প্রবন্ধ

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩ – ১৯৩১)

বাংলা ভাষাসাহিত্যের

এক প্রাতঃস্মরণীয় নাম

পদ্মনাভ অধিকারী

 

অখণ্ড ভারতবর্ষ থেকে এ পর্যন্ত বাংলায় প্রতœতত্ত্বে, ইতিহাসে, ধর্মসাহিত্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, বিদগ্ধগুণী, জ্ঞানতাপস এবং ভাষাসাহিত্যের গবেষক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, আলোচক, ঔপন্যাসিক, গাল্পিক- প-িত মহামহোপাধ্যায় মানুষটি হচ্ছেন- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

শিক্ষিত বাঙালির কাছে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নামটি অপরিচিত হয়। ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’ পুঁথি আবিষ্কার ও প্রকাশের ফলে বাংলা তথা পূর্বভারতীয় প্রান্তিক ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসের পরিধি পাঁচ-সাত শ বছর বেড়ে গেছে। এই ঘটনাটুকুতে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়েছে।

কিন্তু এ পরিচয় বাইরের সাইনবোর্ডে লেখার মতো। স্বীয় মণীষার ও বৈদগ্ধ্যের কৃতিত্বের জন্যেও শাস্ত্রী মহাশয় বাঙালির কাছে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। শাস্ত্রী মহাশয়ের মণীষার ফল আমরা নানা রূপে ও রসে পেয়েছি। তিনি সরস অনুবাদ করেছেন, সরস গল্প ও কাহিনি লিখেছেন, সহজ সরল সরস রীতিতে ইতিহাস সাহিত্য ও ভারততত্ত্বের বিবিধ বিষয়ের আলোচনা করেছেন। দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পক্ষে বহুমূল্য উপাদানও তিনি আবিষ্কার ও সংগ্রহ করে গিয়েছেন। তাছাড়া বাংলা ভাষার রীতি বিষয়েও তাঁর স্বচ্ছ দৃষ্টি কিছু নূতন আলোকপাত করেছে।

ভারততত্ত্বের নানাবিষয়ে অনেক সম্ভাব্য গবেষণার সূত্র ছড়িয়ে আছে শাস্ত্রী মশায়ের রচনায়। তা খুঁজে নিয়ে যদি কোনো গবেষক পণ্ডিত শাস্ত্রী মহাশয়ের ক্ষেত্রে লেখনী কর্ষণ করেন তবে তাঁর শ্রম সফল হবে।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ব্যক্তি পরিচয় তাঁর পাণ্ডিত্য-বৈদগ্ধ্যের পরিচয়ের তুলনায় কম উল্লেখযোগ্য নয়। তিনি ব্রাহ্মণ ছিলেন।  তাঁর শিক্ষারম্ভ হয়েছিল টোলে। কিন্তু তারপর শিক্ষা পেয়েছিলেন তিনি কলেজে। তিনি এম.এ. পাস পণ্ডিত। সংস্কৃত জ্ঞান ও ইংরেজি বিদ্যা দুই-ই যুগপৎ আয়ত্ত করতে পেরেছিলেন।

হরপ্রসাদ এম.এ. পাস করবার পরই রাজেন্দ্রলাল মিত্র মহাশয়ের সংস্পর্শে এসেছিলেন। রাজেন্দ্রলাল আমাদের দেশে প্রথম ভারততত্ত্ববেত্তার সম্মান-মুকুটের অধিকারী। আমাদের দেশে আধুনিককালে বৌদ্ধশাস্ত্রের আলোচনায় অগ্রণী ছিলেন রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। তিনি যখন নেপালে প্রাপ্ত পুঁথি নিয়ে সংস্কৃতে অল্পবিস্তর প্রাকৃত মিশ্রিত ভাষায়- লেখা মহাযান বৌদ্ধশাস্ত্রের বিবরণ লিখতে ব্যস্ত ছিলেন তখন তাঁর অসুস্থতার দরুণ ভালো সহকারীর আবশ্যক হয়। অনুকূল দৈব সংঘটনায় সেই কাজে রাজেন্দ্রলাল হরপ্রসাদকে গ্রহণ করেছিলেন (১৮৭৮ খ্রি.)।

হরপ্রসাদ তাঁকে প্রচুর সাহায্য করেছিলেন। মিত্র ও শাস্ত্রীর এই যুক্ত প্রচেষ্টার ফল  The Sanskrit Buddhist Literature of Nepal (১৮৮২ খ্রি.)। রাজেন্দ্রলালের কাছ থেকে হরপ্রসাদ বৌদ্ধশাস্ত্রে প্রবেশের চাবিকাঠি পেলেন। পুঁথি-সমুদ্রেরও সন্ধান পেলেন। রাজেন্দ্রলালের একটা বড়ো কাজ, দেশের চারদিকে ছড়ানো সংস্কৃত পুঁথির বিবরণ সংগ্রহ ও প্রকাশ। রাজেন্দ্রলালের সব কাজই করা হয়েছিল কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির তরফে।

এই কাজে- পুঁথির অনুসন্ধান ও তার বিবরণ প্রকাশে- হরপ্রসাদ-রাজেন্দ্রলালের কাছে দীক্ষা পেয়েছিলেন। এই পথেই হরপ্রসাদের মনীষা সার্থক হয়েছিল।

হরপ্রসাদ বৌদ্ধবিদ্যায় প্রবেশ লাভ করে ও সংস্কৃত পুঁথির আলোচনা করে যে জ্ঞান সঞ্চয় করেছিলেন তার জন্যই প্রধানত তিনি সমসাময়িক ও পরবর্তীকালের ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের মধ্যে ছিলেন সমধিক উন্নতশীর্ষ।

বৌদ্ধশাস্ত্রের বিশেষ করে মহাযান দর্শন ও তান্ত্রিক সাহিত্য আলোচনার ফলে তাঁর ঐতিহাসিক বিচারবুদ্ধি স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হয়েছিল।

আর সংস্কৃত পুঁথির সাগর মন্থন করায় তাঁর ইতিহাসবোধ গভীর ও সূক্ষ্ম হয়েছিল। তিনি ইতিহাসের বই পড়ে ঐতিহাসিক হন নি, পুঁথি ঘেঁটে প্রাচীন দলিল হাতড়ে, নানা দেশের প্রাচীন ও আধুনিক ক্রিয়াকর্ম আচার-ব্যবহার অনুধাবন করে তাঁর ইতিহাসজ্ঞান মজ্জাগত হয়েছিল। এজন্যে বাঙালি ঐতিহাসিকদের মধ্যে অগ্রণী রাজেন্দ্রলাল মিত্রের পরেই হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম এবং পরবর্তীকালের ঐতিহাসিকের নামমালায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম সর্বাগ্রগণ্য।

পরবর্তীকালে ভারততাত্ত্বিক ঐতিহাসিক পণ্ডিতেরা সকলেই তাঁর শিষ্য অথবা ভাবশিষ্য। যেমন, শ্রীযুক্ত রাধাগোবিন্দ বসাক, রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, নলিনীকান্ত ভট্টশালী, রমেশচন্দ্র মজুমদার, অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ, নিখিলনাথ রায় প্রমূখ।

রাজেন্দ্রলাল ও হরপ্রসাদ ছাড়া আর কাউকে ঠিক ভারততাত্ত্বিক (Indologist) বলা চলে না।

হরপ্রসাদ সংস্কৃত খুব ভালো জানতেন, পালি প্রাকৃত বেশ ভালো জানা ছিল, অপভ্রংশ-অবহট্ঠ ও অনুশীলন করেছিলেন, বাংলায় অগাধ অধিকার ছিল। তাছাড়া হিন্দি, রাজস্থানি, গুজরাটি, মৈথিলিও জানতেন। প্রত্মতত্ত্বেও তাঁর ঔৎসুক্য ছিল। এই দিক দিয়ে তাঁর কেউ জুড়ি ছিল না। হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’র মূল্য তো সকলেই মোটামুটি জানেন। অপর বহু বিচিত্র প্রাচীনগ্রন্থ আবিষ্কারের মধ্যে আমি শুধু তিনটি বইয়ের উল্লেখ করব। সৌন্দরনন্দ কাব্য, রামচরিত ও কীর্তিলতা। অশ্বঘোষের সৌন্দরনন্দ কাব্যের কোথাও কোনো উল্লেখমাত্র ছিল না। বন্দ্যঘটীয় সর্বানন্দের টীকাসর্বস্বে কাব্যটি থেকে কিছু উদ্ধৃতি থাকায় প-িতেরা সৌন্দরনন্দ কাব্যের অস্তিত্ব জানতে পারেন।

সর্বানন্দ বাঙালি ছিলেন। বোঝা গেল যে-অশ্বঘোষের এই কাব্যটি অন্যত্র লুপ্ত হলেও বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল। এই কাব্যের পুঁথি হরপ্রসাদ আবিষ্কার করেছিলেন নেপালে। এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত হয় Bibliotheca Indica গ্রন্থমালায় (১৯১০ খ্রি.)। সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাসে এ এক অতিশয় মূল্যবান সংযোজন। রামচরিত কাব্যের পুঁথিও হরপ্রসাদ পেয়েছিলেন নেপালে। বইটি একটি অদ্ভুত রচনা। দ্ব্যর্থ কাব্য। শ্লোকগুলির এক অর্থে পাই রামচন্দ্রের সীতা উদ্ধার কাহিনী, অপর অর্থে পাই রামপালদেবের পিতৃভূমি বরেন্দ্রী বিপক্ষহস্ত থেকে উদ্ধারের কাহিনী। বইটি বাংলাদেশে লেখা প্রথম ইতিহাসের বলতে পারি সমসাময়িক ইতিহাসের বই।

ভারততত্ত্বের বাইরে হরপ্রসাদের মনীষার ও বৈদগ্ধ্যের বিশেষ প্রকাশ ঘটেছে তাঁর বাংলা রচনার স্টাইলে। বাংলা লেখায় তার গুরু ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। রাজেন্দ্রলালের সাহচর্য পাবার আগেই তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের স্নেহলাভ করেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁদের প্রতিবেশী ছিলেন বলা যায়। বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষা তাঁর এতটাই আয়ত্ত হয়েছিল যে, তাঁর কাঞ্চনমালা নামে ঐতিহাসিক আখ্যায়িকাটি অনেকে বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা বলে ভুল করেছিলেন। (গল্পটি বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হয়েছিল) তখন বঙ্গদর্শনে প্রায়ই লেখকের নাম উল্লিখিত হত না। এর কারণ ঠিক জানা যায় না। অনুমান হয়, লেখকের নাম অপরিচিত হলে পাঠকেরা তা উপেক্ষা করতে পারেন এই আশঙ্কা।

বাংলা রচনায় গোড়া থেকে হরপ্রসাদের একটু বিশেষ ক্ষমতা  (Flair) ছিল, পণ্ডিত তিনি, সাধুভাষায় দখল তাঁর স্বতঃসিদ্ধ। সেই সঙ্গে তাঁর আসক্তি ছিল চলিত ভাষার শব্দে, কথ্যভাষার ইডিয়মে। এই দুইয়ের সহযোগ হরপ্রসাদের লেখন-শিল্পের প্রসাধন্য ঘটিয়েছে।

সঞ্জীবচন্দ্রের লেখাতেও এই রকম পাই। তবে তাঁর লেখায় হরপ্রসাদের মতো মনোযোগের পরিচয় খুব নেই। এই স্টাইল দীক্ষা যদি হরপ্রসাদ সঞ্জীবচন্দ্রের কাছে পেয়ে থাকেন তবে বলতে হবে যে এ শিল্পে তিনি গুরুকে লজ্জায় ফেলেন নি।

হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (১৮৫৩-১৯৩১ খ্রি.) আপন কালের অনিবার্য সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্বদেশ জিজ্ঞাসায় তিনি একটা যুক্তিযুক্ত, বিচারবুদ্ধিনির্ভর অবস্থানে দাঁড়াতে পেরেছিলেন। বিবেচ্য বিষয়কে তিনি যুগবিশেষের সামাজিক শক্তিগুলির দ্বন্দ্ব-বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ করেন। বক্তব্যের ভিত রচনা করেন বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণের সাহায্যে। সে তথ্যের বেশিরভাগ তাঁরই আবিষ্কার। রাজশক্তির ওঠা-পড়ার বিবরণকে তিনি প্রকৃত ইতিহাস মনে করতেন না। “যেমন কলিকাতার গঙ্গায় বয়া ভাসে, তেমনি ভারতবর্ষের ইতিহাসে কতকগুলি রাজবংশ ভাসিতে লাগিল,…”১ বিকাশের শিল্প সাহিত্যের বিবর্তনের, জনজীবনে আচরিত ধর্মের রূপ-রূপান্তরের বিচিত্র তথ্য সংগ্রহ এবং বিচার বিশ্লেষণ করেছেন। সামগ্রিক ইতিাহস-তত্ত্বের বোধের দিক থেকে, বিচার বুদ্ধি প্রয়োগের দিক থেকে তাঁর রচনাবলী আমাদের স্বদেশ-চর্চায় আজও একান্ত প্রাসঙ্গিক। শুদ্ধ চৈতন্যের স্বাবলম্বন অকস্মাৎ কারও আয়ত্তে এসে যায় না। অর্জিত হয় বহু মনীষীর পরস্পরাগত আয়াসে। দৃষ্টি ও অনাবিল যুুক্তিবুদ্ধির উপরে নির্ভরতার পথে বাধা দুস্তর।

রাজেন্দ্র বিদ্যালংকার তাঁর সময়ে খ্যাতি প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন। যশোর জেলার নলডাঙার রাজা তাঁকে সভাপণ্ডিতের মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করেন। তাঁর পর থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিদ্যাচর্চায় এঁদের প্রতিষ্ঠা ক্রমেই বেড়েছে।

শাস্ত্রীমশায়ের প্রপিতামহ মাণিক্য তর্কভূষণ (মৃত্যু আ. ১৮০৯ খ্রি.) ১৭৫৭-র পলাশির যুদ্ধের পরে খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামের ভদ্রাসন ছেড়ে এসে কলকাতার ৩৮ কিলোমিটার উত্তরে নৈহাটিতে বসবাস শুরু করেন। কুমিরায় তাঁর প্রতিষ্ঠা কিছু কম ছিল না। পাণ্ডিত্যের সমাদর করে যশোর-খুলনা দাঁতিয়া, নুরনগর, সর্পরাজপুরের জমিদারা তাঁকে অনেক জমিজমা দেন। তবুও কালের পরিবর্তনে এই অঞ্চলের দ্রুত শ্রীবৃদ্ধির সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তিনি কলকাতার কাছাকাছি বাস তুলে নিয়ে এলেন। মাণিক্যর দূরদৃষ্টির ফলে তাঁর উত্তর পুরুষরা কলকাতার নতুন বিদ্যাচর্চার এবং সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছেন। নৈহাটিতে টোল প্রতিষ্ঠা করে মাণিক্য কষ্টে দিন যাপন করতেন। মাণিক্য কলকাতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রাখতেন। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা বিচারপতি স্যার উইলিয়াম জোন্স এর (১৭৪৬-৯৪ খ্রি.) বিশেষ প্রীতিভাজন ছিলেন, বিচারের কাজে হিন্দু আইনের ব্যাখ্যায় জোন্স তাঁর সাহায্য নিতেন। মাণিক্য তর্কভূষণের বাড়ির টোলের প্রভাব সম্পর্কে রমাপ্রসাদ রায় (১৮১৭-৬২ খ্রি.) ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে মন্তব্য করেছিলেন, “At this moment I believe one half of the real Sanskrit Celebrities in this country are students of his [নন্দকুমার ন্যায়চঞ্চুর]   ancestors…”   মাণিক্যর ছয় ছেলেই পারিবারিক ধারায় বিদ্যাচর্চা করেন। তৃতীয় শ্রীনাথ তর্কালংকার (মৃত্যু আ. ১৮০৮ খ্রি.) মেধায় প্রখর এবং স্বভাবে একরোখা মানুষ ছিলেন। পণ্ডিত সভায় তর্কযুদ্ধে তাঁর মেধা ও স্বভাবের খরতা প্রকাশ পেত। তিরিশ পেরোবার আগেই শ্রীনাথের অপমৃত্যু হয় দস্যুদের হাতে।

তাঁর ছেলে রামকমল ন্যায়রত্ন (মৃত্যু ১৮৬১ খ্রি.)।

রামকমলের ছয় ছেলে- নন্দকুমার, রঘুনাথ, যদুনাথ, হেমনাথ, শরৎনাথ (হরপ্রসাদ) এবং মেঘনাথ।

হরপ্রসাদের বড়োদাদা নন্দকুমার ন্যায়চুঞ্চু তর্করত্ন (১৮৩৫-৬২ খ্রি.)

দাদামশাই রামমাণিক্য বিদ্যালংকারের শিক্ষার গুণে এবং অসামান্য মেধায় খুব অল্প বয়সে পাণ্ডিত্যে খ্যাতি অর্জন করেন। মাত্র উনিশ বছর বয়সে পৌঢ় পণ্ডিত শ্রীরাম শিরোমণিকে তর্কযুদ্ধে হারিয়ে দেশের পণ্ডিত সমাজে স্বীকৃতি পান। তরুণ পণ্ডিতের প্রতিভায় আকৃষ্ট হয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-৯১ খ্র.) সংস্কৃত কলেজে (প্রতিষ্ঠা ১৮২৪ খ্রি.) অধ্যাপনার কাজ দেন (১৮৫৬ খ্রি.)।

ইংরেজ রাজত্বে আবহমান সংস্কৃত বিদ্যাচর্চার পরিণতি সম্পর্কে শাস্ত্রীমশায় লিখেছেন, “ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহুদিন পর্যন্ত, ভট্টাচার্যদিগের প্রাধান্য ছিল সত্য; কিন্তু চিন্তাশীল ব্যক্তি মাত্রই জানিতে পারিয়াছিলেন যে, সে প্রাধান্য অধিক দিন থাকিবে না। জগন্নাথ তর্কপঞ্চাননাদির পর যেসকল পণ্ডিত হইয়াছিলেন; সকলেই জানে যে, তাঁহারা উক্ত মহাত্মাদিগের অপেক্ষায় অনেক অনেক অংশে নিকৃষ্ট তাহার পর আরো নিকৃষ্ট তাহার পর আরো নিকৃষ্ট।”

ইংরেজি শিক্ষা প্রভাবিত আধুনিকতার ফলাফল বিচার করে জীবনের শেষে শাস্ত্রীমশায় ভাবতেন সংস্কৃত, আরবি, ফারসি আশ্রিত দেশীয় বিদ্যাচর্চার ধারাকেই আধুনিক পর্যায়ে আনা যেত, যদি না বৃটিশ সরকার বাধা না দিত। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ১৯২৮এ লাহোর ভাষণে বলেন “The misChief in relegating Sanskrit (and Arabic) culture to a secondary place and in not modernising it (like what has been done in the mediaeval universities of Europe with the latin culture) has been great”২ এই ‘দুষ্কৃতির’ মূল টমাস ব্যবিংটন মেকলের শিক্ষা-বিষয়ক, প্রস্তাব (১৮৩৫ খ্রি.) সম্পর্কে তীক্ষ্ম মন্তব্য করেন। সত্য তবুও সত্যই।

১৮৬১-৬২’র মধ্যে পর পর রামকমল এবং নন্দকুমারের মৃত্যু হওয়ায় এ’দের পরিবার দুর্গতির মধ্যে পড়ে।

হরপ্রসাদের ‘এ বি সি শিক্ষা কান্দীর স্কুলেই হয়’ ৮/৯ বছর বয়সে। তখন তাঁর নাম ছিল শরৎনাথ ভট্টাচার্য। একবার কঠিন অসুখে শিবের প্রসাদে সেরে ওঠায় নতুন নামকরণ হয় হরপ্রসাদ। দাদার মৃত্যুতে কান্দী থেকে চলে আসতে হল উপর্জনহীন, অভিভাবকহীন পরিবারের ছেলেদের পড়াশুনোর ব্যবস্থা নিশ্চয়ই ভালো ছিল না। ১৮৬৬ সালে বিদাসাগর মশায় তাঁকে নিজের বাড়ির ছাত্রাবাসে এনে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করে দেন। এইভাবে হরপ্রসাদ বিদ্যাসাগরমশায়ের সংস্পর্শে এলেন এবং এ সম্পর্ক ক্রমেই নিবিড় হয়েছে। প্রত্যক্ষ ছাত্র না হলেও বিদ্যাচর্চায় তিনি বিদ্যাসাগরমশায়ের উপরে নির্ভর করতেন এবং বরাবর সম্পর্ক রাখতেন- এমন প্রমাণ আছে হরপ্রসাদের মানসিক গঠন, সাহিত্য- রুচিতে জ্ঞান-দৃষ্টিতে বিদ্যাসাগরের প্রভাব গভীর।

১৮৬৬ থেকে ৭৭ পর্যন্ত কৃতিত্বময় ছাত্র-জীবনে শাস্ত্রীমশায় পড়াশুনো করেন মূলত সংস্কৃত কলেজে এবং অংশত প্রেসিডেন্সি কলেজে। সংস্কৃত কলেজে তিনি অধ্যক্ষ হিসাবে পান প্রসন্ন কুমার সর্বাধিকারী (১৮২৫-৭৭ খ্রি.) এবং মহেশচন্দ্র ন্যায়রতœকে (১২৪২-১৩১২ বঙ্গাব্দ)। প্রসন্নকুমার ইংরেজি এবং সংস্কৃত বিদ্যায় সমান পারঙ্গম ছিলেন। তাঁর প্রভাবে এবং ব্যবস্থাপনায় ছাত্ররা দুই ধারা থেকে মানসিক পুষ্টির সুযোগ পেত।

বিদ্যাজীবী প্রাচীন পণ্ডিত বংশের ছেলে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আধুনিক শিক্ষা-সংস্কৃতির কেন্দ্র কলকাতায় এই পরিবেশে বড় হয়ে ওঠেন। টোলচতুষ্পাঠীর শিক্ষা-পদ্ধতিতে অর্জিত বিদ্যায় শাস্ত্রীমশায়ের পূর্বপুরুষদের মধ্যে অনেকেই চূড়ান্ত শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। আবৃত্তি পুনরাবৃত্তিময় সেই বিদ্যাচর্চার গণ্ডির মধ্যে থেকেও নন্দকুমার প্রথম ইংরেজির সংস্পর্শে আসেন। শাস্ত্রীমশায়ের মেজোদাদা রঘুনাথ (মৃত্যু ১৮৯৭ খ্রি.) এবং সেজোদাদা যদুনাথ (মৃত্যু আ. ১৮৯৯ খ্রি.) সংস্কৃত বিদ্যার সঙ্গে আর সংস্রব রাখেননি। ইংরাজিতে দক্ষ রঘুনাথ কিছুদিন কবি মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-৭৩ খ্রি.) কাছে তাঁর লেখক হিসাবে কাজ করেন। নতুন ধরনের জীবিকার সন্ধানে এঁরা দুজনেই বাংলার বাইরে চলে যান। ছোটো ভাই মেঘনাথ ও (১৮৫৫-১৯১১ খ্রি.) জয়পুর মহারাজা কলেজে অঙ্কের অধ্যাপক এবং উপাধ্যক্ষ ছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় পর্বে এঁদের পারিবারিক পরিবেশ এমনিভাবে দ্রুত বদলে গেল। প্রতিভার সহজাত দায়িত্ববোধে জীবনের কৃত্য বিষয়ে সংকল্প গঠনের এই পর্যায়ে বংশগত পাণ্ডিত্যের উত্তরাধিকার বোধ তাঁর ব্যক্তিত্বের মানস চরিত্রের শিকড়ের মতো কাজ করেছে। এরই টানে তাঁর চিন্তাচেতনা স্বদেশের  দিকে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু যে মন নিয়ে প্রাচীন বিদ্যার জগতের, স্বদেশী সংস্কৃতির মর্মজিজ্ঞাসায় নিবিষ্ট হন সে মন গড়ে উঠেছিল তাঁর শিক্ষাদীক্ষার পরিবেশের মনন-বিচ্ছুরণের প্রভাবে। এমন বিচারশীল, যুক্তিপরায়ণ; ইতিহাসবোধ এর মেরু। টোল-চতুষ্পাঠীর বিদ্যাচর্চার সঙ্গে তাঁর চর্চার তাই কোনো মিল নেই। বিদ্যাসাগর অধ্যক্ষ তার সময়ে যে ধরনের মানুষ তৈরির কথা ভেবে সংস্কৃত কলেজের শিক্ষা পদ্ধতি আমূল সংস্কার করে এসেছিলেন, মনের চরিত্রের দিক থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীকে সেই আদর্শের প্রতিরূপ বলা যায়।

‘বঙ্গদর্শন’ (১৮৭২ খ্রি.) পত্রিকার প্রভাবে বাংলা সাহিত্য সৃষ্টিবৈচিত্র্যে নুতন যুগে উত্তীর্ণ হল। হরপ্রসাদ তখন সংস্কৃত কলেজের উঁচু ক্লাসের ছাত্র। রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় (১৮৪৫-৮৬ খ্রি.) ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্রের (১৮৩৮-৯৪ খ্রি.) ইস্টগোষ্ঠীর অন্যতম, বঙ্গদর্শনে লিখতেন। বাংলাদেশের প্রথম ‘প্রকৃত সামাজিক ইতিহাস”৩ এর লেখক রাজকৃষ্ণ তাঁর স্নেহভাজন হরপ্রসাদকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সদ্য বি.এ. পাস হরপ্রসাদের গবেষণা নিবন্ধ ‘ভারত-মহিলা’ পড়ে এই তরুণের সাহিত্যিক প্রতিভায়, অবলোকনের বৈশিষ্ট্যে এবং গদ্য শৈলীর অনন্যতায় বঙ্কিমচন্দ্র মুগ্ধ হন। ‘ভারত মহিলা’ তিনি বঙ্গদর্শনে প্রকাশ করলেন (মাঘ-চৈত্র ১২৮২ বঙ্গাবব্দ)। হরপ্রসাদের পক্ষে এ এক দুর্লভ সুযোগ। ছাত্র বয়সেই তাঁর আরও কয়েকটি লেখা বঙ্গদর্শনে এবং যোগেন্দ্রনাথ বিদ্যাভূষণের (১৮৪৫- ১৯০৪ খ্রি.) ‘আর্যদর্শন’ (১৮৭৪ খৃঃ) পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

বিদ্যাসাগর চাইতেন, সংস্কৃত কলেজে তৈরি ছেলেরা প্রাচ্য-পাশ্চাত্য জ্ঞানে মার্জিত মন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের যোগ্য লেখক হয়ে ওঠেন। “যতদিন না সুশিক্ষিত জ্ঞানবন্ত বাঙালিরা বাঙ্গালা ভাষায় আপন উক্তি সকল বিন্যস্ত করিবেন, ততদিন বাঙালীর উন্নতির কোন সম্ভাবনা নাই”৪ বঙ্গদর্শন প্রকাশের মূলে ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের এই প্রতীতি। তরুণ হরপ্রসাদের সৃজনপর প্রতিভা উন্মীলিত হয় এই ভাব-মণ্ডলে এবং ছাত্রবয়স পেরোবার আগেই তাঁর সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হলো।

চব্বিশ বছর বয়সে হরপ্রসাদ যখন ছাত্রজীবন শেষ করে কলেজ থেকে বেরোলেন, কলকাতার জ্ঞানী-গুণী সমাজের দৃষ্টিতে তখনই তিনি একজন শ্রদ্ধেয় মানুষ। এই মনোভাবের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর সম্পর্কে রমেশচন্দ্র দত্ত (১৮৪৮-১৯০৯ খ্রি.) এবং রাজেন্দ্রলাল মিত্রের (১৮২২-৯১ খ্রি.) আগ্রহে। এই দুই ভারত-জিজ্ঞাসু পাশ্চাত্য শিক্ষায় মার্জিত তীক্ষè মনীষার অধিকারী ছিলেন, হরপ্রসাদকে মানসিকতায় বিদ্যাবত্তায় নিজেদের সমপর্যায়ের মনে করতেন। এঁরা দুজনেই নিজেদের কাজে হরপ্রসাদের সাহায্য চান এবং হরপ্রসাদ এঁদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেন। The Economic History of India’র (১৯০২ খ্রি.) লেখক রমেশচন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘ প্রত্যক্ষ যোগাযোগে ভারতীয় জীবনের বাস্তব ভিত্তি বিষয়ে কৃষি-কারু উৎপাদন, জমির বিলি ব্যবস্থা, খাজনার আইন, করনীতি ইত্যাদি বিসয়ে হরপ্রসাদ আগ্রহী হয়ে ওঠেন মনে হয়। এই-সব প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বঙ্গদর্শনে প্রবন্ধ লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ অভিভাষণগুলিতে প্রাচীন ও আধুনিক ভারতের বৈষয়িক জীবনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেছেন। ভারতবিদ্যার চর্চায় প্রাচীন ভারতের বৈষয়িক জীবন ও সামাজিক রীতি-পদ্ধতি সংক্রান্ত শাস্ত্রের তাঁর বিশেষ অভিনিবেশে এই দৃষ্টির বিস্তার ঘটেছিল, যার প্রমাণ Magadhan Literature (১৯২৩ খ্রি.) গ্রন্থে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও বাৎসায়ন-কামসূত্র বিষয়ে আলোচনা এবং Journal of the Bihar and Orissa Research Society তে প্রকাশিত (১৯১৮ খ্রি.) “Gazetter literature in Sanskrit”  প্রবন্ধ।

শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে ভ্রান্ত সংস্কার জিইয়ে রাখার বিরুদ্ধে সংগ্রামের উপায় হিসাবে রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩ খ্রি.) শাস্ত্রগ্রন্থ অনুবাদ শুরু করেছিলেন। ঋগে¦দের অনুবাদ এই ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কলেজ ছাড়ার পরে হরপ্রসাদ রাজেন্দ্রলাল মিত্রের সঙ্গেও কাজ করবার সুযোগ পান। রাজেন্দ্রলালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিবরণ শাস্ত্রীমশায় নিজেই বলে গেছেন।”৫ তাঁর সম্পর্কে রাজেন্দ্রলালের ধারণার পরিচয় আছে The Sanskrit Buddhist literature of Nepal  (১৮৮২ খ্রি.) বইয়ের ভূমিকায়। “…a friend of mine….” হরপ্রসাদের “…thorough mastery of the Sanskrit language and knowledge of European literature….”  এ গভীর আস্থায় রাজেন্দ্রলাল তাঁকে আধুনিক পদ্ধতিতে গবেষণায় দীক্ষা দেন। বাংলা সাহিত্যের সংস্রবে আধুনিক জীবনের সমস্যা সম্পর্কে তিনি সচেতন হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানকে বুঝবার আগ্রহে অতীত ইতিহাসের সত্য পরিচয় উন্মোচনের কাজে নিবিষ্ট হন। আবার তথ্যের দিক থেকে এবং ব্যাপ্ত ইতিহাস-বোধে তাঁর রচনা সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে গবেষণার অভিজ্ঞতায়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি স্যার উইলিয়াম জোন্স,”৬ এদেশে আসার পথে জাহাজে বসে উপলব্ধি করেন, কী গুরুত্বময় এবং বিশাল একটি এলাকা এখনো অনাবিষ্কৃত পড়ে রয়েছে। তখন তাঁর দৃষ্টির সামনে ভারতবর্ষ, বাঁয়ে পারস্য, আর বয়ে আসছে আরব্য বাতাস। তখনই বাংলাদেশে প্রবাসী স্বদেশীয়দের সংঘবদ্ধ করে এশিয়াকে জানার কাজ শুরু করবেন সংকল্প করেছিলেন। এশিয়ার ভৌগোলিক পরিসীমার মধ্যে মানুষের যা কিছু কীর্তি এবং প্রকৃতির যা কিছু উৎপাদন- অনুসন্ধানের জন্যে ১৫ জানুয়ারি ১৭৮৪ এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপন করলেন। কবিত্বে, দার্শনিকতায় ভরপুর জোন্স ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন আদর্শ ‘ইংরেজ ভদ্রলোক’।

এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষণা যে- “উদ্দেশ্যেই নিয়ন্ত্রিত হোক, এখানে প্রথম থেকে কাজ হয়েছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতির মূল কথা, মানবিক সৃষ্টির কোনের নিদর্শন বিচ্ছিন্নভাবে দেখার পরিবর্তে বিবর্তনশীল ইতিহাসের, সামাজিক রূপান্তরের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা এবং বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে প্রকাশিত বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করে তার পারস্পারিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা। রাজেন্দ্রলাল মিত্র শাস্ত্রীমশায়কে এশিয়াটিক সোসাইটিতে আনেন (১৮৮৫ খ্রি.) এবং এখানকার গবেষণার ধারার সঙ্গে তাঁকে পরিচিত করেন। সংস্কৃত জানা পন্ডিতেরা সোসাইটির প্রকাশন প্রকল্পে, পুঁথির বিষয়-বিবরণী তৈরির কাজে বরাবর সাহায্য করে এসেছেন। এদের সাহায্য ছাড়া য়ুরোপীয় ভারত বিদ্যাবিৎদের পক্ষে এগোনো সম্ভব ছিল না। কিন্তু সেই সব খ্যাতিমান শাস্ত্রবিৎ সাধারণত নির্ধারিত দায়িত্বটুকু পালন করতেন। এখনকার গবেষণা পরিচালনায় তাঁদের কোনো ভূমিকা থাকত না। ব্যতিক্রম শাস্ত্রীমশায়। এখানে আসার আগেই নিজের ক্ষমতা এবং জীবনের সংকল্প সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণায় তিনি একজন সংহত চৈতন্য সম্পন্ন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। পুরানো শিক্ষা পদ্ধতিতে তৈরি শাস্ত্রবিৎরা মনীষার শক্তি প্রয়োগ করতেন টীকা-টিপ্পনীর ক্রমিক ধারায় উন্মোচিত মূল শাস্ত্রের তাৎপর্য পুঙ্খানুপুক্সক্ষভাবে অনুশীলন এবং সামাজিক আচার-বিচারে শাস্ত্রীয় বিধি-বিধান প্রয়োগ। প্রাচীন বিদ্যাজীবী বংশের ছেলে হলেও তিনি জানতেন এ চর্চার আর কোনো সামাজিক উপযোগিতা নেই। অথচ স্বদেশের সাংস্কৃতিক বিকাশের পরিচয় ও দেশের ইতিহাস জানার জন্যে প্রাচীন বিদ্যার জগৎ থেকেই তথ্য আহরণ, সে তথ্যের বিচার বিশ্লেষণ প্রয়োজন। প্রাচীন জ্ঞানের এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শনের পাস্পর্য ও তাৎপর্য উন্মোচনের, বিবর্তমান সমাজের গতিধারা স্পষ্ট করে তোলার কঠিন দায়িত্বে তিনি নিজেকে বাঁধলেন। সচেতন নির্বাচনে শাস্ত্রবিৎ না হয়ে-হয়ে উঠলেন ভারততত্ত্ববিৎ, ভারতীয় ইতিহাসের গবেষক। তাঁর সংকল্প গঠনে, কাজের ক্ষেত্র নির্বাচনে মনীষার আধুনিক চরিত্র সুস্পষ্ট।

প্রাচীন ভারতীয় বিদ্যা মূলত পুঁথিতে নিবদ্ধ, ‘অপ্রকাশিত’। ভারতবর্ষকে জানার একটি প্রধান উপায় এই পুঁথি-নিবদ্ধ জ্ঞানের পরিচয় উদ্ধার। পুথি সংগ্রহ তাই সোসাইটির গবেষণা পরিকল্পনার প্রধান অঙ্গ ছিল। অপ্রকাশিত জ্ঞানের এই আকরে প্রবেশের শিক্ষা শাস্ত্রীমশায় রাজেন্দ্রলালের কাছেই পেয়েছিলেন। সঞ্চিত পুঁথির ডেসক্রিপ্টিভ ক্যাটালগ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন রাজেন্দ্রলাল, শাস্ত্রীমশায় সে কাজ শেষ করার দায়িত্ব নিলেন। সোসাইটি থেকে প্রকাশিত শাস্ত্রীমশায়ের ডেস্ক্রিপ্টিভ ক্যাটালগ এবং তার ভূমিকাগুলি দেখলে বোঝা যায় ভারতীয় বিদ্যার বিভিন্ন শাখার তথ্য-ভিত্তি’র উপরে তাঁর অধিকার কত ব্যাপক। এই বিশাল আকরের উপরে প্রত্যক্ষ দখল তাঁর ভারতবিদ্যা ভাবনার ভিত্তি এবং এই জ্ঞানের জন্যেই দেশ ও বিদেশের প্রাচ্যবিদ্যাবিৎ সমাজে তাঁকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষ মনে করা হত। তাঁকে লেখা “বিখ্যাত য়ুরোপীয় প্রাচ্যবিদ্যাবিৎদের চিঠিপত্র থেকে য়ুরোপের প্রাচ্যবিদ্যা-চর্চায় তাঁর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।”৭ এ ‘স্থুল পাণ্ডিত্য’ নয়, রবীন্দ্রনাথের মন্তব্যের উপমা অনুসরণে বলা যায়, “তিনি খনি থেকে তোলা ধাতুপিন্ডের সোনা এবং খাদ অংশ পৃথক করতে জানতেন।”৮ তথ্যের উপরে এই অধিকার কী আশ্চর্য দক্ষতায় কাজে লাগিয়েছে, তার প্রমাণ ডেস্ক্রিপ্টিভ ক্যাটালগের ভূমিকাগুলি। যেমন ব্যাকরণ-অলংকার খণ্ডের ৩৩৯ পৃষ্ঠা ভূমিকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সামাজিক এবং ধর্মীয় বিশিষ্টতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাকরণের এক-একটি শাখার বিকাশ বিশ্লেষণ করেছেন। ক্রমে সংস্কৃত ও পালি ভাষা ছাড়াও অবহট্ঠ এবং নবীন ভারতীয় স্তরের বাংলা, হিন্দি, মৈথিলি, গুজরাটি, রাজস্থানি ভাষার পুথির আধারে সঞ্চিত সাহিত্য-সংস্কৃতির এবং সামাজিক বৈশিষ্ট্যের আধুনিকতর রূপ তাঁর পর্যালোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। নিতান্ত পুঁথি খোঁজা, পুঁথি বোঝার কাজের ভেতর দিয়ে এইভাবে তিনি বৈদিক যুগ থেকে আধুনিকতর যুগ অবধি ভারতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রমাণ ভিত্তিক পরিচয় উন্মোচন করলেন। ভারতবিদ্যার গবেষণায় দৃষ্টি ও বিষয়-পরিধির এমন ব্যাপ্তি সেকালে বা একালের আর কোনো গবেষকের কাজে দেখা যায় না। বস্তুত ইন্ডলজির ধারণাই বদলে গেছে শাস্ত্রীমশায়ের কাজে।

বিশেষভাবে য়ুরোপীয় ভারতবিদ্যা- বিৎদের গবেষণার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে শাস্ত্রীমশায় তাঁদের তৈরি ছক ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন এবং এক অখ- ইতিহাস-তত্ত্বের উপলব্ধিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

আর্যপূর্ব কাল থেকে ইংরেজ আমল পর্যন্ত ভারতের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রচুর তথ্য শাস্ত্রীমশায়ের বাংলা এবং ইংরেজি রচনায় সঞ্চিত রয়েছে। বিষয় অনুযায়ী সাজিয়ে দেখলে মনে হয় পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় ইতিহাসের কোনো খসড়া অনুসারে তিনি বিভিন্ন অধ্যায়ের উপাদান সংগ্রহ করেছেন। তাঁর রচনাধারায় ভাষা-সাহিত্য-ধর্ম-দর্শন-স্থাপত্য-ভাস্কর্য এবং সামাজিক রীতি-পদ্ধতির বিচার-বিশ্লেষণের ভেতর থেকে ভারতীয় সভ্যতার মিশ্র রূপ ফুটে উঠে। চলমান জন-জীবনে অনার্য-আয-বৌদ্ধ-হিন্দু- ইসলাম-সব সংস্কৃতির উপাদান মিলে মিশে গেছে। কোনো ধারাকেই অবিমিশ্র বিশুদ্ধ রূপে পাওয়া সম্ভব নয়। গবেষক জীবনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় তিনি এই ধারণায় পৌঁচ্ছেছিলেন। ‘ভারত-হিন্দু- সভার অধিবেশনে সভাপতির সম্বোধন’ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ)-এর মতো একটি দুটি বিরল ব্যতিক্রম ভিন্ন শাস্ত্রীমশায়ের মূল রচনাধারায় সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচয় নেই বললেই চলে। বৌদ্ধধর্মের উত্থান এবং ভারতীয় জনসমাজে তার ব্যাপ্ত ও দীর্ঘ প্রভাবের স্বরূপ উন্মোচনে শাস্ত্রীমশায়ের গবেষক জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় এবং শ্রম নিয়োজিত ছিল। বৌদ্ধ প্রভাবের তাৎপর্য তিনিই প্রথম এত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস আজ আমরা যে পূর্ণতায় পাচ্ছি, তা শাস্ত্রীমশায়ের গবেষণার ফল। তাঁর গবেষণার এই বিশেষ ধারার বিকাশ ঘটেছিল বাঙালির নিজস্ব প্রতিষ্ঠান বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদের (প্রতিষ্ঠা ১৮৯৪ খ্রি.) আশ্রয়ে। রবীন্দ্রনাথ যথার্থ বলেছেন, “আমাদের সৌভাগ্যক্রমে সাহিত্য পরিষদে হরপ্রসাদ অনেকদিন ধরে আপন বহুদর্শী শক্তির প্রভাব প্রয়োগ করবার উপযুক্ত ক্ষেত্র পেয়েছিলেন। রাজেন্দ্রলালের সহযোগিতায় এশিয়াটিক সোসাইটির বিদ্যাভা-ারে নিজের বংশগত পাণ্ডিত্যের অধিকার নিয়ে তরুণ বয়সে তিনি যে অক্লান্ত তপস্যা করেছিলেন, সাহিত্য পরিষদকে তারই পরিণত ফল দিয়ে এতকাল সতেজ করে রেখেছিলেন।”৯

পরাধীন স্বদেশে ইচ্ছামতো সব কাজ সম্পূর্ণ করার সুযোগ ছিল না, কিন্তু সীমাবদ্ধ সুযোগ সদ্ব্যবহার করে অটল সংকল্পে শাস্ত্রীমশায় স্বদেশচর্চার পরিধি যতদূর সম্ভব বিস্তৃত করেছিলেন। ঊনিবিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীর মতো তিনিও ভারতে ইংরেজ রাজত্বের কল্যাণকর দিক সম্পর্কে গভীর আস্থা নিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন। ইংরেজ রাজত্ব আছে এবং থাকবে এই স্বতঃসিদ্ধ ধারণার পরিসীমার মাধ্যমেই এঁরা জীবনের সংকল্প গঠন করতেন। ইংরেজদের মাধ্যমে য়ুরোপীয় আধুনিকতার সংস্পর্শে আসার সুযোগকে সেকালের অনেকের মতো তিনিও মনে করতেন এক যুগন্তকারী ঘটনা। দেশের রাজার হাত থেকে বিদ্যাসাগর, রাজেন্দ্রলাল, বঙ্গিকচন্দ্রের মতো শাস্ত্রীমশায় সি.আই.ই (Companion of the Indian Empire) খেতাব নিয়েছেন। মহারাণী ভিক্টোরিয়া ৫০তম রাজ্যাঙ্কের (১৮৮৭ খৃঃ) উৎসব উপলক্ষে প্রবর্তিত মহামহোপাধ্যায় উপাধি নিয়েছেন (১৮৯৮ খ্রি.) আজ আমরা বুঝতে পারি, ব্যক্তিগত বা জাতীয় আত্মবিকাশের উদ্যম কোথায় অনিবার্য বাধা পাবে, এ বিষয়ে সেকালের মনীষীদের ধারণায় সীমাবদ্ধতা ছিল।

ভারতীয় পরিস্থিতির মূল যে দ্বন্দ্ব, ঔপনিবেশিক শাসন ও ভারতীয় জনগণের দ্বন্দ্ব, তাঁদের দৃষ্টির বাইরে থেকে যেত। ফলে সংকল্প গঠন এবং রূপায়ণে তাঁরা বাধা পেতেন। উদ্যম ও বাধার ঘাত-প্রতিঘাতে কারো কারো দৃষ্টি খুলেছে, নিজেদের কাজের পরিসীমার মধ্যেই পরাধীন স্বদেশের মূল সংকট কোথায়, উপলব্ধি করেছেন। এই উপলব্ধি থেকেই বোধ হয় শাস্ত্রীমশায়রা বঙ্গীয়সাহিত্য পরিষদ কে একটি বাধামুক্ত দেশীয় গবেষণার কেন্দ্ররূপে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর তিন দশকে বাংলাদেশে আধুনিক চিন্তা-চেতনা বিকাশের কর্মকান্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থেকে জীবনের শেষে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই উপলব্ধিতে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে রবীন্দ্রনাথের সহযোগিতায় ১৩০৮ বঙ্গাব্দে খাঁটি বাংলা ভাষার রূপ ও প্রয়োগবিধি সম্পর্কে যে আন্দোলন শুরু করেন তা ছিল সংস্কৃত ব্যাকরণের অকারণ প্রভাব থেকে মুক্ত করে বাংলা ভাষার স্বাধীন বিকাশ সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ। এই উপলক্ষে লেখা “বাংলা ব্যাকরণ” প্রবন্ধের ৮ অনুচ্ছেদে তাঁর ভাবনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে। যেমন বলেছেন, “…‘তেল’ শব্দ সংস্কৃতে ‘তৈল’, প্রাকৃতে ‘তেল্ল’, প্রাচীন বাংলায় ‘তেল’। আমরা যদি ‘তেল’ লিখি, চন্ডী অশুদ্ধ হইবে কেন?…‘কাজ’ শব্দ প্রাকৃত ‘কজ্জ’ শব্দ হইতে উৎপন্ন; এখনকার পণ্ডিতাভিমানীরা সংস্কৃত ‘কার্য’ শব্দ হইতে আসিয়াছে বলিয়া ‘কায’ অন্তঃস্থ য দিয়া বানান করেন, এ জায়গায় পাঠকবর্গ বলুন তো দেখি ‘জ’ শুদ্ধ না ‘য’ শুদ্ধ।”

আরো স্মরনীয় ১৯৩০-এ রাজশেখর বসুর চলন্তিকা অভিধান প্রকাশিত হলে শাস্ত্রীমশায় দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সমালোচনায় (‘অভিধান’ প্রবাসী, আশ্বিন ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ) এই অভিধান সংকলনের মূল নীতি অনুমোদন করেন। বাংলা ভাষায় নানা ভাষার শব্দ এসে পড়ায় “তাহাদের ব-কার ভেদ, য-কার ভেদ, স-কার ভেদ ও ন-কার ভেদ” নিয়ে যে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে সম্মিলিত বিধানের দিক থেকে তিনি চলন্তিকাকে স্বাগত জানান।

মানব সংস্কৃতির চলন-শক্তিতে, পরিবর্তনে বিশ্বাসী- শাস্ত্রীমশায়ের আরও অনেক রচনায় কালের ও পরিবেশের পরিবর্তনে সংস্কৃতির মুখ্য বাহন ভাষার ছাঁদে অনিবার্য পরিবর্তন সম্পর্কে মন্তব্য পাওয়া যায়।

তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৩১-এর ১৭ নভেম্বর, ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের ১ অগ্রহায়ণ।

 

শাস্ত্রী মহাশয়ের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ

১।           ‘বাল্মীকির জয়’ প্রথম প্রকাশ হয় প্রথম থেকে পঞ্চখ- পর্যন্ত- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় ১২৮৭ বঙ্গাব্দের পৌষ, মাঘ ও চৈত্র সংখ্যাতে এবং এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১২৮৮ বঙ্গাঃ ১৮৮১ খ্রি.।

২।            ‘কাঞ্চনমালা’ ১২৯০ [১৩৮৯] সালে যখন  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয় বঙ্গ দর্শন’র সম্পাদক তখন বঙ্গদর্শনে প্রকাশ হয়। এরপর আধুনিক-গ্রন্থমালা প্রকাশ- শ্রীযুক্ত গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় ত্রিশ বৎসর পর প্রকাশ করা হয়।

৩।          ‘বেনের মেয়ে’ উপন্যাস প্রথম ‘নবায়ন’ মাসিক পত্রে প্রকাশিত হয় ১৩২৬ সালে গুরুদাস চ্যাটার্জী এ্যা- সন্স ২০১, কর্ণওয়ালীস স্ট্রীট কলিকাতা থেকে, মূল্য ২/- টাকা।

৪।           ‘বামুনের দুর্গোৎসব’ ‘আগমনী’- পূজাবার্ষিকী, ১৩২৬।

৫।           ‘পাঁচ ছেলের গল্প’ ‘বার্ষিক বসুমতি’, ১৩৩৩।

৬।          ‘যৌবনে সন্ন্যাসী’ ‘বঙ্গদর্শন’ চৌত্র, ১২৮৫।

৭।            ‘মোহিনী’ কল্পনা, ১২৮৭।

৮।          ‘হৃদয় উদাস’ বঙ্গদর্শন, ১২৮৭।

৯।           ‘স্ত্রী বিপ্লব’ কল্পনা, ১২৮৭-৮৮।

১০।        ‘দুর্গাপূজা’ নবায়ন, জৈষ্ঠ, ১২২৩।

১১।         ‘ব্যেনোগীটিব্বা’ বার্ষিক বসুমতি, ১৩৩৪।

১২।         ‘ঝিন্সী’ মাসিক বসুমতী, কার্ত্তিক, ১৩৩৪।

১৩।        এস, এস, বঁধু এস, আধ আঁচরে ব’স, মাসিক বসুমতী, পৌষ, ১৩৩৮।

১৪।         ‘তৈল’ বঙ্গদর্শন, চৈত্র, ১২৮৫।

 

তথ্যসূত্র :

১।           ‘আমাদের ইতিহাস’ হ-য-সং ৪ পৃ. ৩২৯।

২।           Sanskrit Culture in Modern India, Presidential Address, Fifth Indian Oriental Conference, Lahore, 1928, p. 23

৩।          প্রথম শিক্ষা বাঙ্গালার ইতিহাস, কলাকাতা, ১৮৭৪। উদ্ধৃত মন্তব্য বঙ্কিমচন্দ্রের।

৪।           ‘বঙ্গদশর্নের পত্র সূচনা’, বঙ্কিম রচনাবলী, দ্বিতীয় খ-, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৩৭৬ বঙ্গাব্দ, পৃ. ২৮২।

৫।           ‘চল্লিশ বৎসর পূর্বে : রাজেন্দ্রলাল মিত্র’, হ-র-সং-২, হ. ১/গ।

৬।         Suniti Kumar Chatterji, ‘Sir William Jones : 1746-1794’ Sir William Jones Bicentenary of his birth Comme Moration Volume, Calctta 1948, p. 81-96

৭।            স্মারক গ্রন্থে সংকলিত।

৮।          ‘হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর স্মৃতি পুস্তকের জন্য’ স্মারক গ্রন্থ।

৯।           পূর্বোক্ত সূত্র।

১০।        এই প্রবন্ধে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা সংগ্রহ- ১ম খণ্ডের (১৯৯১ সংখ্যা) প্রারম্ভ বচন ও ভূমিকা থেকে বিভিন্ন অংশ নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares