ত্রিশ লাখ শহিদ-পরিবার : উনপঞ্চাশ বছরের জীবনসংগ্রাম : রেহানা পারভীন

প্রচ্ছদ রচনা : ৫০তম বিজয় দিবস ২০২০

বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ গৌরবোজ্জ্বল পঞ্চাশের দ্বারপ্রান্তে। অথচ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে স্বাধীনতাবিরোধীরা বিশ্বব্যাপী প্রচার করেছিল যে এ দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং এ স্বাধীনতার বিলুপ্তি কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। পঞ্চাশ বছরের প্রতিকূলতা কাটিয়ে আজ বাংলাদেশ এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার দেশ।

অর্ধশতাব্দীতে আমাদের অর্জন যেমন আছে তেমনি কিছু লক্ষ্য অনর্জিত রয়ে গেছে। আজও সমাজে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সুশীল সমাজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সমাজে প্রগতিশীলতা, উদারতা তথা বাঙালি সংস্কৃতির বিস্তারের বিপরীতে এক অদ্ভুত মনোবৃত্তি গড়ে উঠছে। বিগত সময়কালে দেখা গেছে সমাজের একশ্রেণি অনেকাংশে শেকড়বিহীন। তাদের অর্থনৈতিক শ্রেণি ভিন্ন, কিন্তু সমাজ-মানসিকতা অভিন্ন পথে ধাবিত হচ্ছে। এ শ্রেণিটি সহজে জঙ্গিবাদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে এবং একই পথ অনুসরণ করছে। বাংলাদেশের সমাজে এদের  সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

সমাজের বিভিন্ন অর্থনৈতিক শ্রেণিতে অবস্থানরত যে অংশটিকে শেকড়বিহীন বলে অভিহিত করেছি এবার তার সংক্ষিপ্ত পটভূমি প্রদান জরুরি। আবহমানকাল ধরে বাংলা উদার সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করছে। এ অঞ্চলে আর্যীকরণের পূর্ব থেকে যে স্থানীয় সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল আর্যায়নের পরবর্তীকালেও বাংলা নিজস্ব অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দেয়নি। কিন্তু সর্বদাই নতুনকে গ্রহণ করেছে। আর এটাই বাংলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ঐতিহাসিক ব্যারি এম. মরিসন এ বৈশিষ্ট্যকে ‘বৈতসী’ শব্দবন্ধ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। বেত লতা যেমন ঝড়ঝঞ্ঝায় নুয়ে পড়ে এবং অন্তর্নিহিত প্রাণশক্তি নিয়ে আবার উঠে দাঁড়ায়; বাঙালিও ঐতিহাসিককাল থেকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।

এই যে নতুনকে গ্রহণ করার বাংলার অপার ক্ষমতা তার ফল বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। এ বৈচিত্র্য বাংলাকে করেছে নমনীয় এবং কোমল কিন্তু বিদ্রোহী। এই আপাত বিপরীত বৈশিষ্ট্য বাংলা অর্জন করেছে হাজার বছরের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে।

তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের অর্জিত সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিদ্যমান থাকতে বাঙালি মৌলবাদের ভয়ে ভীত হওয়ার কোনো কারণ আছে কি? এ প্রশ্নের জবাব জড়িয়ে আছে বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে। বাঙালির উদারতার সঙ্গে বিদ্রোহের যে আপাত বিপরীত বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে তা মূলত বাংলার, বাঙালির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চেতনা এবং এর বহিঃপ্রকাশ স্বাধীন স্বতন্ত্র অস্তিত্বের প্রতি অনুরাগ অর্থাৎ বিদ্রোহ।

হাজার বছরের বিদ্রোহী ঐতিহ্যের পরিণতি বাঙালির স্বাধীনতার যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালিকে তার কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল, তবে এর সঙ্গে বাংলাদেশে কিছু মৌলিক সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। যদিও সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তিযুদ্ধকালীন সৃষ্ট নয়। এর শেকড় খুঁজতে হবে কিছুটা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ‘ভাগ কর শাসন কর’ নীতিতে এবং এ নীতির ফলে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের ‘কৃত্রিম সাংস্কৃতিক’ নানা উদ্যোগের মাঝে।

ব্রিটিশ শাসনে বৈষম্যমূলক নীতির ফলে এ অঞ্চলের উদার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে যে অপছায়ার সৃষ্টি হয় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় তার বিস্তার ঘটে। বাঙালি সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যে অংশটি ব্রিটিশ এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তানের এই প্রণোদনার ফলভোগী ছিল মুক্তিযুদ্ধের আগে তারা বাঙালি সমাজে সমান্তরালে অবস্থান করলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় তাতে দৃশ্যমান ভেদরেখার সৃষ্টি হয়। বাঙালি-বাংলাদেশ-মুক্তিযুদ্ধ এ শ্রেণির মানসজগতে ছিল না। তার পরিবর্তে কাল্পনিক পাকিস্তান এবং ধর্মাশ্রয়ী সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে এ শ্রেণিটি স্বাধীনতার পরে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা উপায়ে নিজেদের সংস্থান করে নিলেও মানসজগতে তারা উদ্বাস্তু। এ আপাত শেকড়হীন শ্রেণিটি নিজেদের ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় স্বাধীনতাবিরোধীদের টার্গেট শ্রেণিতে পরিণত আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের একটি অংশ মৌলবাদের অঙ্গীভূত। তবে আশঙ্কার বিষয় এই যে শ্রেণিটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ বাঙালি সমাজের অনেক অংশকে তাদের দারিদ্র্য ও নানাবিধ নিরাপত্তাজনিত ইস্যুতে নিজেদের শ্রেণিভুক্ত  করে চলেছে। ফলে বাঙালি সমাজে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, দেখা দিচ্ছে নানা অস্থিরতার।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। আমাদের সামনে একটি বড় পথ খোলা রয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে রয়েছে এই সম্ভাবনার বীজ। একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা সার্বিক বিবেচনায় সাধারণ জনগণের অন্তর্ভুক্ত হয়েও বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এঁদের সংখ্যা ত্রিশ লাখ পরিবার।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি জনযুদ্ধ। দেখতে দেখতে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। এ মাহেন্দ্রক্ষণে যেসব প্রশ্ন জাতীয় জীবনে প্রাসঙ্গিক হয়ে দেখা দেবে তার মধ্যে অন্যতমমুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি এদেশে কতটা প্রতিষ্ঠিত। এ প্রশ্নের জবাব কতগুলো সূচকের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যেতে পারে। প্রথম সূচকটি ধরা যাকযাঁরা মুক্তিযুদ্ধের নিয়ামক শক্তি তাঁদের বর্তমান অবস্থান ও কার্যক্রম। নিয়ামক শক্তি কারা- মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বুদ্ধিজীবী, সম্মুখযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ বুদ্ধিজীবী প্রমুখ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রত্যয়সমূহকে নানাভাবে সীমিত পরিসরে হলেও উপস্থিত দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই যদিও তা দিবসকেন্দ্রিক সংযুক্ততা তবুও তা ইতিহাসের অন্তরালে হারিয়ে যায়নি।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এক বিরাট নিয়ামক শক্তি রয়েছে যারা অদ্যাবধি মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতির পরিমণ্ডলের বাইরে রয়ে গেছে। এরা মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহিদের পরিবার-পরিজন এবং এরাই মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ামক শক্তি। মুক্তিযুদ্ধকে পৃষ্ঠপোষকতা তথা সহযোগিতার জন্য একাত্তরে এদের চরম মূল্য দিতে হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলকে সহযোগিতার জন্য অথবা একজন গেরিলাকে আশ্রয় দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত হয়েছিল এক একটি গণহত্যা। এই গণহত্যার শিকার কারা? তাদের বর্তমান অবস্থান কী?

বিগত পাঁচ দশকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা-গবেষণায় সবচেয়ে কম আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশের গ্রাম-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে থাকা এসব শহিদ- পরিবার। অথচ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা সংঘটিত হয়নি। গণহত্যার ফলে লাখ লাখ পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে, শিশুরা হয়েছে পিতৃ-মাতৃহারা।

গণহত্যা জাদুঘর পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মাঠপর্যায়ে গবেষণা দেখা গেছে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে একাধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। তাতে বোঝা যায় প্রায় প্রতিটি গ্রামে রয়েছে এমন অনেক শহিদ পরিবার। দু-একটি উদাহরণ দিলে এসব শহিদ-পরিবারকে শনাক্ত করা আরও সহজ হবে। যেমন জয়পুরহাট জেলার গণহত্যা জরিপবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে এখন পর্যন্ত শনাক্ত গণহত্যার স্থল সত্তরটিরও বেশি। এ জেলার সদর উপজেলার গুলশান মোড়ে সিমেন্ট ফ্যাক্টরির গণহত্যার তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে গত ১০ নভেম্বর ২০১৯, কথা হয় শফিক নামক এক যুবকের সঙ্গে যার পিতা উক্ত গণহত্যায় শহিদ। শফিক জানায় কেবল সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ১নং গেট গণহত্যার শিকার ২২টি পরিবার তার পরিচিত। কয়েকদিনের মধ্যেই শফিক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি গণহত্যার শহিদদের পরিবারগুলোকে একত্রিত করে। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল সকালবেলা এ স্থানে গণহত্যা সংঘটিত হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এই প্রথম শহিদের সন্তান বলে কেউ তাঁদের কথা শুনতে এসেছে। তাঁরা উদ্গ্রীব, অনেক কিছু বলার আছে তাঁদের। একাত্তরের স্মৃতি তাদের হৃদয়ে এখনও জ¦লজ¦ল করছে। সরল ভাষায় তারা জানে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে তাদের স্বজন। তাদের পিতাদের যখন হত্যা করা হয় তারা তখন এক, দুই আবার কেউ কেউ আট-দশ বছরের বালক-বালিকা। হৃদয়বিদারক বঞ্চনার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে এসব শহিদ সন্তানেরা। সিমেন্ট ফ্যাক্টরির পাশর্^বর্তী গাড়িয়াকান্ত গ্রামে গণহত্যা সংঘটিত হয়। সেখানে রয়েছে এগারোটি শহিদ পরিবার। তার ঠিক পাশেই বুলুপাড়া গ্রাম, সেখানে গণহত্যার শিকার পরিবারের সংখ্যা তেরো। তিনটি গণহত্যা একই দিনে সংঘটিত হয়। এটি একটি ছোট উদাহরণ মাত্র। সমগ্র বাংলাদেশে এমন অগণিত শহিদ-পরিবার রয়েছে। এভাবে শহিদ পরিবারের সংখ্যা দিয়ে যদি বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করা যায় তবে তা কেমন দেখতে হবে, একটু কল্পনা করা যাক।

এসব শহিদ-পরিবারের পঞ্চাশ বছরের জীবনসংগ্রাম বর্ণনাতীত। বুলুপাড়া গণহত্যায় শহিদ অইরদ্দিন মণ্ডলের স্ত্রী দুই শিশু কন্যাকে ভিক্ষাবৃত্তি করে প্রতিপালন করেন। বর্তমানে তিনি অচল। শহিদের সন্তানেরা দিনমজুর, শ্রমিকের কাজ করে জীবন ধারণ করছেন। তবু তারা শহিদ সন্তান হিসেবে গর্ববোধ করেন। বুলুপাড়া গণহত্যায় শহিদ আবদুল সাত্তার মণ্ডলের পুত্র আবদুল ওহাব মণ্ডল সদরের বাজারে কাপড়ের দোকানে সাধারণ কর্মচারীর কাজ করেন। তিনি নিজ উদ্যোগে বুলুপাড়া গণহত্যার শহিদের তালিকা করেছেন। এটি একটি উদাহরণ মাত্র। গণহত্যা জাদুঘরের জেলাজরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার ফলে এমন হাজার হাজার উদাহরণ গ্রন্থবদ্ধ হয়েছে যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এই দিকটিকে ক্রমশ আলোকিত করছে।    

শুধু পাকিস্তানিদের বিতাড়িত করতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের লড়াই, ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতির বিরুদ্ধে উদার চেতনার লড়াই মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা ত্রিশ লাখ। জাতীয় রাজনীতিতে এ সংখ্যার গুরুত্ব যেমন তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এই শহিদ সন্তানেরা। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পরিসরে দেশগড়ার কর্মযজ্ঞে এ শহিদ স্বজনদের নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি থেকে এই শহিদ সন্তানেরা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ইতিহাসকে এর মূল্য দিতে হবে।

শহিদ সন্তানদের মন-মনন সাধারণের চেয়ে ভিন্ন। তাদের জীবনের অন্যতম দর্শন এই যে, তাদের পিতা-মাতা-স্বজনেরা দেশের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছেন। এই মূল্যবোধ থেকে জীবনচর্যার প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা স্বাদেশিকতার প্রকাশ ঘটান তা জাতীয় পর্যায়ে শহিদ বুদ্ধিজীবীর সন্তানদের ক্ষেত্রে যেমন তেমনি বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের শহিদ কৃষক-মজুরের সন্তানদের মাঝে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ আমার হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক যেকোনো কাজে তাদের সহযোগিতা ছিল সকল স্বার্থের ঊর্ধেŸ। অথচ ত্রিশ লাখ শহিদের সন্তানরা আজও ইতিহাসে কোনো স্বীকৃতি লাভ করেনি।

পরিশেষে বলা যায় জাতীয় ইতিহাসে শহিদের যে চর্চা তাতে ত্রিশ লাখ শহিদ প্রত্যয়টির অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। এদেশের আবহমান উদার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লালন করতে হলে, টিকিয়ে রাখতে হলে অচিরেই তাদের যুক্ত করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতিতে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে তৃণমূলের জনচেতনায় মুক্তিযুদ্ধকে সক্রিয় করে তোলার সকল সম্ভাবনা এখনও বিনষ্ট হয়ে যায়নি, এটাই আশার কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares