
রেল স্টেশনটি এমনই। খাঁখাঁ দুপুরে শূন্য মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা টং ঘরের মতো স্টেশনটি রোদের তাপে কেঁপে কেঁপে উঠছে। কাছেধারে কোথাও কোনও জনবসতি চোখে পড়ে না। ধুধু মাঠের বুক দুভাগ করে সন্তর্পণে চলে গেছে রেল লাইন। যাত্রীবাহী রেল, স্টেশন অতিক্রম করার সময় কেবলই মনে হয়, কে যেন কাঁদছে! সেই কান্না রেলের শব্দে মিলেমিশে ধুধু মাঠে বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে যায়। বাবার পাশে বসে এই কান্নার কথা বলতে বলতে প্রায় প্রতিদিন ঘুমিয়ে পড়ে মার্জিয়া। স্টেশন মাস্টার মেয়েকে এর কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেন না। তবে মেয়ে যা শোনে তা যে কান্না নয়, সে বিষয়ে বিশদ জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টায় কোনও কমতি রাখেন না তিনি। ‘ওসব কান্না নয়, বিভ্রম কিংবা মানসিক চাপের কারণে এমন হতে পারে’―এমন অসংখ্য যুক্তি খাড়া থাকে স্টেশন মাস্টারের। তবে রাতে মেইল ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় অদূরে কেউ একজন দাঁড়িয়ে থাকে। ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকে! কখনও সম্মুখে যাওয়ার সাহস হয়নি। মেয়ের কাছে কান্নার ঘটনা শোনার পর সে দৃশ্য আরও খুলতে শুরু করেছে। নিজের মধ্যেই বুদ্বুদ করে ওঠে প্রশ্ন, কে সে ? কার কান্না মার্জিয়া শোনে ? মার্জিয়ার বর্ণনা মতে এ কান্নার সঙ্গে বহু বছর আগে শোনা অন্য এক কান্নার মিল পাওয়া যায়। কিন্তু সে কান্না এতদিন পর শুনতে পারার কথা নয়! কে তাহলে কাঁদে ? কে ?
এক রাতে প্রচণ্ড গরমে মেইল ট্রেন বিদায় দিয়ে বাইরে বেঞ্চিতে শুয়ে থাকেন স্টেশন মাস্টার সালাম শেখ। খোলা মাঠ ছাপিয়ে হালকা হাওয়া এসে গায়ে তুলোর মতো আছড়ে পড়ে। শৈশবের অনেক কথা মনে পড়ে। কতগুলো বছর পার করে অখ্যাত একটি বিরান স্টেশনে পড়ে আছেন। একেবারে এমন জনমানবশূন্য স্টেশনের মতো না হলেও তার বেড়ে ওঠা চন্দ্র দীঘলিয়াও যে খুব বেশি সরব ছিল তা নয়। সমুদ্র উপকূলে পুরো গ্রামে কয়েকটি মাত্র পরিবার। অনেক পরিবার চলে গিয়েছিল অন্যত্র। প্রতি বছর জলোচ্ছ্বাসের ভয়ে কেউ স্থায়ী হতে চাইত না সে গ্রামে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান সালাম শেখ পাঁচ মাইল পথ হেঁটে হাই স্কুলের পাঠ শেষ করে। তারপর একদিন ভাগ্য পরিবর্তনের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। বাবা-মাকে দেখতে প্রতি মাসে একবার যাওয়া হতো গ্রামে। তাদের মৃত্যুর পর আর কখনও যাওয়া হয়নি। এখন একা হলে কেবলই গ্রামের কথা মনে পড়ে। সে গ্রামের কেউ হয়তো এখন তাকে চিনবে না। ভিটে সমুদ্র গ্রাস করেছে বাবা-মা মারা যাওয়ার আগেই। চন্দ্র দীঘলিয়া গ্রাম এখন তার কাছে কল্পনা মাত্র। শুনেছে কোথাও সে গ্রামের কোনও চিহ্ন নেই। সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। সমুদ্রের কাছে যেতে ভয় পান সালাম শেখ। তাই চাকরির সূত্রে এই স্টেশনে আসা। স্টেশন ছাড়িয়ে পুব দিকে আধ ঘণ্টা হাঁটলেই পাহাড়। মাঝে মাঝে সেই পাহাড়ে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে যান। ওই পাহাড় তার খুব প্রিয়। জলোচ্ছ্বাসের ভয় নেই। পাহাড়ের উঁচুতে উঠলে নিজেকে বেশ ক্ষমতাবান মনে হয়। মনে হয় সুউচ্চ রাজাসনে বসে সম্মুখে নত ছোট ছোট কুঁড়েঘরে বসবাসরত মানুষগুলো তার প্রজা। পাহাড়ের পশু-পাখিদের নিকটাত্মীয় মনে হয়। যদিও এমন স্বপ্ন কখনও বাস্তব হবে তেমন ভাবেননি তিনি। জীবনে তার তেমন কোনও সম্ভাবনা দেখা দেয়নি। শৈশব কৈশোর থেকে তারুণ্যের সময়েও অলৌকিক কোনও ভাগ্য তাকে ধরা দেয়নি। সময়ের আশেআশে কেবল শুনেছেন পতনের শব্দ। দেশ, রাজনীতি এবং সময় কোনও কিছুই তার অনুকূলে ছিল না। ওসব নিয়ে ভাবার সময়ও হয়নি তার। নিজেকে বাঁচানোর জন্য কেবল ছুটেছেন এক পথ থেকে অন্য পথে। এক শহর ছেড়ে অন্য শহরে। স্কুল পাস করা সার্টিফিকেট দিয়ে কোথাও চাকরি পাওয়াও ছিল দুষ্কর। ভাতের হোটেল থেকে শুরু করে কাপড়ের দোকানে চাকরি করে পৃথিবীতে নিজের উপস্থিতি জারি রাখেন তিনি। এক সময় বহু চেষ্টা তদবিরে গার্ডের চাকরি জোটে রেলওয়েতে। শান্তাহার জংশন থেকে চাকরির শুরু। বহু বছর একই পদে চাকরি। চাকরিসূত্রে ঘুরেছেন দেশের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। যেখানেই গেছেন, মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা ছিল সালাম শেখের। রেল শরীরে হেঁচকা টান দিয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর যতক্ষণ দৃষ্টিসীমায় দেখা যায় ততক্ষণ তাকিয়ে থাকেন তিনি। প্রতিদিন এত মানুষ কোথায় যায় গো ? একদিন ভবঘুরে নারীদের মুখে এমন প্রশ্ন শোনার পর, নিজেকে প্রশ্ন করেন সালাম মাস্টার, সত্যিই তো কোথায় যায় এত মানুষ ? কেউ চাকরিতে যায়, কেউ যায় বাণিজ্যে। আর কেউবা আপন কোনও মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তারপরও রেল চলে যাওয়ার শব্দের সঙ্গে তিনি কার যেন কণ্ঠ শুনতে পান! রেল দূরে চলে গেলে মরীচিকার সঙ্গে এঁকেবেঁকে কার অবয়ব মিলিয়ে যায় ? কেন রেল স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর বুকে টান মারে ? রশিদের প্রশ্নের পর এখন আরও বেশি সেই টান অনুভব করেন তিনি। সালাম শেখ নিজেও জানেন না কোথায় যাবেন তিনি। যদিও এ স্টেশনে বহু বছর। সরকারি চাকরিতে তিন বছরের বেশি এক স্থানে থাকার নাকি নিয়ম নেই। কিন্তু স্টেশন মাস্টার সালাম শেখ এখানে আছেন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। কেউ নির্জন এ স্টেশনে বদলি হয়ে আসতে চান না। আর সালাম সাহেব অনেকটা পণ করেই গেড়ে বসেছেন। যাবেন না কোথাও। জীবনের বাকি সময় এখানেই কাটাবেন। যদিও মার্জিয়ার স্কুলে যাওয়া-আসা দূরের পথ। মেয়ে প্রথম প্রথম অনুযোগ করলেও এখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই স্টেশনে সারা দিনে দুটো রেল থামে। একটা সকাল সাতটায়, অন্যটা রাত নটায়। এ সময়ের বাইরে তিনি স্টেশনে না থাকলেও হয়। প্রায়ই মাঝের সময়টুকু মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে মাঠের কোনায় বসে থাকেন। একটা ঝুপড়ি মতো দোকান রয়েছে সেখানে। সালাম শেখকে কদর করে চা দোকানদার ফরিদ। একটা হাতলভাঙা চেয়ারে বসতে দেয়। স্টেশন মাস্টার বলে কথা। কখনও কখনও স্কুলের হেড মাস্টারের সঙ্গেও গল্প করে আসেন সালাম সাহেব। একদিন হেড মাস্টার প্রশ্ন করে বসলেন―
আচ্ছা মাস্টার সাহেব, এতগুলো বছর আপনি একটা স্টেশনেই পড়ে আছেন কেন ? মেয়ে তো এবার এসএসসি দেবে। আমাদের কাছেধারে কোনও কলেজ নেই। মেয়েকে কলেজে পড়াতে হবে না ?
সালাম শেখ ভীষণ অস্বস্তি বোধ করেন হেড মাস্টারের প্রশ্নে। নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তর দেন―
স্যার, এই স্টেশনে কেউ বদলি হয়ে আসতে চান না। আমার খুব ভালো লাগে এখানে। একা নির্জন। আমি কখনও অন্য স্টেশনে যাওয়ার ইচ্ছে কর্তৃপক্ষকে জানাইনি। তারাও আমাকে জিজ্ঞেস করেনি।
না, আমরা শুনেছিলাম আপনাকে এই স্টেশনে নাকি শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছিল।
ঠিকই শুনেছেন।
কী এমন অপরাধ আপনি করেছিলেন। একেবারে এই বিরান স্টেশনে আপনাকে বদলি করা হলো ?
সে তো অনেক কথা স্যার। অন্যদিন না হয় বলব। আজ স্কুল ছুটির সময় হয়ে গেল। যাই। শুধু এটুকু বলি, আপরাধ আমি ইচ্ছে করেই করেছিলাম যাতে বদলি হয়ে এ স্টেশনে আসতে পারি।
মার্জিয়াকে নিয়ে স্টেশনের দিকে হাঁটতে থাকেন সালাম শেখ। বাবার সঙ্গ মার্জিয়া ভীষণ উপভোগ করে। রেল লাইনের পাশ ঘেষে হাঁটতে হাঁটতে একটা ভাটফুল তুলে বাবার হাতে দেয় মার্জিয়া। সালাম শেখ মান্না দের সেই গানের মতো ‘খুশি আর লজ্জার মাঝামাঝি সেই হাসি/তুমি আর হাসবে কি কখনও’র মতো হাসি দিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। পরক্ষণে ভাবেন, ভাসমান একজন মানুষ তিনি। নদী ভাঙনে তাদের গ্রাম যেভাবে ভেসে গিয়েছিল ঠিক সেই রকম ভেসে বেড়াচ্ছেন তিনি। কখনও ঘর ভালো লাগেনি তার। কেবল মেয়ের মোহে ঘরছাড়া হতে পারেন না কখনও। রেল লাইনের এক একটি পাথর যেন তার বুকে চেপে বসে আছে। খচ খচ করে পাঁজরের ভেতর। মার্জিয়া না থাকলে এই ভবে তার আর কেউ থাকত না। মাঝে মাঝে খালি মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান বুঝতে চেষ্টা করেন তিনি। চতুর্দিকে ধুধু মাঠ। মাঝখানে একা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। কোথাও কেউ নেই। যেন বিস্তীর্ণ প্রান্তরে একটি বিচ্ছিন্ন ঘাস কিংবা একটা পরগাছা লিকলিক করে দুলছে। যার কোনও পরিচয় নেই। কেউ জানে না কোথা থেকে এসেছেন সালাম শেখ। চাকরির সময় লিখেছিলেন ভেসে যাওয়া চন্দ্র দীঘলিয়ার ঠিকানা। সেই ঠিকানা এখন নেই। ঈশ্বরের এই ব্রহ্মাণ্ডে নিজের কোনও ঠিকানা নেই, নেই কোনও আপনজন! এমন ভাবলেই সালাম মাস্টারের চোখগুলো মৃত মাছের মতো ঘোলাটে ও শীতল হয়ে ওঠে। নিজেকে মৃত মানুষ মনে করেন। মেয়ের ডাকে নিজের ভেতর ফিরে আসেন তিনি।
বাবা, আমি জানি তোমার অনেক কষ্ট। তোমার কেউ নেই। এই দেখ আমার কিন্তু তুমি আছ। কিন্তু তোমার কেউ নেই।
সালাম শেখ হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠেন।
কী বলিস, তুই আছিস আমার। তুই তো আমার সব। তুই আছিস বলে এই পৃথিবী আমার কাছে এত চেনা। মাঝে মাঝে আমি পৃথিবীর পরিচয় ভুলে যাই। নিজের পরিচয় তো অনেক পরে। সেই আমি তোর জন্য বেঁচে আছি। তোর চেয়ে বেশি আপন কেউ নেই আমার। তুই আমার পৃথিবী।
আচ্ছা বাবা, তুমি কখনও মার গল্প করতে চাও না কেন আমার সঙ্গে। মা নেই, এটুকুই মাকে নিয়ে তোমার শেষ কথা। শুরুর কি কিছুই নেই ? তুমি মাকে কোন গ্রাম থেকে বিয়ে করেছিলে। সেখানে আমাকে কখনও নিয়ে যাওনি। কি এত অভিমান তোমার। মার গ্রামে গেলে হয়তো আমার ভালো লাগবে। আমি তো মাকে দেখি নি। তার ভাই-বোন কেউ থাকলে হয়তো মার গল্প শুনতে পেতাম। জানতাম মা দেখতে কেমন ছিল। আমি কি মার মতো হয়েছি ? বাবা তুমিই বলো আমি দেখতে কি মার মতো হয়েছি ?
মেয়ের কথার কোনও উত্তর করেন না স্টেশন মাস্টার। হাতে গোঁজা ভাটফুলের গন্ধ নিতে নিতে, উঠে আসেন স্টেশনে। মার্জিয়া বুঝতে পারে বাবা আজ আর কোনও কথা বলবে না। বাইরে একটি বেঞ্চিতে হেলান দিয়ে বসেন সালাম শেখ। মার্জিয়া ভেতরে যেতে যেতে বলে―
আমি তোমার জন্য চা করছি বাবা। এসো একটু পরে।
শুয়ে না থেকে উঠে পড়ো সালাম শেখ। উঠে পড়ো। তুমি ভালো করেই জানো রেল চলে যাওয়ার পর কেন তোমার এমন হয়। তারপরও কিছুই বলতে পারো না। পারার কথা নয়। তুমি জানো না সে কে, কোথায় ছিল, কেন এল, কিছুই না। একবার দেখার পর আর কখনও খুঁজে পাওনি তাকে। এই দেশটিকে একটা যমঘর মনে হয় তোমার। মনে আছে সেই কবে থেকে তুমি বারবার ওই ঘরে প্রবেশ করতে চেয়ে বসে আছো সম্মুখে। দারোয়ান কিছুতেই তোমাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। মনে হয় কয়েক যুগ পার হয়ে গেল, তুমি কিছুতেই প্রবেশ করতে পারছ না। অথচ কত মানুষ তোমার সামনে হেঁটে অট্টহাস্যে প্রবেশ করছে সেই ঘরে। প্রবেশ করা মানুষগুলো বিচিত্র। কারও চেহারা পশু আকৃতির, কারওবা মুখ মেঘে ঢাকা। পাখির ঠোঁটের মতো লম্বা মুখে কেউ কেউ তোমাকে দেখে উপহাস করে ঢুকে যাচ্ছে সেই যমঘরে। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের চেহারায় লেপ্টে থাকে পোড়া মবিলের ছোপ ছোপ দাগ! কারও মুখে তাজা রক্ত। কেউবা টলতে টলতে বমির সঙ্গে উগরে দিচ্ছে বিষ্ঠার মতো অসংলগ্ন কোনও কিছু। তোমার মনে বুদ্বুদ করে জিজ্ঞাসা ‘ওই যমঘরে কে থাকে ? যম থাকে। মানে মৃত্যুঘর। হতে পারে নরক! কিংবা তারও চেয়ে ভয়ংকর কিছু।’ এমন মনে হতেই পারে তোমার। তুমি বসে আছো কত যুগ ধরে। কেবল একটু ভেতরে যেতে চাও। দারোয়ান যেতে দেয় না। খঞ্জর হাতে কোটরে ঢুকে যাওয়া লাল চোখে তাকিয়ে থাকে দারোয়ান। যত নিষেধাজ্ঞা কেবল তোমার জন্য। কারণ তুমি একজনকে খুঁজছো। যাকে সেই একবারই দেখেছিলে। আর শুনেছো এই যমঘরেই সে থাকে। ধরো এই যমঘরে একটি পতিতা থাকে। তাকে দেখার জন্য তোমার এত তৃষ্ণা কেন ? সে প্রশ্ন দারোয়ানের হতেই পারে। তার কাছে সে পতিতা ছাড়া আর কিছু নয়। তুমি সেই পতিতার সংস্পর্শে যেতে চাইলেও দারোয়ান দেয় না। তুমি সেই ভোগে অভ্যস্ত নও। যারা ভোগ করে তারা অন্যরকম। দেখতেই তো পাচ্ছ কারা যাওয়া-আসা করে। তুমি তো তাদের মতো ধনী কিংবা পশু আকৃতির নও। তুমি হয়তো মানুষ। মানুষ কি তাহলে নারীসঙ্গ চায় না ? এ প্রশ্ন কেন যে তোমার মনে হয়, তা বোধগম্য নয়। তুমি নিজেকে মানুষ ভাবতে ভাবতে সম প্রকৃতির কাউকে দেখলেই ভাবো সমগোত্রীয়। এটা তোমার দোষ। তোমার সেই সময়ের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে, সেই যে একাত্তরে পালিয়ে বেড়ানোর সময়গুলো। সে সময় কত ঘটনাই তো চোখে দেখেছিলে। তারপরও মনুষ্য প্রকৃতির বিভাজনটা এখনও তুমি বোঝো না। তখন তুমি বদলি হয়ে এ স্টেশনে এসেছিলে মাত্র ক মাস হলো। শুকনো শীর্ণ নদীতে মাত্র বৃষ্টি নামতে শুরু করেছিল। নদী যৌবনবতী হতে পারল কই আর! তোমার স্টেশন দখলে নিয়ে পুরো এলাকা কব্জায় আনতে বাড়ির পর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হলো। গুলিতে যারা প্রাণ হারিয়েছিল তারা এক নিমিষেই নিঃশ্বাস ছেড়ে বাঁচলেও, স্টেশনে এনে যেসব মেয়েদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে তিলে তিলে হত্যা করেছিল তাদের বিষয়ে ভাবতেই তুমি এখনও শিউরে ওঠ। ওঠারই কথা। তারপর থেকে তোমার পালিয়ে বেড়ানো। মরতে মরতে বেঁচে গেলে। বেঁচে গেলে কি ? তুমি মাঝে মাঝে একটা কথা বলো, ‘আমি একাত্তরে মারা গিয়েছিলাম। এখন যে আমি এই আলো হাওয়ায় ঘুরে বেড়াই সে আমার প্রেতাত্মা। আমি তো বেঁচে নেই, তাহলে কী করে আমি তোমাদের সঙ্গে থাকি! আমার মনে হয় তোমরা কেউ আমাকে দেখো না। আমি তোমাদের দেখি। কথা বলি আর তোমাদের কথা শুনি। মরে গিয়ে এ এক অদ্ভুত বেঁচে থাকা। আমারও মাঝে মাঝে মনে হয় তুমি বেঁচে নেই। জনপদে হেঁটে যাওয়া অদৃশ্য এক মানুষের মতো তুমি জেগে আছ। কিন্তু কী জানো, তোমার এই বেঁচে থাকাটা প্রবল অবস্থানের নির্দেশ করে। তুমি যখন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রাতের রেলকে বিদায় দাও, তখন তোমার হাতে থাকা হ্যারিকেনের আলোয় মনে হয় সব অন্ধকার ছিন্ন করে উদ্ভাসিত আলোয় পুরো রাত জাগিয়ে রাখছ তুমি। প্রচণ্ড বেগে ঝড় নয় আলোর বাতাস যেন নুয়ে পড়া ঘাসগুলোকেও জেগে ওঠার ডাক দিয়ে যায়। এ পর্যন্ত যতগুলো স্টেশনে তুমি কাজ করেছ, সব কটি এলাকায় তোমাকে নিয়ে অসংখ্য মিথ তৈরি হয়ে গেছে। বেঁচে থাকতেও মানুষ মিথ হয়ে যায়! তোমাকে দেখে তা-ই বুঝলাম। কাকে খোঁজো তুমি ? এই খোঁজার গল্পটাই হয়ে গেছে মিথ। মানুষ খুব সহজে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কথা অদৃশ্য হয় না। বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এক একটি আড্ডায় গিয়ে বসে আর নানা রঙ ধারণ করে। কোনও আড্ডায় বলে, স্টেশন মাস্টার মানসিক রোগী। কাকে যেন খোঁজে। মাঝে মাঝে স্টেশনের উত্তর পাশের চড়ার পাড়ে দাঁড়িয়ে থির থাকা জলে পাথর ছোড়ে আর কাকে যেন ডাকে।’ আবার আরেক আড্ডায় গিয়ে সে গল্প অন্যদিকে মুখ ফেরায়। ‘সালাম শেখ এই স্টেশনে কিছু একটা পেয়েছে। সেই গুপ্তধনের আশায় এখান থেকে যায় না। মাঝে মাঝে ভান করে পাগল সাজে।’ অন্য জায়গায় শোনা যায় অন্য গল্প, ‘আচ্ছা সালাম শেখের বেটিকে দেখেছেন, বাপের চেহারার সঙ্গে কোনও মিল নেই। মেয়েটি তার না অন্য কারও ?’ গ্রামের শেষ প্রান্তে একটা চা দোকানে শোনা যায় আজব গল্প। ‘জানেন ভাই, সালাম শেখ কামেল মানুষ। জিন-পরির সঙ্গে ভাব ভালোবাসা আছে। তাই তাকে এই স্টেশন থেকে আর কোথাও বদলি করা হয় না। তাকে বদলি করলে নাকি এ স্টেশনে ভূত-প্রেতের আশ্রয় হবে।’
বাবা তোমার চা। এই সন্ধ্যেবেলায় তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ বাবা ?
মেয়ের কথা শুনে উঠে বসেন সালাম শেখ। মেয়ের দিকে ভালো করে তাকান, কোথাও নিজের চেহারার সঙ্গে মিল আছে কিনা খুঁজে দেখেন। তেমন কোনও মিল খুঁজে পেলেন না। নাক, কান, চোখ, হাতের আঙুল কোনও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে মিল নেই।
বাবা রাত নটার যে ট্রেন আসবে সেটিকে একটু বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রাখা কি সম্ভব ?
কেন মা, কী করবি ?
আমি আজ ওই কান্নাটা ভালো করে শুনতে চাই। কেউ নাকি সে কান্না শোনে না। তাহলে আমি একা কেন সেই কান্না শুনি বাবা, বলতে পারো ? ওই কান্নার শব্দ শুনলে মনে হয় বহু দিনের চেনা কেউ কাঁদছে। অনেক, অনেক আপন বাবা, তোমাকে বোঝাতে পারব না কত আপন মনে হয়। আমি কখনও কারও কান্না শুনে এমন টান অনুভব করিনি। কে বাবা, বলতে পারো ? আমি বগিতে উঠে কে কাঁদে দেখতে চাই।
সালাম শেখ ঈষৎ ঘাড় বাঁকিয়ে মার্জিয়ার দিকে তাকান। যেন না তাকাতে পারলেই বেঁচে যান। সে দেখায় ঝরে পড়ে বিষণ্নতা। সে চাওয়ায় উত্তরের কালো পায়রাগুলো উড়ে উড়ে বেরিয়ে যায় মাথার খোলস ছেড়ে। কোনও উত্তর করতে পারেন না মাস্টার।
আমাদের আশেপাশে কোনও বাড়ি নেই। তাহলে কান্নার শব্দ তো রেলের বগি থেকেই আসে বাবা ? দুটি রেল থেকেই প্রতিদিন কান্না ভেসে আসে। রেল স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার জন্য বগি টান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোথা থেকে এমন ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে কে জানে। সেই হাওয়া ছাপিয়ে কান্নার প্রচণ্ড শব্দ ভেসে আসে কানে।
তোর কোথাও ভুল হচ্ছে মার্জিয়া। কেউ কাঁদে না। সম্ভবত তোর ভালো ঘুম হচ্ছে না এ ক’দিন। কাল শুক্রবার আছে, স্কুল নেই। আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়। সকালে দেরিতে জাগলেও হবে।
না বাবা আমি এখন যাব না। রেলগাড়িটি চলে যাওয়ার পর তোমার সঙ্গে খেয়ে তারপর ঘুমাব।
সালাম শেখ মেয়েকে বোঝানোর কোনও উপায় খুঁজে পান না। ইদানীং পাগল কিসিমের এক লোককে দেখা যায় স্টেশনের আশেপাশে। কোথা থেকে এসেছে কে জানে। কেবল তৃষ্ণা পেলে পানি খোঁজে। তেমন কথা বলে না। এই পাগলটিও রাতে কাঁদে। গানের গলা খুব ভালো। ‘তুই ফেলে এসেছিস কারে মন মন রে আমার।’ গানের সুরে পাগল লোকটি কীভাবে বিলাপের ঢং চালান করিয়ে দেয় কে জানে! তখন লোকটি গান গাইছে না কাঁদছে বোঝা মুশকিল হয়। এমন দরদ দিয়ে খুব কম শিল্পী গান করে। লোকটি তো পাগল। তার গলায় এত দরদ কোথা থেকে এল!
বাবা রেল আসার সময় হয়েছে। হারিকেন হাতে ছাউনির সামনে এসে দাঁড়ায় মার্জিয়া।
সিগনাল বাতি জ্বলে ওঠে। সিগনালের আলোয় রাতের অন্ধকার ভেদ করে আঁকাবাঁকা একটা আলোর রেখা রেল লাইনের পাটাতনে গড়াগড়ি দেয়। মনে হয় বিয়েবাড়িতে জ্বালানো তারাবাতির লহর গড়াগড়ি দিচ্ছে পাটাতনে। সেই আলোয় স্পষ্ট দেখা যায় পাগলটি বসে আছে। বিড় বিড় করে কী যেন বলছে।
তুই ভিতরে যা মা। আমি রেল ছেড়ে আসছি।
না বাবা আমি আজ থেকে তোমাকে কান্নার সেই শব্দ শোনাতে চাই।
কান্না, কে কাঁদে, হুম কে কাঁদে ? কেন কাঁদে ?
পাগলটি এটুকু বলে ভোঁদৌঁড় দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শিয়ালের ডাকের সঙ্গে একটা মানুষের উচ্চকণ্ঠ শোনা যায়। অন্ধকার চৌচির করে চিৎকার করতে করতে বলছে, ‘সবই মায়া, এই পৃথিবী মায়ায় মোড়ানো একটা ধাঁধাঁ। কেউ সেই ধাঁধাঁর উত্তরে ভুল করে অর্থ পাল্টে দেয়, আর কেউবা ইচ্ছে করেই মায়াকে ভুল পথে টেনে নামিয়ে সৃষ্টি করে ঘৃণা। এই যে ভুল অর্থ, এই যে ঘৃণা এটার পরিণতিই হচ্ছে কান্না। এখন বুঝতে পারছি কে কাঁদে, কেন কাঁদে!’
শিয়ালের ডাক লোকটির কণ্ঠ ছাড়িয়ে যায়। তারপরও তার সেই কথাগুলো প্রতিধ্বনি তুলে বার বার ফিরে আসছে। কথাগুলো শোনার পর লোকটিকে আর পাগল মনে হচ্ছে না। দূর থেকে রেলের হেডলাইটের আলো অন্ধকার ফুঁড়ে মুখ তুলেছে। কেবল রেল এলেই স্টেশনের চতুর্দিক আলোয় ভরে ওঠে। রেল এসে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ালে হেড লাইটের আলোয় লোকটিকে খোঁজে মার্জিয়া। কিন্তু কোথাও দেখা মেলে না। ট্রেন যখন হেঁচকা টান দিয়ে স্টেশনের সামনে থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়, তখন সেই কান্না শুনতে পায় মার্জিয়া। কিন্তু এত করে খুঁজে কোথাও বাবাকে পেলো না সে। রেল চলে যাওয়ার পর সালাম শেখ মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ান। মার্জিয়া ভূত দেখার মতো বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে। সালাম শেখের চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ।
বাবা, আমি আজও কান্না শুনলাম। তোমাকে শোনাতে চাইলাম, হলো না তো। তুমি কোথায় ছিলে ?
কেন আমি তো ফ্ল্যাগ উড়িয়ে রেলকে বিদায় জানালাম। তোর সামনেই তো ছিলাম।
আমার সামনে ছিলে কই! আমি তো দেখতে পাইনি।
মাঝে মাঝে এমন হয়।
আচ্ছা বাবা, তুমি কি কান্না শুনেছ ?
না, আমি তো শুনিনি।
মার্জিয়া তোর কি মনে আছে, আরও কয়েক বছর আগে তোকে এক হারিয়ে যাওয়া মায়ের গল্প বলেছিলাম ?
হ্যাঁ মনে আছে বাবা, খুব মনে আছে। সেই গল্পটি আমার জীবনে শোনা সেরা গল্প। অনেক কষ্ট বাবা, অনেক কষ্ট।
তুই সম্ভবত সেই মায়ের কান্নাই শুনতে পাস। তুই শুনিস সেই কান্না আর আমি তাকে দেখি।
কীভাবে দেখতে পাও বাবা ? আর তুমি ঠিকই বলেছ। গল্পটি শোনার পর আমি একটুও ভুলিনি। প্রায়ই মনে হয় সেই মা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে ডাকছে।
আমি সারক্ষণ দেখি। তোকে সেদিন যেখানে গল্পটি শেষ করেছিলাম, সেখান থেকে পরের গল্পটি বলি শোন।
বলো বাবা, আমি শুনবো।
আমি তখন সামান্য দারোয়ান। এক রাতে পাহারা দিচ্ছিলাম এই স্টেশন। তখনও যুদ্ধ শেষ হয়নি। মিলিটারিরা গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে একটি মেয়েকে ফেলে চলে যায়। আমাকে দেখে কাঁদতে কাঁদতে পানি পান করতে চায় মেয়েটি। পানি দিতে গিয়ে বুঝলাম মেয়েটি গর্ভবতী। এই স্টেশনে তখন কোনও মাস্টার ছিল না। ঘণ্টা বাজানোর জন্য একটা লোক থাকত। সঙ্গে থাকত তার মা। লোকটির নাম এখন মনে পড়ছে না। আমি আর ওই লোক মিলে স্টেশনের দায়িত্বে ছিলাম। ঘণ্টাবাদকের মাকে ডেকে ঘর থেকে বের করলাম। ওই মহিলাকে আমি চাচি সম্বোধন করতাম। ততক্ষণে মেয়েটির চিৎকারে আরও ভারী হয়ে ওঠে রাতের অন্ধকার। চাচি মেয়েটির গায়ে হাত রেখেই বুঝতে পারেন শিশু প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ধরাধরি করে মেয়েটিকে ঘরে নিয়ে যাই। সেই রাতেই মেয়েটি একটা ফুটফুটে মেয়েসন্তান প্রসব করে। সন্তান জন্মের কিছুক্ষণ পর মেয়েটির জ্ঞান ফিরে এলেও নির্বাক হয়ে পড়েছিল। আমরা এত চেষ্টা করলাম। কিছুতেই মেয়েটির মুখ থেকে কথা বের করতে পারলাম না। দুদিন পর পাশের ঝোপে আমগাছের সঙ্গে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মেয়েটিকে। ফাঁসিতে ঝোলার আগের দুদিন কিছুই খায়নি মেয়েটি। আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে এক গ্লাস পানিও পান করাতে পারিনি। অথচ সন্তান জন্মের আগে নিজে থেকে চেয়েই পানি পান করেছিল। তারপর থেকে আমি প্রতি রাতে রেল এলেই মেয়েটির কান্না শুনতে পেতাম। আমি ঘুমাতে পারতাম না। ঘুমাতে গেলেই তার কান্নায় জেগে উঠতাম। এর পর আমি তোকে নিয়ে এই স্টেশন ছেড়ে অন্য স্টেশনে বদলি হয়ে চলে যাই। গত বারো বছরে অনেক স্টেশনে বদলি হয়েছি। পদোন্নতি পেয়ে স্টেশন মাস্টার হয়েছি। ঠিক করি স্টেশন মাস্টার হিসেবে বাকি চাকরিটুকু এই স্টেশনেই করব। কেউ আসতে চায় না এই স্টেশনে। আমিই প্রথম কোনও স্টেশন মাস্টার এখানে এসেছি।
ফোনের শব্দে ঘুম ছুটে যায় মার্জিয়ার। চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। স্টেশন মাস্টার বলে কথা। ঘণ্টাবাদক এসে বলে গেল লাইন ক্লিয়ার, রাত নটার রেল আর দু মিনিটের মধ্যেই পৌঁছোবে। এখন অনেক ব্যস্ত এ স্টেশন। ঘুম থেকে জেগে কুলিদের হাঁকাহাঁকিতে বিরক্তই লাগছিল তার। টান মেরে চেয়ার থেকে উঠে টলতে টলতে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায়। সিগনাল বাতিতে সেই আলোকরশ্মি নেই। কোথাও সেই পাগলও নেই। সালাম শেখ, মানে তার বাবা, যে কিনা তার জন্য কখনও বিয়েথাও করেননি, তিনিও কোথাও নেই। সেই বিরান স্টেশন এখন ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ। এখন প্রতিদিন ছটা রেল এ স্টেশনে থামে। কিন্তু প্রতিদিন মার্জিয়ার অপেক্ষা সেই রাত নটার রেলের জন্য। রেল এসে দাঁড়াতেই মার্জিয়া কান পাতে। দু মিনিট পর ফ্ল্যাগ তুলে ধরতেই রেল চলতে শুরু করে। চাকার ক্যাচ ক্যাচ শব্দের সঙ্গে কানে ভেসে আসে সেই কান্না! প্রতিদিন এ রেল ছেড়ে যাওয়ার সময় মার্জিয়া কাঁদে। হাউ মাউ করে কাঁদে। এখনও এই স্টেশনে কেউ বদলি হয়ে আসতে চায় না। সবাই জানে, সালাম শেখ নামে এক প্রেতাত্মা থাকে এই স্টেশনে। ভয়ে কেউ আসতে চায় না। বাবার পর এ স্টেশনে দ্বিতীয় মাস্টার মার্জিয়া।
সচিত্রকরণ : রজত



