গল্প : ভেজা রোদের বিকেল : মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য

দিগন্তের ওপর ভাসছিল ঘন কালো মেঘের ভার। আরেকটু আগেও ফাঁকফোকর দিয়ে এক রোদ্দুর এসে পড়ছিল সাদা গাড়ির বনেটের ওপর। হঠাৎ করেই মুছে গেল শালিখের পায়ের মতো ফিকে হলদে আলোটা। আঁধার ঈষৎ ঘন হলো। মাথার ওপরের মস্ত কালো বেলুনটা যেন ফেটে পড়বে এখনই। চন্দ্রাতপদা বলে উঠল, বাজি রাখতে পারি, তুমি দশ গোনা শেষ করার আগেই বৃষ্টি নামবে!

আর তখনই, কথাটা  ফুরোতে না ফুরোতেই, কল্পতরু হলো আকাশ। কাঁচা তেলে বেগুনভাজার মতো চিড়বিড়ে শব্দ তুলে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। ড্রাইভিং সিটের পাশের আসনে বসে আছি। জানালার  কাচ খোলা। সোঁদা হাওয়া দিচ্ছে। রাস্তার পাশের বড় গাছগুলো নুয়ে পড়ছে দমকা হাওয়ায়। আমাদের পেছন পেছন আসা দুটো গাড়িও ধাঁধিয়ে গেল রেডিয়াল টায়ারের সঙ্গে অ্যাসফাল্টের রাস্তার ঘর্ষণের শব্দ তুলে। আমি আঁতকে উঠলাম ‘ওহ মা’ বলে।

চন্দ্রাতপদা মুখ ফেরাল আমার দিকে। মুখে নার্ভাস নার্ভাস হাসি। ফর্সা ছিপছিপে চেহারা। দাড়িগোঁফ নিখুঁতভাবে কামান। চুলে পাক ধরতে শুরু করেছিল তিরিশের ঘর পার করতে না করতেই। কখনও ডাই করতে দেখিনি মানুষটাকে। পঞ্চান্ন বছরে পৌঁছে একমাথা চুলের সবটাই এখন সাদা। চন্দ্রাতপদার ব্যক্তিত্ব আরও বাড়িয়েছে একমাথা সাদা চুল। মুখে হাসি ফোটাবার চেষ্টা করতে করতে বলল, ভয় পেলে ?

আমি মজার ছলে বললাম, হার্ট একটা বিট স্কিপ করে গিয়েছিল। দশ গজ দূরে না ভেঙে গাছের ডালটা আমাদের গাড়ির ওপরে পড়তে পারত। তুমি ঠিক সময় ব্রেক না কষলে আমরা ভাঙা ডালটার ওপর গিয়ে পড়তে পারতাম। এমনকি, দুজন একসঙ্গে মরেও যেতে পারতাম।

চন্দ্রাতপদা বলল, মরা অত সহজ নয়। আবার খুব যে কঠিন তা-ও নয়। ইনফ্যাক্ট বাঁচা কিংবা মরা কোনওটাই আমাদের হাতে নেই। এভরিথিং ইজ প্রিডেস্টাইন্ড। তা না হলে হিমিকা এভাবে চলে যায়!

আমি অপাঙ্গে দেখছিলাম চন্দ্রাতপদাকে। স্ত্রী বিয়োগের শোক আজও ভুলতে পারেনি মানুষটা। থেকে থেকেই বিষণ্নতা এসে ছুঁয়ে দিয়ে যায়। সুখের সংসার আর কতদিনই বা করা হলো, বিয়ের পর ধরা পড়ল ইউটেরাসে জটিল কী একটা সমস্যা আছে দিদি ভাইয়ের। প্রেগন্যান্সি আসছিল না। রক্তচাপ যে বেশি ছিল শুধু তা নয়, রক্তে চিনিরও আধিক্য ছিল। ছিল থাইরয়েডের সমস্যা। এসবের সুতো ধরে এল ডিপ্রেশন। সেসব কারণেই পরিস্থিতি গুরুতর হলো। কাউকে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়ে অকালে চলে গেল চল্লিশ না-ছোঁয়া দিদিভাই।

আমাদের  দুই বোনের বয়সের ফারাক চৌদ্দ বছরের। ছোটবেলায় ডলপুতুল নিয়ে খেলত দিদিভাই। আমি নতুন অতিথি হয়ে বাড়িতে আসায় ও একটা জ্যান্ত রক্তমাংশের খেলনা পেয়ে গেল। হয়ে উঠল আমার মা। আমাকে স্নান করান, চুল আঁচড়ান, পোশাক পরান, দলা পাকিয়ে ভাত খাওয়ান, নোংরা পরিষ্কার করা―সবকিছু করত নিজ হাতে। নাম ধরে নয়, আমাকে ডাকত ‘মেয়ে’ বলে। বাড়ির লোক আর পাড়া-প্রতিবেশী মাজা পেত। বাবা-মা হাসত। বলত, হিমিকা একটা আস্তা পাগলি। আমি একটু বড় হবার পরেও দিদিভাইয়ের স্বভাব বদলাল না। ওর স্নেহ মেশান শাসনের আদিখ্যেতা নিয়ে কম অশান্তি ভোগ করতে হায়েছে আমাকে!

একটা শ্বাস গোপন করে বললাম, এটা আমিও মানি। এই যে রণ অ্যাকিউট লং ইনফেকশন নিয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি হলো, ওর জন্য আমাদের এত দৌড়ঝাঁপ আর টেনশন, সেটাও হবারই ছিল। নিয়তি কেন বাধ্য করছে। কারা যেন রাস্তা থেকে সরিয়ে দিল গাছের ডাল। তাড়া খাওয়া হরিণের মতো ছুট দিচ্ছে এতক্ষণ থমকে থাকা গাড়িগুলো। ইগনিশনে চাবি ঢোকাল চন্দ্রাতপদা। গাড়ি চলছে আমাদের। জানালার কাচ খুলেছি। সোঁদা ঘ্রাণ নাকে এল। সবুজ গন্ধভেজা হাওয়া পাঠিয়ে দিয়েছে দূরের কালো আকাশ। ময়লা মসলিনের মতো চাদরের মতো মেঘে সেজেছে ডুয়ার্সের সিল্যুয়েট। আকাশ থেকে নামছে কালো রঙের ছেঁড়া মসলিনের টুকরো।

উইন্ডস্ক্রিনে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন প্যাটার্নের জলের আলপনা। হাওয়ার তেজ বাড়ল পথচারী একজনের ছাতা গেল উল্টে। শিক ভেঙে গেছে ঝোড়ো হাওয়ায়। বেচারি খাবি খাচ্ছে পুরনো ছাতা নিয়ে। গাছ থেকে বাতাবিলেবু পেড়ে কতগুলো ছেলে ফুটবল খেলছে। কদমফুল নিয়ে লোফালুফি করছে হলদে টিউনিক পরা এক মায়াবি কিশোরী। খালি গা, ছেঁড়া বারমুডা পরা এক মাতাল আকাশের দিকে তাকিয়ে দুই হাত তুলে হাঁক দিয়ে কাউকে ডাকছে, আয় … আয়। ডুয়ার্সের ভেজা রোদের  বিকেল ফুটিয়ে তুলছে এক আশ্চর্য নকশিকাঁথা।

চন্দ্রাতপদা বলল, তুমি টেনশন কোরো না, সব ঠিক হয়ে যাবে। রণদীপ উইল ব্যাক ইন্টু দ্য প্রুভ। জীবনের বড়সড় ঝড় আসে কখনও কখনও। তাতে ভেঙে পড়তে নেই। এমন ক্রাইসিস সকলকেই ফেস করতে হয়। রণকে জেনারেল বেডে কবে দেবে ? ওর ছুটি-টুটির ব্যাপারে কিছু বলল ?

আমি বললাম, আইসিইউ থেকে এইচডিইউ-তে নামিয়েছিল পরশু। আর কিছু টেস্ট করিয়েছে। রিপোর্টস শুনেছি ভালো। ড্রিপ চললেও অক্সিজেনটা খুলে দিয়েছে। রণ কথা বলেছে আমার সঙ্গে। যদিও একটুতেই হাঁফ ধরে যাচ্ছিল। ভিজিটিং আওয়ারে ডক্টর শেষাদ্রির সঙ্গে কথা বললাম। বললেন জেনারেল বেডে শিফট করবেন ভাবছেন। সব ঠিক থাকলে পরশু বা তার পরদিন রিলিজ করতে পারেন।

চন্দ্রাতপদা একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলল, আমার ডেরায় তোমার কষ্ট হচ্ছে জানি। ছন্নছাড়া বাউন্ডুলে মানুষের ঘর। কী আর করা, একটু মানিয়ে গুনিয়ে নাও ক’টা দিন।

আমি বললাম, এভাবে বলো না প্লিজ। তুমি আমার জন্য অফিস ছুটি নিয়ে আছ। রান্না করে খাওয়াচ্ছ। এই বিপদের দিন পাশে দাঁড়িয়ে ভরসা জোগাচ্ছ এটাই তো অনেক।

চন্দ্রাতপদা মজার একটা ভঙ্গি করল, ধুস ওসব ফরমালিটি ছাড়। জানো তো, আমার একজন ডমেস্টিক হেল্প্ ছিল। রান্নাটাও সেই মহিলাই করত। কোভিডের সময় সে কাজ ছেড়ে দিল। ভাগ্যিস সেদ্ধ ভাতটুকু করতে জানতাম। নিজেই হাত পুড়িয়ে খেতে শিখলাম। অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলছিল বলে বাইরে বেরোতাম না। বাড়ির সামনের ওষুধের দোকান আর গ্রসারি শপে যেতাম শুধু। সবজি আর মাছ-মাংস বাড়িতে বিক্রি করতে আসত। এভাবেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিলাম। ইউ টিউব দেখে টুকটাক রান্নাও শিখে নিলাম। সেসব মুখে তোলা যাচ্ছে কি না জানি না।

আমি বললাম, আমি মহারানির হালে আছি।  ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই বেড টি রেডি। বাটারটোস্ট, ডিমসেদ্ধ, কলা দিয়ে ব্রেকফাস্ট খেয়ে বেরিয়ে পড়ছি নার্সিংহোমের দিকে। ফিরতে ফিরতে দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে। তুমি আমার জন্য রান্না করে না খেয়ে বসে থাকছ। আমি একসঙ্গে লাঞ্চ করে তোমাকে ধন্য করছি। তুমি একাবোকা মানুষ, আমি উটকো লোক এসে জুটেছি তোমার সংসারে। তোমার প্রেভেসি নষ্ট করছি। কত কষ্ট দিচ্ছি তোমাকে।

―তোমার তিন দশক আগে জন্মেছি তো কী হয়েছে। শ্যালিকা বলে কথা, তুমি আমার কাছে মহারানিই তো। চন্দ্রাতপদা হাসছে মৃদু মৃদু। ভরাট গলার স্বর। উদাসী সন্ন্যাসীর মতো উজ্জ্বল ও ময়াবী দুটো চোখ। নিখুঁত করে কামান গাল, ঘন আঁখিপল্লব, পাতলা ঠোঁট। হাসলে মানুষটাকে ভারি সুন্দর দেখায়। দিদিভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের দিন কী সুন্দর যে দেখাচ্ছিল চন্দ্রাতপদাকে! সেই আশ্চর্য সন্ধ্যার প্রতিটি মুহূর্তই মনে গেঁথে আছে আমার।

রণদীপের অ্যাজমার সমস্যা ছোট থেকেই। আমার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে বছর দুয়েক, দেখিছি একটুতেই ও কাহিল হয়ে পড়ে। ইনহেলার নিতে হয় নিয়মিত। উনত্রিশ বছরের জীবনে একাধিকবার নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হয়েছে ওকে। অনেকে বলত সাঁতার কাটলে ফুসফুস ভালো থাকবে। সেসব শুনে ভর্তি হয়েছিল সুইমিং ক্লাবে। মাসখানেক বাদে একদিন জ্বর এল, সঙ্গে গা হাত-পা ব্যথা। সেসব উপসর্গ ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ খেয়ে চলেও গেল। কিছুদিন পর শুরু হলো ঘুসঘুসে জ্বর আর বুকে অসহ্য ব্যথা। শ্বাস নিতে গেলে মনে হয় বুক ভেঙে আসছে। ডাক্তার বুকে স্টেথো লাগিয়েই বললেন, অ্যাকিউট লাং ইনফেকশন। এই মফস্সল শহরে না পড়ে থাকাই ভালো।

মাথা কাজ করছিল না। তবুও সিদ্ধান্ত নিতে সময় লেগেছিল কয়েক সেকেন্ড মাত্র। আমাদের শহর থেকে শিলিগুড়ি তিন ঘণ্টার রাস্তা। তার মধ্যে সন্ধে গড়িয়ে রাত নেমেছে। মোবাইল থেকে ফোন করেছিলাম চন্দ্রাতপদাকে। দুটো এটিএম কার্ড থেকে টাকা তুলে একটা অ্যামবুলেন্সে রণদীপকে চাপিয়ে নিয়ে চলে এসেছিলাম শিলিগুড়ি। তখন রাত রারোটা। চন্দ্রাতপদা অপেক্ষা করছিল ইমারজেন্সির বাইরে। রণদীপকে ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হলো আইসিইউ-তে। চন্দ্রাতপদা পঁচিশ হাজার টাকা জমা করে এল কাউন্টারে।

চন্দ্রাতপদার বাড়ি থেকে নার্সিংহোম আটোরিকশায় কুড়ি মিনিটের পথ। অটোতেই যাতায়াত করছি। এইচডিইউ-তে ভিজিটিং আওয়ার দুটো থেকে আড়াইটে অবধি। নার্সিংহোম থেকে ফিরে এসে দেখি অন্য দিনগুলোর মতোই আমার জন্য না খেয়ে অপেক্ষা করছে চন্দ্রাতপদা। খেতে খেতেই বলেছিল, ক’দিন ধরে খুব স্ট্রেস যাচ্ছে তোমার। রণদীপ তো এখন ভালো আছে। চলো, একটা আউটিং করে আসি ছোট্ট করে।

আমি ভুরু তুলে বলেছিলাম, আউটিং মানে ?

চন্দ্রাতপদা বলেছিল, শিলিগুড়ি থেকে বেরিয়ে সেবক হয়ে ওদলাবাড়ি অবধি যাব, ফেরার সময় গজলডোবা হয়ে ফিরব। ওখানে বোরোলি নামে চমৎকার একটা রেস্তোরাঁ আছে। তিস্তার টাটকা বোরোলি মাছ ওখানকার ডেলিকেসি। সেখানে ডিনার করব। বহুদিন  গ্যারাজ থেকে গাড়িটা বের করা হয় না, লং ড্রাইভেও যাওয়া হয় না। চলো, ঘন অরণ্যে গিয়ে ডুয়ার্সের বর্ষা দেখে আসি চলো।

চন্দ্রাতপদার এই প্রস্তাবে অমত করার কারণ ছিল না। ঝটপট খাওয়া শেষ করে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম দুজনে।

ঝিরঝির বৃষ্টিতে ভিজছে পথঘাট। সার সার গাড়ি ফ্ল্যাশার জ্বালিয়ে যাচ্ছে আসছে টায়ার দিয়ে জল স্প্রে করতে করতে। ল্যাটারাল রোডে বিকেলের মনমরা আলো থাকতে থাকতেই কারা যেন জ্বেলে দিচ্ছে বিষণ্ন হলদে আলোগুলো। ঘরে ফিরছে পাখিদের ঝাঁক। তার একটা দুটো দিক হারিয়ে ফেলেছে। ডানা ঝপপট করছে অসহায়ভাবে। একটা ফ্ল্যাটবাড়ির সামনে জল জমেছে। কতগুলো বাচ্চা কাগজের নৌকো ভাসিয়ে দিল জলে। রাস্তার মোড়ে সিনেমার পোস্টার জোলো হাওয়ায় বেসামাল। জলে ভেজা নায়িকা ন্যাতন্যাতিয়ে কাত হয়ে পড়ে গেছে বৃষ্টির জলে। গাড়িতে এফএম চলছে। কানে আসছে মেঘমন্দ্র স্বরের ঘোষণা। এই অঝোর বৃষ্টি আরও ক’দিন। যদ্দিন না বাংলাদেশ টেনে নেয় নিম্নচাপের মেঘ।

আমার শ্বশুর শাশুড়ি নেই। রণদীপের  মা মারা গিয়েছিলেন ওর ছোটবেলায়। বাবা চোখ বুজেছেন বছরখানেক আগে। দিদি প্রবাসে ব্যস্ত তার সংসার নিয়ে। তবে আমাকে ফোন করছে নিয়ম করে। আমাদের বাড়ি থেকে বাবা-মা দু’বার করে খোঁজ নিচ্ছে রণদীপের। আমার কোনও অসুবিধে হচ্ছে কি না সেটা নিয়েও চিন্তিত। চন্দ্রাতপদা গোঁ ধরে বসে আছে। যে নার্সিংহোমে দিদিভাই শেষ শ্বাস ফেলেছে সেই বিল্ডিংয়ের ভেতর পা রাখবে না কিছুতেই। তার মানে এই নয় যে, মানুষটার হৃদয়ে উদ্বিগ্নতার দোলাচল কিছু কম হচ্ছে। বাবা-মাও জানে, চন্দ্রাতপদা আমাদের মতোই রণদীপের আরোগ্য কামনা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। আসলে মানুষটা আর পাঁচজনের মতো নয়, একটু অন্যরকম।

চন্দ্রাতপদা একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। ভালোবাসার মানুষের অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারেনি আজও। দিদিভাই যখন মৃত্যুর সঙ্গে যুঝছে তখন আমি কলেজে পড়ি। নিজের চোখে দেখেছি চন্দ্রাতপদা তিন দিন তিন রাত্রি টানা থেকে গিয়েছিল নার্সিংহোমে। লাউঞ্জেই ঠায় বসে থাকত চেয়ারে গা এলিয়ে। আমরা বাড়ি ফিরলেও সে ফেরেনি। পণ করেছিল বউকে সুস্থ করে বাড়ি না ফেরাতে পারলে আর কখনও এই অভিশপ্ত শুশ্রƒষালয়ে যাবে না। বিধাতার ওপর কার সেই নীরব অভিমান এতদিন পরও বুকে পুষে রেখেছে।

প্রবল পুরুষের মতো দাপট দেখিয়ে অঝোরে বৃষ্টি নামল এবার। গাড়ির ছাদ ফুটো করে দেবে এমন তার তেজ। রাস্তার ধারে একটা ওষুধের দোকান। দিনের বেলাতেই জ্বলছে কম পাওয়ারের সাদা সিএফএল। বৃষ্টি এড়াতে চুপচাপ দোকানে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন। বিনি পয়সায় ছাদ পাওয়া যাবে বলে এক পাতা নির্দোষ অ্যান্টাসিড কিনে নিল কেউ কেউ। পাশে একটা পার্ক। কাঠের বেঞ্চিতে ঘন হয়ে বসে আছে প্রেমিক প্রেমিকা। শীত শীত করছে বলে আরও একটু ঘন হয়ে বসল তারা। কে জানে, হয়তো এই ডিসেম্বরে বিয়ে ঠিক হয়েছে মেয়েটির। ছেলেটি চাকরি জোটাতে পারেনি বলে মেয়ের বাড়ির লোক আর ধৈর্য ধরতে রাজি না। এই হয়তো শেষ দেখা তাদের। আরও একটুক্ষণ বৃষ্টি চলুক মনে মনে এমনটাই বুঝি চাইছে ছেলেটি।

পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে খুব। আমি তখন স্কুলে যেতে শুরু করেছি। কলেজের আঙিনায় পা রেখেছে দিদিভাই। ছোটবেলার মতো তখনও আমাকে ‘মেয়ে’ বলে  ডাকে। মেধাবী ছিল, কলেজ থেকে বেরিয়ে কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে মার্স্টাস করার সুযোগ পেয়ে গেল দিদিভাই। পেয়িংগেস্ট থাকত একটা বাড়িতে। বাড়ি ফিরত কালেভদ্রে। এলেই শুরু করত শাসন আর আদরের যৌথ অত্যাচার। বয়ঃসন্ধির মেয়ে আমি, আমার ভালো লাগত না, মায়ের কাছে অনুযোগ করতাম। মা আমল দিত না বিশেষ। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম যখন দিদিভাইয়ের বিয়ের সম্বন্ধ এল। খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন থেকে যোগাযোগ দু’বাড়ির। চন্দ্রাতপদা ইঞ্জিনিয়ার, দুর্গাপুরে অফিস, পদস্থ চাকুরে। ওরা ডোমজুড়ের বাসিন্দা, ওখানেই নিজেদের বাড়ি। দুজনের যখন বিয়ে হয় আমি তখন হাইস্কুলে যেতে শুরু করেছি।

বিয়ের পর চন্দ্রাতপদা বদলি হলো কলকাতায়। বাবা-মায়ের সঙ্গে আমার কলকাতা যাওয়া হতো গ্রীষ্মের ছুটির সময়। মজার ব্যাপার, দিদিভাই বিয়ের আগে বোন অন্তপ্রাণ ছিল, বোনকে এক সেকেন্ডের জন্য কাছছাড় করত না। আমার বেড়ে ওঠার প্রতিটা মুহূর্ত তার দেখা চাই। সে আমূল বদলে গেল। বিয়ের পর আমাকে ছেড়ে ওর সমস্ত মনোযোগ সরে গেল চন্দ্রাতপদার ওপর। তখন আমার বদলে নতুন খেলনা পেয়ে গেছে সে। সদ্য বিয়ে করা স্বামীটিই তার নতুন খেলার পুতুল। ওদের বাড়িতে গেলে চোখে পড়ত এক আশ্চর্য কাণ্ড। চন্দ্রাতপদা স্নান করে আসার পর চুল আঁচড়ে দিত পরিপাটি করে। অফিসে যাওয়ার সময় ভাত মেখে খাইয়ে দিত রোজ। এমনকি, জুতো মোজাও পরিয়ে দিত। পারফিউম লাগিয়ে দিত শার্টে। ছোটদের যেমন করে শাসন করে বড়রা, তেমনি করে বকুনি দিত পান থেকে চুন খসলে।

চন্দ্রাতপদা হাসত লজ্জা মুখ করে। কিন্তু দিদিভাইকে কখনও বকাঝকা করেনি, বাধাও দেয়নি। বাবা-মা বলত, বউকে অন্ধের মতো ভালোবাসে ছেলেটা। সে কারণে বেচারি এসব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করছে। বলত, হিমিকা একটা আস্ত পাগলিই রয়ে গেল। তবে মা হতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। দিদিভাইও সেটা জানত। ওরা জুতোর শুকতলা ক্ষইয়ে ফেলেছিল ইনফার্টিলিটি ক্লিনিকে দৌড়ে দৌড়ে। কিন্তু দিদিভাইয়ের মাতৃত্বের অভিলাষ পূর্ণতা পায়নি।

বছরকয়েক বাদে চন্দ্রাতপদা বদলি হয়ে এল শিলিগুড়িতে। ততদিনে অ্যাকিউট ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিল দিদিভাই। ওজন কমে গিয়েছিল অনেক, চোখের নিচে গাঢ় কালি, সবসময় নিজের জগতে ডুবে থাকত। রণদীপ যেখানে ভর্তি সেই নার্সিংহোমের এক হিমশীতল কক্ষে ভাঙা মন নিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গিয়েছিল একদিন। আমার বাবা-মা বলেছিল আর একবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে। মানুষটা রাজি হয়নি। দিদিভাইকে সত্যিই অবুঝের মতো ভালোবাসত চন্দ্রাতপদা।

আমার সম্বিৎ ফিরল পুরুষালি ব্যারিটোনে। চন্দ্রাতপদা বলল, মেঘমুলুক বলতে চেরাপুঞ্জির ছবি চোখে ভাসে অনেকের। কিন্তু সারা বছরই মেঘের মুল্লুক যেখানে সেখানকার মানুষ ‘মেঘলা’ এই কথাটা যে এত সুন্দর, তা বুঝবে কী করে। ওরা বৃষ্টি জানে, বর্ষা জানে না। ওদের কাছে মেঘলা মানে দূর ছাই, এখনও গেল না আঁধার। কিন্তু ডুয়ার্সে মেঘলা মানে, মনের ভিতর গুনগুন। ডুয়ার্সে যেমন করে ফরসা আকাশ কালো করে মেঘ ঘনায়, চরাচর ছিন্ন করে চমকায় বিদ্যুৎ, গ্রীষ্মের খরার পর বর্ষায় হেসে ওঠে সবুজ প্রকৃতি তার তুলনা নেই। এসব দেখব বলেই তো বেরিয়েছি আজ। এসেছি মন ভালো করব বলে।

আমি হাসলাম, প্রকৃতির বুক ভরানো এই ঝরঝর বরিষণ, প্রকৃতির সর্বাঙ্গজুড়ে বিছিয়ে থাকা বর্ষার মায়াই হলো ডুয়ার্সের সিগনেচার টিউন।

পার্কের আমগাছটায় কাকের বাসা থেকে টুপটাপ ঝরে পড়ছে ডিম। মা পাখিদের ওড়াউড়ি আর কাতর কা কা মিশে যাচ্ছে ঝড়বাদলের দাপটে। গাছের গুঁড়ি থেকে মুখ বের করে রোগামতো একটা সাপ। অদূরে নির্লিপ্ত দুই প্রেমিক প্রেমিকা বসে বসে ভিজছে পার্কের বেঞ্চে। যেন রূপকথার বই থেকে উঠে আসা দুঃখী এক রাজপুত্র আর দুঃখিনী এক রাজকন্যা। মেয়েটি মুখ নিচু। ছেলেটি তাকানো দূরের গাছগাছালির দিকে। আমি বললাম, কী সুন্দর জুটিটা না ? আচ্ছা, মেয়েটা কি কাঁদছে ?

চন্দ্রাতপদা অস্ফুট স্বরে বলল, হয়তো তা-ই। তোমার দিদিভাই বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসত। ওদের দেখে মনে পড়ে গেল হিমিকার কথা। আমরাও ছাদের আলসেতে বসে বৃষ্টিতে ভিজেছি অনেক।

আমি বললাম, ওই দ্যাখো, সে কারণেই মাথার ওপর একখণ্ড কালো মেঘ ভেসে যেতে যেতে দাঁড়িয়ে পড়েছে ওদের দেখে। ওদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে বৃষ্টির জল ছড়িয়ে দিল চারপাশে। যাতে মেয়েটার কান্না ধুয়ে যায়। যাতে বৃষ্টির ছাঁট তাকে আদরের মতো ছুঁতে পারে। যেন একটু জল পায় বেচারির না-পাওয়া মন। জল মোছার অছিলায় দু’হাত মুখ ঢেকে নেয় সে। এমনকি তার পাশে বসে থাকা ছেলেটাও যেন বুঝতে না পারে তার মন খারাপের কথা।

চন্দ্রাতপদা বলল, আমরা গুমরে গুমরে কাঁদি। কিন্তু চাই না আমাদের মন খারাপের কথা কেউ জানুক। বৃষ্টিই পারে আমাদের আড়াল দিতে। চারদিকে বিষাদের নামে যা দেখি বা অন্যদের থেকে অনুভব করি তা এক ধরনের জ্বালা। একটা জিনিস আমার পাওয়ার কথা, সেটা অন্য কেউ পেয়ে গেল। অথবা অন্য পেলেও আমি কেন পাব না ? এ এক অবিশ্রাম চাহিদা। যে চাহিদা মিটলে সাময়িক আনন্দ। না-মিটলে, মন খারাপ। এই যে চাহিদা মেটার আনন্দ, তা আসলে  আনন্দ নয়। এক ধরনের জয়োল্লাস। চাহিদা অপূর্ণ থাকলে মনের মধ্যে আক্রোশ নিয়ে বেঁচে থাকা। এই আক্রোশ মনের গভীরে চাপ পড়ে থাকতে থাকতে একসময় কালো বিষাদে বদলে ফেলে নিজেকে। যা আসলে প্রতিশোধ স্পৃহারই উল্টো দিক। আমার বিষাদ অবশ্য একেবারেই ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে। হিমিকা চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে, কিন্তু যাওয়ার আগে অতলান্ত বিষাদ উপহার দিয়ে গেছে আমাকে। আমার বিষাদের রং ডুয়ার্সের বর্ষার মতোই ধূসর।

আমি বললাম, এমন বর্ষার দিন সংবেদনশীল কিছু কিছু মেঘলা মনকে ঠেলে দেয় হু হু বিপন্নতার দিকে, যার পোশাকি নাম ডিপ্রেশন। মন-কেমন আর মনখারাপ তো এক নয়। মনকেমন সহজ, স্বাভাবিক। অল্পক্ষণের মধ্যেই মন চাঙ্গা হয়ে যায়। কিন্তু মনখারাপ বা ডিপ্রেশন তা নয়। তখন মনের রোগ সারাতে প্রয়োজন হয় মনের ডাক্তারের।

চন্দ্রাতপদা ম্লান হাসল, তোমার দিদিভাই রক্তমাংসের পুতুল নিয়ে খেলতে চাইত। প্রথমে তুমি ছিলে ওর খেলার পুতুল। পরে আমি। মনস্তত্ত্ববিদেবা ওর এই অদ্ভুত আচরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁদের মতো করে। চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু সুস্থ করে তুলতে পারেননি। পরের দিকে সবরকম ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল ও। বাঁচার আকাক্সক্ষাটাই আর ছিল না। ধূসর রাস্তা পেরিয়ে একটু একটু করে চলে গেল এমন এক দেশে যেখান থেকে আর ফেরার উপায় থাকে না।

আমি ক্লান্ত স্বরে বললাম, জীবনের থেকে পাওয়া বিষাদকে জীবনের পাত্রে রেখে সারা জীবন আলোর দিকে পথ হাঁটতে পারেন না সকলে। হিংস্রতা, প্রতিশোধস্পৃহা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাও বড় সহজ কাজ নয়। মন ডুবে অন্ধকারে চলে গেলে সেই জলের নিচে কী আছে আর দেখা যায় না। নিচে অন্তত কোনও প্রতিযোগিতা নেই। অন্যের জীবনের ছোট ছোট খবর জানার কৌতূহল নেই সেখানে। স্যোশাল মিডিয়ার এই বাড়বাড়ন্তের যুগে ব্যক্তিগত শোকও তো এক ধরনের বিজ্ঞাপন। তাহলে বিষাদভার নিয়ে কোথায় যাবে একলা মানুষ ?

চন্দ্রাতপদা একটুক্ষণ চুপ করে থাকল। গাঢ় স্বরে বলল, উৎকৃষ্ট কবিতার কাছে যাবে, কড়া নাড়বে মহান সাহিত্যের দরজায়। আশ্রয় চাইবে ক্লান্তি উপশম করা গানের কাছে। রবীন্দ্রনাথের সেইে অপূর্ব উচ্চারণটির কথা মনে করে দ্যাখো একবার―দিনের পথিক মনে রেখো আমি চলেছিলাম রাতে, সন্ধ্যাপ্রদীপ নিয়ে হাতে। আমার কী মনে হয় জানো, বিষাদ যাকে স্পর্শ করেছে এমন মনের সামনে রবীন্দ্রনাথের গান আজও প্রদীপশিখার মতোই অচঞ্চল। বহু যুগের ওপার থেকে আসা ডুয়ার্সের বর্ষা এই সব গূঢ় তত্ত্বকথা, অমোঘ জীবনদর্শন আমাদের শিখিয়ে দিয়ে যায়।

 স্লেট রঙা শিফন শাড়িতে নিজেকে মুড়ে রেখেছে আকাশ। বৃষ্টির বাজনা বাজছে বাইরে। মেদুর বিষণ্নতা চারিয়ে যাচ্ছে ডুয়ার্সের চরাচরজুড়ে। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে টুপটাপ। গাড়ির ছাদে খই ফোটার মিষ্টি শব্দ হচ্ছে। আলগোছে ফোনটা হাতে নিলাম। রণদীপকে হোয়াটসঅ্যাপ-এ অনলাইন দেখাচ্ছে। স্বস্তি পেলাম। এই নার্সিংহোমে আইসিইউ বা এইচডিইউ-তে পেশেন্টকে ফোন ব্যবহার করতে না দেওয়া হলেও জেনারেল বেডে তেমন নিয়ম নেই। রণদীপকে জেনারেল বেডে শিফট করেছে বোধ হয়। এলইডি স্ক্রিন দু’-এক ফোঁটা জলের মতো নিয়ন আলো জ্বেলে রেখেছে। কে জানে, আমার স্বামীটিও আমার নামের পাশে সবুজ আলো দেখছে কি না।

মোমপালিশ করা ধূসর সন্ধ্যা নামবে একটু পরেই। বর্ষাকালের আর্দ্র আবহাওয়ায় শুকোতে দেওয়া ভেজা কাঁথার মতো নিজেকে উল্টে পাল্টে দেকছি। রণদীপের সঙ্গে আমার যৌথজীবন শুরু হয়েছে বছর দুয়েক হলো। বিয়ের বছরখানেক যেতে না যেতেই ও বাচ্চা নেবার জন্য আবদার শুরু করেছিল। আমার তেমন ইচ্ছে ছিল না। অবশেষে ওর উপরোধে ঢেঁকি গিলতে গিয়ে দেখলাম কনসিভ করতে পারছি না। ডাক্তারের কাছে যাওয়া হলো। পরীক্ষা নিরীক্ষা হলো নানা রকম। ডাক্তার বললেন : দিদিভাইয়ের মতো আমার জরায়ুর মধ্যেও অনেক জটিলতা আছে। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মাতৃত্বের আশা ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

সেদিনের পর থেকে রণদীপ মনমরা হয়ে থাকে সর্বক্ষণ। আমাদের দাম্পত্য একটা ঝাঁকি খেয়েছে। কিন্তু আমি হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। দিদিভাইয়ের যেমন স্বভাব ছিল, আমার ধাঁচ তার উল্টো। স্বামী হোক কিংবা সন্তান, নিজের সর্বস্ব দিয়ে কাউকে আঁকড়ে ধরার কথা ভাবতে পারি না আমি। ছোটবেলায় দিদিভাইয়ের হাতে পড়ে হাঁসফাঁস করতাম। আমার শৈশব হয়তো আমাকে এমন করে তৈরি করে দিয়েছে। রণদীপ গোমড়া মুখে অনুযোগ করে, সংসার করাই উচিত হয়নি তোমার। ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট নয়, তোমার পছন্দ ডিটাচমেন্ট। বড় অদ্ভুত মেয়ে তুমি।

উইন্ডস্ক্রিনে বিন্দু বিন্দু জমে আছে জল। জল নয়, ফোঁটা ফোঁটা মনকেমন। একবার ভাবলাম রণকে কিছু লিখব। কিন্তু এখন আর মোবাইলে টাইপ করতে ইচ্ছে করছে না। কারও সঙ্গে ফোন করে কথা বলতেও মন চাইছে না। গাড়ি থামিয়ে উদাস চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে বসে আছে চন্দ্রাতপদা। হয়তো অকালে চলে যাওয়া একজন অতৃপ্ত মানুষের কথাই ভাবছে। আমরা দু’জন চুপটি করে বসে উইন্ডস্ক্রিনের ওপাশে ফুটে ওঠা ভেজা রোদের বিকেলটাকে দেখছি। আমি জানি, আমার বা রণদীপের মতো মনখারাপ টলটল করছে চন্দ্রাতপদারও মনের ঝিলে। 

সচিত্রকরণ : শতাব্দী জাহিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares