নাটক : গ্রিক স্যাটায়ার : ফিরোজ মাহমুদ খান

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে, প্রাচীন গ্রিসে এথেন্স নগরে নাট্যকলার অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে। তখনকার এক একটা নাটকের বিভিন্ন পর্যায়ে স্যাটির (Satyr) বা স্যাটিরিক ড্রামা (Satyric Drama) মঞ্চায়নের চল ছিল। স্যাটিরিক ড্রামায় হাস্যরস ও কৌতুকের ভিতর দিয়ে ব্যঙ্গ ও যৌনরসাত্মক অভিনয় পরিবেশিত হতো। স্যাটিরিক ড্রামা নাটকের বিভিন্ন বিরতিতে পরিবেশিত হয়ে মূল নাটকের প্রতি দর্শকের মনোযোগ সতেজ ও চাঙ্গা রাখত।

স্যাটির ‘গ্রীক পুরাণোক্ত বন্য দেবতা, অর্ধ পশু ও অর্ধ মানবাকৃতি, সচরাচর অশ্বপুচ্ছ বা ছাগপুচ্ছ তাদের পশ্চাতে সংযোজন করা হতো। ট্রাজেডির গাম্ভীর্যকে হাস্যের সাহায্যে অনেকটা সহনীয় করে তোলার জন্য নাটকে স্যাটির চরিত্র আমদানি করা হয়েছিল।’১  কালক্রমে, গ্রিক নাট্যধারায় ট্রাজেডি এবং কমেডির সাথে স্যাটির নাটক বিকশিত ও লোকপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং স্বতন্ত্র নাটক রূপেও মঞ্চস্থ হয়। ‘সমগ্র গ্রীক নাট্যপ্রবাহ মূলত একটি নগরীর সৃষ্টি, তা হলো আথেনাই। নাট্যশিল্পের তিনটি স্বতন্ত্র ধারা ছিল। ট্রাজেডি, বন্যনাট্য (satyr drama, যার স্বল্পাংশই উত্তরকালে রয়ে গেছে) এবং কমেডি। ত্রিধাবিভক্ত এই ধারাগুলির মধ্যে অবশ্যই এই একটি জায়গায় সাদৃশ্য ছিল যে, প্রত্যেকটিরই অভিনয় আথেনাই-এ বছরে মাত্র একবার, দিওনুসস্ এর বার্ষিক উৎসবে অনুষ্ঠিত হত।’২ বিখ্যাত গ্রিক নাট্যকার ইউরিপিডিসের (Euripides) ‘সাইক্লোপ্্স্’ (Cyclops, খ্রিস্টপূর্ব ৪১২ অব্দ) স্যাটির নাটকের একটি দৃষ্টান্ত যা আজও বেঁচে আছে৩।

গ্রিক সাহিত্যিক প্রাটিনাস্ (Pratinas), অ্যারিস্টিয়াস (Aristeas) এবং ইস্কিলাসের (Aeschylus) মতো স্বনামখ্যাত সাহিত্যিকের রচনায় স্যাটির চর্চা হতে দেখা যায়। তবে গ্রিক কমেডি নাটকের রাজা অ্যারিস্টোফেনিসের (Aristophanes, খ্রিস্টপূর্ব ৪৪৬-৩৮৬ অব্দ) নাটকগুলিই গ্রিক সাহিত্যে স্যাটায়ারের উদ্ভব ও রসোত্তীর্ণ প্রয়োগের সবচেয়ে উজ্জ্বল সাক্ষ্য। অ্যারিস্টোফেনিসের কমেডি দ্য ওয়াসপ্স (The Wasps), দ্য ক্লাউড্স (The Clouds) এবং সর্বোপরি দ্য ফ্রগ্্স্ (The Frogs) অবিসম্বাদিতভাবে রুচিসুভোগ, শিল্পনিপুণ এবং উচ্চাঙ্গের ক্লাসিক স্যাটায়ার।

গ্রিক নাটকে উত্তুঙ্গ স্যাটায়ার

দ্য ওয়াসপ্স কমেডিতে স্যাটায়ার করা হয় এথেন্সের সামাজিক দুর্নীতি ও মামলা-মোকদ্দমা-প্রিয় এথেন্স নগরবাসীদের। দ্য ক্লাউড্স কমেডিতে তখনকার গ্রিসের শিক্ষাপদ্ধতির খুঁত এবং সেই সাথে এর প্রণেতা দার্শনিকদের আক্রমণ করা হয় স্যাটায়ারের অব্যর্থ বাণে, যা থেকে বাদ যাননি দর্শনগুরু সক্রেটিসও। সর্বোপরি, অ্যারিস্টোফেনিসের জগদ্বিখ্যাত, সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শিল্পোত্তীর্ণ এক কমেডি হলো দ্য ফ্রগ্্স্ যাতে প্রধানত গ্রিক ট্রাজেডি রচয়িতা ইস্কিলাস্ এবং কমেডি রচয়িতা ইউরিপিডিসের সাহিত্য―রচনাভঙ্গি ও তাদের রচনার তুলনামূলক আলোচনা; তৎকালীন সাহিত্য বিচারের মানদণ্ড; স্থূল ও নিছক ভাঁড়ামোপূর্ণ কমেডিসমূহ; ট্রাজেডি নাটকের বাগাড়ম্বরপূর্ণ দীর্ঘ সংলাপ; এবং কবি-সমাজের পরস্পরের প্রতি ঈর্ষা ও কলহপরায়ণতাকে স্যাটায়ার করা হয় অসাধারণ কৌতুক, হাসি, বিদ্রূপ ও বক্রোক্তির বিচিত্র মিশেলে। দ্য ফ্রগ্্স্ নাটকের অংশবিশেষের বর্ণনাচ্ছলে চলুন দেখে নেয়া যাক সে সময়ের গ্রিক সাহিত্যে স্যাটায়ার-চর্চার প্রাণবন্ত  চেহারাটি :

গ্রিক নাটকের বিখ্যাত তিন স্থপতি ও পুরোধা ইস্কিলাস, সফোক্লেস ও ইউরিপিডিস লোকান্তরিত হলে গ্রিক রঙ্গমঞ্চ  নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। এ কারণে, নাট্যমঞ্চের অধিদেবতা বাক্খস্ রঙ্গমঞ্চে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে, যমালয়ে গিয়ে সেখানকার দেবতা প্লুুটোর কাছে দরবার করে কমেডি নাট্যকার ইউরিপিডিসকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার সংকল্প করেন, এবং সে উদ্দেশ্যে তার ভৃত্য ক্সান্থস্-কে নিয়ে যমপুরীর পথে যাত্রা করেন।

পথে ভয়ঙ্কর সব মন্জিল এবং ‘কারণ’ মাঝির নৌকায় লিথি নদী পেরিয়ে অবশেষে বাক্খস্ পৌঁছে যান যমালয়ে প্লুটোর সভায়। বাক্খস্ আবিষ্কার করেন, মর্ত্যরে মতো সেখানেও নাট্যকারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা নিয়ে কুকুর কামড়া-কামড়ি লড়াই চলছে। ইউরিপিডিস নিজেকে শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অপর গ্রিক নাট্যকার ইস্কিলাস্কে রীতিমতো তুলোধুনো করছেন; আর মৃদু স্বভাবের সফোক্লেস এসব থেকে দূরে সরে আছেন। সাব্যস্ত হয়, ইস্কিলাস এবং ইউরিপিডিসের মধ্যে কবি’র লড়াই হবে আর বাক্খস্ থাকবেন তার বিচারক। যিনি এ লড়াইয়ে জয়লাভ করবেন, তাঁকে নিয়ে বাক্খস্ ফিরে যাবেন মর্ত্যলোকে। উভয় কবি নিজ নিজ রচনা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আপন কবিত্বের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেবেন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কবির রচনার ত্রুটি বা দুর্বলতা তুলে ধরবেন।

অধিদেবতা বাক্খস্ ও তাঁর ভৃত্য ক্সান্থস্ যমপুরীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার গোড়া থেকে শুরু হয় স্যাটায়ারের গোলা বর্ষণ। সমস্ত নাটকজুড়ে খুবই প্রাসঙ্গিকভাবে নাট্যকার অ্যারিস্টোফেনিস্ একে একে স্যাটায়ার করতে থাকেন তাঁর সমসাময়িক নাট্যকারদের সস্তা- ভাঁড়ামোভরা নাটকগুলিকে; সমকালীন ট্রাজেডি নাটকের অপ্রয়োজনীয় ঘোরপ্যাঁচমার্কা দীর্ঘ সংলাপের বাহুল্যকে; ইউরিপিডিস্, ইস্কিলাস্ ও সফোক্লেসের লেখা বিভিন্ন নাটকের ভারী ভারী সব সংলাপকে এবং তখনকার গ্রিসের নানান সামাজিক বিচ্যুতি ও অসঙ্গতিকে।

লিথি নদী পার করে দিয়ে ‘কারণ’ মাঝি পাড়ানি নেন দুই ওবল (গ্রিক মুদ্রা)। এটা শোনার পর বাক্খস্ গ্রিকদের জীবনে দুই ওবলের মাহাত্ম্য নতুন ক’রে উপলব্ধি করেন। তিনি দেখান যে এথেন্সের বিচারালয়ে ‘জুরি’দের পারিশ্রমিক দুই ওবল, এই দুই ওবলের বিনিময়ে জুরিরা হয়ে যান বিচারপ্রার্থীর দণ্ডমুণ্ডে’র কর্তা। আবার, এথেন্সের দিনমজুরদের বেশিরভাগ কাজের মজুরিও দুই ওবল। গ্রিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ও অগুরুত্বপূর্ণ কাজের একই রকম পারিশ্রমিক দুই ওবলের যুক্তিহীন ও হাস্যকর সরলীকরণ-কে অ্যারিস্টোফেনিস্ এভাবেই স্যাটায়ার করেন গ্রিক নাট্যমঞ্চের অধিদেবতা বাক্খস্ এর জবানি দিয়ে, বিখ্যাত দ্য ফ্রগ্্স্ নাটকে।

দ্য ফ্রগ্্স্ কমেডি নাটকের শেষ অংশে অনুষ্ঠিত হয় সেই বহু প্রতীক্ষিত কবির লড়াই। দেখা যায় দুই কবির শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের জন্যে বিচারমঞ্চে স্থাপিত হয়েছে বিরাট এক দাঁড়িপাল্লা, যা স্পষ্টতই স্যাটায়ার করে কাব্যবিচারের  তৎকালীন স্থুল মানদণ্ডকে। আর বিচারক বাক্খস্-এর দুই কবিকে উদ্দেশ্য করে বলা কথাগুলি―‘আপনারা হলেন গিয়ে গণ্যমান্য কবি, আপনাদের কি হাটে বাজারের মেছুনিদের মতো কোঁদল করা সাজে?’৪―উক্তির মধ্যে স্যাটায়ার বর্ষিত হয় সাহিত্যের মতো উচ্চমার্গের বিষয়ের সাধক কবিদের স্থূল ঈর্ষা আর কলহপরায়ণতার উপর। বিচার কীভাবে হবে তার ধরনটি ইউরিপিডিসের উক্তি থেকে দেখা যাক, ‘… সব কিছু আলাদা আলাদা তুলনা করে দেখতে হবে―আমার প্লটের সঙ্গে ওঁর প্লট, আমার সৃষ্ট চরিত্রের সঙ্গে ওঁর সৃষ্ট চরিত্র। এছাড়া ভাষা আছে, ভাব আছে―সব কিছুর আলোচনা হোক। আর কাব্যগুণ, তারও বিচার চাই―৫’

এভাবে ইস্কিলাস্ ও ইউরিপিডিস্ দু’জনেই ক্রমাগত তাঁদের নাটক থেকে উদ্ধৃতি’র মাধ্যমে নিজ নিজ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে থাকেন। ইস্কিলাস্-এর নাটকের গাম্ভীর্যকে বিদ্রুপ করেন ইউরিপিডিস্, আর ইউরিপিডিসের নাটকের লঘু ভাব ও বিশেষত পরকীয়া প্রেম-ঘটিত দৃশ্যের তীব্র নিন্দা করেন ইস্কিলাস্। ইস্কিলাসের মতে, ইউরিপিডিসের নাটক হলো দুশ্চরিত্র ও দুশ্চরিত্রার মেলা, যা দেখে বিপথগামী হচ্ছে এথেন্সবাসী। অপরপক্ষে, ইউরিপিডিসের যুক্তি হলো : ভারী ভারী বাগাড়ম্বরপূর্ণ মিথ্যা কথার যথেচ্ছ ব্যবহারে ইস্কিলাসের নাটক সাহিত্যগুণ হারিয়েছে। বিচারক বাক্খস্ নির্দেশ দেন প্রতি কবিকে তাঁর রচনা থেকে একটি করে উদ্ধৃতি দিতে। বিচারক বাক্খস্ এর কাব্যগুণ বিচারও মারাত্মক স্যাটায়ার হয়ে ওঠে। দুই নাট্যকারের কাব্যোক্তি কীভাবে কাব্যগুণের নিক্তিতে বিচারক বাক্খস্ ওজন করছেন তার কিছু নমুনা :

‘বাক্খস―এবার দু’জনে দুই পাল্লা ধরে নিজ নিজ কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করতে থাকুন। দেখবেন, আমি না বলতে কেউ ছাড়বেন না যেন।

ইউরিপিডিস―বেশ, আমরা প্রস্তুত।

বাক্খস্―তাহলে এবার দু’জনেই নিজ নিজ কাব্য থেকে দু-এক ছত্র বলুন।

ইউরিপিডেস―‘আহা আর্গো যদি পাল তুলে ডানা মেলেÑ’

  (‘মিডিয়া’ নাটকের প্রথম লাইন)

ইস্কিলাস্―‘অহো, নির্মল সলিলা র্স্পেখিওস্ আর তার তীরবর্তী গোচারণভূমি।’

(লুপ্ত নাটক ‘ফিলোক্তেতেস্’ থেকে উদ্ধৃত)৬

দেখা গেল, ইস্কিলাসের পাল্লা বেশি ভারী। ইউরিপিডিস্ তখন বাক্খস্কে বললেন এটা কি করে হলো। বাকখস্ জবাব দেন―‘হবে না ? উনি একটা আস্ত নদী এনে হাজির করলেন। পশমের ব্যবসায়ীরা যেমন জলে ভিজিয়ে পশমের ওজন বাড়িয়ে নেয়, উনি তেমনি জলের ছোঁয়া লাগিয়ে কাব্যের ওজন খানিকটা বাড়িয়েছেন।―আপনার পংক্তিটি তো নেহাত হালকা―ডানা মেলে দিয়ে উড়ে যাবার উপক্রম।’৭…

‘বাক্খস্―… যাক্গে আরেকবার পরীক্ষা হোক, এবারেই শেষ। 

ইউরিপিডিস্―‘তিনি তাঁর ভীমাকৃতি গদা হাতে তুলে নিলেন।’

 (‘মেলেআগের’ নামক লুপ্ত নাটক থেকে)৮

ইস্কিলাস্― ‘রথের পর রথ আর স্তূপীকৃত শব ইতস্তত নিক্ষিপ্ত।’

(লুপ্ত নাটক ‘গ্লাউকস্ পোত্মিতিয়েন্সিস’ থেকে)

কিন্তু, আবারও ইস্কিলাসের পাল্লা ভারী হয়ে গেল। ইউরিপিডিস বাক্খসের কাছে আবার জানতে চাইলেন যে  কেন এমন হলো। বাক্খস্ উত্তর করলেন― ‘বাক্খস্―দেখছেন না, গাড়িঘোড়া, রথ আর শবদেহ মিলিয়ে উনি এক বিরাট   স্তূপের সৃষ্টি করেছেন। এক কুড়ি মিশরীয় মুটে ডাকলেও তা নড়ানো যাবে না।’৯

গ্রিক সমাজের নানান অসঙ্গতি, বিচ্যূতি, কবিদের অকবিসুলভ স্থূল ঈর্ষা, কুৎসাপরায়ণতা, সাহিত্যে অগভীরতা ও চটুলতার প্রাবল্য, এবং সাহিত্যের গুণাগুণ বা ঔৎকর্ষ বিচারে অকার্যকর ও পক্ষপাতমূলক স্থ’ূল মানদণ্ড, তথা গ্রিক বুদ্ধিজীবী মহল ও লোকজীবনের নানান অসুন্দর ও অশোভন আচরণ, চর্চা, ও প্রথাকে দ্য ফ্রগ্্স্ নাটকে বিচিত্র শ্লেষাত্মক, প্রতীকী ও পরোক্ষ বর্ণনায় তীব্র স্যাটায়ারে আক্রান্ত করেন অ্যারিস্টোফেনিস্, আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে। এজন্যেই, মহামতি অ্যারিস্টোফেনিস্কেই স্যাটায়ারের প্রথম ও প্রধান পুরোহিত ব’লে মানতে হয়  তাঁর অসামান্য ব্যঙ্গবোধের গুণে। 

১.           ব্যাঙের কেত্তন [বাত্রাখোয়: ফ্রগ্্স্]: আরিস্তোফানেস, হীরেন্দ্রনাথ দত্ত অনূদিত। প্রথম প্রকাশ: ১৯৬৯, তৃতীয় মুদ্রণ ২০০৭। প্রকাশক:   সাহিত্য আকাদেমি, রবীন্দ্র ভবন, ৩৫ পিরোজ শাহ রোড নতুন দিল্লি ১১০০০১।

২.  প্রাগুক্ত; ৩.  প্রাগুক্ত; ৪.  প্রাগুক্ত;

৫.  প্রাগুক্ত; ৬.  প্রাগুক্ত; ৭.  প্রাগুক্ত;

৮.  প্রাগুক্ত; ৯.  প্রাগুক্ত।

 লেখক : প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares