
ফ্লাশ ফিকশন হলো একটি সাহিত্যিক প্রবণতা যা বর্তমানে গল্পসাহিত্যে বিদ্যমান। যদিও এই শব্দবন্ধটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক। বলা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝলকগল্পের এই ধারা চলমান। যে কোনও লেখক যদি তাঁর লেখার দক্ষতা বাড়াতে চান, কিংবা একটি উপন্যাস লেখার জন্য বছরের পর বছর পরিশ্রম না করেই একটি সম্পূর্ণ শিল্পকর্ম তৈরি করতে চান, তাঁর জন্য ঝলকগল্প লেখা একটি ভালো উপায়। যদি তিনি এ ধারায় গল্প বলার কৌশলগুলি যেমন ফ্ল্যাশব্যাক নিয়ে পরীক্ষা করতে আগ্রহী হন, তাহলে ফ্ল্যাশফিকশন একটি সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে অনুশীলন করার সুযোগ করে দেয়।
যদি আপনি প্রথমবার ফ্ল্যাশফিকশন সম্পর্কে আগ্রহী হন, চিন্তা করবেন না। ফ্ল্যাশ ফিকশনের জগৎ, ফ্ল্যাশফিকশন শব্দসংখ্যা এবং প্রতিটি ফ্ল্যাশ গল্পের মূল উপাদানগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ফ্ল্যাশ ফিকশন কী?
‘ফ্ল্যাশফিকশন’ বা ঝলকগল্প খুব ছোট আকারের গল্প যা ১,৫০০-র কম শব্দসীমায় (কারও কারও মতে ১,০০০ শব্দের কম) রচিত হয়। কিছু গল্প আরও ছোট হয়। ফ্ল্যাশফিকশন হিসেবে বিবেচিত হতে একটি ছোটগল্পকে যেমন নির্ধারিত শব্দ সীমার মধ্যে থাকতে হয়, তেমনি জটিল চরিত্র ও সম্পূর্ণ ও সুসংগঠিত প্লট থাকতে হয়।
ফ্ল্যাশফিকশন বা ঝলকগল্প নামের ছাতার নিচে কিছু ঝলকগল্পের উপপ্রকার পাওয়া যায়। যেমন :
১। ছয়-শব্দের সংক্ষিপ্ত গল্প: এই ক্ষুদেগল্পে মাত্র ছয়টি শব্দ রয়েছে! সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ হলো আর্নেস্ট হেমিংওয়ে-এর এই গল্প, যা একটি মাত্র বাক্যে রচিত হয়েছে, ‘বিক্রয়ের জন্য: শিশুর জুতা, ব্যবহৃত হয়নি।’ এই ছয় শব্দের গল্পপ্রকাশে একটি সম্পূর্ণ জগৎ রয়েছে।
২। পোস্টকার্ড সাহিত্য হলো এমন একটি গল্প যা সর্বাধিক ৫০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং পোস্টকার্ডের পিছনের অংশে লেখা সম্ভব হয়। যদি গল্পটি ঠিক ৫০ শব্দেরÑনা বেশি, না কম হয়Ñতাহলে এটিকে ড্রিবল বলা হয়।
৩। একটি ‘ড্রাবল’ হলো ঠিক ১০০ শব্দের একটি গল্প।
৪। মাইক্রো ফিকশন বলতে ৩০০ শব্দের কম যে কোনও ছোটগল্পকে বোঝায় (এর মধ্যে ছয়-শব্দের গল্প, পোস্টকার্ড সাহিত্য এবং ড্রাবলও অন্তর্ভুক্ত)।
৫। সাডেন ফিকশন হলো ৩০০ থেকে ৭৫০ শব্দের মধ্যে যে কোনও গল্প।
৬। প্রোস পোয়েট্রি: এই উপধারায় নির্দিষ্ট শব্দসংখ্যা নেই, তবে এটি সাধারণত ২০০-৫০০ শব্দের মধ্যে হয়ে থাকে। প্রোস পোয়েট্রি হলো ফ্ল্যাশ ফিকশনের এমন একটি উপশ্রেণি যেখানে কবিতার সঙ্গীতময়তা এবং ভাষাগত ডিভাইস ব্যবহার করে লেখা হয়।
এসবের সবচেয়ে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষিপ্ততা বা স্বল্প শব্দসংখ্যা। তবে ঝলকগল্প লেখক এগুলো ব্যবহার করে যে কোনও ধরনের বা শৈলীর অন্বেষণ করতে পারেন।
ফ্ল্যাশফিকশন এবং ছোটগল্পের মধ্যে কী পার্থক্য
কেউ হয়তো কখনও কখনও মনে করতে পারেন ফ্ল্যাশফিকশন এবং ছোটগল্প সম পর্যায়ের, বিনিময়যোগ্যভাবে একই বিষয়, কিন্তু এগুলো পুরোপুরি এক জিনিস নয়। ‘ছোটগল্প’ বলতে এমন কোনো সম্পূর্ণ গল্প বোঝায় যা প্রায় ৭,৫০০ শব্দ পর্যন্ত হতে পারে। ফ্ল্যাশফিকশন হলো ভিন্ন ঘরানার অন্তর্ভুক্ত সংক্ষিপ্ত গল্প। অন্য কথায়, সব ফ্ল্যাশফিকশন বা ঝলকগল্পই ছোটগল্প, কিন্তু সব ছোটগল্প ঝলকগল্প নয়।
দীর্ঘ ছোটগল্পে জটিল, সূক্ষ্ম চরিত্র যেমন থাকতে পারে, তেমনি একাধিক পরিবেশ ও দৃশ্যের সঙ্গে আরও জটিল প্লট অন্বেষণ করার সুযোগ থাকে।
ঝলকগল্প যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত করতে হয়, যাতে ছোট স্থানে একটি প্রভাবশালী গল্প পৌঁছে দেওয়া যায়।
ফ্ল্যাশফিকশন বা ঝলকগল্পের বৈশিষ্ট্যসমূহ
ফ্ল্যাশগল্পকাররা যাতে শক্তিশালী ঝলকগল্প লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে সেজন্য মূল উপাদানসমূহ নিচে দেওয়া হলো :
১. সংক্ষিপ্ততা
ঝলকগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সংক্ষিপ্ততা। বিস্তৃত বিবরণ নয়, বরং মুহূূর্তের নাটকীয় একটি ঝলক থাকে এমন গল্পে। এই ধারার সাহিত্য-ভ্রমণে ফ্ল্যাশফিকশনকে এমন একটি গল্প হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যা সিগারেট বিরতির সময়ে তথা একটা সিগারেট ধরিয়ে শেষ করতে যে সময় লাগে তেমন সময়ে গল্পটি পড়ে শেষ করা যায়।
ঝলকগল্প লেখার চ্যালেঞ্জ হলো, খুব কম শব্দে অনেক কিছু প্রকাশ করা। এর একটি বড় অংশই ইঙ্গিতের উপর নির্ভর করে। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে যেটিকে বলেছেন, বরফশুভ্রের চূড়া। প্রতিটি ঝলকগল্প ভালোভাবে গোছানো, সুসংযুক্ত একটি রচনা, যেখানে অযথা বিশদভাবে বলার সুযোগ নেই। এ ধারায় প্রতিটি শব্দই গুরুত্বপূর্ণ। এরূপ গল্প সম্পর্কে লেখকদের বেশ সতর্ক থাকতে হয়, যাতে সমস্যা সৃষ্টিকারী রূপক (যেমন ‘ফ্রিজিং ট্রোপস’), এড়িয়ে চলা যায় এবং নিশ্চিত করা যায় যে প্রতিটি চরিত্র ও প্লটের উপাদান অর্থপূর্ণ ও প্রয়োজনীয়।
(ফ্রিজিং ট্রোপ হলো একটি সাহিত্যিক ডিভাইস, যেখানে একটি চরিত্র, প্রায়শই একজন মহিলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নিহত হয় বা অন্যভাবে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়, যাতে অন্য একটি চরিত্রের কর্ম বা বিকাশকে উদ্দীপিত করার জন্য এটি কাহিনির একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।)
২. চরিত্র
সীমিত পরিসরের কারণে, অধিকাংশ ঝলকগল্প সাধারণত চরিত্রনির্ভর হয়, প্লটনির্ভর নয়। যদিও নাটকীয় চরিত্রের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না, তবু স্বল্প জায়গাটি ব্যবহার করে যার সম্পর্কে লেখা হচ্ছে তার মনস্তত্ত্ব অনুসন্ধান করতে হয়।
ভালো এবং বিকশিত চরিত্র পাঠককে বইয়ের পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত গল্পের চেয়ে বড় একটি গল্পের ধারণা দেওয়ার জন্য অপরিহার্য হতে পারে। কেবল এক মুহূর্তের জন্য হলেও ঝলকগল্পের চরিত্রগুলি বাস্তবধর্মী এবং জীবন্ত মনে হয়।
৩. হুক বা থিম
ফ্ল্যাশগল্পের জন্য একটি অনন্য বা অসাধারণ থিম বা ‘হুক’ প্রয়োজন। এটি প্রতিটি গল্পের জন্য ভিন্নভাবে দেখা যায়। এর বর্ণনা যেন এমন হয় যা পাঠককে ভাবায়। যেন মনে করে, ‘ওহ, এটা সত্যিই অনেক আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।’
গল্পটি এমনভাবে উপস্থাপন করতে হয় যে, এটি একটি অসাধারণ পরিবেশ, অস্বাভাবিক পেশা বা বিশ্বাসযুক্ত একটি চরিত্র, একটি অদ্ভুত ঘটনা হিসেবে গল্পের সূচনা করে। গল্পের থিম প্রথম কয়েক লাইনের মধ্যে যেন স্পষ্ট হয় (কারণ, মনে রাখতে হবে, প্রতিটি শব্দ গুরুত্বপূর্ণ)। ঝলকগল্পটি আরও পড়তে এবং পরবর্তী অংশে কী ঘটছে তা জানতে যেন পাঠককে উৎসাহিত করে।
৪. একটি সন্তোষজনক সমাপ্তি
যদিও এই ঝলক গল্পগুলো বইয়ের পাতায় খুব বেশি জায়গা নেয় না, তবুও এগুলোর একটি সন্তোষজনক উপসংহারে পৌঁছানো উচিত। ফ্ল্যাশফিকশন সাধারণত দুই ধরনের সমাপ্তির একটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়: বন্ধ সমাপ্তি বা খোলা সমাপ্তি। বন্ধ সমাপ্তি মানে গল্পটি তার স্বাভাবিক উপসংহারে পৌঁছে যায় এবং শুরুতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো সমাধান করে। কখনও কখনও এটি একটি হিউমারাস টুইস্ট বা পাঞ্চলাইনে সমাপ্ত হতে পারে।
অন্যদিকে খোলা সমাপ্তি মানে গল্পটি কয়েকটি ভিন্ন পথে যেতে পারে; সত্যিকার সমাপ্তি পাঠকের ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করে। এগুলো চিন্তাশীল আলোচনার জন্য বেশ উপযোগী।
পাঠক যা চান না তা হলো, গল্পের মাঝখানে থেমে যায় এমন কিছু। যার ফলে পাঠক অবাক হয়ে ভাবতে থাকে তারা কী মিস করেছে। যদিও এ ধারায় সংক্ষিপ্ততার ওপর কাজ করা হয়, যেনো ঝলকগল্পটি একটি পূর্ণাঙ্গ গল্পের মতো অনুভূত হয়, যা গল্পের সম্পূর্ণ পথ চলা শেষ করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।
ফ্ল্যাশ ফিকশন লেখা শুরু করার উপায়
ঝলকগল্প লেখার ব্যাপারে কিছু নির্ভরযোগ্য নির্দেশিকা রয়েছে। নিচে কিছু সংক্ষিপ্ত প্রারম্ভিক তথ্য দেওয়া হলো যাতে লেখকের সৃজনশীলতা উদ্দীপিত হয়। এখানে কীভাবে সৃজনশীল চিন্তা প্রবাহিত হবে তা দেওয়া হলো:
ক্ষুদেগল্পের মাধ্যমে অনুশীলন
ভিনিয়েট দিয়ে অনুশীলন : ভিনিয়েট হলো সময়ের একটি মুহূর্তের সংক্ষিপ্ত, প্রাঞ্জল বর্ণনা। এটি পুরোপুরি ফ্ল্যাশফিকশন নয়, কারণ এতে একটি গল্পের ধারা―যেমন শুরু, মধ্য এবং শেষ থাকে না। এর পরিবর্তে, এটি একটি দৃশ্যকে জীবন্ত করতে ক্ষুদ্র বিবরণ এবং এ সংক্রান্ত ইমেজারি ব্যবহার করে। এটি এমন কিছু হতে পারে, যেমন একটি স্মৃতি, একটি পর্যবেক্ষণ, বা একটি দিবাস্বপ্ন। উদাহরণস্বরূপ, একটি জুটির মধ্যে ‘মিলনের মধুর মুহূর্ত’, অথবা দুটি সেরা বন্ধু; এমন একটি আবিষ্কার যা কারও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে; বা কারও প্রতি একটি মূল্যবান স্মৃতি, যিনি এখন নেই। এর উদ্দেশ্য হলো, পাঠককে পর্যাপ্ত বিবরণ দিয়ে সেই মুহূর্তে উপস্থিত থাকার অনুভূতি জাগানো। ভিনিয়েট হলো লেখকদের জন্য মাংসপেশি সুগঠিত করার অনুশীলনের মতো। অনেক লেখক মনে করেন যে, এগুলো মৌলিক দক্ষতা বিকাশ করতে সাহায্য করে, যা পরে যে কোনও ধরনের, যে কোনও ঘরানায় গল্প তৈরি করতে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
চরিত্রের দৃষ্টিকোণ অনুসন্ধান
এই প্রবন্ধের আগের অংশে দেখা গেছে যে, শক্তিশালী চরিত্র সাধারণত শক্তিশালী চরিত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়। পাঠকের মনে জীবন্ত মনে হওয়া আকর্ষণীয় চরিত্র তৈরি করতে, একজন লেখক হিসেবে তাকে চরিত্রগুলোকে ভালোভাবে চিনতে হয়।
লেখক যে চরিত্র সৃষ্টি করতে চান, তার সম্পর্কে লেখক কিছু সময় ভাবতে পারেন। তারা কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাচ্ছে, জীবন থেকে তারা কী চায়, তারা কী থেকে ভয় পায় এবং শেষ পর্যন্ত তারা কীভাবে সেই ভয়গুলো মোকাবিলা করবে তা নিয়ে ভাবতে পারে।
এরপর, লেখক যখন জানবে যে, এই ব্যক্তি কীভাবে আচরণ করে, তখন কেবল তাদের একটি ঘরে রাখতে পারে এবং এরপর কী ঘটে তা লিখতে শুরু করতে পারে।
মধ্যভাগে প্রবেশ করে গল্পের শুরু
‘ইন মিডিয়াস রেস’ মানে হলো গল্পের মধ্যেই পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করা। অন্য কথায়, লেখক ব্যাকস্টোরি বা বিবরণের উপর অনেকটা সময় ব্যয় করবেন না বা কে কার দ্বারা কষ্ট পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করবেন না। একজন লেখক হিসেবে, মনে রাখতে হবে কীভাবে চরিত্রগুলো এই মুহূর্তে কোথায় পৌঁছেছে, তবে এর বেশির ভাগই লেখার বাইরে ঘটবে (এটাই হলো ‘আইসবার্গ’)। ফ্ল্যাশ ফিকশনে এটি অত্যন্ত জরুরি যে, লেখকের মূল্যবান শব্দসীমাকে পুরোপুরি মুহূর্তের ঘটনার উপর নিবেদিত করতে হয়। এর কিছু অংশ লেখকের পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়ার সময় ঘটতে পারে। লেখকরা কখনও তাদের গল্পের প্রথম কয়েকটি প্যারাগ্রাফ লিখে ফেলেন, তারপর হয়তো তারা তাদের গল্পের প্রকৃত বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তখন এটি নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাই সঠিক স্থানে শুরু করার জন্য বেশি চিন্তা না করাই উচিত।
দেখাও, বলো না
আপনি হয়তো আগে ‘দেখাও, বলো না’ এই বাক্যাংশটি শুনে থাকবেন, যা স্ট্রাঙ্ক এবং হোয়াইট-এর ‘ঊষবসবহঃং ড়ভ ঝঃুষব’-এ দেওয়া সবচেয়ে পরিচিত এবং সুপরিচিত লেখার পরামর্শের একটি। এর মানে হলো যে, একটি দৃশ্যে কী ঘটছে তা পাঠককে সরাসরি বোঝানোর পরিবর্তে বর্ণনামূলক ক্রিয়া এবং তৎক্ষণিক সংলাপ ব্যবহার করা। উদাহরণস্বরূপ, ‘তিনি তাকে ভয় পেয়েছিলেন’ এ নিয়ে একটি গল্প বলা। ‘যখনই তিনি পাশে থাকতেন, তার গলার পেছনের চুলগুলো ওঠানামা করত’ বলে গল্পে দেখানো। এটি কেবল আরও তাৎক্ষণিক এবং জীবন্ত নয়, এটি পৃষ্ঠার স্থানটিকেও আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে।
প্রতীকবাদ, রূপক এবং উপমার প্রয়োগ
প্রতীকী অর্থ, রূপক অর্থ এবং উপমা প্রয়োগ করতে হবে সংক্ষিপ্ত স্থানে, ফ্ল্যাশফিকশন প্রতীকী বা রূপক লেখার জন্য একটি খুবই ভালো মাধ্যম। এখানে গল্পটি পৃষ্ঠের দিকে কোনও একটি বিষয় বর্ণনা করে, কিন্তু তার প্রকৃত অর্থ অন্য রকম। উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি গল্প লিখতে পারেন, যেখানে একটি পাখি তার ডিমগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রক্ষা করছে, যা মাতৃত্বের অনিশ্চয়তার রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ধরনের গল্প সংবেদনশীল বিষয় যেমন―রাজনীতি, বর্ণ, বা যৌনতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য কার্যকর, যা সরাসরি আলোচনায় আরও বিতর্কিত হতে পারে। এগুলি দীর্ঘ আকারের গল্পের জন্যও কার্যকর, তেমনি ফ্ল্যাশগল্পের সীমিত ক্ষেত্রকে সর্বাধিকভাবে ব্যবহার করতে এগুলি বিশেষভাবে কার্যকর।
জীবন এর উপর নির্ভর করছে তেমনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা
ফ্ল্যাশফিকশন নিঃসংকোচ সম্পাদনার একটি অনুশীলন। একবার আপনি হয়তো এমন একটি ছোটগল্প তৈরি করলেন যা নিয়ে আপনি আপেক্ষিকভাবে সন্তুষ্ট, তখন সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ক্রিয়াবিশেষণ এবং বিশেষণ কেটে দিন, যে কোনও প্যাসিভ ভয়েসকে সক্রিয় বাক্যে পুনর্গঠন করুন, এবং গল্পকে সমর্থন না করা অপ্রয়োজনীয় মানসিক মগ্নতাকে সরিয়ে দিন। শুরুতেই থাকা যে কোনও ‘গলায় বাধা দেওয়ার মত’ অংশও মুছে দিন যেন গল্পটি নিজেকে খুঁজে পায়। আপনি আপনার খসড়া খাতাকে কাঁচা উপাদান হিসেবে ভাবতে পারেন, যেখান থেকে আপনি একটি মাস্টারপিস খোদাই করছেন। পুনর্বিবেচনা হলো, সেই মাস্টারপিসটি না হওয়া সবকিছু সরিয়ে মূল সত্যকে আবিষ্কার করার প্রক্রিয়া।
প্রচুর পরিমাণ ফ্ল্যাশফিকশন পাঠ
সবশেষে, ঝলকগল্প লেখার কৌশলের সাথে পরিচিত হওয়ার সেরা উপায় হলো অনেক ফ্ল্যাশফিকশন পড়া! এ ধরনের গল্প বলার উপর মনোনিবেশ করা ম্যাগাজিন, সংকলন বা ঝলকগল্প সংকলন সংগ্রহ করতে হবে, অথবা অনলাইনে সাহিত্য জার্নাল পড়তে হবে।
যখন দেখা যাবে, ফ্ল্যাশ ফিকশনের জন্য একটি বড় ক্ষেত্র রয়েছে, তখন নিজের লেখা ঝলকগল্পও প্রকাশের সুযোগ হবে, তখন এই প্রকাশনাগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে।
ফ্ল্যাশফিকশন আপনাকে একজন ভালো লেখক করে তুলবে
সীমিত দৈর্ঘ্যের কারণে ফ্ল্যাশফিকশন লেখা সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু এটি যথেষ্ট ধৈর্য এবং নিষ্ঠা দাবি করে! কারণ আপনাকে মাত্র কয়েকটি পৃষ্ঠা বা অনুচ্ছেদে পাঠকের জন্য শক্তিশালী অভিজ্ঞতা তৈরি করতে হয়, তাই স্থানটি যথাসম্ভব কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন, অন্যান্য লেখকরা যা সফলভাবে করেছেন তা পড়ুন, এবং অনুশীলন করুন, বারবার অনুশীলন করুন, নিরন্তর অনুশীলন করুন।
তথ্যসূত্র:
১। ফিজা ক্যালাহান রচিত একটি নিবন্ধ
২। ইন্টারনেট।
লেখক : প্রাবন্ধিক
সচিত্রকরণ : ধ্রুব এষ



