শোকাঞ্জলি : শামসুজ্জামান খান : আধুনিক ফোকলোর চিন্তার পথ প্রদর্শক : আহমেদ মাওলা

বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চার কথাটি ভাবলেই যে সম্ভ্রান্ত, উচ্ছ্বাসহীন অথচ প্রীতিকর, পরিতৃপ্ত একটি মুখ মনের পর্দায় ভেসে ওঠে, সেটি শামসুজ্জামান খানের। আমরা তাঁকে জামান ভাই ডাকতাম, নব্বইয়ের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে আমি যখন লেখালেখি করে পেশাগত অনিশ্চয়তা নিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরছি, তখনই উত্তরাধিকার পত্রিকায় একটা রিভিয়্যু লেখার সূত্রে তাঁর সাথে আমার পরিচয় হয়। তখন বাংলা একাডেমির ফোকলোর বিভাগের পরিচালক তিনি, বর্ধমান হাউজের দোতলার একটি কক্ষের টেবিলে স্তূপাকার ফাইলের ভিড়ে কাঠের চেয়ারে বসতেন। পরে বন্ধু সালাহউদ্দীন আইয়ুবের মধ্যস্থতায় সেই সম্পর্ক অন্তরঙ্গতায় রূপ নেয়। জামান ভাই তখন ফোর্ড ফাউন্ডেশন থেকে ফোকলোর গবেষণার জন্য একটা অনুদান পান এবং সালাহউদ্দীন আইয়ুব সে গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত হলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির বিখ্যাত ফোকলোরবিদ হেনরি গ্লাসি তাঁর আমন্ত্রণে ঢাকায় আসেন। হেনরি গ্লাসির সঙ্গে আমরা পুরান ঢাকার রিকসার পেছনে আঁকা বর্ণিল চিত্র দেখতে যাই, ধামড়াই মৃৎশিল্প পল্লিতে মাটির কলস বানানো দেখতে যাই। সেই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বাংলা বিভাগে পড়ার সময় ‘লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি’ কোর্সের প্রতি কোন আগ্রহবোধ করিনি কিন্তু জামান ভাইয়ের সূত্রে হেনরি গ্লাসির সঙ্গে ঘুরে, ফোকলোর চর্চা ও গবেষণার প্রতি এমন আকর্ষণ তৈরি হয় যে, আমাদের জীবনদৃষ্টি আমূল পাল্টে যায়। সে ছিল আমাদের মুখর, বিহ্বল হওয়ার দিন, সপ্রতিভ মুগ্ধতার সময়।

করোনাকালীন এমন এক মহা দুর্যোগের সময় শামসুজ্জামান খান (১৯৪০-২০২১) মারা গেলেন যে, তাঁর শেষ যাত্রায় উপযুক্ত শোক ও শ্রদ্ধা জানাবার অবকাশটুকু পর্যন্ত আমরা কেউ পেলাম না। এই আপসোস তাঁর স্বজন, সহকর্মী, অজস্র ভক্ত-অনুরাগীদের মনে দীর্ঘশ্বাস হয়ে থাকবে। প্রথম জীবনে অধ্যাপনা, পরে নানা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় সপ্রতিভ শামসুজ্জামান খানের কর্মজীবন ছিল বর্ণাঢ্য। সমাজ ও সংস্কৃতি বিশ্লেষণে তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক। বহুবিদ্যার সমন্বিত ফোকলোরচর্চার সূত্রপাত আমেরিকাতেই ঘটে, সেই বিশ্বজনীন প্রসারতা, তত্ত্বের প্রতিফলন, ক্ষেত্র-গবেষণার ব্যাপক চর্চার বেগবান একটি ধারা বাংলাদেশে সূচনা করেছিলেন শামসুজ্জামান খান। আশির দশকে বাংলা একাডেমিতে জাতীয় ফোকলোর কর্মশালার আয়োজন করা এবং অ্যালান ডান্ডেস, লাওরি হংকো, হেনরি গ্লাসির মতো আন্তর্জাতিক ফোকলোর বিশারদদের আমন্ত্রণ করে আনার নেপথ্যে তাঁর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ফোকলোরচর্চার প্রথাগত দৃষ্টির পরিবর্তন করা। তার উল্লেযোগ্য প্রতিফলন দেখি ৬৪ খণ্ডে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা এবং ফোকলোর সংগ্রহ গ্রন্থমালা ২৫ খণ্ডে সম্পাদনা। বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা ও রাষ্ট্রাদর্শকে শামসুজ্জামান খান লোকায়ত রূপদর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন। এ ক্ষেত্রে ফোকলোর ছিল তাঁর কেন্দ্রবিন্দু। অক্ষরে বিম্বিত সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কহীন মানব সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা, শৈল্পিক আনন্দকে ফোকলোর বলা হয়। এই ফোকলোরের সঙ্গে আত্মপরিচয়ের আকুতি, ইতিহাস পুনর্গঠনের চেষ্টা এবং ব্যঞ্জনাময় জাতীয়তাবাদী অভিলাষ যুক্ত। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার একটি দ্বান্দ্বিক ঝগড়া বাঁধিয়ে আনেকে সুখ পান (টি এস এলিয়টের ঐতিহ্য ও ব্যক্তিপ্রতিভা মনে রেখেও), কিন্তু ঐতিহ্য কখনও আধুনিকতা প্রতিরোধী নয়। ঐতিহ্য লোকপরম্পরায় সৃষ্ট এমন কিছু মডেল, প্যাটার্ন, ধারাক্রম, যার ভেতর সমাজিক আত্মপরিচয় মূর্ত। কাজেই পরম্পরাবাহিত ঐতিহ্যের যেসব উপাদানকে আমরা ফোকলোর বলি, আধুনিক ডিসিপ্লিনে অন্তর্ভুক্ত হবার ফলে তা হয়ে উঠেছে মডার্ন ডিসকোর্স। আধুনিকতার একটা অর্থ ‘সাম্প্রতিক’ আপ-টু-ডেট। আধুনিকতাকে বুঝবার চেষ্টা করা হয়েছে ‘বর্তমান’ নামক সময় দিয়ে,  সেই বর্তমানকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে অতীত থেকে। ‘বর্তমান’ নামক সময়খণ্ডকে ‘আধুনিকতা’ বলার জন্য দরকার পড়েছে ঐতিহাসিকতার ফ্রেমে তাকে বন্দি করা। তাহলে আধুনিকতা হলো বিশেষ সময়পর্ব, স্টাইল, জীবনপদ্ধতি। কিন্তু আধুনিকতার প্রক্রিয়াগত মুখ অনেকগুলো―অর্থনীতিতে পুঁজিবাদ, রাজনীতিতে গণতন্ত্র, মানবিকায়ন, ধর্ম বা চার্চের কর্তৃত্ব বিলোপ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ইত্যাদির নাম মডার্নিজম বা আধুনিকতাবাদ। ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব কিংবা শিল্পায়নের ফলে, রেনেসাঁস ও আলোকপর্বের সূচনায় এর উদ্ভব। স্টুয়ার্ট হালের মনে হয়েছে, সামন্তবাদের পতনের সূত্রে যে সামজিক উন্নয়ন হয়েছে, সেখান থেকে আধুনিকতার সূত্রপাত। প্রসঙ্গটা উঠেছে এজন্য যে, ফোকলোর মানে হচ্ছে মৌখিক ঐতিহ্যাশ্রিত সাংস্কৃতিক সম্পদ কিন্তু তা যখন মুদ্রিত বা গ্রন্থভুক্ত হয় তাকে ‘ওরাল ট্রেডিশন’ বলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? ফোকলোর মানে গ্রাম, কৃষিনির্ভর সমাজ, প্রাকৃতিক জীবন―এই ধারণা খুবই পুরোনো, উনিশ শতকীয়। অ্যালান ডান্ডেসের মতে, গ্রামেই ফোক বা ফোকলোর আছে, শহরে নেই, এই ধারণা অবান্তর। ফোক হলো লোক, যেখানে সমষ্টিগত মিল বা ক্ষেত্রের সাদৃশ্য আছে, সেখানেই ফোকলোর আছে। শিল্পায়ন, প্রযুক্তির বিস্ফোরণ, অধিকতর প্রগতি, ব্যাপক নগরায়নের ফলে ফোকলোরের মৃত্যু বা হারিয়ে যাবে না। বরং নতুন ফর্মে দেখা দেবে। এককথায় ফোকলোর কেবল কৃষি সমাজের নয়, নগর বা গ্রামীন সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ফোকলোর হলো ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের ভেতরের শৈল্পিক যোগাযোগ। শামসুজ্জামান খান নিছক ফোকলোরবিদ ছিলেন না, তাঁর অধ্যয়ন ও উপলব্ধিকে মিলিয়ে নিতে পেরেছিলেন সমকালীন জীবন জিজ্ঞাসার আলোকে। সাংস্কৃতিক বিকাশ ও জাগরণমূলক কাজ অনেকেই করেছেন, জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, শিল্পী সুলতান, জসীমউদ্দীন, মীর মশাররফ হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম, দীনেশচন্দ্র সেন, চন্দ্রকুমার দে প্রমুখ―এদের ঐতিহাসিক পরম্পরার অবদান-মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শামসুজ্জামান খান পালন করেছেন বিশেষ ভূমিকা। ফোকলোরিস্ট হিসেবে তাদের ভূমিকা, ভাবজগতের অনন্য মনীষা হিসেবে তাদেরকে মহিমান্বিত করেছেন। তাঁর গ্রন্থ তালিকা দেখলে আমরা তা বুঝতে পারি―নানা প্রসঙ্গ, মাটি থেকে মহীরুহ, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা, মীর মশাররফ হোসেন: নতুন তথ্যে নতুন ভাষ্যে, মাওলানা মনিরুজ্জামান এছলামাবাদী, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ, কালের ধুলোয় স্বর্ণরেণু, মুক্তিযুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমকাল, বুদ্ধিজীবী ও রাষ্ট্র : পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, বাংলার গণসঙ্গীত, যাদুঘর ও অবস্তুগত উত্তরাধিকার, আধুনিক ফোকলোর চিন্তা, ফোকলোর চর্চা, বাংলাদেশের ঐতিহ্য, বাংলা সন ও পঞ্জিকার ইতিহাস চর্চা এবং বৈজ্ঞানিক সংস্কার, সাম্প্রতিক ফোকলোর ভাবনা, বাংলাদেশের উৎসব, ঢাকাই রঙ্গরসিকতা, গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা ইত্যাদি। অর্থাৎ লোকসংস্কৃতি গবেষণা, নবচেতনার নিরিখে সংস্কৃতির বিশ্লেষণ করেও বাঙালি সমাজের ভাবজগত ও জীবনধারার পরিবর্তনকে দেখার তাগিদ তিনি অনুভব করেছেন। মীর মশাররফ হোসেন: নতুন তথ্যে নতুন ভাষ্যে’র গোাড়াতে বলেছেন :

বাঙালি মুসলমান সমাজের জাগৃতি ও জাগরণ প্রক্রিয়া নানা মাত্রিকতায় বিন্যস্ত। এর অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণের সময় এসেছে। কিন্তু কাজটি করার উপযোগী অবকাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। ফলে সমাজ, সংস্কৃতি ও তার অভ্যন্তরস্থ বিকাশ-বিন্যাস-এর নানা উৎস এবং এথনিক ও জাতীয় ধারার মিথষ্ক্রিয়ার পদ্ধতি ও সূত্র আমাদের কাছে তেমন স্পষ্ট নয়।

শামসুজ্জামান খানের এসব অনুসন্ধান গবেষণার জন্য উদ্দীপক। ঐতিহ্য উদ্ভাবনের এই চেষ্টা স্কটল্যান্ড, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং বিশশতকে আমেরিকাতে হয়েছে। এইসব দেশে ফোকলোরের চর্চা হয়েছে একদিকে জাতীয়তাবাদী আবেগ থেকে, অন্যদিকে হীনমন্যতার বেদনা থেকে। শামসুজ্জামান খানের চেষ্টা ছিল বাংলাদেশকেও ঐ কাতারে নিয়ে যাওয়া। আমরা দেখতে পাই তাঁর উৎসাহ ও উদ্যোগে ফোকলোর সংগ্রহ যত বেশি হয়েছে, বিশ্লেষণ ততটা এগোতে পারেনি। সংগ্রহের তুলনায় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ভাঁড়ার শূন্য বলা যায়। প্রয়োজনীয় কথা হচ্ছে, নতুন ধরনে বিশ্লেষণের জন্য সমালোচনাশাস্ত্রের আধুনিক কলকব্জা আয়ত্ত করা দরকার। বর্তমান পৃথিবীর সাংস্কৃতিক জিজ্ঞাসার আলোকে, শানিত বাংলা গদ্যভাষায় তা উপস্থাপন করা দরকার, তখনই কেবল জ্ঞানের ভিন্ন দিগন্তে প্রবেশ করা সম্ভব। শামসুজ্জামান খান চেয়েছিলেন সমাজ-সংস্কৃতি-নৃবিজ্ঞান ও বহুবিদ্যার সমন্বয়ের সারগ্রাহ্য চিন্তাধারার প্রয়োগ ঘটাতে। বাংলা একাডেমি থেকে চন্দ্রকুমার দে অগ্রন্থিত রচনা তিনি যে শুধু সম্পাদনা করেছেন, তা নয়, চন্দ্রকুমার দে’র দুষ্প্রাপ্য রচনা উদ্ধার ও বিশ্লেষণে তিনি বলেছেন :

আমরা বরং বলতে পারি চন্দ্রকুমারের আবিষ্কার ও তাঁকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করে কাজটি করিয়ে নেয়ার মহৎ দায়িত্বটি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন। আর আসল কাজটি করেছেন চন্দ্রকুমার। এবং এই দুই মনীষীর সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে বাংলা সাহিত্যের একটি নতুন ও জনমুখী অধ্যায়।

নতুন কালের উপযোগী, আধুনিক চিন্তার প্রসার, বিস্তার হিসেবে চন্দ্রকুমার দে’র সংগৃহীত লোকসম্পদকে তিনি বিবেচনা করেছেন। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তিনি বাংলাদেশের ফোকলোর চিন্তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যান এবং যা বিশেষ ফলদায়ক হয়ে ওঠে। বাঙালি মানসকে বহুমাত্রিকতায় বোঝার চেষ্টা, আমাদের মনন চর্চার তাৎপর্যময় ব্যাখ্যায় শামসুজ্জামান খানের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। সম্প্রতি সাবটার্ন স্টাডিজের গবেষক গৌতম ভদ্র ১৯১৪ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে দেওয়া আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের অভিভাষণের একটা নতুন ভাষ্য রচনা করেছেন। ঐ ভাষণের ছত্রে ছত্রে  তিনি সমাজমানস অনুধাবনের সারসত্য খুঁজে পেয়েছেন। অবক্ষয় থেকে সামাজিক শক্তি কীভাবে অর্জিত হয় তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে, সাহিত্যবিশারদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে লিখেছেন :

মাতৃভাষা,বাঙালি মুসলমানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতির মৌলিক ভিত্তি এবং সাধারণ মানুষের সৃজনশীলতার স্তরটিকে সুবিন্যস্ত করে তুলে ধরেন। খুব বড়ো ব্যাপার ছিল এটা। আসলে একজন দেশপ্রেমিকের ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তা ও সংস্কৃতির ইতিহাস-নিষ্ঠ ‘মডেল’ নির্মাণ করেছেন যার ভিত্তিতে বর্তমানের পুনর্গঠন ও ভবিষ্যতের নব-নির্মাণ সম্ভব।

গৌতম ভদ্রের এই অভিব্যক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চা কোন পথে এগোবে? আমাদের প্রত্যাশা, শামসুজ্জামান খান ফোকলোর চর্চাকে যে জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেছেন, উত্তর প্রজন্ম সেই বেগবান ধারাকে সামনের দিকে নিয়ে যাবেন নিশ্চয়। ফোকলোর বিষয় হিসেবে আঞ্চলিক কিন্তু এর চর্চা আন্তর্জাতিক। বাংলাদেশের ফোকলোর চর্চায় সেই আন্তর্জাতিকতা অনুপস্থিত। শামসুজ্জামান খান ফোকলোরের লোকায়ত রূপদর্শনের আলোকে বাঙালির জাতীয় চেতনার উজ্জীবন চেয়েছেন। সেই বিবেচনায় শামসুজ্জামান খানের নাম বাঙালি মনীষার তালিকায় অক্ষয় হয়ে থাকবে।

 লেখক : প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares