গল্প : কোড ল্যাঙ্গুয়েজ : ঝর্না রহমান

রনি, কী হলো, তোমাকে আরও দুবার ফোন করেছিলাম!

কখন ? সরি শাহাব ভাই, শুনতে পাইনি! আমি মিটিং শিডিউল করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সবাইকে লিংক পাঠালাম। আরও কিছু প্রিপারেশন। আপনি কোথায় ? আসেননি তো এখনও। আসেন!

কোথায় আসব ? আমি তো ঘরেই আছি!

আজকের মিটিংয়ে আসবেন না শাহাব ভাই! আমরা তো মিটিংয়ে এসে গেছি!

কী করে আসব ? তুমি তো লিঙ্গে চাপ দিতে বলেছ! তা সেটা তোমার না আমার ?

অ্যাঁ! মানে ? বলছেন কী শাহাব ভাই ?

ঠিকই বলছি রনি! তুমি তো লিংক পাঠিয়ে তাই লিখেছ! এখন এই বয়সে লিঙ্গটিঙ্গ চাপাচাপি করব কি না ভাবছি!

দাঁড়ান দাঁড়ান শাহাব ভাই, মেসেজটা দেখছি … ইয়াল্লাহ! ‘প্রভাতে’ লিখতে গিয়ে এই অবস্থা হয়েছে। ওয়ার্ড প্যানেলে ‘লিঙ্গ’ বের হয়ে এসেছে, তাড়াহুড়োয় চাপ দিয়ে ফেলেছি!

প্রভাতে লিখতে গিয়েই এই অবস্থা ? নিশীথে হলে কী হ’ত রনি ? নাও এখন লিঙ্গটিঙ্গ ঠিকঠাক কর! মাইরি! তোমরা ইয়াং ছেলেপুলেরা কী যে কর! আমাদের না হয় একটু বয়স হয়েছে, তাই বলে, একেবারে তো যায় নি …

শাহাব ভাই, প্লিজ! আর হাসাবেন না তো! কোনওদিন ‘প্রভাত’ ফন্টে আমি বাংলা লিখেছি! ধেৎ! কী অবস্থা! আসেন, মিটিংয়ে আসেন!

কিন্তু মিটিংয়ের কোড কী রনি, কোড তো পাঠাওনি! কী করে আসব!

কোড লাগবে না, শাহাব ভাই, যেটার লিংক পাঠিয়েছি সেটা জুমে হবে। ঐ মিটিং পরশু, শনিবার। আজকের প্রস্তুতি মিটিংটা আমাদের গ্রুপে। বুধের মাথায় আসেন!

কী আবোলতাবোল বলছ রনি ? বুধের মাথায় আসব কীভাবে ?

শাহাব ভাই! ওটা তো গ্রুপের নাম! আমরা মেসেঞ্জার গ্রুপে আছি!

মেসেঞ্জার গ্রুপে ? ও! কিন্তু আমি তো ল্যাপটপ খুলে বসেছি! এখান থেকে পারব ? এই, এই, রনি, তুমি আবার আমার ‘ল্যাপ’-এর ‘টপ’ খুলে বসেছি ভেব না যেন! ট্রাউজার পরা আছি … হা হা হা!

ওহ! শাহাব ভাই! ইউ আর আ ইউনিক নটি গাই! হ্যাঁ, আপনি ল্যাপটপেই ফেসবুক ওপেন করে মেসেঞ্জারে জয়েন করেন!

আচ্ছা, দেখি, বুকটুক ওপেন করাতে আমি অত দড় নই বুঝলে! সাধুসন্ত মানুষ আমি! দেখি প্রস্তুতি নিই! এটাই তো আজকের বিষয়, তাই না!

॥ ২ ॥

এতক্ষণে এলেন শাহাব ভাই ? আপনার দশ নম্বর রাস্তা থেকে আমার এগারো নম্বর রোডে হেঁটে আসতেও তো এর চেয়ে কম সময় লাগে!

থাম তো রনি! এই যান্ত্রিক মিটিং সিটিংয়ে আমার পোষাবে না! ল্যাপটপ গুঁতোগুঁতি করে শেষে মোবাইলে তোমার লিঙ্গ ঢুকালাম। নেভার মাইন্ড মাই টকিং! এদিকে আমার মোবাইলের মেসেঞ্জার অ্যাপও নাকি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। ছেলে এসে অ্যাপ নামিয়ে দিল। তারপরে … তা বুঝলাম না, অ্যাপ বাবাজি লাফ দিয়ে কোন তাকের ওপর উঠে বসেছিল যে, ব্যাটাকে নামাতে এত কারিগরি করতে হলো! এসব তোমাদের মতো ইয়াংম্যানরাই বোঝে! আমরা আগিলা যুগের মানুষ। এসব টেকনিক্যাল বিষয় বুঝতে বুঝতে ম্যানুয়াল লাইফের চার্জ ফুরিয়ে যাবে! তা আমরা কয়জন এসেছি ?

এই তো, আমি আপনি, দাউদ ভাই, নূরু ভাই, টিটো এই পাঁচজন। আর তিনজন আসার পরে হাউসফুল হবে। বেশি হলে তখন আমার রুমে যেতে হবে!

তুমি রুমে চলে, মিটিং কনডাক্ট করবে কে রনি ?

রুম মানে আর-একটা অ্যাপ। মেসেঞ্জারের চেয়ে বেশি লোক ঢুকবে। মেসেঞ্জার গ্রুপে তো সর্বোচ্চ আটজন ঢুকতে পারে! রনিস রুম নামে আমার একটা আইডি আছে শাহাব ভাই!

কেমন আছেন শাহাব ভাই ?

ও, দাউদ! কেমন আর থাকব ভাই! করোনা তো কাহিল করে ফেলল ?

বলেন কী ? আপনার করোনা হয়েছে ? কবে থেকে ?

আর নাহ! এই যে রিয়েল লাইফ ঢুকে যাচ্ছে ভার্চুয়াল ভূগোলে! এই ভূগোলের ম্যাপ, কোড, ল্যাঙ্গুয়েজ, রুলস-রেগুলেশন―কিছুই তো বুঝি না! যাই হোক, তোমার কী অবস্থা ? কেমন আছ দাউদ ?

এই তো শাহাব ভাই! এখনও শুয়েই আছি। বিছানা ছাড়িনি!

কেন ? এই সন্ধ্যাবেলা শুয়ে আছ কেন ? শরীর খারাপ নাকি দাউদ ?

না তো শাহাব ভাই! আমাদের এখানে তো ভোর সক্কাল!

ও হ্যাঁ। তুমি তো নিউইয়র্কে! ভুলে গিয়েছিলাম! কে যেন এসেছে দাউদ! দেখ, টেবিল দেখা যাচ্ছে!

শাদমান এসেছেন! শাদমান, আপনার ক্যামেরা ঠিক করেন। ক্যামেরা উল্টো হয়ে আছে। ডাইনিং টেবিল দেখা যাচ্ছে। তলায় কার যেন একটা পা নাচছে!

ও তাই না কি দাউদ ভাই ? কীভাবে ঠিক করব ? ক্যামেরা তো আমার হাতে নেই ?

আছে, আছে। দেখেন একটা চিহ্ন আছে! দুটো অ্যারো দিয়ে। সিক্সটি নাইন ওয়াইজে। ওটা চাপ দিন।

সিক্সটি নাইন ? ওয়াও! ইয়েস! এই তো!

পেয়েছেন শাদমান ?

হ্যাঁ পেয়েছি দাউদ ভাই! সিক্সটি নাইন! চাপ দেব ? আই লাইক ইট!

কী বলছেন ? হ্যাঁ, হ্যাঁ ওখানে চাপ দিলেই পেছন থেকে সামনে চলে আসবে! আই মিন আপনার ব্যাক ক্যামেরা ফ্রন্ট হয়ে যাবে!

এই তো! আপনাকে দেখা যাচ্ছে! রনি বলছি! আমাকে দেখতে পাচ্ছেন শাদমান ভাই ?

হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি তো ঢুকেই সবাইকে দেখতে পাচ্ছিলাম রনি ভাই! তবে কারও কারও ক্যামেরা অফ আছে!

না না, সবার ক্যামেরা অন করতে হবে! প্লিজ!

॥ ৩ ॥

আরে, ক্যামেরা অন করল, ওটা কে ? টিটো নাকি ? টিটো, তোমাকে চেনা যাচ্ছে না। এত লম্বা দাড়ি তোমার ?

