লিটল ম্যাগ : কবিতাপত্র নিয়ে কিছু কথা : আনোয়ার কামাল

কবিতাপত্র পত্রিকাটি দীর্ঘ ১৪ বছর যাবৎ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। হোসেন দেলওয়ার সম্পাদনা করেন। তার সম্পাদনায় পত্রিকাটি বোদ্ধা লেখক-পাঠক সমাদরে গ্রহণ করেছে। কবিতাপত্র করোনাকালের কবিতা নিয়ে মার্চ-২০২১-এ প্রকাশিত সংখ্যাটি ‘কবিতার ভাঙচুর করোনাকালের কবিতা’ এই উপজীব্য বিষয়কে ধারণ করে চমৎকার আয়োজনে ঋদ্ধ একটি সংখ্যা। করোনাকালীন সময়ে পত্রিকাটি অনেক যত্নসহকারে সম্পাদক প্রকাশ করেছেন। ২১৬ পৃষ্ঠার পত্রিকাটিতে প্রবন্ধ, মুক্তগদ্য, কাব্যনাটক, করোনাকালীন কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এখানে করোনাকালের গুচ্ছ কবিতাও রয়েছে।

সম্পাদকীয়তে সম্পাদক হোসেন দেলওয়ার বলেছেন :

‘এ সংখ্যার প্রতিপাদ্য কবিতায় করোনার প্রভাব ইতঃপূর্বে প্লেগ, কলেরা, বসন্ত ইত্যাদি মহামারির প্রভাব বিশ^জুড়েই পড়েছে, ইতিহাসের নানা পর্যায়ে। এই প্রভাব যেমন পড়েছে সমাজে-রাষ্ট্রে, তেমনি সাহিত্যে-দর্শনে। সামগ্রিকভাবে মানব জীবনের ইতিহাসে। মহামারি-মহাদুর্যোগে সৃষ্টিশীলতা কখনও বন্ধ্যা হয় না। বহমান নদীর মতোই তা এগিয়ে চলেÑনতুন স্বরূপে নতুন উদ্যমে।

সাহিত্য আবার বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন দ্বারাও প্রবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন চিন্তাশীল, ব্যক্তিচিন্তার প্রভাব সাহিত্যে যখন পড়েছে, তখন একেকটির নামে সাহিত্যকে আমরা শ্রেণিবিন্যাস করেছি। সময়ের একটা অভিঘাত সাহিত্যের উপর পড়ে এবং পড়ে বলেই সাহিত্যে সেÑসময়ের অভিঘাতে যে সৃষ্টিগুলো হয় তার একটা নতুন নাম আমরা দিয়ে থাকি।

এই করোনায় আমরা ঘরে বসে আছি যাতে গণসংযোগ না-হয়, কেউ ছোঁয়াচে না-হয়। আমরা ঘরে থেকেই যখন চিন্তা করছি, পড়ছি, লিখছিÑতাহলে সাহিত্যের একটা নতুন সৃজন হচ্ছে। মহামারি মানবসভ্যতার সমান বয়সী। ফলে সাহিত্যেও আদিকাল থেকে মহামারির প্রতিফলন হয়েছে। সফোক্লিসের আগে গ্রিক মহাকাব্য ইলিয়াডে মহামারির কথা রয়েছে। সাড়ে তিন হাজার বছর আগে ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তওরাতেও মহামারির কথা আছে। বাংলা সাহিত্যেও মহামারি এক বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে। বিশেষ করে মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য কলেরার দেবী ওলাইচণ্ডী ও বসন্তের দেবী শীতলাকে নিয়ে মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছে।’

সেই করোনা মহামারিকে নিয়ে কবিতায় আর ভাঙচুর করতেই এ সংখ্যার আয়োজন করা হয়েছে।

সাহিত্যে মহামারির রূপ বিশ্লেষণ শিরোনামে মজিদ মাহমুদের দীর্ঘ লেখাটি যেকোনও পাঠককে মহামারির পর্যায়ক্রমিক সাহিত্য নিয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেবে। লেখাটি এ সংখ্যার জন্য যুতসই একটি লেখা হিসেবে আমি মনে করি।

করোনাকালীন কবিতা লিখেছেন : গোলাম কিবরিয়া পিনু, বাদল মেহেদী, আমিনুল ইসলাম, সেলিম মাহমুদ, সজল আশফাক, শেখ জলিল, মারুফ রায়হান, বাবুল আনোয়ার, হোসেন দেলওয়ার, মজিদ মাহমুদ, খালেদ হামিদী, আশিক আকবর, অমলেন্দু বিশ^াস, আহমেদ স্বপন মাহমুদ, সৌমনা দাশগুপ্ত, জয়নাল আবেদীন শিবু, শিবলী মোকতাদির, রেজা রাজা, মাসুদার রহমান, কচি রেজা, ফারুক সুমন, তুষ্টি ভট্টাচার্য, জিললুর রহমান, সুমন মল্লিক, নভেরা হোসেন, তুষার কবির, চাণক্য বাড়ৈ, শাহনাজ পারভীন, কাজী নাসির মামুন, এমরান হাসান, সাইয়্যিদ মঞ্জু, মোহাম্মদ খয়রুজ্জামান খসরু, সারাজাত সৌম, নিলয় রফিক, দ্বিত্ব শুভ্রা, রিক্তা রিচি, সোহেল হাসান গালিব, কবীর হোসেন, ওমর ফারুক জীবন, সানাউল্লাহ সাগর, শিবলী শাহেদ, মীরা মুখোপাধ্যায়, গৌতম হাজরা, তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, রেজওয়ানুল হাসান, কাউসার সাকী, অর্ক অপু, খালেদ উদ-দীন, রইস মুকুল, রফিকুজ্জামান রণি, রনি বর্মণ, বিপুল অধিকারী, ইলিয়াস বাবর, ফরিদ ছিফাতুল্লাহ, জুয়েল মাজহার, কামরুল ইসলাম ও হাসান আল আব্দুল্লাহ।

গুচ্ছ কবিতা লিখেছেন : মুক্তি মণ্ডল, সোনালী চক্রবর্তী ও বাদল ধারা।

করোনাকালের কাব্যনাটক লিখেছেন : মাদল হাসান। মাদল হাসানের আরেকটি লেখা ‘কবিতার হয়ে ওঠা : এ-জার্নি থ্রো এ্যাডগার এলান পো’ শিরোনামের কবিতাবিষয়ক মুক্ত গদ্যটি ভালো লেগেছে।

পাশাপাশি করোনা নিয়ে অন্য লেখাগুলোও সুখপাঠ্য। কবিতাগুলোর মধ্যে আমাদের যাপিত জীবনের নানান অনুষঙ্গ করোনাকালীন সময়কে ধারণ করেছে। একদিন করোনা চলে যাবে। বেজে যাবে এইসব দিনরাত্রির ভয়াল সাইরেন। পৃথিবীর আগামী প্রজন্ম জানবে করোনার করালগ্রাসের ভয়াবহতার কথা।

কবিতাপত্র চলতি সংখ্যাটি বোদ্ধা পাঠকের হাতে হাতে পৌঁছে যাকÑএ প্রত্যাশা করছি।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares