মুক্ত কলম

একরাতে রামসাগরে এবং অতঃপর

আশফাকুজ্জামান

 

এই প্রথম নিজেকে সত্যিকার মানুষ মনে হচ্ছে। ঠিক মানুষ না, ভিআইপি। কোনোদিন ভাবিনি আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুইসেল বাজিয়ে উল্কার মতো ছুটবে পুলিশের গাড়ি। সাধারণত ছোট শহরে এমন দেখা যায় না। আবার বড় শহরেও যে খুব একটা দেখা যায় তা-ও না। কিন্তু ঢাকার রাজপথে প্রায়ই এমনটি ঘটে। পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে মাঝেমধ্যে সমালোচনা হয়। আবার অনেক ভালো কাজও তাঁরা করেন। ভিআইপি-নিরাপত্তায় নিজেদের উজাড় করে দেন। ভিআইপি আসার অনেক আগ থেকেই  শুরু হয় ছোটাছুটি, অস্থিরতা। এ সময় পথচারীদের কোনো পাত্তাই দেন না। অনেকের  অফিসের খাতায় লাল দাগ পড়ে। অনেকের দূরপাল্লার গাড়ি ছেড়ে যায়। একবার নিজেই এমন এক বিপদে পড়েছিলাম। ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাব। সঙ্গে বউ-ছেলেমেয়ে। সিএনজি আটকে দিল পুলিশ। ভিআইপি আসবেন। দূরপাল্লার টিকিট দেখালাম। কোনো কাজ হলো না।

আজ নিজেকেই ভিআইপি মনে হচ্ছে। আহ কি মজা! এ এক অপার্থিব শান্তি। কেন প্রতিদিন এমন দিন  হয় না! আমাদের জন্য পুলিশের আগ্রহ দেখে ভালো লাগছে। বেশির ভাগ সময় রাষ্ট্র ভুলে যায় সবার ওপরে মানুষ সত্য। তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না। মানুষ হয়ে যায় সংখ্যা। রাষ্ট্র যে কাজ করে তার প্রমাণ পাচ্ছি। পুলিশ গাড়ি নিয়ে হুইসেল বাজিয়ে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে নিরাপত্তা দিচ্ছেন। জীবনে কখনও কখনও একই সঙ্গে শূন্যতা ও পূর্ণতার বোধ অনুভূত হয়। এখন সময় শুধু পূর্ণতার। মনে হলো এই পথ যেন শেষ না হয়।

এই প্রথম অনুভব করলাম ক্ষমতাশালীরা কেন  ক্ষমতা ছাড়তে চান না। এ এক অপার আনন্দ! পুলিশ যখন এভাবে পাহারা দেয়, তখন কেউ কাছে আসতে পারে না। বিশাল ক্ষমতাবান হয়ে যান সবাই। আজ নিজেকে মনে হচ্ছে বাদশা। দিল্লির বাদশা নাসির উদ্দিন। না। কিসের নাসির উদ্দিন? নাসির উদ্দিন গরিব ছিলেন। নিজের স্ত্রীর জন্য দাসী রাখতে পারেননি। মনে হলো বাদশা সুলেমান। তিন মহাদেশজুড়ে তাঁর রাজ্য ছিল। হেরেমে কত  দাস-দাসী। সারাক্ষণ রাজা-রানিদের সেবায় ব্যস্ত। মির্জা গালিবের একটি শায়ের ছিল এমন,  ‘জানতে চেয়ো না জীবনে কত মুহূর্ত আছে। বলো মুহূর্তের মাঝে কত জীবন আছে।’এখন বুঝতে পারছি মুহূর্তের মাঝে কত জীবন।

ঢাকা থেকে পাঁচজনের একটি দল দিনাজপুর এসেছি। এর মধ্যে দুজন লেখক। একজন শিল্পী, একজন বন্ধুসভার নির্বাহী সম্পাদক, একজন ঢাকা বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক। সবার মধ্যে লেখক দুজন একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। আর সে জন্যই জীবনে এই কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার সুযোগ এসেছে। দিনাজপুর জেলা পরিষদ ভবন। এখানে বন্ধুসভার উত্তরাঞ্চলীয় বন্ধুদের উৎসব। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। শেষ হলো সন্ধ্যা সাতটারও পরে। এলাকাটি তেমন ভালো না। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই গাড়িতে উঠতে পারতাম। কিন্তু আশাফাকুজ্জামান ছাড়া লেখক ইমদাদুল হক মিলন, মোহিত কামাল, শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু ও সাইদুজ্জামান রওশন প্রায় সবাই সেলিব্রেটি।

অনুষ্ঠান শেষে অটোগ্রাফ নিতে অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে গেল। তারপর কিছুক্ষণ মুক্ত আড্ডা। যেমন কেউ হয়তো বলল, মিলন ভাই, আপনার রাধাকৃষ্ণ বইটা যা ভালো, পড়তে পড়তে একেবারে অন্য রকম হয়ে যাই। আরেকজন বলল, আপনার পরাধীনতা বইটায় ওই যে পিপ শো, ওটা  কি আপনি দেখেছেন। সঙ্গে সঙ্গে পাশ থেকে কেউ বলল দেখেনি আবার! জিজ্ঞেস কর মিলন ভাই কতবার দেখেছেন। একটি মেয়ে বলল, মোহিত ভাই, আপনার মন বইটা সত্যি সত্যি মন ছুঁয়ে যায়। ওপাশ থেকে চিৎকার করে একজন বলছে এত খাজুরে আলাপের দরকার নেই। আরেকজন বলল, আচ্ছা মিলন ভাই, খাজুরে আলাপ বলে কেন? আমি তো কাউকে খেজুর খেতে খেতে বা খেজুরগাছের নিচে দাঁড়িয়ে আলাপ করতে দেখিনি। বরং মুড়ি-চানাচুর, চা-বিস্কুট খেতে খেতে কথা বলতে দেখেছি। অনেক সময় চলে যায় এভাবে। রাত প্রায় নয়টায় গাড়িতে উঠলাম। গন্তব্যে কখন পৌঁছেছিলাম মনে নেই। তবে পৌঁছেছিলাম এটা নিশ্চিত। কারণ মিলন ভাই ও মোহিত ভাই  ডাকবাংলোয় উঠেই বলেছিল এখানে থাকব না।

মনটা যতটা খারাপ হওয়া দরকার ঠিক ততটাই হলো। জায়গাটি কোনোভাবেই ছেড়ে যেতে চাই না। দিঘির পাড়ে উচ্চ টিলার ওপর একটি সুন্দর মনোরম ডাকবাংলো। এ এক বিশাল দিঘি। জীবনে প্রথম এত বড় দিঘি দেখা। তটভূমিসহ বিশাল আয়তন নিয়ে এর অবস্থান। বাংলাদেশে এর থেকে বড় দিঘি আর নেই। সাগরের মতো বিশাল না হলেও হ্রদের মতো বড়। কৌতূহলী মানুষের স্বপ্নের জায়গা এটি। দিঘির চার পাশ ঘিরে রয়েছে লাল মাটির ছোট ছোট টিলা। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর। বড় বড় বেলে পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল শান-বাঁধানো ঘাট।

এর উত্তর দিকে রয়েছে একটি পুরোনো ভাঙ্গা ভবন। যা মানুষের নিরবধি কৌতূহল সৃষ্টি করে চলেছে। কেউ বলে একে দেব মন্দির। কেউ বলে রাজার বিশ্রামাগার। কেউ বলে বার দুয়ারী বা লুকোচুরি ঘর। বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপসহ প্রায় চার শ প্রজাতির গাছ আছে এখানে। দিঘির চারপাশের রাস্তার দুই ধারে রয়েছে দেবদারু, ঝাউ ও ফুলের গাছ। অত্যন্ত ছায়াঘেরা স্নিগ্ধ একটি পরিবেশ। গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ভাঙা ভাঙা নীলাকাশ। অনেকটা সময় নিয়ে প্রকৃতি এই দিঘির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে মনে হয়। দিঘি নিয়ে সুন্দর একটি গল্পও আছে। পরে আসছি সে কথায়।

থাকার সব চেষ্টা করে যদি কেউ ব্যর্থ হয়, কেবল তাহলেই এমন একটি জায়গা কেউ ছেড়ে যেতে চাইবে। রওশন ভাইও থেকে যেতে চান। বাবু ভাইকে বোঝা কঠিন। তিনি থাকবেন কি থাকবেন না, তাঁর মন ভালো কী খারাপ তাকে দেখে এটা বোঝার উপায় নেই। চেহারায় এক ধরনের দার্শনিকভাব থাকে সবসময়। দুজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যেহেতু থাকবেন না, তাই আমাদেরও থাকা চলবে না।

আর দশটি আনন্দঘন দিনের মতোই ছিল অনুষ্ঠানের ওই দিনটি স্নিগ্ধ সকাল। রৌদ্রকরোজ্জ্বল দুপুর। মায়াবী বিকেল। কিন্তু শেষটা যে এত নির্মম হবে কখনও কী ভাবতে পেরেছিলাম?  অনুষ্ঠান শেষে গাড়িতে ওঠার পর একটি গাড়ি আমাদের পেছনে পেছনে আসে। একপর্যায়ে আমাদের গাড়ি দিঘির নিজস্ব রাস্তায় ঢুকে যায়। আমরা ছাড়া ওই সময় ডাকবাংলোয় আর কেউ ছিল না। তাই অন্য গাড়ি এ রাস্তায় প্রবেশ করার কথা না। কিন্তু ওই গাড়িটি প্রবেশ করল। আমাদের গাড়ি এক পর্যায়ে ডাকবাংলোর গেটের ভেতরে ঢুকে গেল। ঠিক তখন ওই গাড়িটা গেট থেকে  ফিরে গেল। আশ্চর্য, আমরা এর কিছুই জানি না। পুরা ঘটনাটি লক্ষ করেছে মোহিত ভাই ও মিলন ভাই।

ডাকবাংলোয় উঠেই দুজনে প্যান্ট, শার্ট পরে রেডি। থাকবেন না। তাঁদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও কাজ হচ্ছে না। এখানে থাকার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ আমার। মোহিত ভাইকে বললাম, বিগ ব্যাং থিওরি মতে, ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন বছর আগে বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে এই মহাবিশ্বের যাত্রা। তারপর পৃথিবী ঘুরছে সূর্যের চারদিকে। গ্যালাক্সির চারদিকে ঘুরছে সূর্য। গ্যালাক্সি ঘুরছে নভোম-লের চারদিকে। আবার নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরছে অতিক্ষুদ্র ইলেকট্রন। এমনি করে জন্মের পর মৃত্যুও একটা চক্র। এই চক্র শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা বেঁচে থাকব। পাশ থেকে কে যেন একটু হেসে উঠল। মোহিত ভাই বললেন, ‘মনে রেখ, তামাশা  করার সময় নয় আজ।’ মোহিত ভাই  আপনি তো লেখক। কিন্ত আপনার এই শেষের উচ্চারণ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চার মাত্রার মাত্রাবৃত্ত কবিতার মতো-

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য…..।

আশফাক থামতো।

থেমে গেলাম।

রওশন ভাই বললেন, হারিকেন নিজেকে আলো দেয়, টর্চ অন্যকে আলো দেয়। মিলন ভাই ও মোহিত ভাই একই সঙ্গে নিজেদের  আলোকিত করেছেন। অন্যদের আলোকিত করছেন। এমন দুজন মানুষকে হারানোর ঝুঁকি আমরা নিতে পারি না। বাবু ভাই একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। তার কিছু হলে দেশ চিরকালের জন্য হারাবে একজন মেধাবী শিল্পীকে। সাধারণের মধ্যে কেবল আমি আর আপনি। রওশন ভাইকে বললাম, দেশের বন্ধুদের মনে নিরন্তর স্বপ্ন বুনে দেন আপনি। আপনার মাধ্যমে তারা স্বপ্ন দেখে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার। এদের কাছে আপনি স্বপ্নের মানুষ।  তা ছাড়া অণু কাব্যের জনক ও লেখক।

ভেবে দেখলাম, শুধু আমিই কোনো তাৎপর্য বহন করি না। জগতের সকল প্রাণী সুখে থাকলে সুখে থাকব। জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল হলে আমারও মঙ্গল হবে।  তা ছাড়া বিশেষ কোনো বিশেষত্ব নেই । মোহিত ভাই হুংকার দিয়ে উঠলেন। কে বলেছে তোমার বিশেষত্ব নেই? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন একটি পিঁপড়াও বিনাকরণে সৃষ্টি করেননি। তোমার আমার সবার প্রয়োজন আছে বলেই এখানে এসেছি। আমি আর মিলন ভাই কেন এখান থেকে যেতে বলছি? ধারণা করছি ওই গাড়িটা কোনো উগ্রপন্থী বা জঙ্গিগোষ্ঠীর। আমাদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এখানে থাকতে পারি না। মোহিত ভাই আরও বললেন, এমন একটা জায়গায় থাকার কারও দশমিক এক ভাগ ইচ্ছে থাকাও উচিত না। তাঁর এ কথার পর সবাই নড়েচড়ে বসলাম। রওশন ভাই একটু বেশি নড়লেন। ওখানকার  প্রতিনিধিকে জানালেন। তিনি শোনার পর সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হলেন। সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানায় ফোন করলেন। থানা থেকে এআইজি, আইজি দিনাজপুরের প্রায় সব প্রশাসন ঘটনা জেনে গেল। সম্ভবত ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ  ডাকবাংলো ঘিরে ফেলল। এক অফিসার বললেন, ‘আপনারা এখানে থাকতে পারেন। কোনো অসুবিধা নেই। আমরা নিরাপত্তা দেব।’

আমরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও মিলন ও  মোহিত ভাইয়ের অস্থিরতা আরও বেড়ে গেল। বিজ্ঞানী নিউটন এক সময়ে মনে করতেন, সব কিছুর অবস্থান এই প্রকৃতির মধ্যে। প্রকৃতির কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তাই আমাদের ওপরও কোনো অনিশ্চয়তা নেই। নিউটনের ধারণা বা পুলিশের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোনো কিছু¡র ওপরই ন্যূনতম আস্থা রাখতে পারছেন না দুজন লেখকের কেউই। তারা কোনোভাবেই এখানে থাকবেন না।

কিছুক্ষণ পর আবার পুলিশের লোক বলল, এখানে আপনাদের থাকা হবে না। ওপর থেকে অর্ডার এসেছে। এখনই আপনাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। তখনও জানি না কোথায় নেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে গাড়িতে উঠতে বলা হলো। বিখ্যাত ইংলিশ ছোট গল্পকার ‘ও হেনরির’ একটি গল্প পড়েছিলাম। নাম ‘জিম অ্যান্ড ডেলা’ এই গল্পের প্রধান ও একমাত্র নারী চরিত্র ডেলা বলেছিল, মানুষের জীবনে সবচেয়ে দীর্ঘ নিশ্বাসের পরিমাণ বেশি। গাড়িতে উঠে বড় একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে শেষবার চারদিকে তাকালাম।

রাত্রির ঘোর অন্ধকারে দিঘির কোনো প্রান্তই দেখা যাচ্ছে না। গভীর নিঃশব্দে ঘুমিয়ে আছে এর জল। এটি এমন একটি দিঘি, যে-কেউ প্রথম দেখাতেই এর প্রেমে পড়ে যাবে। তাছাড়া দিঘি নিয়ে রয়েছে দারুণ এক কিংবদন্তি।

সতেরোশ’ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে এক রাজা ছিলেন। নাম প্রাণনাথ। তিনি ছিলেন সুশাসক। প্রজারা তাঁকে খুব পছন্দ করত। তাঁর ধনসম্পদ ছিল অনেক। কিন্তু মনে ছিল না কোনো শান্তি। কারণ রাজার ছিল না কোনো পুত্রসন্তান। অনেক সাধনার পর ঘর আলো করে এল এক সন্তান। তার নাম রাখা হলো রামনাথ। যুবরাজ বড় হলেন। তখন দেশজুড়ে নেমে আসে কঠিন দুর্যোগ। শুরু হলো একটানা অনাবৃষ্টি ও খরা। দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও খরায় খাল-বিল, দিঘি-নালা শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। শত শত মানুষ অনাহারে মরে যেতে লাগল। একবিন্দু পানি নেই কোথাও। রাজ্যজুড়ে শুরু হলো পানির জন্য আহাজারি।

রাজা এক বিরাট দিঘি খনন করলেন। কিন্তু গভীর করে খনন করা সত্ত্বেও এক ফোঁটাও পানি উঠল না দিঘিতে। এ ঘটনায় রাজা ভীষণ কষ্ট পেলেন। হতাশায় আহার-নিদ্রা ছেড়ে দিলেন। এরই মধ্যে একদিন স্বপ্নে পেলেন এক দৈববাণী। তাঁর একমাত্র পুত্র রামকে দিঘিতে বলি দিলে পানি উঠবে। এ কথা শুনে রাজ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। অবশেষে দিঘির মাঝখানে একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করা হলো। এরপর গ্রামে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে প্রজাদের জানিয়ে দেওয়া হলো, কাল ভোরে দিঘির বুকে পানি উঠবে। পরদিন ভোর না হতেই রাজবাড়ির সিংহদ্বার খুলে গেল। হাতির পিঠে চড়ে শুভ্র বসনে যুবরাজ যাত্রা শুরু করলেন দিঘির দিকে। দিঘির পাড়ে পৌঁছে রাম সিঁড়ি ধরে নেমে গেলেন মন্দিরে। সঙ্গে সঙ্গে দিঘির তলদেশ থেকে অজস্র ধারায় পানি উঠতে লাগল। চোখের পলকে পানিতে ভরে গেল বিশাল দিঘি। সেই পানিতে ভেসে রইল রাজকুমারের সোনার মুকুট।

যুবরাজ রামের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে দিঘির নাম রাখা হলো রামসাগর। ইশ্! কেন দিঘিতে পানি উঠল না? কেন রাজাকে তাঁর একমাত্র সন্তান হারাতে হলো? রামইবা কেন কোনো প্রশ্ন ছাড়াই নিজের মৃত্যুকে মেনে নিলেন? এসব ভাবতে ভাবতে কোথায় যেন হারিয়ে গেছি।

হঠাৎ প্রচণ্ড হুইসেলের শব্দে নিজেকে ফিরে পেলাম। অতঃপর রাতের নৈঃশব্দ্য ভেঙে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আমাদের চলে যাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares