বাংলাদেশের ১৫ লেখকের নতুন গল্প : কুকুরের মগজ : আনিফ রুবেদ

[ভূমিকা : শ্রীদামের বউ ছিল আরতি। তাদের একটা মেয়ে মাধবী। শ্রীদাম অসুস্থ হয়ে গেছিল। তাকে চিকিৎসা দিচ্ছিল এক লোকাল ডাক্তার। তার নাম রমজান। শ্রীদাম প্রেসে কাজ করত। অসুস্থতার কারণে পরিবারে চরম দুর্দশা নেমে আসে। রমজানের সঙ্গে আরতি ঘর ছাড়ে। কিন্তু খুব বেশিদিন রমজান ডাক্তারের সঙ্গে সে থাকতে পারেনি। তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। তারপর থেকে আরতির পথে পথে ঘুরে বেড়ানোর জীবন শুরু হয়। আরতি সুন্দরী। তাকে পুরুষেরা তাদের বিকৃতি চরিতার্থের আধার হিসেবে দেখতে থাকে। সারাদিন সে বাজারের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। চেয়ে বা ফেলে দেয়া খাবার থেকে খাবার সংগ্রহ করার চেষ্টা করে। রাত হলে সে ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো ভবনের বারান্দায় শুয়ে থাকে। প্রথম রাতে কয়েকজন যুবক ছুরির ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে যৌনতা করেছে। এখন বলা হচ্ছে, সেই রাতের পরের দিন এবং পরের রাতের কথা। দিনের বেলাতে একটা কুকুরের পিষ্ট হওয়া দেখেছে, কুকুরের মাংস, মগজ, রক্ত তার গায়ে ছিটকে এসে পড়েছিল। পিষ্ট হওয়া কুকুর গলে যাওয়া মগজ আর শরীর নিয়ে তার দিকে হেঁটে হেঁটে আসছিল।]

গতরাতে কয়েকজন যুবক আরতির সঙ্গে যৌনতা করেছে। এখন সকাল। সে পাশ ফিরে দেখল, এখনও কিছুটা পাউরুটি আর কলা রয়ে গেছে। থাক। কল-পাড়ে গিয়ে মুখ ধোয়। মুখ মোছে আঁচল দিয়ে। কল থেকে পাউরুটির কাছে ফিরে। পাউরুটি চুপচাপ বসে আছে। পাউরুটির গায়ে পিঁপড়ে খুদবুদ করছে। আহারে পিঁপড়ারা, তোরা খাচ্ছিস কিন্তু এ তো আমার খাবার, অনেক অপমানের বিনিময়ে কেনা খাবার। একটা একটা করে পিঁপড়াগুলোকে সরিয়ে দেয় কলার গা থেকে, পাউরুটির গা থেকে। পাউরুটির ভেতরে থাকা ফাঁকে ফাঁকে পিপড়া ঢুকে গেছে সেসব ফাঁক থেকে পিঁপড়েদের টেনে বের করে। ‘জগৎ নির্মম রে পিঁপড়েরা’ বলে সে কামড় বসায় পাউরুটির গায়ে। এই পাউরুটির ফাঁকে ফাঁকে আরও পিঁপড়ে থেকে যায়নি কি ? সে কি সবই বের করতে পেরেছে ? তার দাঁতের ফাঁকে পড়ে পাউরুটি পিষে যাচ্ছে, পিঁপড়ে পিষে যাচ্ছে, কলা গলে যাচ্ছে, চলে যাচ্ছে পেটের ভেতরে। পেটের অবস্থান জননেন্দ্রিয়ের ঠিক উপরেই।

আপাতত পেট ঠাণ্ডা। পেট ঠিক করতে মাথা হেঁট করে বেঁচে থাকে। মন জ্বলে যাচ্ছে। মনের পোড়া থামে না। আহারে, মন তোর পোড়া থামবে না মরণের আগে পর্যন্ত। দেহ তো খাবার পেলেই তৃপ্ত, কিন্তু তপ্ত মনকে তৃপ্ত করার কোনও মসলা বের হয়নি জগতে।

সে উঠে হাঁটতে হাঁটতে নদীর দিকে যায়। গোসল করে নিলে ভালো লাগত। রাতের চার যুবকের নাড়াচাড়া ধুয়ে ফেলতে পারত। গুরাতটাকে ধুয়ে ফেলতে পারত। কিন্তু তার তো আলাদা কোনও পোশাক নেই। যা দিয়ে সে ভেজা কাপড় পরিবর্তন করতে পারে। সে সিদ্ধান্ত নেয় এখন গোসল করা যাবে না। এখন থেকে গোসল করতে হবে সন্ধ্যের পর। সন্ধ্যার পরের অন্ধকারে পোশাক পরা মানুষ আর পোশাক খোলা মানুষের মধ্যে পার্থক্য নেই। অন্ধকার পোশাক খোলার সুযোগ দেয় মানুষকে। যেহেতু এখন গোসল করা হচ্ছে না সেহেতু সারারাতটাকে সারাদিন শরীরে বয়ে নিয়ে বেড়াতে তার মন হিসহিস করে ওঠে, মানুষের এতও ঝক্কির ভেতর দিয়ে যেতে হয়।

সে নদীর ধারে একটা গাছের গায়ে হেলান দিয়ে বসে। তাকে উস্কো খুস্কো একটা পাগলির মতোই দেখাচ্ছে। নদীর জলের দিকে তাকিয়ে থাকে একদৃষ্টে। কোথাকার জল কোথা গিয়ে পড়ছে। নদীর এত জল কোথা থেকে আসে, কোথায় চলে যায়। মানুষও তেমনই, কোথা থেকে আসছে, শিশু হয়ে জন্মে যাচ্ছে আর বড় হতে হতে কত রকম কাণ্ডকারখানা করতে করতে মরে যাচ্ছে। একই মানুষের দু’গতির চলা। একটা ইচ্ছেমূলক গতি আরেকটা অনিচ্ছাকৃত গতি। ইচ্ছেমূলক গতিতে সে পায়ে হাঁটে, বাসে চলে। অন্যটা হলো প্রথম নিঃশ্বাস থেকে শেষ নিঃশ্বাসের দিকে চলা, জন্মের ছোবল থেকে মৃত্যুর কোলে বা জন্মের কোল থেকে মৃত্যুর ছোবলে বা জন্মের ছোবল থেকে মৃত্যুর ছোবলে বা জন্মের কোল থেকে মৃত্যুর কোলে। ছোট থেকে বড় হওয়া বাধ্যতামূলক, ইচ্ছে করলেও সে এটা করতে পারবে না যে বড় হব না। ইচ্ছে করলে প্রথম ধরনের চলা কেউ নাও চলতে পারে কিন্তু দ্বিতীয় ধরনের চলন কোনওভাবেই থামাতে পারবে না।

তার শ্রীদামের কথা মনে পড়ে, বড় ভালো ছিল মানুষটা। দেহও তো কম সুঠাম ছিল না। রাতের পুরুষ হিসেবেও সে ছিল খুব ভালো। গতরাতের যে চারজন তাদের চাইতেও ভালো ছিল, রমজান ডাক্তারের চাইতেও ভালো ছিল। কিন্তু ঐ তো কী অসুখে পড়ল। তার চোখ গিয়ে পড়ল রমজান ডাক্তারের দিকে, রমজান ডাক্তারের চোখ পড়ল তার উপরে। তারপর কত কী হয়ে গেল। এখন সে পাগলির মতো পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খাবারের দোকানের দিকে তাকাতে গেলেই কুত্তা তাড়া করে, তাড়া করছে। দোকানে দোকানে প্রচুর খাবার আছে কিন্তু এসব খাবারের গায়ে টাকাওয়ালাদের নাম লেখা।

সকালের কলা পাউরুটি পেট থেকে উধাও হয়ে গেছে। জ্বলন্ত চুলাতে ফুটতে থাকা জলের বাষ্প যেমন কিছুদূর দেখার পর আর দেখা যায় না, বাতাসে মিশে যায় তেমনভাবেই পেটচুলাতে ফুটতে ফুটতে কলা পাউরুটি উবে গেছে। এখন আবার তার খিদে দরজায় আঘাত করার মতো আঘাত করছে তার পেটে। সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।

বাজারের যেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে সেখানে একটা পচা আনারস পড়ে থাকতে দেখে। এ আনারস কি পুরোটাই পচা, কিছুটাও কি এর খাওয়া যাবে না। যার যত চোখ সে তত জ্ঞানী। সে হিসেবে মাছি জ্ঞানী, তার নাকি অনেকগুলো চোখ আছে। আনারস জ্ঞানী ফল, সারা গা ভরা চোখ আর চোখ। এত চোখ দিয়ে কী করে আনারস। সেই তো তাকে বঁটির নিচে পড়ে কুচি কুচি হতে হয়। বেশি চোখ থাকলেই বেশি বেদনা। মানুষের যদি পেছনে আর সামনে চোখ থাকত তবে তার কষ্ট হতো বেশি। কারণ, যখন কোনও মানুষ কোনও মানুষকে ছুরির আঘাত করে তখন খুন হতে যাওয়া মানুষ তিন ধরনের ব্যথা পায়। এক ধরনের ব্যথা হলো, কে তাকে মারছে সেটা সে দেখতে পায় ফলে সে যদি তার কাছের কেউ হয় তবে তার মনে বেদনা জাগে, ‘আহা তুই আমাকে মারার জন্য ছুরি বাগিয়ে ধরেছিস।’ আর এক ধরনের ব্যথা আছে সেটা হলো, তাকে আক্রমণ করতে আসছে, ছুরি তার ভেতরে ঢুকে যাবে আর সে রক্তাক্ত হয়ে যাবে সেই ভাবনার ব্যথা। আর একটা ব্যথা হলো, ছুরি বসে যাবার পর দৈহিক যন্ত্রণা। যদি কোনও মানুষ কোনও মানুষকে পেছন থেকে মেরে পালিয়ে যায় তবে সে তিন ব্যথার মধ্যে দুটা ব্যথা কম পায়। আনারসের সবদিকে চোখ, তাকে যেদিক থেকেই বঁটি দিয়ে কাটুক তিন ধরনের ব্যথাই পেতে হবে। সুতরাং যত চোখ তত জ্ঞানী, যত জ্ঞানী তত শোক। সুতরাং চোখ কমাতে পারলেই ভালো। সুতরাং এত চোখের দরকার নেই।

সে আনারসটা কুড়ানোর জন্য আবর্জনার স্তূপের দিকে নামতে যাবে তখন দেখে, একটা কুকুর কোথা থেকে হুট করে চলে এল। এমন হুট করে এল যেন কুকুরাবতার। এতক্ষণ তাকে এক ঝলকের জন্যেও দেখতে পায়নি। কুকুরটা এসেই ঐ আনারসের গায়ে মুততে শুরু করল। হায় রে কপাল। তার মন ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। সে আনারসটাকে নিয়ে ভাবছিল একভাবে, আনারসটাকে নিয়ে তার চারপাশের প্রকৃতি ভাবছিল আরেকভাবে। কুকুরের মুত মিশ্রিত আনারস আর খাওয়া যাবে না। আনারসের অনেক চোখ। চারদিক সে ভালো করে দেখতে পারে। সেই আনারস দোকানে ঝুলতে ঝুলতে হয়তো আরতির দুর্দশা দেখে নিজেই মাত্র খানিকটা পচে উঠেছিল যাতে দোকানদার তাকে ফেলে দিতে বাধ্য হয়, যাতে সে আরতির খাবার হতে পারে। আনারস যদি এভাবে ভেবে থাকে, তবে আনারসের ভাবনাও কাজে লাগল না।

আবর্জনার স্তূপে সে আর নামল না, উঠে এল। কুকুরটাও আনারসের মুখে চোখে মুতে দিয়ে কোনদিকে চলে গেল কে জানে, ওটাকে আর দেখা গেল না। দুপুর গড়িয়ে গেল। সকালের আর কোনও কাজ নেই কাজ শুধু গড়িয়ে যাওয়া। দুপুরের আর কোনও কাজ নেই কাজ শুধু গড়িয়ে যাওয়া। বিকেল সন্ধ্যা রাতের কোনও কাজ নেই গড়িয়ে যাওয়া ছাড়া, মানুষকে মাড়িয়ে যাওয়া ছাড়া। আবর্জনার স্তূপ থেকে উঠে আসার সময় তার মনে হলো, নিজেকে ডাস্টবিনে ফেলে রেখে আসতে পারলে খুব ভালো হতো।

সে একটা ভাতের হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ায়। ভাতের হোটেল তার সামনে থেকে সরে গেল। একটা পুচকে এসে তাকে ধাক্কিয়ে সরিয়ে দিল। তার মন ব্যথিয়ে উঠল একেবারে। তার চোখে জল টলমল করে উঠল। ভেতরে প্রচুর বাষ্প ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সে বড় রাস্তার সামনে এসে দাঁড়াল। রাস্তা পার হলে ওপাশেও একটা ভাতের হোটেল আছে। সেখানে গিয়ে সে দাঁড়াবে কি না ভাবল। একটা হোটেলবালক কিছু এঁটো ভাত নিয়ে এসে ফেলল দোকানের সামনে রাখা ডাস্টবিনে। এসময় দেখল একটা ট্রাক দুরন্ত গতিতে এগিয়ে আসছে। ভাত ফেলা দেখে একটা কুকুর রাস্তার এ পাশ থেকে সেসময়ই দেয় দৌড়। কুকুরের মাথা পিষে চলে গেল ট্রাক। কুকুরের রক্ত ছিটকে এসে পড়ল আরতির গায়ে, কুকুরের মগজ ছিটকে এসে পড়ল মাথার ওপর। তার মন আঁতকে উঠল। তার গা ঘিনঘিনিয়ে উঠল। তার আর হোটেলের দিকে যাওয়া হলো না। সে গায়ে কুকুরের রক্ত নিয়ে, মাথায় কুকুরের মগজ নিয়ে নদীর দিকে হাঁটতে লাগল। তাকে গোসল করতেই হবে। তাকে ভেজা কাপড়েই থাকতে হবে। ভেজা কাপড় গায়েই শুকাতে হবে। তার আর কোনও শাড়ি নেই। তার শাড়ির গায়ে এর মধ্যেই অজস্র চোখ বেরিয়েছে। যত চোখ তত জ্ঞানী। তার শাড়ি জ্ঞানী হয়ে উঠেছে। তার দেহ এসব ফুটো দিয়ে উঁকি মেরে বাইরে দেখে। বাইর এসব ফুটো দিয়ে আরতির দেহ দেখে। এসব ফুটো দিয়ে ভেতর বাইর দেখাদেখি হচ্ছে, মাখামাখি হচ্ছে। লজ্জার মাংসমজ্জারস সব একাকার হয়ে গেল জগতের জিহ্বার তলে পড়ে।

গোসল করতে করতেই কাপড়টাকে ভালো করে ধুয়ে আবার সে ভেজা কাপড় পরে নেয়। তবু তার গা থেকে কুকুরের রক্ত লাগা, মগজ লাগা, মাংস লাগা অনুভূতি যায় না। সে রোদের ভেতর গিয়ে দাঁড়ায়। জলটা যদি একটু আগে শুকোয় তবে ভালো হবে। আজকে কি তার জ্বর নামবে ? থেকে থেকে কেঁপে উঠছে কেন গা।

তার মনে হয়, ঐ কুকুরের মতো সেও কি ট্রাক-বাসে পিষে যেতে পারে না ? হঠাৎ করে পিষে যাবে, যা সে নিজেও জানতে পারবে না। যেমনভাবে কুকুরটা বুঝতেই পারল না সে মরে গেছে। মরা কুকুরটা মরে গেছে বুঝতে না-পেরে মনে মনে হয়তো এখনও দৌড়াতেই আছে, দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে গেল। মনে মনে হোটেলের সামনে পড়ে থাকা ভাত বা হাড়ের টুকরো চিবুচ্ছে। আহা, এত দ্রুত কুকুরের জীবন আর মৃত্যুর হাতবদল হয়ে গেল যে, কুকুরটা বুঝতেই পারল না তার মৃত্যু হয়েছে। অমন একটা মৃত্যু হলে খুব ভালো হতো।

সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে। সে ইউনিয়ন পরিষদের পুরোনো বিল্ডিংয়ের আস্তানায় ফিরে এসেছে। এখানে সন্ধ্যা হতেই রাত শুরু হয়ে যায়। কাপড় ঠিকমতো এখনও শুকায়নি, ভেজা ভেজা ভাব। সে কাপড় খুলে একেবারে নগ্ন হয়ে শুয়ে যায়। শরীর কাঁপিয়ে জ্বর নামে। কিছু গায়ে দিতে পারলে ভালো হতো, শীত শীত করছে। সে জ্বরে কোঁকাতে থাকে। জ্বরের ভেতর ট্রাকে পিষে মরা কুকুরকে হেঁটে আসতে দেখে। রক্তাক্ত মগজ বের হয়ে মাথা চ্যাপ্টা হওয়া কুকুর কীভাবে হেঁটে আসছে। তার হাসি পায় মরা কুকুরের হেঁটে আসা দেখে। ওরে মরা কুকুর তুই তো মরে গেছিস তাহলে আর হাঁটছিস কেন ? ঘাঁটছিস কেন মলমূত্র আবর্জনা ?

কুকুর হেঁটে হেঁটে একেবারে কাছে চলে এসেছে। তার গা শুঁকতে শুরু করেছে। জ্বরের ঘোরে সে মরা কুকুরকে তাড়ায়, ‘যা যা, চলে যা, চলে যা মরার মরা কুকুর। এখানে কী করতে এসেছিস। চলে যা।’ কুকুর তার শ্বাস ফেলে পায়ের উপর, গায়ের উপর। চট চট করে শরীর চাটে। জ্বরের শরীরে আরতি জোর করবে তাও পারে না, মুখে বলতে থাকে, ‘যা মরার কুকুর, গা চাটছিস কেন ? আমার গায়ে লেগে থাকা তোরই মাংস, মগজ, রক্ত চেটে খাবি নাকি ? যা পালা।’

মরা কুকুর কথা বলে ওঠে, ‘আমার বউ মেলা দিন হলো মরে গেছে। অনেক বছর ধরে আমি সঙ্গম করিনি। তোমার কথা শুনলাম, কে কে যেন তোমাকে করে গেছে, তাই শুনে আমারও একটু ইচ্ছে হলো, একটু করতে দাও, না করো না। মরা কুকুর বোলো না আমাকে।’

আরতির জ্বরের ঘোর ভাঙে, সে দেখে, মরা কুকুর নয় একটা বৃদ্ধ লোক খালি গায়ে তার কাছে বসে আছে। তার বুক নাড়ছে, গাল নাড়ছে, ফোকলা মুখে চুমু দিচ্ছে। লোকটার বয়স পঁচাত্তর আশির নিচে হবে না। আরতি বিস্মিত হয়। আরতি জ্বরের দুর্বল শরীরে তাকে বাধা দিতে পারে না। বৃদ্ধ লোকটা জ্বরতপ্ত গায়ে আরতির শরীরে উঠে পড়ে। আরতি তাকে কিছু বলে না। বৃদ্ধ হিস হিস করে সাপের মতো, ফিস ফিস করে কী কী সব ভুল বকার মতো বকতে থাকে। আরতির জ্বরাক্ত শরীর ভেঙে পড়তে থাকে। বহু চোখি আনারস, কুকুরের মূত্রমাখা আনারস আবর্জনার স্তূপ থেকে তাকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। ওরে আনারস, তোর অজস্র চোখ দিয়ে কী দেখছিস ? আর দেখিস নে রে আনারস। অজস্র চক্ষু মেখে থাকা আনারস তুই কানারস হয়ে যা।

 লেখক : কথাশিল্পী

সচিত্রকরণ : রাজীব দত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares