
সত্যনগর
ছিলাম দাঁড়িয়ে আমি সেই সত্যনগর
চারিদিকে গণিকারা যেন অজগর
আমাকে চেয়েছে তারা ক্ষুধা ও রতিতে
রাত্রি দিনের মাঝে তীব্র ক্ষতিতে
আমার চেতনা কেড়ে ক্রমশ অবোধ
চেয়েছে ছোবল দিতে যেন প্রতিশোধ
বাহুলগ্না সময়ের ছায়াকীর্তনে
চেনাতে চেয়েছে রাত অযুত যতনে
ময়ূরপঙ্খি নাও মায়াবি দোলাতে
চেয়েছে কৃষ্ণ আর কবিকে ভোলাতে
তবু আমি ছাড়ি নাই ক্ষীণ দুটি হাত
তুমি যার করতলে এঁকেছো প্রভাত।

যাও
যাও, তবে এ যাওয়া দীর্ঘ কোরো না
নদীর ফুল বাতাসের পাখি আর রৌদ্রের ঘ্রাণ
চলে গেলে ফিরে আসে না
কবিরা যেতে চায় না এমন কি
ফিরে আসার সুযোগ থাকলেও―
সৌমিত তো বলেই দিয়েছে,
হুস বললেই কি উড়ে যাওয়া যায় ?
না যায় না,
আর যায় না বলেই আমরা বসে থাকি
একটি টিলায় জলভাঙা সময়ে
শুনি নির্জন হরিণের ডাক; পেঁচা এবং কোয়েলের
ভীষণ অন্ধকার
জলের মতো রাত নামছে
তোমার বগল থেকে ভেসে আসা রিভাইভ
আমাকে নিয়ে যাচ্ছে সেই আদিম আন্দিজে
ঈগলের মতো দ্রুত পালাচ্ছে সময়
আমি কি যাব হে কাহ্নপা
তোমার কালে
বিদ্ধ হতে এক অলৌকিক সুচে ?
যাও, তবে ফিরে আসার দরোজাটা
খুলে রেখো।

জোছনা বাড়ালো হাত
জলের আতুরে জন্ম নিল ঊর্মি; বিশ্বাস লুকিয়ে রেখে জোছনাটাও বাড়িয়ে দিল হাত।
করতলে গোলাপ এঁকে তুমি বললে, এ তো প্রার্থনার জয়।
প্লাবনে ঘুমায় মৎস্যকুমারী, শুধু তোমার দু চোখে বিরহ-আভা, ঘুমহীন ক্লান্তিতে বাড়ে ত্বকের বয়স। জলের অভাবে তৃষ্ণা আর প্রেমহীনতায় শিশিরের চন্দ্র-বনবাস।

পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে কেউ
পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে কেউ
তার চুলের গন্ধ লেগে আছে রাত্রির হাতে
ঘুমঘুম সেই ঘ্রাণ মহাভৃঙ্গরাজ যেন
কান ফুঁড়ে চলে গেছে স্মৃতির ওপাশ
কার ঘরে কোন ঘরে সময়ের হাঁস
জেগে আছে যেন এক রাতচষা পাখি
কুয়াশা-বাদুড় সাথে কত কথা
কতইনা রঙঢঙ দোচোয়ানি চালে
ক্লান্ত মানুষ জানে ঘুম রাতে কতটা শাসন
কতটা নুপুর তালে কাছে আসে
নৃত্যরতা আলোর হরিণ
পাশ দিয়ে হেঁটে গেছে কেউ
গন্ধে তার মালতীরা হয়ে গেছে ক্রিসেনথিমাম
অথবা কামিনী কিংবা গোলাপ।

কবি
বাতাসের ঘর তাকে ডাকলে সে ফিরিয়ে নিলো মুখ―
বললো, যে ঘরে কপাট নেই তালা নেই; সে আমার নয়।
জলের প্রহর বাড়ালে পা, দূরে সরে গিয়ে সে জলান্ধ যুবকের মতো মাথা নাড়তে নাড়তে জানালো, স্রোতের শ্যাওলার চেয়ে বৃক্ষ অনেক বেশি বিশ্বস্ত আর প্রার্থিত।
যখন পাখিরা তুলল ডানা, আর্তনাদ ধ্বনিত হলো তার কণ্ঠে―উড়ালের চেয়ে অনেক আন্তরিক প্রিয় রমণীর উর্বরতায় মাথা গুঁজে থাকা।
ফিরে গেলে বাতাস নদী জল
ইচ্ছে ভাঙার কষ্টে তখন সে কেবল একজন কবি
সে শুধু সূর্য খুঁজতে থাকল, শব্দ খুঁজতে থাকল।
———————-
সচিত্রকরণ : রজত



