শোকাঞ্জলি : টিটি পাখি, গেরুয়া মাটি, কুসুমভার নিমগাছটি : তৃষ্ণা বসাক

আমার বাবা পেশায় ছিলেন একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং নেশায় লেখক। মা অসাধারণ গান গাইতেন। যদিও তাঁরা কেউ লেখা বা গানকে পেশা হিসেবে নেননি, আর রাস্তার আলোয় সারারাত পড়াশোনা করে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পাস করা বাবা বা আমার আটপৌরে মায়ের সঙ্গে বুদ্ধদেব গুহ বা ঋতু গুহকে মেলানো যাবে না কিছুতেই, তবু, যখন আমার অক্ষর-পরিচয় পর্যন্ত হয়নি, বাবার মুখে মুখে বিশ্ব সাহিত্যের পাঠ নেওয়া চলছে, তখন থেকেই বুদ্ধদেব গুহ আমার যে বড় আপনজন, তার কারণ পারিবারিক মনন, মেধা আর সংস্কৃতিচর্চার এই আশ্চর্য সমাপতন। বাবার মুখে শুনেওছিলাম বুদ্ধদেব গুহের সঙ্গে তাঁর পেশাসূত্রে পরিচয়ের কথা। কিন্তু ওই পর্যন্তই, উত্তরাধিকার সূত্রে বা অর্জিত কোনও বড় মানুষের সঙ্গই বাস্তব কোনও কাজের সূত্র ধরে ছাড়া লালন করার কোনও তাগিদ ছিল না। একবার মনে আছে, ক্লাস এইটে পড়ি, বাবা ‘নীলকণ্ঠ’ দেখাতে নিয়ে গেছেন স্টার থিয়েটারে, নাটক শেষে একজন বললেন ‘চলো, গ্রিনরুমে গিয়ে সৌমিত্রের অটোগ্রাফ জোগাড় করে দি’, এর উত্তরে বছর তেরোর এক কিশোরী সদর্পে বলেছিল ‘আমি কারও অটোগ্রাফ নিই না, আমি একদিন  সবাইকে অটোগ্রাফ দিব!’

না, এ কোনও অকালপক্ব কিশোরীর ঔদ্ধত্যের বা তার বাবা-মার গৌরবের কাহিনি নয়। আমি তো বুদ্ধদেব গুহকে স্মরণ করতে যাচ্ছি, তার মধ্যে এসব কীভাবে আসে ? আসে এই কারণেই, বুদ্ধদেবের লেখার ছত্রে ছত্রে সরস্বতীর সাধক বাঙ্গালির হারানো মেধা ও মননের অহংকার, যে অহংকার ছিল দরিদ্র পণ্ডিত বুনো রামনাথের স্ত্রীর, যিনি রানির মুখের ওপরে বলতে পেরেছিলেন ‘যতদিন আমার হাতে এই লাল সুতো থাকবে, ততদিনই কৃষ্ণনগরের গৌরব’।

বুদ্ধদেবের গল্পে তাই কোম্পানির বড় সাহেব রাতে লুকিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে তার জলটা চুপিচুপি ঢেলে দেন ফুলের টবে, এই তাঁর গোপন বঙ্গদেশ, যা তিনি লালন করেন তাঁর বুকের মধ্যে।

‘সরস্বতীই শুধু আমাদের ছিলেন। লক্ষ্মী কোনওদিনই ছিলেন না। হঠাৎ লক্ষ্মীর দিকে হাত বাড়াতে গিয়ে না পেলাম আমরা লক্ষ্মীকে আর চিরতরে হারালাম সরস্বতীকেও’

আমার কাছে বুদ্ধদেব গুহ মানে বঙ্গ সংস্কৃতির এই হারানো অভিজ্ঞানগুলো খুঁজে বেড়ানো। হারানো মানুষও। ‘বেড়াল’ বলে একটি গল্পে তিনি অমোঘভাবে দেখিয়ে দেন, ফটোকপিয়ার যন্ত্র এসে কীভাবে মানুষের পেশা কেড়ে নিচ্ছে। সাহেব হতে গিয়ে তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে রসনার স্বাদও।

‘কষা মাংস, দই মাংস, কালোজিরে কাঁচালংকা রসুন পেঁয়াজ দেওয়া মুসুরির ডাল। এখনও রসুন কালোজিরে আর শুকনো লঙ্কা সম্বার দেওয়ার গন্ধ ভাসে নাকে। … সবই গ্যাছে গিয়া। বাঁইচা থাইকা আর সুখ নাই গো কইন্যা। দুখের কথা কমু কারে ? বৌ মেমসাহেব, মাইয়ারা মেমসাহেব, ভাইবউ সকলডি মেমসাহেব। দিশি মানুষের দুঃখ কারে কই কও ?’

এরকম ঠেস কিন্তু মেয়েদের প্রায়ই দিয়েছেন লেখক। কৈশোরের মুগ্ধতা কেটে যাবার পর তাঁর লেখা যদি নন-বাইনারি, অর্থাৎ নারী না, পুরুষ না, স্বতন্ত্র মানুষী চিন্তাচেতনা নিয়ে পাঠ করা যায়, তবে এমন কিছু চোখে পড়বে যা আজকের দিনে খুব গ্রহণীয় নয়।

তাঁর সর্বাধিক পঠিত উপন্যাস সম্ভবত মাধুকরী। এটি দেশে যখন ধারাবাহিক বের হয়, তখন আমি স্কুলে পড়া কিশোরী। এই উপন্যাস রুদ্ধশ্বাসে পড়েনি এমন কেউ ছিল না আমার পরিচিত মহলে। সেই উপন্যাস পুনর্পাঠে এখন চোখে পড়ে গেল এই কথাগুলো :

‘নারীদের বোধহয় আসলে কোনও শ্রেণিভেদ নেই। এক নারীই বিভিন্ন পুরুষের অঙ্কশায়িনী হয়ে বিভিন্ন রাতে শংখিনী, হস্তিনী বা পদ্মিনী হয়ে ওঠে। অঙ্কশায়িনী নারীর অঙ্কের উত্তর কখনও মেলে, কখনও মেলে না।’

‘বোকা পুরুষের প্রাণের চেয়ে বুদ্ধিমতী নারীদের সতীত্বের সার্টিফিকেটের দাম অনেক বেশি। চিরদিনই। নারী মাত্রই নির্দয় খুনি, যখন তাদের সতীত্বের গায়ে ধুলো লাগার প্রশ্ন ওঠে।’

নারী কি তাঁর কাছে শুধুই শরীর ছিল ? এ অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনি তাঁর জঙ্গলপ্রেমের বাবু কালচার, তাঁর সাহিত্যবোধের এলিটিজম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু এটাও ঠিক, কম লেখকই অরণ্যের সৌন্দর্য আর নারী পুরুষের প্রেমকে এমনভাবে মিলিয়ে দিতে পেরেছেন। আর এর জন্য তাঁর ছিল এক অনায়াস, উদাসী ভাষা। যাতে ছিল গজলের মিঠাস, টপ্পার শরীরী ছেড়ছাড়, পুরাতনী বাংলা গানের অসাধারণ সারল্য।

  ‘স্বামী হওয়া’ গল্প থেকে একটু উদাহরণ দেওয়া যাক :

বসন্তের দিন। হুহু করে হাওয়া আসছিল। সেগুন গাছের বড় বড় হাতির কানের মতো পাতার পেছনে রোদ্দুর পড়ে সিঁদুরে রঙা দেখাচ্ছিল। মহুয়ার গন্ধ ভাসছিল। মুখ চড় চড় করছিল।

আমি আমার ঘরে গেলাম। আমার প্রিয় ইজিচেয়ারটাতে বসলাম। আমার সাম্রাজ্য আমার বই, বইয়ের আলমারি দিয়ে গড়া। ছুটির দিনে গেঞ্জি আর পাজামা পরে সারাদিন বই পড়েই কাটে আমার। আমি বড় কুঁড়ে লোক। স্মার্ট, এনারজেটিক, সামাজিক বলতে যেসব গুণ বোঝানো হয় তার কোনও গুণই আমার নেই। আক্ষেপও নেই না-থাকার জন্যে।

তবে এই চাঁদোয়া-টোরীতে সরকারি কাজে বদলি হয়ে এসে পড়ার পরই বেশ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম স্মিতার জন্যে আমি তো সারাদিন কাজকর্ম নিয়ে থাক বা অবসর সময় বই পড়ব। কিন্তু আমার চেয়ে দশ বছরের ছোট সম্বন্ধ করে বিয়ে করা স্ত্রী স্মিতা ? তার সময় কী করে কাটবে ? ভাগ্যিস চালু হয়েছিল। এখানে যখন আসি তখন চানুর বয়স পনেরো মাস। তবুও একটা নরম খেলনা ছিল স্মিতার। যে খেলনাকে খাইয়ে-দাইয়ে, ঘুম পারিয়ে, চোখ রাঙিয়ে ওর সময় কেটে যেত।

অনেক বছর আগে বিয়ের রাতে যজ্ঞের ধোঁয়ার মধ্যে বসে যেসব সংস্কৃত মন্ত্র উচ্চারণ করেছিলাম তার বেশিরই মানে বুঝিনি। সেদিন আমি আমার কোনও যোগ্যতা ব্যতিরেকেই স্বামী হয়েছিলাম স্মিতার।

স্মিতা কাঁদছিল নিঃশব্দে। আমার বুক ভিজে যাচ্ছিল ওর চোখের জলে। কিন্তু ভীষণ ভালোও লাগছিল।

স্মৃতিতে হঠাৎই বউভাতের রাতটা ফিরে এল তখন মা বেঁচে ছিলেন। জ্যাঠামণি, রতনমামা। স্মিতার বাবা ও আরও কেউ কেউ আজ যাঁরা নেই। আমার পুরোনো বন্ধুরা, কত আনন্দ, কল্পনা সে-রাতে সুগন্ধ, সানাই …

স্মিতার মাথায় হাত রেখে বসে থাকতে থাকতে আমার হঠাৎ মনে হলো যে, যে-আমি টোপর মাথায় দিয়ে সমারোহে গিয়ে স্মিতাকে একদিন তার পরিবারের শিকড়সুদ্ধ উপড়ে এনেছিলাম, তার সঙ্গে যে মানুষটা তার স্ত্রীর সুখে দুঃখে জড়াজড়ি করে অনেক অবিশ্বাস ও সন্দেহ পায়ে মাড়িয়ে বিবাহিত জীবনের কোনও বিশেষ বিলম্বিত মুহূর্তে সত্যিই স্বামী হয়ে উঠলাম, তাদের দুজনের মধ্যে বিস্তরই ব্যবধান।

‘বর হওয়া’ আর ‘স্বামী হওয়া’ বোধহয় এক নয়।’

মজার কথা হলো, কথায় কথায় মেয়েদের ঠেস দিলেও, নারীর শারীরিক গড়নকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলেও এমনকি তাঁর লেখাতেই প্রথম ‘পীড়িত পুরুষ পতি পরিষদ’ বলে একটি সংগঠনের কথা জানতে পারলেও,  মেয়েরা কিন্তু এই লেখককে ভালোবেসেছেন বরাবর। কত মেয়েকে ট্রেনে বা মেট্রোয় তন্ময় হয়ে মাধুকরী, চাপরাশ বা একটু উষ্ণতার জন্যে পড়তে দেখেছি। ওপার বাংলাতেও তুমুল জনপ্রিয় বুদ্ধদেব তো এক পাঠিকাকে  নিয়ে লিখেই ফেললেন তাঁর জনপ্রিয় পত্রোপন্যাস―চানঘরে গান। তবসুম, তোড়া বা ফিরদৌসীর মতো পাঠিকা, ফিকে গোলাপি শাড়ি পরে খোঁপাতে রক্তকরবী গুঁজে যে লেখকের জন্যে দাঁড়িয়ে থাকে বইমেলায়, এমন পাঠিকার জন্যে তো অপেক্ষা থাকে সব পুরুষ লেখকের (লেখিকাদের ভাগ্য অবিশ্যি অত ভালো নয়। গ্রাম থেকে বাইশ ইঞ্চি ছাতির কোনও নওলকিশোর পাঠক লেখিকা দর্শনে এলেও দুনিয়া রসাতলে যায়!)

কিন্তু পাঠিকা কী পান তাঁর লেখায় ? অরণ্যপ্রকৃতি ? ইকোলজি ? হারানো বাঙ্গালিয়ানা ? ‘বীজতলি’ বা ‘স্বামী হওয়া’ এমন অসাধারণ সব গল্প ?

একটি ওয়েব পত্রে  এ নিয়ে সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন  আলোচক―

বুদ্ধদেব গুহের প্রধান পরিচয় তিনি শিকার কাহিনি বা অরণ্যপ্রেমিক লেখক। কিন্তু অরণ্যানীর জীবন বা শিকার ছাপিয়ে তাঁর রচনা ধারণ করেছে এক প্রেমিক সত্তাকে। এই প্রেমিক সত্তা একইসঙ্গে প্রকৃতি ও নারীকে অবিচ্ছিন্নভাবে ধারণ করেছে তার গল্প ও উপন্যাসে। তাঁর সৃষ্টি বাবলি, মাধুকরী, চাপরাশ, কোজাগর, হলুদ বসন্ত, একটু উষ্ণতার জন্য, কুমুদিনী, খেলা যখন এবং ঋজুদা বাংলা কথাসাহিত্যের জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে তুলনারহিত আঙ্গিকে। তাঁর রচিত ‘বাবা হওয়া’/এবং ‘স্বামী হওয়া’―এ দুইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে পুরস্কারজয়ী বাংলা চলচ্চিত্র ‘ডিকশনারি’। শিশুসাহিত্যিক হিসেবেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। বাংলা জনপ্রিয় সাহিত্যে বুদ্ধদেব গুহের এক নিঃসঙ্গ নাম কারণ যে-ধারার সাহিত্য তিনি রচনা করেছেন তা বাংলা মূলধারার পরিপ্রেক্ষিতে অভিনব। অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবন থেকে তাঁর সাহিত্যের ভুবন খানিকটা দূরে। টাঁড়ে, বনে, অরণ্যে, বাঘের গায়ের ডোরায় সে সব কাহিনি ছায়াময়। তাঁর নায়কদের নাম ঋজুদা, রুরু, পৃথু। নায়িকাদের নাম টিটি, টুঁই, কুর্চি। তারা ছাপোষা বাঙালি জীবনের চৌহদ্দিতে নেই। কিন্তু পাড়ার লাইব্রেরি থেকে সেই বই বুকে নিয়েই বাঙালি গৃহবধূ তাঁর নিঃসঙ্গ দুপুর কাটাতেন। লুকিয়ে একটু উষ্ণতার জন্যে পড়তে পড়তে বাঙালি কিশোর বুকের ভিতরে যৌবনের প্রথম আলোড়ন টের পেত। কিশোরী নিজের অজান্তেই কখন যেন যুবতী হয়ে উঠত।’

খুব ভালো আলোচনা, কিন্তু না, এটাই সব নয়। বুদ্ধদেব পাঠে মগ্ন পাঠিকাদের মুখচোখ কিন্তু এর অধিক কিছু বলে। তাঁরা আরও কিছু পান লেখকের কাছ থেকে। প্রেম। দম বন্ধ দৈনন্দিনতায় শ্বাস নেবার মতো প্রেম, মাধুকরী-র কুর্চির মতো, একটু উষ্ণতার জন্যে-র ছুটি-র মতো, অববাহিকার কোপাইয়ের মতো প্রেম। এখানেই বুদ্ধদেব তাঁর সমসময়ের লেখকদের হারিয়ে দিয়েছেন। পাঠিকারা যে শুধু তাঁর উপন্যাসের চরিত্রদের  প্রেমে পড়েন তা নয়, তাঁরা লেখকের প্রেমে পড়ে যান, যিনি তাঁর পেশাগত সাফল্য, জঙ্গল, শিকার, টপ্পা, শের-শায়েরী, যৌনতা আর অবশ্যই লেখা দিয়ে নির্মিত এক অপ্রতিরোধ্য যাযাবর প্রেমিক পুরুষ। তাঁর প্রিয় লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে যেমন বলেছিলেন ‘আ রাইটার শ্যাল নেভার বি টায়েড ডাউন টু ওয়ান প্লেস। হি শ্যাল বি আ ওয়ান্ডারার। লাইক আ জিপসি’ (প্রসঙ্গত তাঁর ম্যাকলাস্কিগঞ্জের বাড়িটির নাম তিনি হেমিংওয়ের বাড়ির নামে  রেখেছিলেন ‘দা টপিং হাউস’)

এইসব মিলিয়েই তাঁর ব্যক্তিমায়া। তিনি  সেই লেখক, যিনি জানেন তাঁর পাঠিকার পাল্স পয়েন্ট ঠিক কোথায় আর সেখানে কোন সুগন্ধি লাগাতে হয়। তাঁর লেখায় বনজ ফুলের গন্ধের সঙ্গে মিলে যায় মনজ ফুলের গন্ধও। যৌনতার শুরু যে শরীরে নয়,  মনে, তা তো বুদ্ধদেবই শেখালেন আমাদের। তিনি ছাড়া কে লিখতে পারেন পাঠিকাকে এমন চিঠি :

‘তোমার শরীরের পুরোটাই পাবে ইফতিকার। আর তোমার মনের আধখানা। অন্য আধখানা মন যে নীলামে চড়িয়েছিলে অনবধানে। সে তো আমি ডেকে নিয়েছি প্রথম দর্শনেই। সে তো আমারই চিরদিনের।

তোমার চানঘরের আয়নায় তোমার নগ্ন শরীরের ছায়া ফেলে ইফতিকারের পরশমাখা নিজেকে দেখে দেখে তোমার আশ মিটবে না।

কিন্তু আমিও থেকে যাব তোমার মনে, তোমার সুখে, তোমার দুখে। তোমারই একান্ত হয়ে।

আমি যে তোমার চানঘরের গান।

ইতি… ‘…’

বুদ্ধদেব গুহের গল্প উপন্যাসে নারীকে দেখার চোখ নিয়ে যতই রক্ষণশীলতার অভিযোগ উঠুক (এক সাক্ষাৎকারে বুদ্ধদেব বলেছিলেন ‘হ্যাঁ আমি কনজার্ভের্টিভ, কারণ আমার কনজার্ভ করার মতো কিছু আছে), কিন্তু এই উত্তর-আধুনিক যাপনে আমাদের সম্পর্ক কেমন মডুলার, খণ্ডিত হয়ে যাচ্ছে তা কিন্তু অমোঘভাবে দেখিয়ে গেছেন বুদ্ধদেব গুহই :

‘কাউকে সম্পূর্ণতায় পেতে চাওয়ার ভাবনাটাই হয়তো ভুল। একান্ত করে আজকের মানুষ কেউই কাউকে দিতে বা নিতে পারে না। নিজেদের টুকরো করে টুকরো টাকরা ভেঙে বার চকলেটের মতো তুলে দ্যায় বোধ হয়।’

তাই শেষ পর্যন্ত, সাহিত্য এবং বর্ণিল যাপন সব মিলিয়ে তাঁর টান ডার্ক চকোলেটের মতোই, অপ্রতিরোধ্য।

 লেখক : প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares