯৫ পর্যন্ত একাধিকবার দুর্গম পতিসরে গিয়ে কুঠিবাড়ি উদ্ধার এবং এটিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক অধিগ্রহণের ব্যবস্থা (১৯৯৪) করা। এতে সক্রিয় সহযোগী আলমগীর কবির। একইভাবে দুর্গম পতিসর যাত্রা সুগম করতে রাস্তাঘাট নির্মাণে সংশ্লিষ্ট বিভাগে দীর্ঘদিন ধরনা দেওয়া―পরিণামে একাধিক সড়ক নির্মাণ (১৯০৫-১৯০৮) নওগাঁ ও আত্রাই থেকে পতিসর অবধি। এসব অভিজ্ঞতার ফসল রবীন্দ্র ভুবনে পতিসর গ্রন্থটি।
একই সঙ্গে সাহিত্যকর্ম মূলত প্রবন্ধ গ্রন্থ রবীন্দ্রসাহিত্যের নায়িকারা, রবীন্দ্রনাথের চিত্রশিল্প, জাতিসত্তার আত্মঅন্বেষা ইত্যাদি এবং একাধিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ। ১৯৯৫-তে সাহিত্যকর্মের জন্য একুশে পদক এবং রবীন্দ্র গবেষণার কারণে কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য উপাধি লাভ। মধ্যবর্তী সময়ে শিশু একাডেমিসহ একাধিক সংগঠন কর্তৃক সাহিত্য পুরস্কার এবং বহুসংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মাননা পদক প্রাপ্তি।
এরই মধ্যে রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে ও ব্যক্তিগত অর্থানুকূল্যে শিলাইদহ-শাহজাদপুর-পতিসর নিয়ে তথ্যচিত্র ‘রবিতীর্থ’ তৈরি যা এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়। গণসংগীতের সংগঠন ক্রান্তির পুনরুজ্জীবন গায়ক মোহনের আগ্রহে। রাজনীতিক্ষেত্রে আবদুল মতিনকে সঙ্গে নিয়ে বাম সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রচেষ্টা, একটি সংগঠনও গঠিত, নেতৃত্বের দুর্বলতায় লক্ষ্যভ্রষ্ট। ঐক্য প্রক্রিয়াকেও সক্রিয় করা যায়নি চেষ্টা সত্ত্বেও।
মূলত প্যারিস থেকে আগত রাজনীতিক ফ্রাঁসোয়া ফর্গুসহ শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় গণশ্রমিক সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনের মূল অধিবেশনে সভাপতিত্ব (১৯৯৮) করেন এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক আলোচনাসভায় অংশগ্রহণ, শ্রমিক কৃষক সংগঠনের (চতুর্থ আন্তর্জাতিক ধারার) সঙ্গে মতভেদ, মার্কসবাদী-লেনিনবাদী চিন্তাকে প্রাধান্য দেন। এসব প্রচেষ্টার সুফল মেলেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বার্থপরতা বা সুবিধাবাদের প্রবণতা ছিল প্রধান। তাই সরে আসেন। তবু দু-একটি বাম সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সশ্লিষ্টতা রয়েছে।
২০০১-১৮ : রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতার কারণে সেসব বৃত্ত থেকে সরে এসে সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চায় অধিকতর মনোনিবেশ। একুশে ও রবীন্দ্রচর্চায় অধিক মগ্নতার কারণে অধিকসংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিষয়ক রচনা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক রচনা, ব্যক্তিপর্যায়ে স্মৃতিচারণমূলক রচনা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সময়, শ্রম ও মনোযোগ বাড়ান।
এ সময়ের শ্রমসাপেক্ষ রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুহীন বিপ্লবী চে গুয়েভারা (২০১১), দেশবিভাগ: ফিরে দেখা (২০১৪), একুশের দিনলিপি (২০১৬), বাঙালির স্বাধীনতাযুদ্ধ (২০১২), রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি ও নোবেল পুরস্কার (২০১৫), জীবনানন্দ: কবি প্রেমিক ও গৃহী (২০১৮) ইত্যাদি।
২০০৫ সালে কলকাতায় বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের স্মারক স্থাপত্য ফেডারেশন হলের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত। সোসাইটির স্থায়ী সচিব বিমল রায়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব। সেখানে বক্তৃতা ও আবদুল হালিম গজনভির প্রতিকৃতি উপহার।
রাজনৈতিক অনুষ্ঠানাদি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা সত্ত্বেও কিছু কিছু সংগঠন ও অনুষ্ঠান চাইলেও বর্জন করতে পারেননি। বিশেষ করে বাম রাজনীতির। ইতিপূর্বে ১৯৮৩-তে একুশে চেতনা পরিষদ গঠন এবং ১৯৮৬-তে সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভাষা সম্মেলনে অংশগ্রহণ। এরপর বিলুপ্ত চেতনা পরিষদকে অনেক চেষ্টায় পুনরুজ্জীবিত করা (২০১০)। এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আজ অবধি। যদিও আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। কামাল লোহানী এ সংগঠনের সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক বছর ধরে একুশের সম্মেলন আরম্ভ। শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি পদের দায়িত্ব পালন করছেন। তেমনি অন্য একটি নির্জীব সংস্কৃতি সংগঠনের সভাপতি হন এম আর মাহবুবের অনুরোধে।
দেড় দশক ধরে সাহিত্যকর্মেই দায় পালন। মূলত সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভাবিত পরিণতি এবং এর সামাজিক রাজনৈতিক সমস্যা ও নৈরাজ্যের কারণে সংবাদপত্রে নিজ মতামত প্রকাশে ‘কলাম’ লেখার অভ্যাস চালিয়ে যেতে হচ্ছে এখনও। এ ছাড়া অনুরোধ এবং চাপের কারণেও এসব করতে হয়। সত্তর ও আশির দশকে শুরু করেছিলেন স্বাস্থ্যবিষয়ক কলাম লেখা―সে সুবাদে স্বাস্থ্যবিষয়ক গোটা চারেক বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর যথেষ্ট কাটতি রয়েছে।
বর্তমানে অন্য সবকিছু ছেড়ে শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতি এবং রাজনীতিবিষয়ক লেখাতেই সক্রিয়। দীর্ঘ সময়ের লেখক বলেই বোধহয় এ সময়পর্বে সরকারি-বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠন থেকে সম্মাননা প্রাপ্তিও ঘটছে। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৯), একুশে পদক (১৯৯৫), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৫), রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য উপাধি (টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট), কলকাতা, (১৯৯৭) ইত্যাদি।
এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (২০১১), ‘বেস্টওয়ে একুশে পুরস্কার’ (২০১১), লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার (২০১২), প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থ পুরস্কার (২০১৩), ব্র্যাক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ও খামখেয়ালি সভার গুণীজন সংবর্ধনা (২০১৬), বাংলা একাডেমির বরকতউল্লাহ প্রবন্ধ সাহিত্য পুরস্কার (২০১৭)।
ইতোমধ্যে স্ত্রীর মৃত্যু ২০০৬ সালে। হাতে অফুরান সময়। মোট প্রকাশিত বই ১৩৮টি। অসুস্থতার মধ্যেই ২০১৭-তে বলশেভিক বিপ্লবের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে যুগ্ম আহ্বায়কের যথাসাধ্য দায়িত্ব পালন করেন। বয়সের ভারে অনুষ্ঠানাদি বর্জন করলেও সময় কাটে পড়ায় ও লেখায় এবং নিজ বাসায় তরুণদের সঙ্গে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক চিন্তাভাবনার বিনিময়ে।
গ্রন্থপঞ্জি :
১. রবীন্দ্রনাথের রাষ্ট্রচিন্তা ও বাংলাদেশ ২. রবি বাউল তার বিচিত্র ভাবনা, ৩. রবীন্দ্রনাথের চিত্র শিল্প, ৪. পদ্মাপর্বের রবীন্দ্র গল্প, ৫. রবীন্দ্রচর্চা বাংলাদেশ ৬. শিল্প সংস্কৃতি জীবন, ৭. বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৮. রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই, ৯. রক্তের নিসর্গে স্বদেশ, ১০. বিপ্লব ফেরারী তবু, ১১. কবিতাসমগ্র, ১২. বিচ্ছিন্ন পঙক্তিমালা, ১৩. বাউল মাটিতে মন, ১৪. নানা আলোয় রবীন্দ্রনাথ প্রথম খণ্ড, ১৫. নানা আলোয় রবীন্দ্রনাথ দ্বিতীয় খণ্ড, ১৬. দেশ বিভাগ ফিরে দেখা, ১৭. ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ১৮. বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ, ১৯. সংঘাতময়বিশ্ব রাজনীতি, ২০. এ কোন বাংলাদেশি সমাজ, ২১. বুদ্ধিজীবী সংস্কৃতি বনাম জনসংস্কৃতি, ২২. ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি, ২৩. একুশ থেকে একাত্তর, ২৪. বাংলাদেশ জাতীয়তা ও জাতিরাষ্ট্রের সমস্যা, ২৫. স্মৃতি-বিস্মৃতির ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ২৬. চিত্রে ভাস্কর্যে রূপসী মানবী, ২৭. বইপড়া কাগজপড়ার একান্ত ভুবন, ২৮. বিষ্ণু দে : চেতনালোক ও সত্তারূপ, ২৯. ফিট থাকুন দেহে মনে, ৩০. ফিলিস্তিনি- আফগান-রোহিঙ্গা নিপীড়নের নানান রূপ, ৩১. কবিতা আধুনিকতা ও বাংলাদেশের কবিতা, ৩২. রবীন্দ্রনাথ, হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক ও কাব্যে আধুনিকতা, ৩৩. রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য-সংস্কৃতি, ৩৪. কবিতার বিচিত্র ভাষ্য, ৩৫. রাজা আসছেন কুঁড়েঘরে. ৩৬. নির্বাসিত নায়ক, ৩৭. কয়েকজন বাংলাদেশি কবি শিল্পী ও সাহিত্যকর্মী, ৩৮. নির্বাচিত কবিতা, ৩৯. কিছু রাজনৈতিক ভাবনা, ৪০. পাক-ভারত সমাচার ও বিবিধ প্রসঙ্গ, ৪১. সংস্কৃতিকথা যুক্তিবাদ মুক্তচিন্তা, ৪২. একুশের ইতিহাস আমাদের ইতিহাস, ৪৩. ভাষা আন্দোলন ইতিহাস ও তাৎপর্য, ৪৪. ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছু জিজ্ঞাসা, ৪৫. ছোটদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, ৪৬. ভাষা-আন্দোলন : ইতিহাস ও উত্তরপ্রভাব, ৪৭. ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছর, ৪৮. ভাষা আন্দোলন, ৪৯. মুক্তিসংগ্রামের রক্তফলক একুশে ফেব্রুয়ারি, ৫০. রাষ্ট্রভাষার লড়াই, ৫১. ভাষা-আন্দোলন ও নেতাকর্মীদের ভূমিকা, ৫২. ভাষা-আন্দোলন ও ভাষাসংগ্রামীগণ, ৫৩. একুশের মুহূর্তগুলো, ৫৪. ভাষা-আন্দোলন সংক্ষিপ্ত ভাষ্যে, ৫৫. ভাষা-আন্দালনে ইতিহাস বিকৃতি : তমদ্দুন মজলিস ও কমিউনিস্ট পার্টি, ৫৬. একুশের দিনলিপি, ৫৭. একাত্তরে পাকবর্বরতার সংবাদভাষ্য, ৫৮. ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের কথা, আরেক কালান্তরে, ৫৯. পদ্মাপারের সেই গাল্পিক জাদুকর, ৬০. সভ্যতার সংকট, রবীন্দ্রভাবনায় গ্রাম : কৃষি ও কৃষক, ৬১. রবীন্দ্র- সাহিত্যের নায়িকারা দ্রোহে ও সমর্পণে, ৬২. বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ, ৬৩. বাংলাদেশে রবীন্দ্রচর্চার একটি অধ্যায়, ৬৪. রবীন্দ্রনাথ এই বাংলায়, ৬৫. রবীন্দ্রনাথ : দেশপ্রেম, ভালো থাকার শুলুক সন্ধান, ৬৬. রবীন্দ্রভুবনে পতিসর, ৬৭. রবীন্দ্র জীবন, ৬৮. নির্বাচিত রবীন্দ্রনাথ, ৬৯. শিশুদের রবীন্দ্রনাথ জীবন ও সৃষ্টি, ৬৯. কিশোরদের রবীন্দ্রনাথ জীবন ও সৃষ্টি, ৭০. রবীন্দ্রনাথ, ‘গীতাঞ্জলি’ ও নোবেল পুরস্কার, রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র, ৭১. বুদ্ধিজীবীর সংস্কৃতি, ৭২. আদি মানবের সন্ধানে, ৭৩. কেমন আছেন, ৭৪. ওষুধ চিকিৎসা-সেবা বৈষম্যের শিকার সাধারণ মানুষ, ৭৫. এই অস্থির সময়, ৭৬. জাতিসত্তার আত্মঅন্বেষা, ৭৭. বাঙলা বাঙালি আধুনিকতা ও নজরুল, ৭৮. নির্বাচিত কলাম, ৭৯. নির্বাচিত প্রবন্ধ, নজরুল প্রতিভার নানামাত্রা, ৮০. কিশোরদের নজরুল, ৮১. সাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি-ভাবনা, ৮২. নারীপ্রগতির চার অনন্যা, ৮৩. কিছু কথা কিছু স্মৃতি, ৮৪. পথ চলতে যা দেখেছি, ৮৫. একান্তবিচারে বিচিত্রজন, ৮৬. রাজনীতির স্বদেশ-বিদেশ, ৮৭. সংস্কৃতিচর্চা ও অসমাপ্ত লড়াই, ৮৮. বিষ্ণু দে : কবি ও কবিতা, ৮৯. শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ, ৯০. রাজনীতির বিবিধ প্রসঙ্গ, ৯১. স্মরণীয়-বরণীয় আপন বৈশিষ্ট্যে, ৯২. সময়ের দর্পণে সমাজ ও রাজনীতি, ৯৩. জীবনানন্দ কবি প্রেমিক ও গৃহী, ৯৪. ইলা-রমেন কথা প্রাসঙ্গিক রাজনীতি, ৯৫. বাংলাদেশের কবিতা দশকভাঙা বিচার, ৯৬. শ্রেষ্ঠ কবিতা, ৯৭. Selected Poems of Ahmad Rafique, ৯৮. পড়ন্ত রোদ্দুরে, ৯৯. ভালোবাসা ভালো নেই ১০০. ইচ্ছামতীর ঘরে, ১০১. ভাষা ও মুক্তিসংগ্রামের কবিতা, ১০১. অনেক রঙের আকাশ, ১০২. সব পাখি ঘরে ফেরে, ১০৩. চিকিৎসা বিজ্ঞান পরিভাষা, ১০৪. জীবন-রহস্য (The coil of life), ১০৫. বিজ্ঞানের জয়যাত্রা (The triumph of Science), ১০৬. নাগরিক, ১০৭. সুজনেষু, ১০৮. রবীন্দ্রচর্চা, ১০৯. বিক্ষুব্ধ শ্রাবণ, ১১০. সোমবার, ১১১. East Pakistan Medical Journal, ১১২. ডেভিডসনের চিকিৎসাবিজ্ঞান: মূলসূত্র ও প্রয়োগ ২য় খণ্ড, ১১৩. আহসান হাবীব রচনাবলী দ্বিতীয় খণ্ড, ১১৪. ভাষা আন্দোলন ও নেতা কর্মীদের ভূমিকা, ১১৫. স্বাধীনতার লড়াই, ১১৬. দুই মৃত্যুর মাঝে নান্দনিক একাকিত্বে, ১১৭. আপন পরিচয়ে দীপ্ত বিদগ্ধজন, ১১৮. সাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি ভাবনা, ১১৯. রুশ বিপ্লব স্তালিন-বিতর্ক ও রবীন্দ্রনাথ, ১২০. নবজাগরণের ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব বিদ্যাসাগর, ১২১. ভাষা আন্দোলনের গল্প শোনো, ১২২. কথাশিল্পী শওকত ওসমান জন্মশতবর্ষ স্মারকগ্রন্থ, ১২৩. একান্তবিচারে বিদেশি মনীষা, ১২৪. বাংলাদেশের রাজনীতির কথা : পঞ্চাশ থেকে একালে, ১২৫. মিশ্র অনুভূতির কবিতা, ১২৬. একগুচ্ছ রাজনৈতিক কবিতা, ১২৭. কিশোরদের রবীন্দ্রনাথ জীবন ও সৃষ্টি, ১২৮. ভারত-পাকিস্তান বাংলাদেশ কথা, ১২৯. আমার ভালোলাগা- ভালোবাসার মানুষ, ১৩০. শিল্প-সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য, ১৩১. বিচ্ছিন্ন ভাবনা, ১৩২. বিচ্ছিন্ন স্বপ্ন, ১৩৩. ফিরে দেখা অমর একুশ ও অন্যান্য ভাবনা, ১৩৪. বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন, ১৩৫. জীবনানন্দ দাশ সময় সমাজ ও প্রেম ১৩৬. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় খণ্ড) যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত। ১৩৭. আহমদ রফিক রচনাবলি ১৩৮. আহমদ রফিক আত্মজীবনী।
[‘আহমদ রফিক: সনওয়ারী জীবনতথ্য’ অবলম্বনে প্রস্তুতকৃত]



