শতবর্ষ পরে : নজরুলের ধূমকেতু-নিরীক্ষণ : প্রথমা রায়মণ্ডল

প্রচ্ছদ রচনা : নজরুলের ধূমকেতু আঁধারে অগ্নিসেতু
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন মুখ্যত কবি, সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, লেখক, নাট্যকার এবং সাংবাদিক তথা সম্পাদক। তাঁর অধিকাংশ সাহিত্যকৃতিকেই তিনি প্রয়োগ করেছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের সাংস্কৃতিক হাতিয়ার রূপে। তাঁর এই বিবিধ সৃজনকে জনমানসে সঞ্চারিত করবার অভীপ্সায়, সাংবাদিক নজরুল, প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছেন তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ধূমকেতুকে। তাঁর লেখা সম্পাদকীয় ছিল যেন এক একটি তুবড়ি―সম্পূর্ণ আড়ালহীন স্পষ্ট উচ্চারণে প্রকাশ পেয়েছে ভারতের স্বরাজ এবং স্বাধীনতার অঙ্গীকার; ব্রিটিশ শাসন-শোষণের হাত থেকে ভারত উপমহাদেশকে উদ্ধারের দায়বদ্ধতায় সাংবাদিকতাকেই অবলম্বন করেছেন তিনি; একটু একটু করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন সাংবাদিকতার ভাষা আর সুশৃঙ্খলার ব্যাকরণ।
মাত্র একুশ বছর বয়সে, মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদনায় প্রকাশিত নবযুগ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তাঁর সাংবাদিকতার জীবন; মুজফ্ফর আহমদের, সাংবাদিকতার সযত্ন শিক্ষা, সাহচর্য ও ব্রিটিশ-বিরোধী জনমত গঠনের সুতীব্র মানসিকতায় অনুপ্রাণিত নজরুল, যেহেতু নিজেই একজন কবি, তাই তাঁর কবিভাষা তথা সাহিত্যের সাবলীল ভাষা, সংবাদপত্রের প্রাঞ্জল ভাষা হয়ে ওঠার অনুকূলে কাজ করেছে। এরপর মুজফ্ফর আহমদ, নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে, দৈনিক পত্রিকার পোড় খাওয়া অভিজ্ঞতা ছাড়াই, সাধারণ অভিজ্ঞতাকে মাত্র সম্বল করে, দৈনিক যুগবাণী প্রকাশের উদ্যোগ নেন। নজরুলের একটি বিশেষ বড় গুণ ছিল এই যে, তিনি দীর্ঘকায় সংবাদকেও সাবলীল সংক্ষিপ্তাকারে রূপ দিতে পারতেন চমৎকার আকর্ষণীয় শিরোনামসহ। তাঁর মিতবাক্ ব্যঞ্জনাধর্মী বলিষ্ঠ প্রবহমান রসালো (রম্য) বেগবতী ভাষা এবং সংবাদ-শিরোনাম নির্বাচনের মুন্সিয়ানায় যুগবাণী অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিল। তাঁর ‘একই অঙ্গে’ সাহিত্য ও সঙ্গীতের ভাষা এবং সংবাদের ভাষার পার্থক্য সমান্তরালভাবে বহমান ছিল; এই সমান্তরাল-সমন্বয় কখনও সংঘাত সৃষ্টি করেনি।
এরপর ১৯২০ সালের ১২ই জুলাই (আষাঢ় ১৩২৭), মুজফ্ফর আহমদ, নজরুল সহযোগে, কেবল নিজস্ব আর্থিক নির্ভরতাকে সম্বল করে, প্রকাশ করেন সান্ধ্য দৈনিক নবযুগ পত্রিকা। এক পর্যায়ে এ. কে. ফজলুল হকও অবশ্যি আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। এক বছর চলার পর, পত্রিকাটি অনিয়মিত হয়ে পড়ায়, মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে নজরুলের সাময়িক ভুল বোঝাবুঝির কারণে, কবি সংবাদপত্রের জগৎ থেকে কিছুদিন নিজেকে বিচ্ছিন্ন রেখে, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর কবিতা মুদ্রণের মাধ্যমে তাঁর প্রতিবাদের ও সংগ্রামের ধারাকে বহমান রাখেন। নবযুগ পত্রিকাটি সরকারবিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সমর্থক ও প্রকাশক হিসেবে রাজরোষে চিহ্নিত হয় এবং কাগজের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়।
১৯২১ সালে, অসহযোগ ও স্বদেশী আন্দোলনের সমর্থক, মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়, মোহাম্মদী-গোষ্ঠীর মুখপত্র: দৈনিক সেবক পত্রিকা। আয়ুষ্কাল মাত্র এক বছর। সরকারবিরোধী লেখার জন্য পত্রিকাটি যখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন আকরম খাঁ ছিলেন জেলে। সাপ্তাহিক মোহাম্মদীর কাজ চালাতেন ওয়াজেদ আলী। নবযুগ ছেড়ে, নজরুল তখন কুমিল্লায়। মোহাম্মদীর মালিকগোষ্ঠী কবিকে নিয়ে আসেন সেবক পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব দিয়ে।
স্বাধীনচেতা নজরুল, সেবক-এ এসেও কিছুদিনের মধ্যেই হতোদ্যম হয়ে পড়েন―যেমনটি হয়েছিল নবযুগ-এর ক্ষেত্রেও। তিনি চেয়েছিলেন নিজস্ব একটি পত্রিকা―কারও কোনও খবরদারি যেখানে থাকবে না।
ধূমকেতু নামটি নজরুলের অবচেতনে বহুদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। ১৯২২ সালের ১১ আগষ্ট (২৬ শ্রাবণ ১৩২৯) শুক্রবার, ধূমকেতু প্রথম স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করে। পত্রিকার প্রচ্ছদটি এঁকে দিয়েছিলেন চারু রায়। ধূমকেতুর প্রতিটি পৃষ্ঠার সাইজ ছিল লম্বায় সাড়ে চৌদ্দ ইঞ্চি ও চওড়ায় দশ ইঞ্চি―অর্থাৎ ক্রাউন ফোলিও সাইজ। ধূমকেতুর সারথি/সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম স্বয়ং। কর্মসচিব, শান্তিপদ সিংহ; মুদ্রক ও প্রকাশক আফজালুল হক। পত্রিকাটির দাম: এক আনা, বার্ষিক মূল্য পাঁচ টাকা। পত্রিকার সম্পাদকীয় তো বটেই, তাছাড়া স্বনামে এবং অ-নামে কবিতাসহ, “খাট্টা মিঠা টিপ্পনি পর্যায়টিও লিখেছেন কবি নিজেই। ‘ত্রিশূল’ ছদ্মনামে লিখেছেন নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। ‘দ্বৈপায়ন’ ছদ্মনামে পত্র লিখেছেন মুজফ্ফর আহমদ। ছিল পুস্তক পর্যালোচনা বিভাগ ‘নিক্তি নিকষ’; আরও ছিল কিছু নিয়মিত বিভাগ : ‘সানাইয়ের পোঁ’, ‘অগ্নি-সম্মার্জনী’, ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’, ‘পরদেশী-পঞ্জী’, ‘দেশের খবর’ ও ‘মুসলিম জাহান’।” পত্রিকায় লিখেছেন মুজফ্ফর আহমদ, অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত, শিবরাম চক্রবর্তী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। অনেক লেখিকা এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে নিয়মিত কবিতা এবং নারীদের সমস্যা নিয়ে বিবিধ লেখা। মিসেস এম, রহমান প্রায় নিয়মিতই লিখতেন। এভাবেই পত্রিকাটির একটি নিজস্ব লেখকগোষ্ঠী তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
ধূমকেতুর সব সংখ্যার সন্ধান মেলেনি। সেলিনা বাহার জামান সংগৃহীত ধূমকেতুর বেশিরভাগ সংখ্যাই, তাঁর সম্পাদনায় ঢাকার নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে ফ্যাক্সিমিলি করে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকার কিছু সংখ্যা আছে কলকাতার ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে’। সেখান থেকে নজরুল ইসলামের রচিত সম্পাদকীয়গুলো একত্র করে কলকাতার ‘নবজাতক প্রকাশন’ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ভূমিকা লিখেছেন মুজফ্ফর আহমদ। ভূমিকা লেখার সূত্রে তিনি ধূমকেতুর সম্পাদকীয়গুলির রচয়িতা সম্পর্কে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন :
[ধূমকেতুর কোন্ সম্পাদকীয়গুলি নজরুলের লেখা, আর কয়টিইবা অমরেশ কাঞ্জিলালের, সে বিষয়ে সচেতন পাঠকের সামনে একটি বিতর্ক উস্কে দিলেন মুজফ্ফর আহমদ। ১৯২২ সালের ৮ই নভেম্বর, ব্রিটিশ সরকার নজরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন এবং ঐ বছরেরই ২৩শে নভেম্বর, কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার হন কবি নজরুল। নজরুলের অনুপস্থিতিতে, ধূমকেতু প্রকাশের দায়িত্ব পালন করেন অমরেশ কাঞ্জিলাল।পূর্বোল্লেখিত ঐ বইটির ভূমিকায়, মুজফ্ফর আহমদ লিখেছেন : ‘… মনে রাখতে হবে, এর (গ্রেপ্তারের) চার/পাঁচ দিন আগে হতে নজরুল ইসলামের কোনও লেখা ধূমকেতুতে ছাপা হয়নি। একথা বিশেষভাবে মনে রেখেই নজরুল ইসলামের লেখা সংগ্রহ করতে হবে। পরেও কয়েকটি সংখ্যা ধূমকেতু ছাপা হয়েছিল। সে সব সংখ্যার কোনো লেখাই নজরুল ইসলামের নয়।’
তাঁর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, একথা বলা জরুরি প্রয়োজন যে, নজরুলের অনুপস্থিতিতে, অমরেশ কাঞ্জিলালের দায়িত্বে ধূমকেতুর যে কয়টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল, সেই সংখ্যাগুলির সম্পাদকীয়কে ঢাকার ‘বাংলা একাডেমি’ এবং কলকাতার ‘বাংলা আকাদেমি’ থেকে প্রকাশিত, নজরুল রচনাবলীর ‘সংযোজন’ অংশে, কবি নজরুলের রচনা হিসেবেই মুদ্রিত হয়েছে। তাই মুজফ্ফর আহমদের ঐ মন্তব্যকে স্বতঃসিদ্ধ বলে মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া ঐ সম্পাদকীয়গুলির প্রকাশভঙ্গি, শব্দ প্রয়োগের ধরন এবং বাক্যগঠন ও ভাষারীতি পর্যবেক্ষণ করলে, এ গুলিকে নজরুলের রচনা বলেই স্বীকার করে নিতে কোনও রকম সংশয়ের অবকাশ থাকে না।]
ধর্মনিরপেক্ষতা ও হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির সমর্থক, অর্ধ-সাপ্তাহিক এই ধূমকেতু পত্রিকাটি অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে পত্রিকাটি শুধু ‘স্বরাজ’ নয়, ছিল পূর্ণ-স্বাধীনতার দাবিদার। সম্পাদকীয়তে কবি লিখেছিলেন : ‘ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীনে থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা-রক্ষা, শাসন ভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়ের ওপর।’ পত্রিকার দশম সংখ্যায়, লীলা মিত্র রচিত ‘বিদ্রোহীর কৈফিয়ত’ শীর্ষক প্রবন্ধ এবং দ্বাদশ সংখ্যায়, নজরুল ইসলাম রচিত ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য পত্রিকাটি রাজরোষে পতিত হয়―অফিস তল্লাশি করে প্রকাশিত সমস্ত সংখ্যা লালবাজার পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে নেয়। নজরুল ইসলাম তখন কুমিল্লায়। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে এক বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় (১৬ জানুয়ারি ১৯২৩)। নজরুলের অনুপস্থিতিতে, ঐ সময় পত্রিকাটি চালান অমরেশ কাঞ্জিলাল। (দশ বছর পরে, নব পর্যায়ে পত্রিকাটি বের করেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ ভৌমিক। সম্পাদকীয় লেখেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ধূমকেতুতে প্রকাশিত কবির কবিতাসমূহ সংকলিত হয় তাঁর অগ্নি-বীণা ও ভাঙার গান কাব্যগ্রন্থে। তাঁর সম্পাদকীয়গুলি প্রকাশিত হয় ‘দুর্দিনের যাত্রী’ ও ‘রুদ্রমঙ্গল’ পুস্তিকায়, এবং কিছু সংকলিত হয় নজরুল রচনাবলীর ‘সংযোজন’ অংশে। দুটো বই’ই ব্রিটিশ শাসিত সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
ধূমকেতুর বিভিন্ন সংখ্যায় মুদ্রিত কবির সম্পাদকীয় এবং কবিতাসমূহের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো! এইসব রচনা, ধূমকেতুর বিভিন্ন সংখ্যার পর্যায়ক্রমিক নিরীক্ষণের সময়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে :
তালিকা
সারথি : নজরুল ইসলাম
১. প্রথম সংখ্যা :
১১ই আগষ্ট ১৯২২, (২৬শে শ্রাবণ ১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘সারথির পথের খবর’ (পৃ: ৩-৪); ‘স্বাগত’ (পৃ:৩);
কবিতা : ধূমকেতু (পৃ:৪-৫); ‘বিদ্রোহী’ (পৃ:৯-১১); ‘ল্যাবেন্ডিশ বাহিনীর বিজাতীয় সঙ্গীত’ (পৃ:১৩);
২. দ্বিতীয় সংখ্যা :
১৫ই আগষ্ট ১৯২২, (৩০শে শ্রাবণ ১৩২৯), মঙ্গলবার (প্রকাশিত বুধবার)।
সম্পাদকীয় : ‘কানার বোঝা কুঁজোর ঘাড়ে’ (পৃ: ৩-৪);
কবিতা : ‘জাগরণী’ (চারণদের গান/ পৃ: ৩);
৩. তৃতীয় সংখ্যা :
১৮ই আগষ্ট ১৯২২, (১লা ভাদ্র-১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘রুদ্র মঙ্গল’ (পৃ: ৩)
৪. চতুর্থ সংখ্যা :
২২শে আগষ্ট ১৯২২, (৫ই ভাদ্র ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা’ (পৃ: ৩)
কবিতা : ‘রক্তাম্বর-ধারিণী মা’ (পৃ: ৩)
৫. পঞ্চম সংখ্যা :
২৫শে আগষ্ট ১৯২২, (৮ই ভাদ্র ১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল’ (পৃ: ৩)
৬. ষষ্ঠ সংখ্যা :
২৯শে আগষ্ট ১৯২২, (১২ই ভাদ্র ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘তুবড়ী বাঁশীর ডাক’ (পৃ: ৩)
৭. সপ্তম সংখ্যা :
২রা সেপ্টেম্বর-১৯২২, (২৬শে ভাদ্র ১৩২৯), ‘মোহররম’ বিশেষ সংখ্যা।
সম্পাদকীয় : ‘মোহররম’ (পৃ: ৩)
কবিতা : ‘মোহররম’ (পৃ: ৯)
৮. অষ্টম সংখ্যা :
১২ই সেপ্টেম্বর ১৯২২, (২৬শে ভাদ্র ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘বিষ-বাণী’ (পৃ: ৩);
কবিতা : ‘কামালপাশা’ (অংশ বিশেষ/পৃ. ৬) কবির নাম অনুল্লেখিত।
৯. নবম সংখ্যা :
১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯২২, (২৯শে ভাদ্র ১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘মেয় ভুখা হুঁ’ (পৃ: ৩-৪);
১০. দশম সংখ্যা :
১৯শে সেপ্টেম্বর ১৯২২, (২রা আশ্বিন ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘ক্ষুদিরামের মা’ (পৃ: ৩);
১১. একাদশ সংখ্যা :
২২শে সেপ্টেম্বর-১৯২২, (৫ই আশ্বিন ১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?’ (পৃ: ৩);
১২. দ্বাদশ সংখ্যা :
২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২, (৯ই আশ্বিন ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : এই সংখ্যায় কোনও সম্পাদকীয় ছাপা হয়নি।
কবিতা : ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ (পৃ: ৩-৪);
আগমনী (পৃ: ১২);
[শারদীয় পূজা উপলক্ষে ১২ই, ১৬ই এবং ১৯শে আশ্বিন কার্যালয় বন্ধ থাকায় ধূমকেতু প্রকাশিত হয়নি।]১৩. ত্রয়োদশ সংখ্যা :
১৩ই অক্টোবর ১৯২২, (২৬শে আশ্বিন-১৩২৯) শুক্রবার। [সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় ১৩ই অক্টোবরের স্থলে ১৩ই সেপ্টেম্বর মুদ্রিত হয়েছে।]
সম্পাদকীয় : ‘ধূমকেতুর পথ’ (পৃ: ৩-৪)।
১৪. চতুর্দশ সংখ্যা :
১৭ই অক্টোবর-১৯২২, (৩০শে আশ্বিন-১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘কামাল’ (পৃ: ৩);
১৫. পঞ্চদশ সংখ্যা :
২০শে অক্টোবর ১৯২২, (৩রা কার্তিক―১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘দেয়ালী-উৎসব’ (পৃ: ৩);
১৬. ষোড়শ সংখ্যা :
২৪শে অক্টোবর-১৯২২, (৭ই কার্তিক ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ছাপা হয়নি।
কবিতা : ‘রণ-ভেরী’ (পৃ: ৩-৪);
১৭. সপ্তদশ সংখ্যা :
২৭শে অক্টোবর-১৯২২, (১০ই কার্তিক ১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ছাপা হয়নি।
কবিতা : ‘দুঃশাসনের রক্ত’ (পৃ: ৩), কবির নাম অনুল্লেখিত;
১৮. অষ্টাদশ সংখ্যা :
৩১শে অক্টোবর-১৯২২, (১৪ই কার্তিক-১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘আমি সৈনিক’ (পৃ: ৩-৪);
১৯. ঊনবিংশ সংখ্যা :
৩রা নভেম্বর-১৯২২, (১৭ই কার্তিক―১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘নিশান-বরদার’ (পতাকা-বাহী) (পৃ: ৩);
২০. বিংশ সংখ্যা :
৭ই নভেম্বর―১৯২২, (২১শে কার্তিক-১৩২৯) মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘ভিক্ষা দাও’ (পৃ: ৩);
সারথি: অমরেশ কাঞ্জিলাল
২১. একবিংশ সংখ্যা :
১৪ই নভেম্বর-১৯২২, (২৮শে কার্তিক ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সম্পাদকীয় : ‘তোমার পণ কী’! (পৃ: ৩);
২২. দ্বাবিংশ সংখ্যা :
১৭ই নভেম্বর-১৯২২, (১লা অগ্রহায়ণ ১৩২৯), শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘আমার ধর্ম’ (পৃ: ৩);
কবিতা : ‘অদর্শনের কৈফিয়ৎ’ (পৃ: ৩);
সারথি (সম্পাদক) হিসেবে কবির অনুপস্থিতির কারণ বর্ণিত। কবিতায় কবির নাম অনুল্লেখিত।
২৩. ত্রয়োবিংশ সংখ্যা :
সন্ধান মেলেনি।
২৪. চতুর্বিংশ সংখ্যা :
সন্ধান মেলেনি।
২৫. পঞ্চবিংশ সংখ্যা :
সন্ধান মেলেনি।
২৬. ষড়বিংশ সংখ্যা :
নজরুলের কোনও লেখা নেই।
২৭. সপ্তবিংশ সংখ্যা :
নজরুলের কোনও লেখা নেই।
২৮. অষ্টবিংশ সংখ্যা :
২০শে ডিসেম্বর-১৯২২, (৫ই পৌষ ১৩২৯) বুধবার।
সম্পাদকীয় : ‘লাঞ্ছিত’ (পৃ: ৩);
২৯. ঊনত্রিংশ সংখ্যা :
২৩শে ডিসেম্বর-১৯২২, (৮ই পৌষ-১৩২৯), শনিবার।
সম্পাদকীয় : ‘ভাববার কথা’ (পৃ: ৩);
৩০. ত্রিংশ সংখ্যা :
২৭শে ডিসেম্বর ১৯২২, (১২ই পৌষ ১৩২৯) বুধবার।
সম্পাদকীয় : ‘মুশকিল’ (পৃ: ৩);
৩১. একত্রিংশ সংখ্যা :
৫ই জানুয়ারি-১৯২৩, (২১শে পৌষ ১৩২৯) শুক্রবার।
সম্পাদকীয় : ‘আজ চাই কি।’ (পৃ: ৩);
৩২. দ্বাত্রিংশ সংখ্যা :
২৭শে জানুয়ারি-১৯২৩, (১৩ই মাঘ-১৩২৯) শনিবার।
‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ (আত্মকথা)
রচনাকাল ও স্থান : প্রেসিডেন্সি জেল, কলকাতা; ৭ই জানুয়ারি-১৯২৩, রবিবার দুপুর।
ধূমকেতু/নবপর্যায়
সারথি : কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ ভৌমিক
১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা :
২২শে আগষ্ট ১৯৩১ (১৩৩৮)
সম্পাদকীয় : ‘ধূমকেতুর আদি উদয়-স্মৃতি’ [নজরুল ইসলাম রচিত সম্পাদকীয়।]
মুদ্রিত ধূমকেতুর মোট সংখ্যা: ৩২, আয়ুষ্কাল মাত্র ৫ মাস ১৫ দিন। অর্ধ-সাপ্তাহিক এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো, প্রধানত মঙ্গলবারে ও শুক্রবারে। প্রথম সংখ্যাতেই সম্পাদক (সারথি) পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন :
‘দেশের যারা শত্রু; দেশের যা কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকী, তা সব দূর করতে ধূমকেতু হবে আগুনের সম্মার্জনী।’
ধূমকেতু সাহিত্যিক মর্যাদায় উন্নীত হতে পেরেছিল, অনেকাংশে কবির কবিতার জন্যেও। প্রথম সংখ্যা থেকে শুরু করে, দু-একটি সংখ্যা বাদে, প্রায় অধিকাংশ সংখ্যাতেই নজরুলের লেখা ছাপা হয়েছে। প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় তাঁর ধূমকেতু কবিতা এবং ‘সানাইয়ের-পোঁ’ পর্যায়ে পুনর্মুদ্রিত হয় তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি। সাম্যবাদে, অসাম্প্রদায়িকতায় ও ধর্মনিরপেক্ষতায় পূর্ণ আস্থাবান সম্পাদক নজরুল, প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে বলেই দিয়েছেন :
‘ধূমকেতু কোনো সাম্প্রদায়িক কাগজ নয়।’
পুথিগত সাংবাদিকতার বিদ্যায় নয়, পত্রিকায় কাজের নিষ্ঠ অভিজ্ঞতাই নজরুলকে একখানি ‘হীরকখণ্ডে’ পরিণত করেছে। ধূমকেতুতে দেশের খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, সংবাদ নির্বাচন এবং তার সুষম প্রয়োগ সর্বত্রই ছিল কবির চমৎকার মুন্সিয়ানা। এ ব্যাপারে তিনি একালের ‘ইনভারটেড পিড়ামিড’ কাঠামোকে অনুসরণ করেছেন। প্রথম সংখ্যায় ‘দেশের খবর’ পর্যায় থেকে একটি সংবাদের কিয়দংশ উল্লেখ করা যেতে পারে :
‘শীলাবতী নদী কেঁপে উঠে শীলতার বাঁধ ভেঙে মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমা আধাআধি ডুবিয়ে দিয়েছে। শ্রীযুক্ত সাতকড়িপতি রায় ঘাটালের এই দুরবস্থার খবর দিয়ে জানিয়েছেন যে, প্রায় হাজার খানা ঘর ধসে পড়ে গিয়েছে। চাল-চুলো খাবার কিছুই নেই।’ (ষষ্ঠ পৃষ্ঠা, ১ম সংখ্যা)।
রাজনীতি-সচেতন সম্পাদক নজরুল, মতাদর্শের বিচারে ছিলেন গণতান্ত্রিক সমাজবাদের অনুসারী। তাঁর সমাজতান্ত্রিক মতবাদাশ্রিত চেতনার প্রতিফলন রয়েছে তাঁর ধূমকেতুতেও। রাজনৈতিক মতাদর্শে নিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত থেকে, সরকার-বিরোধী রচনার জন্য তাঁকে কারারুদ্ধ হতে হয়েছে। তবু সম্পাদক তাঁর আদর্শ ও দায়বদ্ধতাকে জুড়ে দিতে পেরেছিলেন বলেই তিনি আপসহীন এক ব্যতিক্রমী সম্পাদক ও মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।
ধূমকেতুর পাঠ-পরিক্রমা
কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট (২৬শে শ্রাবণ ১৩২৯), শুক্রবার। বার্ষিক মূল্য পাঁচ টাকা, প্রতি সংখ্যার নগদ মূল্য এক আনা। প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে সূচিপত্র এবং দুটি বিজ্ঞাপন। প্রথম বিজ্ঞাপন ধূমকেতু-সারথি ‘বিদ্রোহী’র সৈনিক-কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার বই অগ্নি-বীণা। দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন ‘তুষারীভূত সৌন্দর্য দ্রব্য হিমানী’র। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়, ‘অমঙ্গলের মঙ্গলঘট’ শীর্ষক পর্যায়ে রয়েছে সমকালের বিশিষ্টজনদের শুভেচ্ছাবার্তার সমাহার। এঁদের মধ্যে রয়েছেন : ‘সরোজিনী দিদি (সরোজিনী নাইডু), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, যতীন্দ্রমোহন বাগচী, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারীন ঘোষ এবং বিরজাসুন্দরী দেবী।’
রাজনীতিবিদ সরোজিনী নাইডু লিখেছেন :
‘তোমার ধূমকেতু মানুষে মানুষে বিভেদের সকল অন্তরায় চূর্ণ করে দিয়ে মহামানবের সৃষ্টির শক্তি ও সামর্থ্য এনে দিক।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাণী ছিল এই রকম :
‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু। আয় চলে আয় রে ধূমকেতু আঁধারে বাঁধ অগ্নি সেতু, দুর্দিনের এই দুর্গ শিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন! অলক্ষণের তিলক রেখা, রাতের ভালে হোক না লেখা, জাগিয়ে দে রে চমক মেরে, আছে যারা অর্দ্ধচেতন।’
‘অর্দ্ধচেতন’দের সচেতন করে তোলার কাজে, নজরুলের ধূমকেতুকে হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চেয়েছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ―এই আশীর্বাণীটি, সম্পাদক তৃতীয় সংখ্যা থেকে, প্রতি সংখ্যার প্রথম/তৃতীয় পৃষ্ঠায় মুদ্রিত করেছেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন : ‘পরম কল্যাণবরেষু.. আশীর্বাদ করি, যেন শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে নির্ভয়ে সত্য কথা বলিতে পার।’
কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী তাঁর কবিতায় লিখেছেন : ‘সহোদরোপম শ্রীমান কাজী নজরুল ইসলাম প্রিয়বরেষু প্রলয়াত্মিক! প্রলয় শিখা সর্ব্বনাশের সাথী তব প্রদীপ্ত সংমার্জনা অত্যাচারের ভালে শেষ লেখা তার লিখে দিয়ে যাক চিতার বহ্নিজালে।’
জ্বালুক বন্ধু, ধূমকেতু তবে বিশ্বদহন বাতি…
সবগুলো আশীর্বাণী এবং শুভেচ্ছাপত্রেই ধূমকেতুকে, সমকালের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার হাতিয়ার হয়ে ওঠার আকাক্সক্ষার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
(১) ধূমকেতুর প্রথম সংখ্যার তৃতীয় পৃষ্ঠায় দুটো সম্পাদকীয় লিখেছেন কবি :
১. ‘সারথির পথের খবর’
২. ‘স্বাগত’
প্রথম সম্পাদকীয়তেই তিনি ধূমকেতুর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়েছেন : ‘যে পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার তার গলদ দূর করা, এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিপথ নয়। রাজভয়-লোকভয়-কোনও ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যেতে পারবে না।… ধূমকেতু কোনও সাম্প্রদায়িক কাগজ নয়। মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোন্ খানে, তা দেখিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় সম্পাদকীয়তে, তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন : ‘তোমাদের জন্যে এই শ্মশানের ধূম আর ভস্ম, অট্টহাস আর ক্রন্দন, রক্ত আর অশ্রু মৃত্যু আর ভীতি। এরই মাঝে হে চিত্তরঞ্জন। হে বীরেন্দ্র! তোমাদের জন্যে ধুলার আসন পাতা। তোমরা এস। স্বাগত।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় রয়েছে কবির বিখ্যাত ধূমকেতুকবিতা (মুদ্রণে ‘ধুমকেতু’ বানান), যা পরে কবির অগ্নি বীণা কাব্যে সংকলিত হয়েছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাঠান্তর ঘটেছে। যেমন: পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতায় আছে ‘ঘুরাই উচ্চ,/ঘুরাই।’ কিন্তু মূল গ্রন্থে এরপরে আর একটি নতুন পঙ্ক্তি যুক্ত হয়েছে : ‘আমি অগ্নি-কেতন উড়াই’ পত্রিকায় আছে, ‘বাঘিনী যেমন ধরিয়া শিকার’ কিন্ত গ্রন্থে এই পঙ্ক্তির শুরুতে ‘কাল’ যুক্ত হয়ে ‘কাল বাঘিনী’ হয়েছে। ‘ওরে অগ্নি-বাঘিনী’র, ‘ওরে’র স্থলে গ্রন্থে বসেছে ‘এই’ শব্দটি।
পঞ্চম পৃষ্ঠায়, উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামীর লেখা ‘আগুনের ফুলকি’ পর্যায়ে পরিবেশিত হয়েছে ২০টি ক্ষুদ্র সংবাদ। ‘দেশের খবর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ‘দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও বঙ্গমায়ের কৃতী ও সুযোগ্য সন্তান শ্রী বীরেন্দ্র শাসমল-এর কারামুক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে; প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখিত হয়েছে সুভাষচন্দ্র বসুর সম্প্রতি কারামুক্তির কথাও।
সপ্তম পৃষ্ঠায় রয়েছে বীরেন্দ্রকুমার সেনের ‘পথের নিশানা’; আর রয়েছে, উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামীর ‘ম্যালেরিয়া-বধ কাব্য’ শীর্ষক একটি দীর্ঘ কবিতা।
অষ্টম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে বলাই দেব শর্মার ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ শীর্ষক পর্যায়ে একটি ধারাবাহিক প্রবন্ধ।
নবম পৃষ্ঠায় ‘সানাইয়ের পোঁ’ পর্যায়ে মুদ্রিত হয়েছে নজরুলের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। কবিতাটি প্রথমে মোসলেম ভারত-এ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, পাঠক চাহিদা না মিটতেই পত্রিকাটি নিঃশেষ হয়ে যায়, এবং তারপর বিজলী, প্রবাসী প্রভৃতি পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ পুনর্মুদ্রিত হয়। পাঠকদের সহজলভ্য ক্রয়ের সুবিধের জন্য কবিতাটি ধূমকেতুর প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত করা হয়েছে বলে, পাদটীকায় বলা হয়েছে। পত্রিকায় কবিতা ছাপা হয় এভাবে :
‘ছুটি ঝড়ের মতন করতাল দিয়া
হাসি হা-হা, হা-হা, হি-হি-হি-হি’।
গ্রন্থে, দ্বিতীয় পঙ্ক্তিটি বর্জন করে ‘স্বর্গ মর্ত্য করতলে’ যুক্ত করা হয়েছে। আবার পরের পঙ্ক্তি:
‘তাজি বোরবাক্ আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হাঁকে চি-হি হি-হি চি-হি-হি-ছি।’
গ্রন্থভুক্তির সময় দ্বিতীয় পঙ্ক্তি বর্জিত হয়ে তার স্থলে হয়েছে
‘হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে।’
কিন্তু : ‘আমি চিনেছি আমারে আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ।’ এর পরেই দেখা যায় :
―এই পুরো স্তবকটিই আবদুল কাদির সম্পাদিত এবং ঢাকার বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল রচনাবলীতে কেন পরিহার করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা মেলা ভার।
‘আমি উত্তাল, আমি তুঙ্গে, ভয়াল, মহাকাল,
আমি বিবসনা আজ ধরাতলে নভ ছেয়েছে আমারি জটাজাল!
আমি ধন্য! আমি ধন্য!!
আমি মুক্ত, আমি সত্য, আমি বীর, বিদ্রোহী সৈন্য!
আমি ধন্য।’
ধূমকেতুর ১১তম পৃষ্ঠায়, কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে, শ্রীপ্রভাতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন ‘দীন’ শিরোনামের একটি দীর্ঘ কবিতা। ইতোপূর্বে এটি এডুকেশন গেজেটে মুদ্রিত হয়েছিল; আর এই কবিতার প্যাটার্নটিও নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অনুরূপ।
শেষ স্তবকটি উদ্ধৃত করা হলো :
‘আমি ক্রোধী দুর্ব্বাসা বিষ্ণু চক্রে ছুটে গেছে মোর গর্ব্ব আমি আত্মপ্রসাদে পরাণ ভরেছি মহামহেশের মহিমা করিতে খর্ব্ব! আমি দান বীর বলি, ভগবান মোর ভেঙ্গে গেছে দান-পর্ব্ব! আমি মিথ্যা প্রয়াস মহামহেশের/ মহিমা করিতে খর্ব্ব! আমি চির লাঞ্ছিত দীন! আমি বিশ্বের মাঝে, সকলের নীচে, সকলের চেয়ে হীন।’
একাদশ পৃষ্ঠায় ‘নারী কল্যাণ’ পর্যায়ে প্রকাশিত হয়েছে বিরজাসুন্দরীদেবীর সন্ধানী-রচনা : ‘নারীর সত্য স্বাধীনতা কিসে!’
তমাললতা বসুও তাঁর ‘মেকী’-শীর্ষক রচনায় পণ-প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ত্রয়োদশ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে নজরুলের ‘ল্যাবেন্ডিস বাহিনীর বিজাতীয়-সঙ্গীত।’ এটি পরে, তাঁর ভাঙার গান গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঢাকার বাংলা একাডেমির সংস্করণে, পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতার ‘দেখ গোবরগণেশ গোবরমন্ত’ পঙ্ক্তির ‘দেখ’র স্থলে ‘আজ’ করা হয়েছে এবং ‘আহা তবু করুণার নাহিক অন্ত হে’ পঙ্ক্তির ‘আহা’ বর্জিত হয়েছে।
চতুর্দশ পৃষ্ঠায় ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা’ পর্যায়ে নানা বিষয়ক সংবাদ-সূক্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই পৃষ্ঠার বাকি অর্ধেকটা জুড়ে রয়েছে ‘আর্য্য পাবলিশিং হাউস’ প্রকাশিত ‘সত্যের ঋষি অরবিন্দ’র ২১খানা পুস্তকের বিজ্ঞাপন। এছাড়া আছে ‘বোমার যুগের’ বারীন্দ্র-উপেন্দ্র এবং নলিনী গুপ্ত ও সুরেশ চক্রবর্তীর ১৯খানি পুস্তকের বিজ্ঞাপনও।
পঞ্চদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘মুসলিম জাহানের’ সংবাদ সমূহ; রয়েছে ঝিনুকের অলঙ্কারের বিজ্ঞাপন; রয়েছে ‘ইণ্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস’ প্রকাশিত, মোহিতলাল মজুমদার রচিত কাব্য স্বপন-পসারী এবং ‘মোস্লেম পাবলিশিং হাউস’ প্রকাশিত, কাজী নজরুলের ব্যথার দান; অধ্যাপক কাজী আব্দুল ওদুদ প্রণীত নদীবক্ষে, মোজাম্মেল হকের হজরত মহাম্মদ, মহর্ষি মনসুর, ফেরদৌসী-চরিত এবং সামাজিক ও পারিবারিক উপন্যাস জোহরার বিজ্ঞাপন। ষোড়শ পাতা জুড়ে আছে ধূমকেতু পত্রিকাসংক্রান্ত খবর এবং পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিয়মাবলী।
(২) ধূমকেতুর দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ১৫ আগষ্ট ১৯২২ (৩০ শ্রাবণ ১৩২৯), মঙ্গলবার। বিজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, প্রকাশের দিন/ তারিখ মঙ্গলবার বলা হলেও, ঐদিন জন্মাষ্টমীর কারণে ছাপাখানা বন্ধ থাকায়, পত্রিকাটি একদিন পিছিয়ে বুধবার প্রকাশিত হয়। প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে সূচিপত্রসহ, ‘হিমানী’র এবং নজরুলের অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থের বিজ্ঞাপন। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে ‘আর্য্য পাবলিশিং হাউস’ ও ‘মোসেøম পাবলিশিং হাউস’-এর বিজ্ঞাপন। তৃতীয় পৃষ্ঠায় ছাপা হয়, ধূমকেতুকে দেওয়া রবীন্দ্রনাথের ‘আশীর্বাণী’ : (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু….)। একই পাতায় রয়েছে সম্পাদকীয় : ‘কানার বোঝা কুজোর ঘাড়ে’ এবং ‘চারণদের গান’ পর্যায়ে, নজরুল রচিত সুদীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ গান : ‘জাগরণী’ (৭টি পর্বে বিন্যস্ত)। গানটি কবির ভাঙার গান গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। পত্রিকায় মুদ্রিত গানটির অংশবিশেষ :
‘চলেছে বিশ্বে মিথ্যা পাপের অত্যাচার
নর-নারায়ণের পদাঘাত হা’নি
জানিয়া সত্য সার।’
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত রচনাবলীতে, তার পাঠান্তর রয়েছে এরকম :
‘লক্ষ্য যাদের উৎপীড়ন আর অত্যাচার,
নর নারায়ণে হানে পদাঘাত
জেনেছে সত্য হত্যা সার।’
পত্রিকায় প্রকাশিত ষষ্ঠ পর্বের প্রথম পঙ্ক্তির ‘আরে রে ক্লীব’ স্থলে, একাডেমির রচনাবলীতে হয়েছে ‘পরাধীন বলে’। সম্পাদকীয়তে নজরুল ‘স্বরাজ’ বা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য দেশবাসীর পৌরুষকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাদের ক্লীবত্বকে ব্যঙ্গ করেছেন এভাবে :
‘চুলোয় যাক তোমার বিনয়, পায়ে মাড়িয়ে যাও লোকদেখানো ভদ্রতা, মার ঝ্যাঁটা তোমার ঐ সখি-ধর ধর ভাবের ওপর, তুমি ব্যাটাছেলে হও। গেছে দেশ দুঃখ নাই, আবার তোরা পুরুষ হ।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘বজ্র-বিষাণ’ পর্যায়ে মোজাম্মেল হকের ধূমকেতু শীর্ষক কবিতা। পঞ্চম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে বলাই দেব-শর্মার উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ শীর্ষক ধারাবাহিক নিবন্ধ এবং সুবোধচন্দ্র রায়ের কবিতা ধূমকেতু। উভয় কবির ধূমকেতু কবিতাতেই পত্রিকার উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। মোজাম্মেল হক লিখেছেন : ‘অশুভে অশুভ মিলে হবে শুভোদয়,/ কে না জানে বিষে বিষে হয় যে বিষক্ষয়’; সুবোধচন্দ্র রায় লিখেছেন : ‘এস ধূমকেতু গগনের বুকে আগুনের ভীম-শিখা,/ ধ্বংস বিভোল পাগলের ভালে দীপ্ত বিজয়-টীকা।’
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’ পর্যায়ে মহামায়া দেবীর লেখা ‘উত্তেষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বানু নিবোধতঃ’ এবং কবি-বন্ধু পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় রচিত : ‘পুরুষের মুখে মেয়েদের ব্যথা বা ভূতের মুখে রাম নাম’।
সপ্তম পৃষ্ঠায় রয়েছে, উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামীর ‘আগুনের ফুলকি’।
অষ্টম পৃষ্ঠায় চানাচুর লিখছেন : ‘স্বদেশী সন্দেশ’ বা স্বদেশের খবর।
নবম পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘পরদেশী-পঞ্জী’ পর্যায়ে বিদেশের নানারকম সংবাদ―সূক্তি;
দশম পৃষ্ঠায় মুসলিম জাহানের খবর;
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে বিজ্ঞাপন এবং ধূমকেতুপত্রিকা-সংক্রান্ত খবরাখবর আর পত্রিকার বিজ্ঞাপন-নীতি ও বিজ্ঞাপন-মূল্য, ইত্যাদি।
(৩) তৃতীয় সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮ আগস্ট ১৯২২ (১ ভাদ্র ১৩২৯), শুক্রবার।
পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় রবীন্দ্র-আশীর্বাণী (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু..), সূচিপত্র, দুটি বিজ্ঞাপন এবং আগামী সংখ্যায় নজরুলের কবিতা ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’ প্রকাশের আগাম সংবাদ।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় পত্রিকা সংক্রান্ত তথ্য এবং মোল্লেম পাবলিশিং হাউসের বইয়ের বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় আছে নজরুলের সম্পাদকীয় : ‘রুদ্র মঙ্গল’ (এই সংখ্যায় কবির আর কোনও লেখা নেই)। পাশেই রয়েছে প্রিয়ম্বদা দেবীর ‘ভয় হারা’ কবিতা। ‘রুদ্র মঙ্গল’-এ কবি স্বদেশের ছবি এঁকেছেন এভাবে : ‘নিশীথ রাত্রি। সম্মুখে গভীর তিমির। পথ নাই। আলো নাই। প্রলয়-সাইক্লোনের আর্তনাদ মরণ-বিভীষিকার রক্ত-সুর বাজাচ্ছে। তারই মাঝে মা’কে আমার উলঙ্গ করে টেনে নিয়ে চলেছে আর চাবকাচ্ছে যে, সে দানবও নয়, দেবতাও নয়, রক্তমাংসের মানুষ। ধীরে ধীরে পিছনে চলেছে তেত্রিশ কোটি আঁধারের যাত্রী। তারা যতবার আলো জ্বালাতে চায়, ততবারই নিভে নিভে যায়। তাদের আর্তকণ্ঠে অসহায়ের ক্রন্দন, বোধন না হতে মঙ্গল-ঘট ভেঙ্গেছে, শুধু ক্রন্দন, শুধু হা-হুতাশ। শক্তি নাই, সাহস নাই।’ তাই দেশবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান কবি : ‘মারো তোমার ত্রিশূল ছুঁড়ে, দুলাও তোমার সর্বনাশের ঝাণ্ডা। কে আছ ভৈরব-পন্থী নর-নারী, আরও হাঁকো-হাঁকো-জয় ভৈরব জয় শঙ্কর!/জয় জয় প্রলয়ঙ্কর!/শঙ্কর! শঙ্কর!’
‘বজ্র-বিষাণ’ পর্যায়ে, শক্তিপদ ভট্টাচার্য্য লিখেছেন কবিতা; নাম : ‘শক্তি-সেবী’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায়, ত্রি-শূল পর্যায়ে, বলাই দেব-শর্মা লিখেছেন ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’। একই পৃষ্ঠায় ‘সানাইয়ের পৌ’ পর্যায়ে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন : ‘আমার কথা’।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামী, ‘আড় খেমটা’রাগে লিখেছেন : ‘আশাভঙ্গের গান’।
সপ্তম পৃষ্ঠায়, ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ পর্যায়ে, রুমলাবালা গঙ্গোপাধ্যায় : ‘নারী বাঘিনী’ শীর্ষক নিবন্ধে, নারী বিদ্রোহ ও তাদের স্বাধীনতার কথা বলেছেন।
অষ্টম পৃষ্ঠায় : ‘আগুনের ফুলকি’ লিখেছেন উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামী;
নবম পৃষ্ঠায় : ‘অবাক জলপান’।
দশম পৃষ্ঠায় রয়েছে দেশের খবর, মুসলিম জাহানের খবর, আর ‘দেশবন্ধু’ দুহিতার শুভ-পরিণয় ‘সাদী-মোবারক বাদী!’
একাদশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নানারকম বিজ্ঞাপন; দ্বাদশ পৃষ্ঠায়ও বিজ্ঞাপন এবং ধূমকেতুর নিয়মাবলী সংক্রান্ত নানা বিষয়।
(৪) চতুর্থ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ২২ আগষ্ট ১৯২২ (৫ ভাদ্র ১৩২৯), মঙ্গলবার।
পত্রিকাটির চাহিদা যে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল তা বোঝা যায়, প্রথম পৃষ্ঠার ঘোষণা দেখে : ‘Guaranteed Largest Circulation in Calcutta’ (কলকাতায় সব কাগজের চেয়ে বেশি কাটতি); ডানদিকে ‘রবীন্দ্র-আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু..); পৃষ্ঠার বাকি অর্ধেকটায় ‘হিমানী’ ও অগ্নি-বীণা বইয়ের বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়ও বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় নজরুলের সম্পাদকীয় : ‘মোরা সবাই স্বাধীন সবাই রাজা’ এবং কবির বিখ্যাত কবিতা : ‘রক্তাম্বর-ধারিণী মা’। কবি সম্পাদকীয়তে লিখেছেন : ‘স্বরাজ মানে, নিজেই রাজা বা সবাই রাজা; আমি কারুর অধীন নই, আমরা কারুর সিংহাসন বা পতাকা-তলে আসীন নই। এই বাণী যদি বুক ফুলিয়ে কোনও ভয়কে পরোয়া না করে মুক্ত কণ্ঠে বলতে পার, তবেই তোমরা স্বরাজ লাভ করবে, স্বাধীন হবে, নিজেকে নিজের রাজা করতে পারবে, নৈলে নয়।’ নিজেকে বোঝা, নিজেকে জানা এবং নিজের আদর্শের উপর আত্মনির্ভর হয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে তবেই সবাই স্বাধীন হবে। ‘রক্তাম্বরধারিণী মা’ কবিতাটি কবির অগ্নি-বীণা কাব্যভুক্ত হয়েছে।
চতুর্থ পৃষ্ঠায় রয়েছে প্রিয়ম্বদা দেবীর কবিতা : ‘অগ্নি-বাণী’, সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় রচিত : ‘পথ-শেষে’ এবং ‘ত্রি-শূল’ পর্যায়ে নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় রচিত : টলস্টয়ের ‘আমার আত্মকথা’র ধারাবাহিক অনুবাদ।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় আছে, বলাই দেবশর্ম্মার : ‘কেশবধৃত কন্ধীশরীর জয় জগদীশ হরে’ এবং তাঁরই লেখা ধারাবাহিক রচনা : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’।
সপ্তম, অষ্টম ও নবম পৃষ্ঠায় রয়েছে দেশের নানা টুকরো সংবাদ, ‘দেশবন্ধু’কে অভিনন্দন এবং তার উত্তর।
দশম পৃষ্ঠায় রয়েছে বৈদেশিক সংবাদ ‘পরদেশী-পঞ্জী’; একাদশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নিয়মিত বিভাগ ‘মুসলিম জাহান’-এর নানা সংবাদ এবং বইয়ের বিজ্ঞাপন।
শেষ পৃষ্ঠায় ধূমকেতুর নিয়মাবলী এবং বিজ্ঞাপনসমূহ।
(৫) পঞ্চম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ২৫শে আগষ্ট ১৯২২, (৮ ভাদ্র ১৩২৯), শুক্রবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে রবীন্দ্র-আশীর্বাণী (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…) এবং বিজ্ঞাপনসমূহ।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়ও বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায়, ‘আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল’ শিরোনামের সম্পাদকীয়তে নজরুল, তাঁর পথের সাথী লক্ষ্মীছাড়ার দলকে আহ্বান জানিয়েছেন এভাবে : ‘অভিশাপ আর শনির জ্বালা রুদ্র-চুল্লির মধ্যে ব’সে তোমাদের নবসৃষ্টির সাধনা করতে হবে। তোমাদের এই রুদ্র তপস্যার প্রভাবে সকল নরকাগ্নি ফুল হয়ে ফুটে উঠবে যেমন ইব্রাহিমের পরশে নমরুদের জাহান্নাম ফুল হয়ে ফুটে হেসে উঠেছিল।’ এই পৃষ্ঠাতেই প্রকাশিত হয়েছে, প্রভাময়ী মিত্রের কবিতা : ‘অভিনন্দন’ আর ‘ঝাড়ুদার’ রচিত : ‘বাঙলায় পলিটিক্স’।
চতুর্থ ও পঞ্চম পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’ পর্যায়ে জগমোহন বসুর : ‘ভূতের মুখে রাম-নাম’ এবং বলাই দেবশর্মার: ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ শীর্ষক ধারাবাহিক রচনা। ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় আছে শৈলজা মুখোপাধ্যায়ের : ‘জাগরণী’; এবং বিবিধ বিজ্ঞাপন
সপ্তম, অষ্টম ও নবম পৃষ্ঠায় দেশি-বিদেশি সংবাদ।
দশম পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ; ‘হংস-দূত’ পর্যায়ে, হেমন্তকুমার সরকারের : নজরুলকে লেখা চিঠি।
একাদশ পৃষ্ঠায়, উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামী রচিত : ‘চৈতন্য চুটকি’ ও বইয়ের বিজ্ঞাপন।
দ্বাদশ পৃষ্ঠায়ও রয়েছে বিজ্ঞাপন এবং ধূমকেতুর নিয়মাবলী।
(৬) ষষ্ঠ সংখ্যাটি মুদ্রিত হয়েছে ১৯২২ সালের ২৯ আগষ্ট (১২ ভাদ্র-১৩২৯) মঙ্গলবার।
প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে রবীন্দ্র-আশীর্বাদ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…) এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপনসহ কবির অগ্নি-বীণা বইয়েরও বিস্তৃত বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটাই বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে সম্পাদকীয় : ‘তুবড়ী বাঁশীর ডাক’ এবং বীরেন্দ্রনাথ সেন-গুপ্ত’র রচনা : ‘ইসলাম ও এশিয়া’। রয়েছে বিজ্ঞাপন : পরবর্তী সংখ্যা দ্বিগুণ কলেবরে ‘মোহররম সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার সংবাদ, মূল্য হবে দুই আনা। ‘তুবড়ী বাঁশীর ডাক’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে কবি ডাক দিয়েছেন : ‘এস আমার অগ্নিনাগ-নাগিনীর দল। তোমাদের পলক-হারা রক্ত-চাওয়ার যাদুতে হিংস্র পশু-রক্ত হিম করে ফেল। তোমাদের বিপুল নিশ্বাসের ভীম আকর্ষণে টেনে আন ঐ পশুগুলোকে আমাদের অগ্নি-অজগরের বিপুল মুখ-গহ্বরে…এই অগ্নি-নাগ-বাসে তোমাদেরও বিষ-চক্র-লাঞ্ছিত ফণা এসে মিলিত হোক, তোমাদের বিষ-নিশ্বাস-প্রশ্বাসে ধূমকেতু-ধূম আরো-আরো ধূমায়িত হয়ে উঠুক।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায়, অসিবালা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন কবিতা : ‘জয়-টীকা’। এই পৃষ্ঠাতেই ‘ত্রি-শূল’ পর্যায়ে রয়েছে নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক অনুবাদ : টলস্টয়ের ‘আমার আত্মকথা’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় রয়েছে দুটি রচনা : ১. বলাই দেবশর্মার ধারাবাহিক : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’, ২. ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ পর্যায়ে শৈলবালাঘোষজায়ার ধারাবাহিক : ‘যৎকিঞ্চিৎ’।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে বিন্দুবাসিনী রায় রচিত কবিতা : ‘বাণী’।
সপ্তম ও অষ্টম পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন এবং দেশের খবরাখবর।
নবম পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘মুসলিম-জাহান’-এর সংবাদ এবং যতীন্দ্র ভট্টাচার্য্যের লেখা, রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির প্রথম গানের অনুসরণে বিদ্রুপাত্মক কবিতা: ‘পা-চাটাদের প্রার্থনা’। এছাড়াও আছে তিনটি বিজ্ঞাপন।
দশম পৃষ্ঠায় রয়েছে বিদেশী সংবাদ ‘পরদেশী-পঞ্জী’ এবং হেমেন্দ্র কুমার রায়ের কবিতা : ‘বেতাল’।
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠায় শুধুই বিজ্ঞাপন।
(৭) সপ্তম-সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের সেপ্টেম্বর (২৬শে ভাদ্র ১৩২৯), শনিবার : ‘মোহররম’ বিশেষ সংখ্যা হিসেবে (২০ পৃষ্ঠা)।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আছে কবিকে লিখিত রবীন্দ্রনাথের হস্তলেখা আশীর্বাণীর (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু..) ফটো এবং সম্পাদকীয় : ‘মোহররম।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় রয়েছে মিসেস আর. এস. হোসেনের : ‘পিপাসা’ (মোহররম); এবং নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের : ‘মরুদ্বীপের সৃষ্টি’।
নবম থেকে অষ্টম পৃষ্ঠা অবধি জুড়ে রয়েছে : ‘মহরম কথা’।
নবম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে কবি নজরুলের কবিতা : ‘মোহররম’।
দশম পৃষ্ঠায় ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’ পর্যায়ে, রয়েছে মিসেস এম. রহমান রচিত : ‘আমাদের অভাব অভিযোগ’; একাদশ পৃষ্ঠায় আছে, শ্রীকাঁধে-বাড়ি বলরাম রচিত : ‘মুড়ো খ্যাংরা’ এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সালসা খাও’-এর সুর অবলম্বনে, উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামীর লেখা গান : ‘তামাক খাও।’
দ্বাদশ পৃষ্ঠার বিষয় : ‘অন্ধ ভক্ত’ (সত্য ঘটনা)।
ত্রয়োদশ পৃষ্ঠায় : ‘রগড়-কমিটির চিঠি’।
চতুর্দশ পৃষ্ঠায় রয়েছে নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা : ‘বাঙালী ও ইংরেজ’।
পঞ্চদশ পৃষ্ঠায় ‘সানাইয়ের পোঁ’ পর্যায়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন : ‘আমার কথা’।
ষোড়শ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে প্রেমাঙ্কুর আতর্থীর : ‘চলার পথ’।
অষ্টাদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘শনির পত্র’ পর্যায়ে ‘ধূমকেতুদাদা’কে লেখা একটি পত্র। বাকি দুই পৃষ্ঠায় শুধু বিজ্ঞাপন।
(৮) অষ্টম সংখ্যাটির প্রকাশ কাল ১৯২২ সালের ১২সেপ্টেম্বর (২৬শে ভাদ্র ১৩২৯), মঙ্গলবার।
[তবে এই সংখ্যার বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়: অফিস বদলের কারণে গত শুক্রবারের সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়নি।]প্রথম পৃষ্ঠার পুরোটাই বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত, উদভ্রান্ত চৈতন্য গোস্বামীর ব্যঙ্গকবিতা : ‘গরম চা-স্তোত্রম’ ছাড়া বাকি অংশ জুড়ে রয়েছে বিজ্ঞাপন।
তৃতীয়য় পৃষ্ঠায়, রবীন্দ্র-আশীর্বাদ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…) এবং সম্পাদকীয় : ‘বিষ বাণী’। এছাড়া আছে, বাংলার অগ্নিযুগের বিপ্লবীযুগের প্রথম সেনা-নায়ক, পুরুষসিংহ যতীন্দ্রনাথ বিষয়ে আলোচনা।
চতুর্থ পৃষ্ঠায়, ঝাড়ুদার রচিত ব্যঙ্গ-রচনা : ‘কত কেরামত জানোরে বান্দা কত কেরামত জানো।’
পঞ্চম পৃষ্ঠায়, ঝাড়ুদার রচিত : ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ধূমকেতু’; এছাড়াওরয়েছে ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ পর্যায়ে, শৈলবালা ঘোষজায়া রচিত ধারাবাহিক ‘যৎকিঞ্চিৎ’।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের নাম অনুল্লেখিত) : ‘কামালপাশা’ কবিতার অংশবিশেষ। অবশ্য মূল কবিতাটি তাঁর অগ্নি-বীণা কাব্যেই সংকলিত আছে।
সপ্তম ও অষ্টম পৃষ্ঠায় আছে বিভিন্ন ধারাবাহিক বিভাগ : ‘দেশের খবর’, ‘পরদেশী-পঞ্জী’ এবং ‘মুসলিম জাহান’। ১০ম ও একাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে বিজ্ঞাপন।
দ্বাদশ পৃষ্ঠায় ‘মিষ্টি-মুখ’ পর্যায়ে, মুদ্রিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বর্ষা-মঙ্গল’ কবিতা।
(৯) নবম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর (২৯ ভাদ্র ১৩২৯) মঙ্গলবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় ‘হংস-দূত’ শিরোনামে কবি নজরুলকে লেখা ৫টি পত্র: এর মধ্যে রয়েছে কবি কালিদাস রায়ের লেখা একটি পত্রকবিতা বা পত্রকাব্যও।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে সম্পাদকীয় : ‘মেয় ভুখা হুঁ’।
চতুর্থ-পঞ্চম-পঞ্চম পৃষ্ঠায় রয়েছে, বীরেন্দ্রকুমার সেনের : ‘ক’টি কথা’।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় আছে বলাই দেবশর্মার : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ বিষয়ে ধারাবাহিক রচনা।
সপ্তম পৃষ্ঠার ‘ত্রি-শূল’ পর্যায়ের লেখা : ‘জনগণ’; বাকিটা বিজ্ঞাপন।
অষ্টম পৃষ্ঠায় ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ পর্যায়ে শৈলবালা ঘোষজায়া রচিত ধারাবাহিক রচনা : ‘যৎকিঞ্চিৎ’।
নবম পৃষ্ঠায় ‘দেশের খবর’।
দশম পৃষ্ঠায় ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ।
দশম (ক) পৃষ্ঠায় ‘নিক্তি-নিকষ’পর্যায়ে রয়েছে বারীন্দ্রকুমার ঘোষের দ্বীপান্তরের কথা গ্রন্থের পর্যালোচনা।
দশম (ক)-এর বাকি অংশ, ১০ম (খ), একাদশ এবং দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে আছে বইসহ অন্যান্য বিষয়ের বিজ্ঞাপন। এরমধ্যে বেশ কিছু ভালো বইয়ের বিজ্ঞাপন রয়েছে, যা থেকে সমকালের গ্রন্থসম্ভারের খবর পাওয়া যায়।
(১০) দশম সংখ্যার মুদ্রণ কাল ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯২২ (২ আশ্বিন ১৩২৯), মঙ্গলবার।
প্রথম ও দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে বিজ্ঞাপন; এই সঙ্গেই রয়েছে নজরুলের অগ্নি-বীণা কাব্য প্রকাশের অগ্রিম বিজ্ঞাপনও, যার ঘোষিত মূল্য এক টাকা।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে সম্পাদকীয় : ‘ক্ষুদিরামের মা’। সম্পাদক এখানে ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগকে বিশ্বের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের আত্মত্যাগের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
চতুর্থ পৃষ্ঠায় আছে, ঝাড়ুদার রচিত : ‘অগ্নি সম্মার্জনী’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায়, বলাই দেবশর্মার : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ প্রবন্ধ।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায়, হুমায়ুন জহীরুদ্দিন আমির-ই-কবীর রচিত : ‘পল্লীব্যথা’ (চিত্র) বিষয়ক ‘মা’র কথা’।
সপ্তম পৃষ্ঠায়, ভবানীপ্রসাদ রায় লিখেছেন : ‘পল্লী-শিশুর অশ্রু’ নিয়ে।
অষ্টম পৃষ্ঠায় : ‘আমাদের দাবী’ বিষয়ে লিখেছেন মিসেস এম. রহমান।
নবম পৃষ্ঠায়, বিজ্ঞাপনের পাশেই মুদ্রিত হয়েছে ‘দেশের খবর’।
দশম পৃষ্ঠায় মুসলিম জাহান-এর সংবাদ; একাদশ পৃষ্ঠায়, নজরুল ইসলামকে লেখা কয়েকটি চিঠি এবং বিবিধ বইয়ের বিজ্ঞাপন। দ্বাদশ পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপনের পাশেই মুদ্রিত হয়েছে দরবেশ রচিত ‘আগমনী’।
(১১) একাদশতম সংখ্যার প্রকাশকাল : ২২ সেপ্টেম্বর ১৯২২ (৫ আশ্বিন ১৩২৯) শুক্রবার।
প্রথম ও দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে রবীন্দ্র-আশীর্বাদ : (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু) এবং। ‘পথিক! তুমি পথ হারাইয়াছ?’ শীর্ষক সম্পাদকীয় কবির এক গভীর প্রত্যয় বিম্বিত হয়েছে এখানে : ‘আমরা পথ হারাই না! আমাদের পথ কখনও হারায় না।’ একই পৃষ্ঠায়, বীরেন সেনগুপ্ত লিখেছেন : ‘পাঞ্জাব আজি গরজি উঠিল’ শিরোনামে রাজনৈতিক আলোচনা; পাতার বাকিটা বিজ্ঞাপন। ‘অগ্নি সম্মার্জনী’ পর্যায়ে : ‘বাংলা কোন্ পথে’ চলেছে, সে বিষয়ে বিস্তৃতভাবে লিখেছেন ঝাড়ুদার।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ বিষয়ে লিখেছেন বলাই দেবশর্মা।
সপ্তম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে : ‘দু-পেঁয়াজী’ (মোল্লা তিন পেঁয়াজা) এবং প্রভাময়ী মিত্রের কবিতা : ‘প্রলয়’।
অষ্টম পৃষ্ঠায় ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’ পর্যায়ে রয়েছে বাণীরায়ের : ‘আহ্বান’ এবং মিসেস আর.এস.হোসেনের কবিতা: ‘নিরুপম বীর’।
নবম পৃষ্ঠায় আছে : ‘এক কলম সহানুভূতির কালি’ এবং হরিদাসের কবিতা : ‘মহা-পূজা’।
দশম থেকে দ্বাদশ পৃষ্ঠায় আছে যথাক্রমে : ‘নিক্তি-নিকষ’, ‘সানাইয়ের পোঁ’, ‘শনির দৃষ্টি’, ‘দেশের খবর’ এবং মুসলিম জাহান-এর সংবাদ : ‘হংসদূত’ পর্যায়ে রয়েছে চিঠি। এবং সবশেষে বিজ্ঞাপন।
(১২) দ্বাদশ সংখ্যাটি মুদ্রিত হয়েছে ১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (১৩২৯ সালের ৯ আশ্বিন) মঙ্গলবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে হিতবাদী এবং বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত ধূমকেতু পত্রিকা সম্বন্ধে মতামত; বাকিটা বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নজরুল ইসলামের কবিতা : ‘আনন্দময়ীর আগমনে’। এই সংখ্যায় প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায় যে, শারদীয় পূজা উপলক্ষে পত্রিকার দপ্তর বন্ধ থাকার কারণে ১২, ১৬ এবং ১৯ আশ্বিনের ধূমকেতু প্রকাশিত হবে না―ত্রয়োদশ সংখ্যাটি বেরোবে ২৩শে আশ্বিন। [‘কামালপাশা’র মতো ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার সঙ্গেও কবির নাম অনুল্লেখিত ছিল। কবিতাটি, বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলীর প্রথম খণ্ডের ‘সংযোজন’ অংশে সংকলিত হয়েছে।]
চতুর্থ ও পঞ্চম পৃষ্ঠায় আছে যথাক্রমে সরসীবালা বসুর কবিতা : ‘কামাল-বন্দনা’; বলাই দেবশর্মার : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ এবং শৈলেন্দ্রনাথ রায়ের ‘সানাইয়ের পৌ’ পর্যায়ে : ‘পূর্বাভাষ’।
ষষ্ঠ থেকে নবম পৃষ্ঠায় রয়েছে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, দেশের ও ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ; ‘নিক্তি নিকষ’ পর্যায়ে, মোহিতলাল মজুমদারের : স্বপন পসারী কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা।
দশম পৃষ্ঠায় অমিয়বালা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা : ‘উচ্ছৃঙ্খল’; দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয়েছে নজরুলের দীর্ঘ কবিতা : ‘আগমনী’। কবিতাটি কবির অগ্নি-বীণা কাব্যভুক্ত হয়েছে; এখানে মূল কবিতা থেকে বহু ক্ষেত্রে পাঠান্তর পরিলক্ষিত হয়।
[দ্রষ্টব্য: বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলী, প্রথম খণ্ড। নবম পঙ্ক্তিতে মূলে আছে : ‘ঢাল-তলোয়ার’ ‘খনখন’, গ্রন্থে হয়েছে ‘ছনছন’। মূলে আছে :“বোঁও বনবন
শোঁও শনশন
হোহো
ঝননননন রণঝনঝন রণননরণ
ঝনরণ।’
এই স্তবকটি গ্রন্থে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপরে মূল কবিতায় আছে :
‘ঐ অট্ট হাসিছে রণ-চামুক্ত হাহা হিহি হিহি
মাঝে মাঝে হুঙ্কারে বৃংহিত-নাদ
হ্রেষা-রব চিহি চিহি হিহি
বজ্রের মার, করকা-পাত!
কর্ আঘাত,
কর্ আঘাত/বহ্নি-ঘাত, মারের ওপরে মার হানো, বাঃ সাব্বাস হালাকাঁপে দেখ ভয়ে?
যেন শীতে হিহি ইহি ইহি!
কট্ কট্ কট্
পট পট পট/ গিরা ছিঁড়ে হা হা নড়ে ছট ফট!
র্হুর্। হুর্র্ ।। হুর্র্ !!!
হোহো কাটা পাঁটা যেন ধড়ু ফড় করে
র্দুর্। দুরর!! দুর্ !!! ঐ ওঠে দানবেরা ঘন চীৎকারি ‘ধিক্কারি’ পুনঃ হানে টিটকারি রে!
যেন কোটি নাগ-বিষ ফুৎকার/ওঠে মৃত্যু আহত নিশাসে নিশাসে ফুৎকার।
নর মুণ্ড মালিনী চণ্ডী হাসিছে হাহা হাহাহাহা হিহি হিহি,
হোহো হাহা হাহা হাহা হিহি হিহি।”
উল্লিখিত এই অংশটি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত রচনাবলীতে বর্জিত হয়েছে। পরের স্তবকের প্রথমে একটা ‘ঐ’ যুক্ত হয়েছে। এটা মূল কবিতায় নেই। মূল কবিতার ‘আজ রণ রঙ্গিনী জগৎ মাতার…পঙ্ক্তিটি থেকে, ‘আজ’ শব্দটি বাংলা একাডেমির রচনাবলীতে বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘বীণা-পাণি অমলা ঐ’ পঙ্ক্তির আগে ‘এলো’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ পৃষ্ঠায় ‘ধূমকেতু দেখা দূরবীন’ পর্যায়ে ধূমকেতু নিয়ে সত্যবাদী, বাসন্তী এবং আনন্দবাজার পত্রিকার মতামত ছাপা হয়েছে; বাকিটা বিজ্ঞাপন।
এই সংখ্যার বিজ্ঞাপনগুলো যথাক্রমে : ‘হিমানী’, সুলভে পোষাক বিক্রেতা ‘যুধিষ্ঠির দাঁ ও মোহিত মোহন দাঁ’, স্বদেশী পোষাক ‘কৃষ্ণলাল মনিলাল’, ‘জবাকুসুম তেল’, ‘রবিনস্ গণোডাইন’, ‘দি গ্রামোফোন কোম্পানী লিমিটেড’, ‘উপচক্ষু: চশমা’, ‘পেট্রোম্যাক্স ল্যাম্প’, পুজোর নতুন রেকর্ড : ‘জয়দেব’, ‘তাজা সবজি ও ফুলের বীজ’, ‘মুরারী বটিকা’, ‘হারমোনিয়ম’, ‘অগ্নি-বীণা’, কেরোসিন স্টোভ : ‘পাম্ পাস্’, জ্বরের ঔষধ ‘ইউক্যালিপটীন’, ‘আর্য্য পাবলিশিং হাউসের’ বইয়ের বিজ্ঞাপন : ‘শীঘ্রই বাহির হইবে ধূমকেতু সারথি কাজী নজরুল ইসলামের যুগ-বাণী’, ‘বাংলাদেশ শ্মশান হল’: বেঙ্গল ক্যামিক্যালের ম্যালেরিয়ার ঔষধ ‘পাইরেক্স’, ‘ইণ্ডিয়ান বুক ক্লাবের’ বিজ্ঞাপন, পত্রিকা উপাসনা, ‘সরস্বতী লাইব্রেরী’র বইয়ের বিজ্ঞাপন, ‘গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এণ্ড সন্স’-এর সামাজিক উপন্যাসের বিজ্ঞাপন, ‘মোসলেম পাবলিশিং হাউস’ কর্তৃক প্রকাশিত সৈনিক-কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উদ্দামপ্রাণের উচ্ছ্বল রসাবেশে ভরপুর বুক-ভরা বেদনার মূর্ত বিকাশ ব্যথার দান-এর বিজ্ঞাপন, ‘ঝিনুকের অলঙ্কারের’ বিজ্ঞাপন, ইত্যাদি।
(১৩) ত্রয়োদশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে পূজাবকাশের পরে ১৯২২ সালের ১৩ অক্টোবর (২৬শে আশ্বিন ১৩২৯) শুক্রবার।
এই সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় আছে, ‘মন্মথনাথ দাঁ ও সুধীরমোহন দাঁ’র পোশাকের বিজ্ঞাপন : ‘বিজয়ার অভিবাদন।’
দ্বিতীয় পৃষ্ঠা জুড়ে আছে পূর্বেকার বিজ্ঞাপন সমূহ।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে, রবীন্দ্র-আশীর্বাণী (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…); এবং সম্পাদকীয় : ‘ধূমকেতুর পথ’। সম্পাদক নজরুল ইসলাম ধূমকেতুর উদ্দেশ্যকে জনমানসে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন এভাবে :
‘ধূমকেতু ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়। …ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা-রক্ষা, শাসন ভার, সমস্ত থাকবে ভারতীয়ের হাতে। যাঁরা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এদেশে মোড়লী ক’রে দেশকে শ্মশান-ভূমিতে পরিণত করছেন, তাঁদের পাততাড়ি গুটিয়ে, বোঁচকা পুটুলি বেঁধে সাগর-পারে পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা আবেদন নিবেদন করলে তাঁরা শুনবেন না।… পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে হলে সকলের আগে আমাদের বিদ্রোহ করতে হবে সকল-কিছু নিয়ম-কানুন বাঁধন শৃঙ্খল মানা নিষেধের বিরুদ্ধে।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় ‘অগ্নি-সম্মার্জনী’ পর্যায়ে রয়েছে : ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায়, ‘সানাইয়ের পোঁ’ পর্যায়ে রয়েছে ‘বিজলী’ থেকে সংকলিত : ‘রং চং’।
৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় শক্তিপদ ভট্টাচার্য্যের কবিতা : ‘অভিনন্দন’।
সপ্তম পাতায় আছে নিয়মিত বিভাগ : ‘দেশের খবর’ এবং ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ।
অষ্টম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে : হেমন্তকুমার সরকারের ‘পথের শেষ’; রয়েছে হারমোনিয়মের বিজ্ঞাপন।
নবম পৃষ্ঠায় ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ পর্যায়ে মুদ্রিত হয়েছে মিসেস এম, রহমানের রচনা : ‘আমাদের স্বরূপ’।
দশম পৃষ্ঠায় আছে তিনটি লাইব্রেরীর বইয়ের বিজ্ঞাপন―আছে সুকবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাব্যগ্রন্থ : জাগরণী এবং যতীন্দ্রমোহন চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক উপন্যাস : বিপথা।
একাদশ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে, টলস্টয়ের ‘Slavery of our times’ অবলম্বনে দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের রচিত : দাসত্ব। আর আছে : রাজ যক্ষ্মার অব্যর্থ মহৌষধ, ম্যালেরিয়ার ঔষধ ‘পাইরেক্স’, খাঁটি পদ্মমধু এবং চশমার বিজ্ঞাপন।
দ্বাদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ধূমকেতুর সারথি কাজী নজরুল ইসলামকে লেখা, দ্বৈপায়ন বা মুজফ্ফর আহমদের প্রথম ‘পত্র’: (পত্র নম্বর-১); আছে ‘মুরারি বটিকা’, ‘হারমোনিয়ম’ এবং অগ্নি-বীণার বিজ্ঞাপন।
ত্রয়োদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে লীলা মিত্র রচিত কবিতা : ‘বাঙালী’; এছাড়া আছে তিনটি বিজ্ঞাপন : ‘আর্য্য পাবলিশিং হাউস’ কর্তৃক নজরুল ইসলামের যুগবাণী, ‘জবাকুসুম তেল’ এবং ‘গ্রামোফোন’।
চতুর্দশ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে : ‘হিন্দুস্থান-এর ন্যায় বিচার’ বিষয়ে দুটি ‘চিঠি’।
পঞ্চদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে শক্তিপদ ভট্টাচার্য্যের লেখা : ‘বর্দ্ধমানের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী কবির অভিনন্দন’ এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের রাণীগঞ্জে আগমন উপলক্ষে : ‘অভিনন্দন গীতি’। আছে পুজার নতুন গ্রামোফোন রেকর্ড : ‘জয়দেব’-এর বিজ্ঞাপন।
ষোড়শ পৃষ্ঠার পুরোটাই জুড়ে রয়েছে বিজ্ঞাপন; যেমন : মোসলেম পাবলিশিং হাউস কর্তৃক প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলামের ব্যথার দান এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিন্ডিকেট কর্তৃক মুদ্রিত নিরুপমা দেবীর উপন্যাস : বন্ধু।
(১৪) চতুর্দশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ১৭ অক্টোবর (৩০ আশ্বিন ১৩২৯), মঙ্গলবার।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে রবীন্দ্র-আশীর্বাণীর হস্তাক্ষর- ফটোকপি (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…); আর আছে: ‘কামাল’ শিরোনামের সম্পাদকীয় যার সারকথা হলো : ‘ধর্মীয় আচার-আচরণ দিয়ে কোনো জাতির মুক্তি নেই, তার জন্য চাই শক্তির বরাভয়।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় আছে মুরলীধর গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা : ‘মা না মহাশক্তি।’
পঞ্চম পৃষ্ঠায়, নিকষ নিক্তি পর্যায়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে সুকুমার রঞ্জন দাশের ‘ভাঙ্গা-গড়া’, সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের : ‘ছেলেদের বিবেকানন্দ’ এবং কিরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের : ‘রামদাস স্বামী’ বিষয়ে। এছাড়া আছে লীলা মিত্রের কবিতা : ‘খুন-খোশরোজ’।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক : ‘দাসত্ব’-এর দ্বিতীয় অংশ।
সপ্তম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে নিয়মিত বিভাগ : ‘দেশের খবর’ এবং ‘বৈদেশিক’ সংবাদ ‘পরদেশী-পঞ্জী’।
অষ্টম পৃষ্ঠায় ‘তুর্কি-তাণ্ডব’।
দশম পৃষ্ঠায় ‘মুসলিম জাহান’ এবং পঞ্চদশ পৃষ্ঠায় ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ পর্যায়ে, নলিনী বসুর : ‘মায়ের বোধন’ আর চঞ্চলা দেবীর, নারী বিষয়ক রচনা : ‘ভাবনা-চিন্তা’। এই সংখ্যায় নতুন কোনও বিজ্ঞাপন নেই।
(১৫) পঞ্চদশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ২০ অক্টোবর (৩ কার্তিক ১৩২৯), শুক্রবার।
প্রথম ও দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে একই বিজ্ঞাপনসমূহের পুনরাবৃত্তি।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় যথারীতি আছে: রবীন্দ্র-আশীর্বাণী (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…); সম্পাদকীয় : ‘দেয়ালী উৎসব’; সরসীবালা বসুর কবিতা : ‘ভাইফোঁটা’; এবং লীলা মিত্রের : ‘বিদ্রোহীর কৈফিয়ৎ’। সম্পাদকীয়তে কবির দেশপ্রেম প্রোজ্জ্বল, তিনি কামনা করেছেন : ‘ওগো বাঙালী! ওগো ভারতের আগুনের দেবতা! ওগো বিদারণের মহাপ্রলয়! তোমরা তোমাদের বিস্মৃত মূর্ত্তিকে আজ মনে কর, এই দেয়ালীর রক্ত আলো আর বোমা-বিদারণের মধ্যে।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় আছে : ‘যাদুকর লয়েড জর্জের ভেলকীবাজী’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় ‘দেশের খবর’ এবং ‘পরদেশী-পঞ্জী’।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ, আর ‘হংসদূত পর্যায়ে’ আছে : ‘চিঠি’ এবং ‘উত্তর বঙ্গে ভীষণ জল-প্লাবন’-এর সংবাদ-ভাষ্য।
সপ্তম পৃষ্ঠায়, ‘আইরিশ বিদ্রোহী রবার্ট এমেন্ট’-কে নিয়ে ধারাবাহিক-আলোচনা লিখেছেন কলহন মিশ্র : (পৃ. ৭-৮)।
দশম পৃষ্ঠায়, ‘অগ্নি সম্মার্জনী’ পর্যায়ে রয়েছে ঝাড়ুদার রচিত ধূমকেতুর ওকালতি এবং ‘সানাইয়েরপোঁ’ পর্যায়ে ‘গুপ্ত সমিতির কথা’। নতুন কোনও বিজ্ঞাপন নেই।
(১৬) ষোড়শ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ২৪ অক্টোবর ১৯২২(৭ কার্তিক ১৩২৯), মঙ্গলবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় এসেছে নতুন বিজ্ঞাপন : প্রবর্ত্তক এম্পোরিয়াম-এর ‘খদ্দরের কাপড় ও পোষাক’।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটিও বিজ্ঞাপনে ঠাসা; তৃতীয় পৃষ্ঠায় রীতিমাফিক রবীন্দ্র-আশীর্বাদ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…); আর নজরুল ইসলামের যুগ-বাণীর বিজ্ঞাপন; বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে : ‘কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নি-বীণা বাহির হইল। সুদৃশ্য বাঁধাই, দাম এক টাকা। বিদ্রোহী নজরুলের কবিতা ও প্রবন্ধে যে সত্য দৃষ্টি ও প্রাণের পরিচয় পাইবেন বঙ্গ-সাহিত্যে তাহা দুর্লভ। প্রাপ্তিস্থান: আর্য্য-পাবলিশিং হাউস।’ এই পর্যায়ে রয়েছে নজরুলের কবিতা : ‘রণ-ভেরী’। এখানেও কবির নাম অনুল্লিখিত।
কবিতাটি শুরুর আগে বলা হয়েছে : ‘গ্রীসের বিরুদ্ধে আঙ্গোরা তুর্ক গভর্ণমেন্ট যে যুদ্ধ চালাইতেছেন, সেই যুদ্ধে কামাল পাশার সাহায্যের জন্য ভারতবর্ষ হইতে দশ হাজার স্বেচ্ছা-সৈনিক প্রেরণের প্রস্তাব শুনিয়া লিখিত।’ বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত নজরুল রচনাবলীর সম্পাদক আবদুল কাদির, পত্রিকায় প্রকাশিত মূল কবিতাটির প্যাটার্ন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভেঙে ফেলেছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত এই কবিতাটি শেষ হয়েছে চারের পাতায়। এরপরেই রয়েছে দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘দাসত্ব’ (পৃ৪-৫); রয়েছে : ‘বালারুশ সম্প্রদায়’কে নিয়ে লেখা।
এর পাশেই আছে আল-মোজাহেদ রচিত ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘জেহাদ’ (পৃ.৬-৭)। আর অন্নপূর্ণা সরকারের কবিতা : ‘বিদ্রোহী বীর’। বিজ্ঞাপন আছে ৪টি, তবে সবগুলোই পুরনো।
অষ্টম পৃষ্ঠায় রয়েছে, ধূমকেতুর সম্পাদক/সারথি নজরুল ইসলামকে লেখা : ‘দ্বৈপায়নের পত্র’ ছদ্মনামে মুজফ্ফর আহমদের দ্বিতীয় চিঠি (পত্র নং-২)। এর পাশেই আছে : ‘সানাইয়ের পোঁ’ এবং ‘বিদ্রোহী ভারত’; শেষ হয়েছে নবম পৃষ্ঠায়। এই পৃষ্ঠাতেই শুরু হয়েছে, নিয়মিত বিভাগ ‘দেশের খবর’ এবং ‘পরদেশী-পঞ্জী’ (পৃ: ৯-১০)।
দশম পৃষ্ঠার পাশেই আছে : ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ।
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে ঠাসা বিজ্ঞাপন, তবে কোনও নতুন বিজ্ঞাপন নেই।
(১৭) সপ্তদশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ২৭ অক্টোবর (১০ কার্ত্তিক ১৩২৯), শুক্রবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে অগ্নি-বীণা প্রকাশের বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় পুরোটাই বিজ্ঞাপন, তবে সবই পুরনো।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় যথারীতি আছে ‘রবীন্দ্র-আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…), আর অগ্নি-বীণা ও যুগ-বাণীর বিজ্ঞাপন-এবং লীলা মিত্রের কবিতা : ‘বিদ্রোহীর প্রতি’। এছাড়াও তিন কলাম জুড়ে মুদ্রিত হয়েছে, নজরুল ইসলামের নাম অনুল্লেখিত কবিতা : ‘দুঃশাসনের রক্ত’। কবিতাটি, বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল-রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে, ‘ভাঙার গান’ কাব্যগ্রন্থে ‘দুঃশাসনের রক্ত-পান’ শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চতুর্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে মুজফ্ফর আহমদের ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘গান্ধী চরিত’ এবং বলাই দেবশর্মার : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ (পৃ.৪৫)। রয়েছে কলহন মিশ্রের ধারাবাহিক রচনা : ‘আইরিশ বিদ্রোহী রবার্ট এমেন্ট’/(ক্রমশ); (পৃ.৫ ৭)।
সপ্তম পৃষ্ঠায় আছে ‘কমলালয়ের স্বদেশী সুদর্শন পরিচ্ছদ’ এবং আয়ুর্বেদ ল্যাবরেটরীর ‘মহানিম তৈল’-এর বিজ্ঞাপন।
অষ্টম পৃষ্ঠায় ‘সানাইয়ের পোঁ’ পর্যায়ে রয়েছে ‘লাঠি যার মাটি তার’ এবং আল মোজাহেদের ধারাবাহিক রচনা : ‘জেহাদ’।
নবম পৃষ্ঠায়, ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা’ পর্যায়ে রয়েছে : নানা টুকরো সংবাদ;
দশম পৃষ্ঠায় দেশের খবর’ এবং ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ; এই পৃষ্ঠাতেই আছে ‘বাসন্তী ভাণ্ডারের খদ্দরের পোষাক’-এর বিজ্ঞাপন, আছে ‘ফ্রেন্ডস ট্রেডিং ইউনিয়ন’-এর ‘ঢাকাই খদ্দর’।
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠার পুরোটাই বিজ্ঞাপন; যদিও নতুন কোনও বিজ্ঞাপন নেই। এই সংখ্যায় কোনও ‘সম্পাদকীয়’ ছাপা হয়নি।
(১৮) অষ্টাদশ সংখ্যাটির প্রকাশকাল : ৩১ অক্টোবর ২০২২ (১৪ কার্ত্তিক ১৩২৯), মঙ্গলবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নি-বীণা ও যুগবাণীর বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটাই পুরনো বিজ্ঞাপনে ঠাসা।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় : ‘রবীন্দ্র আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…), নজরুল ইসলামের গ্রন্থের বিজ্ঞাপন এবং ‘আমি সৈনিক’ শিরোনামের সম্পাদকীয়। সম্পাদক নজরুল জানালেন : ‘এখন দেশে সেই সেবকের দরকার, যে সেবক দেশ-সৈনিক হতে পারবে।… দেশ চায় সেই পুরুষ, যার ভালোবাসায় আঘাত আছে, বিদ্রোহ আছে। যে দেশকে ভালোবেসে শুধু চোখের জলই ফেলবে না,সে দরকার হলে আঘাতও করবে, প্রতিঘাতও বুক পেতে নেবে, বিদ্রোহ করবে।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় আছে রিজিয়া রহমানের কবিতা : ‘আরব’; এছাড়াও রয়েছে : ‘আইরিশ বিদ্রোহী রবার্ট এমেন্ট’-কে নিয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক রচনা (পৃ. ৪-৬)।
সপ্তম পৃষ্ঠায়, ‘দ্বৈপায়ন’ ওরফে মুজফ্ফর আহমদ, সম্পাদক নজরুলকে লিখেছেন তাঁর তৃতীয় পত্রটি : (পত্র সংখ্যা-৩)। ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’ পর্যায়ে রয়েছে, মহামায়া দেবীর দীর্ঘ রচনা : ‘নারীর মুক্তি কোন পথে?’ (পৃ.৭-১)।
নবম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন; এছাড়াও ‘দেশের খবর’ও ‘পরদেশী পঞ্জী’-শীর্ষক নিয়মিত বিভাগ।
দশম পৃষ্ঠায় রয়েছে : ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ। এবং প্রভাময়ী মিত্রের কবিতা : ‘আবাহন’। একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন।
(১৯) উনবিংশতম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ৩ নভেম্বর ১৯২২ (১৭ কার্ত্তিক ১৩২৯), শুক্রবার।
পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে নজরুল ইসলামের বইয়ের বিজ্ঞাপন : দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটি সম্পূর্ণ ঠাসা রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপনে; তৃতীয় পৃষ্ঠায় ‘রবীন্দ্র-আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…); ‘সম্পাদকীয়’ এবং মুজফ্ফর আহমদের ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘গান্ধী-চরিত’; আর রয়েছে কাজী নজরুলের বইয়ের বিজ্ঞাপন। সম্পাদকীয় : ‘নিশান-বরদার (পতাকা-বাহী)’-এ, কবি নজরুল লিখেছেন :
‘আমাদের বিজয় পতাকা তুলে ধরবার জন্যে এসো সৈনিক।
পতাকার রং হবে লাল,
তাকে রং করতে হবে খুন দিয়ে।
বল আমরা পেছাব না।
বল আমরা সিংহ শাবক।
আমরা খুন দেখে ভয় করিনা।
…আমাদের
এই বিজয় মঙ্গলের সময় যদি কেউ বাধা দিতে আসে,
তবে তাকে ধড় থেকে অর্দ্ধেক ছাড়িয়ে নিয়ে অর্দ্ধেক সাগর
জলে ভাসিয়ে দাও।
আর অর্দ্ধেক খানা সেখানে পড়ে,
দুপারের গিটে গিঁটে যেন ঠোকাঠুকি করে।’
এমন সম্পাদকীয়-ভাষা তো সরাসরি বিদ্রোহের, সংগ্রামের, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত যুদ্ধ ঘোষণার!
চতুর্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে, আল মোজাহেদ-এর ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘জহাদ’-এর তৃতীয় পর্ব।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক রচনা : ‘দাসত্ব’-এর অন্তিম পর্ব
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় বলাই দেবশর্মার ধারাবাহিক রচনা : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’।
সপ্তম পৃষ্ঠায় ‘হংস-দূত’ পর্যায়ে রয়েছে : ‘সম্পাদকের গোচরে চিঠি’ এবং ‘দেশের খবর’ (পৃ.৭-৮)।
নবম পৃষ্ঠায় আছে : ‘পরদেশী-পঞ্জী’ এবং ‘মুর্শিদাবাদের রেশম’ এছাড়াও ‘নবতন্ত্র’-এর মাসিক পত্রিকা: ‘বিকাশ’; ‘জ্বরের অমৃতাদি বটিকা’ এবং ‘নিরুদ্দেশ-সংবাদ’ ইত্যাদি।
দশম পৃষ্ঠায় রয়েছে নিয়মিত বিভাগ : ‘মুসলিম জাহান’; আর আছে: ‘নিখিল ভারতের ছাত্রসমাজের’ সাপ্তাহিক মুখপত্র ‘স্টুডেন্ট’-এর বিজ্ঞাপন।
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে শুধু পুরনো বিজ্ঞাপন।
(২০) বিংশতিতম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ৭ নভেম্বর ১৯২২ (২১শে কার্তিক ১৩২৯), মঙ্গলবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে অগ্নি-বীণা এবং যুগবাণী প্রকাশের বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠাতে যথারীতি পুরনো বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় ‘রবীন্দ্র-আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…) এবং সম্পাদকীয় : ‘ভিক্ষা দাও’; আর ঝাড়ুদার রচিত : ‘আইনের বে-আইনি’। সম্পাদকীয়তে কবি পুরবাসীদের কাছে দেশের সংগ্রামের জন্য ঘরে ঘরে সন্তান ভিক্ষা চেয়ে বলেছেন : ‘ঐ দেখ অত্যাচার তার ভীষণ মূর্ত্তি ধরে বসেছে। ধনী তাঁর ধন নিয়ে, বলবান লাঠি দিয়ে, কাজী আর পণ্ডিত তাঁর শাস্ত্র দিয়ে মানুষকে হত্যা করবার কি ভীষণ চেষ্টা কচ্ছে। ঐ শোন তাদের তাণ্ডব চীৎকার। ঐ দেখ কি বিকট মূর্তি।’ এদের ‘টুটি ধরে’ মারার জন্যেই তিনি ভারতবাসীর কাছে ‘বীর’, ‘তরুণ’, ‘নাস্তিক’ ‘বিদ্রোহী’ ভিক্ষা চেয়েছেন। চতুর্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক রচনা : ‘দাসত্ব’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় বলাই দেবশর্মার ধারাবাহিক : ‘উপাধ্যায় ব্রহ্মবান্ধব’ এবং ঝাড়ুদার রচিত ‘হিন্দুস্থানের পাহারাওয়ালা’।
সপ্তম পাতায়, ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’ পর্যায়ে রয়েছে মিসেস এম রহমানের : ‘পাঁচ মিশালী’।
অষ্টম ও নবম পাতায় রয়েছে নিয়মিত বিভাগ : ‘দেশের খবর’।
দশম পৃষ্ঠায় ‘পরদেশী-পঞ্জী’ ও ‘মুসলিম জাহান’।
দশম, একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন।
(২১) একবিংশতম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮শে কার্তিক ১৩২৯), মঙ্গলবার।
এই সংখ্যার সারথি ছিলেন অমরেশ কাঞ্জিলাল। সংখ্যাটি জুড়ে রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন। ‘তোমার পণ কী?’ শিরোনামের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে : ‘ভীষণ দুর্দিন। শত্রুরা একবার শেষ চেষ্টা করিতেছে। দেশে দেশে দানবরাজেরা ভীষণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইয়াছে। যুগবাণীর কণ্ঠ রোধ করিয়া ফেলিবার জন্য তাহাদের রক্তাক্ত নখর প্রসারিত।…একে একে সেনাপতি সরিয়া যাইতেছে। অন্ধকার, ওরে চারিদিকে অন্ধকার।… ওরে চারিদিকে মোর/একি কারাগার ঘোর/ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা আঘাতে আঘাত কর।’
(২২) দ্বাবিংশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ১৭ই নভেম্বর (১লা অগ্রহায়ণ ১৩২৯), শুক্রবার।
সংখ্যাটির সারথি, অমরেশ কাঞ্জিলাল; এই সময়ে অনন্যোপায় কবি নজরুলের পলাতক অবস্থায়, পত্রিকা চালু রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি, তবে সম্পাদকীয় লিখেছেন কবি নজরুল নিজেই।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় আছে পূর্ববৎ ‘রবীন্দ্র-আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…) এবং সম্পাদকীয় : ’আমার ধর্ম’। এই পৃষ্ঠাতেই আছে আরও দুটি সংবাদ। তা হলো :
১. “গত ৮ই নভেম্বর ‘সকালবেলা’ লালবাজারের ‘গ্রহ’ ধূমকেতু কেন্দ্রে উদয় হয়েছিলেন। একই সময়ে আর একদল প্রেসেও দেখা দিয়েছিলেন। তাঁরা কাজী নজরুল ইসলামকে চাইছিলেন। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থাকায় ‘দেওয়ালী’র (পঞ্চদশ সংখ্যা) এবং ‘আগমনী’র (দ্বাদশ সংখ্যা) সব কাগজ, চিঠিপত্র ও হিসেব ইত্যাদি নিয়ে যান। সবে ‘গ্রহণ’ লাগা শুরু হলো।”
মুদ্রিত দ্বিতীয় সংবাদভাষ্যটি থেকে পত্রিকা-স্বত্বাধিকারীর কাগজ চালানোর পথে বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে অবহিত হওয়া যায়। সংবাদে বলা হয়েছে : “গত ৮ই তারিখের ধূমকেতুর ‘গ্রহণ’-এর ফলে অফিসের খাতাপত্র অনেক বেহাত হ’য়ে যাওয়ায় আমাদিগকে অনেক অসুবিধার মধ্যে কাজ চালাতে হচ্ছে। কাগজ পাঠান এবং চিঠিপত্র ইত্যাদি ব্যাপারে গ্রাহকগণের হয়ত অনেককেই কিছু না কিছু অসুবিধা ভোগ করতে হয়েছে এবং হচ্ছেও।”
‘আমার ধর্ম’ শিরোনামের সম্পাদকীয়তে কবি লিখেছেন : “দেশে একটা কথা উঠেছে যে, মুক্তির জন্যে যে আন্দোলন আমরা চালাচ্ছি, আমাদের তা ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে নিতে হবে।… আমরা শুনতে পাচ্ছি যে আমাদের ধর্মের ভেতর দিয়ে চলতে হবে। কিসের জন্যে আমাদের ধর্মকে আশ্রয় করতে হবে ? ওরে শূদ্র এইবার ওঠ। উঠে বল্ ‘আমি ব্রাহ্মণ নই যে ধর্মের ব্যাখ্যা নিয়ে পড়ে থাকব। আমি আর তোমার মুখের দিকে চেয়ে থাকব না। আমায় বাঁচতে হবে যেমন করেই হোক আমি বাঁচব।’ ওরে পতিত, ওরে চির লাঞ্ছিত তুই দেখ সারা বিশ্ব তোকে ধ্বংস করতে উদ্যত।…
আমার আবার ধর্ম কি ? যার ঘরে বসে কথা কইবার অধিকার নেই, দুপুর রাতে দুঃস্বপ্নে যার ঘুম ভেঙ্গে যায়, অত্যাচারকে চোখ রাঙ্গাবার যার শক্তি নেই; তার আবার ধর্ম কি ?… যারা তোকে ধর্ম শিখিয়েছে তারা কি শত্রু এলে বেদ নিয়ে পড়ে থাকতো ? তারা কি দুষমন এলে কোরআন পড়তে ব্যস্ত থাকতো ? তাদের রণ কোলাহলে বেদ মন্ত্র ডুবে যেত, দুশমনের খুনে তাদের মসজিদের ধাপ লাল হয়ে যেত।” তাই কবি মনে করেন : ‘বাঁচাটাই মানুষের ধর্ম।’
তৃতীয় পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে কবি নজরুলের কবিতা : ‘অদর্শনের কৈফিয়ৎ।’ ঢাকার বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত, নজরুল-রচনাবলীর প্রথম খণ্ডের ‘সংযোজিত’ অংশে, এই কবিতাটিকে, প্যাটার্ন পরিবর্তন করে প্রকাশ করা হয়েছে; কবিতাটির সঙ্গে কবির নাম ছাপা হয়নি। কবি-সম্পাদক কেন পত্রিকা-অফিসে নেই, কেন তিনি লুকিয়ে আছেন, তার কৈফিয়ত দিয়েছেন তিনি তাঁর এই কবিতায়। তবে তিনি জনগণের ওপর আস্থা রেখেছেন এইভাবে : ‘এই যে কসুর অসুর যারা মাফ দেবে না ভাই,/ তোমরা শুধুই সদয় থেকো, কুছ পরোয়া নাই।’
চতুর্থ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে কাজী আবদুল মতলেবের কবিতা : ‘নগ্ন কাবা’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় ‘সন্ধ্যা-প্রদীপ’ পর্যায়ে, ‘বোনেদের কথা’ লিখেছেন ননীবালা দেবী; চারুশীলা মিত্র লিখেছেন : ‘নারীর সার্থকতা কিসে ?’
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে সরসীবালা বসুর কবিতা : ‘বন্দনা’;
সপ্তম পৃষ্ঠায় প্রভাময়ী মিত্রের কবিতা : ‘নিরঞ্জন’;
অষ্টম পৃষ্ঠায় রয়েছে নামহীন-রচয়িতার একটি লেখা ‘তুমি কেবল চাষের মালিক, গ্রাসের মালিক নয়।’ এর পাশেই রয়েছে লীলা মিত্রের কবিতা : ‘করাল কালী’।
নবম পৃষ্ঠায়, আছে দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘দাসত্ব’; এই পাতাতেই মুদ্রিত হয়েছে ‘দেশের খবর’।
দশম পৃষ্ঠায় আছে ‘পরদেশী পঞ্জী’;
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে শুধুই পুরনো বিজ্ঞাপন সম্ভার।
(২৩) ত্রয়োবিংশতম সংখ্যার কোনও সন্ধান মেলেনি।
(২৪) চতুর্বিশতম সংখ্যার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
(২৫) পঞ্চবিংশতম সংখ্যারও সন্ধান মেলেনি।
(২৬) ষড়বিংশতম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে, ১৯২২ সালের ১২ ডিসেম্বর (২৬শে অগ্রহায়ণ ১৩২৯), মঙ্গলবার।
সংখ্যাটির প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের ব্যথার দান, অগ্নি-বীণা এবং ‘রাজবন্দীর চিঠি’র বিজ্ঞাপন। ‘রাজবন্দীর চিঠি’র বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে: “‘রাজন্দীর চিঠি’ কবির বর্তমান জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন।”
দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটাই পুরনো বিজ্ঞাপনে ঠাসা। এই সংখ্যায় কবি নজরুলের কোনও লেখা ছাপা হয়নি। এই সংখ্যার সম্পাদকীয় লিখেছেন সারথি অমরেশ কাঞ্জিলাল। এছাড়া রয়েছে অমরেশ কাঞ্জিলালের লেখা কবিতা : ‘মন বুঝানো’; ঝাড়ুদার লিখেছেন : ‘এপিঠ ওপিঠ’। বিভিন্ন পৃষ্ঠাতে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন জনের রচনা শক্তিবালা দেবীর কবিতা : ‘বোনের দাবী’ (পৃ.৫), স্বামী প্রজ্ঞানন্দ সরস্বতীর ধারাবাহিক রচনা : ‘সরলতা ও দুর্ব্বলতা’ (পৃ.৬-৭)।
সপ্তম পৃষ্ঠায় আছে নাম অনুল্লিখিত লেখকের প্রবন্ধ ও কবিতা। প্রবন্ধ : ‘নপুংসকের ন্যাকামি’, কবিতা : ‘বহ্ন্যুৎসব’।
অষ্টম পৃষ্ঠায় রয়েছে যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য্যের দীর্ঘ কবিতা : ‘হর্ষ হিল্লোল’।
নবম পৃষ্ঠায়, নিয়মিত কলাম : ‘দেশের খবর’, লিখেছেন পত্রিকার বর্তমান সারথি।
দশম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে : ‘পরদেশী-পঞ্জী’ এবং ‘মুসলিম-জাহান’-এর সংবাদ।
একাদশ পৃষ্ঠায় আছে নতুন বিজ্ঞাপন ধূমকেতুর বর্তমান সারথি, অমরেশ কাঞ্জিলালের বই-সমূহ বিক্রির বিজ্ঞাপন। গুদাম পরিষ্কার করার আশু-প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ তুলে, এইসব বই ‘মাটির দরে’ বিক্রি করা হবে বলে বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
দ্বাদশ পৃষ্ঠায় রয়েছে ধূমকেতুর নিয়মাবলী এবং ‘অল ইন্ডিয়া একজিবিশন’-এর বিজ্ঞাপন।
(২৭) সপ্তবিংশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৫ই ডিসেম্বর-১৯২২ (২৯শে অগ্রহায়ণ-১৩২৯), শুক্রবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় আছে, আগের সংখ্যায় প্রকাশিত নজরুল ইসলামের তিনটি বইয়ের পুনরায় বিজ্ঞাপন। এবং অন্যান্য বইয়ের সঙ্গে, ধূমকেতু প্রকাশিত : ‘খাট্টা মিঠা টিপ্পনী’।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠার সবটাই বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় ‘রবীন্দ্র-আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…) এবং শিরোনামহীন সম্পাদকীয়।
চতুর্থ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে জিতেন্দ্রনাথ লাহিড়ীর কবিতা : ‘রণ ভেরী’ এবং বলাই দেবশর্মার : ‘প্রাণের সাহিত্য’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় আছে রাধাকান্ত গোস্বামীর কবিতা : ‘নির্ভীক’ এবং মিসেস এ. রহমানের প্রবন্ধ : ‘শান্তি ও শক্তি’।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে, শিবরাম চক্রবর্তীর কবিতা : ‘জমিদারের রথ’; জিতেন্দ্রনাথ লাহিড়ীর প্রবন্ধ : ‘নারী সমস্যা’ এবং শৈলেন্দ্রকুমার মল্লিক রচিত : ‘সাগর বাঁশী’।
সপ্তম পৃষ্ঠায় ‘সানাইয়ের পোঁ’ পর্যায়ে রয়েছে ‘ইতিহাসের এক পৃষ্ঠা’ (লেখাটি বাঙ্গলার কথা গ্রন্থ থেকে সংকলিত)।
অষ্টম ও নবম পৃষ্ঠায় আছে নিয়মিত বিভাগ : ‘দেশের খবর’ এবং ‘পরদেশী-পঞ্জী’।
দশম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে, দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক প্রবন্ধ : ‘দাসত্ব’।
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে পুরোটাই বিজ্ঞাপন। [সপ্তবিংশতম সংখ্যায় কবি নজরুলের কোনও লেখা নেই।]
(২৮) অষ্টবিংশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ২০শে ডিসেম্বর (৫ই পৌষ-১৩২৯), বুধবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে পত্রিকার সূচিপত্র এবং নজরুল ইসলামের বইয়ের বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটাই পুরনো বিজ্ঞাপনে ঠাসা।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় আছে : ‘রবীন্দ্র আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…); রয়েছে ‘লাঞ্ছিত’ শিরোনামে কবি নজরুলের লেখা সম্পাদকীয়; এবং শৈলেন্দ্র কুমার মল্লিকের কবিতা : ‘দুঃখের কানাই।’ সম্পাদকীয়তে কবি সমাজের তথা ভারতবর্ষের লাঞ্ছিত মানুষের কথা ভেবেছেন বলেছেন। জানিয়েছেন কীভাবে সমাজের উচ্চবিত্তরা, নিম্নবিত্তের মানুষের উপর নিরন্তর শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে, সে সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা : “মানুষ চিরকাল মানুষের উপর যে অত্যাচার করিয়া আসিতেছে, তাহা পশুদের পক্ষে অসম্ভব।…কেহ ধর্মের নামে, কেহবা সমাজ, শান্তি ও শৃঙ্খলার নামে কোটি কোটি জীবনকে দাসত্ব শৃঙ্খলে বদ্ধ করিতে লাগিল। ফলে আজ সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার হইয়া ইউরোপীয়গণ এশিয়া ও আফ্রিকার ধর্ম ও সমাজ শাসন করিতেছে।…আবার আমাদের সমাজে কতকাল ধরিয়া মুষ্টিমেয় তথাকথিত উচ্চ জাতীয় নিম্নজাতির ধর্ম ও সমাজ রক্ষা করিয়া তাহাদের পরলোকে সম্পত্তি করিতেছে।…‘স্বরাজের আশায়’ ‘বাবুর দল’ ‘মহাত্মার কথায়’ সায় দিয়া যাইতে লাগিল। কিন্তু অস্পৃশ্যতা আর নীচ জাতির উন্নতির কথায় বিশেষ কান দিল না…. নিম্নজাতির অধিকাংশ লোক―যেখানে ছিল, বাবুর সমাজ তাহাদিগকে সেইখানেই চাপিয়া রাখিল।…
কে আছো, পতিত, লাঞ্ছিত, কে আছো দীন, হীন, ঘৃণিত, এসো। যে শক্তি বলে তোমার ভাইরা ফরাসীর হাজার বছরের অত্যাচার ও আভিজাত্য দুইদিনে লোপ করিয়া দিয়াছিল, যে বন্যায় সাইবেরিয়ার লক্ষ মন্দির সন্ত্রাসদাতা দুর্ধর্ষ সুপ্রতিষ্ঠিত শাসন ভাসিয়া গিয়াছিল, যে শক্তিময়ীর বিকট হাস্য সমস্ত জগতের অত্যাচারকে উপহাস করিয়া ধনগর্বিতদের গৃহে গৃহে ঘুরিয়া বেড়াইতেছে সেই শক্তিময়ী সেই সর্বনাশের বন্যা লইয়া তোমার দুয়ারে উপস্থিত। ওঠো, ভাই, মাকে বরণ করিয়া লও।”
চতুর্র্থ পৃষ্ঠায় আছে ‘পাঞ্জাব সিংহ’, জিতেন্দ্রনাথ লাহিড়ীর কবিতা : ‘বোধন’;
পঞ্চম পৃষ্ঠায় রয়েছে মনিমোহন সাহিত্যাচার্য্যের ধারাবাহিক রচনা : ‘উচিত বক্তা’।
ষষ্ঠ ও সপ্তম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে প্রবোধচন্দ্র সেনের প্রবন্ধ : ‘সমস্যা কি’ এবং অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের কবিতা : ‘উন্মাদ’।
অষ্টম ও নবম পৃষ্ঠায় রয়েছে দুর্গামোহন মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক রচনা : ‘দাসত্ব’; আর ‘দেশের খবর’।
দশম পৃষ্ঠায় ‘পরদেশী পঞ্জী’ এবং ‘মুসলিম জাহান’-এর সংবাদ-ভাষ্য।
একাদশ ও দ্বাদশ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে শুধুই পুরনো বিজ্ঞাপন।
(২৯) ঊনত্রিংশ সংখ্যাটির প্রকাশকাল ২৩ ডিসেম্বর ১৯২২ (৮ পৌষ-১৩২৯), শনিবার।
প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে, সূচিপত্র এবং নজরুলের বইয়ের বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে সব পুরনো বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায়, ‘ভাববার কথা’ শিরোনামে রয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা সম্পাদকীয়; আছে রবীন্দ্রনাথের ‘আশীর্বাণী’র হাতের লেখার প্রতিলিপি (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…)।
চতুর্থ পৃষ্ঠায় আছে শৈলেন্দ্রকুমার মল্লিকের কবিতা : ‘আজ’; রেবতীমোহন বর্মনের : ‘জীবন সৃষ্টি’ এবং শক্তিবালার কবিতা : ‘বেদুইন’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে মনিমোহন সাহিত্যাচার্য্যের ধারাবাহিক : ’উচিত বক্তা’র দ্বিতীয় পর্ব; এবং শিবরাম চক্রবর্তীর কবিতা : ‘জমিদারের রথ’-এর শেষাংশ।
ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় রয়েছে মিসেস এম. রহমানের প্রবন্ধ : ‘শান্তি ও শক্তি’র শেষাংশ এবং গান : ‘বঝড়ের রাতি (অচিন পাখী)’।
সপ্তম পৃষ্ঠায় আছে মুজফ্ফর আহমদের ধারাবাহিক রচনা : ‘গান্ধী চরিত’-এর শেষাংশ।
অষ্টম পৃষ্ঠা জুড়ে আছে লাবণ্যপ্রভা মিত্রের দীর্ঘ কবিতা : ‘কাঙ্গালের আত্মকথা’।
নবম পৃষ্ঠার বিষয় : ক. শৈলজা মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত রচনা : ‘শক্তি সাধক’ এবং খ. বৈদেশিক খবরাখবর : ‘পরদেশী-পঞ্জী’ ও গ. ‘দেশের কথা’ আর শেষ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে ‘মুসলিম জাহান’।
(৩০) ত্রিংশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর (১২ই পৌষ ১৩২৯), বুধবার।
প্রথম ও দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটাই জুড়ে রয়েছে পুরনো বিজ্ঞাপন।
তৃতীয় পৃষ্ঠায় আছে ‘রবীন্দ্র-আশীর্বাণী’ (আয় চলে আয় রে ধূমকেতু…) এবং কাজী নজরুলের লেখা ‘মুশকিল’ শিরোনামের সম্পাদকীয়। সম্পাদকীয়তে কবি লিখেছেন : “আমাদের নিরাশায় মুষড়ে পড়ে থাকার সময় নেই, সবাইকে মুক্তির তীব্র আকাক্সক্ষা নিয়ে জাগতে হবে, গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে। আমাদের অন্তরে, বাহিরে, সমাজে ধর্মে রাষ্ট্রে মৃত্যুর বিষবীজ ছড়িয়ে আছে সে করাল কবল থেকে আমাদের রক্ষা পেতেই হবে আর তার জন্যে সর্বাগ্রে চাই ‘স্বরাজ’।” ―এখানেও কবি সরাসরি ‘স্বরাজের’ কথাই বলেছেন। কিন্তু তার জন্যে দেশের ‘জনগণ’কে তো আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে। লাঞ্ছিত জনগণের হয়ে, অগ্রগামী হয়ে কে দেবেন তাদের নেতৃত্ব, সেই সংশয় মনে রেখেই কবি বলেছেন : ‘বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?’ তাই বলছিলাম, ‘মুশকিল’।
চতুর্থ পৃষ্ঠায় আছে অজয়কুমার ভট্টাচার্য্যের : ‘ভাঙ্গা-গড়া’।
পঞ্চম পৃষ্ঠায় রয়েছে, জিতেন্দ্রনাথ লাহিড়ীর কবিতা : ‘বীর’; আর নাম অনুল্লিখিত মুজফ্ফর আহমদের ধারাবাহিক রচনা : ‘গান্ধী চরিত’-এর পুনর্মুদ্রণ (৫৬); এখানেই ছাপা হয়েছে শৈলেন্দ্রকুমার মল্লিকের রচনা : ‘রাখ রাখ। তোর খেলা রাখ।’
সপ্তম পৃষ্ঠাতেও মুদ্রিত হয়েছে শৈলেন্দ্রকুমার মল্লিকের আরেকটি কবিতা : ‘ভাবে-কাজে’।
অষ্টম পৃষ্ঠায়, ‘সানাইয়ের পোঁ’ পর্যায়ে রয়েছে, নাম-অনুল্লেখিত লেখকের রচনা : ‘দারিদ্র্য-বিলাস’।
নবম ও দশম পৃষ্ঠায় আছে ‘দেশের খবর’ এবং ‘পরদেশী-পঞ্জী’। বাকি দুই পৃষ্ঠায় রয়েছে শুধু বিজ্ঞাপন।
(৩১) একত্রিংশ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২৩ সালের ৫ জানুয়ারি (২১শে পৌষ ১৩২৯), শুক্রবার।
এই সংখ্যারও সম্পাদকীয় লিখেছেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই। ‘আজ চাই কি?’ শিরোনামের সম্পাদকীয়তে কবি স্বভাবগতভাবেই কিছু হিন্দু-পৌরাণিক তথ্যকে আশ্রয় করেছেন। তিনি ভারতবর্ষের মতো এক ‘পোড়া দেশে মড়ার শ্মশানভূমিতে’ চান : ‘সারা ভারত জোড়া একটা বিরাট ওলটপালট।’ তিনি চান : ‘অবিচার কদাচারে ভরা এই বিলাস আলয়ের কেলিকুঞ্জে যমরাজ তাঁর যত সব হিংস্র শৃগাল-কুকুর-শকুনি-গৃধিনীকে একেবারে বলগা আলগা দিয়ে লেলিয়ে’ দিক। তিনি চেয়েছেন : ‘ভরাট জমাট জীবনের সহজ স্বচ্ছন্দ সতেজ গতি ও অভিব্যক্তি।’ তিনি মনে করেন : ‘সত্য ও মুক্তির জয়-রথের যাত্রাপথ রোধ করতে পারে, এমন কোন যক্ষ-দক্ষ-দানবের সাধ্য নেই।’ তাই তিনি বলেন : ‘আজ প্রলয়ের দেবতা ধ্বংসের নেশায় যতই মত্ত হন ততই মঙ্গল। আজ রুষে আসুক কালবৈশাখী, রণ-উন্মাদ ঝঞ্ঝা রক্ত পাথারের অবারিত স্রোতে, অযুত ফণা বিস্তার করে আজ সব অগ্নিবাণ নাগ-নাগিনী বিপুল উল্লাসে বিচরণ করুক। এই প্রলয় পয়োধি জলে মিথ্যার সৌধ শীর্ষ ডুবে যাক।… তবেই আবার অনন্ত জীবনের সহস্রদলের উপর বেদ-উদ্ধারণ নারায়ণের আবির্ভাব হবে।’
(৩২) দ্বাত্রিংশতম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯২৩ সালের ২৭শে জানুয়ারি (১৩ই মাঘ ১৩২৯), শনিবার।
ধূমকেতুর মুখ্য সম্পাদক এবং কবি ও লেখক কাজী নজরুল ইসলামকে ব্রিটিশ সরকার এক বছরের জন্য কারাদণ্ড দিয়েছেন। সরকারের এই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করবার লক্ষ্যে, ধূমকেতু পত্রিকার এই ৩২তম সংখ্যাটিকে, ‘বিশেষ নজরুল সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান সংখ্যার সারথি, অমরেশ কাঞ্জিলালের পরিবেশিত একটি বিশেষ সংবাদভাষ্যে তা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়। তিনি জানিয়েছেন : ‘ধূমকেতুর সারথি, প্রতিষ্ঠাতা, উদ্দাম উন্মাদ শ্রীমান্ কাজি নজরুল ইসলাম বুরোক্রেসীর ব্যবস্থায় রাজদ্রোহ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে, এক বছরের জন্য কঠিন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। কাজি নজরুল সম্বন্ধে, অন্য সংবাদপত্রে কিছু কিছু সংবাদ বেরিয়েছে, কিন্তু আমরা তাঁর মোকদ্দমায় ব্যস্ত থাকায় ধূমকেতু বা’র কর্তে না পারায়, বিশেষতঃ মোকদ্দমার ফলাফল না জানা পর্যন্ত কিছু বলা সঙ্গত নয় বিবেচনা ক’রে বিশেষ কোনও কথা বলি নি। আজ কয়েক দিনের অদর্শনের পর মেঘ, বাদল, বর্ষা, বজ্র ফুঁড়ে ধূমকেতু আবার আপনাদের সামনে উদয় হ’ল শুধু তাঁরই কথাই নিয়ে! কাজি নজরুলকে চিনলে ধূমকেতুকে চেনবার সুযোগ পাবেন। ধূমকেতুর জন্ম কি জন্য তা ধূমকেতুর প্রথম সংখ্যাতেই বলা হয়েছে, নজরুলের জীবন ঠিক তারই অনুরূপ ক’রে বিধাতা গড়ে দিয়েছেন।’
এই সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে সূচিপত্র এবং নজরুল ইসলামের তিনটি গ্রন্থের বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটি পুরনো বিজ্ঞাপনে পূর্ণ।
তৃতীয় ও চতুর্থ পৃষ্ঠায় কবি নজরুলের রচিত ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ লেখাটির পাশেই রয়েছে’ কবি-স্বাক্ষরিত তাঁরই একটি ছবি। প্রেসিডেন্সি জেলে বসে, ১৯২৩ সালের ৭ই জানুয়ারি, রবিবার, দুপুরবেলায়, কবি লিখেছেন তাঁর অবিস্মরণীয় রচনা : ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। রচনাটির নিচে, এই সংখ্যার সম্পাদক জানিয়েছেন : পুস্তিকাকারে লেখাটি প্রকাশ করা হয়েছে। ‘হাতে হাতে এক আনার এবং ডাকে দেড় আনার টিকিট পাঠাইলে এটি পাওয়া যাবে।’ উল্লিখিত রচনাটির শেষের দিকে কবি লিখেছেন :
‘কারাগারে বন্দিনী মায়ের আমার আঁধার শান্ত কোল এ অকৃতী পুত্রকে ডাক দিয়েছে। পরাধীনা অনাথিনী জননীর বুকে, এ হতভাগ্যের স্থান হবে কি না জানিনা, যদি হয় বিচারককে অশ্রুসিক্ত ধন্যবাদ দিব।’
এর চতুর্থ পৃষ্ঠাতেই রয়েছে, কবি নজরুলের নাম―অনুল্লিখিত আর একটি কবিতা : ‘আত্মকথা’। এই কবিতাটির প্যাটার্ন ভেঙে, ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলীতে সংকলিত হয়েছে। শেষ স্তবকে কবি লিখেছেন :
‘ভুলব না ভাই তোদের কভু
মনে প’লেই আসব ধেয়ে; একঘেয়ে ঐ নিয়ম দাঁড়ায় বাঁধিস নে ভাই রাখছি গেয়ে।’
পঞ্চম পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে ‘কাজী নজরুল’ শিরোনামে, লেখকের নাম অনুল্লেখিত একটি বিশেষ রচনা; এছাড়া, ধূমকেতু প্রকাশের সময় যে সব আশীর্বাণী ও শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশিত মুদ্রিত হয়েছিল, সেগুলোও এখানে সংকলিত হয়েছে।
ষষ্ঠ ও সপ্তম পৃষ্ঠায় রয়েছে কবির নাম অনুল্লিখিত কবিতা―১. ‘কারাবরণ’ ২. ‘সাগর-কন্যা’; রয়েছে আরও নামোল্লেখহীন রচনা : ‘নজরুলের স্বদেশ প্রেম’।
আছে নিয়মিত বিভাগ (অষ্টম ও নবম: পৃ.): ‘দেশের খবর’ ও ‘পরদেশী-পঞ্জী’। শেষ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘মুসলিম জাহান’-এর ‘সংবাদ-সূক্তি’ আর ‘নিক্তি-নিকষ’ পর্যায়ে যতীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ‘হাতে খড়ি’।
প্রায় দশ বছর পরে ধূমকেতু নবপর্যায়ে আত্মপ্রকাশ করে। কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ ভৌমিকের সম্পাদনায়, প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালের ২২ আগস্ট (১৩৩৮)। সহ সম্পাদক ছিলেন চণ্ডীচরণ গুপ্ত; আর কবি নজরুল নিজেই লিখে দিয়েছিলেন ‘ধূমকেতুর আদি উদয়-স্মৃতি’ শিরোনামে এই সংখ্যার ‘সম্পাদকীয়’। কবি যেভাবে তাঁর স্মৃতি-চারণা করেছেন, তার সার-কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়, পাঠকের ‘মর্মে আসি’ হানে :
‘প্রায় দশ বছর আগের কথা। স্মৃতি মঞ্জুষায় সে কথা হয়ত আজ ধূলি মলিন হইয়া গিয়াছে।…. ১৩২৯ সাল, শ্রাবণ মাস’―
‘তিমির ভালে অলক্ষণের তিলক রেখা’র মতই ধূমকেতুর প্রথম উদয় হয়।… ধূমকেতু কল্যাণ আনিয়াছিল কি না জানিনা, সে অকল্যাণের প্রতীক হইয়াই আসিয়াছিল।…
ধূমকেতু তাহাদেরি বাণী লইয়া আসিয়াছিল যাহাদের গৃহী আশ্রয় দিতে ভয় পায়, গহন বনে ব্যাঘ্র যাহাদের পথ দেখায়, ফণী তাহার মাথার মণি জ্বালাইয়া যাহাদের পথের দিশারি হয়, পিতামাতার স্নেহ যাহাদের দেখিয়া ভয়ে তুহীন-শীতল হইয়া যায়।’ তখনও কিন্তু কবির মনের মধ্যে ধূমকেতুর স্বপ্ন দেদীপ্যমান : ‘কোন্ ক্রমে ধূমকেতুর উদয় হইবে জানিনা, তবু আশা আছে যে ধূর্জটির জটাজুটে ধূমকেতু ময়ূর পাখা, সেই ধূর্জটির রুদ্র আশীর্বাদ সে লাভ করিবে, এ যুগের প্রলয়েশ তাহাকে নব পথে চালিত করিবে। আমি ইহার অগ্নিশিখায় সমিধ যোগাইব মাত্র।’
সহায়ক পঞ্জি :
গ্রন্থ :
১. নজরুলের ধূমকেতু : সেলিনা বাহার জামান সংগৃহীত ও সম্পাদিত, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ: ২০০১;
দ্বিতীয় প্রকাশ: জুন ২০১৩।
২. ধূমকেতু : কাজী নজরুল ইসলাম। ধূমকেতুর সম্পাদকীয় সমূহের সংকলন। যে-সব সম্পাদকীয় সেলিনা বাহার জামান সংকলিত ধূমকেতুতে নেই, সেইসব কলকাতার ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে’ রক্ষিত কয়েকটি সংখ্যা থেকে উদ্ধার করে কলকাতার ‘নবজাতক প্রকাশনে’র স্বত্বাধিকারী মজহারুল ইসলাম প্রকাশ করেছেন। ভূমিকা : মুজফ্ফর আহমদ।
নবজাতক প্রকাশন, কলকাতা, তৃতীয় সংস্করণ, ৬ আশ্বিন, ১৪০৪।
৩. নজরুল কথা : শান্তিপদ সিংহ, নবজাতক প্রকাশন, কলকাতা। দ্বিতীয় প্রকাশ: ২৬ মে, ১৯৯৮।
৪. সাময়িকপত্রে জীবন ও জনমত, মুস্তাফা নূর উল ইসলাম, বাংলা একাডেমি, ঢাকা। ফেব্রুয়ারি ১৯৭৭।
৫. কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা : মুজফ্ফর আহমদ, মুক্তধারা, ঢাকা। বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশ, অক্টোবর ১৯৭৩।
৬. নজরুল জীবনী : অরুণকুমার বসু, প্রথম সংস্করণ: জানুয়ারি, ২০০০। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা। প্রথম ‘আনন্দ’-সংস্করণ, ডিসেম্বর ২০১৬, কলকাতা।
৭. সমকালে নজরুল ইসলাম : (১৯২০-১৯৫০), মুস্তাফা নূর উল ইসলাম। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা। প্র: প্র: নভেম্বর, ১৯৮৩।
৮. কাজী নজরুল ইসলামের ধূমকেতু : অরূপ তালুকদার সম্পাদিত, পরিচয় প্রকাশনী, বরিশাল, বৈশাখী পূর্ণিমা, ১৩৭৭।
৯. অজানা নজরুল : শেখ দরবার আলম, মল্লিক ব্রাদার্স, ঢাকা, প্র.প্র. ১৭ জুলাই, ১৯৮৮।
১০. কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র, প্রথম খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা, প্র.প্র.২০০১; দ্বিতীয় সংস্করণ: মার্চ ২০০৫।
১১. নজরুল রচনাবলী, প্রথম খণ্ড, আবদুল কাদির সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, প্র.সংস্করণ ২৫ মে, ১৯৬৬; পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫; প্রথম পুনর্মুদ্রণ: জুন ১৯৮৩।
১২. পত্র-পত্রিকার আলোকে নজরুল : সুধীরকুমার মিত্র; ডি.এম. লাইব্রেরী, কলকাতা, প্র. প্র. ৫ জানুয়ারি, ১৯৯২।
১৩. নজরুল অন্বেষা: রাজিয়া সুলতানা; প্রথম খণ্ড, মুখদুমী অ্যান্ড আসানউল্লাহ লাইব্রেরী, ঢাকা। প্রথম প্রকাশ: ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৭৬ ১
১৪. নজরুল শতবর্ষের শ্রদ্ধার্ঘ্য : ‘পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’ এবং ‘নেতাজী ইন্সটিটিউট ফর এশিয়ান স্টাডিজ’, কলকাতা। প্রথম প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি, ১৯৯৯।
১৫. চির উন্নত শির : মানিক মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত : ‘সারা বাংলা নজরুল শতবর্ষ কমিটি’, কলকাতা। প্র.প্র. ২৯ আগষ্ট, ২০২১।
পত্রিকা
১. নন্দন, সৈয়দ শাহেদুল্লাহ সম্পাদিত, নজরুল বিশেষ সংখ্যা, কার্তিক ১৩৮৩, নভেম্বর ১৯৭৬।
২. পশ্চিমবঙ্গ; সুনীলকুমার সেনগুপ্ত সম্পাদিত, নজরুল সংখ্যা, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ২৬মে, ১৯৭৬, ১১জৈষ্ঠ ১৩৮৫।
৩. পশ্চিমবঙ্গ : কাজী নজরুল ইসলাম শতবর্ষ স্মরণ, ১৪০৬; অজিত মণ্ডল সম্পাদিত, পশ্চিমবঙ্গ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, বর্ষ:৩২, সংখ্যা ৪৬-৪৯; ২৮শে মে; ৪ঠা জুন, ১১ই জুন ও ১৮ই জুন ১৯৯৯।
৪. নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা, চতুর্থ সংখ্যা, জৈষ্ঠ্য ১৩৯৩, ঢাকা।
৫. নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা, অষ্টম সংকলন, ভাদ্র ১৩৯৫, ঢাকা।
৬. নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা, মনিরুজ্জামান সম্পাদিত, দ্বাদশ সংকলন, জৈষ্ঠ্য ১৩৯৮, ঢাকা।
৭. নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা, প্রথম সংকলন, জৈষ্ঠ্য ১৩৯২, ঢাকা।
৮. নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা, তৃতীয় সংখ্যা, ফাল্গুন ১৩৯২, ঢাকা।
৯. সচিত্র বাংলাদেশ, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, তথ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা, ১৬ই জুন ২০১৪, জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় ১৪২১।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক।



