প্রবন্ধ : দীপু মাহমুদের সায়েন্স ফিকশন ভুবন : মোস্তফা কামাল

সায়েন্স ফিকশন লেখালেখি প্রসঙ্গে এক টিভি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে একজন লেখক বলেছিলেন, দেশে প্রতিনিয়ত এত ঘটনা ঘটছে, তা লিখেই কূল পাচ্ছি না! এরপর লেখক খানিকটা সময় নিলেন। তারপর বললেন, সত্যি কথা বলতে কী, লেখালেখির জন্য আমাকে গ্রহ-উপগ্রহে যেতে হয় না।

সায়েন্স ফিকশন নিয়ে কিছু মানুষের ভাবনা এমনই। অনেকে তো সায়েন্স ফিকশনকে সাহিত্যই মনে করেন না। অনেক বড় লেখকের মুখেও শুনেছি, তারা সাহিত্য-আড্ডায় প্রকাশ্যে বলে থাকেন, সায়েন্স ফিকশনের কোনো সাহিত্য মূল্য নেই। তারা মনে করেন, সায়েন্স ফিকশন হচ্ছে বিজ্ঞানের বই। এখানে কোনো গল্প নেই। সেই বিচারে তারা দেশের বড় কোন্ সায়েন্স ফিকশন লেখককে কথাসাহিত্যিকের কাতারেও ফেলতে চান না। অনেক প্রকাশকের মধ্যে সায়েন্স ফিকশন নিয়ে এক ধরনের অনীহা আছে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিপুলসংখ্যক বই বিক্রির কারণে এসব নেতিবাচক মন্তব্য কিংবা অন্য দৃষ্টিতে দেখার বিষয়টি হালে পানি পায়নি।

সায়েন্স ফিকশনকে ভালোবেসে অনেক লেখক বিগত দুই দশক ধরে নিয়মিত লিখছেন। কিছু পাঠকও তারা তৈরি করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। এই বার্তাটি হয়তো অনেকের কাছে পৌঁছেনি। পৌঁছুলেও অনেকে হয়তো এটা মেনে নিতে চান না, বা পারেন না।

আমরা যদি একটু অতীতের দিকে তাকাই তাহলে কী দেখতে পাই! উনিশ শতক থেকে বিশে^র বিভিন্ন দেশে সায়েন্স ফিকশন লেখালেখি হচ্ছে। জগত-বিখ্যাত লেখক জুল ভার্ন ১৮৬৩ সালে সায়েন্স ফিকশন ‘ফাইভ উইকস ইন অ্যা বেলুন’ লিখে সারাবিশে^ হইচই ফেলে দেন। ১৮৬৪ সালে তিনি আরেকটি সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থ ‘জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্য আর্থ’ লিখেছিলেন। যা ব্যাপকভাবে পাঠকদের নাড়া দেয়। এরপর তিনি একের পর এক সাড়া জাগানো সায়েন্স ফিকশন লিখেছিলেন।

বাংলা ভাষার লেখকেরাও কিন্তু পিছিয়ে ছিলেন না। ১৮৭৯ সালে প্রথম বাংলা ভাষায় সায়েন্স ফিকশন লিখেন জগদানন্দ রায়। তার বইয়ের নাম শুক্র ভ্রমণ। আমাদের দেশে হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের হাত ধরে সায়েন্স ফিকশনের যাত্রা শুরু হয়। এ কথা স্বীকার করতেই হবে, আমরা তাদের লেখালেখি পড়ে সায়েন্স ফিকশন লেখার ব্যাপারে আগ্রহী হয়েছি; উৎসাহ পেয়েছি।

বিগত দুই দশকে সায়েন্স ফিকশন লেখকের সংখ্যা বেড়েছে। অনেক লেখক এখন নিয়মিত কিংবা অনিয়মিতভাবে সায়েন্স ফিকশন লিখছেন। সায়েন্স ফিকশন লেখকদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনটি গত কয়েক বছর ধরে সায়েন্স ফিকশন সাহিত্য পুরস্কারও দিয়ে আসছে। সংগঠনটি সায়েন্স ফিকশনকে একটি আন্দোলনে পরিণত করেছে। তারপরও সায়েন্স ফিকশন সম্পর্কে মানুষের ধারণা খুবই নেতিবাচক। দেশের বেশকিছু তরুণ ছেলেমেয়ে বিদেশি সায়েন্স ফিকশন ছবি দেখেই মহাপণ্ডিত বনে যায়! তারা জাফর ইকবালের বইয়েরও ভুল খুঁজে বেড়ায়!

অনেকে ভাবে, সায়েন্স ফিকশন পড়ে কেউ বিজ্ঞানী হয়ে যাবে। তা না হলে সায়েন্স ফিকশন কেন?

এই প্রশ্নের জবাব কী ? সায়েন্স ফিকশন কি শুধুই বিজ্ঞানের বই ? এর কি কোনো সাহিত্য মূল্য নেই ? এ বিষয়ে সায়েন্স ফিকশন লেখকেরা কী বলেন ?  

বর্তমান সময়ে যারা সায়েন্স ফিকশন লিখছেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য দীপু মাহমুদ। তিনি ২০১৪ সাল থেকে সায়েন্স ফিকশন লিখছেন। ইতোমধ্যে তার ১৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা অনন্যা তাঁর দশটি সায়েন্স ফিকশন বই নিয়ে দুই খণ্ডে সমগ্র প্রকাশ করেছে। প্রথম খণ্ডে আছে, কিটি, রিকি, ঊনমানব, ইমি, ফোরফিফটিটুবি এবং জুনিয়র জোনস। দ্বিতীয় খণ্ডে আছে, ভবঘুরে মহাকাশচারী, ডোনা, ভূ এবং হিপোক্যাম্পাস। এ ছাড়া আছে দীপু মাহমুদের লেখা সায়েন্স ফিকশন হারাকিরি, শূন্য, এলিয়েন, ওয়াইমাতা, অ্যাকোয়া এবং নীলার রোবট বন্ধু।

সায়েন্স ফিকশন নিয়ে দীপু মাহমুদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তিনি অতি সহজ ভাষায় সায়েন্স ফিকশন লিখেছেন শিশুদের জন্য; একইভাবে কিশোর এবং তরুণদের জন্য। অবশ্য সেসব লেখা সব বয়সের সব পাঠকের জন্যই সুখপাঠ্য।

দীপু মাহমুদের বেশ কয়েকটি বই পড়ার সুযোগ আমার হয়েছে। তাঁর ভাষা সাবলীল। তাঁর গল্প বলার ধরন অন্যদের চেয়ে আলাদা। আমরা যেভাবে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলি সেভাবেই তিনি লেখেন। লেখায় কোনো জটিলতা নেই। কঠিন কঠিন শব্দ দিয়ে তিনি পাঠককে ভারাক্রান্ত করেন না। প্রতিটি বইয়ে তার কিছু মেসেইজ আছে। যা পাঠকদের অবশ্যই আকৃষ্ট করবে। 

দীপু মাহমুদ তাঁর সায়েন্স ফিকশন সম্পর্কে বইয়ের ভূমিকাতে যা লিখেছেন তা এখানে উল্লেখ করছি। তিনি লিখেছেন, আমি সায়েন্স ফিকশনকে শুধু বিজ্ঞাননির্ভর কাহিনি বানিয়ে লিখিনি। কাহিনির মূল সত্যনির্ভর করেছে বিজ্ঞানের ওপর। তবে কাহিনিতে এসেছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। কাহিনির ভেতর দিয়ে আমি বলেছি, মানুষ বাঁচবে সম্মান আর মর্যাদা নিয়ে। কাহিনিতে এসেছে সমাজ সচেতনতাবোধ, এ পৃথিবীর প্রতি, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ। এসব কাহিনি মানুষের, সর্বপ্রাণের। এখানে মানুষসহ সকল প্রাণী আর বৃক্ষরাজির কথা বলা হয়েছে। জয় করবে বলেই মানুষ জন্মেছে। হারবে বলে নয়। মানুষ কখনও হারতে বা হেরে যেতে পারে না। যদিও সে নিঃশেষ হয়ে যায়। যন্ত্রনির্ভর এই জীবন কখনও মানুষকে দোলাচলে ফেলে দেয়। বন্দি হয়ে পড়ে সে যন্ত্রের কাছে। যন্ত্র কখনও মানুষের আগামী হতে পারে না। রোবট নামের যন্ত্র কখনও মানুষের মুক্তি এনে দিতে পারে না। যা পারে তা হচ্ছে দাসত্ব। মানুষ হবে স্বাধীন, মুক্ত। আত্মনির্ভরশীল। আর তাই আমি চেয়েছি সায়েন্স ফিকশন হয়ে উঠুক মানুষের মুক্তির আখ্যান।

লেখক দীপু মাহমুদের সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। সায়েন্স ফিকশন মানেই শুধু বিজ্ঞাননির্ভর কাহিনি হবে এমনটি ভাবা ঠিক নয়। কাহিনির প্রয়োজনে বিজ্ঞানের ওপর ভর করেন লেখক। লেখকেরা ভবিষ্যৎ দেখতে পান।  গ্রহ-উপগ্রহে অভিযানের কাহিনি আগে লেখকের মাথা থেকেই এসেছিল। পরে আমরা তা সত্যে পরিণত হতে দেখেছি। চন্দ্র কিংবা মঙ্গলে অভিযানের কথা যখন পাঠক বইয়ে পড়েছে তখন তারা হয়তো ভেবেছে, এসব আজগুবি, গাজাখুরি গল্প।

আজকের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কম্পিউটার কিংবা মোবাইল আবিষ্কারের বিষয়গুলো কিন্তু সর্ব প্রথম সায়েন্স ফিকশন লেখকরাই লিখেছিলেন। এখন আধুনিক বিশে^র মানবজাতি তার সুবিধা পাচ্ছে। পঞ্চাশ বছর আগেও কি কেউ ভেবেছিল, মোবাইল নামের যন্ত্রটি বিশে^র সব শ্রেণির মানুষের হাতে হাতে থাকবে! বাস্তবে রূপ নেওয়ার পর আমরা একে বলছি বিজ্ঞান। আবিষ্কারের আগে এ বিষয়ে লেখক যখন লিখেছিলেন তখন ছিল কল্পবিজ্ঞান।

অদূর ভবিষ্যতে কম্পিউটার যে মানুষের ‘মাইন্ড রিড’ করতে পারবে; সেটাও সায়েন্স ফিকশন লেখকদের মাথায় প্রথম এসেছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন আমরা দেখব, লেখক কম্পিউটারের সামনে বসবেন আর তার ভাবনাগুলো কম্পিউটারে লেখা হয়ে যাবে।

দীপু মাহমুদ সায়েন্স ফিকশনকে প্রথমত গল্পে রূপ দিয়েছেন। বিজ্ঞান এসেছে কাহিনির প্রয়োজনে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটি দীপু মাহমুদের লেখা সায়েন্স ফিকশনে লক্ষ্য করা যায় তা হচ্ছে সমাজ সচেতনতাবোধ। যা তাঁকে অন্যান্য সায়েন্স ফিকশন লেখকদের থেকে একেবারে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। তিনি সায়েন্স ফিকশনে গল্প ও বিজ্ঞানের সঙ্গে সুন্দরভাবে সামাজিক দায়িত্বের ব্যাপাারটি মিশিয়েছেন। যেখানে তিনি হয়ে উঠেছেন অনন্য।

দীপু মাহমুদ তার ভূ উপন্যাসে লিখেছেন, ‘ডিডি বলল, মহাকাশযান মাইগ্রেট পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছুটে যাবে। পৃথিবীতে আমরা কেউ বাঁচব না।

 সেই রোবট বিচ্ছিরিভাবে হাসছে। তার হাসিতে যান্ত্রিক শব্দ হচ্ছে। সে খটখট করে হাসতে হাসতে বলল, আমার ধারণা মহাকাশযানের কেউ বাঁচবে না। আমরা বেঁচে থাকব।

ডিডি জিজ্ঞেস করল, তোমার এই ধারণা কেমন করে হলো ?

মহাকাশযানের ওজন আর সত্তর কোটি মানুষের ওজন যোগ করো। তা ছাড়া ছুটে যাওয়ার সময় মহাকাশযানের ত্বরণ দাঁড়াবে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণের ৫০ গুণ। সেই হিসাব তারা করেনি। মাইগ্রেটের ভেতরের সব মানুষ পিষ্ট হয়ে দলা পাকিয়ে যাবে।

কথা শেষ করে সেই রোবট যান্ত্রিক গলায় আবার হা হা করে হাসতে শুরু করল। ডিডি বলল, আমি মানুষ বাঁচাতে চাই।

রোবট বলল, কোন মানুষ ? সুবিধাবাদী কয়েকজন মানুষ যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে তাদের ?

ডিডি বলল, সুবিধাবঞ্চিত যারা পৃথিবীতে আছে তাদের কথা ভাব।

তুমি এখন কী করতে চাও ?

রোবটদের নিউরাল সিস্টেম ডিকোডিং করে দেব। তারা যাতে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে। পৃথিবীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ শহরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। তারা দলে দলে ঢুকে পড়বে এই শহরে। তোমার কথামতো ওই সুবিধাবাদী মানুষদের এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে বাধা দেবে।

ডিডি ঘাড় ঘুরিয়ে আইটুর দিকে তাকাল। তার মনোভাব বোঝা দরকার। আইটুর চোখ চকচক করছে।

সেই রোবট বলল, তুমি এই ঘটনা ঘটাতে পার না। এটা প্রতিরক্ষা কাজের নীতিবিরুদ্ধ।’

দীপু মাহমুদের হিপোক্যাম্পাস উপন্যাসে আমরা এক প্রবল মানবিক সত্তার প্রচণ্ড সত্য আবিষ্কার করি। তিনি লিখেছেন, ‘খালেকুজ্জামানের হতভম্ব ভাব কাটছে না। তিনি জটিল ধাঁধার ভেতর পড়ে গেছেন। কঠিন এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ভালোবাসা তাহলে কী ? কোন আচরণ তবে ভালোবাসা ? আসিফের দায়িত্ববোধ প্রবল। হিপোক্যাম্পাসে এষার প্রতি তার দায়িত্বশীল আচরণ দেওয়া হয়েছে। অতি উচ্চ মাত্রার দায়িত্বশীলতা।

আসিফ এষার প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করছে। এষাকে সবসময় নজরে রাখছে। তার যেন কোনো ক্ষতি হতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখছে। এষার কখন কি দরকার তা সে বুঝতে পারছে। এটা কি তবে ভালোবাসা না!

ভালোবাসা তবে অন্যকিছু! তীব্র আকর্ষণ, নিজের ভেতর থেকে একান্তভাবে টান অনুভব করা!

খালেকুজ্জামান যারপরনাই অস্থির হয়েছেন। তাকে যথেষ্ট অশান্ত দেখাচ্ছে। তিনি ঘন ঘন মাথা নাড়াচ্ছেন। আশা করেছিলেন আসিফের ব্রেইনে দ্বিতীয়বারের অপারেশনের পর ঘটনার পরিবর্তন হবে। সেখানে আর্টিফিশিয়াল মেমোরি সেল লাগানো হয়েছে। তাতে অন্যের প্রতি স্নেহ ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া, প্রবল দায়িত্বশীল হওয়া, তার কাজগুলো গুছিয়ে করে দেওয়ার মতো আচরণ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এষার প্রতি।

এষার কথা ভাবার সময় বা আসিফ যখন এষার সঙ্গে থাকে তখন তার হিপোক্যাম্পাসের প্লেস সেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেখান থেকে ইলেকট্রোড দিয়ে কম্পিউটার মনিটরে ব্রেইন যে সিগন্যাল পাঠাচ্ছে তা চারকোণা বাক্সের মতো বর্গাকার প্যাটার্ন। সেই প্যাটার্ন হওয়ার কথা ঢেউ খেলানো বৃত্তাকার। যা তিনি পেয়েছেন কয়েকজন মানুষের হিপোক্যাম্পাসের প্লেস সেলে ভালোবাসার অভিজ্ঞতার স্মৃতির সিগন্যাল থেকে। চারকোণা প্যাটার্ন হচ্ছে নিরেট দায়িত্ব পালন।

খালেকুজ্জামান অনিশ্চিতভাবে জোরে জোরে ঝাঁকাচ্ছেন। তিনি ভাবছেন, তাহলে কি আসিফের হিপোক্যাম্পাসে এষার জন্য যে ভালোবাসা দেওয়া হয়েছে তা কেবল ছকে বাঁধা নিয়ন্ত্রিত দায়িত্ব পালন করে যাওয়া! তার একান্তের অনুভব নয়! সেটাকে তাহলে ভালোবাসা বলা যায় না।

খালেকুজ্জামান স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন, কৃত্রিমভাবে মানুষের ব্রেইনে কিছু স্মৃতি বা অভিজ্ঞতা স্থাপন করা যায়, ভালোবাসা নয়।

তিনি আর এষার বিছানার পাশে দাঁড়ালেন না। মাথা নিচু করে ধীর পায়ে ঘর থেকে বের হয়ে এলেন।’

আমি নিজে সায়েন্স ফিকশন লেখক ও পাঠক হিসেবে সব সময়ই কিশোর তরুণদের উৎসাহ দিই। সায়েন্স ফিকশন আগামীর পথ দেখায়। সায়েন্স ফিকশন পাঠ জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। চিন্তার শক্তি বিকশিত হয়। মনোজগৎকে সৃষ্টিশীল করে তোলে। বিজ্ঞানমনস্ক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জাতি গঠনে সহায়তা করে।

আমি মনে করি, সায়েন্স ফিকশনের ব্যাপারে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। যারা বলছেন, এর কোনো সাহিত্য মূল নেই; তারা কী কারণে বলছেন তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। আবার যারা একে শুধু বিজ্ঞানের বই বলে মনে করছেন তাদের মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার। 

আমি সায়েন্স ফিকশন সাহিত্যের প্রচার ও প্রসার কামনা করছি। দীপু মাহমুদের লেখা সায়েন্স ফিকশন আমাদের নতুন দিনের পথ দেখাচ্ছে। আমরা চোখ মেলে আলোকিত সেই পথ দেখি।

 লেখক : কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares