সমকালীন জীবনের নানা সংকট : রূপায়ণকে অধিক প্রশ্রয় দিয়েছি : আবুল হাসনাত

আবার পড়ি : আবুল হাসনাতের প্রবন্ধ

১৯৬৫ সালের জানুয়ারি মাসে আমি সংবাদের বার্তা বিভাগে শিক্ষানবিশ সহসম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করি। একই দিনে আরও তিনজন সংবাদে যোগ দেন। পরবর্তীকালে একজন আলোকচিত্রী ও অন্য একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক হন।

দুমাস বাদে নিয়োগ পেয়েছিলাম। শহীদুল্লা কায়সার-স্বাক্ষরিত সেই নিয়োগ আমার জীবনে অম্লান হয়ে আছে। সেই যে শুরু হয়েছিল সাংবাদিক জীবন, আজও তা অব্যাহত আছে। পেছন ফিরে তাকালে কতজনের কথাই না মনে পড়ে। রনেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, শহীদুল্লা কায়সার, এ টি এম শামসুদ্দীন, সন্তোষ গুপ্ত, কামাল লোহানী এবং গোলাম সারওয়ার। আমার পেশাগত জীবনে সহকর্মী ছিলেন তাঁরা। আজ একথা ভাবলে বহু স্মৃতি হৃদয় ও মনকে কাতর করে। স্মৃতির এই কাতরতার সঙ্গে কত না ঘটনাপ্রবাহ হৃদয়কে উদ্বেল ও আপ্লুত করে। ষাটের দশকের এই সময়ে সংবাদপত্র ছিল পাকিস্তানি মিলিটারি শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট ও বিপর্যস্ত। পথযাত্রা ছিল নানাভাবে কণ্টকিত। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিল না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিঃশব্দ তর্জনী নিয়ন্ত্রণ করত সংবাদপত্র। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলা বা মধ্যরাতে যেসব নির্দেশ আসত তা পালন করা আবশ্যিক কর্তব্য ছিল। সম্পাদক ছিলেন জহুর হোসেন চৌধুরী। বিদ্যাবত্তায় বহুগুণান্বিত মানুষ। প্রেসিডেন্সির ইতিহাসের ছাত্র। জীবনযুদ্ধে নানা অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ‘আড্ডাপ্রিয়’ এম এন রায়ের ভক্ত। আড্ডায় পারঙ্গম ও মধ্যমণি। তাঁর বাচন এবং বহু অভিজ্ঞতার কথা অননুকরণীয় ভঙ্গিতে যখন বলতেন যেকোনো শ্রোতা আকৃষ্ট না হয়ে পারত না। মধ্যবিত্তের ভণ্ডামি ও প্রতারণা তাঁকে ক্ষুব্ধ করত। লিখতেন খুবই কম। বৃহৎ পরিমণ্ডলে ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। সংবাদে আসতেন খুবই কম। সব দিক সামলাতেন শহীদুল্লা কায়সারসম্পাদনা, প্রচার ও বিজ্ঞাপন।  দৈনিক সংবাদপত্রে প্রত্যহ এত কিছু দেখবার থাকে যে এতটুকু অবকাশ থাকে না। তবু তিনি সবকিছু সামলে নিয়ে সাহিত্যচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তাঁর দুটি উপন্যাস বাংলাদেশের মানুষের জীবনযুদ্ধের ও মর্মযাতনার দলিল হয়ে আছে। তাঁরই প্রযত্নে সংবাদ জাতীয় জীবনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। এই সময়েই প্রমত্ত ছাত্র আন্দোলনের কল্যাণে জাতীয়তাবাদী ও বাম আন্দোলনএই দুই ধারা শিখরস্পর্শী হয়ে উঠেছিল। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে এই দুই রাজনৈতিক ধারা সমঝোতার মাধ্যমে নৈকট্যে পৌঁছেছিল। সংবাদপত্র এই নৈকট্যের পথ সৃষ্টিতে সত্যিকার অর্থে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। ‘ভাবা যায়’দুই বিপরীত মেরুর মানুষ সামরিক শাসনকালে শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সখ্য ও নৈকট্যে এক বিন্দুতে পৌঁছেছিলেন। ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া  ও জহুর হোসেন চৌধুরী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছেন। ষাটের দশকে এই দুটি সংবাদপত্র কতই না তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছিল। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা স্বরূপ-অন্বেষাকে প্রখর থেকে প্রখরতর করেছিল। সে সময়ে এই চেতনাকে ধারণ করায় প্রধান দুটি সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয় সামরিক শাসক। শিল্প ও সাহিত্য এই স্বরূপচেতনাকে ধারণ করে আলোকিত পথ নির্মাণ করেছে। এই সময়ের স্বরূপচেতনা ও বাঙালিত্বের সাধনা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে নবভাবনায় দীক্ষিত করেছিল। এই ভাবনা ও বোধ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের পথ নির্মাণ সহজ হয়েছিল। এই সময়ের সৃজনধারা পঞ্চাশের দশকের  সৃজন-উৎকর্ষ থেকে ছিল ভিন্ন; ভাষার প্রতি যত্নে, সৃজনে ও জীবন রূপায়ণের গভীরতায় বহুমাত্রিকও হয়ে উঠেছিল।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে আমাকে যখন তৎকালীন সংবাদ সম্পাদক আহমদুল কবির সংবাদ সাময়িকীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে বললেন, আমি অনুভব করেছিলাম এ দায়িত্বের বিশালত্ব কত না বৃহৎ। শিল্প ও সাহিত্যের পরিচর্যায় যে ঐতিহ্য বহন করে চলেছে সংবাদ সেক্ষেত্রে আমি কতটুকু কী ধারণ করতে পারব এ নিয়ে আমার সংশয় ছিল। তিনি আমার সাহিত্যে অনুরাগ সম্পর্কে জানতেন। আমি সাহিত্যের ছাত্র এবং কখনও-সখনও কবিতা চর্চা করিএ তাঁর বিবেচনার বিষয় ছিল। সাংবাদিকতা করলেও এ পেশা যে সাহিত্যচর্চায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বুদ্ধদেব বসুর এই জ্ঞান, বোধ ও অভিজ্ঞতা খুবই মান্য জ্ঞান করতাম মনে মনে। পঞ্চাশ  এবং ষাটের দশকে সংবাদ সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন এমন কয়েকজন রুচিস্নিগ্ধ মানুষ, যাঁদের ব্যক্তিস্বরূপের কাছে আমি নিজেকে খুবই ক্ষুদ্র জ্ঞান করেছিলাম। সংবাদ সাময়িকী সেকালে ছিল বামপন্থি আদর্শের কাগজ। মালিক, সম্পাদক ও সকল কর্মীর মধ্যে বামপন্থি চেতনা যে আলোড়ন সৃষ্টি করত তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটত নানাভাবে। এছাড়া  জন্মলগ্ন থেকে বামপন্থি ঐতিহ্য, রুচি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে চলেছে সংবাদ।

যা হোক, আমি দায়িত্ব নিলাম এবং খুবই পরিশ্রমসহকারে কাজটি করবার জন্য যত্নবান হয়ে উঠেছিলাম। এ কাজে সাহিত্যভুবনে একটি প্রতিমানও সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠিত ও নবীন লেখকেরা খুবই সহায়তা করেছিলেন।

আমি সে সময়ে ভেবেছি, যে করেই হোক সংবাদ সাময়িকীর একটি চরিত্র নির্মাণ করব। সংবাদ সম্পাদক আহমদুল কবির আমাকে যে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন সাময়িকী বিভাগ পরিচালনায় তা খুবই সহায়ক ছিল। একদিনও কোনো লেখা নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি বা কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেননি। অথচ সংবাদের কোনো নিউজ ও ফিচার পাতাগুলো সম্পর্কে তাঁর মতামত খুবই তীব্র ছিল এবং তা ছিল অবশ্য পালনীয়। কিন্তু সাময়িকী বিভাগ নিয়ে তাঁর স্নেহ প্রশ্রয় আমাকে বহুকর্মে ব্যাপৃত ও উদ্দীপিত করেছিল। সাহিত্য বিভাগের সম্পাদক হিসেবে কবি আহসান হাবিবের সুনাম ও প্রতিষ্ঠা তখন তুঙ্গে। যেকোনো লেখকই তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। সাংবাদপত্রের সাময়িকী সম্পাদনার অভিজ্ঞতা ও গুণাবলি তাঁকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ষাটের দশকে এক বৈরী ও প্রতিকূল আবহে তিনি তাঁর সম্পাদিত দৈনিক বাংলা সাহিত্য বিভাগটি আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন। আমি তাঁর প্রবর্তিত কিছু বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে আরও প্রসারিত চেতনায় সাময়িকী বিভাগটি বিন্যস্ত করেছিলাম  একথা মনে পড়ে।

 সেই জন্যই বোধ করি সেকালে অনেক পাঠক ও লেখকের কাছে সাময়িকী শ্রদ্ধার আসন অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিল।

বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠিত লেখকই লিখেছেন। তাঁরা আমাদের অনুরোধে অনুকূল সাড়া দিয়ে তাঁদের শ্রেষ্ঠ লেখাটিই লিখেছেন এই বিভাগে।

সংবাদ সাময়িকীতে সেই সময়ে নবীন লেখকদের নানা ধরনের রচনা পত্রস্থ হয়েছে। এই সময় কবিতা চর্চা নবীন মাত্রা অর্জন করেছিল। কবিতা লোকপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। প্রতিষ্ঠিতরা তো বটেই, নবীনরা সমাজবাস্তবতাকে ধারণ করে কবিতা লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও সময়ের বাস্তবতার নানা অনুষঙ্গও ধারণ করে কবিতার ভুবন সমৃদ্ধ যাত্রার পথ খুঁজে নিয়েছে। ছোটগল্পের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কেউ নিরীক্ষা ও বিষয় নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। আমরা সমাজবাস্তবতার রূপায়ণকে প্রাধান্য দিয়েছি। নিরীক্ষা সাহিত্য সৃজনের স্বাভাবিক প্রবণতায় যেমন শ্রদ্ধেয় হয়ে উঠেছিল, অন্যদিকে আমরা বাঙালির মর্মযাতনা ও সমকালীন জীবনের নানা সংকট রূপায়ণকে অধিক প্রশ্রয় দিয়েছি।

ষাটের দশকে রচিত সাহিত্যভুবনকে সেজন্য অনেক সমালোচক ভিন্নভাবে ও ভিন্ন আদলে চিহ্নিত করেন। নতুনত্ব আনয়ন করেছিলেন অনেকেই। সপ্তাহজুড়ে পরিকল্পনা করতাম। সত্তর ও আশির দশক ছিল সংশয়ে দীর্ণ দুটি দশক। বাঙালিত্বের সাধনা অপসৃত করবার প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছিল। বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের ও লেখনীর স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সামরিক শাসনের পদতলে পিষ্ট হচ্ছিল যুবসমাজ। এই প্রতিকূলতাকে ধারণ করে তবু শিল্প-সাহিত্যভুবনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছিলেন। যুবসমাজের মধ্যেও এই প্রতিবাদ ও জিজ্ঞাসা অর্থবোধক  হয়েছে। সেজন্যই দেখা যায়, এই সময়ে রচিত সাহিত্য-শিল্পে যে সৃজনের উন্মুখতা, তাঁর মধ্যে জন্ম নিয়েছে প্রতিবাদী চেতনা। যে মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নে জর্জরিত করা হয়েছিল তা হয়ে উঠল বহুমাত্রিক চেতনায় ও অভিজ্ঞতায় গভীর সৃষ্টি।

বেশ কয়েক মাস সংবাদ-এর প্রকাশনা বন্ধ থাকার পর আমরা অনেকেই কিছুদিনের জন্য বেকার হয়ে পড়েছিলাম, যদিও সরকারি মহল থেকে আমাদের অন্যত্র চাকরির প্রয়াস চলছিল।

১৯৭৬ সালের ১ জানুয়ারি সংবাদ পুনরায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময়ে শিল্পী কাজী হাসান হাবিব সংবাদ সাময়িকীর সচিত্রকরণের কাজে যোগ দেন। নিত্যনব উদ্ভাবন ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। বড় পরিসর নিয়ে সচিত্রকরণে, ড্রইংয়ে,  অক্ষরবিন্যাসে, নতুনত্ব আনয়নে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। পুরো পাতার বিন্যাস তাঁর হাতে হয়ে উঠত দৃষ্টিনন্দন ও অর্থবহ।

পুনপ্রকাশের পর সাময়িকী বিভাগটি নববিন্যাসে বিন্যস্ত করবার জন্য চেষ্টা করি। বিষয়বৈচিত্র্যে যাতে সমৃদ্ধ হয় সেক্ষেত্রে বিশেষ চেষ্টা গ্রহণ করা হয়। দেশে তখন কোনো রুচিস্নিগ্ধ সাহিত্য পত্রিকা ছিল না। সংবাদ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এই সময় থেকে চার পৃষ্ঠা সাময়িকী প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সাহিত্য পত্রিকার অভাব পূরণ করেছে এই সময়ে সংবাদ সাময়িকী। চিত্রকলার সমীক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিদেশি সাহিত্য, বই পরিচিতি, সংগীত, এমনকি স্থাপত্যও গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে সাময়িকীর পাতায়। উল্লেখযোগ্য বইয়ের পারিচিতিসহ (সমালোচনা নয়) বিভাগটিকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করবার প্রয়াস ছিল। উল্লেখযোগ্য বই নিয়ে চার পাতার সাহিত্য বিভাগের প্রকাশনা খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। পঁচিশে বৈশাখ ও বাইশে শ্রাবণে বের হতো রবীন্দ্র সংখ্যা। এই দুটি সংখ্যার প্রস্তুতি ও বিন্যাসে নতুন ভাবনার প্রকাশ হতো। সাহিত্যের দুটো কলাম খুবই লোকপ্রিয় হয়ে ওঠে। সৈয়দ শামসুল হকের ‘হৃৎকলমের টানে’ ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘অলস দিনের হাওয়া’ সকল দিক থেকে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

আমার বিশেষ দৃষ্টি ছিল নবীন লেখকদের পরিচর্যায়। আকস্মিক অনেক চমক জাগানো এবং সমীহ করার মতো লেখকের রচনা আসত মফস্বল থেকে, কখনও দূরের কোনো গ্রাম বা শহর থেকে। সেসব লেখা পত্রস্থ হয়েছে যত্নসহকারে। অনেকেই অব্যাহত রেখেছেন এই আনুকূল্যকে ধারণ করে, অনেকেই ক্ষণিক চমক সৃষ্টি করে হারিয়ে গেছেন কালের গর্ভে। যোগাযোগ করবার চেষ্টা করেও তাঁদের আর হদিস পাইনি।

সত্তরের দশকের মধ্য পর্যায় থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল সাহিত্যের প্রেম ও জ্ঞান নিয়ে তা আমার দিক থেকে অব্যাহত ছিল এই শতাব্দীর প্রারম্ভ পর্যন্ত। সাহিত্যের পথযাত্রা ও সাধনায় দলীয় সংকীর্ণতা অনেক সময় বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। আমি কোনোদিনই এই দলীয় বিষয়টির প্রাধান্য দিইনি। লেখক প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান-ধারণার বশবর্তী কি না এ বিবেচ্য বিষয় ছিল আমার। তাঁর লেখা প্রত্যাখ্যানে কোনো বাধা ছিল না। শিল্পিত ও সৃজনকল্পনায় সামান্য সম্ভাবনা ছিল  এমন লেখা পত্রস্থ হয়েছে সংবাদ সাময়িকীতে। বহু লেখকের প্রারম্ভিক চর্চা হয়েছিল সংবাদ সাময়িকীর পাতায়। তাঁরা অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত। তাঁরা ঋদ্ধ করেন নানাভাবে। একদিনের জন্যও এই কাজে ছেদ পড়েনি। কালের প্রবাহে এবং সাহিত্যের গতি নির্মাণে এতটুকু যদি আঁচড় দিতে পেরে থাকি তা আমার চলার পথে পাথেয় হয়ে থাকল। নিজের কথা আর নয়। কালের পথযাত্রায় সংবাদ সাময়িকী সাহিত্যের রুচি নির্মাণে সচেষ্ট ছিল এই আমার মূল কথা।

পূর্ণাঙ্গ মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বাণিজ্যিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে  এমনটি আশা করা যায় না। তবুও লক্ষ করছি শব্দঘর তৃতীয় বর্ষশুরু করতে যাচ্ছে; সব বাধা দূর করে এগিয়ে যাক পত্রিকাটি  শুভ কামনা রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed

shares