গল্প

অচেনা চেনা রং

প্রশান্ত মৃধা

 

কাল রাতে সাইফ এসে কথাটা বলার পর থেকে নীলা আর নিজেতে নেই। আনমনা, অমনোযোগী, কিছুটা বিপর্যস্তও, নিজের ভিতরে। তখন থেকে গলার কাছে কিছু একটা আটকে আছে। নামছে না। খানিকটা মাটিও যেন সরে গেছে তার পায়ের তলা থেকে। প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত বেঁচে থাকাও ছিল অর্থহীন। রাত একটা নাগাদ দুর্জয় ফিরলে পরে সে খানিকটা শান্ত হয়। যদিও দুর্জয়ের কাছে সে এখন পর্যন্ত জানতে চায়নি কিছুই। একবার ভেবেছে সরাসরি দুর্জয়কে জিজ্ঞেস করবে। আবার ভেবেছে, না থাক, কিছুই জানতে চাইবে না। সে এমন আচরণও করবে না যেন কিছু শুনেছে। তবে এখন পর্যন্ত নীলা স্থির করতে পারেনি দুর্জয়কে কিছু জিজ্ঞেস করবে কিনা। দোটানা এখনও কাটেনি। আগে দুর্জয় ঘুম থেকে উঠুক, চা-নাশতা খেয়ে নেবার পর, তখন যদি কথা তোলে তাহলে জানতে চাইবে, আগ্রহ দেখাবে, অন্যথায় না। আবার একবার তার মনে হয়েছে, দুর্জয়কে ঘুম থেকে তুলে জানতে চায়, যা শুনেছে কাল সাইফের কাছে, তা সত্যি কি না।

অথচ কাল অফিস থেকে ফিরে সাইফ কথাটা বলেছিল খুব আলগোছে। এমন তো কত কথা প্রতিদিন বলে অন্যান্য বিষয়েও, প্রায় সেভাবেই। টাইয়ের গেঁড়ো ঢিলে করতে করতে সাইফ নীলার দিকে একবার তাকিয়ে একটু হেসে বলেছে, ‘দুর্জয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গেছিলাম।’

নীলা তখন রান্নাঘরে। ফুটন্ত পানিতে চা পাতা দেবে। হাতের তালুতে চা পাতা, হাত কাত করবে। সে সময়ে এ কথা শুনে ওখানেই হাতটা থেমে যেতে পারত নীলার। যা শুনেছে সে ঠিকই শুনেছে। সাইফ তার প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু নীলা চা পাতাটুকু ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে দিয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। তার নিরুত্তর প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থায় সাইফের মনে হয়, নীলা তার কথা শোনেনি।

সাইফ আবার বলেছে, ‘কী কইলাম তোমারে, শুনচো?’

নীলা কাপে চা ঢালতে ঢালতে বলে, ‘না, আসতিছি।’

ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টেনে বসেছে সাইফ। নীলা চায়ের কাপ হাতে টেবিলের কাছে। তখন সাইফ নীলার দিকে মুখ তুলে আবার কথাটা বলল, ‘অফিস থেকে বেরিয়ে দুর্জয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গেছিলাম।’

এবার নীলা ইচ্ছে করে হাসল। অভিব্যক্তিহীন হাসি। হাসিতে সামান্য রহস্য। সেটার ভাঙানি অবশ্য সাইফ দিল, ‘সে বাসায় ঢোকার সময় তোমার ফোন আমি কেটে দিলাম।’

‘একেবারে হঠাৎ?’ নীলা বিষয়টা গোড়া থেকে বুঝতে চায়।

‘হঠাৎ কোথায়? কেন দুর্জয় তোমারে আগে কিছু কয় নাই?’

‘না তো।’

‘আমি তো ভাবলাম তুমি জানো। এত তোড়জোড় আর তোমারেই কিছু কয় নাই?’

‘না। হয়তো ও মনে করেছে তুমিই যা বলার আমারে বলবা।’

‘হতে পারে। কিন্তু ওর বন্ধুরা অনেকেই জানে। অবশ্য দুর্জয়ই জানে কম, ওর ব্যাচমেট শংকরই আসলে বিষয়টার উদ্যোক্তা। শংকরের এলাকার মেয়ে, ওদের প্রতিবেশী। আগে নাকি একদিন দুর্জয়ের সঙ্গে আজিজ মার্কেটে দেখা হয়েছিল। ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে মাস্টার্সে, কোন সাবজেক্ট মনে নেই। আর্টস ফ্যাকাল্টি।’

চায়ে চুমুক দিয়ে সাইফ বেশ চনমনে, একটানা কথাগুলো বলে যায়। এটা তার স্বভাব। কোনো বিষয়ে নীলার কথা শোনার ধার সে কখনও ধারে না। নীলার কোনো প্রতিক্রিয়ার মূল্য সাইফের কাছে নেই। একেবারে ডিক্টেটর টাইপের মানুষ। গলায় কোমলতা আছে, কিন্তু সহানুভূতি নেই। কথা শেয়ার করায় আছে; কিন্তু অন্যের ওপিনিয়নকে গুরুত্ব দিতে জানে না।

এই যে বিষয়টা নীলাকে জানাচ্ছে, এ বিষয়ে নীলার কোনো বক্তব্য থাকতে পারে, কিছু জানতে চাইতে পারে, এমনকি প্রয়োজনে তাকেও সে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারতÑ এ বিষয় মানুষটার কখনও মনে হয়নি। আবার নীলার প্রতি দারুণ কেয়ারিং। কিন্তু তার ভিতরেও নীলা কোথায় যেন সাইফের কাছে গুরুত্বহীন। নীলা সাইফের চা খাওয়া দেখতে দেখতে ভাবে, সে কিছু জানতে চাইবে। আবার সে ভাবনা বাতিল করে। তার মনে হয়, যদি এই জানতে চাওয়ায় তার কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ হয়ে পড়ে? নিশ্চয়ই এখন সেটা ঠিক হবে না। আবার একেবারে প্রশ্নহীন উত্তাপহীন থাকাও যেন সাইফের কাছে চোখে পড়ার।

সাইফ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাই বলল, ‘কী তোমার কোনো প্রতিক্রিয়া নাই! নাকি ডিজহার্টেন্ড, দুর্জয় বাবু তলে তলে সিংকিং সিংকিং ড্রিংকিং ওয়াটার, তুমি এক ফোঁটা পানিও দেখলা না?’

‘না, আসলে হয়তো তা না। মনে হয় একটু আগানোর পরে বলত। আচ্ছা, তোমার চায়ে চিনি ঠিক হইচে?’ কথাটা বলেই নীলা বুঝল, এটা জিজ্ঞেস করা ঠিক হয়নি। চায়ে চিনি এদিক-ওদিক হলে সাইফ তাকে বলত। আবার, এ কথা বলে সে যে কথা ঘোরাচ্ছে সেটাও হয়তো সাইফ বুঝে গেল।

তাই হলো। নীলার কথা শেষ হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সাইফ বলল, ‘কী এ ব্যাপারে তুমি একেবারে উৎসাহহীন। বুঝেছি, শুধু ডিজহার্টেন্ড না, শকডও।’

‘র্ধু, কী যে কও।’ নীলার মনে হলো, সে প্রস্তুতি নিয়েই ছিল, বিষয়টা এভাবে তার দিকে এসে উড়িয়ে দেবে। কেননা, এই কথার তো এই সঙ্গে দুটো অর্থ হয়। একদিকে ভাবা যায়, দুর্জয় যে পাত্রী দেখতে যাবে বিষয়টা তাকে না জানানোয় তার মন খারাপ। সেটা ভাবলে, নীলার দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু অন্য কারণ, যদি সাইফ ভেবে বসে, দুর্জয়ের বিয়ে করার ইচ্ছে, এই পাত্রী দেখা, গোটা বিষয়টায় নীলার কোনো সমর্থন নেই? সেটা সাইফ ভাবুক, সেটুকু সাইফ জানুক, অনুমান করতে পারুক এর কোনো কিছুই নীলা চায় না। চায় না শুধু না, সেটা ঘটলে তার আর সাইফের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে নীলা ভাবতে পারে না।

‘তাইলে কথা কও না?’

‘বললাম তো কী কব? চা খাওয়া শেষ করো, তোমার সঙ্গে অন্য একটা বিষয়ে আলাপ আছে। বড়ো আপা, আমার বড়ো আপা ফোন দিছিলো একটা বিষয়ে বলেছে, তুমি অফিস থেকে আসলে যেন কল করি।’ নীলা সত্যি বিষয়ান্তরে যেতে পারল।।

‘আচ্ছা। কিন্তু জানো, এ জায়গায় কিছু হবে বলে মনে হয় না, যদিও দুর্জয়ের খানিকটা ইন্টারেস্ট আছে।’

নীলার মনে হয়, বিষয়টা ছাড়া ঠিক হয়নি। আবার দোটানাও কাটে না। তবু সে বলল, ‘হবে না কেন? দুর্জয়ের ইন্টারেস্ট আছে এটা কেন মনে হলো?’ নীলা দুর্জয়ের বিষয়টা শুনতে চায়।

সাইফ আর কথা বাড়ায় না। বলে, ‘না, তোমার শোনার মুড নেই। দুর্জয় আসুক একসঙ্গে গোটা বিষয়টা ডিসকাস করা যাবে।’

নীলা সাইফের সামনে থেকে কাপ নিয়ে রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে টের পায়, এতক্ষণ সাইফের সামনে যে দৃঢ়তায় নিজেকে স্থির রেখেছিল, সেখান থেকে সে সরে যাচ্ছে। প্রতিটি পদক্ষেপে পায়ের নিচের টাইলস-কংক্রিট সরে যাচ্ছে অথবা তার পদক্ষেপ কাঁপছে। নিজের ভার সামলাতে পারছে না। কিন্তু পিছনে সাইফ, প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে স্থির থাকতে হবে। সাধারণত সাইফ এ সময়ে যা করে, এখন যদি এসে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে, নীলাকে সেই হাত আলতো করে ছাড়িয়ে দেয়ার অভিনয় করতে হবে, যেমন সে করে। তা করলেও অবশ্য এই মুহূর্তে তার জন্য একটা ভরসা হয়। তাতে আপাতত টলমল এই দশা কাটিয়ে উঠতে পারে। অন্যমনস্কতা কেটে যাবে, কিন্তু মাথার একদম ভিতরে যে ফাঁকা ভাব সেটা কাটবে তো? নাকি উদ্ভ্রান্ত দশা হলে তার যেমন চোখ বড়ো হয়ে যায়, এখন পিছনে ঘোরামাত্র তার সেই অবস্থা হবে।

নীলা সিংকের ভিতরে কাপটা রাখে; অপেক্ষা করে, সাইফ আসে কি না। সাইফ আসেনি, আসবে না। ট্যাপ থেকে পানি নিয়ে চোখে দেয়, তারপর পুরানো বাংলা সিনেমার একটা গান, ‘রংধনু ছড়িয়ে চেতনার আকাশে আসে আর ভালোবাসে’, খুবই নিচু স্বরে ভাঁজতে ভাঁজতে বেরিয়ে আসে। সাইফ তখন রুমে।

বাতাসে হঠাৎ দুর্জয়ের রুমের দরজাটা বাড়ি খেলে, নীলা সেটা টেনে আটকে দিয়ে সাইফের কাছে যায়।

নীলার এই দোটানার ও টলোমলো অবস্থার কারণ খানিকটা হলেও সাইফ। বিষয়টা নীলার দিক থেকে ভাবলে তাই। আবার, যদি সেভাবে না ভেবে একবারে সরাসরি ভেবে নেয়া যায় অথবা বুঝতে চেষ্টা করা যায়, তাহলে সে নিজেই। দুর্জয়কে সরাসরি এখানে যুক্ত হয়তো করা যায় না।

সাইফ একদিন হঠাৎ দুর্জয়কে সঙ্গে করে নিয়ে হাজির। হলের জুনিয়র। সবে মাস্টার্স দিয়েছে। এর আগে সাইফ তার ব্যাচমেট কাউকে নিয়ে এসেছে বাসায়, এসেছে জুনিয়ররাও কেউ, কিন্তু একবারে টানা কেউ থাকেনি। সেবার দুর্জয়ও একটানা থাকেনি। কয়েকদিন থেকে আবার হলে চলে গিয়েছিল। কিন্তু প্রথম দিনই নীলা বুঝেছিল, সাইফ দুর্জয়কে পছন্দ করে। পছন্দটা তীব্র। কোনো কোনো জুনিয়রের যেমন দায়িত্ব নেয়া যায়, এখানে বিষয়টি প্রায় তেমন। হল ছাড়লে দুর্জয় এরপর কোথায় থাকবে, ঢাকাতেই থাকতে হবে দুর্জয়কে, দুর্জয়ের ক্যারিয়ারের প্রশ্নে সাইফ চিন্তিত। সাংবাদিকতায় দুর্জয়ের আগ্রহ। সেখানে সাইফ তার ব্যাচমেটরা কে কোথায় আছে, কার কাছে দুর্জয়কে পাঠানো যেতে পারেÑএসব বিষয়ে তারা আলাপ করে। এরপর কোনো কোনোদিন দুর্জয় রাতে থাকে। কোনোদিন আবার হলে ফিরে যায়। কখনও টানা কয়েকদিন থাকে। কোথাও সিভি ড্রপ করে রাতে ফিরে আসে সাইফের সঙ্গে। অনেক রাত পর্যন্ত তারা আড্ডা মারে। সে আড্ডায় মূলত ঘুরেফিরে আসে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হল-জীবনের কথা। সাইফ তার সময়কার কথা বলে, তার ছেড়ে আসা সময়ের সঙ্গে দুর্জয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আসা সময় নিয়ে কথা হয়। যদিও নীলা কখনও কখনও কোনো ছুটিতে সাইফের সঙ্গে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছে। তখন এক-আধবার দুর্জয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে। কিন্তু দুজন মানুষের নিজেদের ছেড়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে এত কথা জমা থাকতে পারে তা আগে কখনও মনে হয়নি নীলার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাপ শুনে এই প্রথম নীলা তা উপলব্ধি করতে পারল। তবে ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অসাধারণ সুন্দর, প্রাকৃতিকভাবে ও স্থাপত্যকলায় তাও নীলার মনে হয়েছে। নিজে একটি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছে, কিন্তু ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেখে আর এই দুজনের আলাপ শুনে কখনও কখনও তারও আফসোসের সীমা থাকত না, কেন ওখানে পড়তে পারেনি সে।

এগুলো পিছনের কথা। তবে সাইফ যেদিন দুর্জয়কে বলল, ‘তুই এই জায়গায় থেকে যা। থাক আমাদের সঙ্গে।’ এ কথায় নীলা অবাক হয়েছিল খুব, তাকে একবার জিজ্ঞেস করার কোনো প্রয়োজনবোধ করল না লোকটা? কিন্তু সাইফের যা ধরন তাতে বিষয়টা মেনে নিয়েছিল সে। নীলা জানে কোনো বিষয়েই সাইফ তাকে তোয়াক্কা করে না, কখনও কখনও পাত্তা দেয় না, ক্ষেত্র বিশেষে গুরুত্বহীন। বউয়ের কাজ ঘর সামলানো। পরিবারের ভালোমন্দ দেখভাল-এর বেশি কিছু নয়। নীলাকে সাইফ সেভাবে দেখে, নীলা জানে। যদি এ নিয়ে বলা হয়, নীলা তো নিজের ইচ্ছায় সাইফকে বিয়ে করেছে, পছন্দ করে, বছরদুয়েক প্রেম করে তখন সে সাইফের এ বিষয়টি বোঝেনি, নীলার উত্তর ওই একটাই সে ভালোবেসেছে। দোষ-গুণ মিলিয়েই মানুষ আর সাইফের মতো কেয়ারিং মানুষ আছে কজন। বান্ধবীদের কাছে এভাবে বললে, তখন নীলার বাদ বাকি অপ্রাপ্তির আর কোনো মূল্য তাদের কাছে থাকে না।

দুর্জয়ের কাছে সাইফের এ প্রস্তাবটা দ্বিতীয়বার যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তখন সবে একটা কোচিং সেন্টারে জব পেয়েছে। কোনও একটা নিউজ চ্যানেলে কথাবার্তা হচ্ছে। তবু দুর্জয় বলেছিল, ‘তাই হয় নাকি, ভাবির একটা মতামত আছে না?’

সাইফ রসিকতা করে বলেছিল, ‘তোর ভাবির আবার মতামত কী? সারাদিন বাসায় থাকে, তুই থাকলে মাঝেমধ্যে আড্ডা মারারও মানুষ পাইল।’ তারপর মাস্টার্সের সাইফকে ফার্স্ট ইয়ারের দুর্জয় হলে যেভাবে রসিকতা করতে দেখত প্রায় তেমন ভঙ্গিতে বলতে শোনে, ‘হলে কী বলতাম তুই শুনিছিস আমাদের সেই ডায়ালগ?’

দুর্জয় শুনলেও এখন কোন প্রসঙ্গে, কী নিয়ে বলছে বিষয়টা তার মনে নেই। তাই জানতে চাইল, ‘না, মনে নাই। তোমাগো আড্ডায় পারলে ওবামা-মনোমোহন সবাইরে সাথে বসাইয়ে দিচো কত। আমরা দূর থেকে দেখতাম আর ভাবতাম এই বড়ো ভাইরা পারেও!’

‘আর ডায়ালগটা তো আমরা না, ক্যাপ্টেন মোজাফফরের। ও বলত, যদি কোনো দিন বিয়ে করে, তাহলে বউরে বলবে চুলোর পাশে বসে মইরে শহিদ হয়ে যাবা, তবু স্বামীর কোনো বিষয়ে নাক গলাবা না।’

বলে হাসল সাইফ। কথাটা যেন নীলাকে শুনিয়ে দিল। যদিও এমনভাবে বলেছে, এ স্রেফ রঙ্গ। নীলাও বুঝল, সাইফ রঙ্গ করে বলুক আর সিরিয়াসলি বলুক, তার ভালোমন্দর বিষয়ে নীলার নাক গলানো বারণ। আবার একবারে টেনেটুনে নীলা অতদূর না-ভাবলেও পারে, সাইফ তাকে অনেক বিষয়েই গুরুত্ব দেয়। সংসার সে-ই সামলায়। নীলার এই জগৎ নিয়ে সাইফ একেবারেই উদার। বরং বলে, এসব বিষয়ে আমাকে কেন বল, নিজে যা বোঝ কর। স্মার্ট বিউটিফুল ওম্যান তুমি! তারপর হাসি।

দুর্জয় থাকতে শুরু করল। নীলার কাছে বাড়তি একজন মানুষ, কোনো ধরনের বোঝা কখনও মনে হয়নি। একটু বেশি রাত হলেও প্রায় নির্ধারিত সময়ে বাসায় ফেরে। নীলার কখনও মনে হয়নি নেশা করে। তবে কোনো কোনো দিন, তা প্রায় কালেভদ্রে মদ খেয়ে ফিরেছে। কোনোদিন সাইফের সঙ্গেই ফিরেছে। এসে বসেছে। কোনো লুকোচাপা নেই। এরপর যখন একটা নিউজ চ্যানেলে চাকরি হল, তখন দুর্জয় প্রায়ই একটু দেরি করে, প্রায় দুপুরে বেরোয়, ফেরে মাঝরাতে, অ্যাসাইনমেন্ট না-থাকলে কোনোদিন সাইফের সঙ্গে আটটা-নটার ভিতরে ফিরে আসে। তার আগে হয়তো আজিজ মার্কেটে আড্ডা দিয়েছে। সব মিলিয়ে কিছুদিনের মধ্যে দুর্জয় তাদের সঙ্গে মানিয়ে সংসারের একজন হয়ে যায়। পারিবারিক দায়িত্ব সামলায়। বাজারে যায়। নীলা তার সঙ্গে দেবরসুলভ আচরণ করে। কোনো কোনোদিন বিকালে তারা একসঙ্গে ঘুরতে বেরোয়। যদিও নীলা বুঝে গেছে, এদের আড্ডা মারার জায়গা শেষতক ওই আজিজ মার্কেট, কিছু কিনতে গেলে নিউমার্কেট। স্বভাবে দুজনেই একটু অলস আর আড্ডাবাজ। তবে, দুর্জয় অনেক বেশি নির্ভরশীল, কিছুটা সাংসারিক। নীলার কথায় গুরুত্ব দেয়। চাপায় না কিছুই!

আর যেটা সাইফের একেবারে বিপরীত, নীলাকে মানুষ হিসেবে দেখে, কখনও মেয়েমানুষ হিসেবে নয়। সাইফের ওই একটা ব্যাপার ভিতরে ভিতরে কোনোভাবে সে মেনে নিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দুর্জয় নীলার কাছে খানিকটা আশ্রয়। অথবা, অবলম্বন। আবার যদি দুর্জয়ের দিক থেকে ভাবা হয়, তাহলে দুর্জয়ের অবলম্বন নীলা!

 

একদিন সকালে অফিস যাওয়ার আগে সাইফ নীলাকে অফ হোয়াইট শার্টটা ইস্ত্রি করে দিতে বলে। নীলা সেটা আগের দিনই করে রেখেছিল। কিন্তু গায়ে দেয়ার আগে সাইফ দেখে কলারের ডান দিকে একটা দাগ। লালচে হয়ে আছে। সাইফ চেঁচায়, ‘এই তোমার ইস্তিরি করা, কলারের এই জায়গায় দাগ। দাগের ওপর দিয়ে ইস্তিরি করে জামাটাই দিচো একেবারে!’

‘কই?’ নীলা কাছে আসে। সে সত্যি দেখেনি। এতটা বেখেয়ালি নীলা নয় যে এমন একটা দাগ সে দেখবে না! নীলা যুক্তি দেয়, ‘আমি আয়রন করার সময় এই দাগ ছিল না, বাবু। তুমি দেখ। পরে মনে হয় আলমারির পাল্লায় চাপ লেগে রং লাগচে।’

সাইফের অফিসের তাড়া। আজ এমডির সঙ্গে মিটিং, হেড অফিসে। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে এমন হুলস্থুল করে। আজ কোনো কারণ ছাড়াই গলা চড়া। নীলা এগিয়ে আসতেই সাইফ বলে, ‘তুই দেখ্। আমারে দেহাইয়ে কাজ নেই। খাও তো গায় বাতাস লাগাইয়ে!’

‘ফাও কতা ব’লো না।’

‘ফাও কতা, না ফাউ কতা?’ সাইফ আর একটা জামা ধরে এগিয়ে যায়, ‘তুই সর, এই জায়গা দে। যা, যাইয়ে চিত হইয়ে থাক-

‘নীলারও গলা চড়ে, ‘আবারও ফাও কতা?’

সাইফ নীলাকে থাপ্পড় মারে সজোরে। নিজের রুম থেকে দুর্জয় শোনে। প্রতিদিনই অফিসে যাওয়ার আগে সাইফের গলা শোনে সে। আজ তার চেয়ে গলা উঁচু। কিন্তু এইমাত্র সাইফ যে কাজটা করল, তা কোনোভাবে মেনে নিতে পারল না দুর্জয়। বিছানায় শুয়ে ঘুমাল। নীলা এই মুহূর্তের মুখখানা দেখল। ফরসা গালের একপাশ নিশ্চয়ই লাল হয়ে গেছে। নীলার গলা আর শুনল না। সাইফের জুতো পরার শব্দ। দরজা টানার শব্দ। নীলা নিঃশব্দ!

সাইফ বেরিয়ে যেতেই নীলার রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল দুর্জয়। বিছানার একপাশে নিশ্চুপ বসে আছে নীলা। দুর্জয় ইচ্ছে করেই সেদিকে তাকাল না। নীলা অন্যদিকে ফিরে আছে। দুর্জয় এমন ভাব করছে, যেন সেই প্যাসেজে পানি খেয়ে এসেছে। দরজা ছেড়ে অন্যদিকে গেল। তারপর মুহূর্তে দরজার কাছে ফিরে এসে ঢুকে পড়ল নীলার রুমে। নীলাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে এসে খাটে বসা নীলার মাথাটা দুর্জয় তার বুকের সঙ্গে চেপে ধরল। কাজটা এত দ্রুত করল দুর্জয়, সে আদৌ জানে না অনধিকার চর্চা করল কিনা। নীলার মাথাটা চেপে ধরার পর সে বিব্রতও যেন। নীলার পিঠের দিকে, দুর্জয়ের সামনে খোলা জানালা থেকে এই কয়েক মুহূর্ত দুর্জয় অসহায় চেয়ে থাকল!

প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দুর্জয় বুঝতে পারল, সে ভুল করেনি। এইমাত্র এই অবলম্বনটুকু চাইছিল নীলা। দুর্জয় ডাকল, ‘ভাবি?’

নীলা কান্না জড়ানো ও একই সঙ্গে কান্না চাপা দেয়া স্বরে বলল, ‘এই লোকটা এই করে। যদি কোনোকিছুতে আমারে এট্টু বোঝত। তার জন্য আমি কী না-করি। কীভাবে নিজেরে সবকিছু থেকে দূরে সরায়ে রাখি যদি একবার বোঝতা। তারপর আবার কয়, চিত হয়ে থাকি! কী অশ্লীল কী অশ্লীল। ভালগার!’

‘থাক ভাবি। সাইফ ভাই মানুষ ভালো।’

‘সেই জন্যিই তো আছি।’

দুর্জয়ের বুক থেকে নীলা মাথাটা খানিকটা পেছনে সরিয়েছে। দুর্জয় নীলার মাথা ও ঘাড়ের কাছ ধরে আছে। নীলা দুর্জয়ের কনুইয়ের কাছে ধরা। দুর্জয়ের মনে হয়, এটা নির্ভরতার অনুমোদন। নীলার ওই কথার পরে দুর্জয় এবার তার স্বাভাবিক দার্শনিক সংলাপটা ছাড়ল, ‘সবকিছু নিয়েই জীবন, ভাবি-

‘জানি।’ বলে, নীলা তাই দুর্জয়কে জড়িয়ে ধরল।

দুর্জয়ের মনে হলো, এই জড়িয়ে ধরাটা এতক্ষণের অবজ্ঞা থেকে নিজেকে ফিরে পাওয়া। এরপর দুর্জয় কিছু বোঝার আগেই আরও শক্ত করে ধরল, তারপর আরও শক্ত করে। বিড়বিড় করে নীলা বলল, ‘তুই তবু একটু সান্ত¡না দিস্!’

দুর্জয় প্রাথমিক ভ্যাবাচেকা কাটিয়ে বলল, ‘দেব।’ তারপর মাথা নামাল। নামাতে নামাতে ডান হাতের তালুতে নীলার মুখের ডান দিকটায় ঘষল, সেখানে একটু আগে বসে গিয়েছিল সাইফের আঙুলগুলো। মাথাটা আরও নামিয়ে মুখ নামিয়ে নিল নীলার মুখের কাছে। তারপর খুব ধীরে, যেন নীলার অনুমোদনক্রমে নীলার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াল। ছুঁইয়েই রাখল। অপেক্ষা করল। নীলা সাড়া দিল। দুর্জয়ের মাথা ধরে টানল নিজের আরও কাছে। দুর্জয় আবার নীলার মুখের পাশে হাত দুটো আনল। মুখখানা চেপে ধরল। নীলা ততক্ষণে দুর্জয়ের মাথা নিজের বুকের সঙ্গে চেপে ধরেছে।

এরপর অতিদ্রুত, অকস্মাৎ নিজেদের আবরণহীন করতে সময় তেমন নিল না। নীলার কাছে ঘটনাটা আকস্মিক হয়তো, দুর্জয়ের কাছে তারও বেশি, তবু এখন পরস্পর পরস্পরের অবলম্বন। সেটা ঘটতে দিতে আপত্তি নেই। এখানে যেন অনুমোদনের প্রয়োজনও নেই। এ কোনো নির্ভরতার সহজ প্রকাশও নয় যেন, আবার সবকিছু মিলিয়ে তাই। অভ্যস্ত নীলা যখন চূড়ান্ত বোঝাপড়ার জন্য অপেক্ষমাণ, তখন অনভ্যস্ত প্রায় নবিশ দুর্জয় ততটাই অক্রিয়। যা এই একবার, এর পর আবারও, মাত্র কয়েকদিনের পরই নীলা বুঝে যায়, না শুধু প্রাথমিক জড়তায় নয়, এমনিতে দুর্জয় অক্ষম। যেমন, দুর্জয় হয়তো অস্ফুট জানাত, পারি না। কিন্তু সেই পারি না-টা যে অক্ষমতাই, অভ্যস্ত নীলা তা বুঝে যায়।

অন্যদিকে, সাইফ চূড়ান্ত প্রকার সক্ষম। নীলাকে ধ্বস্ত করে, অবশ করে, নির্ভার করে, নিঃস্ব করে। এতটাই যে দুর্জয়কে কাছে পাবার পরে বিষয়টার তুলনা সে করে নিতে পারে। যদিও অন্যদিক দিয়ে সেই তুলনা কোনোভাবেই সে করতে চায় না। তার কাছে তা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। অনেকটা অহেতুকও। নীলা জানে, দুর্জয়কে সে ভালোবাসে, দুর্জয়ের ওপর সে নির্ভরশীল, সে দুর্জয়ের এবং দুর্জয় তার একমাত্র অবলম্বন যেখানে নিজের সব ধরনের ফাঁক পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে, দুর্জয়কে শরীর দিয়ে সে বিচার করতে চায় না। করেও না। দুর্জয় শরীরহীন শরীর তার কাছে। শরীরহীন অস্তিত্ব। তবু একদিন বলেছিল, যাও ডাক্তারের কাছে।

‘তোমারে না-জানাইয়ে গেছিলাম, ডাক্তার যা বলেছে, তাতে কাজ হয়নি।’

‘কী বলেছে?’

‘টেনশন না করতে ও-সময়।’

‘টেনশন করো নাকি?’

‘না তো। একদিনও না। তবু পারি না।’ শেষটুকু বলতে দুর্জয়ের মুখখানা প্রায় ভেঙেচুরে যাচ্ছিল। সেখানে তাকানো যায়নি। নীলা তাকায়ওনি আর। লোকটা কষ্ট পাবে। কোনো মেয়ের সামনে নিজের অক্ষমতার পরিমাপ করানো কী কষ্টের তা একমাত্র যার ঘটে সেই জানে। নীলা দুর্জয়কে যতটুকু বোঝে তাতে বুঝতে পারে, বিষয়টা থেকে সে লুকোতে চায়।

তবু নীলা বলেছিল, ‘বিয়ে একদিন করতে হবে, বউ থাকবে না।’

‘তহন দেহা যাবে।’

‘এহন দেখা গেলে সমস্যা কোথায়?’

‘বাদ দাও, ভাবি।’

‘না, বাদ না।’

‘ডাক্তার বলেছে, স্পার্ম ঠিক আছে। বাকিটা নিজেই ঠিক করতে হবে।’

নীলা কথা বাড়ায়নি আর। তার সহায়তার প্রসঙ্গ তোলেনি।

নীলা জানে, সে কতটা সহায়ক দুর্জয়ের প্রতি। কাজ হয়নি, কাজ হয় না। তবু তার সহানুভূতির চূড়ান্ত দিয়ে, সবটুকু সহায়তা দিয়ে যদি সে দুর্জয়কে ভালো করে তুলতে পারত। তাহলে সেই চূড়ান্ত মুহূর্তটুকু নীলার কাছে যে অস্তিত্ববিদারী হতো, সে জানে। কল্পনা করে নিতে পারে। কিন্তু ঘটে না। ফলে সত্তায় দুর্জয়, শরীরে সাইফ, হয়ে উঠেছে নীলার কাছে। সাইফ তার স্বামী, কিন্তু সত্তায় নেই। দুর্জয় তার প্রেমিক, সমস্ত সত্তা জুড়ে। সাইফ তার শরীরে, সেখানে নেই দুর্জয়। দুর্জয় তাকে সেখানে জয় করতে পারেনি, অন্যত্র করেছে। এতটাই যে কখনও কখনও দুর্জয়কে ছাড়া নীলা আগামী দিন ভাবতেই পারে না।

 

কাল রাতে সাইফের কাছে বিষয়টা শোনার পর নীলার ভিতরে যে অস্তিত্ববিদারী রূপান্তর ঘটে গেছে তা সে সাইফকে বুঝতে দেয়নি, দেয়ার প্রশ্নও ওঠে না। রাতে দুর্জয় ফিরলে প্রতিদিন যা আচরণ করে, তাই করেছে। কিছুই জানতে চায়নি। অন্তত ইয়ার্কির ছলেও তো কথাটা তুলতে পারত তাদের দুজনের সামনে, তা তোলেনি। রাতে ঘুমতে পারেনি। একেবারে শেষ রাতে চোখ জড়িয়ে নীলা আবার জেগে গেছে। আধোতন্দ্রায় তার মনে হয়েছে, ওই যে পাশের রুমে ঘুমন্ত দুর্জয়, সে তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অন্যের হয়ে যাচ্ছে। তাহলে শুধু একটা শরীর নিয়ে সে বাঁচতে পারবে না। ওই তন্দ্রায় আবার তার মনে হয়েছে, দুর্জয়ের জীবন দুর্জয়ের, ওর ভবিষ্যৎ আছে। সেখানে বাধা দেবার সে কে? এই যুক্তি নীলার জানা আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে নীলা অজ্ঞাতেই যুক্তিহীন। সে জানে না, কেন দুর্জয়কে সে আটকাতে চাইছে।

এখন সাইফ অফিসে বেরিয়ে গেলে, নীলা দুর্জয়ের ঘুম থেকে ওঠার জন্য অপেক্ষা করে। একবার ভাবে, দুর্জয়কে এখন ডেকে তুলে জিজ্ঞাসা করে। ভাবে, না থাক উঠুক। উঠলে জানতে চাইবে। আবার ভাবে, না বিষয়টা একদম হেসে উড়িয়ে দেবে। স্রেফ এমনিতে জানতে চাইবে, কী বাবু দেখি পাত্রী দেখে বেড়ায়, ভাবীরে কিছু জানায় না? তাও একটু পরে তার কাছে অনুমোদন পায় না।

নীলা ঘড়ির দিকে তাকায়। দুর্জয়ের ওঠার সময় হলো। ফ্রিজ থেকে ডিম-পাউরুটি বের করে। নীলা দুর্জয়ের সঙ্গে নাস্তা খাবে। চায়ের পানি ঢালে, ঢেলে রাখে। একবার দুর্জয়ের রুমের সামনে যায়। বালিশ জড়িয়ে অকাতরে ঘুমাচ্ছে। একেবারে বাচ্চাদের মতো ঘুম। দেখতেও ভালো লাগে। হঠাৎ আড়মোড়া ভাঙবে। চোখ খুলে তাকিয়ে থাকবে ছাদের দিকে। তারপর আবার কিছুক্ষণের জন্য চোখ বুজে থাকবে। উঠুক, ডাকবে না। ডাইনিং টেবিলের দিকে আসতে, দুর্জয়ের কদিন আগে ইউটিউবে শোনানো গানটা গায় গুনগুনিয়ে : রংধনু ছড়িয়ে চেতনার আকাশে, আসে আর ভালোবাসে! ববিতার মুখটা মনে পড়ে। ওই একটা লাইন নীলা বারবার গুনগুনিয়ে গাইতে গাইতে হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে দেখে দুর্জয় দাঁড়ানো। তার দিকে চেয়ে হাসছে।

দুর্জয়ের এই হাসি দেখতে দেখতে, নীলা দুর্জয়ের দিকে এক পা দু-পা এগিয়ে আসে। আর সিদ্ধান্ত নেয়, দুর্জয়কে সে কিছুই বলবে না!…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares