বিদ্রোহী কবিতা : ভারতবর্ষের আত্মার স্বর : বিনোদ ঘোষাল

প্রচ্ছদ রচনা : শতবর্ষে অন্য আলোয় বিদ্রোহী কবিতা

প্রিয় পাঠক, লেখাটি পড়ার আগে কল্পনা করুন একটি দৃশ্য। আজ থেকে ১০০ বছর আগের কলকাতা শহর। উত্তর কলকাতার ৩/৪ সি তালতলা লেনের একটি মেসবাড়ির ঘর। সেই ঘরে থাকেন তরুণ কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং মুজফ্ফর আহমদ। প্রায় ৩০ মাস করাচিতে সৈনিকজীবন কাটিয়ে কলকাতায় ফিরে, রয়েছেন মুজফ্ফরের সঙ্গে। সেনাশিবিরে থাকার সময় থেকেই কবিতা এবং চিঠির মাধ্যমে দুজনের পরিচয়। মোসলেম ভারত নামের একটি সাহিত্য পত্রিকায় সম্পাদনা বিভাগে চাকরি করেন মুজফ্ফর আহমদ, সেই পত্রিকায় করাচি থেকে নিজের লেখা কবিতা পাঠিয়েছিলেন নজরুল। মুজফ্ফর সেই কবিতা প্রয়োজনীয় সংশোধন করে প্রকাশ করেন। সেই কবিতাই ছিল নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতা, ওই সূত্রেই দুজনের পরিচয়, হৃদ্যতা। তাই সেনাজীবন কাটিয়ে কলকাতা ফিরে তার কাছেই উঠেছেন বাইশ বছরের নজরুল। লেখালেখির চর্চা করছেন, ছন্দ, ব্যঞ্জনা, ভাষা নিয়ে কাটাছেঁড়া করছেন নিরন্তর।

শীত বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে এই বছর। ঘরের দুটো জানালাই বন্ধ। কেরোসিন বাতিটার শিখা একেবারে নীল বিন্দু হয়ে জ্বলছে। রাত কত বোঝার উপায় নেই। আজ ঘুম আসছে না নজরুলের। গায়ে চাপানো কম্বল সরিয়ে দিয়েছে অনেক আগেই। এপাশ ওপাশ করছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থিরতাটা বাড়তে বাড়তে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কী যেন একটা প্রবল বেগে বেরিয়ে আসতে চাইছে ভেতর থেকে। কী ? বুঝতে পারছে না। আগে কোনও দিন এমন অনুভূতি হয়নি। তীব্র একটা আবেগ ওকে বারবার শিহরিত করছে। ভেতরে সাইক্লোনের মতো কতগুলো ভাবনা, শত সহস্র শব্দ চড়কিপাক খাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এক্ষুনি বুঝি ও একটা প্রলয় ঘটিয়ে ফেলবে। আচমকাই নিজেকে কেমন অন্যরকম মনে হচ্ছে নজরুলের। কিছু একটা … কিছু একটা ঘটতে চাইছে। ঘেমে স্নান হয়ে যাচ্ছে ও। নাহ …আর শুয়ে থাকা যাচ্ছে না। উঠে পড়ল। তক্তপোষের নিচে রাখা বাতিটা টেনে নিয়ে এসে আলো বাড়াল। কপালে জমে ওঠা স্বেদবিন্দুগুলো চিকচিক করে উঠল নরম আগুনে আলোতে। হ্যারিকেনটা নিজের তক্তপোষের ওপর তুলে রাখল নজরুল। পাশের চৌকিতে মুজফ্ফর অঘোরে ঘুমোচ্ছেন। গোটা কলকাতা শহর যখন এই শীতের রাতে জুবুথুবু হয়ে ঘুমোচ্ছে, একটা কুকুরেরও ডাক নেই, এমনই নিস্তব্ধতায় এক ২২ বছরের যুবক প্রবল ভাবাবেগে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে। সে কী করতে চাইছে নিজেও জানে না। কিন্তু কিছু একটা করতে হবে, ভেতর থেকে রাশি রাশি শব্দ সুনামির মতো আছড়ে পড়তে চাইছে বাইরে। এখনই তাদের মুক্তি দিতে হবে। নিজেকে আচমকা আকাশের মতো বিশাল, মুক্ত মনে হচ্ছে নজরুলের। মনে হচ্ছে, যেন তার সম এই নক্ষত্রলোকে আর কেউ নেই। এ কেমন ভাবনা ? বারবার চমকিত হচ্ছে ও। লেখার খাতাটা টেনে নিল ও। হাতের সামনে পেল একটা ক্ষয়ে আসা পেনসিল। তাই দিয়েই দ্রুত লিখে ফেলল কয়েকটা লাইন―

বল বীর

বল উন্নত মম শির!

শির নেহারি আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!

লাইনগুলো লিখে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল নজরুলের। ওই নিভু নিভু আলোতে খসখস করে লিখে যেতে থাকল …।

…আমি চিরদুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,

মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!

আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,

আমি দুর্বার,

আমি ভেঙে করি সব চুরমার!

আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,

আমি দু’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়মকানুন শৃঙ্খল!

আমি মানি না কো কোন আইন,

আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!

আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর

আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!

বল বীর―

চির-উন্নত মম শির!

নিজের লেখার মধ্যে বুঁদ হয়ে গেল নজরুল। এই শব্দ এই ভাব এই ছন্দ কোথা থেকে আসছে কীভাবে আসছে ও নিজেই বুঝতে পারছে না কিন্তু বুঝতে পারছে এক দৈবশক্তি আজ ওকে ভর করেছে এই লেখা কেউ যেন লিখিয়ে নিচ্ছে ওকে। পেনসিল থামাতে পারছে না তার আগেই কাগজের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে …

…আমি চির-দুরন্ত দুর্মদ,

 আমি দুর্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হরদম হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।

 আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,

 আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।

 আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,

 আমি অবসান, নিশাবসান।

 আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য

 মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর রণ-তূর্য;

 আমি কৃষণ-কণ্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা-বারিধীর।

 আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।

 বল বীর―

 চির―উন্নত মম শির!

মাথার প্রতিটি কোষ ঝনঝন করছে। মহাকাশচ্যুত উল্কাখণ্ডে যেমন অগ্নিজ্যোতিষ্কের তাপ লেগে থাকে, সদ্য রচিত এই অক্ষরগুলোর বুকেও যেন নজরুলের স্নায়ুর উন্মাদনা, অস্থিরতা লেগে রয়েছে।

 আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,

 আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।

 আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,

 আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!

 আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,

 আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,

 আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দণ্ড,

 আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচণ্ড!

 আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,

 আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।

 আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, –আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,

 আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস!

 আমি কভু প্রশান্ত কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,

 আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!

ভেতর থেকে এমন প্লাবনের মতো কথাগুলো বেরিয়ে আসছে যে আঙুলে চেপে ধরা পেনসিলটাকে ঘোড়ার মতো ছুটিয়েও তাল রাখতে পারছিল না নজরুল। এই শীতের রাতেও তার গোটা শরীর ঘামে জবজবে, কপালের রগ দপদপ করছে। চোখ দুটি বিস্ফারিত বুক খুব দ্রুত ওঠানামা করছে। কবিতার প্রতিটি ছত্রে যেন আচমকা নিজেকে আবিষ্কার করার অভূতপূর্ব উচ্ছ্বসিত এবং প্রচণ্ড আনন্দঘন অনুভূতি। ও যেন আচমকাই নিজেকে আবিষ্কার করছে নিজেকে। নিজের হৃদয়-গহ্বরে লুকিয়ে রয়েছে এক অন্তহীন শক্তি সেখানে অপার সম্ভাবনা গলিত লাভার মতো টগবগ করে ফুটছে। নজরুল যেন নিজেকে নতুন করে চিনছে এখন। প্রচলিত রীতিনীতি ধ্যানধারণা আচার-বিচার সব সামাজিক ধর্মীয় বিধিবিধানকে তছনছ করে দিয়ে নিজেকে মুক্ত, স্বাধীন বলে দীপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করতে ইচ্ছে হচ্ছে। আর সেই ধ্বনিপুঞ্জ সমুদ্রের তরঙ্গের মতো বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ছে।

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদচিহ্ন,

আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালি বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেব পদচিহ্ন!

আমি খেয়ালি-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

আমি চির-বিদ্রোহী বীর―

বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!

লেখাটা শেষ করার পর পেনসিলটা সেই খাতার ওপর রাখল নজরুল। শরীর যেন পালকের মতো হালকা। ভেতরে অপরিসীম আনন্দ, কানায় কানায় ভরে উঠেছে শরীরের প্রতিটি কোষ। আহ! আআআহ! কী অপূর্ব এক স্বর্গীয় অনুভূতি আচ্ছন্ন করে তুলেছে! নজরুল বুঝতে পারছিল ওর এই লেখা এযাবৎকালের সব লেখার থেকে যোজন দূরের। এ একেবারে অন্যরকম। এমন লেখা ও নিজে কেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত লেখা হয়নি। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে পৃথিবী ফাটিয়ে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিল শোনো শোনো সকলে আজ আমি যা রচনা করলাম তা চিরকালের জন্য। শরীর একই সঙ্গে শ্রান্ত এবং উল্লসিত। বিছানা ছেড়ে উঠল ও। জানালার কাছে গিয়ে পাল্লা খুলতেই দেখল ভোর হচ্ছে। নতুন এক দিনের নরম সোনালি আলো ছড়িয়ে পড়ছে ওর শরীরে এই পৃথিবীতে।

মুজফ্ফর সারা বছরই ঘুম থেকে ওঠেন সকাল সকাল। নজরুল অবশ্য সকাল ৮টার আগে ঘুম থেকে ওঠে না। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ মুজফ্ফর চোখ মেলে দেখলেন অদ্ভূত ব্যাপার। নজরুল তার তক্তপোষে চাদরমুড়ি দিয়ে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা পড়ছে। খোলা জানালা গলে শীতের সকালের সোনালি সূর্যালোক এসে পড়েছে নজরুলের গায়ে। চোখ-মুখ ঝলমল করছে নজরুলের।

মুজফ্ফর উঠে বসে বললেন কী ব্যাপার কাজী সাহেব আজ এত তাড়াতাড়ি উঠেছেন ?

নজরুল তাকাল মুজফ্ফরের দিকে। ওহ আপনি উঠেছেন সাংঘাতিক কাণ্ড হয়ে গেছে কাল রাতে। নজরুলের লাল ছিটেলাগা চোখ দুটি রাত জাগার কারণে আরও লাল কিন্তু উত্তেজনায়, আনন্দে ঝকঝক করছে।

মুজফ্ফর বুঝলেন নজরুল কিছু একটা লিখেছে। বললেন, রাতে ঘুমোননি মনে হচ্ছে।

আর ঘুম! কাল সারা রাত ধরে যা একটা ঘটনা ঘটিয়েছি, আপনি ভাবতে পারবেন না। এমন একটা কবিতা লিখেছি যা আজ পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে লেখা হয়নি। আপনাকে শোনানোর জন্য অপেক্ষা করছি। শুনুন বলে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না নজরুল। মুক্ত কণ্ঠে মাথা ঝাঁকিয়ে পড়তে শুরু করল বিদ্রোহী।

মুজফ্ফর চুপ করে শুনতে থাকলেন। মুজফ্ফর নজরুলকে নিজের ভাইয়ের মতো ভালোবাসেন, নজরুল মস্ত কবি হোক এই ইচ্ছেও তার প্রবল, কিন্তু তিনি নিজে কাব্যরসিক নন, তার ক্ষেত্র রাজনীতি এবং সেই কথা তিনি নিজেও মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেন, ফলে কবিতাটি তিনি পুরোটা মন দিয়ে শুনলেন বটে কিন্তু শেষ হওয়ার পর নজরুল যখন খুব আশা নিয়ে মুজফ্ফরকে জিজ্ঞাসা করলেন কেমন হয়েছে বলুন, মুজফ্ফরের মধ্যে বিশেষ কোনও ভাবান্তর দেখা গেল না। সামান্য মাথা নেড়ে বললেন, হুঁ ভালোই তো।

এই সামান্য উত্তর আশা করেননি নজরুল। কিছুক্ষণ হাঁ করে তাকিয়ে রইল মুজফ্ফরের দিকে। ও ভাবতেও পারেনি এই কবিতা শোনার পর আহমদ সাহেব এমন ভাবলেশহীন মুখে নিজের প্রতিক্রিয়া দেবেন। ভালোই তো! এটা কোনও উত্তর হলো! নজরুল মনে মনে কষ্ট পেল। কিন্তু মুখে কিছু বলল না। চুপ করে গেল। মুজফ্ফরও বুঝলেন নজরুল হয়তো আশা করেছিল তিনি শুনে খুবই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করবেন কিন্তু উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ যে কোনও বিষয়তেই মুজফ্ফরের খুবই সংযত। এই ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় হলো না। নজরুল গুম হয়ে গেল।

বেলা একটু গড়াতেই এলেন আফজালুল সাহেব। উনি প্রায় দিনই আসেন। নজরুল ঘরে থাকলে কিছুক্ষণ গল্পগাছা করে যান। আজ ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই নজরুল হৈ হৈ করে বলে উঠল এই তো আফজল সাহেব আপনার কথাই ভাবছিলাম। কাল সারা রাত ধরে একটা কবিতা লিখেছি একবার শুনবেন।

সারা রাত ধরে লিখেছেন! দীর্ঘ কবিতা নাকি ?

হুঁ শুধু দীর্ঘ নয় … বলতে বলতে থেমে গেল নজরুল আচ্ছা শুনে দেখুন কেমন লাগে।

মুজফ্ফরও ঘরেই ছিলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন নজরুল এই কবতাটি নিয়ে বিশেষ উত্তেজিত। আফজালুল বললেন, বেশ পড়ুন শুনি।

নজরুল সঙ্গে সঙ্গে খাতা খুলে দরাজ গলায় পড়তে শুরু করে দিল―

বল বীর

বল উন্নত মম শির!

মুজফ্ফর দেখলেন নজরুল যেমন তার একমাথা ঝাঁকড়া চুল ঝাঁকিয়ে হাত নেড়ে জোর গলায় পাঠ করছে, আফজালুল সাহেবও সমান তালে মাথা নেড়ে কখনও আস্ফুটে আহা উহু শব্দ করে প্রশংসা করতে থাকলেন।

আবৃত্তি শেষ হতেই প্রবল উচ্ছ্বসিত হয়ে তক্তপোষে চাপড় দিয়ে সাব্বাশ…সাব্বাশ বলে উঠলেন আফজালুল সাহেব। আপনি কী লিখেছেন কাজী সাহেব! এ যে আপনার পুরোনো সব লেখাকে ছাপিয়ে গেছে! আহা অসামান্য অসামান্য!

এইবার প্রশংসা শুনে নজরুলের মুখে হাসি ফুটল। বলছেন ?

বলছি মানে! এই লেখা মানে … কী বলব অতুলনীয়। আমাকে এখনই দিন মোসলেম ভারতে ছাপব।

বেশ কপি করে দিচ্ছি তাহলে।

হ্যাঁ হ্যাঁ আপনি কপি করা শুরু করুন। আমি চা নিয়ে আসছি। বলে ঘরের কোণ থেকে চায়ের কেটলিটা নিয়ে আফজালুল উঠে গেলেন মোড়ের মাথার দোকান থেকে চা আনতে। নজরুল খাতা থেকে কবিতাটা দেখে নতুন কাগজে কপি করতে থাকল। মুজফ্ফর উঠলেন। এইবেলা ওর বেরোনো রয়েছে। কাজ রয়েছে কিছু।

চা নিয়ে ফেরার পর আফজালুল মুজফ্ফরের সঙ্গে কিছু গল্পগুজব করলেন, নজরুল ততক্ষণে পুরোটা কপি করে আফজালুলকে দিয়ে দিল। আফজালুল আবার বললেন আপনি যা লিখেছেন দেখবেন বাংলা সাহিত্যমহলে হৈ হৈ পড়ে যাবে।

আপনার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক ভাই ডাবজল।

হো হো করে হেসে উঠল তিনজনেই। নজরুল মাঝেমাঝেই আফজালুলকে মজা করে ডাবজল ডাকে।

আফজালুল হক চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মুজফ্ফরও বেরোলেন। নজরুল ঘরে বসে রইল একা। আজ মন যেন পালকের মতো হাল্কা। কাল সারারাত না ঘুমোনোর কারণে চোখের পাতা দুটো সামান্য ভারী লাগছে, কিছুটা ক্লান্তি―কিন্তু এই সবকিছুকে ছাপিয়ে উঠছে আনন্দ। তীব্র একটা আনন্দের উচ্ছ্বাস। একটা বিশাল কিছু ঘটিয়ে ফেলেছে সেটা মনের ভেতরেই টের পাচ্ছিল নজরুল। ওর এই কবিতা যে বাংলার সাহিত্য জগতে জায়গা করে নিতে এসেছে।

