

শিরোনাম শুনলেই এক অন্যরকম ভাবাবেশ তৈরি হয় ―মাতালগন্ধ। শিরোনামটি পাঠকের মনে এক ধোঁয়াটে, দার্শনিক ও মাদকীয় আবেশ জাগায়―যা বইটির মূল সুর। অথচ বইয়ের কোনও প্রবন্ধ সরাসরি এই শিরোনামে নেই। এ-কথা স্পষ্টই বোঝায়, লেখক মিলটন রহমান পাঠকের সঙ্গে এক অদৃশ্য নেশার আলাপনে যুক্ত হয়েছেন। ষোলোটি প্রবন্ধের এই সংকলন পাঠকের মনোজগতে তৈরি করে দেয় ভাষা, ভাবনা ও নান্দনিকতার এক ককটেল―যা কখনও বিষাদ, কখনও দ্রোহ, আবার কখনও আস্থার মতো মৃদু-মগ্ন।
লেখক সরল সত্য উচ্চারণ করেছেন―বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধ তার প্রাপ্য মর্যাদা পায়নি। অথচ সাহিত্যতত্ত্ব ও বিশ্লেষণে প্রবন্ধই হতে পারত সবচেয়ে সক্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম। মাতালগন্ধ এই শূন্যতা পূরণেরই এক সংবেদনশীল প্রয়াস। একাধারে এটি পাঠ-অভিজ্ঞতার সংকলন, অপরদিকে সাহিত্যিক অন্তরনিমগ্নতার আত্মপ্রকাশ।
দুই
বইটির লেখক কবি-গল্পকার ও সাংবাদিক মিলটন রহমান―যিনি গভীরভাবে সাহিত্যে আত্মমগ্ন।
এ গ্রন্থে ব্রিটিশ-আমেরিকান কবি সিলভিয়া প্লাথকে নিয়ে লেখা দুটি প্রবন্ধ ও তিনটি অনূদিত চিঠির মধ্য দিয়ে লেখক তুলে এনেছেন আত্মহননের প্রান্তছোঁয়া এক নারীর যন্ত্রণাদগ্ধ কবিসত্তা। লেখক নিজেই স্বীকার করেছেন―সিলভিয়ার প্রতি তাঁর অন্ধ পক্ষপাত রয়েছে। এই পক্ষপাতকে গভীর আবিষ্টতায় তিনি পরিণত করেছেন সাহিত্যে। শুধু কবি হিসেবে নয়, সিলভিয়ার বৈচিত্র্যময় জীবনের অজস্র দিকও এখানে উঠে এসেছে। লেখকের মতে, এত বহুমাত্রিক জীবন এবং আত্মহত্যাপ্রবণ মননের কবিকে তিনি আর দেখেননি। সিলভিয়া জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কবিতার ভেতর ধারণ করতে চেয়েছেন, কেবল ভালোবাসতে চেয়েছেন তাঁর প্রেমিককে।
কাব্যগ্রন্থ দ্য কোলসাস অ্যান্ড আদার পোয়েমস এবং এরিয়েল পাঠের পর লেখক সিলভিয়াকে নতুন করে আবিষ্কার করেন। তাঁর কবিতার অন্তর্গত ট্যাবু, মানসিক যন্ত্রণা, যৌনকাতরতা এবং আত্মঘাতী প্রবণতা এক ভিন্নতর রসায়ন তৈরি করে। লেখক মনে করেন, সিলভিয়ার কবিতা স্বীয় মনস্তত্ত্বের স্বীকারোক্তি। কখনও তা করাতের মতো ধারালো, কখনও মগজে হাতুড়ি পেটানোর মতো তীব্র, আবার কখনও বুকে ছুরি বিঁধে যাওয়ার মতো বেদনাময়। সিলভিয়ার কবিতা পাঠ করতে গিয়ে লেখকের মনে হয়েছে―কোনও মানুষই জীবনের পূর্ণতায় সম্পূর্ণ তৃপ্ত হতে পারে না।
বিশ্বসাহিত্যে টেড হিউজ ও সিলভিয়া প্লাথের সম্পর্ক এক মিথ হয়ে আছে―সিলভিয়ার চিঠির অনুবাদে মিলটন রহমান তুলে ধরেছেন টেড হিউজের সঙ্গে তার সম্পর্কের সূচনা এবং পরিণতির মধ্যে লুকানো দুঃসহ প্রেম ও পরাজয়ের এক বেদনাময় সুর। লেখক জানিয়েছেন, সেই সময়ের প্রায় সব চিঠিই তিনি অনুবাদ করেছেন―যা পাঠকের সামনে খুলে দেয় কবিতার আড়ালে থাকা জীবননাট্যের দরজা। যদিও লেখক সিলভিয়ার অনুবাদ ও জীবন নিয়ে আবিষ্ট, তবে প্লাথের সঙ্গে সমসাময়িক বা অভিন্ন যন্ত্রণার লেখক কবি যেমন ভার্জিনিয়া উলফ বা আনা আখমাতোভাকে তুলনায় আনলে পাঠের বিস্তৃতি ঘটত।
‘মুরাকামির কল্পধাম’ প্রবন্ধে মিলটন রহমান অনন্য বিশ্লেষণ করেছেন বিশ্বখ্যাত জাপানি কথাসাহিত্যিক হারুকি মুরাকামির গল্প বলার ঢং, মনস্তত্ত্ব এবং কল্পলোক। মুরাকামি যেভাবে সাধারণ ঘটনাকে অসাধারণভাবে বলেন এবং পাঠকের চোখের সামনে সিনেমার মতো দৃশ্য সাজিয়ে তোলেন―তাতে পাঠক এক আত্মিক জগতের ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুরাকামির ছোটগল্প ‘সুপার ফ্রগ সেভস টোকিও’ পাঠ করে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা পাঠককে জানিয়ে দেন―মুরাকামির ফিকশন কেবল সাহিত্য নয়, বরং মানসিক নিরাময়ের মতো।
মুরাকামি বিশ্বাস করেন―গ্রন্থসংখ্যা একজন লেখকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টির শিল্পমূল্য ও গভীরতা। প্যারিস রিভিউতে (২০০৪) এক সাক্ষাৎকারে মুরাকামি বলেছিলেন, ‘আমি প্রতি তিন-চার বছরে একটি উপন্যাস রচনা করি। পাঠক আমার উপন্যাসের জন্য অপেক্ষা করে। এক সময় আমি জন আরভিং-এর একটি সাক্ষাৎকার করেছিলাম, তাতে তিনি বলেছিলেন, ভালো একটি গ্রন্থ পাঠ করাটাই আসল কথা। একজন পাঠক যখন ভালো গ্রন্থ পাঠে আসক্ত হয়ে পড়ে, তখন সে আরেকটি ভালো গ্রন্থের জন্য অপেক্ষা করবেই।’ এই আত্মবিশ্বাসই হয়তো মুরাকামিকে নিরন্তর সৃজনে সক্রিয় রেখেছে।
প্রত্যেক লেখকের গল্প বলার নিজস্ব ঢং থাকে। তারা সচরাচর সেই বৃত্তের বাইরে যান না। হারুকি মুরাকামির সকল লেখাই সমকালীন সাহিত্য, জীবনমুখী ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। তাঁর উপন্যসের চরিত্রগুলো সবসময় থাকে বিষাদময়। আর সেই বিষাদময় চরিত্রকে মুরাকামি তার লেখনীর মাধ্যমে চোখের সামনে যেন সিনেমার পর্দায় তুলে ধরেন। সাধারণ কোনও ঘটনাকে অসাধারণভাবে বলার দক্ষতা সবার থাকে না। যাদের থাকে তাদের এ ক্ষমতা অনেকটা ঈশ্বরপ্রদত্ত। মুরাকামির লেখা এমনই। একটা ঘটনা খুব বিস্তারিতভাবে বলতে পছন্দ করেন। প্রত্যেকটা খুঁটিনাটি খুব আগ্রহের সঙ্গে বলেন। যেন মনে হয়, লেখক ঘটনাকে নিজের চোখে দেখে লিখছেন ও পাঠক পড়ার পাশাপাশি লেখকের চোখের সাহায্যেই ঘটনাকে সরাসরি দেখতে পাচ্ছে।
হারুকি মুরাকামির কল্পলোককে লেখক বর্ণনা করেছেন ভিন্নতর দৃষ্টিকোণ থেকে। তাঁর লেখার বিষাদ, মনস্তত্ত্ব এবং কল্পনার স্তরগুলো তিনি খুলে দেখিয়েছেন। মিলটন রহমান মুরাকামির গল্প বলার পদ্ধতি, চরিত্রের অন্তর্লোক এবং পাঠকের সঙ্গে লেখকের আত্মিক সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতাকে তুলে ধরেছেন দক্ষতার সঙ্গে। এখানে বোঝা যায়, লেখকের পাঠ-অনুভব গভীর এবং নিষ্ঠা-নির্ভর।
‘ব্রিটেনে রবীন্দ্রচর্চা’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির বৈশ্বিক বিস্তার ও প্রশংসা তুলে ধরেছেন লেখক। পাঠক জানতে পারেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতা কেবল বাঙালির অহংকার নয়―এটি বৈশ্বিক মানবতাবোধেরও প্রতিনিধিত্ব করে। এই প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ চর্চার প্রাসঙ্গিকতায় আন্তর্জাতিক পাঠকদের ভূমিকাও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে। প্রবন্ধকার জানিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি ইউরোপের তেরোটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে―যার মধ্যে ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান ও সুইডিশ উল্লেখযোগ্য। যারা অনুবাদ করেছেন, রবীন্দ্রচর্চা করছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। প্রবন্ধের গঠন তথ্যনির্ভর ও প্রাসঙ্গিক।
‘কবিতার গঠন ও পাঠ পরাপাঠের ক্যারিকেচার’ প্রবন্ধটি লেখাকে অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত অংশ। এখানে গ্রিক শব্দ ‘ঢ়ড়রবংরং’ থেকে কবিতার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করে কবিতার আদি দর্শনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আজকের বাংলা কবিতায় কতটুকু ‘নতুন ভাব’ আছে, কতটুকু দর্শন বা বৌদ্ধিক অনুসন্ধান রয়েছে―সেসব প্রশ্ন এখানে কেবল উত্থাপিত হয়নি, বরং লেখক নিজেই কিছু উত্তরও দিয়েছেন।
‘বহির্বিশ্বে বাংলা সাহিত্যচর্চার সাম্প্রতিক প্রবণতা’ প্রবন্ধে মিলটন রহমান তুলে ধরেছেন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ইউরোপ-সংযোগ, বিশেষত মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, ওয়ালীউল্লাহ হয়ে আজকের গ্লোবাল পাঠে বাংলা সাহিত্য। ময়মনসিংহে লেখা লেনা কাব্য (১৯০৮)―যা আজ সংরক্ষিত অক্সফোর্ড লাইব্রেরিতে―তা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। লেখক বলছেন, ‘আমাদের বহির্বিশ্বমুখী প্রবণতাকে চিহ্নিত করার জন্য প্রাচীন পূর্ববঙ্গ গীতিকা প্রকৃষ্ট এবং প্রাথমিক দলিল হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। আঠারো শতকের শেষ ভাগে এবং উনিশ শতকে এসে এ প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সমন্বয় সাধনে অনেকের চিন্তা বা প্রচেষ্টা দুর্লক্ষ নয়। এখানে মাইকেল মধুসূদন দত্ত অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।’ লেখকের ভাষায়, ‘বহির্বিশ্বে বাংলা সাহিত্য অনেক এগোলেও, বাংলা কাব্যচর্চা এখনও ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তা বলার সময় আসেনি।’
‘নার্গিস উদ্যানে নজরুল তর্ক’ প্রবন্ধে লেখক একটি প্রচলিত মিথ―নার্গিস কি নজরুলের প্রথম প্রেম―তা বিশ্লেষণ করেছেন। প্রবন্ধকার তাঁর লেখার শুরুতে সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রথম প্রেম কি না। নজরুলের জীবনে অনেক নারীর উপস্থিতি ঘটেছিল। তবে অনেক নারীর উপস্থিতি কীভাবে তার কোনও দলিল পাওয়া যায় না। তার মধ্যে তিনজনের নাম বেশি উচ্চারিত। সৈয়দা খাতুন বা নার্গিস আসার খানম, প্রমীলা সেনগুপ্তা এবং ফজিলাতুন্নেছা জোহা। যদিও প্রবন্ধটি তথ্যসূত্র ও গবেষণায় আরও বিস্তৃত হতে পারত, তবু এটি একটি জরুরি আলোচনা শুরু করেছে।
‘শঙ্খবাজ কবি শঙ্খ ঘোষ’ প্রবন্ধে শঙ্খ ঘোষকে বর্ণনা করা হয়েছে একজন কবি নয়, কবিকণ্ঠের মধ্যে এক স্বতন্ত্র ভূগোল হিসেবে―যার কাব্য, প্রেম, প্রতিবাদ এবং আত্মসংঘাত এক বৈভবিক ঐতিহ্য তৈরি করে। যিনি বাংলা কাব্যসাহিত্যে ঐশ্বর্য ও প্রকরণে তুঙ্গে পৌঁছেছেন।
হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লেখা ‘বিলেতবাড়ি’ প্রবন্ধে লেখক স্মৃতিকথা ও মূল্যায়ন একত্র করেছেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো লেখক হতে না পারার হুমায়ূনের আক্ষেপ এবং তাঁর সহজ-জটিল গল্প বলার মুন্সিয়ানা এখানে নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে।
এ ছাড়া শওকত আলী, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু ও আবুল ফজল বিষয়ে প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এ গ্রন্থে।
তিন
মাতালগন্ধ পাঠ করে মনে হয়―প্রবন্ধ সাহিত্যের মেঘলা আকাশে লেখক মিলটন রহমান যেন এক বিষণ্ন দীপ্তি ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই দীপ্তি কেবল আলো নয়, সে এক নেশাও―যা পাঠকের আত্মায় ছড়িয়ে পড়ে অদৃশ্য সুগন্ধির মতো। এটি কেবল একটি প্রবন্ধসংকলন নয়―এটি এক গভীর অনুভবনির্ভর ও মননশীল সাহিত্যিক যাত্রা, যেখানে পাঠ ও লেখালেখি একত্রে হয়ে উঠেছে আত্মার নেশা। এই বই বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে একটি নতুন সংযোজন, যেখানে লেখক নিজের পাঠ অভিজ্ঞতা, কবিতাচিন্তা এবং লেখকবিশ্লেষণকে নিছক তথ্য বা পর্যালোচনার সীমা ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন গভীর আত্মদর্শনের ভেতর।
লেখকের বর্ণনার মুন্সিয়ানা বিস্মৃতপ্রায় কবি-লেখকদের জীবন ও কর্মকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা। কেউ কেউ এখানে উপস্থিত হয়েছেন সাহিত্যের অনিবার্য প্রতিনিধি হিসেবে, আবার কেউ কেউ জীবনের আলো-অন্ধকারে ভাসতে থাকা মানুষ হয়ে। এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি―যা লেখকের অন্তরঙ্গ পাঠ-দৃষ্টিকে প্রতিফলিত করে―বইটিকে করে তুলেছে বহুমাত্রিক।
প্রবন্ধগুলো একে একে পাঠককে গ্রাস করে; পড়তে পড়তে যেন এক ধরনের মদিরা-মগ্নতা জাগে। এই মাতালগন্ধ পাঠককে মনে করিয়ে দেয়―সাহিত্যবিচার, পাঠ ও নির্মাণ কেবল একাডেমিক অনুশীলন নয়, বরং তা একটি অভিজ্ঞতা, যা মন ও মস্তিষ্ককে একসঙ্গে নেশায় আচ্ছন্ন করে।
বইটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ভাষা―সংবেদনশীল, সংযত, অথচ সাহসী। কোনও ধামাচাপা বা নরম সমালোচনার আশ্রয় নেননি। বরং স্পষ্ট সত্য উচ্চারণেই লেখক গড়ে তুলেছেন নিজের পাঠসাহিত্য। ফলে বইটি হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ-নথি, যা পাঠককে উদ্বুদ্ধ করে নিজস্ব পাঠ-সংবেদ তৈরি করতে।
তবে কোনও কোনও প্রবন্ধে লেখকের বিশ্লেষণ আরেকটু গভীরে প্রবেশ করতে পারত; কিছু অংশে ভাবনার বিস্তার অতৃপ্তির ইঙ্গিত দেয়। মিলটন রহমানের প্রবন্ধগুলো মূলত সাহিত্যকর্ম নয়, বরং সাহিত্য ও লেখকের মনস্তত্ত্বের সন্ধান। বিশেষ করে সিলভিয়া প্লাথ, হারুকি মুরাকামি কিংবা রবীন্দ্রনাথ বা হুমায়ূন আহমেদ―এদের পাঠ শুধু বিষয় হিসেবে নয়, লেখকের আত্মগত উপলব্ধির দিক থেকেও উপস্থাপিত হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
মাতালগন্ধ নিঃসন্দেহে বাংলা প্রবন্ধসাহিত্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন―যেখানে সাহিত্যপাঠ নিজেই এক ধরনের মাতাল আত্মপ্লাবন হয়ে ওঠে। সাহিত্যের ইতিহাস কখনওই ধামাচাপা বা উপেক্ষার মাধ্যমে রচিত হয় না―তা গড়ে ওঠে সত্য, সাহস এবং নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। মাতালগন্ধ সে পথেই এক পাঠযোগ্য ধ্বনি তুলে দেয়।
লেখক : প্রাবন্ধিক



