আর্কাইভবইকথালিটলম্যাগ

লিটল ম্যাগ : ছোটকাগজ ব্যাটিংজোন-এর দেশভাগ সংখ্যা : বিভূতিভূষণ মণ্ডল

১৯৪৭ সালের দেশভাগ, বিশেষত বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশের খণ্ডায়ন দেশভাগের ক্ষত ও যন্ত্রণা চিরস্থায়ী রূপদান করেছে। দেশভাগ পরবর্তী পঁচাত্তর বছরেও দেশভাগের ক্ষত ও ক্ষতির নিরসন তো হয়নি বরং কখনও কখনও কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেগুলো রুদ্ররূপ ধারণ করে। দেশভাগচর্চা তাই বিশেষত বাঙালি এবং পাঞ্জাবিদের কাছে নিত্যকার দিনযাপনের অনুষঙ্গের মতো। তবে আমরা বাঙালিরা পাঞ্জাবিদের খবর অতটা রাখি না কারণ আমরা নিজেরাই দেশভাগে চরম বিপন্ন পরিস্থিতির শিকার। দেশভাগের পর অস্থিতিশীল নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে গেলে ঐতিহাসিক সমাজতাত্ত্বিক এবং চিন্তাশীল সাধারণ মানুষও দেশভাগের নানান পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে লিখতে শুরু করেন। দেশভাগ নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ, বাংলা-হিন্দি-উর্দু এমনকি ইংরেজি ভাষাতেও কম লেখা হয়নি। পাশাপাশি দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কথাসাহিত্যও। যদিও দেশভাগের অভিঘাত নিয়ে বাংলা ভাষায় যথার্থ সাহিত্য রচিত হয়নি বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করে থাকেন, আবার তার কারণও ব্যাখ্যা করেন কেউ কেউ। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে দেশভাগের ক্রান্তিকাল পেরিয়ে এসে আজও পর্যন্ত যে বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমে দেশভাগের চর্চা চলছে তা দেশভাগের ক্ষত ও ক্ষতিকেই প্রকটিত করে তোলে। একটি সময়ে দেশভাগচর্চায় কিছু ঝুঁকি এবং প্রতিবন্ধকতা ছিল বিভিন্ন কারণে। পরবর্তীকালে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। সত্য যে কঠিনÑএই বোধ নিয়ে দেশভাগচর্চায় ব্রতী হয়েছেন বিভিন্ন মাধ্যমের বিশিষ্টজনেরা, এমনকি সাধারণ মানুষেরা। দেশভাগের প্রত্যক্ষ প্রজন্ম পেরিয়ে এসে দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের লেখকরাও লিখেছেন দেশভাগ নিয়ে। প্রকাশিত হচ্ছে একক গ্রন্থ, সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, এমনকি বিভিন্ন পত্রিকা দেশভাগ নিয়ে প্রকাশ করছে বৃহৎ কলেবরের দেশভাগ সংখ্যা। অর্থাৎ বহুকৌণিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেশভাগের অপরিহার্যতা কিংবা অসারতা নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে। তবে সামগ্রিক বিচারে, যেসব সমস্যা সমাধানের জন্য দেশভাগ করা হয়েছিল সেসব সমস্যা বহুলাংশেই সমাধান হয়নি এবং বিশেষত বাঙালিদের জন্য চূড়ান্ত বিচারে দেশভাগ এবং বাংলাভাগ চিরকালের ক্ষতিসাধনের বীজটি বপন করেছেÑঅখণ্ড বাঙালিসত্তায় বিশ্বাসীদের ধারণা এমনই। বাংলাদেশের অন্যতম তরুণ কবি মাহফুজ রিপন সম্পাদিত ব্যাটিংজোন পত্রিকার ৪র্থ বর্ষ ৪র্থ সংখ্যার দেশভাগ বিষয়ক সংখ্যাটি যেন উপরিউক্ত বক্তব্যকেই ধারণ করে আছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের নিরিখে বলা যায় দেশভাগের পঁচাত্তর বছর পূর্তিকে সামনে রেখে যেসব লিটল ম্যাগাজিন দেশভাগ বিষয়ক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে, দুই বাংলাতেই, ব্যাটিংজোন নিঃসন্দেহে সেগুলোর অন্যতম। কাছাকাছি সময়ে ২০১৯ সালে ২৪ পরগণা থেকে প্রকাশিত বিশ্বজিৎ ঘোষ ও অন্যান্য সম্পাদিত এবং অন্যকথা পত্রিকার দেশভাগ বিষয়ক বিশেষ সংখ্যাটির বহুমাত্রিক বিষয় বৈচিত্র্যের সাথে মাহফুজ রিপনের ব্যাটিংজোন-এর তুলনা করা যেতে পারে।

মোস্তাফিজ কারিগরের ব্যঞ্জনাময় চমৎকার প্রচ্ছদ এবং লেখকদের লেখার সাথে দেশভাগের প্রাসঙ্গিক আলোকচিত্র সংযোজন পত্রিকাটিকে অনন্য মাত্রা দান করেছে। ২৪৪ পৃষ্ঠার পত্রিকাটি মাহফুজ রিপন দীর্ঘকালের প্রস্তুতি এবং নিপুণ পরিকল্পনা নিয়ে সম্পাদনা করেছেন সে কথা না বললেও চলে। সূচিপত্রের বিন্যাস দেখলেও পত্রিকাটির বিষয় বৈচিত্র্যের গভীরতা এবং প্রাসঙ্গিকতা উপলদ্ধি করা যায়। সূচিপত্রের সাথে লেখকদের নামের তালিকাটিও দেখে নেয়া জরুরি। দেশভাগের মুক্তগদ্য অংশে আমিরুজ্জামান ফারুকের একটি মর্মস্পর্শী রচনাÑ‘সাতচল্লিশের দেশভাগ : আমাদের মনযাতনার ব্যবচ্ছেদ’ এবং সন্দীপন ধরের ‘বঙ্গভঙ্গ ও বাংলা সাহিত্য’ একটি তথ্যপূর্ণ রচনা। দেশভাগের কবিতা পর্ব-এক (পরবর্তী অংশে পর্ব-দুই লেখা হলেও প্রথম অংশে পর্ব-এক লেখা হয়নি। মুদ্রণপ্রমাদ হতে পারে)-এ কবিতার সংখ্যা ২৬। কবিদের মধ্যে রয়েছেনÑঅসীম সাহা, ফারুক মাহমুদ, মাহমুদ কামাল, শিহাব শাহরিয়ার, গোলাম কিবরিয়া পিনু, আনোয়ার কামাল, আব্দুর রাজ্জাক, হাসান আল আব্দুল্লাহ, মতিন রহমান, তপন বাগচী, টোকন ঠাকুর, মুজিব ইরম, মামুন মুস্তাফা, অজয় রায়, মনজুর রহমান, সাব্বির রেজা, তমিজ উদ্দীন লোদী, রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, গাজী লতিফ, শুক্লা গাঙ্গুলি, তোফায়েল পারভেজ, লিয়াকত বখতিয়ার, আবু সুফিয়ান খান, মকবুল মাহফুজ, রোকন রেহান, শরীফ আস-সাবের প্রমুখ। দেশভাগের মঞ্চনাটক-এ মান্নান হীরা রচিত এবং আলী যাকের নির্দেশিত ‘ভাগের মানুষ’ এবং আসাদুল্লাহ ফরাজী রচিত ও হুমায়ূন কবীর হিমু নির্দেশিত ‘সী-মোরগ’ মঞ্চনাটক দুটি নিয়ে আলোচনা। দেশভাগের কবিতা পর্ব-দুই-এ রয়েছে ২৭টি কবিতা। কবিরা হলেনÑ অনন্ত উজ্জ্বল, আহমেদ শিপলু, রনি অধিকারী, কুশল ভৌমিক, মাহফুজ রিপন, আরিফুল হাসান, রঞ্জনা বিশ্বাস, কাজী শোয়েব শাবাব, নিলয় রফিক, রফিকুজ্জামান রণি, বঙ্গ রাখাল, সাইয়্যিদ মঞ্জু, চামেলী বসু, কিং সাউদ, অনিরুদ্ধ দিলওয়ার, আসাদ আল আমিন, নিউটন বিশ্বাস, সাফায়েত ঢালী, সুমন্ত রায়, এনাম রাজু, রোকাইয়া মুন্নী, আখতার বানু জলি, আতিকা বেগম রাশি, পারভীন শাহনাজ, মাহবুবা ফারুক, বিপ্লব রায় ও শিমুল পারভীন। দেশভাগের চলচ্চিত্র-এ তানভীর মোকাম্মেলের প্রামাণ্যচিত্র সীমান্তরেখা এবং চিত্রানদীর পাড়ে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন যথাক্রমে আলমগীর শাহরিয়ার এবং শুকদেব হালদার। দেশভাগের কবিতা-ভারত পর্ব-এ ৩০টি কবিতার কবিরা হলেন যথাক্রমে সৌমিত বসু, সুব্রত সরকার, অমিতাভ রায়, তৈমুর খান, নীহাররঞ্জন সেনগুপ্ত, মধুমঙ্গল বিশ্বাস, বৈজয়ন্ত রাহা, রফিক উল ইসলাম, তীর্থঙ্কর মৈত্র, সুশান্ত নন্দী, রাজীব ঘাঁটী, বিধানেন্দু পুরকাইত, আবু রাইহান, সজলরঞ্জন হালদার, শুভঙ্কর সাহা, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, বিবেকানন্দ বসাক, শুভদীপ রায়, অমলকান্তি চন্দ, অভীককুমার দে, পৃথ্বীশ দত্ত, অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, শুভঙ্কর পাল, শুভশ্রী সাহা, সুদেষ্ণা সিনহা, সুমিত বৈদ্য, অমৃতলাল বিশ্বাস, গৌরী মৈত্র, অমিত দে, ইলাশ্রী দেবনাথ। দেশভাগের ছোটগল্প-এ মোহিত কামাল, দীলতাজ রহমান, প্রণব মজুমদার, ফিরোজ আহমেদ, বিষ্ণু সরকার, সৈয়দ নূরুল আলমের ৬টি গল্প স্থান পেয়েছে। দেশভাগের ছোটগল্প নিয়ে মুক্তগদ্য-এ নূর কামরুন নাহার লিখেছেন ‘ছোটগল্পে দাঙ্গা ও দেশভাগ : মানবিক বিপর্যয় আর মানবিকতার জয়গাথা’ নামে একটি প্রবন্ধ। দেশভাগের গুচ্ছকবিতা অংশে কবিতা লিখেছেন খসরু পারভেজ, দুলাল সরকার পরিতোষ হালদার, ফরিদুজ্জামান, কামরুল বাহার আরিফ। দেশভাগের স্মৃতি-বিস্মৃতি পর্বে মোহাম্মদ এমদাদুল হক লিখেছেন ‘হৃদয়ের ব্যবচ্ছেদ’ নামে একটি আবেগঘন রচনা। দেশভাগের অণুগল্প-এ লিখেছেন চন্দন চৌধুরী, সনোজ কুণ্ডু, তরুণ ইউসুফ, জাকির হোসেন, মফিজুল হক, আলমগীর মাসুদ, শেলী সেনগুপ্তা, বাসুদের সেন, দিব্যেন্দু নাথ, খায়রুল বাকী শরীফ। সবশেষে দেশভাগের কবি ও কবিতা পর্বে বিভূতিভূষণ মণ্ডল লিখেছেন ‘দেশভাগ, হৃষিকেশ হালদার এবং তার কবিতা’ নামে একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ। সুচিপত্রের বিন্যাস দেখে বলা যায় যে, সাহিত্যিক প্রেক্ষাপটে নানামাত্রিকভাবে দেশভাগকে ধারণ এবং উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন সম্পাদক মাহফুজ রিপন। পত্রিকার সংখ্যাটির একাধিক বিশেষ বেশিষ্ট্য রয়েছে এবং সেই কারণেই পত্রিকাটি ব্যতিক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা এই যে, যারা দেশভাগের প্রত্যক্ষ শিকার নন, দেশভাগের বাস্তব অভিজ্ঞতা যাদের নেই তারা যদি দেশভাগ নিয়ে লেখেন তাহলে সেই লেখা যথার্থ এবং বিশ্বাসযোগ্য হবে না। একথা বহুলাংশে সঠিক। তবে দেশভাগের অভিজ্ঞতা যে কেবল ১৯৪৭ সালেই দেশভাগের কবলিত মানুষেরা লাভ করেছেন তা কিন্তু নয়। কারণ দেশভাগ একটি চিরবহমান ক্ষত ও ক্ষতির নদী হয়ে আছে। যেসব প্রেক্ষাপটে দেশভাগের মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল আজও ভারতীয় উপমহাদেশে সেসব প্রেক্ষাপট যেমন বদলে যায়নি তেমনি নতুন কিছু প্রেক্ষাপটও তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়তই মানুষ দেশভাগের হাহাকার শুনছে, দেশত্যাগের ঘটনা প্রত্যক্ষ করছে। সে কারণে দেশভাগের তৃতীয় প্রজন্ম কীভাবে দেশভাগকে দেখছে, দেশভাগের কবলে পড়া তার পূর্বপুরুষদের যন্ত্রণা তারা কতটা উপলদ্ধি করছে, দেশহারাদের অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করিয়ে তারা কতটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছে সেসব চিত্র পাওয়া যাবে ব্যাটিংজোন-এর এই সংখ্যার শতাধিক লেখকের রচনায় দেশভাগের আলোচনা কেন আজও প্রাসঙ্গিক কিংবা দেশভাগ থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই সেই সম্পর্কে চমৎকার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন সম্পাদক মাহফুজ রিপন সম্পাদকের নিবেদন অংশে। অংশবিশেষ পাঠ করা যাক :

১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ ভেঙে দুটি দেশ হলো। মুসলিমদের জন্য তৈরি হলো নতুন দেশÑপাকিস্তান আর হিন্দুরা রয়ে গেল ভারতে। হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিলো সে সময়ের সুবিধাভোগী কিছু মানুষ। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের ফলে আলাদা ভূখণ্ড পেয়েছে হিন্দু ও মুসলিমরা। তখন অবশ্য মানুষ আর মানুষ ছিল না। তারা ছিল ‘হিন্দু’ আর ‘মুসলমান’। হিন্দুরা মুসলমান মেরেছে, মুসলমানেরা হিন্দুদের। তারপর সীমান্ত পিলার বসিয়ে বলেছে, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

দেশভাগের ফলে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে চলে যেতে হয়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ভারতবর্ষ জুড়ে এক অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। দেশভাগে বিশ লক্ষের মতো মানুষ নিহত হয়। ১৯৪৭-এর পর ১৯৭১ সালে দ্বিতীয় দেশভাগ হয়। তবে এটা ছিল অনিবার্য। পশ্চিম পাকিস্তানের নিপীড়ন ও শোষণ অনিবার্য করে তুলেছিল এই দ্বিতীয় দেশভাগের। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে একথা অবলীলায় বলা যায়, হাজার বছর পরেও দেশভাগের ক্ষত বাঙালিকে ভারাক্রান্ত করে তুলবে। কেননা দেশহারা, মাটিহারা, স্বজনহারা অসহায় মানুষেরা দীর্ঘশ্বাস আজও ছবির মতো ঝুলে আছে সীমান্তের কাঁটাতারে।

সম্পাদকের নিবেদন-এর এই অংশই যেন সকল লেখকের রচনার মর্মকথা। খণ্ডিত বাংলাকে বাস্তবে আর অখণ্ডরূপে পাওয়া না গেলেও খণ্ডিত বাংলার অখণ্ড বর্ণমালা দিয়ে মাহফুজ রিপন দুই বাংলার লেখকদের এবং বাঙালিদের একসূত্রে গ্রোথিত করেছেন ব্যাটিংজোন-এর এই বিশেষ সংখ্যায়।

দেশভাগের সমসাময়িক কালে বা অব্যাবহিত পরে বাংলা ভাষার বহু বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক দেশভাগ নিয়ে কবিতা গল্প-উপন্যাস রচনা করেছেন, অনেকেই আবার দেশভাগ প্রসঙ্গ থেকে সচেতনভাবেই নিজেদের সরিয়ে রেখেছেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে দেশভাগের ইতিবাচক-নেতিবাচক চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে, দেশভাগের পক্ষে-বিপক্ষে থাকাদের কেউ কেউ আবার পরবর্তীকালে মত পরিবর্তন করেছেনÑএসব নানান কারণে দেশভাগ একটি অমীমাংসিত সমস্যা এবং জবাবহীন জিজ্ঞাসা হয়ে আছে। তারপরও ব্যাটিংজোন-এ সংকলিত দুপার বাংলার শতাধিক নবীন প্রবীন কবি-লেখকের রচনাগুলো পড়লে দেশভাগের শিকার দেশজননী এবং তার সন্তানদের অন্তরাত্মার ক্রন্দনই যেন শোনা যায়।

দেশভাগের উপন্যাস নিয়ে কোনও আলোচনা না থাকাটা ব্যাটিংজোন-এর দেশভাগ সংখ্যার একটি বিশেষ অপূর্ণতা। তারপরও দেশভাগের সাহিত্য নিয়ে সমকালে এবং পরবর্তীকালেও যারা গবেষণা করবেন ব্যাটিংজোন-এর এই সংখ্যাটি তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে থাকবে।

 লেখক : প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button