রশীদ ভাই : শেষ ‘জীবিত শহিদ বুদ্ধিজীবী’ : ফরিদুর রহমান

শোকাঞ্জলি : রশীদ হায়দার

রশীদ ভাইয়ের সাথে চল্লিশ বছরের বেশি সময়ের সম্পর্ক নীরবে নিঃশব্দে শেষ হয়ে গেল। বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক থাকাকালীন পরিচয় রশীদ হায়দারের সাথে আর বাংলাদেশ টেলিভিশনে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠানমালার ভেতর দিয়ে সেই পরিচয় নিবিড় হতে বেশি সময় লাগেনি।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে কোনো অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়নি। জাতীয় জীবনের এমন একটি তাৎপর্যপূর্ণ শোকাবহ দিনে জাতীয় গণমাধ্যমে অন্তত একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হওয়া উচিত, এই চিন্তা থেকে ১৯৮৮ সালের শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তাব যখন জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা কামাল সৈয়দের কাছে উপস্থাপন করা হলো, তখন তিনি একটু বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই অনুষ্ঠানটা কি তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুষ্ঠানের তালিকায় আছে?’

তখন পরিস্থিতিটাই এমন করে রাখা হয়েছিল যে স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কথা বলাটাও যেন স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সতেরো বছরের মধ্যেই স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যে আমরা ভুলে যাইনি এবং কখনওই ভুলে যাওয়া যায় না এ কথা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা কোনো বিতর্কে জড়াতে চাইনি, চেয়েছিলাম অনুষ্ঠানটা শুরু হোক।

রশীদ ভাইয়ের সাথে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পরে আবার এলাম জেনারেল ম্যানেজারের দপ্তরে। জিজ্ঞেস করলেন, ‘অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন কে?’

বললাম, ‘বাংলা একাডেমির রশীদ হায়দার। শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থের সম্পাদক।’ এরপর আর কোনো আপত্তির কথা শোনা গেল না।’

অনুষ্ঠানটির আয়োজন আমরা খুব সাদামাটাভাবে করেছিলাম। স্টুডিওতে ঢাকার কয়েকজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নিকটজন তাঁদের বাবা, ভাই, বা স্বামীর স্মৃতিচারণ করেছেন আর বলেছেন স্বাধীন বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁদের স্বপ্নের কথা। অনুষ্ঠানে আমরা একটা গান ব্যবহার করেছিলাম। কবি শামসুর রাহমানের লেখা ‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায় তেমন যোগ্য সমাধি কই…’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন সুবীর নন্দী। রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পরিত্যক্ত ইটের ভাটায় অগণিত শহীদ বুদ্ধিজীবীর হাত-পা বাঁধা, কারও চোখ বাঁধা মৃতদেহ এবং অনেক ক্ষেত্রেই শনাক্ত করা অসম্ভব অসংখ্য লাশের যে দৃশ্য বিটিভি’র প্রধান বার্তা সম্পাদক প্রয়াত হুমায়ূন চৌধুরী ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ১৬ মিলিমিটার সাদাকালো ফিল্মে ধারণ করে এনেছিলেন সেই দৃশ্যের নেপথ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল এই গান।

অনুষ্ঠানটি সাধারণ হলেও প্রচারিত হবার পরে দর্শক, বিশেষ করে শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও ঢাকার বুদ্ধিজীবী মহলে অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গিয়েছিল। যে সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে পাকিস্তানি সেনা বাহিনীকে হানাদার বাহিনী বলে উল্লেখ করা হতো এবং রাজাকার, আল বদর, আল শামস উচ্চারণ করা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, সে সময় রশীদ হায়দার তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে ‘পাকিস্তানি সেনা বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর ঘৃণ্য ঘাতক রাজাকার আল বদর’ শব্দগুলো এবং বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কথা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তুলে ধরেছিলেন।

পরপর তিন বছর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠান প্রচারের ফলে যে ধারাবাহিকতার সূচনা হয়েছিল তা দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করার পাশাপাশি শহিদ পরিবারগুলোর জন্য প্রতীক্ষার বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। বলা নিষ্প্রয়োজন দেশব্যাপী শহিদ পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা থেকে শুরু করে অনুষ্ঠানের পটভূমি, প্রত্যেকের বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, এই সব কিছুই একা রশীদ ভাই সামলাতেন।

১৯৯১ সালে আমরা প্রথমবারের মতো স্টুডিওর বাইরে ক্যামেরা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম শহিদ শহীদুল্লাহ কায়সার ও জহির রায়হানের নিমতলির সাপ মন্দির রোডে এবং শহিদ মুনির চৌধুরীর সেন্ট্রাল রোডের বাসায়। পুত্রশোকে বাকরুদ্ধ এইসব বৃদ্ধ মায়ের মর্মবেদনার কথা রেকর্ড করাও আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে স্বৈরাচারকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে আমরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছিলাম। কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠিত সত্যের মতো শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাৎসরিক নিয়মিত অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। রশীদ ভাই শহিদ পরিবারের কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করার পর আমরা অনুষ্ঠান চূড়ান্ত করেছি। খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সরকারের দুই বছর পূর্ণ হতে তখনও দু মাস বাকি। আমাদেরও তখন পর্যন্ত অনেক কিছু জানার এবং বোঝার বাকি ছিল। ১৯৯২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেলের মধ্যে অনুষ্ঠানের সম্পাদনা শেষ করে উপস্থাপন বিভাগে ক্যাসেট জমা দিয়ে একটু তাড়াতাড়িই বাসায় ফিরে এসেছিলাম। রাত সাড়ে দশটার ইংরেজি সংবাদের পর অনুষ্ঠান প্রচার হবার কথা।

সন্ধ্যার ঠিক পরপরই আমার বাসার সামনে টেলিভিশনের একটি মাইক্রোবাস এসে হাজির। গাড়িতে বসে আছেন স্বয়ং অনুষ্ঠান অধ্যক্ষ জিয়া আনসারী। তিনি জানালেন অনুষ্ঠানটি পুনঃসম্পাদনা না করে প্রচার করা যাবে না। আমি বুঝতে চেষ্টা করছিলাম সমস্যাটা কোথায়। নব্বই দশকের শেষতক আমাদের প্রজন্মের প্রযোজকদের অনুষ্ঠান প্রচারের পূর্বে প্রায় কখনওই প্রিভিউ করা হতো না। নিজস্ব পেশাদারিত্ব এবং বিবেচনা বোধই তাকে জানিয়ে দিত একটি অনুষ্ঠানে কতটুকু প্রচার করা যাবে অথবা যাবে না।

আমি জিয়া ভাইকে বললাম, ‘গোলাম আযম কিংবা মতিউর রহমান নিজামির ছবি ব্যবহার করা যাবে না সেটা আমি নিজেও জানি। কিন্তু মওলানা মান্নানের ছবি নিয়ে তো কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’ ‘খুনি মান্নানকে ধরিয়ে দিন’ শিরোনামে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত মওলানা মান্নানের ছবির ঝকঝকে ফটোকপিটি দিয়েছিলেন শহিদ ডাক্তার আলিম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলি নাসরিন চৌধুরী। প্রাসঙ্গিক হলেও সেই ছবিটি এবং কিছু কথা অনুষ্ঠান থেকে সেদিন বাদ দিতে হয়েছিল।

১৯৯৩ সালে বাসায় টেলিফোন সংযোগ স্থাপিত হবার পর প্রতি বছরই ১৪ ডিসেম্বর রাতে অনুষ্ঠান প্রচারিত হলে পরিচিত অপরিচিত অনেক দর্শকই টেলিফোনে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহীদ পরিবারের স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব এবং মুক্তিযুদ্ধে আমার সহযোদ্ধাদের অনেকেই তাঁদের মতামত জানিয়ে উৎসাহিত করেছেন। তবে এর পাশাপাশি টেলিফোনে হুমকি ধমকি এবং অকথ্য গালাগালও কম শুনতে হয়নি।

তিরানব্বইয়ের ডিসেম্বরের শেষ দিকে রশীদ ভাইয়ের সাথে দেখা হলে বলেছিলেন, ‘ফরিদ গতকাল আমি একটা প্রেমপত্র পেয়েছি।’ বললাম, ‘রশীদ ভাই, প্রেমপত্র আপনি একা পাবেন কেন, আমিও পেয়েছি। টেলিফোনে হুমকি ছাড়াও দুবার আমরা দুজনেই পোস্ট কার্ডে লেখা দুটি চিঠি পেয়েছিলাম। চিঠিতে লেখা ছিল পরবর্তী ১৪ ডিসেম্বরের আগেই ফরিদুর রহমান এবং রশীদ হায়দারের নাম শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকায় স্থান পাবে। রশীদ ভাই মজা করে বলেছিলেন, ‘একাত্তরে তো বুদ্ধিজীবী হতে পারিনি, এবারে নব্য রাজাকারদের হাতে খুন হয়ে যদি তালিকায় নাম ওঠে তাহলে মন্দ কি!’ রশীদ ভাই রসিকতা করে নিজের পরিচয় দিতেন, ‘বাংলাদেশের একমাত্র জীবিত শহিদ বুদ্ধিজীবী’ বলে।

১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত একনাগাড়ে দশ বছর রশীদ ভাই এই অনুষ্ঠান উপস্থাপনার এবং আমি প্রযোজনার দায়িত্ব পালন করেছি। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেছেন শহিদ ডাক্তার আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শহিদ সিরাজউদ্দিন হোসেনের পুত্র জাহিদ রেজা নূর, শহিদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের নাতনি এ্যারোমা দত্ত, শহিদ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহর পুত্র সাদি মোহাম্মদ তকিউল্লাহ, শহিদ মুনির চৌধুরীর পুত্র আসিফ মুনির, শহিদ শহীদুল্লাহ কায়সারের কন্যা শমী কায়সার, শহিদ রশীদুল হাসানের কন্যা রোকাইয়া হাসিনা নিলি, প্রজন্ম একাত্তরের সাঈদুর রহমান, শহিদ মামুন মাহমুদের কন্যা জেবা মাহমুদ, শহিদ কাজী আজিজুল ইসলামের কন্যা ফাহমিদা ইসলাম রুমা, শহিদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর পুত্র, শহিদ আনোয়ারুল আজিমের স্ত্রীসহ আরও অনেকে। ঢাকার বাইরে থেকেও অনেক শহিদ শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আইনজীবী পরিবারের স্বজনরা আমাদের আমন্ত্রণে সাগ্রহে এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

শহিদ পরিবারের সদস্যগণ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে শিল্পী-সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই এই অনুষ্ঠানে এসে দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। এই সকল আয়োজনের প্রাণপুরুষ ছিলেন রশীদ হায়দার। তবে ১৯৯৯ সালে সে সময়ের তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে ২০০০ সাল থেকে রশীদ ভাই অনুষ্ঠানের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। আমি নিজেও অনুষ্ঠান প্রযোজনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলাম।

২০১৮ সালে একটি ডকুমেন্টারি ওয়ার্কশপের চূড়ান্ত প্রযোজনা হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিল। রশীদ ভাইয়ের সাক্ষাৎকার ধারণের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সাথে সেটি ছিল আমার শেষ কাজ। এই প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শনের সময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন আমলা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘এই লোক তো সব জায়গায় রাজাকার আল-বদরদের গালি দিয়ে একই কথা বলেন। একে নিয়েছেন কেন?’ আমি বিনয়ের সাথে বললাম, ‘শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য ইনিই একমাত্র অথরিটি।’ তবে আমার আসলে বলতে ইচ্ছে হয়েছিল, ‘আপনাদের মতো ছুপা রাজাকার যতদিন বেঁচে আছে, ততদিন রশীদ হায়দারকে কথা বলতেই হবে।’ বড় অসময়ে চলে গেলেন রশীদ ভাই, দেশে কিন্তু ছুপা রাজাকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

গত অক্টোবরে মিন্টো রোড়ের বাসায় শেষবার দেখা হয়েছিল। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও তখনও কথাবার্তায় হাস্যরসের কমতি ছিল না। আমার কন্যার কথা জিজ্ঞেস করে বললেন, ‘মেয়েকে যে পাবনায় বিয়ে দিলে খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছো, জামাইয়ের মাথায় কোনো সমস্যা নাই তো?’ আমি বললাম, ‘আপনি নিজেও তো সেই পাবনা থেকেই এসেছেন। আপনার মাথা ঠিক আছে তো?’ রশীদ ভাই উত্তর দিলেন, ‘আমি তো জন্মসূত্রে পাবনার মানুষ, ইচ্ছা থাকলেও অন্য পরিচয় দেওয়ার উপায় নাই। কিন্তু তুমি জেনে শুনে পাবনা গেলে কেন?’

করোনার কারণে গৃহবন্দি হয়ে না পড়লে রশীদ ভাইয়ের সাথে নিশ্চয়ই আবারও দেখা হতো। রশীদ ভাইয়ের সাথে আর কখনও দেখা হবে না। তাঁর মতো গভীর মমতার সাথে, আন্তরিকভাবে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের নাম আর কেউ উচ্চারণ করবে না, তাঁর মতো করে আর কেউ কখনও প্রবল ঘৃণা এবং দৃঢ়তার সাথে আল বদর, আল শামস যুদ্ধাপরাধীদের সমূলে উপড়ে ফেলার দাবি জানাবে না। কিন্তু ইতিহাসের যে অবিস্মরণীয় অধ্যায় তিনি রচনা এবং সম্পাদনা করে গেছেন তার মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares