
ছড়া ও কিশোরপাঠ্য কবিতা

পুঁটির ঝিয়ের বিয়ে
আষাঢ় মাসের বাদলা-দুপুর
মেঘ-পরীরা বাজায় নূপুর
সুর তুলেছে টাপুর-টুপুর
ডুবলো উজান চর―
পুঁটির ঝিয়ের বিয়ে হবে
আসবে রাঙা বর!
ডানকিনারা খুশির চোটে
এদিক থেকে ওদিক ছোটে,
পাবদা-খালার রাঙা ঠোঁটে
হাসির কারুকাজ,
মস্ত বড়ো আয়োজনে
ব্যস্ত সবাই আজ।
চিংড়িদিদি হলদি বাটে,
বোয়াল গেছে চরের হাটে,
ভেটকিমাসি শোলক কাটে,
কাতলা সাজায় গেট―
টেংরাচাচা খবর দিলে
এলেম শুনে পাশের বিলে:
বরের বাপের দারুণ পিলে
পাল্টে গেছে ডেট!
………………………………………………

তবলা আবিষ্কার
সে বহুদিন আগের কথা, অনেক বছর হবে!
সঠিক কারো নেই তো জানা কোথায় কখন কবে:
সাত-পুরুষের তালুকদারী খুইয়ে রজত বাবু
স্বভাবদোষে হলেন শেষে নিঃস্ব এবং কাবু।
সব গিয়েছে যায়নি তবু ঢোল-বাজানোর শখ,
মধ্যরাতে শুরু-করে চলতো সকালতক।
রাত-বিরেতে ঘুমের-ঘোরে কে আর শোনে ঢোল ?
বলতো লোকে পাগল নাকি, মাথায় গণ্ডগোল!
ত্যক্ত হয়ে আপনজনও বকতো না যে তা না,
মাথার পোকা মারলে নাড়া কে শোনে কার মানা ?
বসতঘরেই রজত বাবু বাজাচ্ছিলেন ঢোল,
ঝড়ের গতি পেলো যখন ‘টাক-ডুমা-ডুম’ বোল
গিন্নি বলেন: হচ্ছেটা কী ? থামাও তাড়াতাড়ি!
নইলে আমি দিব্যি বলি যাচ্ছি বাপের বাড়ি!
ভাবের-বশে চক্ষু-বুজে বাদক দিশেহারা,
গিন্নি এলেন কুড়াল হাতে, ঢোলের দশা সাড়া!
একটি কোপেই দু’ভাগ হলো হায় রে সাধের ঢোল!!
বাদক দেখেন ছাউনি আছে আগের মতই গোল!
ব্যগ্রহাতে টুকরো দু’টি বসিয়ে-পাশাপাশি
হাতের টোকায় বাজছে দেখে ফুটলো মুখে হাসি।
এক টুকরো তবলা হলো, আরেকটা তার বায়া,
ভাঙা-তলায় বুদ্ধি-করে লাগিয়ে নিলেন পায়া।
নাম কুড়ালে রজত বাবুর তবলা আবিষ্কার
গিন্নি বলেন গর্ব ক’রে: কৃতিত্বটা কার ?
……………………………………………….

আগুন-জ্বলা ফাগুনে
ফাগুন এলেই আগুন জ্বালে
লাল পলাশের বন!
ফাগুন এলেই আগুন জ্বালে
দুঃখী মায়ের মন।
সেই যে কখন ‘আসছি’ ব’লে
দুষ্টু খোকা তার
বেরিয়ে গেলো নিশান হাতে
ফিরলো না সে আর!
ফাগুন এলে সেই মা ডাকে:
কই গেলি বাপধন ?
‘এই তো আমি’ ব’লে ওঠে
হাজার পলাশ বন!
শহীদ মিনার বলে: মাগো,
দ্যাখ্ মেলে তোর আঁখি,
এই তো আমি তোর ছেলে মা,
চিনতে পারিস নাকি ?
ফুল কুড়াতে গিয়েছিলাম
অন্য কোথাও না―
দৈত্য-দানোর চোখ-এড়িয়ে
ফুল এনেছি মা!
………………………………………………………

ভূতের পুতের জন্মদিন
রাতদুপুরে গভীর বনে ভূতের পুতের জন্মদিন,
ব্যস্ত সবাই আয়োজনে, কাজগুলো কি কম কঠিন ?
বেলুনগুলো মাথার খুলি হয় না বটে ফুলাতে,
শক্ত-সুতায় গাঁথতে হলো গাছের ডালে ঝুলাতে।
আশ-পড়শি মঞ্চ সাজায় বিকট নর-কঙ্কালে,
হঠাৎ-করে ঝলসে-ওঠে মেঘ-বিজুলি চমকালে।
মনের মতো কেক এনেছে ডাইনিবুড়ি এনিলাÑÑ
মস্ত হাতির মগজ কেটে বের-করেছে ভ্যানিলা!
কেকের গায়ে নাম লিখেছে ‘নিশিকুমার দিনকানা’!
লেবেনচুষের জোগান দিতে পাঁঠা-জবাই তিনখানা!!
শুকনো হাড়ের ক্যান্ডিগুলো খাচ্ছে সবাই মটরমট,
নাচে-গানে প্রাণ পেয়েছে হানাবাড়ির বিরান মঠ।
……………………………………………………………..

মতিচাচার ইতিহাস
ইতিহাস বই-খুলে মতিচাচা বরাবর
মাথা-নেড়ে বলতেন: আমি না রে, তোরা পড়!
আজগুবি যতোসব গাঁজাখুরি গল্প:
সব যেন মহাবীর, কেউ নয় অল্প।
ইতিহাসে লিখেছে যা ভেবেছিস ঘটনা ?
কিছু তার ঘটেছিলো, বাকিটুকু রটনা!
আমি তাই নিজে-নিজে লিখেছি এ-অধ্যায়,
এতো ভালো লেখে নাই কোনো মুখোপাধ্যায়:
হিটলার! যার নামে আজো তোরা ত্রস্ত
সে আসলে ছিলো নাকি খুবই জরাগ্রস্ত!
আরো কই: তোদের অই মহাবীর তিতুমীর,
দুনিয়াতে তার মতো ছিলো নাকো ভীতু বীর!
লোকে জানে বীরনারী সুলতানা রাজিয়া,
তারও কত দিন গেছে আলুপুরি ভাজিয়া!
সিরাজের মাতামহ নওয়াব আলীবর্দী,
বারোমাস ছিলো তার কফ-কাশি-সর্দি!
বেল দিয়ে নেলসন (বুদ্ধিটা সেয়ানের)
ভেঙেছিলো টেকো-মাথা বীর নেপোলিয়ানের…
এইসব কথা-শুনে লাগে যদি দ্বন্দ্ব
ভালো-করে চেয়ে দ্যাখ্ চোখ ক’রে বন্ধ:
আমাদের কত নেতা! এর মাঝে বীর কই ?
ঘরে-বসে খায় তারা চিঁড়াভাজা, ক্ষীর-খই;
মাঝেমাঝে হাঁক-ছেড়ে বাহু ক’রে উড্ডীন
বড়জোর পেশী-নেড়ে বলে শুধু ‘ভুট দিন!’
ইতিহাসে এরা হবে মহীয়ান গরীয়ান―
লজ্জায় ম’রে যাই কলসী ও দড়ি আন!
……………………………………………..

ভূতের বাড়ি সরিষাপুর
যে-ভূত নিজে গাপুস-গুপুস
সর্ষে-বাটা কাসন খায়
সে-ভূত কি আর যায় তাড়ানো ?
সবাই মরে আশঙ্কায়।
যে-ভূত থাকে সর্ষে গাছে,
এমনকি তার শিকড়ে,
সে-ভূত তবে কখন কবে
কে তাড়াবে কী করে ?
হাজার ওঝা নাচার হলো
যেমন-তেমন ভূত তো নয়,
লম্বুভূতের নাতি-পুতি,
অলুম্ভূতের খোদ তনয়!
যারাই চেনে তারাই জানে
ভূতগুলো খুব শিক্ষিত,
ভেলকিবাজির নানান রকম
মন্ত্রে তারা দীক্ষিত।
কেউবা করে ব্যবসাপাতি,
কেউবা করে চাকুরি,
পদ্য লিখে কেউ হতে চায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-ই।
আজব রকম ফন্দি-ফিকির,
যাও না তাদের দপ্তরে,
সুযোগ পেলেই ধরবে তোমার
ঘাড়টি চেপে খপ-করে।
সরিষাপুর ইস্কুলে যায়
ভূতের শত পুত্রবর,
পেত্নী বলে: সবার আগে
সর্ষে-ঝাড়াই সূত্র পড়্!
বিদেশ যাবি ভয় দেখাবার
ডিগ্রি নিতে উচ্চতর,
মহাকাশে ঘুরতে হলে
ধূমকেতুদের পুচ্ছ র্ধ!
শুনলে তুমি অবাক হবে
তবুও বলা দরকারি:
এই ভূতেদের ডরায় স্বয়ং
বাংলাদেশের সরকারই!
………………………………………

মশার মেয়ে পুনপুনি
মশার মেয়ে পুনপুনিটার যেই গজালো পাখা
উড়ার বড়ো শখ হলো তার যায় না ধরে রাখা।
বায়না ধরে মায়ের কাছে: একটু আসি উড়ে!
মা-ও বলে: আচ্ছা সোনা, যাসনে বেশি দূরে।
উড়ালশেষে ড্রেনের মেয়ে ফিরলো যখন ড্রেনে
মায়ের মুখে খুশির ঝলক, বললো বুকে টেনে:
ওরে আমার পুনপুনি রে, ওরে আমার পুনি!
এই তো হলো প্রথম-ওড়া, উড়লি ক্যামন শুনি ?
বললো পুনি: অই যে দূরে মানুষজাতির ঘর!
এক-উড়ালে জানলা দিয়ে ঢুকেছি ফরফর।
কেউ-দাঁড়িয়ে, কেউবা-শুয়ে, কেউবা ছিলো বসা
যার কাছে যাই চেঁচিয়ে ওঠে: মশা-মশা-মশা…
তোমার মেয়ের উড়াল দেখে সবাই দিলো তালি!
‘দূর যা মশা’ ব’লে কিছু মুখেই দিলো গালি।
……………………………………………………

ঘোড়ার ডিমে কাঠবিড়ালি
ঘোড়ার ডিমে ঘোড়াই হবে, তাই তো ছিলো জানা!
টাট্টু ঘোড়া ডিম পেড়েছে,
পাখির মতো ঝিম-মেরে সে
তা দিয়েছে বসে-বসে দু’সপ্তাহ টানা,
সে-ডিম ফুটে বের হয়েছে কাঠবিড়ালির ছানা!
চক্ষু সবার ছানাবড়া!
ঘটলো এ কী অবাক-করা!!
রেগে-মেগে ঘোড়া বলে: চোখ তোমাদের কানা,
লেজটা দেখেও চিনলে না কেউ এটাই আমার ছানা!
শরীর চাটে আদর-করে,
দুু’চোখ থেকে তৃপ্তি ঝরে,
মা হয়েছে―হোক না সেটা মেয়ে কিবা ছেলে!
গায়-গতরে যেমনটা হোক, দেয় না মায়ে ফেলে।
……………………………………………………………

আমার লেজে টান দে!
হাঁসের ছানা প্যাঁকপ্যাঁকিয়ে
পাশের বাড়ির গর্তে গিয়ে
মিষ্টিপুষির ছানার কাছে ধরলো ভীষণ বায়না:
দু’জন মিলে গোসল করি, একটু নেমে আয় না!
জবাব দিলো পুষির ছানা:
জলে আমার নামতে মানা,
‘ভিজে-বেড়াল’ ডাকুক লোকে এমনটা তো চাই না ?
হাঁসের ছানা প্যাঁকপ্যাঁকালো,
বন্ধুটাকে রাগ দেখালো:
আজকে থেকে আড়ি আমার, কারো পরি-খাই না!
পুষির ছানা দুঃখ পেলো,
মনটা হলো এলোমেলো,
হাঁসের ছানার অভিমানে মিউমিমিয়ে কান্দে!
অনেক ভেবে বললো ডেকে
কী পাস্ মজা জলে-প্যাঁকে ?
খেলবি যদি ডাঙায় এসে আমার লেজে টান দে!
……………………………………………………….

ছদ্মবেশী বর্গী তাড়াও
জেগে আছি বীরের বেশে
টিপু-তিতুমীরের দেশে
ছদ্মবেশে নতুন কোনো বর্গী আসে যদি
ঘাড়টি ধ’রে তাড়িয়ে দেবো,
যুদ্ধ ক’রে হারিয়ে দেবো,
প্রয়োজনে বইবে পথে রক্তরাঙা নদী!
বুকের তাজা রক্ত ঢেলে
বাংলামায়ের কত ছেলে
ঘুমিয়ে আছে এই মাটিতে স¦প্ন গেছে রেখে―
তাদের নামে শপথ করি:
ভিড়বে পাড়ে স্বপ্ন-তরী
বৈরী জলের পথ পেরোতে তৈরি আছো কে কে ?
………………………………………………..

মানুষ দিবে নাকে খত
কে কার কবে ‘কান নিয়েছি’ এমন কোনো প্রমাণ নাই
চেঁচিয়ে বলে সকল চিলে: অপবাদের বিচার চাই!
মোদের দাবি মানতে হবে,
নইলে গদি ছাড়তে হবে…
আকাশ-পথে মিছিল ক’রে ব্যর্থ হয়ে চিলের দল
মামলা করে আদালতেÑÑএবার তারা হয় সফল:
মানবজাতির পক্ষে ল’ড়ে হারেন হারাধন উকিল;
বিলেত থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি নিয়ে ভুবনচিল
আরজি-পেশে নালিশ করেন: মাননীয় আদালত,
যুক্তিসহ তুলছি ধ’রে আমি আমার মতামত:
‘কান নিয়েছে চিলে’ ব’লে মানুষ ছড়ায় অপবাদ,
মিথ্যা বলেই আইনত তা দণ্ডনীয় অপরাধ!
চিলেরা তাই জোট বেঁধেছে মানবজাতির বিরুদ্ধে,
যে-করে হোক জিততে হবে দায়-মোচনের এ-যুদ্ধে।
ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন মাননীয় আদালত:
কানে ধরেই মানুষ দিবে দশটা-করে নাকে খত;
কানের কথা উঠলো বলেই দিলাম এত কঠোর রায়,
কানটা যে তার কানেই আছে ধরেই যেন সে টের পায়।
‘কান নিয়েছে চিলে’ যদি কেউ করে আর উচ্চারণ
মাথায় চিলের ঠোকর খাবে, কান্নাকাটিও তার বারণ!
……………………………….

শিকড়-বাবা’র দাওয়াই খেয়ে
হিমালয়ের পাদদেশে
বসেন যারা সাধুর বেশে
তাদের মাঝে আসল আছে, ভণ্ডদেরও অভাব নাইÑÑ
ঝিমিয়ে-থাকেন দিব্যলোকে,
জটা বাড়ায় উকুন-পোকে,
সিদ্ধ সাধু শিকড়-বাবা, অসততার স্বভাব নাই।
শিকড়-বাবার দাওয়াই খেলে
বাপেরা হয় ছোট্ট ছেলে!
এই কথাটা বুঝতে হলে চলো ছড়ার তলায় যাই…
শিকড়-বাবার কেরামতি
রুদ্ধ করে জরার গতি,
এমন আজব রূপ-কাহিনি ঠাকুরমাদের ঝোলায় নাই:
যেই মা শিশু পেটে ধরে,
কোলে-কাঁখে মানুষ করে
সেই শিশুদের কাছেই সে-মা’র তেমন কোনো নাই কদর!
এসব ভেবে ইন্দুমতি
শেষ-বয়সে পান না গতি,
ঘর ছেড়েছেন মনের দুখে, সঙ্গে গেলেন বৃদ্ধ বর।
হিমালয়ের পাদদেশে
ঘোরেন-ফিরেন নিঃস্ব বেশে,
রক্ষে তবু গাছ-গাছালির জোগান আছে মৌবনে―
দুুঃখ দেখে শিকড়-বাবা
বলেন ডেকে: এইটা খা’বা!
এক-শিকড়ে ফিরতে পারো আবার ভরা-যৌবনে!
… … …
ফিরেন ঘরে ইন্দুমতি
আবার হয়ে নও-যুবতী,
বিশু-যীশু চিনতে পেরে করলো তাদের বাবার খোঁজ―
বাড়িয়ে ধ’রে কোলের শিশু
ইন্দু বলেন: এই নে বিশু,
তোদের বাবা শখের-বশে খেয়েছিলেন ডবল-ডোজ!
……………………………………………………..

সারস রাজার রাজত্বে
জলপিপিরা বললো ক্ষোভে: ও ভাই কানাবক রে!
আমরা এখন প’ড়ে গেছি সারস পাখির চক্রে।
ওদের বিশাল সাদা ডানা,
সেই সুবাদে বিলের খানা,
সকল জলের মালিকানা চাইছে দখল করতেÑÑ
আমরা খাবো চুনোপুঁটি, সে-ও কিছু শর্তে….
জলপিপি আর কানাবকে
জোট বেঁধেছে চাঁদনি চকে,
বিরোধিতার প্রলাপ বকে―গোয়েন্দারা তৎপর,
সারস রাজা খবর শুনে বলেন: তাদের বধ র্ক!
বঞ্চিতদের সভায় ডেকে
বলেন: তোরা গেছিস পেকে,
ভান-ভনিতা-ভড়ং রেখে পষ্ট কথায় বলছি:
তোদের মনের খবর পেয়ে লাভার মতো জ্বলছি!
লুুুটবো সকল বিলের মজা,
আমরা রাজা―তোরা প্রজা
আঙুল-চুষে মৎস্য-গজা মনে-মনে চাটবে,
‘মুক্ত বিলের গল্প’ শুনেই তোদের জীবন কাটবে।
করিস যদি বাড়াবাড়ি
তৈরি আছে যা দরকারি:
কাদায় পুঁতে ফেলতে পারি বাচ্চা থেকে আন্ডা,
ভবিষ্যতে সইবো না আর কোনোই প্রোপাগান্ডা!
……………………………………………….

এলাম দেখে নিজের চোখে
বাদলা-দিনের ভরবিকেলে
ঘরেই ছিলাম শান্ত ছেলে,
মেঘপরীটা এসেই বলে: যাবে মেঘের দেশে ?
একটু প্রথম চমকে-উঠে
জানাই তাকে কেঁদে-কুটে
যেতে পারি আবার যদি ফিরতে পারি হেসে।
বইছে তখন বৃষ্টিধারা,
আনন্দে মন আত্মহারা!
চলছি-উড়ে মেঘপরীটার পিঠের উপর চেপেÑÑ
এলাম দেখে নিজের চোখে,
কেউ জানে না মাটির লোকে
বর্ষা এলে এমন কেন বৃষ্টি নামে ঝেঁপে:
মেঘ-মেঘালির কান্না দেখে
প্রশ্ন করি তাদের ডেকে
কাঁদছো কেন এমন করে, কষ্টটা কী বলো!
জানায় তারা সমস্বরে:
ফিরে যেতে নিজের ঘরে
ছন্নছাড়া মেঘের থাকে চক্ষু ছলোছলো!
সময়-সময় হালকা কাঁদি
দুঃখে-ভরা মনকে বাঁধি
কিন্তু যখন মন মানে না রইতে আকাশবাসী,
মা-মাটিকে স্মরণ ক’রে
অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরে;
বসুন্ধরা মা আমাদের, তাকেই ভালোবাসি।
তীব্র খরায় উচ্চ তাপে,
গভীর কোনো নিম্নচাপে,
অনিচ্ছাতে উড়ে-উড়ে ধরি দূরের পাড়ি!
মাটির মায়া ছিন্ন-করে
আকাশ দেখে মন কি ভরে ?
বাড়ি ফেরার স্বপ্নে-বিভোর মনটা থাকে ভারী!
এই যে তুমি পরীর সাথে
ঘর-ছেড়েছো রিক্ত হাতে,
আর যদি না ফিরতে পারো তোমার মায়ের ঘরে,
নিজেই তুমি মনের খেদে
কষ্ট পাবে কেঁদে-কেঁদে―
এই আমাদের কান্নাগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
…………………………………………
সচিত্রকরণ : রজত



