‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ

সাহিত্য পুরস্কার’ ২০২১ পেলেন

সেলিনা হোসেন ও ফাতেমা আবেদীন

৭৪তম জন্মদিনে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নামে প্রবর্তিত ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে দেশের প্রথিতযশা ও প্রতিশ্রুতিশীল দুই কথাসাহিত্যিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সামগ্রিক অবদানের জন্য এ পুরস্কার পেলেন প্রবীণ কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছর বয়সী লেখক) ফাতেমা আবেদীন এ বছর তার মৃত অ্যালবাট্রস চোখ বইটির জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও  ফাতেমা আবেদীনকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র দেখানো হয়। তাদের নিয়ে শংসাবচন পাঠ করেন পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। পুরস্কারপ্রাপ্ত সেলিনা হোসেন ও ফাতেমা আবেদীন পুরস্কার হিসেবে পেলেন যথাক্রমে পাঁচ লাখ ও এক লাখ টাকাসহ উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। ২০১৫ সালে প্রবর্তিত হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’। দেশের প্রবীণ ও নবীন কথাশিল্পীদের সাহিত্য সৃষ্টির স্বীকৃতি ও প্রেরণা যোগাতেই এই পুরস্কার প্রবর্তিত হয়।

পুরস্কার গ্রহণের পর সেলিনা হোসেন বলেন, ‘একজন লেখক হিসেবে পুরস্কৃত হয়ে গৌরব অর্জনকে আমার সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক বড় একটি দিক বলে মনে করি। যে দিকটা ধারণ করে আমি অনেককে আলোকিত করতে পারব, অনুপ্রাণিত করতে পারব, সাহিত্যের শংসাবচনকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি জায়গা তৈরি করতে পারব।’

পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণ কথাসাহিত্যিক ফাতেমা আবেদীন বলেন, ‘মৃত অ্যালবাট্রস চোখ বইটির ১০টি গল্পের একটি আমি হুবহু হুমায়ূন আহমেদকে নকল করে লেখার চেষ্টা করেছি। আমার জীবনের প্রথম পুরস্কার তার নামে পাওয়া- এটা আমার জন্য অনেক বড় ঘটনা।’

স্বাগত বক্তব্যে পাক্ষিক অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, হুমায়ূন আহমেদ নেই, হুমায়ূন আহমেদ স্যার ছিলেন সাহসী মানুষ। তিনি মানুষের দুঃস্বপ্নতাড়িত বাস্তবতার বিপরীতে তৈরি করেছিলেন এক নতুন জগৎ।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে এক্সিম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. আব্দুল বারী এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই কথাসাহিত্যিককে এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

মেহের আফরোজ শাওন শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের আগের দিন এতগুলো প্রিয় মানুষকে একসঙ্গে পাওয়া আসলেই ভালো লাগার। ২০১৫ সালে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন যে পুরস্কারটি চালু হয়েছে, তা সব সময় চালু থাকবে, এটাই আশা।’

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ২০২১

দেশের ৮ গুণী ব্যক্তি পেলেন ‘চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ২০২১’। চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড বৈশাখি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ১৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির সচিব হাসানাত লোকমান। জনপ্রিয় হাওয়াইয়ান গিটারশিল্পী দিলীপ ঘোষ ও ঐশী ঘোষের মনোমুগ্ধকর গিটার পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

চর্যাপদ একাডেমির সভাপতি নুরুন্নাহার মুন্নির সভাপতিত্বে, মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি ও পরিচালক খোরশেদ আলম বিপ্লবের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শব্দঘর-এর সম্পাদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল, সম্মাননীয় অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী। স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সজীব মোহাম্মদ আরিফ ও সদস্য সচিব দুখাই মুহাম্মাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কবি জামশেদ ওয়াজেদ, ‘চর্যাপদ একাডেমি’র উপমহাপরিচালক নন্দিতা দাস, পরিচালক শিউলী মজুমদার। শংসাপত্র পাঠ করেন সহ-সভাপতি আয়শা আক্তার রুপা, নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা, উপ-নির্বাহী পরিচালক ফাতেমা আক্তার শিল্পী, সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক, সাংস্কৃতিক পরিচালক কাকলী চক্রবর্তী ও সদস্য কামরুন্নাহার বিউটি।

কথাসাহিত্যে ফারহানা রহমান, লোক-গবেষণায় তপন বাগচী, প্রবন্ধে মিলু শামস, নাটকে এনায়েত উল্যাহ সৈয়দ শিপুল, সমগ্র সাহিত্যকর্মে রহমান হাবিব, শিশুসাহিত্যে অদ্বৈত মারুত ও সংগীতে স্বরূপ রতন দত্তের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ২০২১’।

কবিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শাহেদ কায়েসের মা হাসপাতালে ভর্তি থাকায় স্বশরীরে অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি, অনলাইনে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর পুরস্কার গ্রহণ করেন কবি গোলাম মোর্শেদ চন্দন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও একজনকে প্রদান করা হয় বিশেষ সম্মাননা। খ্যাতিমান বাচিকশিল্পী ড. সুমন হায়াত বিশেষ সম্মাননায় অভিষিক্ত হয়েছেন। সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে উৎসর্গ করা হয় এবারের অনুষ্ঠান।

 উদ্বোধক কবি হাসানাত লোকমান বলেন, ‘শিল্প-সাহিত্যের মানুষেরা সুন্দর এবং মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে পারে। ‘চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি’র আয়োজনকে আমি সাধুবাদ জানাই।’

প্রধান অতিথি মোহিত কামাল বলেন, বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠান চাঁদপুরে থেকে দেশবিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

গ্রন্থনা : রেজাউল হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares