গল্প : জাল্লিকাট্টু : জয়দীপ দে

ট্যু র অপারেটরদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া মানে মুখে ঠুলি লাগিয়ে কাঁধে জোয়াল তুলে নিয়ে পাল বেঁধে হাঁটা। তারা যেদিকে নেবে সেদিকে যাও। যেখানে ছাড়বে সেখানে মুখ বাড়িয়ে খড়-বিচুলি টেনে নাও। তোমার যে একটা ইচ্ছে অনিচ্ছে আছে, সেদিকে তাদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। এর মধ্যে সহযাত্রীরাও কম যায় না। ৮টার গাড়ি ১১টার আগে কোনওভাবেই ছাড়বে না। এ গোছল করছে, ওর আবার পেট ক্লিয়ার হয় না, কেউ আবার এখনও ‘শয্যা হইতে গাত্রোত্থান’ই করেনি। কেউ প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে গেছে। তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ তৈরি হয়ে বসে আছে, শুধু চোখের কাজলটা দেয়া বাকি, তাতেই এক ঘণ্টা। একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা। অথচ যেদিন আপনি একটু দেরি করবেন, সেদিনই দেখবেন পনে ৮টায় গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।  ভ্রমণের সব মজা পায়ে পা মেলাতেই মাটি হয়ে যায়।

কিন্তু উপায় ছিল না। দলবেঁধে না গেলে, কোনও অপারেটরের জিম্মায় না থাকলে, স্টেশন লিভের অনুমতি মিলছিল না। আফটার অল আমরা বিদেশ বিভুঁই থেকে এসেছি। সরকারি কিছু নিয়মকানুন আছে। তাই বাধ্য হয়ে রাজি হলাম আমরা।

ছোট ছোট পাঁচখানা ট্যুরভ্যানে করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম রাতের অন্ধকারে।

সবার ইচ্ছে পামবান ব্রিজ পেরিয়ে রামেশ^রম যাওয়ার। পামবান ব্রিজের ওপর বহু ডকুমেন্টারি এখানে ওখানে দেখা যায়। একটা তামশা বটে। সাগরের মধ্যে সেই একশ বছর আগে ব্রিটিশ রেলের জন্য ব্রিজ বানিয়েছে। জাহাজ এলে ব্রিজের পাল্লা খুলে যায়। আবার পাল্লা জুড়ে দিয়ে তার ওপর দিয়ে দিব্যি রেলগাড়ি চলে। এখন এই রেলব্রিজের পাশে রোডব্রিজ করা হয়েছে। সেতু পেরুলেই রামেশ^রম। রামচন্দ্র রাবনকে বধ করে এখানে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন। রামেশ^রমের শেষ মাথায় ধনুষ্কোডি। বর্শার ফলার মতো এক চিলতে মাটি সাগরের বুকে গিয়ে বিঁধেছে। এখান থেকেই নাকি, পাথর ফেলে ফেলে সেতু বানিয়ে হনুমানের সৈন্যদল সীতা উদ্ধারের জন্য গিয়েছিল। তবে এসবের চেয়ে বেশি আকর্ষণ ছিল এপিজে আবদুল কালামের বাড়িটা দেখে যাওয়ার। তাঁর উইংস অফ ফায়ার বইতে এই পামবান ব্রিজ, রামেশ^রম ঘাটের বর্ণনা পড়েছি। দেখার বড়ো শখ আছে।

কিন্তু চেন্নাই থেকে রামেশ^রম মেলা দূর। একযাত্রায় রামেশ^রম পর্যন্ত যেতে রাজি নয় অপারেটর। তাদের প্যাকেজে এক রাত মাদুরাইয়ে থাকা আর দিনে সিটি ট্যুর। মাদুরাই শব্দটা অপারেটরের ম্যানেজারের কাছ থেকেই প্রথম শোনা। না জানি কী হবে জায়গাটা। নেট সার্ফিং করে দেখলাম বিরাট বিখ্যাত জায়গা। একসময় তামিলনাড়ুর শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র ছিল এ শহর। খ্রিস্টের জন্মের অন্তত তিনশ বছর আগে ম্যাগাসথেনেস ভারতবর্ষে এসেছিলেন। তাঁর সফরনামায় এই শহরের কথা আছে।

সারারাত ভ্রমণ শেষে সকাল সকাল মাদুরাই শহরে এসে পৌঁছালাম। মসৃণ ফোর লেন রাস্তায় গাড়ি ছুটেছে নির্ঝঞ্ঝাটে। তাই ঘুমও হয়েছে গভীর। ফুরফুরে মনে হোটেলে ঢুকলাম দলের সঙ্গে। আমি আর খাইরুল একরুমে। সে রুমে ঢুকেই রুম সাজানো আর ধুলো ঝাড়তে ব্যস্ত হয়ে গেল। মনে হচ্ছে বাকি জীবনটা তাকে এই রুমেই কাটাতে হবে।

‘ধুর, রাখ এসব। নাস্তা করতে চল।’

‘এই তো দাদা…’

খাইরুলের এই তো দাদার ওপর ভরসা করে আমি বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। একটা ঝিমঝিমে তন্দ্রাভাব আমাকে ঘিরে ধরেছে, এমন সময় দরজায় প্রবল ধাক্কা। দরজার হুড়কো লাগান ছিল কি না জানি না, তবে যে ধাক্কা দিয়েছে তাতে হুড়কোর বাপেরও ক্ষমতা নেই এক জায়গায় স্থির থাকার। ফলে আপনা থেকে দরজা খুলে  গেল। কালো কুচকুচে দুটো ছেলে পিঠে বিশাল ব্যাগ নিয়ে ঢুকে পড়ল রুমে। আমি ধড়ফড় করে উঠে বসলাম। এ নিশ্চিত মুম্বাইর হোটেল তাজের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। আরেক মন বলে উঠল কিসের সঙ্গে কি মিলাও। কিন্তু সংশয়ী মনটা কোনওভাবে নির্ভার হতে পারছিল না। হাজার হোক আমি বিদেশি। আর হোটেলটাও একেবারে যেনতেন নয়। তাজমহল না হোক রঙমহল তো!

যুবকদ্বয় পিঠের ব্যাগ মাটিতে রেখে হড়বড় করে কি যেন বলে গেল। অড়ংবড়ং টাইপের শব্দগুলো।

কপালে যা আছে তা তো হবেই, মনে জোর নিয়ে বলে উঠলাম, ইংলিশ প্লিজ।

আর ইউ ফরেইনার!

ফ্রম বাংলাদেশ।

ও মাই গড, ইউ আর লুকিং সেইম।

এক যুবক বিস্ময়ে ধসে পড়ল আমার পাশের খাটে। কটাশ করে একটা শব্দ হলো।

মনে মনে বললাম, আমি তোর মতো এত কালো!

তোমার নাম কী ? আমার দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট ইংরেজিতে বলল।

আর ইউ হিন্দু ?

সন্দেহ হয়!

এভাবেই জমে উঠল আড্ডা।

মিশুক ছেলেটার নাম মাধবম। কাজ করে চেন্নাইর অশোক লে ল্যান্ড কোম্পানিতে। পাওয়ারে ডিপ্লোমা করেছে। তবে যন্ত্রের পাওয়ারের চেয়ে রাজনীতির পাওয়ারের প্রতি তার বেশি আগ্রহ। গ্রেট ইন্ডিয়া বলতে সে অন্ধ। ইন্ডিয়া পরাশক্তি হয়ে উঠছে। পাকিস্তানকে বানাবে ম্যাশড পটেটো আর চীনকে ফিশ ফ্রাই। আইটি, মেডিসিন, লার্জ স্কেল ইন্ডাস্ট্রিতে ইন্ডিয়ার এচিভমেন্ট নিয়ে তার আহ্লাদের অন্ত নেই। কথায় কথায় বলে, ‘গ্রেট ইন্ডিয়া বিকামস গ্রেট পাওয়ার। উই নিড মোর ইউনিটি এন্ড মোর ইন্টিগ্রিটি।’

‘হুম। সব দেশেতেই তা দরকার।’ 

‘নেপাল ভুটান কিংবা বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট দেশগুলো থাকার কি মানে আমি বুঝি না। এসব তো গ্রেটার ইন্ডিয়ারই পার্ট। সব এমালগেমেটেড হয়ে গেলে ইন্ডিয়া কত বড়ো পাওয়ার হয় ভেবেছ?’

‘সরি। ইউ হ্যাভ ক্রসড ইয়র লাইন।’ আমি জ¦লে উঠলাম।

‘কুল বয়।’ মাধবম আমার দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল। ‘দেখো একসময় আমাদের বাপ-দাদারা সোভরেইনিটি নিয়ে মুভমেন্ট করেছে। দ্রাবিড়দের একটা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হবে। যেখানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের কোনও খবরদারি থাকবে না। পেরিয়ার আর আন্নাদুরাই মিলে সেজন্যই ডিএমকে গঠন করেছিল। আন্না বড়ো দূরদর্শী মানুষ ছিলেন। তিনি বুঝলেন দলছুট হলে দলের শক্তি সঙ্গে থাকবে না। বরং দলপতি হয়ে দলকে নেতৃত্ব দেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আজ দেখো হিন্দির আগ্রাসনের মুখেও আমরা কেমন মাথা উঁচু করে চলছি। দলছুট না হয়ে দলপতি হতে চাই আমরা।’

আমি কথা বাড়ালাম না। এই উগ্র জাতীয়তাবাদীর সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করা বৃথা।

খাইরুল বাথরুম থেকে বের হয়ে তোয়ালে পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আর মাধবমকে পাত্তা না দিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়লাম।

হোটেলের সামনের একটা রেস্তোরাঁ থেকে কিছু মুখে পুরে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। শহরের ভেতরে বড়ো গাড়ি চলবে না। তাই হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে হবে। চারদিকে কেবল শাড়ি-কাপড়ের দোকান। ময়ূরের নকশা করা সিল্কের শাড়িগুলো দোকানের সামনে উড়ছে। একটু হাঁটতেই সরলরেখার মতো একটা পথ চোখে পড়ল। রাস্তাটি এসে ঠেকেছে দশতলা সমান উঁচু এক গোপুরামের পায়ে। গোপুরাম মানে মন্দিরের তোরণ। তোরণজুড়ে আসুরিক চেহারার সব নরনারী আর হিংস্র সিংহ। তাদের শরীরে উজ্জ্বল রঙ। ভয় লাগে।

মন্দিরে ঢোকার আগে জুতো খুলে নিতে হলো। তারপর পড়লাম মহাসমস্যায়। মেঝেতে পা দিতেই গরম তাওয়ার মতো ছ্যাৎ করে ওঠে।

পরে দেখি মন্দিরের চত্বরে সাদা কিছু পথ এঁকে দেয়া আছে। সেই পথ দিয়ে হাঁটলে তেমন গরম লাগে না।

বিশাল মন্দির। খেই হারানোর অবস্থা। মন্দিরের ছাদের নিচে দিব্যি হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। মন্দিরের ভেতর একটু পর পর একেকটা ছোট ছোট মন্দির। ভক্তদের ভিড়। চারদিকে কারাগারের মতো উঁচু দেয়াল। ঢোকার মুখে একেকটা গোপুরাম। ছোট বড়ো চৌদ্দটা গোপুরাম চারদিকে প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ঘোরালে শুধু এদেরই নকশা দেখা যায়।

বিপুলায়তনের একটা কারাগারের মতো মনে হয় মন্দিরটা। ট্যুর গাইড নিধি জানালো আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুর আক্রমণ চালিয়ে মন্দিরটাকে ধ্বংস করে ফেলেছিল। তারপর পুনর্নির্মাণ করা হয়। পরে যাতে লুণ্ঠনকারীরা সহজে আক্রমণ করতে না পারে তাই দেড়তলা উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে মন্দিরটিকে।

ট্যুর গাইডের তাড়ার কারণে ভালো করে মন্দিরটা দেখা গেল না। তারপর গাড়ি ছুটল মুরুগান মন্দিরে। বাংলায় যে দেবতাকে কার্তিক বলে পূজা করা হয় তামিলে তিনিই মুরুগান।

সেখানে আবার মাধবমের সঙ্গে দেখা। এর মধ্যে সে মাথা মুড়িয়ে ফেলেছে। মুণ্ডিত মস্তক চকচক করছে। পরনে এক প্যাঁচের তামিল ধুতি। গা আদুল। নির্মেদ শরীরটা গ্রানাইট পাথর কুঁদে বের করা যেন। তার ওপর লোমগুলো পরগাছার মতো লেগে আছে।

পুজোর নৈবেদ্য হাতে সে বলল, একটা মানত ছিল, তাই এলাম।

কী মানত ?

জাল্লিকাট্টু খেলায় যাওয়ার আগে মানত করেছিলাম সুস্থভাবে ফিরে এলে মুরুগানের পূজা দেব।

স্পেনিয়ার্ডদের মতো যে তোমরা ষাঁড়ের সঙ্গে লড়াই করো সেটা ?

তুমি জানলে কী করে ?

সিনেমা দেখে।

আমাদের সিনেমা তোমরা দেখ ?

রজনীকান্ত আমাদের ওখানে হিট। ওঁকে নিয়ে মজার মজার জোকস আছে।

কেমন শুনি।

চাঁদে কখন থেকে গর্ত দেখা দিয়েছে জানো ?

না।

যেদিন থেকে রজনীকান্ত সিনেমায় বন্দুকের ব্যবহার শুরু করল।

হা হা হা। কী শুনালে বন্ধু!

 তোমাদের এই সুরিয়েলিস্টক মারামারি নিয়ে কিন্তু আমাদের দেশে কম হাসি ঠাট্টা হয় না।

শুনো, আমরা মার্শাল ন্যাশন। দুধ দাঁত পড়ার পর থেকেই আমরা সেলফ ডিফেন্স শিখি। শিখি : মা ও মাতৃভূমির সম্মান সবার ওপরে। এর জন্য সকল ত্যাগে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই মারপিট আমাদের জীবনের অংশ। আমাদের দেশে প্রসাধননির্ভর পুরুষের মূল্য নেই। আমরা চাই পৌরুষদীপ্ত পুরুষ। গোঁফ থাকবে। পেশল শরীর।

তোমরা শিখো, অথচ আমরা না শিখেই লড়াই করি। আমাদের লিবারেশন ওয়ারে থ্রি মিলিয়ন পিউপুল মার্টিয়ার্ড হয়েছে। বাট আমরা মার্শাল ন্যাশন নই। আমরা সিংগার ন্যাশন। রবীন্দ্রনাথ লালনের সাকসেসর।

হুম। শুনেছি। তখনই মন্দিরের ঘণ্টা বেজে উঠল। মাধবম ব্যস্ত হয়ে উঠল, এখন যাই। সন্ধ্যায় আড্ডা হবে।

মাধবম গেল পূজা দিতে। আমরা ছুটলাম গান্ধি আশ্রমের দিকে।

সন্ধ্যায় আর মাধবমের দেখা নেই। তার জন্য অপেক্ষা না করে চলে গেলাম মাদুরাই টেক্সটাইলের শো রুমে। তিন শ টাকার দুটো শাড়ি কিনলে একটা ফ্রি। এ তো তুঘলোকি কাণ্ড। রাস্তার দোকানগুলো আরও এককাঠি সরেস। সাড়ে তিন হাজার টাকা যে শাড়ির দাম চাইছে চেপে ধরলে চার শ টাকায় দিয়ে দিচ্ছে। দেয়ার পর ফিসফিস করে বলছে, অনলি ফর ইউ।

এদের কাণ্ডকারখানা দেখে বুঝলাম ফটকাবাজিতে ওরা আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। এখান থেকে কিছু কেনা ঠিক হবে না।

শূন্য হাত, অভিজ্ঞতায় পূর্ণ মাথা নিয়ে হোটেলে ফিরলাম। হাত-পা ছেড়ে শুয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি। ফজরের নামাজের পরই আমরা রওনা দেব রামেশ^রমের পথে।

ঘুমিয়ে পড়েছি। হঠাৎ এক বজ্রনিনাদে আমার ঘুম ভেঙে গেল। কে যেন সজোরে দরজায় অনবরত করাঘাত করছে।

আমি ধড়ফড় করে উঠে পড়ে দরজা খুললাম।

একি অবস্থা মাধবমের!  চোখ দুটো রক্তজবার মতো লাল। এলোমেলো চুল। দুপায়ের ওপর স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।

আমাকে দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।

‘আই অ্যাম নট ইন্ডিয়ান। অনলি তামিল। অনলি তামিল। দ্য গ্রেট দ্রাবিড়। দ্য সন অব সয়েল। অ্যাজ ইউ অনলি বেঙ্গলি নট আদার আইডেন্টিটি। আই সো। আই অ্যাম এ তামিল। অনলি তামিল। জাল্লিকাট্টু ইস গোয়িং অন। ফাক দ্য দিল্লি বুল।’

অবুঝ শিশুর মতো কাঁদতে কাঁদতে সে আছড়ে পড়ল আমার বুকে। তার বড়ো জাতির অহংকার গুঁড়িয়ে গেল নিমিষে। তার গায়ে কেবল অ্যালকোহলের গন্ধ।

লেখক : কথাশিল্পী

সচিত্রকরণ : ধ্রুব এষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares