অনুবাদ গল্পআর্কাইভবিশ্বসাহিত্য

অনুবাদ গল্প : মৃত্যুকে বেছে নিতে গিয়ে

মূল : রিয়া এউখেনিয়া রামোস

স্প্যানিশ থেকে বাংলায় অনুবাদ : জয়া চৌধুরী

খুশির ঘণ্টা বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই কাচের দরজাটা খুলে গিয়েছিল। বসবার ঘরটা মধ্যযুগের আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো ছিল। ঘরের ভেতরে খোলা লম্বা চুলের একটা ছেলে কাউন্টারের পিছনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। স্ট্যান্ড ল্যাম্পের পায়ের কাছ থেকে সুন্দর একটা গন্ধ বেরিয়ে চারপাশ ভরে রাখছিল।

কীভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে ?―বিকেলের আলো আঁধারিতে তরুণী মেয়েটির গলায় যেন মিষ্টতার ছোটখাট একটা স্রোত চুয়ে পড়ছিল।

একটু কুণ্ঠা নিয়েই স্যামুয়েল এগিয়ে গেল।

একটা মৃতদেহ নিয়ে যেতে এসেছি।

নিশ্চয়ই―তরুণীটি বলে উঠল―আপনি ঠিক সে রকম জায়গাতেই তো এসেছেন।―কার কাছ থেকে শুনেছেন আমাদের কথা ?

স্যামুয়েলের মনে পড়ল ডক্টর সান্তানার নাম। তার কাচ ও ইস্পাতের কফিনে শোয়া দেহ। বেঁচে থাকার সময় যেমন ছিল তার চাইতে একটুও বেশি ফ্যাকাশে বা বেশি ছোট আকারের ছিল না। কিন্তু চেহারায় নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো এক আভিজাত্যের ছাপ ছিল। যদিও নাকের ছিদ্রগুলোয় রক্তে ভেজা তুলো ঢোকানো ছিল। রক্তের একটা সুতোর মতো ধারা কান দিয়ে গড়িয়ে পড়েছিল। অদৃশ্য রাজনীতির মতো মৃত্যুকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। সারা জীবন তিনি বিরুদ্ধবাদীদের শত্রু, দক্ষিণপন্থি নিষ্ঠাবান ক্যাথলিক হিসেবে জীবন কাটিয়েছিলেন। তবু তার পরেও কাউকে তিনি ব্যাখা দেননি কেন মারা যাচ্ছেন।

একজন বন্ধু―সামুয়েল ভাবল নামটা বলে দেয়, কিন্তু তারপর মনে মনে বলে উঠল―সেটা তো জরুরি নয়।―ভদ্রলোক তিন সপ্তাহ আগে মারা গিয়েছেন।

আর আপনি ঠিক করেছেন এখন তার মৃতদেহ নিয়ে যাবেন ?

হ্যাঁ ঠিক তাই, তবে এখনকার জন্য নয়। আমি চাই ওঁকে এক বছরের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে। এটা সম্ভব হবে ?

এক বছরের জন্য… এটাকে কোনও জটিল বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় পড়তে হতে পারে।

ভাগ্য ভালো ওনার প্রাক্তন স্ত্রী আবার বিয়ে করে ফেলেছেন। আর মেয়ে মারিসেলা সম্পত্তি লিকুইডিফিকেশন করবার পর পাঁচ লাখ টাকা পেয়ে গেলে খুব তাড়াতাড়িই নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে ফেলতে পারবে।

নিশ্চয়ই ব্যাপারটা করা সম্ভব স্যার। আমরা এখানে আছিই আপনাদের সেবা করবার জন্য। আপনি কী ঠিক করেছেন, কোন শ্রেণির মৃতদেহ হিসেবে ওঁকে রাখতে চাইছেন ?

উমম… সত্যিটা হলো, এখনও ঠিক করিনি। আপনাদের কোনও ক্যাটালগ বা গাইড বইয়ের মতো কিছু আছে কি ? এক্সকিউজ মি আমার কোনও ধারণা নেই ব্যাপারগুলো কীভাবে হয়।

চিন্তা করবেন না স্যার, কারওরই জানা থাকে না। আমার সঙ্গে আসুন।

কাউন্টারের পিছন থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে এল তরুণী। স্যামুয়েল তখন দেখল মেয়েটার চুল লম্বা আর খোলা আর কৈশোর উত্তীর্ণ খাঁজটাজওয়ালা চেহারার সঙ্গে তার গলার স্বর খুব একটা বেমানান লাগছে না।

এই সব পর্দা-টরদার ওপারে―আঙ্গুল তুলে দেয়ালের দিকে ইশারা করল সে―আপনি নানা ধরনের মৃতদেহ দেখতে পাবেন। এখানে যেমন আছেন ফিলিপিনাস ৮০০।

ধূসর বেগুনি রঙের ফ্রেমের মধ্যে বের হলো একটি সাদা মানুষের মৃতদেহ যার হাত ও পায়ের সঙ্গে ক্রুশ বাঁধা, চোখে যন্ত্রণা ভরা চাহনি, ছাদের দিকে চেয়ে আছে।

একজন স্পেনীয় মিশনারি যিনি ফিলিপিনসে অষ্টাদশ শতকে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন―তরুণী ব্যাখ্যা করে যাচ্ছিল।

পরের ফ্রেমটা একেবারে যেন পুরোদস্তুর ঘন মেঘের নিচে লাল ও তামাটে রঙের বিস্ফোরণ। এটা কি ?

হিরোশিমা―তরুণী ফিসফিস করে বলল―আজকালকার দিনের দারুণ ফ্যাশন হলো এরকম মৃত্যু যখন বাস্তবে কিনা আণবিক অস্ত্র প্রায় বিলোপ পেয়েছে।

সামুয়েল একটু ইতস্তত করল। সে পড়েছিল হিরোশিমায় মারা যাওয়া বেশির ভাগ মৃতদেহই প্রায় কিছুই অনুভব করেনি। একটা পছন্দ হতেই পারে। কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর মাথা ঝাঁকাল।

অন্যদেরও দেখি আমরা―মেয়েটি অনুরোধ করল।

তৃতীয় ফ্রেমে একজন বিজ্ঞানীর মৃতদেহ, উনি সেই অসুখেই মারা গিয়েছিলেন যেটা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। সে ঘরের মৃতদেহ ছিল বৃদ্ধ মেছুড়ের। সমুদ্রে আর সূর্যের তাপে ঝলসানো চামড়া। মারা গিয়েছিল হাঙ্গরের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে। পাঁচ নম্বরে শ্যুটিং চলছে ফরাসি নাট্যকার মহিলা ওলাঁপ দে গুঁশের গিলোটিনে কাটা মাথার। কারণ ও ঘরে শরীরটা শুধু রাখা আছে। ছ নম্বরে একজন মহিলার মৃতদেহ যার চেহারা আরবের মানুষের মতো। সে মারা গিয়েছিল নিজের বাড়িতেই তল্লাশির মুখে পড়ে। সাত নম্বর ঘরে এক মাঝবয়সী লোক এক মহিলার শব আঁকড়ে শুয়ে আছে। মহিলার রগে একটা বুলেটের গর্ত। লোকটার মুখে লেগে থাকা অত্যাচারের ভঙ্গি দেখে স্যামুয়েল বেশ চমকে গেল। সামুয়েল যার কিনা একটু আগে মৃত ডক্টর সান্তানার মুখটাও মনে পড়ছিল না।

লোকটার উপর খুব ঝড়ঝাপটা গিয়েছিল―মেয়েটি বলল―বউকে খুন করেছিল, তারপর নিজে আত্মহত্যা করে।

বউকে বোধহয় ভীষণ ভালোবাসত―মনে মনে আন্দাজ করে নিল সামুয়েল।

জানি না স্যার। আমাদের কাছে নানাভাবে মৃতদেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এটা জানা নেই এদের মনে ঠিক কোন ধরনের চিন্তাভাবনা কাজ করে যখন এরা মারা যায়। এ বিষয়ে কোনও শিক্ষা আমাদের দেওয়া হয় না।

বুঝেছি―স্যামুয়েল তাকে আশ্বস্ত করে।

পরে ঘরটার দিকে এগোতে গিয়ে অজান্তেই মেয়েটার বাহুর সঙ্গে হাত ঘষে যায় স্যামুয়েলের। মেয়েটা তার চোখে চোখ রাখে। স্যামুয়েল সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়। মনে হয় সে এবার ওর সঙ্গে কথা বলবে।

জানেন―ফিসফিস করে বলে, তবে জানে যে কথাগুলো মেয়েটার কানে ঠিক পৌঁছবে―আমিও কখনও বউকে ভালোবাসতে পারিনি।

স্বাভাবিক স্যার―মেয়েটা বলে―খুব কম মানুষই কাউকে ভালোবেসে উঠতে পারে।

ঠিক বলেছেন―স্যামুয়েল মনে মনে আশ্চর্য হলো―আরও বেশি। শুধু আমার বউয়ের বেলাতেই নয়, আমি আসলে কখনই কাউকে ভালোবেসে উঠতে পারিনি।

ঐ যে বললাম এই স্বভাব এই সময়কার সকলেরই।

আপনার কাছে স্বীকার করছি, আমি একটু বিভ্রান্ত। সবকিছুর পরে, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তাহলে কী দাঁড়াবে ? নিজের মৃত্যুকে বেছে নিতে পারা ? না কি প্রাচীন বইগুলোয় যা লেখা থাকে সেগুলোই সত্যি, যে কেউ যদি প্রেমে পড়ে তাহলে যে কোনও মৃত্যুই ভালো মৃত্যু হয়।

ইয়ে, মিশনারিরা এরকম কথাই বিশ্বাস করেন অবশ্য। তবে মনে রাখা ভালো মৃত্যুকে বেছে নিতে পারা একটা বিশেষাধিকার। এই শতাব্দী শুধু নয়, চিরকালই তাই। শুধু ব্যাপারটা আগে ছিল যারা বিশেষ অভিষিক্ত ব্যক্তি হতো সুবিধেটা শুধু তারা পেত। এখন যে কোনও লোকই একটা পরিমাণমতো টাকা দিলেই সুবিধে পায়। এটা দারুণ সুবিধে, তাই না ?

হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। এটা হতে পারে যে এমন কোনও কারণেই হয়তো ডক্টর সান্তানা এভাবে মৃত্যু বেছে নিয়েছিলেন।

কে বলল এটা ?

ডক্টর সান্তানা বলেছেন। উনিই আমার জন্য একটা চিঠি লিখে রেখে গিয়েছেন আপনাদের এই সুবিধেগুলোর কথা জানিয়ে। তিন সপ্তাহ ধরে নিজেকে আমি প্রশ্ন করে গেছি যে আমি কেন এভাবে মরতে চাইছি। এভাবেই ধাক্কাগুলো ভেতর থেকে তছনছ করে দিচ্ছে।

আহ, ডক্টর সান্তানা, মধুর স্রোত যে পরিমাণে গড়িয়ে পড়ছিল ঠিক সেভাবেই পড়ে চলেছিল।―হুমম মনে পড়ছে। দু’মাস আগে এখানে এসেছিলেন এই পরিষেবা নেবার জন্য। উনি অবশ্য বেশ বেশি বয়সেই এসেছিলেন। জেনে ভালো লাগছে যে উনি আমাদের আরেকজন সন্তুষ্ট খদ্দের ছিলেন।

আপনি কি শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন ?

হ্যাঁ স্যার। আমি সবসময় শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকি। এটা আমায় নির্বাচন করতে সাহায্য করে। এই পরিষেবার জন্য আমরা খুব একটা নতুনও নই স্যার। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু গুণ লাগে, বিচক্ষণতার প্রয়োজন হয়। আপনাকে আমি বলতে পারব না উনি আমায় কী বলেছিলেন।

প্লিজ ম্যাডাম। আমার জানা জরুরি। ওটা আমায় নিজের মৃত্যু বাছতে সাহায্য করবে।

ভেবে দেখুন একজন অত সম্মানিত মানুষ। প্রত্যেক বছর রোমে যেতেন, ওঁকে স্বয়ং পোপ অভ্যর্থনা করতেন। সরকারও ওঁকে সম্মানিত করেছেন বহুবার। উনি বহু দাতব্য প্রতিষ্ঠান, গর্ভপাতবিরোধী লিগের সভাপতি ছিলেন। ওভাবেই তো শেষ করে আসছিলেন। অপরাধী বা গেরিলাদের বিরুদ্ধে এভাবেই লড়ে আসছিলেন।

প্রতিটি খরিদ্দারের নিজস্ব কারণ থাকে স্যার। আমরা এর মধ্যে নাক গলাই না।

ঠিক বলেছেন, এক্সকিউজ মি―সামুয়েল নিরুৎসাহ স্বরে হাল ছেড়ে বললেন।

আমরা এগিয়ে যাই, চলুন―মেয়েটি হেসে বলল―আমি নিশ্চিত যে সবকিছু দেখার পরে প্যাটার্ন বুক দেখে আপনি একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন। হয়তো বা আপনার বন্ধুকে বুঝতেও পেরে যেতে পারেন।

উনি ঠিক বন্ধু নন―স্যামুয়েল বিড়বিড় করে বললেন―আমার শিক্ষক বলা ঢের ভালো। আমি বোধহয় ওঁর বন্ধু হওয়ার পক্ষে ঢের ছোট ছিলাম। রাজনীতি আমার ভালো লাগে না, শুধু ব্যবসা।

আট নম্বর ফ্রেমে সামুয়েল একটা মরা কুকুর দেখে অবাক হলো যে প্রাণিটা কেবল মৃতদেহ রাখার ঘরে যেটা ধোঁয়া ধোঁয়া আবছা হয়ে থাকে, সেখানে ওলোটপালোট করে ছটফট করছে।

মানুষ ছাড়াও অন্য প্রাণিরাও মৃত্যু বেছে নিতে পারে ?

অধিকাংশ মানুষই পশুদের মতো মরে স্যার―মেয়েটা প্রত্যয়ের সঙ্গে বলে উঠল।

পরের ফ্রেমে জুলিয়েট নিজের বুকের ভেতর আমূল গেঁথে দিয়েছিল ছুরি। রোমিওর মার্বেলের মতো মুখের উপর অজস্র আঘাতের চিহ্ন। তার পরেরটায় এক মহাকাশচারী অনন্তকাল মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল।

সারির প্রত্যেক ফ্রেমে ঢুকে স্যামুয়েল মৃতদেহ দেখল। প্রতিটি ফ্রেমের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখল। ভেতরে ঢুকবার আগে ওর ধারণা ছিল না জায়গাটা এতখানি বিশাল। তাকগুলোর একদম প্রান্তে একটা দরজা ছিল। যার সামনের আর একটা বড় ঘর। সে ঘরে আলো কম, আয়তনেও বেশ ছোট। দরজার সামনে স্যামুয়েল একটু সময় দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রথম ফ্রেমে যে আছে সে কে বুঝে ওঠার চেষ্টা করল। নিশ্চিত করে বুঝে উঠতে পারল না। বিকেলের মরা আলোয় দেখল ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে থাকা একজন টানটান শরীরের মানুষ। যদিও দেখে মনে হলো যে ঠিক স্কুল ড্রেসের মত সাধারণ প্রিন্টের পোশাক পরা। সামুয়েল নিশ্চিত হলো ইনি নিশ্চয়ই হন্ডুরাসের বীর বিপ্লবী ফ্রান্সিসকো মোরাসান।

আমি আর এগোতে পারছি না―মেয়েটা বুঝিয়ে বলল―ওই জায়গায় আপনাকে নিজের ঝুঁকিতে এগোতে হবে।

কেন ?

এই মৃতদেহেরা খুব কমই তাদের বেছে নিতে পেরেছেন। ঐ ফিলিপিনা ৮০০ র মতই ওঁরা সবাই। মিশনারিরা যেহেতু স্বর্গে বিশ্বাস করেন তাই ঝড়ঝাপটাগুলোকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন।

আর এরা ?

মেয়েটা উত্তর দেয় না। ধূপের ধোঁয়ার মাঝে, প্রতিবার আরও একটু বেশি বেশি করে সামুয়েলের মনে হতে থাকে নিজের ধড় থেকে মাথাটা ক্রমে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। আর চোখ দুটোর ক্ষমতা বেড়ে গেছে। জায়গাটায় আলো কম থাকলেও সবকিছু দেখতে পাচ্ছে বেশ পরিষ্কার করে।

এরা সবাই ভালোবাসার জন্য মারা গিয়েছিল, তাই না ? ঐ যে বউকে খুন করেছিল বা সেই মিশনারিরা ওরা নয়। আপনি তো তাদের কথা বুঝিয়েই দিয়েছিলেন যে কেন মারা গিয়েছিল তারা। এরা ঐ ওঁরা যারা ভালোবাসার জন্য কোনও পুরস্কার পাননি।

রোমিও জুলিয়েট প্রেমের জন্য মারা গিয়েছিল।

প্রথমবার সোনালি ধারাটা কমে এসেছিল।

হ্যাঁ কিন্তু এরা নিজেরা নিজেরাই খাড়া রয়েছে। এরা একে অন্যকে ছুঁতে পারত, জড়িয়ে থাকতে পারত, আমি তো তাই জানি।

আপনার কথায় যুক্তি আছে, স্যার, এটা আরেকটা মতামত।

আপনি বলুন পরের ফ্রেম থেকে আমার সঙ্গে আপনি কেন এগোতে পারবেন না ?

কোম্পানির নিজস্ব নিয়মকানুন আছে। এই এলাকাটা থেকে ফিরে না যেতে না পারার বিপদ রয়েছে। উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলবার ঝুঁকি রয়েছে। জীবনকে বদলে ফেলবার ইচ্ছে জাগার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি মৃতদের জীবনকেও বদলে ফেলবার ইচ্ছে জাগার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা তো কোনও কিছুর গ্যারান্টি দিতে পারি না। এমনকি মরবার মুহূর্তও বলে দিতে পারি না। আমাদের কর্মচারীরা ঐরকম বিপদে যাবার ঝুঁকিতে থাকতে পারি না।

ডক্টর সান্তানা এখানে ঢুকেছিলেন, তাই না ?

উত্তরটা আর স্যামুয়েল শুনতে পেল না। দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে মনে হলো―পেরুর শেষ ইনকা সম্রাট বীর তুপাক আমারু তাঁর সভাসদদের মধ্যে আন্দালুসের ঘোড়াদের দেওয়া আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেল। এইবার স্যামুয়েল বলিভিয়ার হিগেরা প্রদেশের টালির চালের স্কুলের দিকে তার প্রথম পা ফেলল।

সচিত্রকরণ : রজত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button