শামীম আজাদ

জীবন-আনন্দ

একদিন ড্যাফোডিল ঢালে শুয়ে মনে হবে

আমিও সুতীব্র ছিলাম, ছিলাম বিদ্যুৎ

কুয়োকাটা মধ্যাহ্নের রঙ ছিল গায়ে

ডকল্যান্ডস ডাহুকের ডাক শুনে

চারিদিকে উড়েছিল পাঁজরের ফুল

গোলাপি কুয়াশা দেখে তুমি তো করেছিলে ভুল।

সমস্ত সংক্রান্তি শেষে রাত নেমে এলে

দেখেছি গ্রানাইট শিলার মতো হয়ে গেছ তুমি

ব্রিকলেন, বইমেলা, কফি ও কৃষ্টি ফুঁড়ে

আমাদের নদী থেকে উঠে গেছে সকল উজান

তীরে তীরে জমিয়াছে ভাঙা ভাঙা পয়ারের স্তূপ

মোহনার মূল তটে নিন্দাকাঁটা বসে আছে একদম চুপ।

সে কুয়াশা হইয়াছে আরও গাঢ়

তবু কিন্তু হয়নি তাহা বৃদ্ধ ও করুণ

বাড়েনি ভুলের বয়স, হয়েছে মধুর

দু’জনেই হয়েছি যেন রূপকথাপুর।।

——

তমিজ উদ্দীন লোদী                 

যে তুমি সে তুমিও তোমার  নয়

এক সময় তুমি জেনে গেলে এই রাত্রি তোমার নয়

এই দিন তোমার নয়

এতদিন যে ঠোঁটে তুমি চুম্বনের স্বাদ নিয়েছিলে সে ঠোঁট তোমার নয়

কবিতাপ্রতিম কবিতায় ঠাসা কবিতার খাতা তোমার নয়

ধ্রুপদি উত্থান তোমার নয়

যে মাটির বনেদি গন্ধ তোমার ভেবেছিলে সে গন্ধ তোমার নয়

বসন্তের পরাগমাখা রোদ, সর্ষেক্ষেতের বিভা

গোধূলি সন্ধ্যার দেহলি

কোকিল কী দোয়েলের শিস

ঘাসের ডগায় লেগে থাকা শিশির তোমার নয়

অপরাহ্ন তোমার নয়, ব্রীড়া কি কটাক্ষ তোমার নয়

যে পরকীয়ায় তুমি আকণ্ঠ ডুবেছিলে তাও তোমার নয়

যে প্রতীক্ষা তোমার কাছে অনবদ্য মনে হতো

বুঁদ হয়ে থাকতে, সে প্রতীক্ষা তোমার নয়

জীবন তোমার নয় জীবনান্তও তোমার নয়

মেধা মনন ও ঈর্ষণীয় মেমোরি তোমার নয়

যে মুঠো মুঠো স্তনে একদা শিহরিত ছিলে সে স্তনও তোমার নয়

যে সম্পদ আহরণে প্রাণান্ত ছিলে সে সম্পদ তোমার নয়

যে শান্ত হ্রদ যে সরোবর তোমার আশ্রয় হয়ে উঠেছিল

যে সমুদ্র যে নদী তোমাকে টেনেছে বারবার

যে পাহাড়ের মৌনতায় মুগ্ধ তুমি

এসব কিছুই তোমার নয়

যে সিঁড়ি ভাঙবার জন্যে হন্যে হয়েছিলে, কনুই চালিয়েছিলে বারবার

শেষতক সেই সিঁড়িও তোমার নয়

যে আসনটি পাবার জন্যে অনায়াসে রক্তে রাঙিয়েছিলে হাত

দেখো, সেই আসনটিও তোমার নয়

বাৎসল্য তোমার নয় , প্রেম তোমার নয়

লাবণ্য, অশ্রু ও শোণিতপ্রবাহ, মাৎসর্যবোধ

রোমাঞ্চ কী ফ্যান্টাসি, নগরবাউলের গান

কিচ্ছু তোমার নয়

এমনকি যে তুমি সে তুমিও তোমার নয় ।


জুয়েল মাজহার

হেমন্তে যা আমি পেতে চেয়েছিলাম

অনেক আগুনজলের ঋতু ডিঙিয়ে

অবশেষে আমি তোমার হেমন্ত-নিবিড় গ্রামে এলাম;

আসন্ন শীতকে জয় করবার জন্য তোমার কাছে

চাইতে এলাম স্পর্শ ও স্ফুলিঙ্গ 

এসে দেখি

তোমার ভাঁড়ারে খিলআঁটা। আর

ফটকের চারপাশ ঘিরে বসানো হয়েছে কামারশালা;

যা আমার ডানাগুলোকে পুড়িয়ে দিতে

হাপরের মুখে অদৃশ্য আগুন নিয়ে অপেক্ষা করছে

একটি রজঃ নোটিশও টাঙানো রয়েছে ঈশান কোণে!

