আর্কাইভগল্প

শব্দঘর : অন্তর্দেশীয় পত্রিকা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি : বিশেষ গল্পসংখ্যা ২০২২, আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও ভারত : প্রতিভা সরকার

ক্রোড়পত্র : সাহিত্য-বিশ্লেষণ

শব্দঘরের আলোচ্য সংখ্যাটি নিয়ে কিছু বলবার আগেই আমার নজর আটকে যায় এর বিনিময় মূল্যে। মাত্র ১০০ টাকা! এইরকম একটি বিশালবপু সাহিত্য পত্রিকা, যার লেখক সূচিতে আছেন তিন দেশের অনেক খ্যাতিমান লেখক, এত অল্পমূল্যে সেটিকে হস্তগত করতে পেরে বহু সাহিত্যপ্রেমী উল্লসিত হবেন। কিন্তু সেই সঙ্গে আমার মনে চেপে বসে দুঃখের দুরপনেয় ভার, বিশাল দামের কারণে এ দেশে কত যে বই ছুঁতে পারি না!

পত্রিকার উপদেষ্টা পর্ষদের মাথায় আছেন বরিষ্ঠ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সেলিনা হোসেন, হরিশংকর জলদাস এবং আরও অনেক নামী ব্যক্তিত্ব। সমন্বয়ক তালিকাতে কলকাতার শ্রী বীজেশ সাহাসহ আরও সাতটি দেশের মাননীয়েরা। সব অর্থেই শব্দঘর একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা। সম্পাদক শ্রী মোহিত কামাল কী নিপুণ দক্ষতায় এতগুলো দেশ, প্রতিনিধি, বিষয় ও লেখা সুন্দর উপস্থাপিত করতে পেরেছেন, তা ভাবলে বিস্ময় জাগে। সম্পাদকীয়তে তিনি খুব সঠিক কথাই বলেন, ‘এই কর্মোদ্দীপনার আড়ালে শব্দঘর-পরিবারের পাশে আপনজন হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের একদল সৃজনকর্মী।’ সৃজন-তাড়নার এই সামগ্রিকতা এবং আন্তরিকতাই সম্ভব করে তুলেছে এক অসম্ভব প্রচেষ্টাকে, যার নাম শব্দঘর।

পত্রিকাটির সম্পদ এর অসাধারণ অনুবাদ কর্মগুলো। দীপেন ভট্টাচার্য, এমদাদ রহমানসহ একঝাঁক অতি দক্ষ অনুবাদক যখন অনুবাদ করেন আফ্রিকা মহাদেশের খুব সাড়া-জাগানো গল্পসমষ্টি, তখন প্রত্যাশিত ফল ফলতে দেরি হয় না। পাঠক অনায়াসে ডুবে যায় বেন ওকরির বার্তা বা আবদু গুবেইরের ‘তুমি কি কখনও আলেকজান্দ্রিয়া স্টেশন দেখেছ’র অনুবাদে। অনুবাদকেরা সবাই এই উপ মহাদেশের, কলকাতার অমিতাভ চক্রবর্তী, কণিষ্ক ভট্টাচার্য, তৃপ্তি সান্ত্রার পাশাপাশি কলম ধরেছেন বাংলাদেশের নাহার তৃণা, ফজল হাসান, এলহাম হোসেনরা। বলতে দ্বিধা নেই সূচির সমস্ত অনুবাদই বিশ্বমানের। এত অল্প কথায় এত ব্যঞ্জনাধর্মী শৈলীতে যে  অনুবাদ সম্ভব সেটা অনুধাবন করার জন্য শব্দঘরের কাছে আসতেই হবে।

‘বার্তা’তে নির্ভুল চিনে নেওয়া যায় বেন ওকরির গুরুভারমুক্ত বিমূর্ত শৈলী, কবিতার মতো দ্ব্যর্থক, দার্শনিক সত্যের মতো উজ্জ্বল। বিরাট শহরে ভাগ্যান্বেষণে আসা একাকী যুবার আশ্চর্য যাত্রার আভাসে ঘেরা এক টুকরো গদ্যখণ্ড নিমেষে মনকে ভরে দেয় চূড়ান্ত নির্দোষ সুখে। বার বার পড়ি, প্রত্যেকবারই আবিষ্কার করি নতুন নতুন অর্থ। দীপেন ভট্টাচার্য বাংলা দেশের খ্যাতিমান লেখক, অনুবাদক; তাঁকে কবি বলতেও ইচ্ছে যায়।

এমদাদ রহমানের নোবেল বিজেতাদের বক্তৃতার অনুবাদে মুগ্ধ হয়েছিলাম। এবার মুগ্ধ হলাম গভীর বেদনা চারিয়ে দেওয়া গদ্যাংশটিতে, যেখানে প্ল্যাটফর্ম, মানুষ, এমনকি প্ল্যাটফর্মের ঘণ্টা চূড়ান্ত বিচ্ছেদের কালে বয়ে নিয়ে আসে চূড়ান্ত বিষাদ। আমাদের অনেকেরই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্যে এটি ধরা রয়েছে বলে আরও ঘন হয়ে মনকে নাড়া দেয় এই বিচ্ছেদ ও তজ্জনিত আজন্ম বিষাদ।

অনেকগুলো পূর্ণাঙ্গ গল্পের অনুবাদ রয়েছে শব্দঘরে। প্রত্যেকটিই প্রথিতযশাদের কলমের মান রেখেছে। ‘আমার বাবা, ইংরেজ লোকটি আর আমি’ একটি বহুস্তরীয় অর্থসম্পন্ন ছোটগল্পের সার্থক অনুবাদ। তিনশ বছর উপনিবেশের দাসত্বের পর প্রতিবাদের এই ব্যক্তিগত এবং গোষ্ঠীগত মাত্রা আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ  করে। গল্প নির্বাচনের কৃতিত্বও অনুবাদকের। এজন্য তাঁর বিশাল একটি ধন্যবাদ পাওনা হয়।

সত্যি কথা বলতে কী, শব্দঘর পড়তে গিয়ে বার বারই মনে হয়েছে অনূদিত গল্পগুলো এই উপমহাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ। আর তা হবারই কথা কারণ আমরা পড়ছি আরেক পদানত মহাদেশের লেখকদের লেখা, যারা আমাদের মতোই সয়েছেন অত্যাচার অপমান মৃত্যুর চূড়ান্ত আঘাত। আমাদের মতোই ফেটে পড়েছেন বিদ্রোহে, কখনও তা সার্থক হয়েছে, কখনও হয়নি। কিন্তু শেষ বিচারে ফলপ্রসূ তার সব কটিই। পরেও সাধারণ মানুষকে জীবন যন্ত্রণা রেহাই দেয়নি, বরং অপদার্থ রাজনীতি তাকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। ফজল হাসান, হারুণ রশিদ মনোজিৎ কুমার দাস, তাঁদের গল্প-নির্বাচন ও চমৎকার  অনুবাদে ব্যাপারটির খোলাসা করেছেন। 

ঔপনিবেশিকতার জোয়াল থেকে মুক্তির পরও বিশেষ করে নারী স্বাধীনতার ধারণা রয়ে গেছে যে তিমিরে সেই তিমিরেই, যদি না শহরকেন্দ্রিক কিছু ফাঁপা উন্নয়নের চটকদারিকে আমরা ধ্রুব বলে মানি। এলহাম হোসেনের অনুবাদে কালো পাখির অভিশাপ বহন করে চলাই যেন আমাদের ভবিতব্য। এই সমস্যাগুলো খুব নিপুণভাবে  ভাষান্তরিত হয়েছে  ঝর্ণা বিশ্বাসের অনুবাদ ‘সবুজ পাতারা’। শামিম মানোয়ার অনূদিত ‘না’ গল্পে, তৃপ্তি সান্ত্রার ‘ঘরণী’ এবং অবশ্যই কণিষ্ক ভট্টাচার্যের ‘হাড়িকাঠের মেয়েটা’য়। যুদ্ধবিরোধী চমৎকার অনুবাদ পাই বিপ্লব বিশ্বাসের কলমে, রক্তের অপরাধের স্বরূপ উন্মোচিত হয় শাহাব আহমেদের ভাষাবিন্যাসে।

অবশ্যই উল্লেখ করতে চাই নাহার তৃণার ‘একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা’। ভয়াবহ দাঙ্গার প্রেক্ষিতে লেখা আদিচির জটিল অথচ মানবিক গল্পের অনুবাদ তিনি যে মরমিয়া ভঙ্গিতে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেন তা সত্যিই ঈর্ষণীয়।

অনুবাদ ছাড়াও শব্দঘরে রয়েছে মৌলিক গল্প, ভারত ও বাংলাদেশের নির্বাচিত লেখকদের। উভয় ক্ষেত্রেই পরিচিত নামই বেশি। তবে যাঁদের লেখা প্রথম পড়লাম তাঁরাও অসাধারণ!

কুলদা রায় বিখ্যাত গল্পকার। জাদু বাস্তবতার জাদুকর। ‘রজনিগন্ধা ফুলটি যেদিন ফুটেছিল’ গল্পটি শেষ হবার পরও বহুক্ষণ চোখের পাতায় লেগে থাকে একটি ছবি, প্রস্ফুটিত রজনিগন্ধা ঢেউয়ের দমকে ক্রমে দূরে ভেসে যাচ্ছে আর জলের নিচে পড়ে আছে শাদা শঙ্খের লকেট যাতে উৎকীর্ণ একটি নামÑশেফালিকা। গল্পটি আসলে একটি ছবি, না কবিতার মোহ মাখা একটি আখ্যান, না এই সমস্ত ওলট-পালট করে দেওয়া নতুন ঘরানার লেখা, এই দ্বন্দ্ব পিছু ছাড়ে না।  

মুম রহমানের গল্প ‘মুক্ত, স্বাধীন’ স্বাধীনতার ধারণাকেই পালটে দেয়। আমাদের স্বাধীনতা সোজা দাঁড়িয়ে নারী নির্যাতন আর শিশু হননের ভিত্তির ওপর যাকে হাজার হাজার বছরের মান্যতা দিয়ে এসেছে পিতৃতন্ত্র। সহজভাবে বলা, কিন্তু বুকের ভেতর তোলপাড় তোলে।

‘তুমি কে হে বাপু’তে’ হরিশংকর জলদাস মুছে দেন দেশ-কালের বেড়াজাল। বেদব্যাসের সঙ্গে অদ্বৈত মল্লবর্মণের তর্কাতর্কির মধ্য দিয়ে বয়ে চলে কাহিনির প্রবাহ। অসম্ভব ভালো লাগে শিমুল মাহমুদের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’। অনাগত এক উপন্যাসের বীজ লুকিয়ে আছে এই সার্থক ছোট গল্পটিতে। স্বকৃত নোমানের ‘পুত্র’ আবিষ্ট করে রাখে। পিতা-পুত্রের সম্পর্কের সব জটিলতা পেরিয়ে আলোয় ফিরে আসবার মন-ছোঁওয়া আখ্যান। হয়ত শেষটুকু আগে থেকে বোঝা যায়, কিন্তু বলার ভঙ্গিতে বুঁদ হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

কাকে ছেড়ে কার কথা বলি! আফসানা বেগমের ‘তার অনেক গল্প শুনেছি’, সুব্রত বড়ুয়ার  ‘অনধিকার’, পারভেজ হোসেনের ‘আলাপ’, মাহবুব ময়ূখ রিশাদের ‘পলায়ন’, নাসরীন জাহানের ‘শরীরের মন মনের শরীর’, ফজলুল কবিরীর ‘একটা ফড়িং’, জয়দীপ দে-র ‘জিলাপি ও বেতওয়ালা’, ইমতিয়ার শামীমের ‘স্যাম্পল জেনারেশন’, আহমাদ মোস্তাফা কামালের ‘অন্তহীন’, মঞ্জু সরকারের ‘উৎস মূলের আগুন’, মামুন হুসাইনের ‘স্মরণ সভার ভ্রান্তপুণ্য’, প্রতিটি গল্পই স্বকীয়তায় ভাস্বর। রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতো ছোটগল্পের চর্চাতেও বাংলাদেশের স্থান   কোথায়, শব্দঘর তার সাক্ষ্য দেবে।

আলাদা করে বলতে চাই মোহিত কামালের ‘কার্তিকে বসন্তের ছোঁয়া গল্পটি’র কথা। বাল্যবিবাহের অভিশাপ এই উপমহাদেশের গরিষ্ঠসংখ্যক মেয়ের মাথার ওপর ডেমোক্লিসের খাঁড়ার মতো ঝুলছে। সেখান থেকে পরিত্রাণ পেয়ে পরিণতি পাবে কি চন্দা-রশিদের অনুচ্চারিত প্রেম ? অত্যন্ত সদর্থক সামাজিক বার্তা বহন করে গল্পটি, সেই সঙ্গে সাহিত্যিক পরিশীলন।

শব্দঘরে সংকলিত হয়েছে ভারতের গল্প। একটি নয়, পনেরটি। তালিকার শুরুতে আছেন বলিষ্ঠ লেখক অমর মিত্র, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, অলোক গোস্বামী,  দেবর্ষি সারোগি, সব শেষে আছেন তরুণতম লেখক হামিরুদ্দিন মিদ্যা। সারির মাঝখানে রয়েছেন নলিনী বেরা, জয়ন্ত দে, অহনা বিশ্বাস, সাদিক হোসেন, বিনোদ ঘোষালের মতো অনেক পরিচিত উজ্জ্বল নাম। আরও রয়েছেন সায়ন্তনী ভট্টাচার্য, প্রতিভা সরকার, গার্গী রায়চৌধুরী, মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, শঙ্খদীপ ভট্টাচার্য। খুব খুঁটিয়ে পড়ে দেখেছি প্রত্যেকটি গল্পই সুখপাঠ্য, যেন লেখকেরা নিজেদের সবচাইতে ভালোটুকু দিয়ে সাজাতে চেয়েছেন শব্দঘরকে। যাঁদের কাছ থেকে শিক্ষণীয় গল্প লেখার কৃৎকৌশল―তাঁদের দু-একজনের গল্পের আলোচনা করে এ লেখা শেষ করব। আমি নিজে একলব্যের মতো নিঃশব্দে দূর থেকে তাঁদের দীক্ষায় দীক্ষিত হতে চেয়েছি। ব্যর্থতা একান্তই আমার কিন্তু দীক্ষাগুরুদের নতুন সম্ভাবনাময় শিষ্যের তাতে ঘাটতি হয় না। অনেক প্রতিকূলতা জয় করেই তারা আসেন, এর নবতম উদাহরণ হামিরুদ্দিন মিদ্যা। তার সাধনি পাঠে প্রভূত আনন্দ পেয়েছি।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক অমর মিত্রের গ্যাস চেম্বার গল্পটি একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা দেয়। কিন্তু সেটি একবারের জন্যও আরোপিত মনে হয় না। বরং অনায়াসে উন্মোচিত হয় কেশরীলালের ষড়যন্ত্রী স্বভাব। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, যে ষড়যন্ত্রের আভাস প্রথম যার কাছে এসে তিনি একজন নারী শ্রমিক, আত্মজার বৈবাহিক হেনস্থায় যার মানসিক স্থিতি ভেঙে পড়ার মুখে, তবু তার চিনতে ভুল হয় না মুখ আর মুখোশের ফারাক, সে অবলীলায় বলে বসে, ‘… লোকটা তুমারে  ভয় দেখাতে আর তুমার সকাল নষ্ট করতে এসেছিল, সকালটা নষ্ট হলে সারাটা দিন কি ভালো যাবে, মেয়েরে সাবধান করে দাও, বুঝতি পারছনি কেডা এয়েছিল, আমার মেয়ে নিয়ে আমি তো যুঝেই যাচ্ছি দাদাবাবু, তারে ও কী করবে, নুন ঠেসে দেব না মুখি!’

প্রতিরোধের গল্পটি পড়তে পড়তে একটা অজানা উদবেগ চেপে ধরে, রহস্যের ছায়া ঘনিয়ে আসে অসাধারণ চরিত্রচিত্রণে।

স্বপ্নময় চক্রবর্তী বাঙালি পাঠকের আজন্ম-লালিত নাম। রাধাকৃষ্ণ গল্পের শুরু থেকেই পাঠক তার হাতের মুঠোয়। হাসপাতালের ওয়ার্ডে বাঁশির সুর তোলা কানাই বাঘের কামড় কেন খেয়েছিল সে প্রশ্নের মীমাংসা হয় একেবারে শেষে, ততক্ষণ আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো নাকানিচুবানি খাই  কানাই-আরতি, ডাক্তার-পিয়ালির বিপরীত মুখী প্রেমের ঢেউয়ে। এরপর কাক দেখে কাটা হাত মনে হলে প্রেম নিয়ে তা নিষ্ঠুর ঠাট্টা নয় বরং কিছু সম্পর্কের চিরন্তনতার ওপর গভীর অধ্যয়ন হয়ে ওঠে।

দেবর্ষি সারগীর গল্প বরাবর মুগ্ধ করে। সৈনিক ব্যতিক্রম নয়। বেঁচে থাকার স্বাধীনতা চেয়ে পালিয়ে আসা সৈনিকের সঙ্গে আমরাও ঢুকে পড়ি এক অপূর্ব জাদুবাস্তবতার জগতে, যেখানে ইচ্ছা পূরণের খেলা চলে দিনরাত।

সুবর্ণরেখার ধারে ধারে হেঁটে চলি নলিনী বেরার সঙ্গে, কানের সঙ্গে মরমেও পশে যায় মাটির মানুষের জবান। জয়ন্ত দে-র আমার দাদা মুগ্ধ করে। দাদা, নেতাজি, কুকুর, বাঘের ফারাক ঘুচিয়ে দেওয়া কথকতা অনেক আয়াসে আয়ত্তে আসে। রূপকথার মোড়কে দারুণ সংবেদনশীল অহনার গল্প, বিনোদ ঘোষালের ইঁদুর বহুদিন মনে থাকবে। মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, শঙ্খদীপ ভট্টাচার্য, সাদিক হোসেন ও সায়ন্তনী ভট্টাচার্যের গল্প চারটি গল্পঘরের সম্পদ।

দু-চারটি ছাপার ভুল ছাড়া শব্দঘর একটি নিখুঁত প্রকাশনা, উৎসব পর্বের মান বাড়ায়। আমার সৌভাগ্য যে একটি কপি বাংলাদেশ থেকে আমার ঘরেও এসেছিল।

 লেখক : ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক,

কলকাতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button