প্রচ্ছদ রচনা : প্রকৃতি

প্রকৃতি

শুভ্রতায় মোড়ানো শরৎ

মোকারম হোসেন

 

সেই কবেই ফিরে গেছে বর্ষার মেঘ-বলাকারা। তারপর চারপাশে শুধু শুভ্র-সতেজ অনুভব। মেঘাচ্ছন্ন সকালগুলো ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে নিটোল, পরিপাটি। পাতার ফাঁক গলে যখন প্রথম আলোর কণাগুলো মাটিতে নামে, তখন মৃত্তিকার বুকে কী অদ্ভুত এক শিহরন! সকাল-দুপুর আর অলৌকিক সন্ধ্যার পর ভরা-পূর্ণিমায় ঢাকের শব্দ ভেসে আসে দূর গ্রাম থেকে। নির্জন মাঠে নিঃশব্দে বেড়ে ওঠে নিকট ভবিষ্যতের আমন। নিশুতি রাত একটু গড়ালে নস্টালজিক ঢাকের শব্দ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন শাপলা-শালুকরা পৃথিবীর মোহমায়ায় দু-একটি পাপড়ির ভাঁজ খোলে। উদাস দুপুরেও খালের টলটলে জল একেবারেই স্থির, নিশ্চুপ। যেন শেফালির কোমল পাপড়ির অপেক্ষায় সে অনন্তকাল ধরে অপেক্ষমাণ। এভাবেই শারদীয় দিন-রাত আসে, আসে শুভ্রতার প্রতীক হয়ে। শরতের আকাশ কখনও ধোয়া-মোছা, পরিচ্ছন্ন হয় না। সে তার নীলচে বুক ছেঁড়া মেঘের আবরণে ঢেকে রাখতে চায়। সাদা সাদা মেঘগুলো যেন একেকটি নাটাই-সুতাহীন ঘুড়ি, সারাদিন স্বাধীনভাবে উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশময়। বর্ষার সেই বিশাল ঢেউয়ের ভয়াবহ নদীটা শরতে শান্ত হয়ে আসে।

বর্ষা নানাকারণে আমাদের প্রিয় ঋতু হলেও সৌন্দর্যের দিক থেকে শরৎই অনন্য। এককভাবে প্রতিটি ঋতুকেই আলাদাভাবে উপভোগ করার মতো রূপ আছে। একেক ঋতুর রূপ একেক রকম। বর্ষার বৃষ্টিমুখর অনুজ্জ্বল দিনের পর শরতের মেঘের মতো আমাদের মনও যেন হালকা হয়ে যায়। শরতের দিনগুলোকে স্বপ্নের মতোই মনে হয়। চারপাশে ছড়িয়ে থাকে অনেক স্বপ্ন। আমরা সেসব স্বপ্ন কুড়িয়ে নিয়ে ভাবতে বসি কতকিছু! শরতের আকাশ, শরতের নদী, শরতের ফুল- সবকিছুই কেমন যেন শান্ত মায়াময়। শরতের এই শুভ্র রূপ পবিত্রতার প্রতীক। বিলের শাপলা, নদীতীরের কাশফুল, আঙিনার শিউলি- এরা সবাই কোমল, পবিত্র। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। যখন শিশিরের শব্দের মতো টুপটাপ শিউলি ঝরে, তখন অনুভবে শরৎ আসে। কাশবনে দলবেঁধে আসে চড়–ই পাখিরা। নদী শান্ত হয়ে আসে। তখন থাকে না তার দুকূল-ছাপানো বিপুল জলরাশির উত্তাল ঢেউ। আর শরতের নদী মানেই দুই পাড়ে কাশবনের ছোট ছোট রুপালি ঢেউ। বাংলা ছাড়া এমন অনাবিল সৌন্দর্যভূমি আর কোথায় পাওয়া যাবে?

শরতের এই স্নিগ্ধ শোভাকে আরও মোহময় করে এ-মৌসুমের বিচিত্র ফুলেরা। নদী কিংবা জলার ধারে ফোটে কাশ-কুশ, ঘরের আঙিনায় ফোটে শিউলি বা শেফালি, খাল-বিল-পুকুর-ডোবায় থাকে অসংখ্য জলজ ফুল। আর শেষরাতের মৃদু কুয়াশায় ঢেকে-থাকা মায়াবী ফুলেরা যেন আরও রূপসী হয়ে ওঠে। শিশিরভেজা শিউলি, বাতাসে মৃদু দোল-খাওয়া কাশবনের মঞ্জরি, পদ্ম-শাপলা-শালুকে আচ্ছন্ন জলাভূমি শরতের চিরকালীন রূপ। সত্যিই বিচিত্র রূপ নিয়ে শরৎ আমাদের প্রকৃতিতে এবং চেতনায় ধরা দেয়।  আমাদের অন্য ঋতুগুলো অনেক ফুলের জন্য বিখ্যাত হলেও মাত্র কয়েকটি ফুল নিয়েই শরৎ গরবিনী।

শরৎ মানেই শিউলি ফোটার দিন। শিউলির মধুগন্ধ ভেসে বেড়ানোর দিন। শিউলির আরেক নাম শেফালি। আগের দিনে কবিরা শেফালি নামটাই বেশি ব্যবহার করেছেন। শিউলি বা শেফালি যা-ই বলি-না কেন, চমৎকার এ-ফুলটি নিয়ে দুটি গ্রিক ও ভারতীয় উপকথা আছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে শিউলির বিশাল বন ও তার তীব্র ঘ্রাণের কথা বলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আরণ্যকে শরতের অন্যতম অনুষঙ্গ কাশফুলের প্রসঙ্গও এসেছে শৈল্পিকভাবে।

‘সরস্বতী কুণ্ডীর বনে কত বন্য শিউলি গাছ… যেন শিউলিবন। বড় বড় শিলাখণ্ডের উপর শরতের প্রথমে সকালবেলা রাশি রাশি শিউলিফুল ঝরিয়া পড়িয়াছিল’ (পৃ. ৬৩)। ‘সন্ধ্যা হইবার সঙ্গে সঙ্গে আর একটি নতুন সুবাস পাইলাম। আশেপাশের বনের মধ্যে যথেষ্ট শিউলিগাছ আছে। বেলা পড়িবার সঙ্গে সঙ্গে শিউলিফুলের ঘন সুগন্ধ সান্ধ্য-বাতাসকে সুমিষ্ট করিয়া তুলিয়াছে’ (পৃ.১৪০)।

কাশফুল প্রসঙ্গে :

‘ধু-ধু বন-ঝাউ আর কাশবনের চর’ (পৃ. ৭)। ‘শুকনো কাশ ও সাবাই ঘাসের ছোট্ট একটা ছাউনি’ (পৃ. ৩৫)। ‘সেই খাটো কাশ-জঙ্গল’ (পৃৃ. ৫৯)।

রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ- সকলেই অসংখ্যবার শিউলির প্রশংসা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ শরতের স্নিগ্ধতা উপভোগ করেছেন নানাভাবে। শরতের পুষ্পসম্ভার তাঁর জাদুস্পর্শে আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে :

‘এই শরৎ-আলোর কমল-বনে/ বাহির হয়ে বিহার করে/ যে ছিল মোর মনে মনে।’

অন্যত্র আছে :

‘শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি/ ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।/ শরৎ তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে-/ বনের পথে লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে’

রবীন্দ্রনাথ গান ও কবিতায় নানাভাবে, নানা প্রসঙ্গে অন্তত একুশ বার শিউলির কথা বলেছেন। তার কয়েকটি :

১. যখন শিউলী ফুলে কোলখানি ভরি/  দু’টি পা ছড়ায়ে দিয়ে আনত বয়ানে।

২. সকল বন আকুল করে শুভ্র শেফালিকা।

৩. বকুল, কেয়া, শিউলি সনে/  ফিরে ফিরে আসবে ধরণীতে।

৪. আশ্বিনের উৎসবসাজে শরৎ সুন্দর শুভ্র করে/ শেফালির সাজি নিয়ে দেখা দিবে/ তোমার অঙ্গনে।

৫. আশ্বিনের শেফালিকা/ ফালগুনের শালের মঞ্জরি।

৬. শিউলী ফুলের নিশ্বাস বয়/ ভিজে ঘাসের পরে।

৭. প্রশান্ত শিউলি ফোটা প্রভাত শিশিরে ছলোছলো।

৮. শিউলি এলো ব্যতিব্যস্ত হয়ে,/ এখনো বিদায় মিলিল না মালতীর।

৯. নীরব আকাশবাণী শেফালির কানে কানে বলা।

১০.তারি অঙ্গে এঁকেছিল পত্রলেখা/ আম্রমঞ্জরির রেণু, এঁকেছে পেলব শেফালিকা/ সুগন্ধি শিশির কণিকায়।

১১. যখন শরৎ কাঁপে শিউলি ফুলের হরষে।

১২. আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ/ আমরা গেঁথেছি শেফালি মালা।

১৩. ওগো শেফালি বনের মনের কামনা।

১৪. শরৎ প্রাতের প্রথম শিশির প্রথম শিউলি ফুলে।

১৫. দেখিলাম ধীরে আসে আশীর্বাদ বহি/ শেফালি কুসুম রুচি আলোর থালায়।

 

শরৎ-শিউলির প্রসঙ্গ এলে নজরুলের এই গানটি অনিবার্য হয়ে ওঠে। :

‘তোমারি অশ্রু জলে শিউলি-তলে সিক্ত শরতে,

হিমানীর পরশ বুলাও ঘুম ভেঙে দাও দ্বার যদি রোধি।’

 

শিউলি আজকাল অবশ্য কিছুটা দুর্লভ হয়ে পড়েছে। ঢাকায় তিন নেতার মাজারের কাছে, শাহবাজ মসজিদের আঙিনায় দুটি, বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের পাশে একটি ও জাতীয় প্রেসক্লাব আঙিনায় একটি বড় গাছ দেখা যায়। এছাড়াও প্রায় সব পার্ক ও উদ্যান, অনেকের ঘরের কোণে দু’একটি গাছ আছে। শিউলি গাছ একটু নরম ধরনের, পানি এ গাছের প্রধান শত্রু। এ-কারণেই বেশি দিন বাঁচে না। ফুলকলিরা মুখ তোলে সন্ধ্যায়। তাই শরতের রাত শিউলির গন্ধে ভরপুর। সূর্যের সঙ্গে এদের আড়ি, নিশিভোরেই ঝরে পড়ে মাটিতে। এ-ফুলের পাপড়িরা বহুক্ষণ গন্ধ বিলায়, বোঁটার হলুদ রং টিকে থাকে বহুদিন। শিউলির মালা দিয়ে ঘর সাজানো যায়। আবার শিউলির মালা খোঁপায়ও পরা যায়। প্রাচীনকালে এর বোঁটার রং পায়েস বা মিষ্টান্নে ব্যবহার করা হত। হিন্দুদের পূজার উপকরণ হিসেবেও এর অনেক কদর।

কাশ শরতের অনন্য ফুল। আর আবহমান বাংলার চিরায়ত ফুল। শরতে কাশবনের স্নিগ্ধ শোভা প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত রাখে। এ-ফুল আবার সবখানে দেখা যায় না। এর অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে কোনো নদী কিংবা জলার ধারে। সেখানে বেশ নিশ্চিন্তেই ফোটে শুভ্র কাশ। ঢাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং ধানমন্ডি লেকে কাশফুল ফোটে। ঢাকার চারপাশেও মোটামুটি সহজদৃষ্ট। তবে এখন আর আগের মতো কাশবন দেখা যায় না। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ তাদের হটিয়ে নিজেদের বেঁচে থাকার কথাই ভাবছে।

কাশফুলের আরেকটি প্রজাতির নাম কুশ। এদের কোনো-কোনোটি পাহাড় কিংবা জঙ্গলে জন্মে। অনেক দূর থেকে যখন কাশবন চোখে পড়ে, তখন মনে হয় শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। হালকা বাতাসে কাশবনে শুভ্র ঢেউ ওঠে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতায় কাশবনের প্রসঙ্গ এনেছেন। তিনি দেখেছেন নদী তীরের কাশবন এবং অপরূপ ঢেউ খেলানো জোছনা রাতের কাশবনও। কাশবনের শুভ্র ঢেউ তাঁকে আচ্ছন্ন করে রাখে :

১. আমলকী পল্লবের পেলব উদাসে/ মঞ্জরিত কাশে,/ অপরাহ্নকাল।

২. নদীর তীরে কাশের দোলা,/ শিউলি ফুটে দূরে।

৩. কাশের বনে লুটিয়ে পড়েছে/ শুক্লাসপ্তমীর জ্যোৎস্না।

৪. নদীতীর কাশবনে ফুলে ফুলে সাদা।

 

শরতের সাদা মেঘের ভেলার সঙ্গে কাশফুলের সাদা ঢেউ শরতের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার আনাচে-কানাচে কাশফুলের বাহার দেখা যায়। সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে এখানে কাশফুল ছিল। কাশফুলের পাতা দেখতে ধানপাতার মতো। এ-পাতা শুকিয়ে ঘরের চালা ছাওয়া ও বেড়ার কাজে লাগানো হয়। কাশ দিয়ে কাগজ তৈরির ম-ও বানানো হয়। শ্রাবণশেষে সাদা সাদা তুলোর মতো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ, মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়ে সেই মেঘ আরও হালকা হয়, আরও সাদা হয়। সে-মেঘের ছায়া পড়ে নদীর ধারে, কাশবনে। মেঘ, আকাশ আর কাশফুলের ছায়া পড়ে নদীর নীলজলে। এমন মনোলোভা চিত্র কি আর সবসময় দেখা যায়?

শরৎ উৎসবের ঋতু। শারদ-পূজার প্রধান উপকরণ পদ্ম ফোটে শরতে। অনেকেই শাপলা আর পদ্মকে একই ফুল মনে করেন। আসলে তা নয়। পদ্মপাতা পানি থেকে কিছুটা উঁচুতে থাকে। ফুলের গড়নও অনেকটা শাপলার মতোই। আমাদের দেশে স্বর্ণকমল (রক্তপদ্ম) আর শ্বেতপদ্ম নামে দুই রঙের পদ্মই বেশি দেখা যায়। কোথাও কোথাও বড় আকারের শতদল পদ্মও আছে। ইদানীং শ্বেতপদ্ম বেশ দুর্লভ হয়ে উঠেছে। প্রাকৃতিকভাবে খুব কম স্থানেই বেঁচে আছে ফুলটি। পদ্ম আমাদের জলাভূমির রানি। চর্যাপদে অসংখ্যবার পদ্মের কথা এসেছে। সেখানে নানাভাবে পদ্মের সৌন্দর্য বিবৃত হয়েছে।

‘কাহ্নু বিল সই আসব মাতা।/ সহজ নলিনী বন পইসি নিবিতা (চর্যাপদ ৯, কাহ্নুপাদ)

রবীন্দ্রনাথ পদ্ম নিয়ে লিখেছেন :

‘মুখে তার লোধ্ররেণু, লীলাপদ্ম হাতে,/ কর্ণমূলে কুন্দকলি, কুরুবক মাথে,

তনুদেহে রক্তাম্বর নীবীবন্ধে বাঁধা,/ চরণে নূপুরখানি বাজে আধা আধা।’

জলজ ফুল মাখনাও শরতেই বেশি দেখা যায়। শরতের মাঝামাঝি সময় থেকেই স্থলপদ্ম ফুটতে শুরু করে। নতুন রং আর রূপের পসরা সাজিয়ে বসে ধাইরা। এসময় দইগোটার ফুলগুলোও ফুটতে শুরু করে। শরতের শেষভাগে ফোটে চা-ফুল। আর চা-বাগানের ছায়াবৃক্ষ মেডলা গাছেও শরতেই ফুল আসতে শুরু করে।

ডোলকলমি সারাবছর কম-বেশি ফুটলেও শরৎ প্রধান ঋতু। আমাদের পথের ধারে, ঝোপ-জঙ্গলের পাশে সহজেই চোখে পড়ে। এরা সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও বলিভিয়ার পাহাড়ি এলাকার ফুল। পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা ভারতে নিয়ে আসেন গির্জার বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে। তারপর ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে।

শুধুমাত্র শরতের প্রকৃতিই যে অনন্য এবং অসাধারণ তা নয়, শরৎ উৎসবের ঋতু হিসেবেও সমৃদ্ধ। শরতে জন্মাষ্টমির শোভাযাত্রা, বেইড়াভাসান, দুর্গাপূজা ও ঢপযাত্রা, নৌকাবাইচ এবং কারাম উৎসবসহ আরও অনেক পার্বণ লেগে থাকে এই ঋতুতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলার জনপদে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৮৭টির মতো মেলা।

শরতের স্তব্ধতা ঘুমপাড়ানি গানের মতো শান্ত, মধুর। নদীতে পালতোলা নৌকা, আকাশে পালতোলা মেঘ। নীল আকাশ আর নদীর নীলজলের পটভূমিতে সাদা কাশফুলের মেলায় মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়। এ যেন শরতের এক স্নিগ্ধ স্বপ্নের জগৎ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares