
তালুকদারের সেজ ছেলে ঘটনাটা ঘটালো খাড়া দুপুরে। এতে তালুকদারকে নিয়ে এতদিনের হইচই কানাঘুষা চাপা পড়ল। যেভাবে প্পিড়া চৌধুরীর কাহিনিটা চাপা পড়েছিল সলু মাস্টার তার বেটার বউকে গোয়ালঘরে চেপে ধরার মধ্য দিয়ে।
বাপের মেজ ছেলে নাকি পাজির পা-ঝাড়া হয়। লোকজন যার কাণ্ডে শৈশবে হাসে কৈশোরে বকে, আর ধেড়েবেলায় ছাড় দেয় আবার দেয়ও না। তবে তালুকদারের সেজটা মেজকে টপকালো। হেন কাজ নাই সে পারে না বা করে না। প্রশংসা পাবার মপশভ তেমন কিছু কখনও করেছে বলে মানুষের মনে পড়ে না। জমিতে পাকা ধান খেতে থাকা ছাগলও কোনওদিন বাহু তুলে হিস করে দেখেনি। আজ করল। প্রশংসাও পেল একজনের। ভর দুপুরবেলা পাট খেতের মধ্যে ঠনঠনে পাড়ার ঠাণ্ডু নাপিতের মেয়ে আলোনিকে চেপে ধরল। তালুকদার-বাড়ির জন্য এটা কোনও বড় ঘটনা নয়। ঐতিহ্যগত। তার বাড়ির কাজের মেয়ের সঙ্গে কাজের ছেলের কিংবা তালুকদারের বা তালুকদারপুত্রের লটপট নতুন কিছু নয়। পেট বাঁধবে পেট ফেলবে এটাই স্বাভাবিক। তালুকদারের সেজ ছেলে আলোনিকে চেপে ধরেছে, এ জন্য মানুষ অবাক হয়নি। কপালে ভাঁজ ফেলেছে অন্য কারণে। তালুকদারের গোয়ালঘর, বৈঠকঘর কিংবা মাচাঘর থাকতে বাড়ির বাহিরে কেন ? তবে কি বেলেল্লাপনার সীমা ছাড়াল, নাকি ঘটনাটি ঢোল পিটিয়ে সবাইকে জানান দিল তালুকদার পুত্র ? এখন এটাই গুঞ্জরিত সারা গ্রাম বা এলাকাজুড়ে। মোড়ের চায়ের স্টলে, পাড়ার মুদি দোকানে, জমির আলে এখন এ নিয়েই আলোচনা।
বেজার, বিস্ময় কিংবা রাগ; অনেকেরই অনেক কিছু হলো। খুশি হলো একজন। তালুকদার। তবে মনে মনে। তার বিষয়টা চাপা পড়বে এবার। চলন্ত ভুরভুরিকে থামাতে নতুন কোনও ঘটনার সুতা সাঙ্গপাঙ্গকে একটু ধরিয়ে দিতে হয় মাত্র। টানার বা বুনাবার কাজ তারা নিজে থেকেই করে। তখন নতুনটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষ। পুরাতন ঢেকে যায় ঝোপজঙ্গলে। তালুকদারকে এবার নিজে থেকে কিছু করতে হলো না। এবার করল সেজ ছেলে। নিজে থেকেই করল। একেবারে ছক্কা। বল দেখতে না পেলেও সেদিকেই সবার চোখ। এ ক্ষেত্রে তালুকদারকে কিছুই বলতে হয়নি। আকার ইঙ্গিতেও নয়। অন্য কেউ এমন ঘটালে এতক্ষণ তালুকদার দৌড়ে গিয়ে থলবলে বুকে টেনে নিত। ছেলেকে নিল না। বেমানান ঠেকবে। শুধু দূর থেকেই আশীর্বাদের সুরে মনে মনে বলল―বাপকা বেটা সেপাই কা ঘোড়া।
ঠাণ্ডু নাপিত সন্ধ্যাকে রাত হতে দিল না। সে অবশ্য আসতে চায়নি। নাপিতপাড়ার এক মুরুব্বি ঠাণ্ডুকে বগলদাবা করে নিয়ে এল। তালুকদারকে যা বলার তা মুরুব্বিই বলল।―এডা তো বড় অন্যায় তালুকদারের বেটা। তুমি একটা বিহিত কর। না হলে সবাই কিন্তুক তুমার দিকেই কাদা ছুঁড়বে। বেটা তো তুমারই। আরও সাত-পাঁচ বলতে চাইলো মুরুব্বি। তালুকদার থামিয়ে দিল ?―শুনো বাপু, হামাক তুমরা কী মুনে করেন ? তুমরা না চাইলেও এর বিহিত হামি করতুকই। হামার বেটা হলে কী হোবে, তার এমন শাস্তি দিমু যেন সবার মনেই সেই ভয়ডা চিরদিন থাকে।
হামি জানতুক, তুমি ঠিকই বিচার করবেন। হামার অন্যায় তুমি করবেন না। হাত কচলাতে কচলাতে পেছন থেকে ঠাণ্ডু নাপিত বলল।
তা সবই ঠিক আছে। কিন্তু আসামি তো নাই। তুমরা কি চান আসামি ছাড়াই বিচার হোক ? তালুকদার গোঁফের কোনায় হাসির রেখা এঁকে বলল।
সেডা আবার কেমুন কথা ? আসামি ছাড়া বিচার কুনোদিন হয় ? মুরুব্বি পানের পিক ফেলতে ফেলতে বলল কথাটা।
সেডাই তো হামি বুলতে চাই। শয়তানডাক আগে আসতে দাও, তারপর দেগ কেমুন বিচার করি। আর শুনো ঠাণ্ডু, আলোনিকে চোখে চোখে কদিন রাখো। বুলা যায় না, কগন কী কইরা বসে। ছুঁড়ির রক্ত গরম। আরও কিছু পরামর্শ দিয়ে মুরব্বি আর ঠাণ্ডু নাপিতকে বিদেয় করল তালুকদার। তারাও বুক ভরে স্বস্তির বাতাস কয়েকবার তোলাফেলা করে বাড়ির দিকে হাঁটা দিল।
মাসখানেক গেল। ঘটনার গুবগুবানি ঢেউ পর্যায়ে এল। আসামি এল না। দ্বিতীয় মাস গেল। ঢেউ ভুরভুরিতে রূপ নিল। তৃতীয় মাসও পার হলো। এল না। ভুরভুরি তবু বুদ্বুদ আকারে ছিল পাড়ার বউ-বেটির বৈকালিক বিনোদনে। ঠিক তখনই ঘটল আরেক ঘটনা। এর আগে যা কখনও ঘটেনি বা কেউ দেখেনি। সেটাই ঘটল তালুকদার পাড়ায়। তালুকদার বাড়ির খাস পিয়াদার দামড়া ছেলে এলেম কাজটা করল। আশ্বিন কার্তিকী কুকুর এখন সময় বদলিয়েছে। প্রকৃতির মতো, ঋতুর মতো। প্রবাদগুলো মিথ্যে করে তারা নিজেদের আপডেট করেছে। এখন শ্রাবণেই লাল-নীল বেলুন ফুটে তাদের মনে। এই ভরা শ্রাবণেই দুই কুকুর পিয়াদার বাড়ির সামনে জোড়ালেগে মস্তি করছিল। চোখ গেল এলেমের। হাতের কাছে একটা লঘা পেল। লঘার মাথায় পাতকাটি বাঁধা। লঘাটা হাতে নিয়ে সুড়সুড় করে এগিয়ে গিয়ে দুই কুকুরের সন্ধিবিন্দুতে পাতকাটি ঠেকিয়ে ঘ্যাচাং করে টান দিল। দ্রুত আলাদা হয়ে গেল কুকুর। পুরুষেরটা পুরুষের কাছে রইল না। সেটা নিয়ে পালালো মহিলা। কিন্তু পুরুষের চিল্লানিতে মাটি কাঁপে গাছ কাঁপে। বোধহয় কেঁপেছিল এতক্ষণ হাসতে থাকা এলেমের বুকও। মাটিতে পড়ে লুটায় কুকুর। রক্তে ভাসছে চারধার। শত মানুষ জুটে গেছে ততক্ষণে। কুকুরীর সঙ্গে এলেমও তখন উধাও। এক সময় চিল্লাতে চিল্লাতে নিস্তেজ হয়ে গেল শিশ্নহারা। অধিক রক্ত ক্ষরণে বেশিক্ষণ টিকল না। কুকুর নিস্তেজ হলেও জেগে উঠল মানুষ। তাদের বাজপাখি-চোখ এদিক ওদিক চায়। খোঁজে এলেমকে। পেলে তাকেও শিশ্নছাড়া করবে। পুঁতে ফেলবে মাটির সঙ্গে। তবে এলেমের ছায়াও সেখানে নেই। শত লোকের শত মন্তব্য। দুই একজন এটাও বলল, কুকুর নিয়ে তারা মিছিল করবে। বিহিত একটা করতেই হবে এই জুলুমের। কেউ বলল―মানুষ আর পশু এক করে ফেলেছে এরা। আর বাড়তে দেওয়া যায় না। কালাম মুন্সির বেটা ওহেদ তো একগোছা খড় নিয়ে কুকুরের পাগুলো জোড়া করে বাঁধতে লাগল। আর একজনকে ইশারা করল একটা বাঁশ আনতে। বাঁশে কুকুরটা ঝুলিয়ে সারা গ্রাম মিছিল করবে। জনমত তৈরি করবে। গেল সপ্তাহে এলেম ওহেদের চারটি গরু খোঁয়াড়ে দিয়েছিল। অনেক হাত-পা ধরেছিল এলেমের। ছাড়েনি। তার দুই দিনের কাজের টাকা লেগে গেছে গরু ছাড়িয়ে আনতে। আজ সুযোগ এসেছে। জব্দ করতেই হবে। ভিড়ের ফাঁকে তালুকদারের আরেক পিয়াদা নুরু দাঁড়িয়ে ছিল। সে-ই মাথাটা সামনে নিয়ে বলল―কী সব ছেলে মানুষি করছেন তুমরা। এলেম ছোট মানুষ। সে না হয় একটা ভুল করিইজে। তুমরাও পাগলা হইলেন ? কথাটা শুনে তেলেবেগুনে জ¦লে উঠল কাত্তিক বৈরাগী। সে টিকি ঝাঁকিয়ে চিল্লিয়ে উঠল―কী বুল্লেন তুমি, ঐ সমুন্দি চ্যাংড়া মানুষ। কদিন বাদে ম্যাট্রিক দিবে। বিয়া দিলে ছাওয়ালের বাপ হোবে। আর তুমি বুলোজেন ছুটো মানুষ ? কথাগুলো বলতে বলতে হাঁপিয়ে উঠে কাত্তিক। যেন আরও কিছু বলার জন্য জিরায়। জোঁকের মুখে লবণ পড়ল। চুপসে গেল নুরু। কাত্তিক দম নিয়ে আবার বলে―শুনো নুরু, আজক্যা কুকুরের ইয়াতে লগা লাগাইজে, কাল কিন্তুক লগা লিয়া তুমার ঘরোত ঢুকপে। তুমার জোড়াকেও পাতকাটি লাগাইয়া আলাদা করবে। তগন কী করবেন ? নুরুকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বললেও, আনমনে নিজের কোঁচড়ে হাত দিয়ে নিজেই চেপে ধরল কাত্তিক।
শেষ পর্যন্ত কুকুর-মিছিল হলো না। তবে তারখুম-মারখুম চলল বেশ কিছুক্ষণ। একটা কুকুরের জন্য মানুষের যে এত দরদ, হাপিত্যেস লুকিয়ে ছিল, তা অনেকেই অনুমানে আনেনি। যারা সেখানে উপস্থিত ছিল, তারাও ভাবতে পারেনি, এত তাড়াতাড়ি এতগুলো মানুষ দানা বেঁধে উঠবে। গেল বছর সামির ভাটাওয়ালার দিনে দুপুরে ভুড়ি ধসালো কারা যেন, তখনও এত হাপিত্যেস করেনি মানুষ। আজ এই কুকুরকে নিয়ে সারা গ্রাম একজোট হলো। বলতে গেলে সারা গ্রাম আজ জড়ো হয়েছে। নেই শুধু তালুকদার। অথচ তালুকদারের বৈঠকঘর থেকে বেশিদূর ঘটনাস্থল নয়।
অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো সবাই মিলে কুকুরটাকে নিয়ে তালুকদারের কাছে যাবে। গেলও। তালুকদারকে ভিন্ন করে ডাকতে হলো না। সে নিজে থেকেই পান চিবাতে চিবাতে বাহিরে এল। মুখে হাসির রেখা। ঢাকা পড়ল আর একটা। হাসির যে রেখা এতক্ষণ ফুটেছিল তা মিলিয়ে গেল। সারা মুখে নেমে এল ছায়া। দুঃখ দুঃখ ভাব। যেন ঘটনাটা আগে থেকেই সে জানে। উপস্থিতির সঙ্গে সে নিজেও সমব্যথী। লোকজন যাকে নিয়ে এতদিন হাসিঠাট্টা করত, সেই কাত্তিক আজ যেন নেতা হয়ে উঠল। কাত্তিক লাফ দিয়ে সামনে গিয়ে বলল―তালুকদার কাকা, এর বিহিত কিন্তুক করাই লাগবে। অবলা জন্তুর ওপর জুলুম। এডা কুনো মানুষের কাম হতে পারে না। সমুন্দিরা, যার কাটা লাগবে তার কাটতে পারে না। অজাগাত খামচা মারে। কাত্তিকের প্রথম দিকের কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শোনার ভান করলেও শেষের কথাটাতে মন না দিয়ে পারল না তালুকদার। থমকালো তালুকদার। উপস্থিত সবাই কাত্তিকের কথাতে সায় দিল। তালুকদারের ডান মাড়ির ফাঁকে বোধহয় সুপারি পড়েছিল; সেটাই চেপে ধরল। এতে ফুলে উঠল গালের শিরাগুলো। এত কিছুর মাঝেও মনের মধ্যে একটা হাসি ফুটে উঠেছিল। সেটা আটকাতেই এই সুপারি পেষণ। মানুষ ভাবল তা কুকুরের কষ্টে, মানুষের কষ্টে। অনেকে অনেক কথা বলতে চাইলো। তালুকদার থামিয়ে নিজেই হুংকার ছাড়ল―শুনো বাপু, এই জঘন্য অপরাধের জন্য হামিও অবাক হইজি। এ কোন জামানায় পড়নু। মানুষ কখনও এমন কাম করতে পারে ?
ঐ শালা তো মানুষই লয়। পাশ থেকে এক বৃদ্ধ বলল।
এর বিচার অবশ্যই হোবে। তুমরা এ্যকনা ধর্য ধর। ঐ বদমায়েশকে এমন শাস্তি দিমু যে মানুষ চিরদিন মুনে থুবে। একটা অবলা পশুর এত বড় ক্ষতি সে করল কীভাবে, এডাই তো হামার মাথাত আসে না ? তালুকদার আরও কিছু বলবে। কাত্তিক বলতে দিল না।
শুনো কাকা, আজ সাঁঝেই বিচার বসাও। দেরি করলে বাসি হোবে।
এই তুমাদের এক স্বভাব। এ্যকনাতেই মাথা গরম কর। টাটকা বিচার ভালো লয়। আর একটা কথা, তুমরা তো জানেন, হামার হার্টের অসুক। মরতে মরতে তুমাদের দুয়াতে বেঁচে আছি। হামি সামনে সপ্তাহে ডাক্তার দেখাতে ইন্ডিয়া যামু। এর আগে বিচার লয়। কারও অভিশাপ লিয়া যাইতে চায় না। কথা দিনু, ফিরা আয়সাই বিচার করমু। তালুকদার কথাগুলো বলেই বাড়ির মধ্যে চলে গেল। যে যার মতো বকতে বকতে তারাও নিজ নিজ কাজে বা বাড়িতে গেল। তবে গুঞ্জন চলল দিনের পর দিন।
ইনছান নিরীহ মানুষ। চা বেচে। তার দোকানে এতদিন পাঁচমিশেলি মানুষ বসলেও এখন বসে না। খদ্দের কমে গেছে। তবে বাঁধা কয়েকজন নিয়মিত বসে। তাদের মধ্যেই হট্টগোল। প্রায় হাতাহাতি হবার জোগাড়। ইনছান একে ধরতে ওকে ধরে। এমনিতেই তার ব্যবসার বারোটা বেজে গেছে। এ কজন গেলে দিনে তারা গুনতে হবে।
কথা উঠেছিল আামির পরামানিকের বেটা কামরুলকে নিয়ে। কামরুল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। এলাকাতে লোকজন মিয়াধনা বলেই ডাকে। অকথা কুকথায় তাকে নিয়ে চর্চাও করে লোকজন। কামরুল রাগে না। বরং মজা নেয়। মাঝে মাঝে অন্য এলাকা থেকে সমগোত্রীয় দু-চারজন আসেও তার কাছে। তখন তারা গামছা বুকের ওপর ফেলে দল বেঁধে ঘোরে হাততালি দেয়, গান গায়। মানুষ মজা পায়। সেই কামরুল নাকি ঝুজরির ঘরে ঢুকেছিল। ঝুজরি এক সময় দেহপসারিনী ছিল। বেশ নামডাক ছিল তার। এখন বয়সের ভাটিতে সব গেছে। তাকেই নাকি কামরুল চেপে ধরেছে। তার বিচার হবে আগামী শনিবার। সেটা নিয়েই ইনছানের স্টলে আজকের জটলা। দেড় মাসের চিকিৎসা শেষে তালুকদার ফিরেছে। ফিরেও এক মাস গেল। কুকুর কেলেংকারির বিচার ঝুলন্ত। তার মাঝেই এই কাণ্ড।
স্টলে চুপচাপই বসে ছিল সবাই। কাত্তিককে খোঁচা দিল করিম। তাও আবার কামরুলের কথা তুলে।―কী গো দাদা, কামরুল এমন একটা কাম করল ? তুর কী মুনে হয় ? করিমের দাঁত কেলানিতে জ¦লে উঠল কাত্তিক। খেঁকিয়ে বলল―ক্যান তুরা জানিস না, ও শালার মধ্যের ঠ্যাং নাই। হিজরা।
এডা তুই ক্যামন কইর্যা জানলু ?
মুণ্ডলের বাড়িত কাজ করার সুময় এক বিছনাতে মেলাদিন থাকিজি। ওর তো কোঁছা ফাঁকা। এম্নি এম্নি তামানে মিয়াধনা মিয়াধনা বুল্যা ডাকে ?
সত্যিই তার কোঁছা ফাঁকা ? করিমের কথা শেষ হতেই ধপ করে জ¦লে উঠল কাত্তিক।
এই সমুন্দি তুর কোছাতে আছে ? তুদের কারও কোঁছাতেই নাই। সব শালা হিজরার দল। যার ভরা কোঁছা তার বিচার হয় না, যার খালি তাকে লিয়া টানাটানি। কাত্তিক লুঙ্গি ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে গেল। ওপরের দিকে তাকিয়ে আরও কতক গালি দিল চিল্লিয়ে। যেন চোখের সামনেই লক্ষ-কোটি তালুকদার ধবল-পক্ষী হয়ে মেঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়ছে। কাত্তিকের দিকে তাকিয়ে স্টলে বসে যারা, তারা নিজের নিজের কোঁচড়ে হাত দিল আনমনে। খুঁজতে থাকল কী যেন। মনে মনে বলেও―সত্যিই কি আছে ?
সচিত্রকরণ : শতাব্দী জাহিদ



