
দ্বাদশ বর্ষ তৃতীয়-চতুর্থ সংখ্যা মার্চ-এপ্রিল ২০২৫
সাহিত্যের শব্দঝরনায় ঈদআনন্দ
ঈদুল ফিতর―এ দুটি আরবি শব্দের অর্থ রোজা ভাঙ্গার আনন্দ; দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা বা নানারকম পানাহার এবং খারাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে সংযমে থাকার শিক্ষা নিয়ে মাসশেষে আনন্দে অংশগ্রহণ করা। এই উদযাপন তখনই সফল হয় যখন সামর্থ্যবান মুসলমানেরা ফিতরা ও জাকাত আদায় শেষে একে অপরকে ‘ঈদ মোবারক’ বলেন, ‘কোলাকুলি’ করেন।
দেশের সরকারি চাকুরেদের জন্য ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সুখবর জারি করা হয়েছে―টানা ছয় দিন সরকারি ছুটি মিলবে। কেউ একদিন বাড়তি ছুটি ম্যানেজ করতে পারলে টানা নয় দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন, গ্রামেগঞ্জে বা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হতে পারবেন, শান্তি-প্রশান্তি অর্জন করে আবার কাজে ফিরে আসতে পারবেন। আর দৈনিক পত্রিকাসমূহের বিনোদন পাতার খবর থেকে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৪০০ প্রেক্ষাগৃহে চারটি জমজমাট সিনেমা প্রদর্শিত হওয়ার আগাম খবর। ধর্মীয় পরিবেশেও নানা উৎসব-আয়োজন চলে গ্রামেগঞ্জে, শহরের পার্কে, চিড়িয়াখানায়, ঘরে ঘরে।
এ রকম উৎসবমগ্ন সময়ে সাহিত্যিকেরা কেন বসে থাকবেন ? তাঁরাও কলম হাতে তুলে নেন। মানুষের আত্মার খোরাক মেটাতে শব্দের পর শব্দ উপহার দিয়ে ঈদ উদযাপনকে মহীয়ান করে তোলেন। দৈনিক পত্রিকাগুলো ঈদসংখ্যা প্রকাশ করে, সাহিত্যপত্রিকাগুলোও। অর্থাৎ সাহিত্যের ভার্চুয়াল অঙ্গনেও শব্দঝরনায় ঈদ-আনন্দ বয়ে যায়। উৎসবের এই মহা আয়োজনে শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ, সাহিত্য-সংস্কৃতির মাসিক পত্রিকা শব্দঘরও পিছিয়ে নেই। প্রতিবারের মতো এবারও অনুসন্ধিৎসু পাঠক ও সাহিত্যিকদের আত্মার খোরাক মেটাতে শব্দঘর অনন্য সাহিত্যসম্ভার উপহার দিচ্ছে ২০২৫ ঈদসংখ্যার মাধ্যমে।
রোজা দুই ধরনের―বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক।
বাইরে নানা আচার-অনুষ্ঠান কিংবা কেনা-বেচার মাধ্যমে রমজান মাসে উৎসবের ধুম লাগে, তা দৃশ্যমান হয় সর্বস্তরের মানুষের যাপিত জীবনে আর আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে সংযম শিক্ষার মাধ্যমে, জ্ঞানের আলো অর্জনের মধ্য দিয়ে মহাসত্যের সন্ধান পাওয়ার সুযোগের কারণে।
সাহিত্যপাঠ মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে, সমাজে দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য নানা কলুষিত চরিত্র দেখার সুযোগ করে দেয়, সেই চরিত্র থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্য পাঠককে উদ্বুদ্ধ করে সংগোপনে। আবার অনেক ভালো চরিত্রের উজ্জ্বল দিক সম্পর্কে পড়ে তাঁর মতো হওয়ার প্রেরণাও পায়। একজন ধৈর্যশীল নিমগ্ন পাঠকের অন্তরাত্মা এভাবে ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারে, আলোকিত হতে পারে।
প্রতিবারের মতো শব্দঘর-এ ঈদসংখ্যায় এবারে থাকছে চারটি উপন্যাস, একটি সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস, একটি উপন্যাসিকা, দুটি বড় গল্প, ২৭টি গল্প, ৩৩টি কবিতা, বিশ্বসাহিত্যের ১০টি অনুবাদ গল্প, মূল স্প্যানিশ থেকে বাংলায় দুটি অনুবাদ কবিতা, ফরাসি সাহিত্যিক অ্যান সেয়ার সঙ্গে নিনা লেজারের আলাপচারিতার বাংলা অনুবাদ। বরাবরের মতো এবারও গুরুত্বপূর্ণ উপহার হিসেবে থাকছে এ বছর একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও কথাসাহিত্যিক হেলাল হাফিজ এবং শহীদুল জহিরের সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আয়োজন―উভয়ের অগ্রন্থিত সাক্ষাৎকার ও আলোচনা।
বিগত বছরগুলোর মতো এই সংখ্যারও নান্দনিক প্রচ্ছদ উপহার দিয়েছেন চিত্রশিল্পী-কথাকার ধ্রুব এষ। তাঁর রঙ-তুলির অনবদ্য উপস্থাপনায় ঈদের আনন্দ নানা কৌণিক বিন্দু থেকে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্বাস করি, সংখ্যাটি পাঠের মাধ্যমে পাঠক নানা দৃষ্টিকোণ থেকে সমৃদ্ধ হবেন, আলোকিত হবেন, অন্য আলোর সন্ধান পাবেন।
বিজ্ঞাপনদাতা, সকল শুভানুধ্যায়ী, পাঠক ও লেখকদের জন্য রইল ঈদের আগাম শুভেচ্ছা―ঈদ মোবারক!



