আর্কাইভপ্রচ্ছদ রচনা

আনজীর লিটনের সাহিত্যভুবন ও নীল ঘোড়ার খেলা : রাশেদ রউফ

মূল রচনা : শব্দঘর নির্বাচিত সেরা বই ২০২২

আনজীর লিটন গত কয়েক দশক ধরে লেখালেখি করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছেন। বহু গুণের অধিকারী তিনি। একাধারে ছড়াকার, গল্পকার, নাট্যকার, অনুষ্ঠান নির্মাতা ও ঔপন্যাসিক। নানা ধরনের লেখা উপহার দিয়েছেন তিনি। ছড়ায় যেমন অনন্য কারিগর, তেমনি গল্প-উপন্যাসেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আঙ্গিকের নতুনত্বে এবং বিষয়ের অভিনবত্বে তাঁর লেখা ছোটদের এবং বড়দের কাছে সমান প্রিয়। নীল ঘোড়ার খেলা কিশোরদের জন্য লেখা চমৎকার একটি উপন্যাস। রূপকথা আর কল্পবিজ্ঞানের অসাধারণ মেলবন্ধন ঘটেছে এ উপন্যাসে।

আনজীর লিটন প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন শিশুকিশোরদের জগৎ বুঝতে, শিশু ও বড়দের মনোজগতের ভিন্নমাত্রাকে ধরতে। তিনি চান রূপকথা, ফ্যান্টাসি থেকে বাস্তব―নানা কিছুর মধ্য দিয়ে শিশুর সুস্থ সূক্ষ্ম মনের উন্মোচন ও ক্রমবিকাশ।

বিজ্ঞানের এই অগ্রগতির দিনে রূপকথা ও বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তার এই গ্রন্থে সহজ ও সাবলীলভাবে। তিনি আরও বুঝাতে চেয়েছেন যে―মানুষের অপরিসীম শক্তি। অসাধ্য সাধনের জন্য মানুষ সচেষ্ট। চেষ্টা ও একাগ্রতা থাকলে একাই যথেষ্ট।

২.

ছড়ায় জাদু আছে। এই জাদু তার শরীরে। তার সুর বা তালে মাতাল হওয়া যায়। নাচা যায় তার ছন্দে। একটা পঙ্ক্তির সাথে আরেকটি পঙ্ক্তির অন্ত্যমিলে পাওয়া যায় নিরেট আনন্দ। হুমায়ুন আজাদ ছোটদের জন্য একটা লেখায় বলেছেন : ‘ছড়া সবাইকে মোহিত করে। তোমরা হেমিলনের বাঁশিঅলার কথা শুনেছ। আজ সে-মায়াবী বাঁশিঅলা আর নেই। তাই তোমরা যাবে কার সাথে ? যদি জিজ্ঞেস করো, তবে বলব, নিশ্চয়ই যাবে ছড়ার সাথে। তার বাঁশি আছে, তার জাদু আছে। তার সুর আছে, তার নূপুর আছে।’

ছন্দ যেমন ছড়াকে গতিময় করে, তেমনি অন্ত্যমিল সৃষ্টি করে ধ্বনি-মাধুর্য। যুৎসই অন্ত্যমিল অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল লেখাকেও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে পারে। অনেক ছড়া আছে, যার এক পঙক্তির অর্থ বোঝা যায় তো, অন্য পঙক্তির অর্থ বোঝা যায় না। কখনও কখনও মনে হতে পারে আবোল তাবোল কথা। এই আবোল-তাবোল কথাও মধুর হয়ে উঠতে পারে সুরের কারণে, অন্ত্যমিল মধ্যমিল ও অনুপ্রাসের কারণে।

আনজীর লিটন প্রথমত একজন নিবেদিতপ্রাণ ছড়াশিল্পী। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যে কয়েকজন ছড়াকার বিষয়-বৈচিত্র্য ও স্বতন্ত্র ধারায় ছড়াচর্চা করে খ্যাতি লাভ করেছেন, তাদের মধ্যে তিনি একজন। সংখ্যা প্রাচুর্যে তিনি যেমন অনন্য, তেমনি শিল্পগুণ বিচারে তিনি পাঠকপ্রিয় ও মৌলিক। নানাগুণে তার ছড়াগুচ্ছ স্বতঃস্ফূর্ত ও সমৃদ্ধ। আনজীর লিটনের ছড়ার নিজস্বতা যেমন আছে তেমনি আছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ছড়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন নিরন্তর। চিরাচরিত প্রথা ভেঙে নতুন পথ তৈরিতে তিনি সচেষ্ট। বাংলা শিশুসাহিত্যে চিরায়িত ছড়ায় বিনির্মাণ করেছেন নতুন দোলা। ছড়ার ভুবনে দিয়েছেন মাধুর্য। তাঁর ছড়ায় বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে লোকবাংলার আধুনিক রূপ। বক্তব্য, ছন্দ, উপমা, শৈল্পিকতা ও উপস্থাপন রীতির নান্দনিকতায় আনজীর লিটনের লেখায় শোভা পায় শিশুদের মনোজগত।

ছড়ার আবহমান বিকশিত ধারার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও আনজীর লিটন রচনা করে যাচ্ছেন আধুনিক সময়োপযোগী ছড়া, যা কেবল বহুমাত্রিক নয়; বর্ণিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। আমাদের লোকজ ধারাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি নেই। তাঁর ছড়ায় আছে ‘ঐতিহ্যগত চিরন্তন ছন্দের আধুনিক উপস্থাপনা’। তিনি যখন লেখেন তখন অবাক হই। বলেন এভাবে :

: নাম কী ঋতুর ?

: বর্ষা

ভেজা ভেজা পাতার বুকে

বৃষ্টি জমে দারুণ সুখে

একটুখানি আড়াল পেতে

একটা ছাতাই ভরসা

আহা! বর্ষা আমার বর্ষা।

আনজীর লিটনের ছড়ায় আছে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, পালা, পার্বণ। তাঁর ছড়ায় দেশপ্রেম মিশে আছে নিবিড়ভাবে, ফুটে উঠেছে মানবপ্রেম। সবকিছুই তিনি ছড়ার ছন্দে ছড়িয়ে দিয়েছেন শিশু-কিশোর মনে। যেমন :

ফুল ফুটেছে বুকের ভেতর

ফুল ফুটেছে প্রাণে

ফুলের গন্ধ মাখিয়ে দিলাম

বাংলাদেশের গানে।

গানের সুরের ঝরনাধারায়

প্রাণ করে আকুল

একাত্তরের বাগান থেকে

এনেছি সেই ফুল।

কিংবা, ‘এখানে আমার বঙ্গবন্ধু’ ছড়ায় আমরা পাই :

এই যে আমরা আমাদের মতো

 গেয়ে যাই গান সুখে অবিরত

এই যে ফসল উর্বরা মাটি

 ফুল পাখি নদী অপরূপ খাঁটি

বিজয়ের উল্লাস

এখানে আমার বঙ্গবন্ধু মহানায়কের বাস।

ছড়ায় আনজীর লিটন পথ চলেছেন দৃঢ়চিত্তে এবং বীর বেশে নির্মোহভাবে। ছন্দকে ভেঙে চুরে প্রতিনিয়ত ছড়াকে করে তুলেছেন অধিক আকর্ষণীয়। ছড়ায় অন্ত্যমিল, মধ্যমিল ও অনুপ্রাসের ব্যবহারে আনজীর লিটন যেমন অনন্য, গদ্যের ঢঙেও তিনি লিখেছেন চমৎকার ছড়া।

একটা ছড়ার উদাহরণ দেওয়া যায়। স্বরবৃত্ত ছন্দে তরতর করে এগিয়ে গেছে পঙ্ক্তিগুলো :

‘প্রজাপতি। ডানায় তার বেজায় গতি। রং ছড়ানো ডানা। উড়তে যে নেই মানা। কী যে উচ্ছল! কী যে চঞ্চল! ফুল থেকে যায় ফুলে, প্রজাপতি খেলে, প্রজাপতি দুলতে দেখি রঙিন ডানা মেলে। জিজ্ঞেস করি, প্রজাপতি ঘুমাও কোথায় রাতে ? প্রজাপতি বলল আমায়, ঘুমাই চাঁদের সাথে। চাঁদের বাড়ি দেখতে কেমন ? দুধের বাটি দেখতে যেমন। চাঁদের আলো দেখতে কেমন ? জোছনা রাতে নদী যেমন। চাঁদের মাটি দেখতে কেমন ? সাদা চুনের পাহাড় যেমন। প্রজাপতির কথা শুনে কী যে ভালো লাগে! চাঁদের দেশে যেতে আমার ইচ্ছে বড় জাগে।’

ছড়াকেই আনজীর লিটন সবার উঁচুতে স্থান দিয়েছেন। বলেছেন, ‘ছড়ায় বেঁধেছি প্রাণ। চাই ছড়ায় নতুন বৈচিত্র্য তৈরি করতে। প্রেরণা চাই পাঠকের কাছ থেকে, যারা ছড়া ভালোবাসেন। ছড়ার প্রতি এই ভালোবাসা কোনও বয়সের জালে বাঁধা থাকুক তা-ও চাই না। আমি মনে করি, সাহিত্যের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ছড়া আবির্ভূত হয়েছে। তাই ছড়া শুধু ছোটোদের নয়, বড়দের নয়, ছড়া আসলে সকলের’।

৩.

ছড়ার মধ্যে বসবাস করলেও তিনি সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করছেন সদর্পে। কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত শিশুর মানস গঠনে। তাঁর প্রথম ছড়ার বই খাড়া দুটো শিং প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৯২ সালে। এরপর আমরা পাই : অ আ ই, ও ছড়া তুই যাস কই, প্রিয় ছন্দে নতুন দোলা, আকাশভরা ফুল, বাবা বাড়ি ফেরেনি, বাড়ি কই বাড়ি নাই, মেঘের ঝুমঝুমি, ছড়ায় ছড়ায় ছড়ানো, গুডবয় ব্যাডবয়, গানের সুরে অনেক দূরে, রঙের দেশে তুলির রাজা, দুপুর নাচে টাপুর টুপুর, রঙের গাড়ি ঝমঝম, রঙের পুকুর, ছড়াসমগ্র প্রভৃতি ছড়ার বই। গল্প-উপন্যাসের বইও পেয়েছি : সবুজ ঘাসের সাইকেল, লাল পরী লাল টমেটো, মানিকের লাল কাঁকড়া, বিল্লি বয় মনি। ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় নীল ঘোড়ার খেলা কিশোর উপন্যাসটি।

৪.

শৈশবকাল আর কৈশোরকাল হলো স্বপ্ন দেখার কাল। সেই সময়টা কল্পনার রাজ্যে বাস করার সময়। কল্পনায় পৃথিবী গড়ার সময়। শৈশবকাল আর কৈশোরকাল হলো ‘নির্মল স্বচ্ছ মনে স্বপ্ন দেখতে শেখার বয়স’। শিশুসাহিত্যকে তাই বলা হয় স্বপ্ন-দেখা মনের সাথি। শিশুসাহিত্যিকরা তাই একেকজন শক্তিশালী জাদুকর। রূপকথা মানে অপরূপকথা। সেই অপরূপ কথার মায়াজালে আটকা পড়ে শিশুকিশোর মন।

বিজ্ঞানচিন্তার সহসম্পাদক আবদুল গাফফার তাঁর ‘রূপকথার পাখিরা’ শীর্ষক লেখায় বলেছেন, ‘বন্দী রাজকুমারী, দুঃসাহসিক রাজপুত্র, সাত সমুদ্র তেরো নদী, তেপান্তরের মাঠ, রাক্ষস আর পঙ্খিরাজ―এই নিয়েই আমাদের চিরচেনা রূপকথার জগৎ। আর আছে বনের পশু, আছে পাখিরাও। পাখি ছাড়াও রূপকথা হয়। কিন্তু ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী, শুক-সারি কিংবা ধরো সিন্দবাদের সেই রক পাখি―এগুলো বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপকথার জগৎ কল্পনা করা যায়! রবীন্দ্রনাথ, শরৎ, বিভূতিভূষণের গল্পে-উপন্যাসে, জীবনানন্দের কবিতায় কিংবা সব ধরনের গানে পাখিরা ফিরে ফিরে এসেছে বারবার। তারও বহু আগেই সেই পৌরাণিক যুগের রূপকথার রাজ্যেও বাস করত আজব, বুদ্ধিমান কিংবা হিংসুটে পাখিরা। ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীর গল্প কাউকে বলে দিতে হয় না। হাজার বছর ধরে এই পাখিরা বাংলার ঘরে ঘরে ছেলেমেয়েদের স্বপ্নের জগৎ তৈরি করেছে রূপালি জ্যোৎস্নার রাতে কিংবা ঘোর অমানিশায়। ঘুমপাড়ানি গানের সঙ্গে এ দেশের দাদি-নানিরা ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীদের গল্প শুনিয়ে এ দেশের শিশু-কিশোরদের জন্য মায়াবী শৈশব গড়ে দিয়েছেন।’

আনজীর লিটন নীল ঘোড়ার খেলা উপন্যাসের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের নিয়ে গেছেন এক মায়াবী রাজ্যে, যেখানে কেবল আছে বিস্ময় আর বিস্ময়। ‘একদিকে রূপকথার রাজ্য, অন্যদিকে ভার্চুয়াল পৃথিবী। একদিকে ডালিম কুমার, বেলুন পাহাড়, হাউ মাউ খাউ বলা রাক্ষস, পরির দল এবং জালুয়া হাওড়ের ডাকাত সর্দার হালুয়া। অন্যদিকে বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার, ট্যাব, ভিডিও গেম।’ কী চমৎকার কাহিনি! এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো কাহিনি। অথবা বলা যায়, শেষ না করে ওঠা যায় না এমন কাহিনি।

আইভি চট্টোপাধ্যায় তাঁর এক প্রবন্ধে বলেছেন, “দেশি বা বিদেশি যে কোনও শিশুসাহিত্যের কথা বলতে গেলেই রূপকথারা মনে পড়ে যায়। ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ বা গ্রিম-অ্যান্ডারসনের রূপকথার গল্প নিয়ে শৈশব কাটেনি, এমন শিক্ষিত সাহিত্যপ্রেমী মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অক্ষরজ্ঞানের বয়স থেকেই কোনও একটা সাহিত্য যদি মনে থেকে গিয়ে থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে অনেকেই যে হাতে গোনা দু-চারটি বইয়ের নাম করবেন সেগুলো হল ঠাকুরমার ঝুলি, আলিবাবা আর চল্লিশ চোর, আলাদিন, সিন্দবাদ, অ্যালিস ইন দ্য ওয়াণ্ডারল্যান্ড, গালিভারস ট্র্যাভেলস―এমন সব শিশু-কিশোর সাহিত্য। আমি মোটামুটি নিশ্চিত। ‘চিচিং ফাঁক’ মন্ত্র শিখিয়ে কঠিন পাথরের দেওয়াল সরিয়ে ফেলা কি যার তার কাজ! এই একটি কথায় শিশুমনের দুয়ার খুলে ঢুকে পড়েন লেখক, চিচিং ফাঁক।”

আমিও বলতে চাই―নীল ঘোড়ার খেলায় আনজীর লিটন শিশু-কিশোরদের নিয়ে গেছেন এমন এক স্বপ্নরাজ্যে, যেখানে তিনি চিচিং ফাঁক না বলেই ঢুকে পড়েছেন শিশু-কিশোর মনে।

উপন্যাসের নায়ক নাভিদ। এখানে তার সঙ্গে কাহিনিতে আছেন তার বাবা মা, বোন অবন্তী, আরিফ আঙ্কেল, শিপলু ভাই, শ্রীলংকার দুশিয়ান্তি, লন্ডনের প্রফেসর সদরুল আলী ক্যাম্বেল, বিজ্ঞানী, আছে রাক্ষস, ডাকাত সর্দার হালুয়া এবং আছে নীল ঘোড়া। আমরা দেখি কাহিনির চমৎকার বর্ণনা :

‘রূপকথার রাজ্যে আছে অনেক অনেক ঘোড়া। লাল ঘোড়া, নীল ঘোড়া, পঙ্খিরাজ ঘোড়া। একদিন বাবা নিয়ে গিয়েছিল এক বাউল গানের আসরে। সেদিন গান গাইতে এসেছিলেন বাউলশিল্পী কুদুস বয়াতি। যেতে যেতে বাবার কাছ থেকে শোনা, একসময় প্রত্যন্ত জনপদে পণ্য পরিবহনের অন্যতম বাহন ছিল ঘোড়া। মহাজনের ধান কিনতে নাকি বেপারিরা ঘোড়া নিয়ে আসত। ঘোড়ার গলায় ঘুঙুর বেঁধে শব্দের তালে তালে গ্রামের মেঠোপথ ধরে বাজারে নিয়ে যেত ধানভর্তি বস্তা। বিক্রি শেষে রাজার বেশে মহাজনেরা বাড়ি ফিরত ঘোড়ায় চড়ে। ঘোড়ায় চড়ে একসময় ভিক্ষা করার প্রচলনও ছিল। গ্রামে সরিষা ভাঙাতে ব্যবহার হতো ঘোড়া। কারও কারও বাড়িতেও ঘোড়া থাকত। কোনও কোনও এলাকায় ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা হতো। রাজশাহী অঞ্চলেও ঘোড়ার প্রচলন ছিল। ঢাকার রাস্তায় গুলিস্তানে ঘোড়া দেখা যায়। পুরান ঢাকার দিকে ছুটছে টগবগ টগবগ করে। ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে কক্সবাজারে কেউ কেউ সমুদ্র দেখায় ভাড়ার বিনিময়ে। পুলিশের একটা দল আছে। যার নাম অশ্বারোহী দল। বাবার কাছ থেকে এসব গল্প শুনতে শুনতে গিয়েছিল বাউল গানের আসরে। সেদিনই প্রথম কুদুস বয়াতিকে দেখা সামনাসামনি। এর আগে টিভিতে বহুবার দেখেছে নাভিদ। দেখতে লম্বা। একহারা গড়ন। কপালের ওপর চুল ছড়িয়ে আছে। পিঠ পর্যন্ত ঠেকেছে পেছনের চুল। রং ঝিকমিক করা জামা পরেছে। কোমরে ঘাগরা। শাড়ির মতো কাপড় পেচিয়ে রেখেছে শরীরে। পায়ে নূপুর, গলায় রাজকীয় মালা। বালিশকে ঘোড়া বানিয়ে কী অদ্ভুত নৃত্য দোলায় দুলতে দুলতে গাইছিলেন :

আমার পাগলা ঘোড়া রে

কই থেইকা কই লইয়া যাস

যখন তখন আমারে দিয়া কাটাইয়া নেস ঘাস

আমার পাগলা ঘোড়া রে…

কই থেইকা কই লইয়া যাস…

সেই রাতে নাভিদ ঘোড়ার স্বপ্নে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। ঘোড়া তাকে কোথা থেকে কোথায় যেন নিয়ে গেল। যেতে যেতে নিয়ে গেল রূপকথার রাজ্যে।

রুশ কবি মারিনা তসভেতায়েভার কয়েকটি বাক্য ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় তর্জমা করেছিলেন কেতকী কুশারী ডাইসন। বাক্যগুলো হলো : ‘কোনও কোনও বই এমনই জীবন্ত হয় যে সর্বদাই ভয় হয় যে-সময় বইটাকে পড়া হচ্ছে না সেই ফাঁকে সেটা বদলে গেছে, সরে গেছে নদীর মতন; যখন পাঠক তার জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিল তখন বইটাও তার নিজের জীবন চালিয়ে যাচ্ছিল, নদীর মতন এগিয়ে যাচ্ছিল, চলে যাচ্ছিল দূরে…’ (অ ঈধঢ়ঃরাব ঝঢ়রৎরঃ:ঝবষবপঃবফ চৎড়ংব-গধৎরহধ ঞংাবঃধবাধ)।

আমি বিশ্বাস করি, আনজীর লিটনের বইটি শুধু ছোটোদের নয়, সব বয়সের পাঠককে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনে, নদীর মতো। উপন্যাসের সব চরিত্রই জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে।

সাহিত্য গবেষকদের মতে, ‘সাহিত্যিক যখন ছোটোদের জন্যে লেখেন, তখন শিশু মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবনাটার সঙ্গে সঙ্গে থাকে সৌন্দর্যবোধের চেতনা। ছোট্ট পাঠকের ছোট্ট পৃথিবীর মধ্যে আছে কত শহর, কত দেশ, কত নদী, পাহাড়, সমুদ্র, দ্বীপ, কতরকম মানুষ। ছোট্ট পাঠক সেই পৃথিবীটাকে ভালোবাসতে শুরু করে। কোথায় সাহারা মরুভূমি, কোথায় প্রশান্ত মহাসাগর, কোথায় আমাজন, কোথায় বা মিসিসিপি, ভোলগা, গঙ্গা, পদ্মা… অবচেতনেই শিশু হয়ে ওঠে মহাবিশ্বের অংশীদার। শুরু হয় জীবনপথে নিজেকে খুঁজে নেবার পথ চলা।’ নীল ঘোড়ার খেলায় শিশু-কিশোর পাঠক স্বপ্ন, কল্পনা আর বাস্তবের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারবে, সে-কথা বলা যায় অবলীলায়।

করোনা ভাইরাস, লকডাউনের মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এখানে এসেছে প্রাসঙ্গিক হয়ে। জুম মিটিংয়ে নাভিদের স্বপ্ন আর শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনির দারুণ বর্ণনা পান অংশগ্রহণকারীরা। শ্রীলংকার দুশিয়ান্তি, লন্ডনের প্রফেসর সদরুল আলী ক্যাম্বেল কাহিনি শুনে মুগ্ধ। তার বর্ণণা পাই এভাবে :

‘দুশিয়ান্তি ও ক্যাম্বেল দুজনেই হাততালি দিলেন। সদরুল আলী ক্যাম্বেল বললেন, ব্রাভো। আমরা এক সাহসী কিশোর বালকের গল্প শুনলাম। যে গল্প দিয়ে তৈরি হয়েছে। নীল ঘোড়ার খেলা। বাবা-মায়ের মুখে আনন্দের হাসি ছড়িয়ে গেল। নিঃশব্দে মাকে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল অবন্তী। ছোট্ট হাতে মৃদু শব্দে সেও হাততালি দিয়ে উঠল। নাভিদের কানে ফিসফিস করে বলল, ভাইয়া, ওরা তোমার ভিডিও গেম পছন্দ করেছে। দেখছ না, হাততালি দিচ্ছে। ক্যাম্বেল বললেন, কোনও ক্রিয়টিভ কাজ সত্যিকারের অভিজ্ঞতা ছাড়া হয় না। তুমি তোমার অভিজ্ঞতা দিয়ে অপূর্ব এক খেলা সাজিয়েছ। কেমন করে পেলে এ অভিজ্ঞতা ?  নাভিদ বলল, এই অভিজ্ঞতা পেয়েছি রূপকথার রাজ্য থেকে। যেখানে একটি নীল ঘোড়া টগবগ, টগবগ করে ছুটতে থাকে। এই গেমে নীল ঘোড়া বাংলাদেশের পথ-প্রান্তর-জনপদ পেরিয়ে, রাক্ষসের দরবার পেরিয়ে, ডাকাত সরদার হালুয়াকে ধরতে গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করেছে। এর জন্য ঘোড়াকে ছুটে যেতে হয়েছে একটা বেলুন পাহাড়, পরির রাজ্য। যেতে যেতে রূপকথা রাজ্যের প্রতীকী অনেক লেভেল পার হতে হয়েছে। ক্যাম্বেল বললেন, ভিডিও গেম হচ্ছে একটা মাধ্যমের মাধ্যম। এখানে সুরকার সংগীত রচনা করেন, আর্টিস্ট টুডি ছবি ও থ্রিডি মডেল সৃষ্টি করেন। লেখক গল্প তৈরি করেন। প্রোগ্রামাররা সমগ্র চলন্ত অংশটাকে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নিপুণভাবে কোরিওগ্রাফ করেন। প্লেয়ার বা গেমের অডিয়েন্স সরাসরি এই গেমে অংশগ্রহণ করেন। সারা পৃথিবীতে ভিডিও গেম একটা নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে। বই মানুষকে কল্পনা করা শেখায়। সিনেমা কল্পনার একটি প্রতিচ্ছবি দেখায় আর ভিডিও গেম সেই কল্পনা ও প্রতিচ্ছবিকে অনন্য অভিজ্ঞতায় রূপান্তর করে। ১৯৯৪ সালের আগে ভিডিও গেমকে শুধু টাইমকিলার হিসেবে দেখা হতো। কারণ গেমের প্রধান দর্শক বা অংশগ্রহণকারীরা ছিল ধনী পরিবারের সন্তান। এখন এসব দৃশ্য বদলে গেছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির শিশু-কিশোরদের প্রিয় হয়ে উঠেছে ভিডিও গেম। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ভিডিও গেম রিভিউ করার জন্য রয়েছে আলাদা একটা বিভাগ। ভিডিও গেমগুলো এখন মূল্যায়নও পাচ্ছে। নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। তুমিও তোমার জায়গা করে নিয়েছ নাভিদ। দুশিয়ান্তি ওয়েবের জানালা দিয়ে প্রশ্ন করলেন নাভিদের কাছে, হোয়াই ডিড ইউ থিংক অফ মেকিং অ্যা ভিডিও গেম লাইক দিস ? দুশিয়ান্তির প্রশ্ন শুনে ক্যাম্বেল মাথা নাড়ালেন। বললেন, ইয়েস গুড কোশ্চেন দুশিয়ান্তি। আমিও জানতে চাই নাভিদ, হোয়াট ইনস্পায়ার্ড ইউ ?”

আনজীর লিটন এই লেখার মাধ্যমে ভিডিও গেমের নির্মাণ-ইতিহাস থেকে শুরু করে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির দিকটাও তুলে ধরেছেন। আসলে যে কোনও দেশের সমাজে ছোটোদের জীবনকে রাঙানোর বা গড়ে তোলার কারিগর হিসেবে শিশুসাহিত্যিকদের অবদান অনেকখানি। শুধু লেখাপড়া শিখলেই তো হবে না, তাকে আবৃত্তি করতে হবে, আঁকতে হবে, গাইতে হবে। তার ভেতরে এই উদ্দীপনা তৈরি করতে পারেন লেখকরাই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, এমন লিখতে হবে যা শিশু-কিশোরকে আনন্দ দেবে। খেলার ভেতর দিয়ে, ভিডিও গেমের মধ্য দিয়ে সে যেন আধুনিক পৃথিবীকে চিনতে পারে। আমরা জানি, শিশুমনের বৈশিষ্ট্য হলো বৈচিত্র্য খোঁজা। গল্পে, ছড়ায়, কবিতায়, বিষয়ে, ভাবনায় বৈচিত্র্য। এই বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায় নীল ঘোড়ার খেলায়।

একেবারে শেষ দিকে আনজীর লিটনের প্রত্যাশার কথা আমরা পর্যবেক্ষণ করি। তিনি লিখলেন : “পৃথিবীর সব শিশু-কিশোর বন্ধু ওর নীল ঘোড়ার খেলা খেলুক। বাংলাদেশের শিশুরা খেলবে। ধনী দেশের শিশুরা খেলবে। গরিব দেশের শিশুরা খেলবে। নাভিদ ভাবতে থাকে আমেরিকার ওই কোম্পানি যখন তার নীল ঘোড়ার গেম বানাবে, সেই গেম কি আফ্রিকার শিশুরা খেলতে পারবে ? ইথিওপিয়ার শিশুরা ? সিয়রেলিয়নের শিশুরা ? যারা যুদ্ধে যুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে, পারবে কি তারা খেলতে ? যাদের খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে ? যারা স্কুলের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে ওঠে আয়লান কুর্দির ছবি। যে কিনা সিরিয়া থেকে চলে এসেছিল তুরস্কে। শরণার্থী হিসেবে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে নৌকা করে যাওয়ার সময় তিন বছর বয়সি আয়লান ওর পাঁচ বছর বয়সি ভাই এবং মায়ের সঙ্গে সাগরের বুকে মারা যায়। লাল জামা গায় নিথর দেহ তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে উপুড় হয়ে পড়েছিল। নাভিদের দুচোখ ছলছল করে ওঠে। মনটা কেমন যেন বিমর্ষ হয়ে পড়ে। এই বাংলাদেশেই তো, কত কত শিশু-কিশোর আছে, ক্ষুধা নিয়ে ক্লান্ত হয়ে রোদের তাপে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হয়ত কোনও দিন স্কুলে যায়নি। কম্পিউটার ছুঁয়েও দেখেনি। মাউস চেনে না। ওদের তো কম্পিউটার নেই, ল্যাপটপ নেই, ট্যাব নেই। ফুটবল-ক্রিকেট যে খেলবে, সেই মাঠও তো নেই। রাস্তার ধারে, ফুটপাতে বসে ওরা কীভাবে পারবে নীল ঘোড়াকে নিয়ে খেলতে ? আরেকটা নীল ঘোড়ার খেলা বানাতে ইচ্ছা করছে নাভিদের। বড় হয়ে সে এমন একটি খেলা বানাবে, যে খেলাটা খেলতে পারবে পৃথিবীর সব শিশু। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ একজন কিশোর ভাবতে শুরু করল। এখন ওর অনেক দায়িত্ব। লেখাপড়া করবে। বড় হবে, গেম বানাবে। নিজের দেশের জন্য, পৃথিবীর জন্য নতুন কিছু করার ইচ্ছাগুলো মনের ভেতরে জাগিয়ে রাখল।

এমন সময় মা একবাটি পাস্তা নিয়ে মুখের সামনে তুলে ধরল। নাও বাবা, গরম গরম খেয়ে নাও। তোমার প্রিয় পাস্তা এনেছি। নাভিদ বলল, আমি এখন খাব না মা। আমাকে নীল ঘোড়া ডাকছে। ওই যে কোনও। মা এদিক-ওদিক তাকায়। তোমার নীল ঘোড়াকে কোথাও দেখছি না তো! ওই তো দেখো। সামনে দাঁড়িয়ে। তুমি যাবে আমার সঙ্গে ?

নাভিদের কথা শুনে মা হাসতে থাকে। ঠিক আছে যাব, তার আগে একটু খেয়ে নাও বাবা।

নাভিদ বলল, ওই যে কোনও নীল ঘোড়া আমাকে ডাকছে। আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি নীল ঘোড়া আমাকে বলছে, এসো আমার পিঠে চড়ে বসো। তুমিও চলো মা। তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাব। আমি তো তোমার বীরপুরুষ। রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ কবিতার মতো আমি তোমাকে নিয়ে যাব নীল ঘোড়ায় চড়িয়ে তেপান্তরের মাঠে। হারে রে রে বলতে বলতে তোমায় নিয়ে আমি ছুটতে থাকব। ওই যে বীরপুরুষটা বলে না―

মনে  করো যেন বিদেশ ঘুরে

মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।

তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে।

দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে

আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ’পরে

টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে।

৫.

আনজীর লিটন নিজে কবি বলে তাঁর উপন্যাসে আমরা প্রত্যক্ষ করি বেশ কিছু উপমা। পুরো উপন্যাসে ছড়িয়ে আছে কাব্যময় লাবণ্য। কয়েকটি বাক্যের উদাহরণ আমরা দিতে পারি। যেমন :

ক. ল্যাপটপের কিবোর্ডে রাখা আঙুলটা লাউয়ের ডগার মতো দুলছে।

খ. মনে হচ্ছে বৃষ্টি শেষে রোদেলা আকাশে রংধনু উঠেছে।

গ. কাশবনের মতো দুলে ওঠা বাহারি চুলের লোকটা হাত নাড়তে নাড়তে বললেন…

এরকম অনেক কাব্যিক বাক্য উপন্যাসের পরতে পরতে আছে, যা পাঠকদের আকর্ষণ করবে নিঃসন্দেহে। প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনায় আমরা জেগে উঠি নতুনভাবে।

৬.

আনজীর লিটন আমার বন্ধু। প্রায় কাছাকাছি সময়ে আমরা পৃথিবীতে আসি। আমি ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে, তিনি তার পরের বছর, ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। আমার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে, তাঁর প্রথম বই ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে। লেখালেখি আর অগ্রযাত্রা প্রায় একই সময়ে। আমি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাই ২০১৬ সালে, প্রতিটি কর্মের মতো ধরেই নিয়েছিলাম―তার পরের বছর এই পুরস্কারটি তিনিই পাবেন। এখানে সামান্য ব্যতিক্রম, পেলেন ২০২০ সালে। এছাড়া অনেক পুরস্কার তিনি অর্জন করেছেন। তন্মধ্যে রয়েছে, অগ্রণী ব্যাংক-বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম একাডেমি অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পদক, বাংলাদেশ পাবলিক লাইব্রেরি একুশে সাহিত্য পুরস্কার, ভারতের কুসুমের ফেরা সাহিত্য পুরস্কার প্রভৃতি। বেতার ও টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিকল্পনা-গ্রন্থনা করছেন নিয়মিত। নির্মাণ করছেন নাটক ও তথ্যচিত্র। বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের তিনটি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। ইউনিসেফ, সেভ দ্যা চিলড্রেন, ব্র্যাক এবং প্লান বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে অনেক বই। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মোট কথা, আনজীর লিটন একজন কৃতী লেখকের নাম। তাঁর অন্য বইয়ের মতো ‘নীল ঘোড়ার খেলা’ও একটি চমৎকার বই। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘ভালো বই কাকে বলে ?’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘যে বইটা পাঠককে ভাবায়, সেটাই ভালো বই।’ আনজীর লিটনের নীল ঘোড়ার খেলাও পাঠককে ভাবায়। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো বই।

 লেখক : শিশুসাহিত্যিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button