হীরেমানিক : গার্গী রায়চৌধুরী

বিশেষ গল্পসংখ্যা ২০২২ : ভারতের গল্প
চাকরি জীবনের শুরুতে থাকতাম কলকাতার উত্তরে। মফস্সলের ছেলে আমি, পুরনো কলকাতার অলিগলি আর ওই বিশাল বড় বড় প্রাচীন বাড়ির আদিম রহস্যের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। ভাড়া থাকতাম অতীনদের পাড়ায় এক মস্ত আলো-আঁধারি বাড়ির একতলার একটা ঘরে। সেটা ছিল আমাদের চট করে বন্ধুত্ব হওয়ার বয়েস। পাড়ার চায়ের দোকানের তুমুল তর্কাতর্কির দিনগুলোতে কখন যেন অতীন আর বিমলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল আমার। অতীন ওই পাড়ারই, বিমলের বাড়ি ছিল বর্ধমানের এক গণ্ড গ্রামে, আমারই মতো ভাড়া থাকত ও। অতীনের ব্যবসা, বিমলের কর্পোরেট চাকরি, আমার স্কুল মাস্টারি আর ছুটির পর টিউশুনি, ঝামেলা কম নয় কারও তবু অভ্যেসের মতো হয়ে গিয়েছিল আমাদের দেখা হওয়া। অতীনদের ছাদে আমরা ছুটির দিনগুলোতে আড্ডায় বসতাম। সন্ধে সাতটা থেকে রাত দশটা এই ছিল আমাদের আড্ডার সময়। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে দম ফেলবার উপায় ছিল না।
অতীনরা ওদের নানা শরিকি কাকা জ্যেঠাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে বিশাল একটা বাড়িতে থাকত। তবে অতীনদের ভাগে ছিল মাত্র দুটো ঘর। একটাতে ও আর ওর বাবা আরেকটায় ওর মা আর বোন থাকত। ঘরের সামনের বারান্দার একফালিতে রান্নার ব্যবস্থা ছিল আর ওদের বাথরুম শেয়ার করতে হত আরও দুঘর জেঠা-কাকাদের সঙ্গে।
আমাদের আড্ডার জায়গা ছিল ওদের প্রকাণ্ড ছাদ। সেখানে দিনের বেলায় ভাগাভাগি চললেও রাতে সেসব ছিল না। অতীন ছাদের একটা দিকে প্রচুর গাছপালা লাগিয়েছিল, টবে। ওখানে আমরা আড্ডায় বসতাম। ওর ছিল গাছের নেশা। পরিবেশ নিয়ে বেশ পাগলামি ছিল। ছুটি পেলেই এলাকায় গাছ লাগানো, প্রকৃতি বাঁচাও সচেতনতা শিবির এইসব করে বেড়াত। ওর ছাদ-বাগানে বসে রাতের অন্ধকার-আলোছায়ায় মনে হতো আমরাও যেন ওই গাছপালার একটা অংশ। বাগানটা অতীন তো বটেই আমরাও খুব উপভোগ করতাম। কম পাওয়ারের একটা হলুদ আলো জ্বালানো থাকত আড্ডার সময়, জ্যোৎস্না থাকলে সেটাও আমরা নিভিয়ে রাখতাম।
বাগানটা অতীন ইচ্ছে করেই অগোছালো রাখত। কাট ছাঁট একেবারে করত না। শুধু আমাদের বসার জন্য ছাঁটা ঘাসের একফালি লনের মতো সবুজ বিছিয়েছিল ছাদের জমিতে। সাজানো বাগান একেবারে না-পছন্দ ছিল অতীনের। ও বলত, সাজানো বাগান আসলে বাগান নয়, মানুষের নিষ্ঠুর হাতে খর্বীকৃত, নির্মম কাঁচিতে ছাঁটা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন বেঁটে বেঁটে আকৃতি মাত্র। বলত, ‘যেখানে গাছের নিজস্ব সত্তা আর নেই, ডালপালা নিয়ে মনের আনন্দে তাকে বাড়তে দেওয়া হয়নি, কাঁচির সাহায্যে একটা সবুজ রঙের ফর্ম তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে সেটা বাগান নয়।’ তবে অতীনের এই কেয়ারফ্রি বাগানে বেশ আপত্তি করত বিমল। ও বলত, ‘বাগান যদি করতে হয় তবে তো একটু কাট ছাঁট করতেই হবে। তুমি গাছগুলো বাড়তে দাও অতীন। এ তো বাগান নয়, এ হলো তোমার জঙ্গল। বাগান আর জঙ্গলের মধ্যে একটা সীমারেখা টানা দরকার। বাগান মানে প্রকৃতিকে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে পোষ মানানোর চেষ্টা এবং সেটা না করতে পারলে বিপদ মানুষেরই।’
অতীন হেসে বলত, ‘আরে তুমি থামো তো, যা করার তো টবের বাঁধনে থেকেই করতে হচ্ছে। তারপর এটুকু বাড়ার স্বাধীনতা দেব না ওদের? তোমরা তো জানো কৃত্রিমতা আমাকে বিমর্ষ করে তোলে। এই যে এই কাটাছাঁটা সবুজ ভেলভেটের গালিচার মতো জায়গাটায় বসে আছি এও আমার চক্ষুশূল, শুধু রাখতে হয়েছে তোমাদের বসার জন্য আর আমার মায়ের গঞ্জনাতে। নইলে আমার ইচ্ছে ছিল এখানে এক হাত লম্বা ঘাসের মধ্যে নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকবে নাম না জানা ফুলের মুখগুলো। যেসব ফুল বুঝলে অযত্নে বেড়ে ওঠে, মালিদের হাতের কেয়ারি লাগে না।’ ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বিমল বলত, ‘তাহলে বাগান আর বাড়ির বাগান থাকে না। ভুল করে শহরে জন্মে গেছ তুমি ভাই অতীন।’ অতীনও সঙ্গে সঙ্গে স্বীকার করে নিত, বলত, ‘কিছুই হরলা না গো। বড় শখ ছিল এক ফালি মাটির। এ তো দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো।’
ছাদ-বাগানে অতীনের একটা প্রিয় গাছ ছিল। গাছটার জাতপাত জানা ছিল না আমাদের কারও। অতীন গাছটার নাম দিয়েছিল হীরেমানিক। আমাদের বলেছিল গাছটা ও কালিম্পংয়ের একটা গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছে। ছাদের এককোণে একটা বিশাল বড় টবে পুঁতেছিল গাছটা। অতীনের আদিখ্যেতার শেষ ছিল না হীরেমানিককে নিয়ে। কিন্তু গাছটায় না হতো কোনও ফুল, না ধরত কোনও ফল। অতীনের প্রশ্রয়ে সে শুধু ধেই ধেই করে বাড়ছিল। বিমল অতীনকে প্রায়ই বলত, ‘তোমার ধিঙ্গি গাছটা কোনও কর্মের নয়। না দেয় ফুলফল, না বাড়ায় বাগানের শোভা। তবু কেন যে তুমি এটার পিছনে এত সময় আর পয়সা ব্যয় করো বুঝি না।’ এটা ঠিক যে অতীন হীরেমানিককে বিশেষ যত্ন করত। খুঁজে খুঁজে সার নিয়ে আসত। পোকা যাতে না ধরে সেই জন্য কী একটা দামি তেল স্প্রে করত গাছটার পাতায়, ডালে। গাছটার পিছনে এত অপব্যয় বিমলের সহ্য হতো না। এছাড়াও একটা ব্যাপার ছিল যাতে আপত্তি ছিল বিমলের। অতীন ঠিক করেছিল হীরেমানিককে ও কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণ করবে না। হীরেমানিকের মধ্যে দিয়ে বিশ্ব প্রকৃতিকে দেখতে চাইত অতীন। ও আমাদের বলত গাছটা নাকি এই ছাদ বাগানের সমস্ত গাছের থেকে আলাদা। আমি হীরেমানিকের অসাধারণত্ব বুঝতে পারিনি তবে অতীনের কথার কোনও প্রতিবাদও করতাম না কারণ গাছটা সম্পর্কে কোনও রকম কটু কথা অতীন সইতে পারত না, সেটা আমি অনুভব করতাম। তবে হীরেমানিককে নিয়ে অতীনের এইসব পাগলামিতে আমার সায় ছিল তাও নয়।
বিমল, আমার আর অতীনের বন্ধুত্ব ছোটবেলার নয় কিন্তু অল্প সময়েই আমরা পরস্পরের খুব কাছাকাছি এসে গিয়েছিলাম। তবু হঠাৎ আমাদের মধ্যে গণ্ডগোল বাঁধল। আগেই বলেছি অতীন সাজানো বাগান পছন্দ করত না। তবু ওর মায়ের অনুরোধে একটি ঘাসের গালিচা তৈরি করেছিল ছাদ বাগানে। কখনও সখনও বিকেল বেলায় ওখানে এসে বসতেন ওর মা, বোন। স্কুল করে টিউশনির চাপ সামলে আমি সময় পেতাম না কিন্তু বিমল মাঝে মাঝে তাড়াতাড়ি ফিরতে পারলে অতীনদের বাড়িতে চলে এসে মাসিমার সঙ্গে আড্ডা দিত। সেরকমই এক বিকেলের অবসরে ওরা আবিষ্কার করেছিল ঘাসের গালিচার তলায় বহু দূর পর্যন্ত শিকড় ছড়িয়ে দিয়েছে হীরেমানিক এবং সবার অলক্ষ্যে সেই শিকড় বেশ পুরুষ্ট হয়ে উঠেছে। এই ঘটনায় অতীন ছাড়া বাকি আমরা সবাই বুঝতে পেরেছিলাম হীরেমানিককে ছাদ বাগানে রাখা বিপদজ্জনক। ভ্যাগ্যিস কেয়ারি করা গালিচার বিশেষ দেখভালের প্রয়োজনে সেটি তোলা হয়েছিল না হলে কি হতো ভেবে শিউরে উঠেছিলাম আমরা। অতীনদের মাথার উপরের ছাদ হয়তো ভেঙে পড়ত হীরেমানিকের শিকড়ের চাপে। কিন্তু সব ছেড়ে অতীন দোষ দিল ওই ছাঁটকাট করা ঘাসগালিচাটাকে। ওর মতো হীরেমানিকও নাকি ওই সেজে থাকা ঘাসের দলটি সহ্য করতে পারত না তাই ওদের উচ্ছেদ করতেই শিকড় ছড়িয়ে দিয়েছিল ভিতরে। অতীনের অকাট্য যুক্তি, ‘কই অন্য কোন জায়গায় তো শিকড় ছড়ায়নি হীরেমানিক।’
বিমল অতীনের এই যুক্তি মানলো না। ও বোঝাতে চেষ্টা করল অনিয়ন্ত্রিত প্রকৃতি নাকি এই রকমই ধূর্ত হয়। মানুষের নজর দুর্বল হওয়ার সুযোগ খোঁজে ওরা। মানব সভ্যতাকে ধবংস করার চক্রান্ত ওদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আর এই কূট অভিপ্রায় ছিল বলেই হিরেমানিক শিকড় ছড়াবার জন্য আড়াল খুঁজেছে। বিমল আরও বলল গ্রামে এমন নিত্য লড়াই করে বাঁচতে হয় ওদের। প্রকৃতি সেখানে এক চুল ও জমি ছাড়ে না মানুষকে।
তবে হাজার তর্কাতর্কি পিড়াপীড়িতেও হীরেমানিককে বাড়ি থেকে বিদায় করল না অতীন। কারও কথা না শুনে জেদ করে ফেলে দিল নিটোল ছাঁটা ঘাসের এক টুকরো সবুজকে। এই ঘটনার পর থেকে যেন হিরেমানিক ঢুকে পড়ল আমাদের বন্ধুত্বের মাঝে। বিমল আর অতীনের সম্পর্ক আর সহজ হলো না, আড্ডা বন্ধ হয়ে গেল ধীরে ধীরে। আমাদের কাউকে কিছু না বলে বিমল একদিন চলে গেল পাড়া ছেড়ে, ঠিকানা না জানিয়েই। দু-একবার চেষ্টা করেও আমার আর অতীনের আড্ডা জমানো গেল না বিমল ছাড়া। আমি অন্য চাকরির চেষ্টা করতে শুরু করলাম। ওদের ছাড়া এই পাড়াতে টেকা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।
ছাড়াছাড়ি হবার পর আমার কলকাতায় আর মন বসল না। চাকরি ছেড়ে বাড়ি গিয়ে নতুন করে পড়াশুনো শুরু করেছিলাম। উদ্দেশ্য প্রশাসনিক পদে কোন সরকারি চাকরি লাভ। পেয়েওছিলাম বছর দুইয়ের মধ্যে। সেই থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাকরি সূত্রে ঘুরে বেড়িয়েছি। বদলি হয়ে মফস্সল শহরে গেছি কয়েকবার কিন্তু সুযোগ পেয়েও কলকাতায় থিতু হতে আমার ইচ্ছে করেনি। হয়ত মনের গভীরে পুরনো ক্ষতের মত রয়ে গিয়েছিল প্রথম যৌবনের বন্ধু বিচ্ছেদের ব্যথা। তবে কলকাতা আমায় ছেড়ে দিল না। টেনে নিয়ে গেলো তার কাছে আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও। ইতোমধ্যে বিয়ে করেছি, একমাত্র মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করেছি। ভারত সরকারের প্রশাসনিক পদের এক কর্তা ব্যক্তি হিসেবে একবার মেয়ের পোস্টিং হলো কলকাতায়। তখন আমি সবে অবসর নিয়েছি। মফস্সলেই বাড়ি করেছি, আমার স্ত্রী ও আমি থাকি সেখানে কিন্তু সন্তানের জোরাজুরিতে কলকাতায় আসতেই হলো আমাদের। ভাবলাম দুচার দিন বৈ তো নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসব নিজের ঠিকানায়।
মেয়ের কোয়ার্টার দক্ষিণ কলকাতায় তবে শহরে পা দেওয়া মাত্র দিবা-রাত্র একটা অস্বস্তি টের পেলাম নিজের মধ্যে। আমি যেন একটা লৌহ খণ্ড, উত্তর কলকাতা আমাকে টানছে চুম্বকের মতো। সেই টান অস্বীকার করার কোনও উপায় থাকল না আমার। আমি বেরিয়ে পড়লাম আর অচিরেই এসে পৌঁছলাম সেই পুরনো পাড়ার রাস্তায়। দেখলাম প্রায় অচেনা লাগছে পাড়াটা। সেই মায়াময় অট্টালিকার সারি আর নেই। প্রমোটারির দাপটে অবিকল্প স্থাপত্যের নমুনা পুরনো সেই সব বাড়ি ভেঙেচুরে এক ছাঁদের ফ্ল্যাটবাড়ির ঢল এখানে ওখানে। তাদের আধুনিক উগ্রতার মাঝে দু-একটা পুরানো বাড়ি সম্ভ্রম খুইয়ে কুন্ঠিত, সন্ত্রস্ত মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আমার মনে হলো তুলসি মঞ্চে প্রদীপ হাতে দাঁড়ানো চিরশ্রীময়ী গৃহলক্ষ্মীর সজল ঘোমটায় মোড়া গোটা পাড়াটা যেন দখল করে নিয়েছে রুজ লিপস্টিক পরা কুৎসিত দেহজীবীর দল।
চায়ের দোকানটা আর দেখতে পেলাম না। অতীনদের বাড়িটাও খুঁজে পেতে বেশ অসুবিধা হলো। বেশির ভাগ গলিতে আর একটাও পুরনো বাড়ি নেই। আন্দাজ করছি আর ঘুরপাক খাচ্ছি, অবশেষে দেখলাম আশে পাশে নতুন গজিয়ে ওঠা ফ্ল্যাটবাড়ির মাঝখানে প্রতিবাদের মুঠোর মত মাথা উচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির একটা গাছ। আরে এ তো সেই হীরেমানিক! দেখামাত্র আমি ওকে চিনতে পারলাম। ছাদের টবে গজিয়ে ওঠা হিরেমানিকের শিকড় এখন মাটিতে শক্ত করে গেঁথে আছে। অতীনদের গোটা বাড়িটাই যেন ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে হীরেমানিকের গায়ে। আমি মুখ তুলে উপরে তাকালাম। একি দেখছি? দোতলার জানলা থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে অতীন। সেই আগের মতই একমুখ কচি ঘাসের মতো দাঁড়ি। একমাথা কালো চুল। সেই অতীন আমাকে বলল, ‘অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করছেন দেখছি, কিছু খুঁজছেন? এ বাড়ি কিন্তু প্রোমোটিং হবে না। কারণ এই গাছ কাটলেও এর শিকড় দারুণ মোটা আর শক্ত, কাটা অসম্ভব। এত সরু গলিতে সেই শিকড় উপড়াবার মেশিন ঢুকবে না কাকু।’ আমি চমকে উঠলাম ওর ডাক শুনে। এ কি তবে অতীনের ছেলে? আমি বললাম, ‘বাড়ি ভাঙতে আসিনি বাবা গাছটা দেখছি। এত বড় গাছ…।’ ছেলেটি একটু থেমে বলল, ‘ওর নাম হীরেমানিক। আমার বাবার হাতে লাগানো, বাবা নেই, ও রয়ে গেছে।’ আমি দেখলাম শুধু রয়ে যায়নি, অতীনের হীরেমানিক মানুষের হাত থেকে আগলে রেখেছে মানব সভ্যতার কল্যাণী রূপ। আমি হীরেমানিকের গায়ে হাত বুলিয়ে ফেরার পথ ধরলাম।
কলকাতা থেকে
সচিত্রকরণ : শতাব্দী জাহিদ