প্রত্যাখ্যাত, হতমান আমি কিছু না বলেই তোমার

রম্য জতুগৃহের সীমানা থেকে সরে এলাম

ভেঙে গিয়েও লটকে থাকা একটা ডালের মতন

আমি ঝুঁকে রইলাম নিজেরই লম্বা ছায়ার ওপর;

এবার নিজের নীল অপচ্ছায়াকে গুটিয়ে ফিরে যাচ্ছি …

শীতের কুন্ত-আগ্রাসন থেকে আমি খুব করে বাঁচতে চেয়েছিলাম

 হেমন্তে আমি তাই পেতে চেয়েছিলাম তোমার স্ফুলিঙ্গ ও কার্পাস


সুহিতা সুলতানা

মুহূর্ত

নিষিদ্ধ নগরের পথে পথে বিকলাঙ্গ চিৎকারে পিষ্ট হতে থাকে গোলাপ। কে ক্ষণকাল দাঁড়ায় ত্রিকূলে? অনিদ্রার উন্মুক্ত সময়ের ভেতর কেউ কোথাও নেই। দ্বিপ্রহরের মধ্যযামে মুহূর্তগুলো বিমর্ষ হয়ে বিস্তীর্ণ প্রান্তরে আর্তনাদ করে ওঠে চিরকাল কেউ কারও থাকে না। যাকে ভেবে ভেবে জীবন বরবাদ করে দিলে সে কখনও তোমার হলো না! ভাবো তো একবার এ কঠিন শৃঙ্খল থেকে কে বাঁচাবে মাকে? কম্পমান দ্বিধার সংকটে যে অচেনা স্টেশনে বসে মুহূর্তকে শনাক্ত করতে চায় সে কী কখনও কারও ছিল ? ক’দিন আগেও দেখেছি সবকিছু ঠিকঠাক মতো ছিল অথচ আজ কীভাবে উল্টে গেল দাবার গুটি, কোমল ত্বক, মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ! চেয়ে দেখি সেই ধূসর রঙের শৃগাল পুনরায় সাপের পোশাকে ঢুকে বসে আছে চৌহদ্দীর ভেতরে! লকডাউনে জীবন বাজি রেখে যারা অন্যের অনিষ্ট সাধনে মেতেছে তাদের কী নামে ডাকা যায় কী চোখে দেখা যায় বলো দেখি


টোকন ঠাকুর

কবিতার ডাক

লিখব তবে কার কথা?

মনে হয় কোনও ভাবনাই নেই, ভেবে কী আর কবিতা হয়? ভেবে যেমন প্রেম হয় না, ভেবে কবিতাও হয় না। ভেবে স্বপ্ন দেখা যায় না। স্বপ্ন আবছাআব, কবিতাও তাই, প্রেমও অজ্ঞাতে আসে। যখন আসে, ঠেকানো যায় না। হুড়মুড় করে আসে। মুড়মুড় করে আসে। ফুরফুর করে আসে। দূর দূর করে আসে। দূর দূর করে করে নিকটে চলে আসে। নিকটে কী, এক্কেবারে ঘাড়ের ওপরে, একদম মাথায় চলে আসে। মাথা থেকে খাতায় নেমে আসে। খাতা থেকে ছাপা হতে কাগজে চলে যায়, তখন সেই কবিতা পড়ে তোমার চোখ, কবিতা তোমাকেও পড়ে। কবিতা বুঝে নিতে চায়, তুমি কেমন আছ, তুমি কেমন নেই, তোমার কেমন থাকা উচিত, না থাকা উচিত…

এরই ফাঁকে তুমি টের পেয়ে যাও, কবিতাটা কেমন হয়েছে ? কবিতাটা তোমার কোথায় জায়গা পেল! তোমার বুকে, না বিছানায়, তোমার বালিশের পাশে! তোমার মনে কবিতাটা থাকবে তো ? কবিতা তোমার মনেই বা থাকবে কী করে ? তোমার মনই তো তোমার সঙ্গে থাকে না। তোমার মন কোথায় থাকে ? তুমিই বা কোথায় থাক ? তুমি আর তোমার মন কি দুই অধ্যায় ? আমি আর আমার মনও কি তাই ? মন্ময় এক সাধু বলেছিলেন, মন আবার কী ?

মনের খবর জানিনে। তাই নিজের খবর জানিনে। তাই তোমার খবরও অজানা থেকে যায়। কে তুমি, কে তুমি ? কে আমি কে আমি ? মনে হয়, তুমি-আমি কেউ না। সময়, এই সময়টাই সব! তবে কী তোমার-আমার প্রকৃত ডাকনামই সময়। এই সময়কে ডাকলেই তুমি-আমি ডাক শুনতে পাব!

মনে হয়, কবিতাকে ডাকলেও ডাক শুনতে পাব। না হয়, কবিতাকে ডেকেই দ্যাখো না!


শহীদুল ইসলাম

আশ্চর্য মানবজীবন

কী এক মায়ার জাল বিছানো আছে চারিদিকে

পা  ফেললেই অবলীলায় বেঁধে যায় পা

যেখানেই দাঁড়াই, স্বভাবে জড়িয়ে ধরে লতায় পাতায়

কে তাকে ছাড়াতে পারে―ছিঁড়ে যেতে পারে

                      নিপাট নির্মোহ হয়ে চলে যেতে পারে ?

প্রথম ক্ষণ থেকেই শুরু হয় জাদুকরি খেলা

কখন কীভাবে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যায়

একটু একটু করে যাই―হারাই একেকটি দিন

বেদনা কিছু লেগে থাকে

একটি নতুন দিন অন্য এক নতুন নিয়ে আসে

আনন্দে বুক ভরে যায়

বোধের জগতে ভাঙা-গড়া চলে আর চলে

অলক্ষ্যে রেখে যায় বেঁচে থাকার অনিঃশেষ তেজ আর টান

ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাই

                   আরেক রকমের রোদ আর ছায়ার খেলা চলে

বর্ণিল বলখানি গড়াতে গড়াতে যায়

রং আর রঙ্গমঞ্চ বদল হয়… বদলে যেতে থাকে

নদীর বাঁকে বাঁকে আছে কত গোপন খবর

নোঙর নিখুঁত বেঁধে অন্য কোনো ফলদ মাটিতে

অনিবার খুঁজে পাই আরেক খেলার ঠিকানা

এ মানবজীবন কখনও কোনও দিন পুরোনো হবে না ।


রওনক আফরোজ

যাব না অন্য কোথাও

সূর্যকিরণ, তারার মালা অথবা চাঁদগলা জোছনা নয়;

পুঞ্জিভূত অন্ধকারে গুচ্ছগুচ্ছ জোনাকির মতো

স্নিগ্ধ আলো হয়ে আমার ভুবন জুড়ে থেকো।

অন্ধকারের অফুরান সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগে

সঙ্গী চাই; অনন্য, তোমাকে।

যদি সমুদ্র ডাকে?

তোমার চোখের নীলঅতলে প্রবালদ্বীপ।

বুকের বালিয়াড়িতে উদাস শুয়ে

আকাশ দেখতে দেখতে রঙ্গিন ঘুড়ি হয়ে উড়ব।

ফাগুন এলে তোমার কবিতায়

শব্দে শব্দে লুকোচুরি খেলায় হারিয়ে যাব

আবার বসন্ত ফিরে যাবে, যাক না ফিরে,

আমার বারোমাসি হোলিউৎসব এই প্রাঙ্গণজুড়ে।

দহনে জীবন জ্বলে গলে গেলে

গভীর চুম্বনে প্রাণের নির্যাসটুকু ঢেলে দিও।

জলতরঙ্গ বাজিয়ে কদমফোটা বৃষ্টি নামবে;

ফলে ফসলে হেসে উঠবে অনুর্বর প্রান্তর;

নতুন শস্যের সুগন্ধে ভুলে যাব অনাহারি দিন।

আমরা তখন দূষণমুক্ত নতুন ভুখণ্ডে এডাম ও ইভ

যাব না ‘অন্য কোথাও অন্য কোনখানে’।


সাকিরা পারভীন

পরীক্ষা

বিষাদবিষয়ক প্রশ্নাবলি দেখে অতিক্রান্ত হয় আনন্দ সীমারেখা।

অভিধান খুলে বসে নিমফুল। সেখানে বিবিধ ব্যাকরণ

বিমূঢ়াবস্থায় পড়ে আছে নিযুত বছর।

ডাক্তারের চেম্বারে যায় নিমফুল। কবিরাজ। মাওলানা। পুরোহিত।

সুস্থ সমাধান দিতে পারে না কেউ। শুরু হয় তদন্ত কমিটির তদারকি।

কারণ দর্শানোর নোটিশে পরিষ্কার জানিয়ে দিই

আমার একটা উঠোন দরকার। উঠোনের মুখে বুকে পর্যাপ্ত রোদ।

একটা সূর্য। একটা চাঁদ।

আর একটা বটগাছ। নদীও দরকার।

বসন্ত বাউরি পাখি। আবাদি জমিতে কেঁচো।

উজ্জ্বল খয়েরি তেলাপোকা। তাদের নিরাপদ চুম্বন।

সর্বসম্মতিক্রমে রোল রেজিস্ট্রেশন বাতিল ঘোষণা করে পরীক্ষা কমিটি। 


সঙ্গীতা ইয়াসমিন

সম্পর্কের উপাখ্যান

কিছু সম্পর্ক যত্ন করতে হয়;

তেলে-জলে তিল তিল বাড়তে দিতে হয়।

হেমন্তের হলুদাভ পাতার মতো নিরস, নিঃসঙ্গ হতে দিতে নেই,

ঝরে যেতে দিতে নেই অবেলায়; তাতে রক্তক্ষরণ হয়।

কিছু মানুষ বুকের ওমে রাখতে হয়।

হৃদয়ের গোপন খামে, গোপন সিন্দুকে

সোনার ফ্রেমে ছবি করে, প্রতিদিন ধুলো ঝেড়ে,

স্মৃতিভ্রষ্টতার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে দিতে নেই।

ভালোবাসার মণিহারে জড়িয়ে রাখতে হয় কিছু সম্পর্ক অন্তহীন।

সম্পর্কের ব্যাপ্তির মতো দীঘল হোক ভালোবাসার ঋণ;

বিলম্বিত সময়ের কাঁটায় অনাদায়ী ঋণের পাতায় নাম উঠুক

কিছু সম্পর্ক নিলামে যাক, বেদনার বেনোজলে ভেসে।

কিছু সম্পর্ক নামহীন হোক, অসরকারি খোলসে।

নির্ভরতা বাড়ুক অথৈ কিছু সম্পর্কে, বেওয়ারিশ মোড়কে।

আড়াল-আবডালের ধূপছায়া মুছে নির্ভার থাকুক সুজন,

কাচের দেয়াল পড়ুক খসে, নির্ভয়ে বাঁচুক দুজন।

তাণ্ডবলীলায় ভেঙে যাক চারধার, ভীষণ ঝড় উঠুক

কিছু প্রেম দুঃখের অনলে পুড়ুক

ছাইয়ের অবশেষে মণি-কাঞ্চন হোক যোগ।

কিছু মানুষ কাছে না থাক, আজীবন পাশে থাকুক,

কিছু মানুষ সম্পত্তি নয়, বিত্ত নয়, বৈভব হোক।

সম্পর্কের চোয়াল থেকে খসে পড়ুক মুখোশের মুখ।

রোজকার দায় থেকে বেরিয়ে, কিছু সম্পর্ক কেবল সম্বন্ধ হয়ে উঠুক।


সৌম্য সালেক

একটি বিষম গান

নিমেষেই জৌলুশ হারিয়ে ফেলে সুবর্ণ ফুলেরা

দেহে বাঁধে রোগ বাসা

নতুন ঘরে ঘরে সারারাত ঘুণ করে গুনগুন

সব নীল, শাপে-সন্তাপে নীল সব বেদনার পারা

অমোঘ আশ্বাস বলে কিছু নেই

যেসব মন্ত্রগুণে দিন গুজরায় লোকে―স্বপ্ন আঁকে সারাক্ষণ

দিনশেষে সব মিছে―

চুপেচুপে কথার ধ্বনিরা করে আলোহীন আঁধারের গান !

জীবনের ঔরসে জন্ম নেয় মরণের অপরূপ রঙ-লীলা-সাজ

মতিনের মৃত দুহিতার দিকে চেয়ে এ খবর পেয়েছি আজ!


বঙ্গ রাখাল

বিমর্ষ আয়নায়

জীবনটা পোকার মতো লেপ্টে রয়েছে তোমার ওপর―মরণের কিছু মিছেমায়ায় আমাকে তোমার দিকে প্রতিনিয়ত টানছে―সুচিমুখ লজ্জায় অবনত আমার প্রতি―আকাশের চূড়ায় ভালোবাসার ঘর হবে আর পাতালে সাজাবে বাসর এমনি ভাবনা ছিল তোমার―অন্ধকার রাতে তুমি মনের কাগজের ভাঁজে ভাঁজে লিখলে অজস্র কবিতা―কবিতা মানে আমার আর তোমার হৃদয় পোড়ানো কিছু গল্প বা তোমার পেয়ে হারানো কিংবা হারিয়ে পাওয়ার সহজাত নির্ঘুম রাত। তুমি নিশ্চয় সেনাদল দেখে থাকবে―এদের শৃঙ্খলার মধ্যেও থাকে নিয়ম ভাঙনের অভিশপ্ত পিরামিড … জানো তো মাঝে মাঝে মানুষকে মচকানো জীবন―যাপন করতে হয় আর দেখে নিতে হয় ঘুমিয়ে পড়ার আগে মুখ―মুখ মানে আমাদের প্রাত্যহিক সরলতা―এখানেও লুকিয়ে থাকে মোহিত হওয়ার গল্প…

রাত্রি তোমাকে বিমর্ষ লাগে―আয়নায় দেখলে জীবন …

সচিত্রকরণ : নাজিব তারেক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares