আর্কাইভকবিতা

গুচ্ছকবিতা : জুয়েল মাজহার

দারু-বিপণির ঝাঁপ

ভাবি, দীর্ঘ একটা ছুটি নিয়ে দূরে চলে যাব

ঘাসের আড়ালপথ ধরে

বহুকাল একা হাঁটব পথ

    ―নাম ধরে ডাকব নিজেকে

আমার পালিয়ে-যাওয়া দেহ

অভিমানী রক্ত, হাড়মাঁস

খুঁজে নেব অতিজীব-জন্তুর ডেরায়

আধা মন, আধা দেহ নিয়ে

একাকী বেড়াতে যাব শীতে

   ―মৃতদের হাড়ের বাগানে

তারা বলবে  ফিসফিস স্বরে :

এলে যদি, তবে রেখে যাও

    এইখানে দেহ-অভিধান

—————————-

২.

দ্ইুশত হাড়ে মধুঘুম

নিয়ে সাঁতরাই কাচহ্রদে

আমার ভেতরে কত আমি

মনের ভেতরে গুম্ফায়

বসে থাকে ধ্যানাসনে―ঠায়!

টাকাকড়ি কিছু নেই হাতে!

তাই একা বসে বসে ভাবি

শুঁড়িখানা থেকে, পিপে থেকে

চুরি করব সিঁদ কেটে ঢুকে

সংসার-কফিনে বসে মদ

দেহ-নিংড়ে-বানানো আরক

নিজেকে না দিয়ে বসে খাব

ও রজনী, মদেশ্বরী

দারু-বিপণির ঝাঁপ কেন

এখনও খোলেনি, তুমি জানো ?


প্রশ্ন আর পাথরের ভার

বলছি কৃতাঞ্জলিপুটে

আমার বিচিত্র রথ দগ্ধ হয়েছে

ভেবেছি, তোমাকে কিছু প্রশ্ন পাঠাব

          প্রশ্নগুলো জগদ্দল, ভারী

হাওয়া বলছে―

এত ভারী প্রশ্ন তুমি বয়ে নিয়ে যেতে পারবে না

তোমার শহর সে-ও অনেক যোজনপথ দূরে!

        কী করে প্রশ্ন আমি পাঠাব তাহলে ?

আমার সকল রথ দগ্ধ হয়েছে

আমার সকল পথ ঢেকে গেছে আগুনে, হিংসায়

আধা-কানা আমার দু চোখ―

বুকের হাপরটিও কবে থেকে দমহারা

      ―তবু কেন করে ডিব ডিব!

পুরাণে সহস্রবাহু কীর্তবীর্য রাজা যেরকম

হরণ করেছিলেন অপরের হোমধেনুটিকে

কারা যেন সেইভাবে আমার সকল কিছু

              অগোচরে হরণ করেছে

বৈদূর্য পর্বত থেকে পয়োষ্ণী নদীর দিকে

                যে রকম পাথর গড়ায়

আমারও মনের দিকে আসছে গড়িয়ে

ভারী আর কালো-কালো প্রশ্ন ও পাথর

আমার সামনে শুধু দুরারোহ উঞ্চা-উঞ্চা পথ

আমার সামনে এক ভয়াল রুধিরময় হ্রদ

যেই ভাবি,

পাঁচ নৌকা ভরে আমি তোমাকে পাঠাব

আমার জমানো সব প্রশ্ন ও পাথর

সেগুলোরও তলা ফাটছে―দেখি!

পঞ্চতরী ডুবে যাবে অশ্লেষায়, অন্ধকার জলে

                    ―ভাবি, এটাই নিয়তি

কৃতাঞ্জলিপুটে বলছি, আমি দমহীন

আমার বিচিত্র রথ দগ্ধ হয়েছে

এখন রুধিরময় হ্রদের কিনারে

প্রশ্ন নিয়ে সারা রাত অন্ধকারে একা বসে আছি


সার্কাস-তাঁবুতে বসি 

লেখাই হয় না আর এত স্বপ্ন আক্রমণ করে!

   ―আবদুল মান্নান সৈয়দ

১.

আর, আমা হেন অকৃতী অধমগণ ভবে

অকারণে প্রত্যহ

লিখিয়া চলিছে কত লেখাপত্রলেখা

    ―ভরিয়া তুলিছে ক্রমে নিখিলের অখিল ভাগাড়

আমাদের স্বমেহন, অ-মেহনজাত

রাশিরাশ লিখনসন্ততি

শূকরবৎসের ন্যায়

গোঁৎ-গোঁৎ করিতেছে ভবে

২.

ন তস্য প্রতিমা অস্তি

ইহারা কীটাণুকীট, তস্য-তস্য কীট;

কখনও কাহারও

কোলে তুলিবার কিংবা কোলে উঠিবার

              মতন ইহারা নহে বটে!

জানি, কদাপি ইহারা

পড়িবে না উঁচকপালে কাহারও নজরে!

এবং ফলত এই সব অনাহুত অক্ষরের কলি

                একাহ্নিক-আয়ু লয়ে বাঁচে

৩.

জানি আমি

ক্ষণকাল বাঁচিয়া থাকার পর,

বিস্মরণে, কালোজল-হ্রদে

ডুবিয়া মরিবে―সুনিশ্চয়!

৪.

পাঠক, ঈশ্বর তুমি

পাঠকিনী, তুমিও ঈশ্বরী

এইসব স্টিলবর্ন, লিখনসন্ততি-সমুখে

আসিয়া পড়িলে যদি তিষ্ঠ ক্ষণকাল

সার্কাস-তাঁবুতে বসি

নিখরচায় পাগলের খেল দ্যাখো, বাহে!

—————————

সচিত্রকরণ : রজত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button