হ্যাঁ, এই জন্য ক্যামেরা বন্ধ রাখতে চেয়েছিলাম শাদমান ভাই! কিন্তু মিটিং রুলস-এ তো আবার নূরু ভাই লিখেছেন ক্যামেরা বন্ধ রাখা যাবে না!

ঠিকই তো লিখেছি টিটো! এমনিতেই লকডাউনে সব ঘরবন্দি। বাইরে যেতে পারছি না। কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ নেই! আবার ভার্চুয়াল পর্দাও যদি বন্ধ রাখো তাহলে তা আন্ধা হয়ে যাব!

কিন্তু আপনাকেই তো এতক্ষণ দেখতে পাচ্ছিলাম না নূরু ভাই! আপনার ক্যামেরাও বন্ধ ছিল! আবার আপনার আইডিতে লেখা লিপি! ভাবলাম লিপি আবার কে ?

ও, লিপি আমার বউ! আমার মোবাইলটা ডিসটার্ব করছিল! তাই বউয়েরটায় ঢুকেছি! ঐ মানে বউয়ের ফোনে …

আচ্ছা, বউয়েরটায় ঢুকলে অসুবিধা নেই নূরু! শালিটালি হলে বিপদ হবে!

শা-হা-ব, তোমার মুখ আর শুদ্ধ হলো না! যাই হোক, টিটোর অনুযোগের উত্তর দিই, ক্যামেরা বন্ধ করে টি-শার্ট ঠিক করে পরলাম টিটো! মেসেঞ্জারে ঢোকার পরে দেখি আমি উল্টো করে টি-শার্ট পরেছি! সারাদিন ঘরে থাকি। জামাকাপড়ের ঠিক নাই। যখন যা পাই চোখ বুজে মাথা ঢুকিয়ে বসে থাকি …! ইয়াল্লাহ, শিট! মুখ ফস্কে …

হে হে হে! বুড়ো হয়ে গেছেন নূরু ভাই! কী করতে কী করেন আর কী বলতে কী বলেন!

আমি তো বুড়োই! কিন্তু তোমার দাড়ি পাকলো কবে টিটো ? নাকি আগেই পাকা ছিল, ক্লিন শেভড থাকতে বলে বুঝতাম না!

না নূরু ভাই, আগে কাঁচাই ছিল। এই ছয়মাসের কোভিডে দাড়ি পেকে টসটসে!

ইয়ে …আমি একটু বলতে চাই … রাতে গন্ধ ছড়ায় না ? পাকা দাড়ির একটা চিমসে গন্ধ আছে, ঠিক না শাহাব ভাই!

আরে কী যে বল দাউদ! পাকা দাড়ি তো পাকা আমের মত লাগবে! একটু আঁশওয়ালা আমের আটি চুষতে যেমন লাগে!

যা ব্বলেছেন শাহাব ভাই! আরে, ডানদিকে ওপরে ওটা কে, বেল মাথা ?

আমি দাউদ ভাই! আমি আসিফ! পাঁচ মাস ধরে সেলুনে যেতে পারছি না। চুল দাড়িতে দরবেশ হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই একবারে  বেল হয়ে গেলাম! নরসুন্দর হলো আমার বউ!

তোমার বউ ? তা হলে নরসুন্দর কেন, নারীসুন্দর হবে!

নারীসুন্দর ? ঠিকই আছে ? আসিফের বউ নারীসুন্দর না হলেও সুন্দরী নারী বটে …!

এই! এই! কে কথা বলছে ? ক্যামেরা বন্ধ করে কথা বলে, এটা কে রে ?

আমি! আমি রনি, নূরু ভাই! এই একটু পার্সোনাল ব্যাপার ছিল, তাই বন্ধ করেছিলাম! এই যে দৃশ্যমান হলাম!

গুড! আচ্ছা আসিফ, তোমার বউ পাশেই আছে না-কি ? কাহার শাড়ির আঁচল-আভাস যেন দেখা গেল ?