ঠিক দিন দুই পর দুপুরের দিকে তালতলার ঘরে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলেন নলিনীকান্ত সরকার। আজ তিনি এসেছেন বিশেষ কাজ নিয়ে। দিন কয়েক আগে তিনি গেছিলেন প্রখ্যাত নাট্যকার ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদের বাগবাজারের বাড়িতে। মাঝেমাঝেই সেখানে যান। গল্পগুজব হয়। আগের দিন গল্পের মাঝে ক্ষীরোদবাবু হঠাৎই বললেন, শুনেছি কাজী নজরুল ইসলাম তোমার বন্ধু বিশেষ। একদিন তাকে আমার কাছে আনতে পার। আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি থাকে। একবার দেখতে ইচ্ছে হয়।

আপনি বলছেন যখন অবশ্যই নিয়ে আসব। কথা দিয়েছিলেন নলিনী। আজ সেই উদ্দেশ্যেই আসা।

কাজীভায়া আছ নাকি ?

আরে নলিনীদা এসো এসো। সহাস্যে নলিনীকে বলল নজরুল। তোমার কথাই ভাবছিলাম একটু আগে।

বটে! হেতু কী ?

হেতু খুবই গুরুতর। একটা কবিতা লিখেছি। শুনতে হবে।

বেশ শোনাও তবে। বলে তক্তপোষে জমিয়ে বসে পড়লেন নলিনী।

নজরুল খাতা খুলে বিদ্রোহী পড়তে শুরু করল আবার।

নলিনীও যথারীতি উচ্ছ্বসিত। কী লিখেছ ভায়া! আহা এ যে অতুলনীয়!

সত্যি বলছ!

অবশ্যই। অসাধারণ লেখা। আচ্ছা যা হোক তোমার কাছে যে কারণে এসেছি সেটা শোনো বলে ক্ষীরোদবাবুর বাড়িতে যাওয়ার কথাটা জানালেন।

আরে আমার কী সৌভাগ্য এখনই যাওয়া যাক নাকি ?

অবশ্যই। তোমাকে নিয়ে যেতেই তো এসেছি।

চল তাহলে।

এই কবিতাটাও সঙ্গে নিয়ে নাও। ক্ষীরোদবাবুকে শোনাবে।

বেশ বেশ, খুব ভালো হবে।

দুইজনে বেরিয়ে পড়ল বাগবাজারের দিকে।

ক্ষীরোদবাবুর বাড়িতে অনেকক্ষণ গল্প হলো। উনিও নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা পাঠ শুনে উঠে এসে জড়িয়ে ধরলেন নজরুলকে। আবেগে বৃদ্ধের চোখে জল এসে গেল। বার বার নজরুলকে আশীর্বাদ করে বললেন তুমি বাংলা সাহিত্যকে উর্বর করতে এসেছ। অনেক ফসল তোমার হাত থেকে আসবে। এগিয়ে যাও।

আরও বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর ওখান থেকে উঠল দুইজনে। রাস্তায় বেরিয়ে নলিনী বললেন, আমাকে কবিতাটা দাও নজরুল, আমি বিজলীতে ছাপাব।

শুনে হাততালি দিয়ে হো হো করে হেসে নজরুল বলল সে উপায় আর নেই। দুই দিন আগে ডাবজল এসে বিদ্রোহী নিয়ে চলে গেছে।

মানে আফজল নিয়ে চলে গেল! তুমি দিয়ে দিলে! উফফ!

কী করব ও চাইল যে!

আরে মোসলেম ভারত কবে ছাপবে না ছাপবে কোনও ঠিক নেই। আমি বিজলীর এই সংখ্যাতেই ছাপিয়ে দিতাম।

নজরুলেরও ঐকান্তিক ইচ্ছে এই কবিতা খুব দ্রুত পাঠকের হাতে পৌঁছোক। তাহলে উপায় ?

চলো দেখি মোসলেম ভারতে হামলা করা যাক। এই কদিন আগে ওরা তোমার কামাল পাশা নিয়েছে। এখন আবার বিদ্রোহী। সব ভালো লেখা কি ওরাই ছাপবে নাকি ?

যদিও নলিনী খুব ভালো করেই জানেন প্রবাসীর যেমন রবীন্দ্রনাথ তেমন মোসলেম ভারতের নজরুল। আজ পর্যন্ত নজরুলের ভালো লেখাগুলোর বেশির ভাগই মোসলেম ভারত ছাপিয়েছে। আফজালুল বিদ্রোহী শুনেও আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করেননি। নিয়ে গেছে। কিন্তু এবার নলিনীর জেদ চেপে গেল। এই কবিতা উনি কিছুতেই হাতছাড়া করবেন না। নজরুলকে বললেন, তোমার হাতের কপিটা আমাকে দাও তো। আপাতত এটা নিয়ে রাখি তারপর আমি ব্যবস্থা করছি।

নজরুল বিনা বাক্যব্যয়ে নলিনীকে পকেটে রাখা কপিটা দিয়ে দিল।

চলো একবার মোসলেমের আপিসে যাওয়া যাক। দেখি কী করা যায়।

নজরুলকে সঙ্গে নিয়েই নলিনী রওনা দিলেন মোসলেম ভারতের দপ্তরের দিকে।

আফজালুল সাহেব দপ্তরে নিজের চেয়ারেই বসেছিলেন। নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে নলিনীকে হন্তদন্ত হয়ে ঢুকতে দেখেই বুঝতে পারলেন আগমনের হেতু। হো হো করে হেসে বললেন, চিড়িয়া উড় গয়া।

নলিনী বুঝলেন বিজলীর মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে পেরে আফজালুল যারপরনাই খুশি। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বললেন আফজলভাই কামাল পাশা তো নিয়েছ, বিদ্রোহীকে বিজলীর জন্য ছেড়ে দাও না ভাই।

আফজল বললেন আর উপায় নেই। আমি ওর গতি করে ফেলেছি। ছাপানো শুরু হয়ে গেছে। এই দেখ, বলে একটা প্রিন্ট নলিনীর সামনে মেলে ধরলেন।

নলিনী ফর্মাগুলো উলটে দেখতে থাকলেন। আফজালুল ততক্ষণে নজরুলের সঙ্গে গল্পে ডুবে গেছে। বিদ্রোহী নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। সঙ্গে চা।

নলিনী দেখলেন এই সুযোগ। আফজলের অজ্ঞাতসারে ওই ফর্মাকটায় ছাপা রচনাগুলোর শিরোনাম এবং লেখকের নাম টুকে নিলেন এক টুকরো কাগজে। তারপর গোপনে কাগজটা চালান করে দিল নিজের পকেটে। ততক্ষণে মনে মনে যা ফন্দি আঁটার তিনি এঁটে ফেলেছেন।

বিজলীর দপ্তরে পৌঁছেই তিনি আর এক মুহূর্ত দেরি করলেন না। প্রকাশিতব্য মোসলেম ভারতের একটি সমালোচনা লিখতে বসে গেলেন।

মোসলেম ভারতের একটা বিশিষ্টতা এই যে, এতে বাজে মাল বড় একটা আমদানি করা হয় না। আমাদের বিশ্বাস ভালো প্রবন্ধাদি সংগ্রহের জন্যই মোসলেম ভারত যথা সময়ে প্রকাশিত হয় না। এবারে মোসলেম ভারতে শ্রীযুক্ত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪ লাখ সুন্দর নিবন্ধ। মোহম্মদ লুতফর রহমানের রাজনৈতিক অপরাধী তেজপূর্ণ সুন্দর প্রবন্ধ। কামালপাশা হাবিলদার কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা। কবিতাটি যুদ্ধের মার্চে ছন্দে গাঁথা। এরূপ কবিতা বোধ হয় বাঙলার কাব্যসাহিত্যে এই প্রথম। বিদ্রোহী কাজী সাহেবের আর একটি কবিতা। কবিতাটি এত সুন্দর হয়েছে যে আমাদের স্থানাভাব হলেও তা বিজলীর পাঠক-পাঠিকাদের উপহার দেবার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না।

এই পর্যন্ত লিখে একটা ড্যাস টেনে পরের দুই পৃষ্ঠায় বিদ্রোহী কবিতা দিয়ে তিনি সরাসরি পাঠিয়ে দিলেন ছাপাখানায়। মানে প্রকাশিতব্য মোসলেম ভারত পত্রিকার আলোচনার ছলে তিনি সেই পত্রিকায় ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি পুরোই বিজলীতে আগে ছাপিয়ে দিলেন। ফলে সাপও মরল লাঠিও ভাঙল না।

১২ নম্বর পৃষ্ঠায় নলিনীর আলোচনা আর ১৩ ও ১৪ নম্বর পৃষ্ঠায় ডবল কলমে বড় বড় অক্ষরে কবিতা ছাপা হয়ে গেল।

প্রকাশ পেল বিদ্রোহী। প্রকাশ শব্দটা সঠিক নয়, বলা ভালো আছড়ে পড়ল বাঙলার উত্তপ্ত মাটিতে। ঝড়ের বেগে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল বিদ্রোহীর কথা। একটা বিজলীর সংখ্যা হাতে পাওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি পড়ে গেল সবার মধ্যে। এ কী কবিতা ? নাকি একটা আস্ত সাইক্লোন যা নিমেষে সবকিছুকে তছনছ করে উড়িয়ে নিয়ে যায়। যারা আগে হাবিলদার কবির কবিতা পড়েছিলেন, লেখার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তারাও বিস্মিত। এমন লেখা আগে কখনও ওই তরুণ কবি লেখেনি। এই ভাষা এই ভাব, এই ব্যঞ্জনা … এ যে অবিশ্বাস্য! তোলপাড় হয়ে গেল গোটা বাংলায়। মুড়ি-মুড়কির মতো বিজলীর কপি শেষ হয়ে গেল। ওই সংখ্যাটি আবার নতুন করে ছাপাতে হলো। একটা কবিতার জন্য কোনও পত্রিকা মোট ২৯ হাজার কপি ছাপতে হলো, এমন ঘটনাও আগে কখনও ঘটেনি। সব থেকে আশ্চর্যের কথা ওই কবিতা যারা পড়লেন তাদের সবাই যে সাহিত্যপ্রেমী তাও নয় কিন্তু যারা পড়লেন সবাই মুগ্ধ। আসলে এই কবিতায় সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় রীতিনীতি, বিধিবিধানের বিরুদ্ধে, আইনকানুনের বিরুদ্ধে যে সোচ্চার প্রতিবাদ, যে অস্বীকার ছিল সেটাই আপামর মানুষের মনে আলোড়ন তুলল। ব্রিটিশ শাসনে পরাধীন ভারতবর্ষের মানুষ প্রতিক্ষণে যে দাসত্বের গ্লানি, অপমানের জ্বালায় প্রতিনিয়ত দগ্ধ হচ্ছিল এই কবিতা যেন তাদের মনে আগুন জ্বালিয়ে দিল। শুকনো জঙ্গলের দাবানল যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সেইভাবে বিদ্রোহীর কথা ছড়িয়ে পড়ল। সবার মুখেই এক আলোচনা, কে এই কবি ? কী জ্বালাময়ী লেখা! আর যারা নজরুলকে চিনতেন তারাও তাজ্জব, ছেলেটা এ কী লিখেছে ? কী করে লিখল! আগের লেখার সঙ্গে কোনও মিল নেই! চারদিকে নজরুলের জয়জয়কার। নজরুলও তার সৃজনশীলতার প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটাতে পেরে, তার জীবনদর্শনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা করতে পেরে যেন আবেগে আত্মহারা। বিজলীর আপিসে প্রতিদিন অসংখ্য চিঠি, তাতে নজরুলকে অকুণ্ঠ শুভেচ্ছার পাশাপাশি এই তরুণ কবির আরও নতুন লেখা চাই বলে দাবি। একটি কবিতা যে এতটা জনপ্রিয় হতে পারে তা কারও ধারণার বাইরে ছিল, বাংলার সাহিত্যমহলেও শুধু ‘বিদ্রোহী’ নিয়ে আলোচনা হতে লাগল। নজরুলও উচ্ছ্বসিত। ওর এই কবিতাটি যে সম্পূর্ণ অন্যরকমের তা আগেই টের পেয়েছিল, এবার স্বীকৃতি পেয়ে মনে জোর পেয়ে গেল আরও। ও বুঝতে পারছিল এই কবিতার এমন বিপুল জনপ্রিয়তার কারণ শুধুমাত্র পরাধীনতার গ্লানিকে উসকে দেওয়া নয়, অত্যাচারীর খড়গকৃপাণ যত দিন আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে তত দিন তিনি তার সংগ্রাম তার বিদ্রোহ চলবে সেই ঘোষণাও নয় এ আসলে সহসাই নিজেকে আবিষ্কার করে ফেলে আত্মবিশ্বাসের শৃঙ্গে উত্তরণ।

মুজফ্ফর সাহেব কাব্যসাহিত্যের তেমন সমঝদার নন, কিন্তু নজরুলের শুভাকাক্সক্ষী। কাজী সাহেবের এমন সাফল্যে তিনিও যারপরনাই খুশি। তবে তিনি প্রখর বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ। তিনি নজরুলের কবিতাটি পরেও পড়েছেন। এই কবিতায় যে নজরুল মুক্তক মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ব্যবহার করেছে তা না বুঝলেও তিনি কবিতাটিতে নজরুলের পাণ্ডিত্যের যে আভাস পেয়েছেন তাতেই মুগ্ধ। নজরুলের সঙ্গে একই ঘরে থাকার কারণে তিনি জানেন এই ভাষার ব্যবহার এই ব্যঞ্জনা নজরুল কোনও দেবতার আশীর্বাদে পায়নি। বিদ্রোহী একদিনের ফসল নয়, কলকাতায় ফেরার পর থেকেই নজরুল যে নিরন্তর চর্চা করে গেছে তারই ফসল বিদ্রোহী। তিনি দেখেছেন রাতের পর রাত জেগে নজরুল কবিতায় কুশলী শব্দ, ছন্দের প্রয়োগ নিয়ে অনুশীলন করেছে, হিন্দু পুরাণ এবং মুসলিম অনুষঙ্গকে কীভাবে কবিতায় ব্যবহার করা যায়, তাই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। উপমা, অলংকারের ব্যবহার শিখেছে। মুজফ্ফর এই কঠোর অনুশীলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। সেই পরিশ্রমের পুরস্কার কাজী সাহেবকে পেতে দেখে তিনিও খুব খুশি। তিনি বুঝতে পারছিলেন করাচি থেকে যে হাবিলদার তরুণ কবি কলকাতায় পা রেখেছিলেন তিনি ছিলেন হাবিলদার কবি আর এখন বিদ্রোহী কবিতা যিনি রচনা করেছেন তিনি বিদ্রোহী কবি। বিদ্রোহীর কথা আবেদন সাধারণ মানুষের আবেগকে নাড়া দিতে পেরেছে তাই এই কবিতা এত দ্রুত এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

‘বিদ্রোহী’ কবিতা লেখার আগের নজরুল আর এই কবিতা লেখার পরের নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। একটা চূড়ান্ত মেটামরফোসিস ঘটেছিল এই কবিতার মাধ্যমে। বিদ্রোহী লেখার মধ্য দিয়ে এক পূর্ণ কবির জন্ম হয়েছিল সেদিন। বাকিটা ইতিহাস। হাবিলদার কবির শরীর থেকে খসে পড়েছিল হাবিলদার তকমা। তার বদলে তাঁর শিরে উঠেছিল বিদ্রোহী কবির শিরোপা। শুধু বাংলাসাহিত্য নয়, ভারত তথা বিশ্বসাহিত্যের নিরিখেও বিদ্রোহী কবিতা এক বিস্ময়। ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের কোনও একটি রাতে যে কবিতা রচিত হয়েছিল এক ২২ বছর বয়সী তরুণের কলমে, তা এই ২০২১ সালে শতবর্ষে পা দিয়েছে। এই কবিতা শুধু কবিতা নয়, ভারতবর্ষের আত্মা মিশে রয়েছে এই কবিতার প্রতি ছত্রে।

কবির যেমন মৃত্যু হয় না, কবিতাও মৃত্যুহীন। তাই ১০০ বছর পরেও বিদ্রোহী কবিতা একই রকম জ্যান্ত, একইরকম গনগনে আগুন প্রসবকারী এক আগ্নেয়গিরি।

 লেখক : কথাসাহিত্যিক

সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares