শব্দবিন্দু আনন্দসিন্ধু : মানবর্দ্ধন পাল

ভাষা-গবেষণা ধারাবাহিক
আঠারোতম পর্ব
[প্রাচীন ভারতীয় আলঙ্কারিকরা শব্দকে ‘ব্রহ্ম’ জ্ঞান করেছেন―শব্দ যেন ঈশ্বরতুল্য। পাশ্চাত্যের মালার্মেসহ নন্দনতাত্ত্বিক কাব্য-সমালোচকদেরও বিশ্বাস, শব্দই কবিতা। শব্দের মাহাত্ম্য বহুবর্ণিল ও বহুমাত্রিক। বাংলা ভাষার বৃহদায়তন অভিধানগুলোর পাতায় দৃষ্টি দিলেই তা প্রতিভাত হয়। আগুনের যেমন আছে অসংখ্য গুণ, তেমনই ভাষার প্রায় প্রতিটি শব্দেরও আছে অজস্র অর্থের সম্ভার। কালস্রোতে ও জীবনের প্রয়োজনে জীবন্ত ভাষায় আসে নতুন শব্দ, তা বিবর্তিতও হয়। পুরনো শব্দ অচল মুদ্রার মতো ব্যবহার-অযোগ্য হয়ে মণি-কাঞ্চনরূপে ঠাঁই নেয় অভিধানের সিন্দুকে।বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার সমুদ্রসম―মধুসূদনের ভাষায় : ‘ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন’। বৈঠকি মেজাজে, সরস আড্ডার ভঙ্গিতে লেখা এই ‘শব্দবিন্দু আনন্দসিন্ধু’। ব্যক্তিক ও নৈর্ব্যক্তিক―সবকিছু মিলিয়ে শব্দের ভেতর ও বাইরের সৌন্দর্য-সৌগন্ধ এবং অন্তর্গত আনন্দধারার ছিটেফোঁটা ভাষিক রূপ এই ‘শব্দবিন্দু আনন্দসিন্ধু’ ধারাবাহিক।]
সম্বন্ধ
বিশ্বজগৎ পরস্পরের সঙ্গে সম্বন্ধময়। বস্তুর সঙ্গে বস্তু, প্রাণির সঙ্গে প্রাণি আবার প্রাণির সঙ্গে বস্তু ও প্রকৃতির আন্তঃসম্বন্ধ বিদ্যমান। বস্তুময় এই বিশ্বে সবকিছুর সঙ্গে সবকিছুর সম্বন্ধ আছে―মানুষের তো বটেই। সম্বন্ধ মানে সাধারণ ভাষিক ধারণায় আমরা বুঝি : সম্পর্ক, সংযোগ, যোগাযোগ। একটু দেখে নেওয়া যাক অভিধানে কী আছে ? অভিধানে ‘সম্বন্ধ’ শব্দটির বহু অর্থ আছে। আছে এর নানামাত্রিক প্রকাশভঙ্গি! অভিধানে সম্বন্ধ শব্দের অর্থ : সম্পর্ক, যোগ, সংযোগ, সংস্রব, যোগাযোগ, সংসর্গ, সাহচর্য, সংস্পর্শ, সংসৃষ্টি, সংশ্লেষ, একাত্মতা, অবিচ্ছিন্নতা, অবিচ্ছেদ্যতা, অনুবন্ধ, অন্বয়, অনুষঙ্গ, সংযুক্তি, সমভিব্যাহার, সংযুক্তি, সংশ্লিষ্টতা, সংলগ্নতা, সমন্বয়, সামঞ্জস্য, মিল, মিলন, সন্ধি, নির্বন্ধ, সন্নিবেশ, যোজন, সংযোজন, সূত্র, যোগসূত্র, বন্ধন, বাঁধন, যোটক, সঙ্গ, আসঙ্গ, সান্নিধ্য, সাথ, সংসৃতি ইত্যাদি। (যথাশব্দ, মুহম্মদ হাবিবুর রহমান, ইউপিএল, ঢাকা এবং সংসদ সমার্থশব্দকোষ, অশোক মুখোপাধ্যায়, কলকাতা)।
‘সম্বন্ধ’ শব্দটি সংস্কৃত বা তৎসম। এর ব্যুৎপত্তি―সম + বদ্ধ্ + ত (ক্ত)। অর্থাৎ সম্যকরূপে বদ্ধ বা সংযুক্ত যা। সংস্কৃত সাহিত্য এবং প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় ‘সম্বন্ধ’ শব্দের এত সব অর্থে প্রয়োগ হয়তো ছিল, তবে আধুনিক বাংলা ভাষায় অধিকাংশের প্রয়োগ নেই বললেই চলে। তাই বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান-এ মাত্র কয়েকটি অর্থ প্রদত্ত। এর মধ্যে আবার নতুন অর্থও আছে। তাতে লেখা হয়েছে, সম্বন্ধ মানে : মজবুতভাবে বদ্ধ, দৃঢ়ভাবে যুক্ত, কুটুম্বিতা, আত্মীয়তা (বৈবাহিক সূত্রে) এবং ব্যাকরণ মতে কার্যকারণ, জন্য-জনকতা, স্বত্ব-স্বামিত্ব ইত্যাদি ভাব।
বিষয়টি এভাবে উদাহরণ দিয়ে বোঝা যেতে পারে :
* পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মৌল একান্ত সম্বন্ধযুক্ত (দৃৃঢ় বা মজবুতভাবে)।
* সকলের সৎ সম্বন্ধে যুক্ত থাকা এবং অসৎ সম্বন্ধ ত্যাগ করা উচিত (সংস্রব, যোগাযোগ)।
* সরকারবাড়ির সুন্দরী মেয়েটির সম্বন্ধ এসেছে (বিয়ের কুটুম্বিতা)।
* কোনও ভদ্রলোকের কন্যার সঙ্গে পিসী আমার সম্বন্ধ উপস্থিত করলেন। (আত্মীয়তা অর্থে, বঙ্কিমচন্দ্র)।
জন্য-জনকতা ও স্বত্ব-স্বামিত্ববিষয়ক ভাবকে আভিধানিক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আধারাধেয়-বিষয়বিষয়ি-ভাবাদি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ‘বিদ্যাজ প্রীতিজ বা যোনিজ’ সম্পর্ককেও সম্বন্ধ অর্থে প্রযুক্ত করেছেন। তাই ‘পিতা পিতামহ, মাতা মাতামহী ইত্যাদি যোনিজ সম্বন্ধ।’
‘সম্বন্ধ’ শব্দটি সংস্কৃত হলেও সেই সাহিত্যে এর প্রয়োগ আমাদের আলোচ্য নয়, প্রয়োজনীয়ও নয়―তা আমাদের সাধ্যাতীতও। তাই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যে আমরা সীমাবদ্ধ থাকব। সাহিত্যের ইতিহাসে লক্ষ করা যায়, আদি মধ্যযুগের সাহিত্য-নিদর্শন থেকে ‘সম্বন্ধ’ শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায়। তখন থেকে শব্দটির বহুমাত্রিক প্রয়োগও লক্ষণীয়। কালক্রমে বাংলা গদ্যের সূচনালগ্ন থেকে তা সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে আসছে। সংস্কৃত ভাষার মতো তেমন বিচিত্রবিধ অর্থে না-হলেও প্রাচীনকাল থেকে বাংলা ভাষায় শব্দটির প্রয়োগ ও ব্যবহার কম বৈচিত্র্যময় নয়! এর কালানুক্রমিক কিছু উদাহরণ সঞ্চিত হলো―
* আত্মীয়তা অর্থে : মিছাই সম্বন্ধ পাত ভাগিনা মাউলানী। (বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০)।
* শালী সম্বন্ধে সম্বোধ নারায়ণে। (ঐ)।
* সম্পর্ক অর্থে : তোর সাথে আছে মোর নিয়র সম্বন্ধ। (ঐ)।
* নহসি মাউলানী রাধা সম্বন্ধে শালী। (ঐ)।
* শিবের সম্বন্ধ, করিয়া নির্ব্বন্ধ, আইলা নারদ মুনি। (ভারতচন্দ্র, ১৭৬০)।
* বিবাহ অর্থে : সম্বন্ধ গছায়ে দিল সেই আঁটকুড়া। (ক্ষেমানন্দ দাসের মনসার ভাসান, অষ্টাদশ শতক)।
* বিবাহের প্রস্তাব অর্থে : পিতা জাতিকুল স্থির করিয়া সম্বন্ধ করিয়াছেন। (দর্পণ, ১৮২১)।
* গণযোগাযোগ অর্থে : জমিদারগণ প্রজাদিগের সহিত সম্বন্ধবন্ধন করিতে প্রবৃত্ত হইলেন। (সাধারণী, ১৮৭৪)।
* বিবাহসম্পর্কিত আত্মীয়তা অর্থে : শুনছি তোমার ছোট ছেলের সম্বন্ধ কচ্ছো। (গিরীশ ঘোষ, ১৮৮৯)।
* আলোচ্য বিষয় অর্থে : সে সম্বন্ধে কোনো কথা বলা সংগত বোধ করিলাম না। (রবীন্দ্রনাথ, ১৮৯২)।
* সম্পর্ক-যুক্ততা অর্থে : এসলাম ধর্ম্মের সহিত অপরিবর্তনীয় সম্বন্ধবদ্ধ ওজু গোছল…। (ইমান, ১৯০০)।
* বিয়ে ঠেকানো অর্থে : আমি ভাবছিলেম, সম্বন্ধ ভাঙি কী করে। (রবীন্দ্রনাথ, ১৯০২)।
আমরা ইতঃপূর্বেও জানি এবং এ লেখা লিখতে গিয়েও অনুভব করলাম, বৈবাহিক সম্পর্কের সঙ্গে ‘সম্বন্ধ’ শব্দটির সুগভীর যোগসূত্র বিদ্যমান। শুধু তা-ই নয়; বৈবাহিক আত্মীয়তায় সম্বোধনের সঙ্গেও শব্দটি যুক্ত। আমরা জানি, স্ত্রীর বড় ভাইবোন ও ছোট ভাইবোনের সঙ্গে ভগ্নীপতির সম্পর্কের কথা। স্ত্রীর বড়ভাই ভগ্নীপতির সম্পর্কে সম্বন্ধী (সম্বন্ধ + ঈ)। তার স্ত্রী সম্বন্ধীবউ/বউদি। দুজনের সঙ্গে ভগ্নীপতির সম্পর্ক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও মধুরতার। উভয়ের সম্মান বজায় রেখে হালকা ঠাট্টা-তামাশার সম্পর্কও। স্ত্রীর ছোট ভাইবোন ভগ্নীপতির শ্যালক-শালিকা। চলিত বাংলায় শ্যালক থেকে শালা, শ্যালিকা থেকে শালি। এই ‘শালা-শালি’ গালি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অবজ্ঞা ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ঝগড়ার সূত্রপাতে তা প্রয়োগ করা হয়। শব্দদুটির মধ্যে আত্মীয়তার পর্যায়ে যেমন মধুরতা আছে, তেমনই বৈরিতার ক্ষেত্রে ঝগড়ুটেপনাও। সাধারণত ময়মনসিংহ, খুলনা, বগুড়া, দিনাজপুর অঞ্চলে এ দুটি শব্দ গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। (আবদুল মান্নান স্বপন সংকলিত গালি অভিধান, ঐতিহ্য, ঢাকা)। আমরা জানি পুরান ঢাকা ও বিক্রমপুর অঞ্চলের মানুষের লৌকিক উচ্চারণে শব্দের শুরুতে দন্ত্য-স ও তালব্য-শ কখনও কখনও ‘হ’ ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়। সেই নিয়মে শ্বশুর > হউর, সম্বন্ধী > সম্বুন্দি > হমুন্দি এবং শালা-শালি > হালা-হালি হয়ে যায়। তাই গালাগালিতে এগুলো হউরের পো, হমুন্দির পো, হালার পো হয়। আবার ঝগড়ায় অগ্নিশর্মা হলে দ্বিত্ব উচ্চারণে তা হয়ে যায় হালার হালা, হালির হালি!
‘সম্বন্ধ’ শব্দটির সঙ্গে বাংলা ব্যাকরণেরও গভীর আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান। এই বিষয়টি নিয়ে যথাসম্ভব সরলভাবে দু-চার কথা বলা প্রয়োজন। বাংলা ব্যাকরণের সমাসের অধ্যায়ে সম্বন্ধবাচক পদ বা সম্বন্ধপদ বলে একটি অনুচ্ছেদ আছে। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্বন্ধপদের সংজ্ঞার্থ নির্ণয় করতে গিয়ে লিখেছেন : ‘ষষ্ঠীবিভক্তিসূচিত পদদ্বয়ের অন্বয়বিশেষ।’ সহজ কথায় এটি ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্নযুক্ত দুই পদের অর্থগত সংযোগ। সম্বন্ধপদ ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত। ষষ্ঠী বিভক্তির চিহ্ন হলো―র, এর। দুটি পদ অর্থের দিক থেকে পরস্পর সম্পর্কিত হওয়ার সময় সামনের পদের সঙ্গে যদি র বা এর যুক্ত থাকে তবে তা সম্বন্ধপদ হয়। যেমন : আমার ভাই, তোমার বোন, গাছের আম, তেলের শিশি, জামার কাপড়, বিছানার চাদর ইত্যাদি।
অশোক মুখোপাধ্যায় সংসদ ব্যাকরণ অভিধান-এ (দ্বিতীয় সংস্করণ, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা) সম্বন্ধপদকে ভাবার্থ অনুসারে একত্রিশটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। এগুলো জটিল কিছু নয়। ব্যাকরণে অকারণ ভীতি যাদের আছে আশা করি একবার পড়লে তারাও বুঝতে পারবেন।
তাই অশোক মুখোপাধ্যায়ের অভিধান থেকে সম্বন্ধপদের বিভাজন-অংশ ঋণ করে সংক্ষেপে তুলে দিলাম―
‘১. সাধারণ সংযোগ : নদীর তীর, বই-এর মলাট। ২. অধিকার সম্বন্ধ : রাজার রাজ্য, স্বামীর সম্পত্তি। ৩. অঙ্গ সম্বন্ধ : হাতির দাঁত, কলসির কানা। ৪. অধিকরণ সম্বন্ধ : জলের মাছ, গাঁয়ের লোক। ৫. নিমিত্ত বা জন্য সম্বন্ধ : পড়ার ঘর, খেলার মাঠ। ৬. অপাদান সম্বন্ধ : বাঘের ভয়, শহরের দক্ষিণে। ৭. করণ সম্বন্ধ : কলমের খোঁচা, তর্জনীর ইশারা। ৮. উপাদান সম্বন্ধ : সোনার গহনা, পিতলের বাটি। ৯. ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : তিন ঘণ্টার কাজ, পাঁচ মাইলের পথ। ১০. যোগ্যতা বা গুণ সম্বন্ধ : বরফের শীতলতা, চায়ের দাগ। ১১. ক্রম সম্বন্ধ : পাঁচের পৃষ্ঠা, সাতের পরিচ্ছেদ। ১২. কার্যকারণ সম্বন্ধ : সূর্যের তাপ, প্রদীপের আলো। ১৩. অভেদ বা উপমা সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলো, সুখের সাগর। ১৪. কর্মসম্বন্ধ : বিদ্যার চর্চা, বিজ্ঞানের আলোচনা। ১৫. জন্য-জনক সম্বন্ধ : পিতার পুত্র, গাছের ফল। ১৬. কর্তা সম্বন্ধ : আমার পড়া, তার খাওয়া। ১৭. বিশেষণ সম্বন্ধ : নিন্দার কথা, পরিশ্রমের কাজ। ১৮. তারতম্যমূলক সম্বন্ধ : আমার বড়, দশ পৃষ্ঠার বেশি। ১৯. নির্ধার সম্বন্ধ : সবার সেরা, পালের গোদা। ২০. যোগ্যতা সম্বন্ধ : বাপের বেটা, কাজের লোক। ২১. হেতু সম্বন্ধ : রূপের গর্ব, টাকার গরম। ২২. উদ্দেশ্য সম্বন্ধ : বিক্রির মাল, চলার পথ। ২৩. নিবারণ সম্বন্ধ : কলেরার টিকা, তৃষ্ণার জল। ২৪. উপলক্ষ সম্বন্ধ : পুজোর ছুটি, রথের মেলা। ২৫. আধার-আধেয় সম্বন্ধ : টিনের দুধ, জলের বালতি। ২৬. অবলম্বন সম্বন্ধ : অন্ধের যষ্টি, অকূলের কাণ্ডারী। ২৭. বাহ্যবাহন সম্বন্ধ : খড়ের নৌকা, সিমেন্টের ট্রাক। ২৮. ব্যবসায় সম্বন্ধ : পানের দোকানদার, আদার ব্যাপারী। ২৯. কৃতিকারক সম্বন্ধ : পিকাসোর ছবি, রবীন্দ্রনাথের গান। ৩০. উৎপাদক সম্বন্ধ : জাপানের পুতুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী। ৩১. বীপ্সা সম্বন্ধ : ব্যথার ব্যথী, দুঃখের দুঃখী।’
যতই সহজ করে বলার চেষ্টা করা হোক-না-কেন, ব্যাকরণ-ভীত পাঠকদের জন্য তা সহজ নয়! রবীন্দ্রনাথ তো বলেইছেন : ‘সহজ করে বলতে আমায় কহ যে,/ সহজ কথা যায় না বলা সহজে।’ তবে এ কথা সত্য, বিশ্বসংসারের সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত। কেবল মানুষের সঙ্গে মানুষ নয়; প্রকৃতি এবং বস্তুজগতও আমাদের সঙ্গে সম্বন্ধময়। বাংলার প্রবাদে যদিও বলা হয়, ‘মামার শালা, পিসার ভাই/ তার সঙ্গে কোনও সম্বন্ধ নাই!’ তবু এই প্রবাদও আছে : ‘লাউতলা বিয়াইছে গাই/ সেই সম্পর্কে খালাতো ভাই!’ সুতরাং আমরা সবাই অবিচ্ছেদ্য সম্বন্ধের জালে বাঁধা। বাংলা চলিত গদ্যের জনক ভাষাবিদ প্রমথ চৌধুরী বলেছেন : ‘কতকগুলি জাতিবাচক সম্বন্ধবাচক এবং ভাববাচক শব্দ সংগ্রহ করি।’ আমাদের মতো সাধারণের এত দরকার নেই। আমরা আমাদের এই প্রাচুর্যময় ভাষা থেকে নিজের মতো কিছু সম্বন্ধবাচক পদ তৈরি করি কিংবা সাম্প্রতিক পাঠের ডালি থেকে কুড়িয়ে সঞ্চয় করি।
[চলবে]সচিত্রকরণ : ধ্রুব এষ