না না নূরু ভাই! পাশে তো দূরের কথা, ধারেকাছেই থাকছে না! কদিন হলো ঠাণ্ডা লেগেছে। একটু কাশি চলছে আমার! তাই বউ হাতে মেজারমেন্ট টেপ নিয়ে ঘোরে। ছ ফিট দূরত্বে রাখে! আর ও তো শাড়িই পরে না! আঁচল দেখবেন কীভাবে!

অ্যাঁ! শাড়ি পরে না? বল কী আসিফ! ঘরে থাকার সুযোগে আনড্রেস থাকছে নাকি তোমার বউ ? হা হা হা!

ধেত্তেরি! কী যে বলেন দাউদ ভাই ? শাড়ি পরে না, সালোয়ার কামিজ পরে। শাড়ি ধুয়ে শুকাতে দেবে কোথায় ? এখন তো ছাদের দরজায়ও তালা লাগান। ওঠা যায় না। ছোট্ট বারান্দা। সেখানে তো আব্বার বিছানা পাততে হয়েছে। আব্বার হাঁপানি আর কাশিও বেড়েছে। চার সপ্তাহ কোয়ারেন্টিন। সালোয়ার কামিজ শুকাতে দিতেও তো কম জায়গা লাগে না! সালোয়ার কামিজ ওড়না আরও কত কী। আরও ছোট কিছু পরলে ভালো হতো!

ঠিক বলেছেন আসিফ ভাই! এ ক্ষেত্রে আমাদের, মানে পুরুষদের সুবিধা! বাসায় এখন একখানা হাফ প্যান্ট পরলেই চলে। চুলও কেটে ফেলেছি। গোসল করে গা ঝাড়া দিলেই পানি শেষ। মাথাটাথা মোছার ঝামেলা নেই!

তুমি তো চুল কেটে ফেলে হাঁসের মতো গা ঝাড়া দিয়ে গোসল শেষ করতে পার টিটো! তোমার বউ তোমার সুবিধা করে দিল! কিন্তু  মেয়েদের তো দেহের কোনও কিছুই কেটে ফেলে দেবার জো নেই! তবে একটা ফ্যামিলি দেখলাম। ফেসবুকে ছবি দিয়েছিল। স্বামী-স্ত্রী ছেলে তিনজনই টাক্কু হয়ে গিয়েছে!

তবে মেয়েদের কেশ বা অঙ্গচ্ছেদ না করেও কিন্তু পোশাক ফেলে দিতে পারে! মানে এক্সট্রা জবরজং জামাকাপড়গুলো … এই লকডাউনে যে বউরা বাড়িতে কী পরে, সেটা যার যার সোয়ামিই জানে! যেখানে হাসব্যান্ড ওয়াইফ দুজন, সেখানে তো … কী বলেন, আসিফ ভাই!

আরে নাহ! আসিফ ভাই, কড়া হুকুম আছে। শরীর গরম হয় এমন দৃশ্যে থাকা চলবে না! ছয় ফুট দূরে থাকতে হবে!

ছয় ফুট দূরত্বে না হয় দিনে থাকলে, তারপরে, কী ঘটে রাতে, মার্শাল টিটো ?

কী আবার! তখনও ছয়ফিট! দুজনের মাথা খাটের দুদিকে থাকে। খাট তো ছয়ফিট লম্বা থাকেই! কোভিড তো ঢোকে নাক মুখ আর চোখ দিয়ে। ঊর্ধ্বাংশ নিরাপদ থাকলেই তো হলো!

তাই তো! সিক্সটি নাইন হলে সব নিরাপদ!

এই, তোমাদের জিভের ব্যারোমিটার তো দেখি বেড়ে চলেছে!

॥ ৪ ॥

শাহাব ভাই, দাউদ ভাই, চলেন আমরা মিটিংয়ে যাই! আর কেউ মনে হয় আসবে না। কী রনি, আর কেউ আসবে ? লিংক কাকে কাকে পাঠিয়েছিলে ?

আসবেন নূরু ভাই! রুখসানা আপা আর হুসনা আপা তো আসবেন বলে কনফার্ম করেছিলেন! বাকিরা কিছু জানাননি।

আচ্ছা আসুন তারা। মহিলারা লেট কামার! পোশাকটোশাক পাল্টে সাজগোঁজ করে আসবে তো!

হুসনা আপা এলে এই কথাটা বলে দেইখেন নূরু ভাই, আপনাকে ব্লক তো করবেই, লক আপেও ঢোকাবে!

মাথা খারাপ ? মহিলাদের সামনে এসব বলব ? আমাকে তুমি কী মনে কর রনি ? 

নূরু ভাই, কে যেন ঢুকছে ? শাহাব ভাইয়ের নিচে কে যেন ঢুকছে! এই, এই হুসনা আপা ঢুকছেন!

কী সর্বনাশ! শাহাব ভাইয়ের নিচে হুসনা আপা ঢুকছেন ? কী বলছ আসিফ ? হোল্ড ইয়োর টাঙ্গ উজবুক!

কিন্তু কই,  না আসিফ! হুসনা আপা তো দাউদ ভাইয়ের ওপরে! আমি তো তাই দেখছি!

ইয়াল্লাহ, এসব কী কথা বলছো নূরু ? হুসনা দাউদের ওপরে ?

হ্যাঁ শাহাব ভাই, আমি দেখছি তো, এই যে, হুসনা আপা তো আপনার নিচে না, দাউদ ভাইয়ের ওপরে!

এই সিন কীভাবে দেখছ ? ও হুসনা বেগম, কী বলছে গো ওরা!

অ্যাই, কী সব বলছ ? জিভে লাগাম নাই! আমি সবার ওপরে! বাকি সবাই আমার নিচে!

মাই গড! এক সঙ্গে সবাইকে নিচে ফেলেছ হুসনা ?

অ্যাই অ্যাই শাহাব, শয়তানের হাড্ডি! বুইড়া হইছ তাও মুখ শুদ্ধি হইল না! মেসেঞ্জার গ্রুপের নর্মগুলো বোঝ না উজবুকের দল! যার যার ডিভাইস থেকে সে নিজেকে সবার ওপরে, ফার্স্ট পারসন হিসেবে দেখতে পাবে!

॥ ৫ ॥

হ্যালো হুসনা আপা! স্লামালেকুম! আপনার অপেক্ষায় ছিলাম। মিটিং শুরু হয়নি বলে একটু ফাউল কথাবার্তা চলছিল। কতদিন নিরামিষ হয়ে আছি বলেন তো!

হুম! তাই তো ঢুকেই দেখি নরক গুলজার! ওয়ালাইকুম সালাম নুরু, সবাইকে শুভেচ্ছা!

হুসনা আপা, কেমন চলছে ?

কে কথা বলছে ? বুঝতে পারছি না! ঐ যে সবুজ শার্ট ওটা কে ?

আমি টিটো, হুসনা আপা!

তুমি টিটো ? ন্যাড়া হয়ে গেছ নাকি টিটো ?

হ্যাঁ, আমি চুল ফেলে দিয়েছি।

হায় হায়, কেন ?

বউ বলল, কারও কোনোরকম চুলফুল রাখা চলবে না। উকুনের বাসা! সব ফেলো!

কারও কোনোরকম চুল থাকবে না ? বল কী টিটো ? তোমার বউয়েরটাও শেষ ? এত সুন্দর চুল ?

আমার বউকে দেখেছিলেন আপনি ?

দেখেছিলাম তো! ঐ যে একবার সিনেপ্লক্সএ দেখা হলো! একেবারে চান্দি য্যায়সে রূপ হ্যায় তেরা, সোনে য্যায়সে বাল!

আচ্ছা, তুমিই তাহলে বল হুসনা বেগম, সোনে য্যায়সে বাল কি ফেলা যায় ?

এই, এই, শাহাব ভাই, কী করলেন আপনি! হুসনা আপা তো লিভ করেছে!

আবার আসবে! হুসনাকে চিনি আমি টিটো! ক্ষেপেছে! তবে, একটু পরেই হাসিমুখে আবার আসবে! নুরু তাহলে মিটিং …

হ্যাঁ শাহাব ভাই, এইতো, তো, লেটস স্টার্ট উই টুগেদার! আচ্ছা, রনি, তুমি প্রথমে শুরু কর! ইয়াংম্যান। এনার্জি বেশি! আমার একটু ব্লাডারে চাপ পড়েছে। বসে আরাম পাবো না! হালকা হয়ে আসি!

 লেখক : কথাশিল্পী

সচিত্রকরণ : রাজীব দত্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares